ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : রবিবার ১৯ এপ্রিল, ২০২৬, সময় : ২:৩১ এএম

দেশের ছয় জেলায় বজ্রপাতে একদিনে ১২ জনের প্রাণহানি হয়েছে। এতে আহত হয়েছেন আরও অন্তত ১২ জন। 


এর মধ্যে সুনমাগঞ্জে সবচেয়ে বেশি মানুষের প্রাণ গিয়েছে। সেখানে চার উপজেলায় পাঁচজন মারা গেছেন। এদের মধ্যে অধিকাংশই শনিবার দুপুরে হাওরে ধান কাটার সময় প্রাণ হারিয়েছেন। এ ছাড়া ময়মনসিংহ ও রংপুরে দুজন করে এবং নেত্রকোণা, হবিগঞ্জ ও কিশোরগঞ্জে একজন করে বজ্রপাতে নিহত হয়েছেন।


সুনামগঞ্জে ৫ জনের মৃত্যু


সুনামগঞ্জে কালবৈশাখী ঝড়ের সময় পৃথক স্থানে বজ্রপাতে শিক্ষার্থীসহ ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার দুপুরে জেলার ধর্মপাশা, তাহিরপুর, জামালগঞ্জ ও দিরাই উপজেলার হাওর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এতে আরও অন্তত ৪ জন আহত হয়েছেন। স্ব-স্ব থানা-পুলিশ আহত ও নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।


বজ্রপাতে নিহতরা হলেন- ধর্মপাশা উপজেলার পাইকুরাটি ইউনিয়নের বড়ইহাটি গ্রামের ফজলু রহমানের ছেলে হবিবুর রহমান (২২), উপজেলার জয়শ্রী ইউনিয়নের সরস্বতীপুর গ্রামের জয়নাল হকের ছেলে রহমত উল্লাহ (১৪), দিরাই উপজেলার পেরুয়া আশনাবাজ গ্রামের চান্দু মিয়ার ছেলে লিটন মিয়া (৩৮), তাহিরপুর সদর ইউনিয়নের গাজীপুর গ্রামের আবু বক্করের ছেলে আবুল কালাম (২৮) এবং জামালগঞ্জের সদর ইউনিয়নের চাঁনপুর গ্রামের নুরুজ্জামান। 


স্থানীয়রা জানায়, শনিবার দুপুর ১টার দিকে কালবৈশাখী ঝড় শুরু হলে আকস্মিক বজ্রপাতের ঘটনা ঘটে। এতে ৪ জন নিহতের পাশাপাশি ৪-৫ জন আহত হয়েছেন। হবিবুর রহমান ও লিটন মিয়া ধান কাটতে গিয়ে, রহমত উল্লাহ বাড়িতে কাজ করার সময়, আবুল কালাম হাঁসের খামারে কাজ করার সময় এবং হাওরে কাজ করার সময় বজ্রপাতে নুরুজ্জামান নিহত হন। নিহতদের তাৎক্ষণিক স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা তাদের মৃত ঘোষণা করেন। আহতরা স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এদের মধ্যে হবিবুর রহমান বাদশাগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী।


দিরাইয়ে বজ্রপাতে নিহত লিটন মিয়ার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. প্রশান্ত দাস তালুকদার।


ধর্মপাশা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ শহিদ উল্লাহ জানিয়েছেন, বজ্রপাতে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। মরদেহ থানা হেফাজতে আছে। বিধি মোতাবেক পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।


তাহিরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আমিনুল ইসলাম একজন নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘আবুল কালামের মরদেহ পরিবারের হেফাজতে আছে। অভিযোগ পেলে আমরা পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করব।’


জামালগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক নুরুজ্জামানের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। 


ময়মনসিংহে বজ্রপাতে দুই জনের মৃত্যু


শনিবার দুপুর ২টার দিকে গৌরীপুর ও গফরগাঁও উপজেলায় বজ্রপাতে দুজনের মৃত্যু হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।


নিহতরা হলেন- গৌরীপুর উপজেলার গৌরীপুর ইউনিয়নের কোনাপাড়া গ্রামর ওলি মিয়ার ছেলে রহমত আলী উজ্জ্বল (৩০) এবং গফরগাঁও উপজেলার উস্থি ইউনিয়নের ধাইরগাঁও গ্রামের প্রয়াত সেকান্দর আলী খান মমতাজ আলী খান (৫৮)।


২ নম্বর গৌরীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হযরত আলী বলেন, নিহত রহমত আলী উজ্জল মুদি দোকানি। দুপুরে বজ্রপাতের সময় ধান ক্ষেত দেখতে পুর্বানাপাড়া গ্রামে যান। সেখানে বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই মারা যায় উজ্জল। পরে স্থানীয়রা মরদেহ উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে আসে। নিহতের দাফনে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 


গৌরীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল হাসান বলেন, বজ্রপাতে এক যুবক মারা যাওয়ার বিষয়টি শুনেছি। পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।


গফরগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান বলেন, নিহত মমতাজ আলী খান উস্থি ইউনিয়নের ধাইরগাঁও গ্রামের বাসিন্দা। মমতাজ আলী খান জোহরের নামাজ পড়ে বাড়ি ফিরছিলেন। পথিমধ্যে হঠাৎ বজ্রপাতে গুরুতর আহত হন তিনি। পরে স্থানীয়রা উদ্ধার করে স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।


রংপুরে বিলে মাছ ধরতে গিয়ে ২ জেলের মৃত্যু


রংপুরের মিঠাপুকুরে বিলে মাছ ধরতে গিয়ে ২ জেলের মৃত্যু হয়েছে। এ সময় আহত হয়েছেন অন্তত দশজন। মিঠাপুকুর থানার ওসি নুরুজ্জামান জানান, উপজেলার বড় হযরতপুর এলাকার সখিপুরে শনিবার বেলা ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।


