ভোগান্তির মূলে আট মহাসড়কে ১২৯ বাজার-বাসস্ট্যান্ড
মোটরযানের গতিসীমার নির্দেশনা অনুযায়ী, মহাসড়ক ও এক্সপ্রেসওয়েতে প্রাইভেটকার ও বাসের সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ৮০ কিলোমিটার থাকার কথা। মোটরসাইকেলের ক্ষেত্রে এটি ৫০ কিলোমিটার।
তবে দেশের মহাসড়কগুলোতে যানবাহনের গড় গতি ঘণ্টায় ৩০ কিলোমিটারে নেমে এসেছে। ব্যস্ত সময়ে রাজধানী ঢাকায় এই গতি ঘণ্টায় মাত্র ১০ থেকে ১৫ কিলোমিটার। গত ডিসেম্বরে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে সড়ক ভবনে এক সেমিনারে সড়ক-মহাসড়কে যান চলাচলের গতি প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ কমে আসার এ তথ্য উঠে আসে। অনুষ্ঠানটির আয়োজন করেছিল সড়ক বিভাগ।
এদিকে মহাসড়কে যান চলাচলের ধীরগতি ও প্রতিবন্ধকতা নিয়ে প্রতিবেদন তৈরি করেছে পুলিশ। সেটি বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, দেশের আট মহাসড়কের ১২৯টি ব্যস্ত পয়েন্টসংলগ্ন এলাকায় বাজার ও বাসস্ট্যান্ড রয়েছে। এতে যানজটের দুর্ভোগে পড়ছে মানুষ। প্রাণঘাতী দুর্ঘটনাও ঘটছে। মহাসড়কের ‘ব্ল্যাক স্পট’ হিসেবে এই পয়েন্টের কারণে এবারও ঈদযাত্রায় বাড়তি ভোগান্তির শঙ্কা রয়েছে।
গত ৫ মার্চ সচিবালয় সড়ক পরিবহন মহাসড়ক বিভাগের সম্মেলন কক্ষে ঈদযাত্রা নিয়ে বৈঠক করেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেল ও নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। সেখানে মহাসড়কে যানজটের ২০৭টি স্পট চিহ্নিত করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
দেশের অভ্যন্তরীণ যাতায়াত ব্যবস্থার বড় অংশ সড়কনির্ভর। যাত্রী পরিবহনের ৮৮ শতাংশ এবং পণ্য পরিবহনে ৭৬ শতাংশ সড়কপথ ব্যবহার হয়। ঈদের সময় স্বাভাবিকভাবে সড়কপথে বাড়তি চাপ তৈরি হয়। উত্তরাঞ্চলের সঙ্গে ঢাকার যোগাযোগের অন্যতম প্রধান রুট ঢাকা-টাঙ্গাইল-রংপুর মহাসড়ক।
পুলিশের প্রতিবেদনে উঠে আসে, এই মহাসড়কের পাঁচটি পয়েন্টে বাজার ও ৯টি জায়গায় বাসস্ট্যান্ড আছে। বাসস্ট্যান্ড রয়েছে- চন্দ্রা জেবি টাওয়ার, পল্লী বিদ্যুৎ, মৌচাক, এলেঙ্গা, হাটিকুমরুল মোড়, চারমাথা, মোকামতলা ও চরিয়া সিকার মধ্যপাড়ায়।
রপ্তানিমুখী পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক প্রধান রুট হিসেবে বিবেচিত। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই মহাসড়কের বাজার ও বাসস্ট্যান্ড আছে ১৯টি পয়েন্টে। এর মধ্যে আছে ঢাকামুখী চিটাগং রোডের মোড়, মোগড়াপাড়া, গৌরীপুর, চান্দিনাবাজার, মাধাইয়াবাজার, কুটুম্বপুর বাজার, ইলিয়টগঞ্জ বাজার, নিমসার বাজার, মিয়াবাজার, চৌদ্দগ্রাম বাজারের ঢাকামুখী লেন, দেবিদ্বার বাজার, বারইয়ারহাট, মীরসরাই ও সীতাকুণ্ড।
২০২১ সালের মহাসড়ক আইনে বলা আছে, অনুমোদন ছাড়া মহাসড়কে বাজার, মার্কেট বা যে কোনো স্থায়ী-অস্থায়ী অবকাঠামো তৈরি করলে সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড বা ৫০ হাজার থেকে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা করা হবে। সড়কের দুই পাশে ১০ মিটারের মধ্যে হাটবাজার কিংবা স্থায়ী-অস্থায়ী অবকাঠামো গড়ে তোলা দণ্ডনীয় অপরাধ।
নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে সড়ক-মহাসড়কে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিকারী অবৈধ হাটবাজার, স্থাপনা ও পার্কিং অপসারণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে উচ্চ আদালতের নির্দেশনাও আছে। তবে প্রশাসনের তরফে তেমন কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায় না।
এদিকে ২০২৩ সালের হাট ও বাজার (স্থাপন ও ব্যবস্থাপনা) আইনের বিধান অনুযায়ী বাংলাদেশের যে কোনো স্থানে হাট ও বাজার স্থাপন করতে পারে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসন বা স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। এর আলোকেই অনেক মহাসড়কের পাশে অনেক জায়গায় বসছে হাটবাজার।
