প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
মেয়েরা যাতে বেতন ছাড়াই ‘ডিগ্রি পর্যন্ত’ পড়াশোনা করতে পারে, তা সরকার নিশ্চিত করবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, “আমরা বলেছিলাম বাংলাদেশের জনসংখ্যা এই যে প্রায় ২০ কোটি, এর অর্ধেক হচ্ছে নারী। দেশনেত্রী খালেদা জিয়া এই নারীদের জন্য শিক্ষা ব্যবস্থাকে ফ্রি করে দিয়েছেন ইন্টারমিডিয়েট পর্যন্ত। প্রথমবার করেছেন স্কুল পর্যায়ে, দ্বিতীয়বার করেছেন ইন্টারমিডিয়েট পর্যায়ে।
“খালেদা জিয়ার সেই কর্মসূচির অংশকে আমরা আরও সামনে নিয়ে যেতে চাই। এই জন্য আমরা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি যে, ইনশাআল্লাহ নারীদের শিক্ষা ব্যবস্থা আমরা ডিগ্রি পর্যন্ত অর্থাৎ উচ্চতর পর্যন্ত ইনশাআল্লাহ বিনামূল্যে ব্যবস্থা করব।”
আজ সোমবার দুপুরে যশোরের শার্শা উপজেলায় খুলশী খাল পুনঃখনন কার্যক্রম উদ্বোধন শেষে সুধী সমাবেশে বক্তব্য দিচ্ছিলেন তারেক রহমান।
তিনি বলেন, “শুধু মেয়েদের শিক্ষা ব্যবস্থা আমরা ডিগ্রি পর্যন্ত ফ্রি করব না, একই সাথে আমাদের যে মেয়েরা ভালো রেজাল্ট করতে পারবে, তাদের জন্য আমরা উপবৃত্তির ব্যবস্থা করব সরকার থেকে, যাতে করে তারা আরও উচ্চতর শিক্ষা লাভ করতে পারে।”
প্রধানমন্ত্রী ডিগ্রি পর্যন্ত মেয়েদের অবৈতনিক শিক্ষার কথা বললেও বিএনপির নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি ছিল- মেয়েদের স্নাতকোত্তর এবং ছেলেদের জন্য স্নাতক ও সমপর্যায় অবৈতনিক শিক্ষা নিশ্চিত করা হবে। ছেলে ও মেয়েদের জন্য শিক্ষা উপবৃত্তি সম্প্রসারণ করা হবে।
নারীরা পাবেন ‘এলপিজি কার্ড’
পরিবারের নারীপ্রধানদের জন্য বিএনপির যে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ প্রতিশ্রুতি ছিল, সেই কর্মসূচি ইতোমধ্যে বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, এ কার্ডে প্রতি মাসে আড়াই হাজার টাকা মিলবে, যা দিয়ে একজন নারী সন্তানকে ভালো খাবার খাওয়াতে পারবে। সেই সঙ্গে হাঁস-মুরগি পালন, গরু-ছাগল পালনের মাধ্যমে নিজের রুজি-রোজগারের ব্যবস্থা করতে পারবে।
নারীদের জীবনকে আরও সহজ করতে সরকার ‘এলপিজি কার্ড’ দেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বলেও জানান সরকারপ্রধান।
তিনি বলেন, “আমরা দুদিন আগে আরেকটি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি। এই মা-বোনদের একটি ব্যাপারে খুব কষ্ট হয়, রান্নাবাড়ির ব্যাপারে কষ্ট হয়; সেটি গ্রামের মা-বোনই হোক বা শহরের মা-বোনই হোক।
“আমরা যেরকম সারা দেশে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দিচ্ছি, সেরকম আরেকটি কাজ করতে চাই- সেটি হবে ‘এলপিজি কার্ড’। ‘এলপিজি গ্যাস’- এটি আমরা মা-বোনদেরকে পৌঁছে দেব, যাতে করে মা-বোনদেরকে রান্নাবান্নার জন্য কষ্ট করতে না হয়।”
‘তারা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চায়’