নিহতরা হলেন- উপজেলার রামেশ্বর পাড়া গ্রামের মাঝিপাড়া এলাকার মিলন মিয়া (৩৫) এবং সখিপুর গ্রামের আবু তালেব (৬৫)।


সখিপুর গ্রামের রমজান আলী বলেন, গ্রামের তানজিমুল ইসলাম গোল্ডেনের একটি পুকুরে মাছ ধরার কাজ চলছিল। এ সময় কয়েকজন মাছ ধরছিলেন, আর কয়েকজন পাড়ের একটি টং ঘরে বসে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই দুজনের মৃত্যু হয়। আহত হয় অন্তত দশজন। তাদের মিঠাপুকুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়েছে।


নেত্রকোণায় বজ্রপাতে কৃষকের মৃত্যু


আটপাড়া উপজেলার সুখারী ইউনিয়নের হাতিয়া গ্রামের সামনের মেষির হাওড়ে বজ্রপাতে এক কৃষক মারা গেছেন। নিহত আলতু মিয়া (৬৫) একই গ্রামের মৃত লাল মিয়ার ছেলে।


আটপাড়া থানার ওসি মো. জুবায়দুল আলম বলেন, দুপুর ১টার দিকে মেষি হাওড়ে গরুর জন্য ঘাস কাটছিলেন আলতু মিয়া। এ সময় বৃষ্টিসহ বজ্রপাত হয়। পরে স্থানীয়রা হাওড়ে গিয়ে আলতু মিয়ার মরদেহ পরে থাকতে দেখেন।


কিশোরগঞ্জে বজ্রপাতে শ্রমিকের মৃত্যু


করিমগঞ্জ উপজেলার বড় হাওরে ধান কাটার সময় বজ্রপাতে এক শ্রমিক মারা গেছেন। করিমগঞ্জ থানার ওসি এমরানুল করিম বলেন, শনিবার দুপুরে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত হেলাল মিয়া (৩৮) উপজেলার কলাবাতা গ্রামের বাসিন্দা।


হবিগঞ্জে কৃষকের মৃত্যু


নবীগঞ্জ উপজেলায় বড় ভাকৈর (পূর্ব) ইউনিয়নের বিবিয়ানা নদীর তীরবর্তী মমিনা হাওরে ধান কাটতে গিয়ে বজ্রপাতে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। নবীগঞ্জ থানার ওসি মো. মোনায়েম মিয়া বলেন, নিহত সুনাম উদ্দিন (৬০) উপজেলার রামপুর গ্রামের মৃত সুন্দর আলীর ছেলে।


বড় ভাকৈর (পূর্ব) ইউনিয়নের ইউপি সদস্য জুয়েল মিয়া জানান, সুনাম উদ্দিন সকালে হাওরে ধান কাটতে যান। দুপুরে বজ্রপাতে তার মৃত্যু হয়।




ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৬:৫২ পিএম

অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, উনি (সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন) আইনজীবীদের কল্যাণে ও স্বার্থে কিছু কথা প্রধান বিচারপতির কাছে বলেছেন বলে দাবি করেছেন। আসলে এমন কোনো কথা আজকের মামলার প্রসিডিংয়ে (কার্যধারা) হয়নি।


এক মামলায় আইনজীবীকে পাঁচ লাখ টাকা খরচা আরোপের বিষয়টি সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি মাহবুব উদ্দিন খোকনের উপস্থাপনের এক পর্যায়ে আজ মঙ্গলবার দুপুর ১২টার পর এজলাস ত্যাগ করেন প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন পাঁচ বিচারপতির আপিল বিভাগ। এ বিষয়ে হাইকোর্ট বিভাগের বর্ধিত ভবনের সামনে ব্রিফিং করেন এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন।


পরে নিজ কার্যালয়ে বেলা সোয়া দুইটার দিকে ব্রিফিং করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। তিনি বলেন, প্রধান বিচারপতি বিচারিক শৃঙ্খলা, সততা প্রাধান্য দেন। কোনো প্রতারণা যদি দেখেন, তা সিরিয়াসলি ডিল (গুরুত্বের সঙ্গে দেখেন) করেন।


যে কারণে খরচা আরোপ


২০১৩ সালে একজন কাজি নিয়োগ থেকে শুরু হওয়া ঘটনা উল্লেখ করে রুহুল কুদ্দুস বলেন, ‘যেখানে মামলার বাদী পাঁচটি রিট দায়ের করেছেন একই আদেশ চ্যালেঞ্জ করে। পাঁচটি রিট দায়ের করেছেন অথচ পূর্বে রিজেক্ট হওয়ার আদেশটি পরবর্তী রিটে উল্লেখ করা হয়নি। যে কারণে নারী আইনজীবীকে আজ আপিল বিভাগ ফাইন করেছেন পাঁচ লাখ টাকা এবং রিট আবেদনকারীকে পাঁচ লাখ টাকা, যে টাকা সুপ্রিম কোর্টের পক্ষ থেকে ঢাকা শিশু হাসপাতালে জমা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। নারী আইনজীবীর বক্তব্য অনুযায়ী মামলায় সিনিয়র আইনজীবী ছিলেন এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন। সকালে যখন আদেশ হয়, তখন নারী আইনজীবী আমার পাশে বসে আদেশটি শুনেছেন; মাহবুব উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন না।’