বাজার বেশি ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশে
পুলিশের প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, বাজার ও বাসস্ট্যান্ড সবচেয়ে বেশি ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে। সেখানে বাজার আছে ১৭টি ও বাসস্ট্যান্ড পাঁচটি। বাজারের পয়েন্টের মধ্যে আছে ভবানীপুর, গড়গড়িয়া মাস্টারবাড়ি, মাওনা উড়ালসড়ক, বকশীগঞ্জ, কানুরামপুর, কাশীগঞ্জ, পিরিজপুর, সিডস্টোর ও মোসলেমপুর। ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশে বাজার ১৯টি ও বাসস্ট্যান্ড দুটি। ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের পাশে বাজার আটটি ও বাসস্ট্যান্ড চারটি, ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের পাশে বাজার ৯টি, বাসস্ট্যান্ড ১০টি, ঢাকা-কক্সবাজার মহাসড়কে বাজার সাতটি ও বাসস্ট্যান্ড সাতটি, যশোর-খুলনা মহাসড়কের পাশে বাজার একটি ও বাসস্ট্যান্ড একটি।
ঢাকা-টাঙ্গাইল-রংপুর মহাসড়কের অন্তত ৫৫ স্থান যানপ্রবণ এলাকা। এই সড়কে যানজটের পেছনে রয়েছে অন্তত ১৬ কারণ। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাড়কের ৪৫টি স্থানে কম-বেশি যানজট তৈরি হয়। ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে ৪৩টি, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে ২১টি, ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে ১৪টি, ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে ১৪টি, ঢাকা-কক্সবাজার মহাসড়কে ৯টি এবং খুলনা সড়কে ছয়টি স্থানে যানজট তৈরি হয়।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সড়কের পাশে অপরিকল্পিত বাজার, মহাসড়কে থ্রিহুইলার বা কম গতির যানবাহন চলাচল, অবৈধ পার্কিং, সড়ক সংকীর্ণতা ও হেঁটে রাস্তা পারপারসহ নানা কারণে যানজট তৈরি হচ্ছে। স্বাভাবিক সময়েও এসব মহাসড়কে যান চলাচলে ধীরগতি দেখা যায়। আর উৎসবের সময়, বিশেষ করে ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার সময় পরিস্থিতি আরও নাজুক হয়।
তারা বলছেন, এসব স্থানে অবকাঠামোগত উন্নয়ন, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা জোরদার ও থ্রিহুইলার বা কম গতির গাড়ি নিয়ন্ত্রণ করা গেলে যানজট অনেকটা কমানো সম্ভব।
মহাসড়কে যানজটের স্থান ও কারণ শনাক্ত করেছে পুলিশ। প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, যানজটের নেপথ্যে একাধিক কারণ কাজ করছে। তবে সব রুটেই কিছু সাধারণ কারণ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে রয়েছে- সড়কে ইউটার্ন, পথচারীর হেঁটে রাস্তা পারাপার, অতিরিক্ত গাড়ির চাপ, সড়কের পাশে বাজার বসা, সড়কের পাশে বাসস্ট্যান্ড ও যত্রতত্র বাস থামিয়ে যাত্রী ওঠানো-নামানো।
তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ১৬ কারণে ঢাকা-টাঙ্গাইল-রংপুর মহাসড়কের ৫৫ স্থানে যানজট হচ্ছে। এর মধ্যে ১৫ স্থানে ইউটার্নের কারণে যানজট হয়। এ ছাড়া ১৭ পয়েন্টে মানুষ হেঁটে রাস্তা পারাপার হয়। অতিরিক্ত গাড়ির চাপের কারণে যানজট হচ্ছে ১১ পয়েন্টে। অবশ্য একই স্থানে একাধিক কারণও রয়েছে।
ঢাকা থেকে টাঙ্গাইল সড়কে বাস বা যে কোনো যানবাহন ছেড়ে যাওয়ার পর চন্দ্রা ফ্লাইওভারের পশ্চিম প্রান্তে তিনটি কারণে যানজটে পড়তে হয়। কারণগুলো হলো- ইউটার্ন, অতিরিক্ত গাড়ির চাপ ও রাস্তায় হেঁটে পথচারী পারাপার। স্কয়ার কাটা নামক স্থানেও এই তিন কারণে যানজট দেখা দেয়। চন্দ্রা জেবি টাওয়ার এলাকায় পাঁচ ধরনের সমস্যা রয়েছে। বাসস্ট্যান্ড, আন্ডারপাস রোড, রাস্তায় পথচারী পারাপার, অতিরিক্ত গাড়ির চাপ ও সড়কসংলগ্ন বাজার স্থাপন। বাজারের আসা-যাওয়ার কারণে মানুষকে হেঁটে রাস্তা পার হতে হয়। যমুনা সেতু টোল প্লাজায় টোল আদায়ে ধীরগতির কারণেও পেছনে গাড়ির চাপ বেড়ে যায়। এ ছাড়া অনেক সময় সেতুর ওপরে গাড়ি বিকল হয়ে গেলে সেটি দ্রুত সরানোর ব্যবস্থা না করলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকা পড়ে যানবাহন।
ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের নলকা ব্রিজ এলাকায় উল্টোপথে গাড়ি থামিয়ে যাত্রী ওঠানামা করেন চালকরা। বগুড়া বাজার ওভারব্রিজের নিচে ঢাকামুখী সড়কের পাশে বাজার রয়েছে। বাজারে জনসমাগমের কারণে গাড়ির গতি কমে যায়। এ ছাড়া হোটেলগুলো থেকে উল্টো পথে গাড়ি যাতায়াত করে নিয়মিত। রাজশাহী-ঢাকা মহাসড়কের চরিয়া সিকার মধ্যপাড়া এলাকায় ইউটার্ন থাকার কারণে গাড়ির গতি কমে যাওয়ায় যানজট দেখা দেয়।
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ৪৫ স্থানে যানজট তৈরি হয়। তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এর কারণ ১২টি। ঢাকার অন্যতম প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ চিটাগাং রোড এলাকা। সড়কসংলগ্ন বাজার, সড়কে বাস থামিয়ে যাত্রী ওঠানামা এবং ব্যাটারিচালিত রিকশা, অটোরিকশার কারণে সেখানে যানজট কোনোভাবে নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছে না। ঢাকা থেকে এই রুটে গাড়ি ছেড়ে যাওয়ার পর বরাব বাসস্ট্যান্ডে তীব্র জটে পড়তে হয়। মহাসড়কে উন্নয়নমূলক কাজ চলমান থাকায় গাড়ি থেমে থেমে চলে সেখানে। ফলে পেছনে লম্বা সারি পড়ে যায়। তারাব গোলচত্বরেও প্রায় একই সমস্যা।
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে সবচেয়ে বেশি সমস্যা তৈরি হয় সড়কসংলগ্ন বাজার ও বাসস্ট্যান্ড এবং ইউটার্নের কারণে। এই সড়কে ১৭ স্থানে বাজার ও বাসস্ট্যান্ড রয়েছে। সাধারণত বাজারে সবসময়ই ভিড় থাকে। ফলে গাড়ির গতি কমাতে বাধ্য হন চালকরা। এ ছাড়া ইউটার্ন রয়েছে ১১ জায়গায়। এসব স্থানে গাড়ি ঘোরানোর সময় পেছনে সারি পড়ে যায়।
এ ছাড়া রাস্তায় থ্রি-হুইলার গাড়ি তো আছেই। তিন চাকার এই গাড়ির গতি তুলনামূলক কম, যে কারণে দ্রুতগামী গাড়ির গতি কমিয়ে আনতে হয় চালককে। ফলে সৃষ্টি হয় যানজট। গৌরীপুর বাজার ও তিতাস থানা এলাকার রাস্তার মাথায় পথচারী হেঁটে পারাপার করেন। এ ছাড়া সেখানে যত্রতত্র বাস থামিয়ে যাত্রী ওঠানো-নামানো করা হয়। এ সময় গাড়ির জট লেগে যায়।
ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে ৪৩ পয়েন্টে যানজট
সড়ক পথে ঢাকা থেকে সিলেটের দূরত্ব প্রায় ২৫০ কিলোমিটার। এই মহাসড়কে ১০ কারণে ৪৩ স্থানে নিয়মিত যানজট দেখা দেয়। এই রুটে সবচেয়ে বেশি সমস্যা সড়ক ঘেঁষে গড়ে ওঠা বাজার। ঢাকা থেকে সিলেট পর্যন্ত ১৯ স্থানে বাজার, দোকান রয়েছে। বাজারে আসা-যাওয়া মানুষ রাস্তায় উঠে যাওয়ায় গাড়ির গতি কমে গিয়ে যানজটের সৃষ্টি হয়।
এ ছাড়া ১৩টি পয়েন্টে সড়ক সংস্কারের কাজ চলমান রয়েছে। ফলে এসব স্থানে সড়ক তুলনামূলক সরু হয়ে গাড়ি এক বা দুই লেনে ধীরগতিতে চলাচল করে। রূপগঞ্জের বরপা বাসস্ট্যান্ডে এলাকায় যাত্রীবাহী সব বাস রাস্তায় দাঁড়িয়ে যাত্রী ওঠানামা করে। এ ছাড়া যাত্রী তোলার প্রতিযোগিতায় পেছনের বাসকে বাধা দিতে সামনের বাস আড়াআড়ি করে দাঁড়ায়। ফলে একটা গাড়ির পেছনে আরেকটি বাস থেমে সারি বড় হয়। রূপগঞ্জের ভূলতা মোড়ে ফুট ওভারব্রিজ না থাকা এবং ফুটপাতে দোকান থাকায় মানুষকে সড়কে হাঁটতে হয়। তখন গাড়ির গতি কমে যায়।
ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক
ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে যানজটের ২১ পয়েন্ট চিহ্নিত করেছে পুলিশ। তাদের তথ্যমতে, হোতপাড়া ওভার ব্রিজের নিচে, ভবানীপুর বাজার, বাঘের বাজার, নতুন বাজার, গড়গড়িয়া মাস্টারবাড়ি, মাওনা ফ্লাইওভার, এমসি বাজার, জৈনা বাজার, জামালপুরের বকশীবাজার ও ময়মনসিংহের নান্দাইল পুরাতন বাসস্ট্যান্ড উল্লেখযোগ্য যানজটের স্পট। এই সড়কে মূলত ১০ কারণে যানজটে ভুগতে হয় মানুষকে। এর মধ্যে সড়কের যেখানে-সেখানে বাস থামিয়ে যাত্রী ওঠানামা, সড়কের পাশে বাজার গড়ে ওঠা, রাস্তা খানাখন্দ, অতিরিক্ত গাড়ির চাপ ও বিভিন্ন সড়কের সংযোগস্থলের কারণে বেশি যানজট হয়।
ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে ১৪ স্থানে যানজট
সাভারের হেমায়েতপুরে বাসস্ট্যান্ড ও সড়কের পাশে বড় একটি বাজার গড়ে ওঠায় মানুষের সমাগম থাকে সবসময়। ফলে এই সড়কের যানবাহন ঢাকায় প্রবেশ করার সময় এবং ঢাকা থেকে বের হওয়ার পর সেখানে যানজটের মুখে পড়তে হয়। সেখানকার ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা জোরদার করা দরকার বলে মনে করেন ওই সড়কে চলাচল করা যাত্রীরা।
পুলিশ সদরদপ্তরের তথ্যানুযায়ী, ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে ১৪ স্থানে যানজট হয়। এই তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, এই সড়কে আটটি কারণে যানজটে পড়তে হয় মানুষকে।
অন্যান্য মহাসড়কের অবস্থা
ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে ১৪টি পয়েন্টে যানজটে পড়তে হয় মানুষকে। এর অন্যতম কারণ, সড়কের পাশে বাজার ও বাসস্ট্যান্ড। এ ছাড়া আরও চার কারণে যানজট পোহাতে হয় মানুষকে। ঢাকা-কক্সবাজার রুটে ৯ স্থানে চার কারণে যানজট তৈরি হয়। যশোর-খুলনা মহাসড়কে যানজটের কারণ ছয়টি।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান
চার দশক পর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতির আসনে আরেকবার বসল বাংলাদেশ।
আজ মঙ্গলবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে সভাপতিত্ব করার মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ শুরু করলেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান।
গত ২ জুন জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতি পদের নির্বাচনে বাংলাদেশের প্রার্থী খলিলুর রহমান ৯৯ ভোট পেয়ে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী সাইপ্রাসের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বিশেষ দূত আন্দ্রেয়াস এস কাকোরিসকে পরাজিত করেন।
নিউইয়র্কের স্থানীয় সময় অনুযায়ী মঙ্গলবার দুপুরে খলিলুর রহমানের সভাপতিত্বে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের নতুন অধিবেশন শুরু হয়। সভাপতির দায়িত্ব নেওয়ার আগে ৮১তম অধিবেশন নিয়ে নিজের পরিকল্পনা তুলে ধরেন তিনি। এরপর তিনি কাজ শুরু করেন।
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে ২২ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের ভাষণের মধ্য দিয়ে শুরু হবে উচ্চপর্যায়ের সাধারণ বিতর্ক। এ অধিবেশনে যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
সাবেক পেশাদার কূটনীতিক খলিলুর রহমান কর্মজীবনের বড় অংশজুড়ে জেনেভা ও নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে বিভিন্ন সংস্থায় দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৯৯১ সালে জেনেভায় জাতিসংঘ বাণিজ্য ও উন্নয়ন সম্মেলনের (আঙ্কটাড) বিশেষ উপদেষ্টা হিসেবে যোগ দেন খলিলুর রহমান।
এরপর ২৫ বছর নিউইয়র্ক ও জেনেভায় জাতিসংঘের বিভিন্ন জ্যেষ্ঠ পদে দায়িত্ব পালন করেন তিনি; ছিলেন জাতিসংঘের বিভিন্ন প্রকাশনার প্রধান লেখক।
বাংলাদেশ ২০২০ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতি পদে নির্বাচনে প্রার্থিতা ঘোষণা করে। তবে এই পদে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানকে দেশের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হয় গত ২৭ ফেব্রুয়ারি। এর পর থেকে পূর্ণমাত্রার কূটনৈতিক প্রচার শুরু হয়। দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তুতির সুযোগ ছিল না।
