বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার

  • প্রকাশ : সোমবার ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, সময় : ৫:৫৫ এএম

বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কারের জন্য ৯ জনের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। আজ সোমবার ২০২৫ সালের পুরস্কারের জন্য একাডেমির জনসংযোগ বিভাগ এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তালিকা প্রকাশ করে।




তালিকায় আটটি শাখায় নয়জনের নাম এসেছে।


পুরস্কারপ্রাপ্তরা হলেন-কবিতায় মোহন রায়হান, কথাসাহিত্যে নাসিমা আনিস, প্রবন্ধ/গদ্যে সৈয়দ আজিজুল হক, শিশুসাহিত্যে হাসান হাফিজ, অনুবাদে আলী আহমদ, গবেষণায় মুস্তাফা মজিদ ও ইসরাইল খান, বিজ্ঞান ফারসীম মান্নান মোহাম্মদী এবং মুক্তিযুদ্ধে মঈদুল হাসান।


বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, "বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার ২০২৫-এর ‘প্রস্তাবক কমিটি’র প্রস্তাবনার পরিপ্রেক্ষিতে এবং ‘বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার কমিটি’র সিদ্ধান্তক্রমে বাংলা একাডেমি নির্বাহী পরিষদ ‘বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার ২০২৫’ অনুমোদন করে।"


পুরস্কার পাওয়ার প্রতিক্রিয়ায় কবি মোহন রায়হান বলেন, "আমি এখনো জানি না পুরস্কার তালিকায় আমার নাম আছে কী না। তোমার কাছ থেকেই প্রথম জানতে পারলাম।”


তিনি বলেন, "চল্লিশ বছরের অধিক সময় ধরে আমার কবিতা মানুষ নানা জায়গায় পড়ে। এটাই আমার পুরস্কার। মানুষের ভালোবাসাটাই আমার কাছে পুরস্কার। আর এই পুরস্কার অনেক আগে থেকেই আমি পেয়ে আসছি।"


রীতি অনুযায়ী, প্রতি বছর মাসব্যাপী আয়োজিত অমর একুশে বইমেলার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এ পুরস্কার দেন। কিন্তু এবারে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের কারণে ফেব্রুয়ারির প্রথম দিন থেকে বইমেলা শুরু হয়নি।


আগামী ২৬শে ফেব্রুয়ারি একাডেমি আয়োজিত অমর একুশে বইমেলার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে এ পুরস্কার দেবেন।



  • প্রকাশ : রবিবার ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১০:১২ পিএম
  • আপডেট : রবিবার ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১০:১২ এএম


মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি

  • প্রকাশ : রবিবার ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১০:১২ পিএম

মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নাম পরিবর্তন করে নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। আজ রোববার বিকালে মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হওয়ার তথ্য দিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি।


বৈঠক শেষে সন্ধ্যায় পিআইডির কনফারেন্স হলে ব্রিফিংয়ে এসে তিনি বলেন, “মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নাম পরিবর্তন করে নতুন করে নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় নামকরণ করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।”


মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, স্বৈরশাসক এরশাদের শাসনামলে ১৯৮৯ সালের ৯ নভেম্বর মহিলা বিষয়ক মন্ত্রণালয় গঠন করা হয়। এরশাদের পতনের পরে বিএনপি সরকারের সময় ১৯৯৪ সালের ৫ মে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় হিসেবে নতুন নাম পায়।


৪০ হাজার শিক্ষার্থীকে ল্যাপটপ দিচ্ছে সরকার

  • প্রকাশ : রবিবার ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৯:২০ পিএম

এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় ২০২৬ সালে গোল্ডেন জিপিএ-৫ অর্জনকারী প্রায় ৪০ হাজার শিক্ষার্থীকে একটি করে ল্যাপটপ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।


শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশ ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার সামঞ্জস্য নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।