ওই মামলায় সকাল সোয়া নয়টার দিকে আদেশ হয় বলে জানান অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল। তিনি বলেন, ‘আর এ ঘটনার (এজলাস ত্যাগ) অবতারণা হচ্ছে ১২টা ৩৫ সময়। অন্য একটি মামলার সময় মাহবুব উদ্দিন খোকন ওই প্রসঙ্গে (খরচা আরোপ) বললেন যে “একজন আইনজীবীকে আপনারা ফাইন করেছেন।” 


এর পরিপ্রেক্ষিতে তখন প্রধান বিচারপতি বলেন, “দেখেন, আমরা সবকিছুতে দেখে–শুনে একটা আদেশ দিয়েছি, আমাদের আদেশ আমরা পরিবর্তন করব না। কারণ, ওনাদের (আদালত) বক্তব্য অনুযায়ী সিরিয়াস ফ্রড করা হয়েছে। আদালতের সঙ্গে প্রতারণা এমনকি সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের ইতিপূর্বের আদেশও ফ্রড করা হয়েছে।” 


এ পরিস্থিতিতে বললেন, “আপনি (মাহবুব উদ্দিন খোকন) এটা বলবেন না।”


কথোপকথন ও এজলাস ত্যাগ


অ্যার্টনি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস বলেন, তখন অত্যন্ত অপ্রত্যাশিতভাবে মাহবুব উদ্দিন খোকন বলে ফেললেন যে ‘আপনি প্রধান বিচারপতি হওয়ার পরে আইনজীবীদের ইনকাম কমে গেছে।’ বিষয়টি প্রধান বিচারপতি একটু লাইটলি নিলেন। 


তারপরে বললেন, ‘আপনি (মাহবুব উদ্দিন খোকন) কি এটা মিন করেন? মাহবুব উদ্দিন খোকন অনেকটা সেই একই কথা বলার যখন চেষ্টা করেন, তখন প্রধান বিচারপতি বলেছেন যে ‘আপনি (খোকন) যে কথাটা বলেছেন, সেটা অ্যাবসলিউটলি আদালত অবমাননার শামিল। যেহেতু আপনি এত বড় একটা কথা বলেছেন, আমি আজকে আর আদালতের কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করব না।’ 


এ কথা বলে উনি (প্রধান বিচারপতি) উঠে (এজলাস থেকে) গেছেন।’



জাহেদ-উর-রহমান ও বাঁধন

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৬:২২ পিএম

অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। 


তিনি বলেছেন, বাঁধনের ওপর হামলার ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আমরা প্রস্তুত আছি, আপনারা একই কাজ করতে পারেন এবং এটা কারো ওপরে যদি হয়, আমরা ছাড়বো না, নিশ্চিত ছাড়বো না।


আজ মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।




বাঁধনের ওপর হামলা প্রসঙ্গে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, আজমেরী হক বাঁধনের ওপর হামলা হয়েছে। আমরা ভিডিও দেখেছি। যারা হামলা করেছেন, তারাও নিজেরা ভিডিও করে সেটা প্রকাশ করেছেন।


তিনি বলেন, এই ব্যাপারে আইনানুগ ব্যবস্থা ওই দেশে যা যা নেওয়া, এটার প্রসেস শুরু হয়েছে। আমরা অবশ্যই এটা ছেড়ে দেবো না। এটা কোনোভাবেই ছেড়ে দেওয়া যাবে না।


আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের হামলার প্রসঙ্গ তুলে জাহেদ উর রহমান বলেন, আওয়ামী লীগ একটা রাজনৈতিক দল কি না, এই আলাপটা আমরা কেউ কেউ করেছি। খুব করেছি। আমি আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিক দল মনে করি না। ইট ইজ আ মাফিয়া গ্যাং।


আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিক দল হিসেবে বিবেচনা করে তাদের দেশে রাজনীতি করার সুযোগ দেওয়া উচিত কি না, বাঁধনের ওপর হামলার ঘটনা সেই প্রশ্ন আবারও সামনে এনেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।


তথ্য উপদেষ্টা বলেন, আপনি (আওয়ামী লীগ) যা যা ঘটিয়েছেন, যদি আপনার ন্যূনতম দুঃখবোধ থাকতো, আপনার যদি রাজনীতিতে ফিরে আসার উদ্দেশ্য থাকতো, এই সহিংসতাগুলো করা হতো না। কোনোভাবেই হতো না।


বাঁধনের ওপর হামলার ঘটনাকে তার জন্য এক ধরনের সম্মান ও অর্জন হিসেবে উল্লেখ করেন জাহেদ উর রহমান।


তিনি বলেন, আজমেরী হক বাঁধনের উদ্দেশ্যে বলব, এটা তার এক ধরনের অর্জন, সম্মানপ্রাপ্তি যে, আওয়ামী লীগের হেনস্তার শিকার হওয়া, একটা মাফিয়া গ্যাংয়ের শিকার হওয়া প্রমাণ করে আপনি আসলে সঠিক পথে ছিলেন।


তথ্য উপদেষ্টা বলেন, একইভাবে আমরা অনেকেই হামলার শিকার হতে পারি। বাট উই ডোন্ট কেয়ার। একেবারেই না।


দেশের বাইরে থাকা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের হামলার প্রসঙ্গেও কথা বলেন তথ্য উপদেষ্টা। তিনি বলেন, এর আগেও করেছে, এটা অব্যাহত আছে। আমরা প্রস্তুত আছি, আপনারা একই কাজ করতে পারেন এবং এটা কারো ওপরে যদি হয়, আমরা ছাড়বো না, নিশ্চিত ছাড়বো না।


শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে জাহেদ উর রহমান বলেন, শেখ হাসিনাকেই কেয়ার করিনি, আমরা ওই সময় শেখ হাসিনার ১৪ পুরুষকে পালাতে বাধ্য করেছি। আর সেখানে কিছু মাস্তান একটু পার্ক-টার্কে মাস্তানি করবে, উই ডোন্ট কেয়ার। তবে আমরা ছাড়বো না, নিশ্চিত ছাড়বো না।


শেখ হাসিনা ও জাহেদ-উর-রহমান

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৫:৪২ পিএম

শেখ হাসিনাকে ভারত থেকে ফেরত আনার বিষয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট ও অনড় বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেন, শেখ হাসিনা নিজে আসুন বা সরকার তাকে ফিরিয়ে আনুক তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে কোনো কৌশল নেই।


আজ মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা বলেন।


জাহেদ উর রহমান বলেন, শেখ হাসিনাকে সরকার ফিরিয়ে আনতে চায় কি না এ নিয়ে কেউ কেউ যে ধরনের অনুমান করছেন, তা সঠিক নয়। ভারতের ওপর চাপ তৈরির জন্য প্রত্যর্পণের দাবি তোলা হচ্ছে এমন কোনো কৌশল সরকারের নেই। ভারত সরকারের সঙ্গে বিষয়টি শর্ত হিসেবে দেওয়া হয়েছিল এবং সেটিকে গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়ার কথা বলা হয়েছিল।


তিনি বলেন, আমরা প্রায়ই বলছি, আপনি (শেখ হাসিনা) আসবেন না, আপনাকে ধরে নিয়ে আসতে চাই। আপনি আসামি, আপনি পলাতক আসামি, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি।


শেখ হাসিনার আপিলের সুযোগ নিয়েও কথা বলেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রধান প্রসিকিউটর জানিয়েছেন, শেখ হাসিনার এখন আর আপিল করার সুযোগ নেই। ফলে তিনি দেশে ফিরে বিচার পুনর্বিবেচনার সুযোগও পাবেন না।


জাহেদ উর রহমান বলেন, টেকনিক্যালি এখন ব্যাপারটা এ রকম তিনি আসবেন এবং তার জন্য মৃত্যুদণ্ড অপেক্ষা করছে। আমরা তাকে ধরে আনতে চাই। 


ভারতীয় গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার নিয়ে অসন্তোষ


সম্প্রতি শেখ হাসিনা ভারতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠিত গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিচ্ছেন উল্লেখ করে এ বিষয়ে ভারত সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেন, শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান করে সংবাদমাধ্যমে কথা বলছেন এটি সরকারের কাছে অপ্রত্যাশিত। প্রত্যর্পণ না হওয়া পর্যন্ত অন্তত তিনি যেন এ ধরনের কর্মকাণ্ড করতে না পারেন, ভারত সরকারের কাছ থেকে সে বিষয়ে পদক্ষেপ প্রত্যাশা করেছিল বাংলাদেশ।


তিনি বলেন, আমরা এক্সপেক্ট করবো ভারত সরকার, এ ব্যাপারে তাকে একটা বার (বাধা) দেবেন। একই সঙ্গে শেখ হাসিনা ভারতে কী ধরনের মর্যাদা বা অধিকার ভোগ করছেন, সে বিষয়েও স্পষ্ট কোনো তথ্য নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি।


ভারত সরকারের এ অবস্থান ‘সঠিক হচ্ছে না’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, শেখ হাসিনাকে ফেরত চাওয়ার দাবি শক্তিশালী এবং তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সরকারের কোনো দ্বিধা নেই। 


ভারত চাইলে সম্পর্ক উন্নয়নে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নিতে পারে


বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের উন্নয়নে ভারত চাইলে তাৎক্ষণিকভাবে একটি পদক্ষেপ নিতে পারে বলেও মন্তব্য করেন জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেন, সেটি হলো শেখ হাসিনাকে গণমাধ্যমে কথা বলা থেকে বিরত রাখা।


তিনি বলেন, ইন্ডিয়ান সরকার সম্পর্কটা উন্নতি করার জন্য অন্তত একটা স্টেপ ইমিডিয়েটলি নিতে পারতো, সেটা হচ্ছে তার মুখ বন্ধ রাখা। সেটা কেন নিচ্ছেন না, সেই জবাব আমার মনে হয় আমি আপনাদের কাছে চাইবো।


ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনারের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, তিনি গণমাধ্যমবান্ধব এবং সাংবাদিকদের সঙ্গে নিয়মিত কথা বলেন। একই সঙ্গে পেশাদার কূটনীতিকের পরিবর্তে একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিকে হাইকমিশনার হিসেবে পাঠানোকে বাংলাদেশ ইতিবাচক সংকেত হিসেবে দেখেছে বলেও জানান তিনি।


তবে শেখ হাসিনার বক্তব্যের কারণে বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে যে ক্ষোভ তৈরি হচ্ছে, তা ভারতীয় পক্ষের বোঝা উচিত বলে মন্তব্য করেন জাহেদ উর রহমান।


তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বিভিন্ন ঘটনায় বাংলাদেশিরা হামলার শিকার হচ্ছেন। এমন পরিস্থিতিতে শেখ হাসিনাকে ভারতীয় গণমাধ্যমে কথা বলতে দেখা বাংলাদেশের মানুষের জন্য কতটা ‘ইরিটেটিং’ (বিরক্তিকর) ও ক্ষোভের তা ভারত সরকারের বোঝা উচিত।


আস্থার পরিবেশ তৈরির তাগিদ


শেখ হাসিনার একটি সংবাদ সম্মেলনের পর বাংলাদেশের পক্ষ থেকে দেওয়া প্রতিবাদলিপির প্রসঙ্গও তুলে ধরেন জাহেদ উর রহমান। 