তবে স্বল্প সময়ের মধ্যেই বাংলাদেশ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক, দ্বিপক্ষীয় যোগাযোগ এবং বহুপক্ষীয় কূটনৈতিক ফোরামে অত্যন্ত সক্রিয় ও কৌশলগত প্রচার চালিয়ে আন্তর্জাতিক সমর্থন অর্জনে সফল হন। অপর দিকে বাংলাদেশের প্রতিদ্বন্দ্বী সাইপ্রাস ২০১৬ সালে তাদের প্রার্থিতা ঘোষণা করে। এক দশক ধরে ধারাবাহিক প্রচার চালায় দেশটি।
১৯৮৬ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৪১তম অধিবেশনে সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছিলেন বাংলাদেশের সাবেক পররাষ্ট্রসচিব ও রাজনীতিবিদ হুমায়ুন রশিদ চৌধুরী।
রাজনীতিতে যোগদানের পর বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনের ফাঁকে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছিলেন তিনি। পরে জাতীয় সংসদের স্পিকার হন হুমায়ুন রশিদ চৌধুরী।
স্বামী-স্ত্রী উভয়ের কর্মস্থল কাছাকাছি, একই জায়গা, শহর কিংবা একই উপজেলায় রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।
তিনি আজ সংসদে বিরোধী দলের সদস্য মারদিয়া মমতাজের বিধি-৭১ এর আওতায় জরুরি জন-গুরুত্বসম্পন্ন বিষয়ে মনোযোগ আকর্ষণ নোটিশের জবাবে এ কথা জানান।
সমাজকল্যাণমন্ত্রী জানান, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের অধীনে ৪৪টি ডে-কেয়ার সেন্টার ইতোমধ্যে কাজ করছে। বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে রয়েছে ২০টি ডে-কেয়ার সেন্টার। এছাড়াও আরও ২০টি ডে-কেয়ার অর্থাৎ মোট ৬৪টি ডে-কেয়ার সেন্টার এই মুহূর্তে ঢাকা শহর এবং ঢাকার বাইরে আমরা পরিচালনা করছি।
তিনি বলেন, সারা বাংলাদেশে আরও ৬০টি ডে-কেয়ার সেন্টার স্থাপনের জন্য কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। এই সমস্ত ডে-কেয়ার সেন্টারগুলোতে ইতোমধ্যে ৪ হাজার ৫০টি ১৫ দিন থেকে ৬ বছর বয়সী শিশুদের অফিস চলাকালীন সকাল সাড়ে ৮টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত রাখার ব্যবস্থা রয়েছে।
মন্ত্রী জানান, বর্তমানে ৫৩টি শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্রে কর্মরত মায়েদের জন্য ব্রেস্টফিডিং সেন্টারও আমাদের আছে। আরও ১১টি ব্রেস্টফিডিং সেন্টার স্থাপনের কার্যক্রম প্রায় শেষ পর্যায়ে। এছাড়া আরও ১২টি কিছুদিনের মধ্যে করতে পারবো। অর্থাৎ ৬৪টিতেই ব্রেস্টফিডিংয়ের ব্যবস্থা সুনিশ্চিত করা হবে।
বাংলাদেশ জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব নিচ্ছে আজ
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান আজ মঙ্গলবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।
আজ বাংলাদেশ সময় রাত ৯টায় নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮০তম অধিবেশনের সমাপ্তি পর্ব এবং ৮১তম অধিবেশনের নবনির্বাচিত সভাপতি ড. খলিলুর রহমানের আনুষ্ঠানিক শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
শপথ গ্রহণের আগে বাংলাদেশ সময় রাত ৮টা ৪৫ মিনিটে মিডিয়া ব্রিফিংয়ে অংশ নেবেন ড. খলিলুর রহমান। তাঁর দায়িত্ব গ্রহণের মধ্য দিয়ে চার দশক পর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্বে ফিরছে বাংলাদেশ।
শপথ গ্রহণের পর বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের প্রথম প্লেনারি সভায় সভাপতিত্ব করবেন ড. খলিলুর রহমান।
ছবি : সংগৃহীত
অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, উনি (সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন) আইনজীবীদের কল্যাণে ও স্বার্থে কিছু কথা প্রধান বিচারপতির কাছে বলেছেন বলে দাবি করেছেন। আসলে এমন কোনো কথা আজকের মামলার প্রসিডিংয়ে (কার্যধারা) হয়নি।