একই সঙ্গে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বকেয়া পাওনা পরিশোধ, শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়ন এবং মূল্যায়ন পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনাসহ শিক্ষা খাতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব ও সুপারিশ করা হয়েছে।


গত ১০ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠকে এসব তথ্য উঠে আসে। বৈঠকের কার্যবিবরণী সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষা খাতের উন্নয়নে সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনা ও প্রস্তাব সেখানে তুলে ধরা হয়।


বৈঠকে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সিনিয়র সচিব আবদুল খালেক জানান, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের জন্য ৫৭ হাজার ৩০১ কোটি ৬৮ লাখ টাকার প্রস্তাবিত বাজেট ধরা হয়েছে, যা বিগত সংশোধিত বাজেটের চেয়ে ৪২ দশমিক ৭ শতাংশ বেশি।


আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অর্জনের লক্ষ্যে মেধা বিকাশ ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা বৃদ্ধির অংশ হিসেবে ২০২৬ সালে গোল্ডেন জিপিএ অর্জনকারী প্রায় ৪০ হাজার শিক্ষার্থীর প্রত্যেককে একটি করে ল্যাপটপ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।


সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত ১০ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠকে দেশের শিক্ষা খাতের জন্য নতুন এসব প্রস্তাব তুলে ধরা হয়। কমিটির কার্যবিবরণী অনুযায়ী, বিএনপি নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার মেধা বিকাশ ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা বাড়াতে গোল্ডেন জিপিএ-৫ অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের ল্যাপটপ দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে।


পাশাপাশি ইএফটি ও আইবাস++ পদ্ধতিতে প্রায় ৭০ হাজার অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীর বকেয়া পাওনা সরাসরি ব্যাংক হিসাবে পাঠানোর ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এ উদ্যোগের জন্য বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ধন্যবাদ জানানো হয়।


এর আগে খুলনার একটি অনুষ্ঠানে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এসএসসিতে জিপিএ-৫ অর্জনকারী সব শিক্ষার্থীকে ট্যাব দেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন।


পরবর্তী সময়ে গত ১ সেপ্টেম্বর শিক্ষামন্ত্রীর মিডিয়া সেলে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে গোল্ডেন জিপিএ-৫ অর্জনকারীদের ল্যাপটপ দেওয়ার উদ্যোগের কথা জানানো হয়। স্ট্যাটাসে বলা হয়, ‘এ বছর এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় গোল্ডেন জিপিএ-৫ প্রাপ্তদের ল্যাপটপ প্রদান করা হবে।’


শিক্ষার মানোন্নয়নে একগুচ্ছ প্রস্তাব ও সুপারিশ


শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির বৈঠকে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ করা অর্থের স্বচ্ছ ব্যবহার নিশ্চিত করা, শিক্ষার বিদ্যমান সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সমাধানের কৌশল গ্রহণ, অনিয়ম ও দুর্নীতিমুক্ত শিক্ষাঙ্গন গড়ে তোলা এবং মাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষার্থী কমে যাওয়ার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনার প্রস্তাব করা হয়েছে।


এ ছাড়া শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ বাড়ানো, মানসম্মত শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং কারিগরি শিক্ষার প্রসারেও একগুচ্ছ প্রস্তাব ও সুপারিশ করা হয়।


এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি মো. সেলিম ভূঁইয়া বলেন, শিক্ষার গুণগত মান বাড়াতে কমিটির প্রথম সভায় একগুচ্ছ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে দেশের শিক্ষার্থীদের সামঞ্জস্যপূর্ণ অবস্থানে নিতে বছরভিত্তিক মূল্যায়ন ও আধুনিক শিক্ষাক্রমের বিকল্প নেই।


তিনি বলেন, শুধু বছরব্যাপী নয়, তিন মাস অথবা ছয় মাস অন্তর শিক্ষা ব্যবস্থায় শিখনফল মূল্যায়ন পদ্ধতি চালু করা প্রয়োজন। কমিটির পরবর্তী সভাগুলোতে শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করতে আরও দফাওয়ারি সুপারিশ করা হবে। পাশাপাশি শিক্ষার রোডম্যাপ নিয়ে একটি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হবে, যেখানে বিস্তারিত তুলে ধরা হবে।


আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে শিক্ষার মূল্যায়নে জোর


সংসদীয় কমিটির বৈঠকে দেশের প্রচলিত শিক্ষা মূল্যায়ন ব্যবস্থা পর্যালোচনা করা হয়। সেখানে বলা হয়, কেবল পাসের হার বৃদ্ধি শিক্ষার প্রকৃত সাফল্যের মাপকাঠি হতে পারে না। প্রচলিত ত্রুটিপূর্ণ ধারা থেকে বেরিয়ে এসে বছরভিত্তিক শিখনফল মূল্যায়ন এবং বিশ্বমানের শিক্ষাক্রম প্রবর্তনের ওপর জোর দেন কমিটির সদস্যরা।


একই সঙ্গে মালয়েশিয়ার মডেলের আদলে দীর্ঘমেয়াদি ও স্থায়ী জাতীয় শিক্ষা-ভাবনা প্রণয়নের প্রস্তাব করা হয়। এর লক্ষ্য হলো, সরকার বা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল ব্যক্তি পরিবর্তন হলেও শিক্ষানীতি, পাঠ্যক্রম ও পাঠ্যপুস্তকের মৌলিক কাঠামো যেন বারবার পরিবর্তন না হয়।


সভায় কমিটির সদস্য রেজা কিবরিয়া বলেন, গণিত ও বিজ্ঞানের মতো মৌলিক বিষয়ে আন্তর্জাতিক সূচকে দেশের শিক্ষার্থীরা যেন পিছিয়ে না পড়ে, সে জন্য সুনির্দিষ্ট বছরভিত্তিক আন্তর্জাতিক মানদণ্ড প্রবর্তন জরুরি।


শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়নে সাত দফা সুপারিশ


সংসদীয় কমিটি শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়নে সাত দফা সুপারিশ করেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো-


১. শিক্ষার আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অর্জনে বছরভিত্তিক পরিমাপ পদ্ধতি তৈরি করা।


২. শিক্ষা খাতের বরাদ্দের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং দুর্নীতিমুক্ত পরিবেশ গড়ে তুলতে সংসদীয় কমিটির সদস্যদের মাধ্যমে স্কুল-কলেজ পরিদর্শন করা।


৩. পরবর্তী বৈঠকগুলোতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়সহ সব শিক্ষাবোর্ড ও অধীনস্থ দপ্তরের প্রধানদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা।


৪. হজযাত্রী ও দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত শিক্ষকদের বকেয়া দ্রুত পরিশোধের জন্য আলাদা তালিকা তৈরি করা।


৫. বাজেট সাপেক্ষে বকেয়া ভাতা প্রদান প্রক্রিয়া আরও দ্রুত করা।


কমিটির অন্যান্য সুপারিশও শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়ন, জবাবদিহি বৃদ্ধি ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অর্জনের লক্ষ্যকে সামনে রেখে প্রণয়ন করা হয়েছে।


সংসদীয় কমিটির এ উদ্যোগ ও সুপারিশকে সময়োপযোগী ও যুগান্তকারী হিসেবে দেখছেন দেশের শিক্ষাবিদরা। তাঁদের মতে, পাসের হারের কৃত্রিম সূচকের পরিবর্তে বছরভিত্তিক শিখনফল মূল্যায়ন এবং বিশ্বমানের শিক্ষাক্রম প্রবর্তনের যে তাগিদ সংসদীয় কমিটি দিয়েছে, তা দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার গুণগত রূপান্তরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।


 ‘ল্যাপটপগুলি ভাগাভাগি করে নিজেদের মধ্যে খেয়ে ফেললেন’

  • প্রকাশ : রবিবার ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৯:১৬ পিএম
  • আপডেট : রবিবার ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৯:৫৬ এএম

