ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শুক্রবার ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, সময় : ১:০৪ এএম

জনগণকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি কীভাবে বাস্তবায়ন করা যায়, সেটাই এখন বিএনপি সরকারের মূল ফোকাস। এ লক্ষ্যে ১৮০ দিনের ‘স্বল্পমেয়াদি’ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে নতুন সরকার। এরই মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড, বৃক্ষরোপণ এবং নদী-খাল-জলাধার খনন ও পুনর্খনন নিয়ে কার্যক্রম শুরু হয়ে গেছে। 


এই রমজানেই পাইলট প্রজেক্ট হিসেবে আট বিভাগের আট উপজেলায় ফ্যামিলি কার্ড চালু হবে। তবে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পাশাপাশি স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন নির্বাচন সামনে রেখে এবার সংগঠনের দিকেও মনোযোগী হচ্ছে বিএনপি।


নির্বাচনে ধানের শীষ না পেয়ে দলের নেতারা ‘বিদ্রোহী প্রার্থী’ হওয়ায় তৃণমূলের অনেক জায়গায় সংগঠন কার্যত বিভক্ত হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় তৃণমূলে সংগঠন গুছিয়ে সুসংগঠিত ও শক্তিশালী সংগঠন নিয়েই স্থানীয় সরকারের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে চায় বিএনপি। 


সিদ্ধান্ত না হলেও এর অংশ হিসেবে ঈদুল ফিতরের পর তৃণমূল পুনর্গঠনে হাত দিতে পারে দলটি। তবে নির্বাচনে ধানের শীষ ও জোট প্রার্থীর বিরুদ্ধে ‘বিদ্রোহী প্রার্থী’ হয়ে বহিষ্কৃত হওয়া নেতাদের ব্যাপারে এখনই ভাবছে না বিএনপি। দলীয় সূত্রে এমন তথ্য জানা গেছে।


ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে অর্ধশতাধিক আসনে বিএনপি নেতারা ধানের শীষ না পেয়ে ‘বিদ্রোহী প্রার্থী’ হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে দলকে চ্যালেঞ্জে ফেলেছিলেন তারা; যদিও বিষয়টি সহজেই উতরে এককভাবে দুই-তৃতীয়াংশ আসনে বিজয়ী হয়ে সরকার গঠন করেছে বিএনপি। 


তবে নির্বাচনে এত সংখ্যক বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়া নিয়ে চিন্তিত দল। তাই এর ‘প্রকৃত কারণ’ অনুসন্ধানে নামছে বিএনপি। দলটি বুঝতে চায়, ‘ধানের শীষ না পেয়ে দলের নেতারা কি নিজেদের অধিকতর যোগ্য মনে করে পাস করবে’-এই চিন্তা ও বিশ্বাস থেকেই ধানের শীষের বিরুদ্ধে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছিল, নাকি কারও ইন্ধনে প্রার্থী হয়েছিলেন? 


বিএনপি এও মনে করছে, নির্বাচনে পাস করার প্রবল সম্ভাবনা ছিল, এ রকম বেশ কয়েকজন প্রার্থীও ফেল করেছেন। এদের মধ্যে খুলনা-২ আসনের নজরুল ইসলাম মঞ্জু, রংপুর-৬ আসনের সাইফুল ইসলাম, ময়মনসিংহ-১ আসনের সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স অন্যতম। ধানের শীষের এমন প্রার্থীরা কেন ফেল করলেন, এর কারণও জানতে চায় দল। তাই এই দুটি বিষয় নিয়ে বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদকদের মাধ্যমে শিগগির কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে বিএনপি।


তপশিল ঘোষণার পর প্রথমদিকে ধানের শীষ না পেয়ে ১১৭টি আসনে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে প্রায় ১৯০ জন বিএনপি নেতা মনোনয়নপত্র জমা দেন। পরে দলীয় নানান উদ্যোগের পর বেশিরভাগ নেতা প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নিলেও শেষ পর্যন্ত অর্ধশতাধিক আসনে নির্বাচনী লড়াইয়ে ছিলেন বিদ্রোহীরা। 