এক মামলায় আইনজীবীকে পাঁচ লাখ টাকা খরচা আরোপের বিষয়টি সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি মাহবুব উদ্দিন খোকনের উপস্থাপনের এক পর্যায়ে আজ মঙ্গলবার দুপুর ১২টার পর এজলাস ত্যাগ করেন প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন পাঁচ বিচারপতির আপিল বিভাগ। এ বিষয়ে হাইকোর্ট বিভাগের বর্ধিত ভবনের সামনে ব্রিফিং করেন এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন।
পরে নিজ কার্যালয়ে বেলা সোয়া দুইটার দিকে ব্রিফিং করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। তিনি বলেন, প্রধান বিচারপতি বিচারিক শৃঙ্খলা, সততা প্রাধান্য দেন। কোনো প্রতারণা যদি দেখেন, তা সিরিয়াসলি ডিল (গুরুত্বের সঙ্গে দেখেন) করেন।
যে কারণে খরচা আরোপ
২০১৩ সালে একজন কাজি নিয়োগ থেকে শুরু হওয়া ঘটনা উল্লেখ করে রুহুল কুদ্দুস বলেন, ‘যেখানে মামলার বাদী পাঁচটি রিট দায়ের করেছেন একই আদেশ চ্যালেঞ্জ করে। পাঁচটি রিট দায়ের করেছেন অথচ পূর্বে রিজেক্ট হওয়ার আদেশটি পরবর্তী রিটে উল্লেখ করা হয়নি। যে কারণে নারী আইনজীবীকে আজ আপিল বিভাগ ফাইন করেছেন পাঁচ লাখ টাকা এবং রিট আবেদনকারীকে পাঁচ লাখ টাকা, যে টাকা সুপ্রিম কোর্টের পক্ষ থেকে ঢাকা শিশু হাসপাতালে জমা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। নারী আইনজীবীর বক্তব্য অনুযায়ী মামলায় সিনিয়র আইনজীবী ছিলেন এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন। সকালে যখন আদেশ হয়, তখন নারী আইনজীবী আমার পাশে বসে আদেশটি শুনেছেন; মাহবুব উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন না।’
ওই মামলায় সকাল সোয়া নয়টার দিকে আদেশ হয় বলে জানান অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল। তিনি বলেন, ‘আর এ ঘটনার (এজলাস ত্যাগ) অবতারণা হচ্ছে ১২টা ৩৫ সময়। অন্য একটি মামলার সময় মাহবুব উদ্দিন খোকন ওই প্রসঙ্গে (খরচা আরোপ) বললেন যে “একজন আইনজীবীকে আপনারা ফাইন করেছেন।”
এর পরিপ্রেক্ষিতে তখন প্রধান বিচারপতি বলেন, “দেখেন, আমরা সবকিছুতে দেখে–শুনে একটা আদেশ দিয়েছি, আমাদের আদেশ আমরা পরিবর্তন করব না। কারণ, ওনাদের (আদালত) বক্তব্য অনুযায়ী সিরিয়াস ফ্রড করা হয়েছে। আদালতের সঙ্গে প্রতারণা এমনকি সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের ইতিপূর্বের আদেশও ফ্রড করা হয়েছে।”
এ পরিস্থিতিতে বললেন, “আপনি (মাহবুব উদ্দিন খোকন) এটা বলবেন না।”
কথোপকথন ও এজলাস ত্যাগ
অ্যার্টনি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস বলেন, তখন অত্যন্ত অপ্রত্যাশিতভাবে মাহবুব উদ্দিন খোকন বলে ফেললেন যে ‘আপনি প্রধান বিচারপতি হওয়ার পরে আইনজীবীদের ইনকাম কমে গেছে।’ বিষয়টি প্রধান বিচারপতি একটু লাইটলি নিলেন।
তারপরে বললেন, ‘আপনি (মাহবুব উদ্দিন খোকন) কি এটা মিন করেন? মাহবুব উদ্দিন খোকন অনেকটা সেই একই কথা বলার যখন চেষ্টা করেন, তখন প্রধান বিচারপতি বলেছেন যে ‘আপনি (খোকন) যে কথাটা বলেছেন, সেটা অ্যাবসলিউটলি আদালত অবমাননার শামিল। যেহেতু আপনি এত বড় একটা কথা বলেছেন, আমি আজকে আর আদালতের কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করব না।’
এ কথা বলে উনি (প্রধান বিচারপতি) উঠে (এজলাস থেকে) গেছেন।’
জাহেদ-উর-রহমান ও বাঁধন
অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।
তিনি বলেছেন, বাঁধনের ওপর হামলার ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আমরা প্রস্তুত আছি, আপনারা একই কাজ করতে পারেন এবং এটা কারো ওপরে যদি হয়, আমরা ছাড়বো না, নিশ্চিত ছাড়বো না।
আজ মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
বাঁধনের ওপর হামলা প্রসঙ্গে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, আজমেরী হক বাঁধনের ওপর হামলা হয়েছে। আমরা ভিডিও দেখেছি। যারা হামলা করেছেন, তারাও নিজেরা ভিডিও করে সেটা প্রকাশ করেছেন।
