ব্যয়বহুল হাসপাতালে খালেদা জিয়ার চিকিৎসা হচ্ছে: প্রধানমন্ত্রী

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

নওরোজ ডেস্ক: দেশের সেরা হাসপাতালে খালেদা জিয়াকে চিকিৎসা নিতে দেওয়া হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বুধবার (৮ ডিসেম্বর) বিকেলে বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের ৪৯ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির ভাষণে একথা বলেন। গণভবন থেকে তিনি কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে (কেআইবি) আয়োজিত আলোচনা সভায় ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ভার্চুয়ালি অংশগ্রহণ করেন।

বিএনপি নেতাদের উদ্দেশ্যে প্রশ্ন করে তিনি বলেন, তারা আমাদের কাছে কী আশা করছে? আমরা তাকে বাড়িতে থাকতে এবং দেশের সেরা হাসপাতালে অবাধে চিকিৎসা নিতে দিয়েছি। এটা কি যথেষ্ট নয়? এটা কি বিরাট উদারতা নয়? আমরা এটা (উদারতা) দেখিয়েছি।

তিনি আরও বলেন, খালেদা জিয়া ক্ষমতায় থাকতে এ দেশের কী অবস্থা ছিলো? আজকে তার চিকিৎসার জন্য এত চেঁচামেচি করে বেড়াচ্ছে। খালেদা জিয়া ক্ষমতায় থাকতে আমাদের সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল মোস্তাফিজুর রহমানকে সিএমএইচে পর্যন্ত চিকিৎসা করতে দেয় নাই। এমন কী সে যখন আইসিইউতে ভর্তি তাকে স্ট্রেচারে করে কোর্টে নিয়ে হাজির করেছে। তাকে জেনারেল পদ দেয়া হয়েছিলো, সেটা বাতিল করে দিয়েছিলো। তার প্রমোশনও বাতিল করেছিলো। আমি সেনাবাহিনীতে যখন নারীদের ভর্তি নিশ্চিত করি মোস্তাফিজের ছোট মেয়ে প্রথম ব্যাচে জয়েন করে। তার পাসিং আউট প্যারেড যখন হয় তখন খালেদা জিয়া ক্ষমতায়। আমি একটা নিয়ম করেছিলাম সেটা এখনো আছে চলমান যে, বাবা-মা উপস্থিত থাকবে। তারা নিজের হাতে তার সন্তানকে ব্যাচ পরাবে। দুর্ভাগ্যের বিষয় হলো, খালেদা জিয়া জেনারেল মোস্তাফিজ এবং তার স্ত্রীকে আসতে দেয়নি। তার মেয়ের ব্যাচটা তারা পরাতে পারেনি। অথচ এরাই ছিলো আমার সেনা বাহিনীতে প্রথম নারী অফিসার। কিন্তু মোস্তাফিজের সেই পারমিশনটা পর্যন্ত ছিলো না।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, গ্যাটকোর কেস তার বিরুদ্ধে, নাইকোর কেস তার বিরুদ্ধে এবং এটা কিন্তু আমাদের করা না। আমেরিকার এফবিআই খুঁজে বের করেছে। সিঙ্গাপুরে তার এবং তার ছেলের দুর্নীতি বেড়িয়েছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থাই তাদের কূ-কীর্তি বের করেছে। সেই কেসগুলোতো আছেই। সবচেয়ে বড় কথা, এতিমদের জন্য যে টাকা এসেছিলো, সেই টাকা কোনোদিন এতিমদের হাতে পৌঁছায় নাই। সে টাকা নিজের অ্যাকাউন্টে রেখে দিয়েছে। নিজেই খেয়েছে সেই টাকা, ভোগ করেছে এতিমের অর্থ। কাজেই সেই সাজা পেয়েছে এবং সেই সাজা সে ভোগ করছে। তারপর সে কারাগারে ছিলো। খালেদা জিয়ার বড় বোন আর ভাই আমার কাছে এসেছে। বোন, বোনের স্বামী, ভাই এরা সব এসেছিলো। আসলো যখন খুব স্বাভাবিকভাবে রেহানাও আমার সাথে উপস্থিত ছিলো। একটা মানবিক দিক থেকে নির্বাহী যে ক্ষমতাটা আমার আছে সেটার মাধ্যমে তার সাজাটা স্থগিত করে তাকে বাসায় থাকার অনুমতি এবং চিকিৎসার অনুমতি দিয়েছি।

শেখ হাসিনা বলেন, আমি বিএনপির নেতাদের জিজ্ঞাসা করি, তারা যে সহানুভূতি দেখাতে বলে, তারা যে সহযোগিতা চায়, খালেদা জিয়া কী আচরণ করেছে? একুশে আগস্ট যে গ্রেনেড হামলা- তার আগে খালেদা জিয়ার কী বক্তব্য ছিলো? খালেদা জিয়া তখন বলেছিলেন যে, শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী তো দূরের কথা কোনোদিন বিরোধী দলের নেতাও হতে পারবে না এবং আওয়ামী লীগ একশ বছরেও ক্ষমতায় যেতে পারবে না। আল্লাহর খেলা, এটা বোঝা তো ভার। বরং তারপর খালেদা জিয়াই প্রধানমন্ত্রী হতে পারে নাই, বিরোধী দলীয় নেতাও হতে পারেনি। তার কথা তার ওপরেই ফলে গেছে।

সরকারপ্রধান বলেন, এরশাদকে তো কারাগারে বন্দি করে রেখেছিলো। তাকে চিকিৎসার জন্য কোনও দিনও সুযোগ করে দেয়নি। রওশন এরশাদকে দেয়নি। আবার জিয়াউর রহমান যখন ক্ষমতায় ছিলো, তখন আমাদের সাজেদা চৌধুরীর অপারেশন হয়েছিলো। ঘা শুকায়নি। সেই ব্যান্ডেজ অবস্থায় তাকে গ্রেপ্তার করে জেলে ভরেছিলো। ঠিক একই ঘটনা মতিয়া চৌধুরীর সঙ্গেও ঘটেছিলো, যখন তাকে জেলে দিয়েছিলো তার তখন টিবি হয়েছিলো। তীব্র অসুস্থতার মাঝেও তাকে জেলে পাঠিয়েছিলেন। এরকম বহু অন্যায়-অবিচারের কথা আছে।

তিনি বলেন, আমাদের পার্টির অনেক নেতাকে গ্রেপ্তার করে চরম অত্যাচার করেছে- বাহাউদ্দিন নাছিম থেকে শুরু করে মহিউদ্দিন খান আলমগীর, সাবের হোসেন, শেখ সেলিমসহ বহু নেতাদেরকে গ্রেপ্তার করে তাদের উপর অকথ্য নির্যাতন করেছে। নাসিমকেতো এমন অত্যাচার করেছিলো যে, তাকে মৃত মনে করে তাড়াতাড়ি কারাগারে পাঠিয়ে দেয়। সে বেঁচে গেছে। দিনের পর দিন অত্যাচার করেছে, আবার সেই অত্যাচারের ভিডিও নিয়ে খালেদা জিয়া-তারেক জিয়া দেখে উৎফুল্ল হয়েছে। এই ধরনের হিংস্র একটা চরিত্রও আমরা দেখেছি। 

রাজনীতি এর সাম্প্রতিক