বিএনপির দপ্তর বিভাগ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে যেসব নেতা নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হন, এমন অন্তত ৭১ জনকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। আর দলীয় বা দল সমর্থিত জোট প্রার্থীর বিপক্ষে গিয়ে স্বতন্ত্র বা বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে অবস্থান নেওয়ায় সারা দেশের বিভিন্ন এলাকায় সহস্রাধিক নেতাকর্মীকে দল থেকে বহিষ্কার করে বিএনপি।


ভোটের ফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী থাকায় ২০টির মতো আসনে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যজোটের প্রার্থীরা সুবিধা পান। এ ছাড়া ৭টিতে জেতেন বিদ্রোহীরা। সব মিলিয়ে ২৭টির মতো আসনে জয়-পরাজয়ে প্রভাব রাখেন বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীরা।


নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর গত মঙ্গলবার বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে ৫০ সদস্যের নতুন মন্ত্রিসভা শপথ গ্রহণ করে। সেখানে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য, ভাইস চেয়ারম্যান, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা, সাংগঠনিক সম্পাদক, সম্পাদক ও নির্বাহী কমিটির সদস্যরা বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন। সাংগঠনিক সম্পাদকদের মধ্যে রংপুর বিভাগের আসাদুল হাবিব দুলু, ফরিদপুর সাংগঠনিক বিভাগের শামা ওবায়েদ, ময়মনসিংহ বিভাগের শরীফুল আলম এবং খুলনা বিভাগের অনিন্দ্য ইসলাম অমিত প্রতিমন্ত্রী হন।


রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অভিমত, একটি দলকে সাংগঠনিকভাবে গতিশীল রাখতে বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদকের পদটি অনেক গুরুত্বপূর্ণ। সুতরাং বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদকদের মধ্যে যারা মন্ত্রিসভায় স্থান পেয়েছেন; সংগঠনকে গতিশীল রাখতে তাদের স্থলে যত দ্রুত সম্ভব কর্মঠ, দলকে সময় দিতে পারবেন কিন্তু সরকারে নেই, এমন নেতাদের পদায়ন করা প্রয়োজন।


দলীয় সূত্র বলছে, বিএনপি সবে সরকার গঠন করেছে। জনগণকে দেওয়া নানান প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নই এখন বিএনপি সরকারের মূল ফোকাস। সুতরাং এই ব্যাপারটি নিয়ে দল এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি; যথাসময়ে সিদ্ধান্ত নেবে। তবে বিএনপির নীতিগত সিদ্ধান্ত রয়েছে, দলের যারা এমপি-মন্ত্রী হবেন অর্থাৎ যারা সরকার পরিচালনায় ব্যস্ত থাকবেন, তাদের পরিবর্তে দলের অন্য নেতাদের সংগঠনে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে।


দলীয় সূত্রে জানা গেছে, রমজানে বিএনপির পক্ষ থেকে এবার কেন্দ্রীয়ভাবে দু-একটি ইফতার পার্টির আয়োজন করা হতে পারে। তবে স্থানীয় পর্যায়ে স্বাভাবিকভাবেই ইফতার পার্টিগুলো অনুষ্ঠিত হবে। এদিকে পবিত্র রমজান উপলক্ষে বিএনপির উদ্যোগে ঢাকা-১৭ আসনের কড়াইল বস্তি এবং ভাসানটেক এলাকার ১৪টি এতিমখানা এবং হেফ্জ মাদ্রাসায় প্রত্যেককে পুরো রমজান মাসের জন্য ইফতার, রাতের খাবার ও সেহরি দেওয়া হবে। 


এর অংশ হিসেবে প্রথম রোজায় গতকাল বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান এবং মেয়ে ব্যারিস্টার জাইমা রহমান রাজধানীর পশ্চিম ভাসানটেক থানার অন্তর্গত জামিয়া কুরবানিয়া তালিমিয়া দাওরা হাদিস মহিলা মাদ্রাসা ও এতিমখানার এতিম শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে ইফতার করেন। ঢাকা-১৭ আসন থেকে নির্বাচন করে বিজয়ী হন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।