জামায়াত জোটকে ইংগিত করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, জুলাই সনদের অর্থ ভিন্নভাবে উপস্থাপনের মাধ্যমে রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা চলছে।
সরকারপ্রধান বলেন, “প্রিয় ভাই-বোনেরা, আপনাদেরকে সজাগ থাকতে হবে, সতর্ক থাকতে হবে। যারা গণভোটের রায়কে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে চায়, যারা জুলাই সনদের অর্থ ভিন্নভাবে তাদের নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের জন্য উপস্থাপন করতে চায়, এরা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চায়।
“এই বিশৃঙ্খলা যদি সৃষ্টি করতে পারে তারা, তাহলে জনগণের যে কর্মসূচি- ফ্যামিলি কার্ডের যে কর্মসূচি, মা-বোনদের যে কর্মসূচি, কৃষকদের কৃষি কার্ডের যে কর্মসূচি, খাল খননের যে কর্মসূচি, বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের জন্য মিল-কারখানা চালু করার যে কর্মসূচি, স্বাস্থ্যসেবা গ্রামে গ্রামে পৌঁছে দেওয়ার যে কর্মসূচি- সকল কর্মসূচি ব্যাহত হবে, এই বিশৃঙ্খলা যদি প্রশ্রয় পায়।”
তারেক রহমান বলেন, “আজকে আমরা দেখেছি বিগত সাড়ে সতেরো বছর থেকে বিভিন্ন সময় কারা কারা দেশে অশান্তির চেষ্টা করেছে, বিভ্রান্তির চেষ্টা করেছে। যতবার বিএনপি দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য কর্মসূচি গ্রহণ করেছে, অতীতে আমরা দেখেছি আন্দোলনের নামে কীভাবে ১৭৩ দিন হরতাল করা হয়েছিল-মনে আছে আপনাদের?
“১৭৩ দিন কীভাবে দেশের অর্থনীতিকে ধ্বংস করে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। প্রিয় ভাই-বোনেরা, এখনো আমার সেই ভূত আরেকজনের কাছে গিয়ে আছর করেছে। আপনাদেরকে এ ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে।”
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমরা বিশ্বাস করি- আমরা যারা শহীদি দল করি, আমরা যারা দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার সৈনিক; আমরা বিশ্বাস করি-এই দেশই হচ্ছে আমাদের প্রথম, এই দেশই হচ্ছে আমাদের শেষ ঠিকানা। সেজন্যই আমরা বলি-‘প্রথম বাংলাদেশ আমার, শেষ বাংলাদেশ’।”
বাবার কাটা খালের পুনঃখননের সূচনা
পাঁচ দশক আগে মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানের যেখান থেকে খাল খনন কর্মসূচি শুরু করেছিলেন, যশোরের সেই উলশী খাল পুনঃখনন কার্যক্রম উদ্বোধন করেন তার ছেলে তারেক রহমান।
এদিন বেলা ১২টার দিকে কোদাল দিয়ে মাটি কেটে এ খনন কার্যক্রমের সূচনা শেষে খালপাড়ে সুধী সমাবেশে অংশগ্রহণ করেন প্রধানমন্ত্রী।
তারেক রহমান বলেন, “এই খালে পানি নাই। কারণ এই খালগুলো আজকে বন্ধ হয়ে গেছে, ভরাট হয়ে গিয়েছে, বিভিন্ন জায়গায় খাল দখলও হয়ে গিয়েছে। এই যে খাল ভরাট হয়ে গিয়েছে, খাল বন্ধ হয়ে গিয়েছে, খাল দখল হয়ে গিয়েছে তাতে কি সাধারণ মানুষ বা কৃষকদের কোনো উপকার হয়েছে? কোনো উপকার হয়নি।
বাবার কাটা খালের পুনঃখননের সূচনা