তিনি বলেন, দুই দেশের সম্পর্কের উন্নতির জন্য একটি আস্থার পরিবেশ তৈরি করা প্রয়োজন। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ভারতকে বিশ্বাস করানোর মতো পরিস্থিতি তৈরি করতে হবে যে তারা বাংলাদেশের সঙ্গে যথেষ্ট সম্পৃক্ত হতে চায়।


তিনি আরও বলেন, একটা এনভায়রনমেন্ট আসলে লাগবে আস্থার এনভায়রনমেন্ট। আমাকে কনভিন্সড হতে হবে আপনি আসলে আমার সঙ্গে যথেষ্ট এনগেজ করতে চাইছেন।


সার্বিকভাবে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের দাবিকে বাংলাদেশের সরকারের গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান হিসেবে তুলে ধরে জাহেদ উর রহমান বলেন, তাকে দেশে ফেরানোর বিষয়ে সরকারের কোনো কৌশল বা দ্বৈত অবস্থান নেই। তিনি নিজে দেশে ফিরুন কিংবা তাকে ফিরিয়ে আনা হোক- সরকার তাকে দেশে ফেরাতে চায়।


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৫:০৩ পিএম

আগামী ১৬ ডিসেম্বর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল চালু হবে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।


তিনি বলেন, প্রাথমিক পর্যায়ে দু-একটি ফ্লাইট পরিচালনার মাধ্যমে এর কার্যক্রম শুরু হবে এবং পরে ধাপে ধাপে তা পূর্ণাঙ্গ রূপ পাবে। টার্মিনালটি পুরোপুরি চালু হলে শাহজালালের যাত্রী হ্যান্ডলিং সক্ষমতা প্রায় চারগুণ বাড়বে এবং সর্বোচ্চ ২৫০টি এয়ারক্রাফট পরিচালনার অবকাঠামোগত সুবিধা তৈরি হবে।


আজ মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) তৃতীয় টার্মিনাল পরিদর্শনে গিয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে এসব তথ্য জানান বিমানমন্ত্রী।


হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নাম পরিবর্তনের কোনো পরিকল্পনা নেই জানিয়ে এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, নাম পরিবর্তনের বদলে তৃতীয় টার্মিনাল দ্রুত চালু করাই সরকারের মূল লক্ষ্য।


মন্ত্রী বলেন, জাপানি কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে আলোচনার পর এই প্রকল্পের রাজস্বে বাংলাদেশের অংশ ১৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২৭ শতাংশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রকল্পের প্রায় ৯০০ কোটি টাকা ঋণের কিস্তি পরিশোধের প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।


যাত্রীসেবার মান নিশ্চিতে কঠোর পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, বিমান অবতরণের ১৫ মিনিটের মধ্যে যাত্রীর হাতে লাগেজ পৌঁছানো নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, ব্যর্থতায় সিভিল এভিয়েশনের পক্ষ থেকে জরিমানার ব্যবস্থা থাকবে।


থার্ড টার্মিনালের ৫০ শতাংশ গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স পরিচালনা করবে জানিয়ে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, উন্নত অবকাঠামোর ফলে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে বাংলাদেশের ইতিবাচক ভাবমূর্তি ফুটে উঠবে। পরিদর্শনের সময় বিমানমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ সাকি এবং বিডা চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী।


২০১৭ সালে তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণের প্রকল্প নেওয়া হয়। ২১ হাজার ৩৯৮ কোটি টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে ২০১৯ সালের ২৮ ডিসেম্বর নির্মাণকাজ শুরু হয়। এই ব্যয়ের মধ্যে সরকার ৫ হাজার কোটি টাকা দিয়েছে এবং বাকি অর্থ জাপানি সংস্থা জাইকার ঋণ।


২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর টার্মিনালের আংশিক উদ্বোধন হয়। তখন বেবিচক জানিয়েছিল ২০২৪ সালের মধ্যে এটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হবে, যদিও শেষ পর্যন্ত তা সম্ভব হয়নি।


প্রধানমন্ত্রী তারেক-রহমান

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৪:৩৯ পিএম

ডেঙ্গু প্রতিরোধে তিন মাসব্যাপী বিশেষ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও জনসচেতনতামূলক কর্মসূচি শুরু হচ্ছে আগামী শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর)। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই বিশেষ অভিযানের উদ্বোধন করবেন। ডেঙ্গুর প্রকোপ মোকাবিলায় আগামী তিন মাস ঝুঁকিপূর্ণ সময় বিবেচনায় নিয়ে এ কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।


আজ মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় নিয়ে আয়োজিত এক সভায় প্রধানমন্ত্রী এ নির্দেশনা দেন। প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি মোস্তফা জুলফিকার হাসান এ তথ্য জানান। 


সভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে শুধু মশক নিধন কার্যক্রমের ওপর নির্ভর না করে পরিচ্ছন্নতা ও জনসচেতনতার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। এজন্য স্থানীয় প্রশাসন, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করে সমন্বিতভাবে মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে।


কর্মসূচির আওতায় মহানগর এলাকায় সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশন এবং জেলা পর্যায়ে জেলা প্রশাসকরা কার্যক্রম সমন্বয় করবেন। উপজেলা পর্যায়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা (ইউএনও) স্থানীয় পর্যায়ের কার্যক্রম সমন্বয়ের দায়িত্বে থাকবেন।


পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সচেতনতামূলক এ অভিযানে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের স্বেচ্ছাসেবকদের পাশাপাশি স্কাউট, বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি), গার্ল গাইডস, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির স্বেচ্ছাসেবক এবং স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করা হবে।