বিএনপির সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড প্রসঙ্গে দলটির ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী সায়েদুল আলম বাবুল বলেন, ‌'রমজানে স্বাভাবিকভাবেই ইফতার পার্টিগুলো হবে। যারা এমপি নির্বাচিত হয়েছেন, তারা এলাকায় ইফতার পার্টি দেবেন। সাধারণ মানুষের পাশাপাশি দলীয় নেতাকর্মীরাও সেখানে অংশগ্রহণ করবেন। এটাও এক ধরনের সাংগঠনিক কার্যকলাপ।'


তিনি বলেন, কমিটি গঠন-পুনর্গঠন একটা স্বাভাবিক সাংগঠনিক প্রক্রিয়া। কিছু কমিটির মেয়াদ এরই মধ্যে শেষ হয়ে গেছে; আবার কিছু জায়গায় আহ্বায়ক কমিটি আছে, পূর্ণাঙ্গ কমিটি হয়নি। আমরা কিছুদিন পরে এগুলোতে হাত দেব। সরকারে বিএনপি থাকলেও বিএনপি যেহেতু একটা বৃহৎ সংগঠন, সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড ধারাবাহিকভাবে চলতে থাকবে, এটাতে কোনো ব্যত্যয় হবে না। তাছাড়া সামনে স্থানীয় সরকারের নির্বাচনগুলো পর্যায়ক্রমে হতে থাকবে। সুতরাং দলকে গুছিয়ে সুসংগঠিত রাখতে হবে।


সাংগঠনিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ অনেক সাংগঠনিক সম্পাদক মন্ত্রিসভায় স্থান পেয়েছেন। দলে তাদের স্থলে কোনো পরিবর্তন আসবে কি না-এমন প্রশ্নের জবাবে সায়েদুল আলম বাবুল বলেন, ‘এটা দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের বিষয়। হয়তো দল এ ব্যাপারে চিন্তাভাবনা করে দেখবে।’


বিএনপি ও সরকারের সফলতার জন্য উভয়ের মধ্যেই ভারসাম্য থাকা প্রয়োজন বলে অভিমত রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের। এ প্রসঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক কাজী মোহাম্মাদ মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘সরকার গঠন করলেই দল পুনর্গঠন করতে হয়। কারণ, সরকার গঠনের সঙ্গে নতুন নতুন ডিমান্ড, নতুন নতুন পরিস্থিতি তৈরি হয়। বিরোধী দলে বা সরকারের বাইরে থাকাকালীন দল একরকমভাবে পরিচালিত হয়, আবার সরকারে থাকলে দল আরেকরকমভাবে পরিচালিত হয়। 


এ জন্য দল পুনর্গঠন প্রয়োজন হয়। তবে পুনর্গঠন করতে গিয়ে যারা নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছিলেন, তাদের এখনই দলে নেওয়া সমীচীন হবে না। কারণ, নির্বাচনে ধানের শীষ ও দল সমর্থিত জোট প্রার্থীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে তারা দলকে চ্যালেঞ্জের মধ্যে ফেলেছিলেন, যদিও দল এ জায়গা থেকে ওভারকাম করেছে।’


তিনি বলেন, ‘বিরোধী দলে থাকলে তো সব ধরনের মানুষকেই পাশে রাখা যায়, তাতে তেমন সমস্যা হয় না। কিন্তু বিএনপি যেহেতু এখন সরকারে, তাই দল পুনর্গঠনে ত্যাগী-আন্তরিক নেতাদেরই সামনে নিয়ে আসতে হবে। দলের যারা যারা সরকারের মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন, যারা দলে এখন আর ঠিকমতো রোল প্লে করতে পারবেন না; সংগঠনের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে, সংগঠনকে গতিশীল করতে সেখানে অবশ্যই পরিবর্তন আনার প্রয়োজন হবে। এ ক্ষেত্রে পরের স্তরে যারা আছেন; যারা কর্মঠ, যারা দলকে সময় দিতে পারবেন কিন্তু সরকারে নেই, তাদের দলের কাজে লাগানো দরকার। 