পাঁচ দশক আগে মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানের যেখান থেকে খাল খনন কর্মসূচি শুরু করেছিলেন, যশোরের সেই উলশী খাল পুনঃখনন কার্যক্রম উদ্বোধন করেন তার ছেলে তারেক রহমান।
এদিন বেলা ১২টার দিকে কোদাল দিয়ে মাটি কেটে এ খনন কার্যক্রমের সূচনা শেষে খালপাড়ে সুধী সমাবেশে অংশগ্রহণ করেন প্রধানমন্ত্রী।
তারেক রহমান বলেন, “এই খালে পানি নাই। কারণ এই খালগুলো আজকে বন্ধ হয়ে গেছে, ভরাট হয়ে গিয়েছে, বিভিন্ন জায়গায় খাল দখলও হয়ে গিয়েছে। এই যে খাল ভরাট হয়ে গিয়েছে, খাল বন্ধ হয়ে গিয়েছে, খাল দখল হয়ে গিয়েছে তাতে কি সাধারণ মানুষ বা কৃষকদের কোনো উপকার হয়েছে? কোনো উপকার হয়নি।
বাবার কাটা খালের পুনঃখননের সূচনা
পাঁচ দশক আগে মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানের যেখান থেকে খাল খনন কর্মসূচি শুরু করেছিলেন, যশোরের সেই উলশী খাল পুনঃখনন কার্যক্রম উদ্বোধন করেন তার ছেলে তারেক রহমান।
এদিন বেলা ১২টার দিকে কোদাল দিয়ে মাটি কেটে এ খনন কার্যক্রমের সূচনা শেষে খালপাড়ে সুধী সমাবেশে অংশগ্রহণ করেন প্রধানমন্ত্রী।
তারেক রহমান বলেন, “এই খালে পানি নাই। কারণ এই খালগুলো আজকে বন্ধ হয়ে গেছে, ভরাট হয়ে গিয়েছে, বিভিন্ন জায়গায় খাল দখলও হয়ে গিয়েছে। এই যে খাল ভরাট হয়ে গিয়েছে, খাল বন্ধ হয়ে গিয়েছে, খাল দখল হয়ে গিয়েছে তাতে কি সাধারণ মানুষ বা কৃষকদের কোনো উপকার হয়েছে? কোনো উপকার হয়নি।
“এখন আজকে আমরা এসেছি এই খালটি আবার পুনঃখনন করতে, গত প্রায় ৫০ বছর আগে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এই খালটিকে খনন করেছিলেন এবং এই প্রায় চার কিলোমিটার খাল আমরা পুনঃখনন করতে পারি, তাহলে এই এলাকার মানুষ পানি পাবে।
“পানি পেলে কী হবে? আমরা দেখেছি, প্রায় ২০ হাজারের মত কৃষক সরাসরি উপকৃত হবে, প্রায় ১৪০০ টন বাড়তি খাদ্যশস্য উৎপাদন হবে, প্রায় ৭২ হাজার মানুষ সরাসরি উপকৃত হবে এই খালে পানি আসলে।”
তিনি বলেন, “এই খালে পানি থাকলে উপকারটা কাদের হবে ভাই? এই এলাকার মানুষের হবে। শুধু তাই নয়, ইনশাল্লাহ এই খাল পুনঃখনন যখন শেষ হয়ে যাবে, আমরা ইনশাল্লাহ এই খালের দু‘পাশ দিয়ে প্রায় ৩ হাজার বৃক্ষরোপণ করব।
“যারা ঘরে হাঁস পালন বা হাঁস পালতেন আগে; কিন্তু এই খালে পানি না থাকার কারণে অনেকের ঘরে সেটা সম্ভব হয় না। কিন্তু যখন খালে পানি থাকে, তখন মা-বোনদের জন্য একটি বাড়তি রোজগারের সুবিধা হবে হাঁস পালনের মধ্যে দিয়ে।
“আমরা যদি সকলে মিলে পরিশ্রম করি তাহলে অবশ্যই ভাগ্যের পরিবর্তন করা সম্ভব তাহলে অবশ্যই দেশের অবস্থার পরিবর্তন করা সম্ভব তাহলে অবশ্যই দেশের মানুষ ভালো থাকতে পারবে।”
জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
সাময়িক সংকটকালে শিল্পখাত যাতে গ্যাস সংকটের সম্মুখীন না হয় সেজন্য সরকার বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