এ সম্পর্কিত আরও খবর


মাঝ আকাশে দরজা খুলে গেল এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের

  • প্রকাশ : রবিবার ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৯:১৬ পিএম

ভারতের আগরতলা থেকে কলকাতা যাওয়ার পথে মাঝ আকাশে দরজা খুলে যাওয়ায় একটি এয়ার অ্যাম্বুলেন্স ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করেছে। পরে উড়োজাহাজে থাকা অসুস্থ নারীকে দ্রুত রাজধানীর কুর্মিটোলা হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।


আজ রোববার (১৮ অক্টোবর) দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সিনিয়র অফিসার মো. রিয়াজ উদ্দিন।


এয়ার অ্যাম্বুলেন্সটির যাত্রীতালিকা অনুযায়ী, ওই রোগীর নাম অঞ্জনা ভৌমিক। তিনি ভারতীয় নাগরিক। তার সঙ্গে ছিলেন চিকিৎসক ডা. ফিরোজ খান, প্যারামেডিক আজিম খান এবং দুই সঙ্গী সান্তা ভৌমিক ও দীপ জ্যোতি মিশ্র। তালিকায় তাদের সবার জাতীয়তা ভারতীয় উল্লেখ রয়েছে।


যাত্রীতালিকার তথ্য অনুযায়ী, এয়ার অ্যাম্বুলেন্সটির পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান এসকেবি ইনফ্রাকন প্রাইভেট লিমিটেড। উড়োজাহাজটির মডেল সি৯০এ এবং নিবন্ধন নম্বর ভিটি-এইচওয়াইএ। এটি আগরতলা থেকে কলকাতায় যাচ্ছিল।


উড়োজাহাজটির পাইলট ইন কমান্ড ছিলেন ক্যাপ্টেন পুণ্য অনুপ এবং সহকারী পাইলট ছিলেন ক্যাপ্টেন তনুজ শর্মা। দুই পাইলটসহ উড়োজাহাজটিতে মোট সাতজন ছিলেন।


জানা যায়, মাঝ আকাশে দরজা খুলে যাওয়ার পর উড়োজাহাজটি শাহজালাল বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করে। এরপর রোগীকে দ্রুত নামিয়ে হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।


তবে কী কারণে উড়োজাহাজটির দরজা খুলে গিয়েছিল এবং ওই নারীর মৃত্যুর কারণ কী, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।


বাংলা একাডেমি (লোগো)

  • প্রকাশ : রবিবার ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৮:৩১ পিএম

২০২৭ সালের অমর একুশে বইমেলা আগামী ৭ জানুয়ারি শুরু হয়ে চলবে ৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। বাংলা একাডেমিতে আয়োজিত এক সভায় প্রকাশক-প্রতিনিধিদের সর্বসম্মতিক্রমে বইমেলার এ তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।


বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম এ তথ্য জানিয়েছেন।


তিনি জানান, গত ১৩ অক্টোবর মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টায় বাংলা একাডেমির শহীদ মুনীর চৌধুরী সভাকক্ষে অমর একুশে বইমেলা ২০২৭ আয়োজন নিয়ে প্রকাশক-প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী।


সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান ও মন্ত্রণালয়ের সচিব ইয়াসমিন বেগম। সভায় উপস্থিত প্রকাশক-প্রতিনিধিদের সর্বসম্মতিক্রমে বইমেলার তারিখ চূড়ান্ত করা হয়।


শেখ আব্দুল হান্নান। ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : রবিবার ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৮:২৪ পিএম

দুর্নীতির মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জন ও অর্থপাচারের অভিযোগে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর সাবেক প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল শেখ আব্দুল হান্নানকে কাতারে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ইন্টারপোলের মাধ্যমে পাঠানো অনুরোধের প্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার তাঁকে গ্রেপ্তার করেছে কাতার পুলিশ। দুদকের সচিব সাইদুর রহমান খান এ কথা জানিয়েছেন। 