তবে এ ক্ষেত্রে একটা বিষয় মনে রাখতে হবে- যতটা পারা যায় সরকারের প্রক্রিয়া থেকে দলের প্রক্রিয়াটা আলাদা রাখা। যারা দল থেকে সরকারে গেছেন, তাদের সবাইকে যদি দলে রাখা হয়, তাহলে তাদের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের কারণে দল এবং সরকার একাকার হয়ে যায়। দল এবং সরকারকে একাকার করে ফেলা যাবে না। আবার দলের যারা সরকারে আছেন, তাদের দল থেকে সম্পূর্ণ বের করেও দেওয়া যাবে না, তাহলে দলের প্রতি তাদের দায়িত্ববোধ-জবাবদিহি থাকে না।’


এই রাজনৈতিক বিশ্লেষক আরও বলেন, ‘দল এবং সরকারের মধ্যে একটা ভারসাম্য লাগবে। সরকারে যারা আছেন, তারা যেন দলের প্রতি এক ধরনের দায়িত্ব, কর্তব্য ও আন্তরিকতা অনুভব করেন; অন্যদিকে দলে যারা আছেন, তারা যেন সরকারে থাকাদের এক ধরনের জবাবদিহির মধ্যে রাখতে পারেন। সরকারে বিএনপি এবং দলে বিএনপি- এই দুয়ের মধ্যে কানেকশন চ্যানেলটা থাকতে হবে। এটার ওপরই সরকার এবং দল উভয়ের সাফল্য নির্ভর করবে।’




  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৫:৪৪ পিএম

নব্বই দশকের জনপ্রিয় চিত্রনায়ক সালমান শাহ হত্যা মামলায় রিমান্ড শেষে অভিনেতা আশরাফুল হক ওরফে ডনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। 


গতকাল বুধবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানার আদালত এ আদেশ দেন। এর আগে তাঁকে আদালতে হাজির করে কারাগারে রাখার আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা। 


সিআইডি সূত্র জানায়, রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে গত ৯ আগস্ট ডনকে গ্রেপ্তার করা হয়। সেদিনই তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়। পরে ১২ আগস্ট তাঁর জামিন আবেদন করা হলে তা নামঞ্জুর করেন আদালত। গত ২৭ আগস্ট আদালত তাঁর পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। ৬ সেপ্টেম্বর তাঁকে রিমান্ডে নেয় তদন্ত সংস্থা সিআইডি। চার দিনের রিমান্ড শেষে গতকাল তাঁকে আদালতে হাজির করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে মামলার ঘটনার সঙ্গে তাঁর জড়িত থাকার তথ্য মিলেছে। 


আদালতে উপস্থাপন করা পুলিশের প্রতিবেদনে বলা হয়, ডন মামলার এজাহারভুক্ত পলাতক আসামিদের চেনেন বলে জানিয়েছেন। সালমান শাহর ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসেবে তিনি বিভিন্ন বিষয়ে অবগত ছিলেন। কিন্তু সালমান শাহর মৃত্যুর বিষয় ও মামলার অভিযোগ সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি কৌশলের আশ্রয় নেন। অনেক তথ্য কৌশলে গোপন করেন। তবে মামলার ঘটনার আগে-পরে তাঁর আচরণ ও কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার বিষয়ে অনেক তথ্যপ্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। 


তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির পরিদর্শক মুজিবুর রহমান জানান, আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তাঁর কাছ থেকে কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। 


১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সালমান শাহর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি হত্যাকাণ্ডের শিকার নাকি আত্মহত্যা করেন- সেই প্রশ্নের মীমাংসা এখনও হয়নি।


সচিবালয়ে ‘সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন, ২০২৬’-এর খসড়া পর্যালোচনা সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৪:৩৫ পিএম

বিএনপির শাসনামলে সংবাদমাধ্যমে সরকারের কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ থাকবে না বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান পার্থ। আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।


তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আজকে আমরা যেখানে আছি, সংবাদমাধ্যম আছে বলেই সেখানে আছি। সংবাদমাধ্যম যে ভূমিকা নিয়েছে সব সময়, আমাদের যত অর্জন, গণতন্ত্রের যে পর্যায়ে আছে বাংলাদেশ, আমার মনে হয়, তার সমান সমান কৃতিত্ব সংবাদমাধ্যমের।’