তিনি বলেন, এই ব্যাপারে আইনানুগ ব্যবস্থা ওই দেশে যা যা নেওয়া, এটার প্রসেস শুরু হয়েছে। আমরা অবশ্যই এটা ছেড়ে দেবো না। এটা কোনোভাবেই ছেড়ে দেওয়া যাবে না।
আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের হামলার প্রসঙ্গ তুলে জাহেদ উর রহমান বলেন, আওয়ামী লীগ একটা রাজনৈতিক দল কি না, এই আলাপটা আমরা কেউ কেউ করেছি। খুব করেছি। আমি আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিক দল মনে করি না। ইট ইজ আ মাফিয়া গ্যাং।
আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিক দল হিসেবে বিবেচনা করে তাদের দেশে রাজনীতি করার সুযোগ দেওয়া উচিত কি না, বাঁধনের ওপর হামলার ঘটনা সেই প্রশ্ন আবারও সামনে এনেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তথ্য উপদেষ্টা বলেন, আপনি (আওয়ামী লীগ) যা যা ঘটিয়েছেন, যদি আপনার ন্যূনতম দুঃখবোধ থাকতো, আপনার যদি রাজনীতিতে ফিরে আসার উদ্দেশ্য থাকতো, এই সহিংসতাগুলো করা হতো না। কোনোভাবেই হতো না।
বাঁধনের ওপর হামলার ঘটনাকে তার জন্য এক ধরনের সম্মান ও অর্জন হিসেবে উল্লেখ করেন জাহেদ উর রহমান।
তিনি বলেন, আজমেরী হক বাঁধনের উদ্দেশ্যে বলব, এটা তার এক ধরনের অর্জন, সম্মানপ্রাপ্তি যে, আওয়ামী লীগের হেনস্তার শিকার হওয়া, একটা মাফিয়া গ্যাংয়ের শিকার হওয়া প্রমাণ করে আপনি আসলে সঠিক পথে ছিলেন।
তথ্য উপদেষ্টা বলেন, একইভাবে আমরা অনেকেই হামলার শিকার হতে পারি। বাট উই ডোন্ট কেয়ার। একেবারেই না।
দেশের বাইরে থাকা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের হামলার প্রসঙ্গেও কথা বলেন তথ্য উপদেষ্টা। তিনি বলেন, এর আগেও করেছে, এটা অব্যাহত আছে। আমরা প্রস্তুত আছি, আপনারা একই কাজ করতে পারেন এবং এটা কারো ওপরে যদি হয়, আমরা ছাড়বো না, নিশ্চিত ছাড়বো না।
শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে জাহেদ উর রহমান বলেন, শেখ হাসিনাকেই কেয়ার করিনি, আমরা ওই সময় শেখ হাসিনার ১৪ পুরুষকে পালাতে বাধ্য করেছি। আর সেখানে কিছু মাস্তান একটু পার্ক-টার্কে মাস্তানি করবে, উই ডোন্ট কেয়ার। তবে আমরা ছাড়বো না, নিশ্চিত ছাড়বো না।
শেখ হাসিনা ও জাহেদ-উর-রহমান
শেখ হাসিনাকে ভারত থেকে ফেরত আনার বিষয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট ও অনড় বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেন, শেখ হাসিনা নিজে আসুন বা সরকার তাকে ফিরিয়ে আনুক তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে কোনো কৌশল নেই।
আজ মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা বলেন।
ভারতের গণমাধ্যমে হাসিনাকে এখনও কথা বলতে দেওয়া অপ্রত্যাশিত: তথ্য উপদেষ্টা
জাহেদ উর রহমান বলেন, শেখ হাসিনাকে সরকার ফিরিয়ে আনতে চায় কি না এ নিয়ে কেউ কেউ যে ধরনের অনুমান করছেন, তা সঠিক নয়। ভারতের ওপর চাপ তৈরির জন্য প্রত্যর্পণের দাবি তোলা হচ্ছে এমন কোনো কৌশল সরকারের নেই। ভারত সরকারের সঙ্গে বিষয়টি শর্ত হিসেবে দেওয়া হয়েছিল এবং সেটিকে গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়ার কথা বলা হয়েছিল।
তিনি বলেন, আমরা প্রায়ই বলছি, আপনি (শেখ হাসিনা) আসবেন না, আপনাকে ধরে নিয়ে আসতে চাই। আপনি আসামি, আপনি পলাতক আসামি, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি।
শেখ হাসিনার আপিলের সুযোগ নিয়েও কথা বলেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রধান প্রসিকিউটর জানিয়েছেন, শেখ হাসিনার এখন আর আপিল করার সুযোগ নেই। ফলে তিনি দেশে ফিরে বিচার পুনর্বিবেচনার সুযোগও পাবেন না।
জাহেদ উর রহমান বলেন, টেকনিক্যালি এখন ব্যাপারটা এ রকম তিনি আসবেন এবং তার জন্য মৃত্যুদণ্ড অপেক্ষা করছে। আমরা তাকে ধরে আনতে চাই।