ঢাকায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে ব্রিফিংয়ে সাইদুর রহমান খান বলেন, শনিবার অনানুষ্ঠানিকভাবে হান্নানের গ্রেপ্তারের খবর পায় দুদক। আজ রোববার আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে, তিনি কাতারের দোহায় গ্রেপ্তার হয়েছেন। বাংলাদেশ পুলিশ সদর দপ্তরের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি) শাখার মাধ্যমে ইন্টারপোলের কাছ থেকে এ তথ্য পেয়েছে দুদক।


দুদকের প্রধান কার্যালয়ে ব্রিফিংয়ে বিমান বাহিনীর সাবেক প্রধান আবদুল হান্নানকে কাতারে গ্রেপ্তারের তথ্য জানানো হয়।


শেখ আব্দুল হান্নানকে কাতার থেকে দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়ার বিষয়ে দুদক সচিব সাইদুর বলেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এরই মধ্যে দুদকের কাছে কিছু তথ্য চেয়েছে। সেসব তথ্য সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আশা করি, প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে তাঁকে দেশে ফিরিয়ে এনে আইনের মুখোমুখি করা সম্ভব হবে।


আব্দুল হান্নান ২০২১ সালের ১২ জুন থেকে ২০২৪ সালের ১১ জুন পর্যন্ত বিমান বাহিনীর প্রধান পদে দায়িত্ব পালন করেন। ওই সময় ক্ষমতার অপব্যবহার করে তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা বিপুল পরিমাণ সম্পদ অর্জন করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে তার বিরুদ্ধে ২০২৫ সালের ২৭ জুলাই অবৈধ সম্পদ অর্জন ও অর্থপাচারের অভিযোগে দুটি মামলা করে দুদক। 


দুদকের উপপরিচালক মো. তানজির হাসিব সরকার বাদী হয়ে সংস্থাটির সমন্বিত জেলা কার্যালয়, ঢাকা-১-এ মামলা দুটি দায়ের করেন। দুদকের পক্ষ থেকে তখন সাংবাদিকদের জানানো হয়েছিল যে, আব্দুল হান্নানের জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ প্রায় তিন কোটি ২৮ লাখ টাকার সম্পদের খোঁজ তারা পেয়েছে। সেইসঙ্গে, তার নামে থাকা ছয়টি ব্যাংক হিসাবে প্রায় ২৭ কোটি ৬৩ লাখ টাকার ‘সন্দেহজনক’ লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগ অনুসন্ধানের মধ্যেই ২০২৫ সালের ৫ মে আব্দুল হান্নান ও তার স্ত্রী-সন্তানের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা জারি করে আদালত। এরপর তাদের জমি, বাড়ি ও তিনটি ফ্ল্যাট জব্দ এবং ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়। সেইসঙ্গে, কাতারে অবস্থিত আব্দুল হান্নানকে ইন্টারপোলের সহায়তায় গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালিয়ে আসছিল দুদক।


  • প্রকাশ : রবিবার ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৭:০৮ পিএম

দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনায় বাংলাদেশে নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূত আবদুল্লাহ জাফর এইচ বিন আবিয়াহর সঙ্গে বৈঠক করেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। আজ রোববার এ বৈঠক হয় বলে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।


বিকেলে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় এ বৈঠক হয় বলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান। ওই কর্মকর্তা বলেন, 'রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠক করেছেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দ্বিপাক্ষিক বিষয়ক সচিব এম নজরুল ইসলাম।'


গত ১৪ অক্টোবর ওই দুজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। মসজিদে ‘অনৈতিক কাজ’ করার দায়ে তাদের এ সাজা দেওয়া হয় বলে জানা গেছে।


দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সৌদি প্রেস এজেন্সি (এসপিএ) এক বিবৃতিতে জানায়, সৌদি নিরাপত্তা বাহিনী ওই দুই বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তার করে। পরে তদন্তের ভিত্তিতে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয় এবং সংশ্লিষ্ট আদালতে পাঠানো হয়। আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ওই দুই বাংলাদেশিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। মক্কা অঞ্চলে তাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়।