প্রতি শনিবার স্বেচ্ছাসেবক ও শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন বাসাবাড়ি ও স্থাপনায় গিয়ে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে অংশ নেবেন। একই সঙ্গে ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশার প্রজননস্থল তৈরি হতে পারে এমন জায়গা চিহ্নিত করা হবে। মানুষকে নিজ নিজ বাড়ি ও আশপাশ পরিষ্কার রাখতেও সচেতন করা হবে।


প্রধানমন্ত্রী মাঠপর্যায়ের পরিচ্ছন্নতা অভিযানের পাশাপাশি গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রচার চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন। বিশেষ করে টেলিভিশনে জনসচেতনতামূলক প্রচার এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ডেঙ্গু প্রতিরোধের বার্তা নিয়মিতভাবে তুলে ধরতে সংশ্লিষ্টদের বলেছেন তিনি।


প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামী তিন মাস ডেঙ্গু পরিস্থিতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এ সময়ে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। বাসাবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা ও আশপাশের এলাকা নিয়মিত পরিষ্কার রাখার বিষয়ে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করতে হবে।


সভায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান পার্থ, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত, তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ড. শাকিরুল ইসলাম খান, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালাম, তথ্য সচিব মাহবুবা ফারজানাসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ২:৩৪ পিএম

গুগল ম্যাপে এখন বাংলাদেশের ৩৪টি জেলার বায়ুর মানসংক্রান্ত তথ্য দেখা যাচ্ছে। গুগল ম্যাপের ‘এয়ার কোয়ালিটি’ স্তরটি চালু করে কোনো স্থানের ওপর চাপ দিলে সেখানকার বায়ুমান সূচক বা একিউআই জানা যাচ্ছে।


বাংলাদেশ থেকে এ উদ্যোগে তথ্য ও কারিগরি সহায়তা দিচ্ছে বায়ুমণ্ডলীয় দূষণ অধ্যয়ন কেন্দ্র (ক্যাপস)। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, দেশের বিভিন্ন স্থানে তাদের বসানো পর্যবেক্ষণযন্ত্র থেকে পাওয়া তথ্য গুগলের ব্যবস্থায় যুক্ত হচ্ছে। বায়ুর মান সম্পর্কে হালনাগাদ তথ্য সাধারণ মানুষের কাছে সহজে পৌঁছে দেওয়া এবং বায়ুদূষণের স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোই এ উদ্যোগের উদ্দেশ্য বলে জানিয়েছে ক্যাপস।


গতকাল ৭ সেপ্টেম্বর ছিল বিশ্ব নির্মল বায়ু দিবস। এ দিবসে বায়ুদূষণের তথ্য জানার সহজ উপায়ের সন্ধান দিল ক্যাপস।


রাজধানী ঢাকা বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত নগরীগুলোর একটি। সাধারণত অক্টোবর থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত ঢাকায় বায়ুদূষণ খুব বেশি থাকে। এ সময় বৃষ্টি কম থাকে, তাই দূষণের মাত্রা হয় অত্যধিক। তবে শুধু ঢাকা নয়, বাংলাদেশের প্রতিটি শহরেই বায়ুদূষণ কমবেশি আছে। আর শুধু শুষ্ক মৌসুমে নয়, দূষণ এখন থাকে প্রায় সারা বছরই। যেমন আজ মঙ্গলবার সকাল পৌনে ৯টায় বিশ্বের ১২৭টি শহরের মধ্যে ঢাকার অবস্থান ছিল ষষ্ঠ। বায়ুর মান ছিল ১৫৭, অর্থাৎ অস্বাস্থ্যকর। বর্ষা পরের এই শরতে সাধারণত বায়ুর মান ভালো থাকে, কিন্তু এখন তা–ও থাকছে না।


বায়ুর মান যেভাবে দেখা যাবে


মুঠোফোনে গুগল ম্যাপ খুলে ‘লেয়ারস’ বা স্তরচিহ্নে চাপ দিতে হবে। এরপর ‘এয়ার কোয়ালিটি’ নির্বাচন করলে মানচিত্রের বিভিন্ন স্থান রং ও সংখ্যার মাধ্যমে চিহ্নিত হবে। নির্দিষ্ট কোনো স্থানের ওপর চাপ দিলে সেখানে বায়ুর মান কেমন, তা দেখা যাবে। বায়ুমান সূচক বা একিউআই হচ্ছে বিভিন্ন দূষকের মাত্রাকে একটি সংখ্যার মাধ্যমে প্রকাশের পদ্ধতি। সংখ্যা ও রং দেখে কোনো এলাকার বায়ু ভালো, মাঝারি, অস্বাস্থ্যকর বা ঝুঁকিপূর্ণ কি না, সে সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।


যে ৩৪ জেলায় পর্যবেক্ষণযন্ত্র


ক্যাপস জানিয়েছে, বায়ুর মান সম্পর্কে তাৎক্ষণিক তথ্য সংগ্রহের জন্য প্রতিষ্ঠানটি দেশজুড়ে পর্যবেক্ষণ নেটওয়ার্ক গড়ে তুলছে। বর্তমানে ৩৪ জেলায় তাদের লাইভ মনিটরিং স্টেশন চালু হয়েছে। অর্থাৎ দেশের ৬৪ জেলার মধ্যে প্রায় ৫৩ শতাংশ জেলায় ক্যাপসের পর্যবেক্ষণযন্ত্র রয়েছে।