ভারতীয় গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার নিয়ে অসন্তোষ
সম্প্রতি শেখ হাসিনা ভারতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠিত গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিচ্ছেন উল্লেখ করে এ বিষয়ে ভারত সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেন, শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান করে সংবাদমাধ্যমে কথা বলছেন এটি সরকারের কাছে অপ্রত্যাশিত। প্রত্যর্পণ না হওয়া পর্যন্ত অন্তত তিনি যেন এ ধরনের কর্মকাণ্ড করতে না পারেন, ভারত সরকারের কাছ থেকে সে বিষয়ে পদক্ষেপ প্রত্যাশা করেছিল বাংলাদেশ।
তিনি বলেন, আমরা এক্সপেক্ট করবো ভারত সরকার, এ ব্যাপারে তাকে একটা বার (বাধা) দেবেন। একই সঙ্গে শেখ হাসিনা ভারতে কী ধরনের মর্যাদা বা অধিকার ভোগ করছেন, সে বিষয়েও স্পষ্ট কোনো তথ্য নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ভারত সরকারের এ অবস্থান ‘সঠিক হচ্ছে না’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, শেখ হাসিনাকে ফেরত চাওয়ার দাবি শক্তিশালী এবং তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সরকারের কোনো দ্বিধা নেই।
ভারত চাইলে সম্পর্ক উন্নয়নে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নিতে পারে
বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের উন্নয়নে ভারত চাইলে তাৎক্ষণিকভাবে একটি পদক্ষেপ নিতে পারে বলেও মন্তব্য করেন জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেন, সেটি হলো শেখ হাসিনাকে গণমাধ্যমে কথা বলা থেকে বিরত রাখা।
তিনি বলেন, ইন্ডিয়ান সরকার সম্পর্কটা উন্নতি করার জন্য অন্তত একটা স্টেপ ইমিডিয়েটলি নিতে পারতো, সেটা হচ্ছে তার মুখ বন্ধ রাখা। সেটা কেন নিচ্ছেন না, সেই জবাব আমার মনে হয় আমি আপনাদের কাছে চাইবো।
ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনারের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, তিনি গণমাধ্যমবান্ধব এবং সাংবাদিকদের সঙ্গে নিয়মিত কথা বলেন। একই সঙ্গে পেশাদার কূটনীতিকের পরিবর্তে একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিকে হাইকমিশনার হিসেবে পাঠানোকে বাংলাদেশ ইতিবাচক সংকেত হিসেবে দেখেছে বলেও জানান তিনি।
তবে শেখ হাসিনার বক্তব্যের কারণে বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে যে ক্ষোভ তৈরি হচ্ছে, তা ভারতীয় পক্ষের বোঝা উচিত বলে মন্তব্য করেন জাহেদ উর রহমান।
তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বিভিন্ন ঘটনায় বাংলাদেশিরা হামলার শিকার হচ্ছেন। এমন পরিস্থিতিতে শেখ হাসিনাকে ভারতীয় গণমাধ্যমে কথা বলতে দেখা বাংলাদেশের মানুষের জন্য কতটা ‘ইরিটেটিং’ (বিরক্তিকর) ও ক্ষোভের তা ভারত সরকারের বোঝা উচিত।
আস্থার পরিবেশ তৈরির তাগিদ
শেখ হাসিনার একটি সংবাদ সম্মেলনের পর বাংলাদেশের পক্ষ থেকে দেওয়া প্রতিবাদলিপির প্রসঙ্গও তুলে ধরেন জাহেদ উর রহমান।
তিনি বলেন, দুই দেশের সম্পর্কের উন্নতির জন্য একটি আস্থার পরিবেশ তৈরি করা প্রয়োজন। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ভারতকে বিশ্বাস করানোর মতো পরিস্থিতি তৈরি করতে হবে যে তারা বাংলাদেশের সঙ্গে যথেষ্ট সম্পৃক্ত হতে চায়।
তিনি আরও বলেন, একটা এনভায়রনমেন্ট আসলে লাগবে আস্থার এনভায়রনমেন্ট। আমাকে কনভিন্সড হতে হবে আপনি আসলে আমার সঙ্গে যথেষ্ট এনগেজ করতে চাইছেন।
সার্বিকভাবে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের দাবিকে বাংলাদেশের সরকারের গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান হিসেবে তুলে ধরে জাহেদ উর রহমান বলেন, তাকে দেশে ফেরানোর বিষয়ে সরকারের কোনো কৌশল বা দ্বৈত অবস্থান নেই। তিনি নিজে দেশে ফিরুন কিংবা তাকে ফিরিয়ে আনা হোক- সরকার তাকে দেশে ফেরাতে চায়।