মন্ত্রণালয়ে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আইনি প্রক্রিয়া সম্পর্কে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বা সৌদি আরবে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশন- কাউকেই আগে থেকে অবহিত করেনি সৌদি কর্তৃপক্ষ। মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার পর বিষয়টি জানতে পারে ঢাকা।


পরে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ে সৌদি আরবের কাছে বিস্তারিত তথ্য চেয়ে ‘নোট ভার্বাল’ দিয়েছিল বাংলাদেশ। এর আনুষ্ঠানিক জবাবের অপেক্ষায় রয়েছেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা।


আজ বৈঠকের বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, 'বিষয়টির স্পষ্টীকরণ চেয়ে পাঠানো নোট ভার্বালের একটি হার্ড কপি সৌদি রাষ্ট্রদূতের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।'


'আমরা আগেই ইলেকট্রনিক মাধ্যমে নোট ভার্বাল পাঠিয়েছিলাম। আজ সেটির একটি অনুলিপি হস্তান্তর করা হয়েছে,' বলেন তিনি।


মৃত্যুদণ্ড পাওয়া দুই বাংলাদেশির নাম নাজেরুল ইসলাম আব্দুল বশির ও সিতি আক্তার বলে জানিয়েছে সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।


তাদের বিস্তারিত পরিচয় নিশ্চিতে সৌদিতে বাংলাদেশ কনস্যুলেট কর্মকর্তারা কাজ করছেন বলে কর্মকর্তারা জানান।


ঠিক কী ধরনের অপরাধের জন্য তাদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে, মক্কার কোন মসজিদে ঘটনাটি ঘটেছিল কিংবা কী অবস্থায় তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানায়নি সৌদি কর্তৃপক্ষ।


পুরো ঘটনায় সৌদি কর্তৃপক্ষের 'কনস্যুলার সম্পর্কিত ভিয়েনা কনভেনশনের' বিধান মেনে চলা নিয়ে নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। বাংলাদেশ ও সৌদি আরব দুই দেশই এই কনভেনশনে সই করেছে।


কনভেনশনের ৩৭ (ক) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, কোনো দেশের নাগরিক মারা গেলে প্রাসঙ্গিক তথ্য পাওয়া সাপেক্ষে সে দেশের কর্তৃপক্ষকে 'দেরি না করে সংশ্লিষ্ট এলাকার কনস্যুলার কার্যালয়কে' জানাতে হবে।


৩৬ (১) (খ) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, আটক বিদেশি নাগরিকদের বিষয়ে কনস্যুলার নোটিফিকেশনের অধিকার অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কনস্যুলেটকে অবশ্যই জানাতে হবে।


যদিও, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়টি আগে থেকে কনস্যুলেটকে জানানোর বাধ্যবাধকতা এই কনভেনশনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ নেই।


বাংলাদেশ কনস্যুলেট জানিয়েছে, ২ বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়টি নিয়ে তাদের আগে থেকে কোনো ধারণা ছিল না।


ভিয়েনা কনভেনশনের ৩৬ (১) (গ) অনুচ্ছেদে আটকদের কনস্যুলার সুবিধা, তাদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং আইনি সহযোগিতার বিধানও রয়েছে।


তবে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত দুজন নিজেদের আইনি অধিকার সম্পর্কে জানতেন কি না কিংবা তারা কনস্যুলার সহায়তা চেয়েছিলেন কি না, তা এখনো জানা যায়নি।


ওই দুজনকে কবে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল বা তারা কতদিন ধরে আইনি হেফাজতে ছিলেন, সে বিষয়ে সৌদি সরকার কিছু জানায়নি।


এমনকি বিচার চলাকালে তারা কোনো আইনি সহায়তা পেয়েছিলেন কি না, বা তাদের পরিবারকে আইনি প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানানো হয়েছিল কি না-তা নিয়েও কোনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।