তিনি বলেন, ‘আমাদের সময় আপনারা ফ্রি মিডিয়া পাবেন। মিডিয়া বা সাংবাদিকতায় আমাদের কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করার কোনো ইচ্ছা নাই। আমাদের প্রধানমন্ত্রী এটা বিশ্বাস করেন যে, সবাই মিলে কাজ করলে স্বপ্নের বাংলাদেশ হবে, সোনার বাংলাদেশ হবে।’


সাইবার সুরক্ষা (সংশোধনী) আইন ২০২৬ এর খসড়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটা একটি অধ্যাদেশ ছিল। আমরা এখনো আলোচনার পর্যায়ে আছি। কিছু কিছু শব্দ আছে, যেগুলো দ্বিতীয় অর্থ আছে। আমরা গত ১৭ বছরে দেখেছি, ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট থেকে শুরু করে অন্যান্য কিছু সংবাদমাধ্যমকে দমিয়ে রাখার জন্য ব্যবহার হয়েছে।


সংবাদমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ নয়, সহযোগিতার মাধ্যমে এগিয়ে নিতে চাই: তথ্যমন্ত্রী


‘আইন তো আর একদিনের জন্য হয় না, আমরা খুব সতর্ক থাকার চেষ্টা করছি, কোনো শব্দ যেন আগামীতে এ ধরনের দরজা না খুলে দেয়,’ যোগ করেন তিনি। পার্থ বলেন, ‘আমাদের মূল লক্ষ্য সোশ্যাল হারমোনি। এই যে আমরা ইদানীং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখছি, গণতন্ত্রের নামে গালিগালাজ, অ্যাবিউসিভ ল্যাঙ্গুয়েজ...যা যা হচ্ছে, এই জিনিসগুলোকে কীভাবে আমরা আইনের মধ্যে আনতে পারি, একইসঙ্গে গণমাধ্যমের স্বাধীনতাকেও শ্রদ্ধা করতে পারি—কোনোভাবেই যেন দুটি সাংঘর্ষিক না হয়, এ ব্যাপারেই আমরা বারবার কথা বলার চেষ্টা করছি। আশ্বস্ত করার চেষ্টা করছি, কোনোভাবেই কোনো কণ্ঠ দমন করার জন্য এই আইন করা হচ্ছে না। যেটা আমরা আগে দেখে এসেছি।’


স্বাধীন-উন্মুক্ত সাংবাদিকতার পরিবেশ নিশ্চিত করাই লক্ষ্য : তথ্যমন্ত্রী


সামাজিক সচেতনতা জরুরি উল্লেখ করে গণমাধ্যমকর্মীদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, একটা কিছু পেলেই শেয়ার করে দেওয়া, এই জিনিসগুলো যে মানহানিকর সেটা মানুষকে বোঝাতে আমরা কর্মসূচি নেব। আপাতত আমরা সমাজের বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের সঙ্গে কথা বলছি যাতে আইনটা এমন হয়—ভবিষ্যতে এটা দিয়ে মানুষকে অ্যাবিউস করার সুযোগ না থাকে।


প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ২:০৮ পিএম

ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে নয়াদিল্লি যাচ্ছেন না প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। তিনি বলেন, যে প্রক্রিয়ায় আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে- তাতে সন্তুষ্ট নয় ঢাকা। তবে ভারতে সরকার প্রধানের দ্বিপাক্ষিক সফর হতে পারে বলে জানিয়েছেন হুমায়ুন কবির।


ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে ব্রিকসের ১৮তম শীর্ষ সম্মেলন বসছে ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর। এবারের আয়োজক ভারত।


প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ব্রিকস সফর নিয়ে গত কয়েকদিন ধরেই ছিল নানা আলোচনা। ভারতের পক্ষ থেকেও কয়েক দফায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণ নিয়ে তাদের কাছে নতুন কোনো নিশ্চিত তথ্য নেই।


বাংলাদেশ ব্রিকসের সদস্য না হলেও বর্তমানে বিমসটেকের চেয়ারম্যান হিসেবে প্রধানমন্ত্রীকে সম্মেলনের আউটরিচ সেশনে অংশ নিতে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল দিল্লি। তবে শেষ পর্যন্ত সেই আমন্ত্রণে সাড়া দিচ্ছেন না প্রধানমন্ত্রী। যাচ্ছেন না নয়াদিল্লিতে।