জেলাগুলো হলো নীলফামারী, লালমনিরহাট, রংপুর, গাইবান্ধা, বগুড়া, রাজশাহী, সিরাজগঞ্জ, পাবনা, শেরপুর, জামালপুর, ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, টাঙ্গাইল, ঢাকা, চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহ, যশোর, বরিশাল, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, ভোলা, পটুয়াখালী, বরগুনা, নোয়াখালী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা, ফেনী, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙামাটি, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ, সিলেট ও মৌলভীবাজার।


পর্যায়ক্রমে বাকি জেলাগুলোতেও স্টেশন বসিয়ে ৬৪ জেলা এই নেটওয়ার্কে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।


প্রতিটি পর্যবেক্ষণযন্ত্রে বিভিন্ন ধরনের সেন্সর রয়েছে। এগুলো দিয়ে তাপমাত্রা, আপেক্ষিক আর্দ্রতা, অতিক্ষুদ্র বস্তুকণা পিএম২.৫, বস্তুকণা পিএম১০, মোট উদ্বায়ী জৈব যৌগ বা টিভিওসি, বায়ুমান সূচক এবং কার্বন ডাই-অক্সাইডের মাত্রা পরিমাপ করা হচ্ছে। কয়েকটি জেলার যন্ত্রে সালফার ডাই-অক্সাইড ও নাইট্রোজেন ডাই-অক্সাইড পরিমাপের ব্যবস্থাও রয়েছে। ক্যাপসের তথ্য অনুযায়ী, স্টেশনগুলো সপ্তাহের ৭ দিন ২৪ ঘণ্টা সচল থাকে। এসব স্টেশন থেকে পাঁচ মিনিট পরপর তথ্য পাঠানো হয়। তবে গুগল বিভিন্ন উৎসের তথ্য সমন্বয় করে সাধারণত ঘণ্টাভিত্তিক বায়ুমান সূচক হিসাব ও প্রদর্শন করে।


দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ ও সরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রাঙ্গণে স্টেশনগুলো বসানো হয়েছে। ক্যাপস মনে করছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এভাবে কাজ করার ফলে বায়ুদূষণ নিয়ে গবেষণা ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম বাড়বে।


২৬ কোটির বেশি কর্মদিবস নষ্ট হয়


বাংলাদেশে বায়ুদূষণের স্বাস্থ্য ও অর্থনৈতিক ক্ষতি কতটা গুরুতর, তার একটি চিত্র পাওয়া যায় আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর রিসার্চ অন এনার্জি অ্যান্ড ক্লিন এয়ারের (ক্রিয়া) গবেষণায়।


‘বাংলাদেশে সূক্ষ্ম কণাদূষণের জনস্বাস্থ্য প্রভাব’ শিরোনামের প্রতিবেদনটি ২০২৫ সালের ১৮ জানুয়ারি প্রকাশ করা হয়। গবেষণাটি পরিচালনা করেন ড্যানিয়েল নেসান, হুবার্ট থিয়েরিও ও জেমি কেলি। প্রতিবেদনটির সম্পাদক ছিলেন জোনাথন সাইডম্যান।


গবেষণায় দেখা যায়, বর্তমান পিএম২.৫ দূষণের কারণে বাংলাদেশে বছরে ১ লাখ ২ হাজার ৪৫৬ জনের অকালমৃত্যু ঘটে। এসব মৃত্যুর বড় অংশ হৃদ্‌রোগ, স্ট্রোক, দীর্ঘস্থায়ী শ্বাসতন্ত্রের রোগ, নিম্ন শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ ও ফুসফুসের ক্যানসারের সঙ্গে সম্পর্কিত। পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের মধ্যে শুধু নিম্ন শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণেই বছরে প্রায় ৫ হাজার ২৫৮ জনের মৃত্যু হয়। পিএম২.৫ বলতে বাতাসে ভাসমান ২ দশমিক ৫ মাইক্রোমিটার বা তার চেয়ে কম ব্যাসের অতিক্ষুদ্র কণাকে বোঝায়। এসব কণা শ্বাসের সঙ্গে মানুষের ফুসফুসে প্রবেশ করতে পারে। এমনকি রক্তপ্রবাহেও মিশে যেতে পারে।


ক্রিয়ার হিসাবে, পিএম২.৫ দূষণের কারণে বাংলাদেশে বছরে হাঁপানিতে আক্রান্ত ব্যক্তিদের প্রায় ৬ লাখ ৬৮ হাজার ৪৮২ বার হাসপাতালের জরুরি বিভাগে যেতে হয়। একই কারণে প্রতিবছর প্রায় ২৬ কোটি ৩০ লাখ কর্মদিবস নষ্ট হয়।


সূক্ষ্ম কণাদূষণের সঙ্গে বছরে প্রায় ৯ লাখ ৪৮৫টি অপরিণত বা সময়ের আগে জন্ম এবং ৬ লাখ ৯৬ হাজার ৩৮৯টি কম ওজনের শিশুর জন্মের সম্পর্ক পাওয়া গেছে। গবেষকেরা বলেছেন, বায়ুদূষণের এই প্রভাব এক প্রজন্ম থেকে আরেক প্রজন্মেও ছড়িয়ে পড়ছে।


যন্ত্রের মান নিশ্চিত করার পরামর্শ


ক্যাপসের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন পরিবেশ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক জিয়াউল হক। তিনি বর্তমানে অবসরোত্তর ছুটিতে (পিআরএল) আছেন। তিনি বলেন, গুগল ম্যাপের মাধ্যমে বায়ুদূষণের তথ্য আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছাবে। এর ফলে মানুষের মধ্যে সচেতনতাও বাড়তে পারে।


