নোংরা লোকজন সচিবালয় অপবিত্র করেছে: মির্জা আব্বাস

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস।

নোংরা মানসিকতার লোকজনকে মন্ত্রী বানিয়ে সচিবালয়কে অপবিত্র করা হয়েছে।এরা মন্ত্রিসভায় স্থান নিয়ে সচিবালয় অপবিত্র করেছে। 

সোমবার (৬ ডিসেম্বর) রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে আলোচনায় সভায় এ কথা বলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস।

রমনার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে নব্বইয়ের ডাকসু ও সর্বদলীয় ছাত্রঐক্যের উদ্যোগে এই আলোচনা সভা হয়। ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে সাবেক সামরিক শাসক প্রেসিডেন্ট এইচ এম এরশাদ পদত্যাগ করেন। এরপর থেকে বিএনপি এই দিনকে ‘স্বৈরাচার পতন ও গণতন্ত্র মুক্তি দিবস’ হিসেবে উদযাপন করে আসছে।

সভায় মির্জা আব্বাস বলেন, ‘সরকারের অধঃপতন যখন হয় কিভাবে হয়...। ফুটপাত থেকে ধরে এনে মন্ত্রী বানিয়েছে। বাংলাদেশের মানুষ ফুটপাতের মন্ত্রী দেখতে চায় না। দেশের মানুষ চোর-বাটপার দেখতে চায় না, দেশের লোকজন ঘুষখোর মন্ত্রী দেখতে চায় না, দেশের লোকজন তাদের অশ্রাব্য, অকথ্য কথাবার্তা শুনতে চায় না।’

তিনি আরও বলেন, ‘নতুন একটা জুটছে। সে এখন বিএনপির বিরুদ্ধে, বিএনপির নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া বিরুদ্ধে… আমার নেত্রী মুমূর্ষু রোগী, মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন তার বিরুদ্ধে অশ্রাব্য কটূক্তি করছে। সেই নেত্রীর পরিবার সম্পর্কে আমার নেতা তারেক রহমানের পরিবার সম্পর্কে অশ্রাব্য কটূক্তি করছে। এগুলো সহ্য করা যায় না, এগুলো আমরা সহ্য করবো না। এর প্রতিবাদ করতে হবে, প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। এই সমস্ত নোংরা লোকজন মন্ত্রিসভায় স্থান নিয়ে বাংলাদেশের সচিবালয়কে অপবিত্র করেছে। এগুলো বন্ধ করতে হবে।’

সম্প্রতি মুরাদ হাসানের একটি সাক্ষাৎকার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। এতে তিনি বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া, তাঁর ছেলে তারেক রহমান ও নাতনি জাইমা রহমান সম্পর্কে নানা মন্তব্য করেছেন। এ নিয়ে তীব্র সমালোচনা হচ্ছে। বেসরকারি নারী সংগঠন নারীপক্ষ এই মন্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছে।

এদিকে, মুরাদ হাসানের মন্তব্য সম্পর্কে এক বিবৃতিতে মির্জা ফখরুল জানান, একজন জাতীয় পতাকাধারী ব্যক্তির এ ধরনের বক্তব্য সমগ্র জাতিকে স্তম্ভিত করেছে।

মির্জা ফখরুল জানান, খালেদা জিয়া প্রতিহিংসামূলক আচরণের শিকার হয়ে বিদেশে সুচিকিৎসার সুযোগ না পেয়ে জীবন–মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছেন। ঠিক এমন সময়ে তাঁর পরিবারের একজন নারী সদস্য তথা পরিবারের বিভিন্ন জন সম্পর্কে অশ্লীল, অপপ্রচার ইতিমধ্যে নারী নেতৃত্বসহ দেশের সচেতন সব মহলের ঘৃণা কুড়িয়েছে।

ডাকসুর সাবেক ভিপি আমান উল্লাহ আমানের সভাপতিত্বে ও ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ফজলুল হক মিলনের পরিচালনায় আলোচনা সভায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নব্বইযের সাবেক ছাত্র নেতাদের মধ্যে আসাদুজ্জামান রিপন, হাবিবুর রহমান হাবিব, খায়রুল কবির খোকন, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, নাজিম উদ্দিন আলম, জহির উদ্দিন স্বপন, মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল, সাইফুদ্দিন মনি, খন্দকার লুৎফুর রহমান, আসাদুর রহমান খান, কামরুজ্জামান রতন, এ বি এম মোশাররফ হোসেন, যু্বদলের সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, স্বেচ্ছাসেবক দলের আবদুল কাদির ভুঁইয়া জুয়েল, কৃষক দলের শহিদুল ইসলাম বাবুল, শ্রমিক দলের মুস্তাফিজুল করীম মজমুদার, ছাত্রদলের ফজলুর রহমান খোকন, ইকবাল হোসেন শ্যামল প্রমুখ বক্তব্য দেন।


রাজনীতি এর সাম্প্রতিক