তবে ভারতে প্রধানমন্ত্রীর দ্বিপাক্ষিক সফর হতে পারে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। সব মিলিয়ে, ব্রিকস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অংশগ্রহণ নিয়ে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যে হলো তার অবসান।


ইসি সচিব আখতার আহমেদ

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ২:০৩ পিএম

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ছেড়ে দেওয়া ঠাকুরগাঁও-১ আসনে উপনির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আগামী ২৯ অক্টোবর ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিব আখতার আহমেদ এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।


এএমএম নাসির উদ্দিন নেতৃত্বাধীন ইসি তফসিল চূড়ান্ত করার পর ইসি সচিব আখতার আহমেদ তফসিল ঘোষণা করেন।


ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন ২৭ সেপ্টেম্বর। মনোনয়নপত্র বাছাই হবে ২৯ সেপ্টেম্বর। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ৭ অক্টোবর। প্রতীক বরাদ্দ ৮ অক্টোবর এবং ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ২৯ অক্টোবর। আপলি ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে ৪ অক্টোবর। আপিল নিষ্পত্তি ৬ অক্টোবর। প্রতাহারের তারিখ ৭ অক্টোবর। প্রার্থীরা প্রচার শুরু করতে পারবেন ৮ অক্টোবর থেকে। এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা পাঁচ লাখ ১৫ হাজার।


গত ২০ অগাস্ট জাতীয় সংসদে ভোটের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন ঠাকুরগাঁও-১ আসনের সংসদ সদস্য মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বিএনপির এ প্রার্থী পরদিন শপথ নিলে আসনটি শূন্য ঘোষণা করে সংসদ সচিবালয়।


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১০:৩৬ এএম

মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর কম সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে মাঝারি অবস্থায় রয়েছে। এর মধ্যে আগামীকাল শুক্রবারের মধ্যে পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগর ও উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে। এর প্রভাবে দেশের বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টি ও বজ্রবৃষ্টির প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে। বুধবার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এসব তথ্য জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।


আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, মৌসুমি বায়ুর অক্ষের বর্ধিতাংশ রাজস্থান, উত্তরপ্রদেশ, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। এর একটি বর্ধিতাংশ উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত। মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর কম সক্রিয় থাকলেও উত্তর বঙ্গোপসাগরে মাঝারি অবস্থায় রয়েছে।


আজ বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী বর্ষণও হতে পারে। এ সময়ে সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।


আগামীকাল শুক্রবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রংপুর, ময়মনসিংহ, সিলেট, ঢাকা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী বর্ষণের সম্ভাবনাও রয়েছে। এ সময়ে সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে।


শনিবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম, রংপুর, রাজশাহী ও ঢাকা বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী বর্ষণ হতে পারে। এ সময়ে দিনের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।


রোববার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী, চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের দুয়েক জায়গায় বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। এ সময়ে সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।


এর পরের ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন বিভাগের দুয়েক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী বর্ষণ হতে পারে। দিন ও রাতের তাপমাত্রায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই।


সায়মা ওয়াজেদ

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৯:১৭ এএম

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালকের পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন সায়মা ওয়াজেদ। বুধবার পদত্যাগপত্র দিয়েছেন তিনি। ওই পদত্যাগপত্রের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থাটি। জালিয়াতি ও প্রতারণার অভিযোগে বাংলাদেশ ও ডব্লিউএইচওর তদন্তের মধ্যে থাকা অবস্থায় পদত্যাগ করলেন সায়মা ওয়াজেদ। তিনি গণ–অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মেয়ে।


২০২৪ সালের শুরুতে পাঁচ বছরের মেয়াদে ডব্লিউএইচওর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব নেন সায়মা ওয়াজেদ। তবে গত বছরের শেষ দিকে তাঁকে বিনা বেতনে প্রশাসনিক ছুটিতে পাঠায় সংস্থাটি। এর আগে ওই বছরের মার্চে বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তাঁর বিরুদ্ধে জালিয়াতি ও প্রতারণার অভিযোগে মামলা করে।


রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৩ জুলাই ২০২৬ তারিখের এক চিঠিতে সায়মা ওয়াজেদের আইনজীবীরা জানান, ডব্লিউএইচও তাঁর বিরুদ্ধে চীন সফরের ক্ষেত্রে আর্থিক জালিয়াতি এবং শিক্ষাগত যোগ্যতা সম্পর্কে ভুল তথ্য দেওয়ার অভিযোগ এনেছে। সায়মা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।


ডব্লিউএইচওর মহাপরিচালক টেড্রোস আধানম গেব্রেইয়েসুসের কাছে পাঠানো পদত্যাগপত্রে সায়মা আরও জানান,বাংলাদেশে একটি জমির প্লট অবৈধভাবে অধিগ্রহণের অভিযোগ করেছে ডব্লিউএইচও। তাঁর দাবি, ডব্লিউএইচওতে যোগ দেওয়ার আগেই তিনি ওই জমি অর্জন করেন এবং শেখ মুজিবুর রহমানের পরিবারের সদস্যদের জন্য প্রযোজ্য আইনের আওতায় তিনি এর বৈধ মালিকানা পেয়েছেন।


পদত্যাগপত্রে সায়মা ওয়াজেদ বলেন, আঞ্চলিক দেশগুলোর সেবা করার লক্ষ্যেই তিনি আঞ্চলিক পরিচালক নির্বাচিত হয়েছিলেন এবং নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। তবে তাঁকে দায়িত্ব কার্যকরভাবে পালনে ক্রমাগত বাধা দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।


তিনি আরও বলেন, তাঁকে বিনা বেতনে ছুটিতে পাঠানোর কারণে প্রায় এক বছর ধরে কোনো পারিশ্রমিক পাননি। এতে তাঁর আর্থিক পরিস্থিতি অসহনীয় হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে ডব্লিউএইচওর নেতৃত্বের প্রতি তাঁর আস্থা ও বিশ্বাসও নষ্ট হয়েছে বলে উল্লেখ করেন।


এদিকে, এর আগে দুটি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছিল, সায়মা ওয়াজেদকে আনুষ্ঠানিকভাবে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করছে ডব্লিউএইচও। সূত্রগুলো জানায়, আগামী ১২ অক্টোবর এ পদের জন্য মনোনয়ন আহ্বান করা হতে পারে। ডিসেম্বরে আবেদন যাচাই-বাছাইয়ের পর ২০২৭ সালের ২৪ জানুয়ারি নির্বাচন হতে পারে।


দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালকের অধীনে বাংলাদেশ ও ভারতসহ এ অঞ্চলের দেশগুলো রয়েছে। আঞ্চলিক পরিচালকরা বিভিন্ন রোগের প্রাদুর্ভাব ও জরুরি পরিস্থিতিতে ডব্লিউএইচওর কার্যক্রম পরিচালনা এবং স্থানীয় পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সংস্থার নীতিমালা বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।


জুলাইয়ের চিঠিতে সায়মা তাঁর বিরুদ্ধে ভ্রমণ-সংক্রান্ত জালিয়াতির অভিযোগও অস্বীকার করেন। তাঁর দাবি, ৯০১ ডলারের একটি অর্থ ফেরত পাওয়ার আবেদন প্রক্রিয়ায় তাঁর এক সহকারীর প্রশাসনিক ভুলের কারণে বিষয়টি তৈরি হয়েছে।


শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশে অটিজম নিয়ে কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি একটি সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি পেয়েছেন এবং ডব্লিউএইচওর মহাপরিচালক টেড্রোসের কাছে এ যোগ্যতার বিষয়টি স্পষ্ট করেছিলেন।


সায়মা ওয়াজেদ এ বিষয়ে রয়টার্সকে আর কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। মন্তব্যের অনুরোধে ডব্লিউএইচওও তাৎক্ষণিক কোনো সাড়া দেয়নি। গত মাসে সংস্থাটি জানিয়েছিল, সায়মা ছুটিতে রয়েছেন; তবে গোপনীয়তার কারণে তাঁর বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করবে না।