তবে পর্যবেক্ষণযন্ত্রের মান ও তথ্যের নির্ভরযোগ্যতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন জিয়াউল হক। তিনি বলেন, ‘যেসব যন্ত্র বসিয়ে বায়ুর মান পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে, সেগুলোর মান কেমন, তা দেখতে হবে। সাধারণত তুলনামূলক কম দামের যন্ত্র দিয়ে এ ধরনের কাজ করা হয়। এসব যন্ত্র তিন থেকে চার বছর পরপর বদলানোর প্রয়োজন হতে পারে। যন্ত্র নিয়মিত বদলানো, রক্ষণাবেক্ষণ ও ক্যালিব্রেশনের ব্যবস্থা আছে কি না, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে।’


পরিবেশ অধিদপ্তরও দেশের বিভিন্ন স্থানে বায়ুর মান পর্যবেক্ষণ করে উল্লেখ করে জিয়াউল হক বলেন, মাঝেমধ্যে পরিবেশ অধিদপ্তর ও ক্যাপসের সংগৃহীত তথ্য পাশাপাশি রেখে মিলিয়ে দেখা উচিত। এতে ক্যাপসের যন্ত্রের পাঠ কতটা নির্ভরযোগ্য, তা যাচাই করা সম্ভব হবে।


একই স্থানের তথ্যে পার্থক্য হতে পারে


গুগলের তথ্য অনুযায়ী, মানচিত্রে দেখানো বায়ুর মান শুধু একটি পর্যবেক্ষণ স্টেশনের সরাসরি পাঠানো তথ্য নয়। বিভিন্ন পর্যবেক্ষণ স্টেশন ও বাণিজ্যিক সেন্সরের তথ্যের পাশাপাশি স্যাটেলাইটের উপাত্ত, আবহাওয়ার ধরন, যানবাহনের চাপ, অগ্নিকাণ্ড এবং ভূমির আচ্ছাদনসংক্রান্ত তথ্য সমন্বয় করে বায়ুর মান নির্ধারণ করা হয়।


ফলে গুগল ম্যাপে কোনো স্থানের জন্য দেখানো বায়ুমান সূচক এবং নিকটবর্তী কোনো পর্যবেক্ষণ স্টেশনের সরাসরি পাঠের মধ্যে পার্থক্য থাকতে পারে। একটি পর্যবেক্ষণ স্টেশনের তথ্য দিয়ে পুরো জেলার সব এলাকার বায়ুর মানও একই রকম বলে ধরে নেওয়া যায় না। বায়ুর মান অল্প দূরত্বের মধ্যেও বদলে যেতে পারে।


‘প্রাথমিক তথ্য ছাড়া নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়’


ক্যাপসের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আহমদ কামরুজ্জামান মজুমদার বলেন, বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে সাতটি ধাপ অনুসরণ করা প্রয়োজন। এগুলো হচ্ছে বায়ুদূষণের বর্তমান ও ঐতিহাসিক তথ্য সংগ্রহ, সংগৃহীত তথ্য বিশ্লেষণ, দূষণের উৎস চিহ্নিত করা, দূষণ বাড়া বা কমার কারণ অনুসন্ধান, নিয়ন্ত্রণের সম্ভাব্য পদ্ধতি নির্ধারণ, সময় ও ব্যয়ের ভিত্তিতে পদ্ধতিগুলোর তুলনামূলক ছক তৈরি এবং নির্বাচিত পদ্ধতি প্রয়োগের পাশাপাশি আইনের বাস্তবায়ন।


স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটির বিজ্ঞান অনুষদের ডিন আহমদ কামরুজ্জামান মজুমদার আরও বলেন, ‘দূষণের গতিপ্রকৃতি সম্পর্কে প্রাথমিক তথ্য না থাকলে এসব কাজের কোনোটিই ঠিকভাবে করা সম্ভব নয়। স্বাধীনতার এত বছর পরও দেশের জেলা শহরগুলোয় বায়ুর মান সম্পর্কে পর্যাপ্ত তাৎক্ষণিক তথ্য সংগ্রহের ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি। ফলে দূষণের উৎস ও দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করা এবং তাদের জবাবদিহির আওতায় আনা কঠিন হয়ে পড়ে।’ ক্যাপসের চেয়ারম্যান বলেন, ভূমিতে থাকা পর্যবেক্ষণ স্টেশন থেকে সংগৃহীত তথ্য স্যাটেলাইট প্রযুক্তি ও অন্যান্য উপাত্তের সঙ্গে সমন্বয় করে মানচিত্রে যুক্ত করছে গুগল। এতে এসব তথ্য সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত হচ্ছে।


গবেষণা ও ইন্টার্নশিপের সুযোগ


ক্যাপস জানিয়েছে, তারা কয়েকটি সরকারি, বেসরকারি ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক সই করেছে। পর্যবেক্ষণযন্ত্র থেকে পাওয়া তথ্য ব্যবহার করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে যৌথ গবেষণা পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে। শিক্ষার্থীরা এসব তথ্য নিয়ে থিসিস করতে পারবেন। পাশাপাশি তাঁদের জন্য ইন্টার্নশিপের সুযোগ তৈরির কথাও জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।


দেশের সব জেলায় নির্ভরযোগ্য পর্যবেক্ষণ স্টেশন স্থাপন করা গেলে বায়ুদূষণের স্থান ও সময়ভিত্তিক পরিবর্তন সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে। এসব তথ্য দূষণের উৎস চিহ্নিত করা, স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কে মানুষকে সতর্ক করা এবং নীতিনির্ধারণে কাজে লাগতে পারে। তবে তার জন্য যন্ত্রের মান, নিয়মিত ক্যালিব্রেশন ও রক্ষণাবেক্ষণ, তথ্য যাচাই এবং সংগৃহীত উপাত্তের উন্মুক্ততা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।