আজ (বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্ন উত্তর পর্বে সংসদ সদস্য সুলতানা আহমেদ এক প্রশ্নের উত্তরে আমি এ কথা জানান। এসময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, আকস্মিক বা সাময়িক সংকটকালীন সময়ে শিল্পখাত যাতে গ্যাস সংকটের সম্মুখীন না হয় সেজন্য সরকার নিম্নরূপ পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে:
২০৩০-৩১ সালের মধ্যে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ১৫০টি কূপ খনন; দেশিয় গ্যাসের উৎস অনুসন্ধানের লক্ষ্যে মোট ৪,৫০০ লাইন কি.মি. ২ডি সাইসমিক (দ্বি-মাত্রিক) সার্ভে এবং ৪,২০০ বর্গ কি.মি. ৩ডি সাইসমিক (ত্রি-মাত্রিক) সার্ভে পরিচালনা; সমুদ্রাঞ্চলের ২৬টি ব্লকে তেল ও গ্যাস অনুসন্ধান এবং উত্তোলনের লক্ষ্যে কাজী আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান নিয়োগের জন্য গত ২৪ মে ২০২৬ তারিখ আন্তর্জাতিক বিডিং রাউন্ড আহ্বান করা হয়েছে। নভেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত বিড দাখিলের সময়সীমা নির্ধারণ;
স্থলভাগে তেল ও গ্যাস অনুসন্ধানে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ আকর্ষণের লক্ষ্যে বাংলাদেশ Onshore Model PSC 2026 প্রণয়নের কার্যক্রম গ্রহণ।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশে বিদ্যমান ২টি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের মাধ্যমে কমবেশি গড়ে দৈনিক ৯৩৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হয়। ভবিষ্যতে আকস্মিক গ্যাস সংকটে শিল্পখাত যেন বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন না হয় তা নিশ্চিত করার জন্য মহেশখালির কুতুবজোমে নতুন একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল এবং মাতারবাড়িতে একটি ল্যান্ড-বেইজড এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের কার্যক্রম বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী কুতুবজোম ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল হতে ২০২৮ সালে এবং ল্যান্ড-বেইজড এলএনজি টার্মিনাল হতে ডিসেম্বর ২০৩০ সাল নাগাদ রি-গ্যাসিফাইড এলএনজি সরবরাহ করা হবে আশা করা যায়।
এছাড়া, পায়রা বা মোংলা বন্দর এলাকা অথবা দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সমুদ্র উপকূল বিবেচনায় গভীর সমুদ্রে কোনো সুবিধাজনক স্থান নির্বাচন করে জরুরি ভিত্তিতে নতুন একটি ভাসমান টার্মিনাল স্থাপনের জন্য সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
ভোলার গ্যাস এলএনজি আকারে মেইনল্যান্ডে এনে আগ্রহী গ্রাহক শিল্প প্রতিষ্ঠানে সরবরাহের বিষয়ে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। গ্যাস প্রাপ্তি সাপেক্ষে শিল্প প্রতিষ্ঠানে গ্যাস সরবরাহ করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। এক্ষেত্রে অর্থনৈতিক অঞ্চল, ইপিজেড ও বিসিক-এর মত পরিকল্পিত শিল্পাঞ্চলে অবস্থিত শিল্প প্রতিষ্ঠানসমূহকে অগ্রাধিকার দেয়া হবে।
আসিফ মাহমুদ
দুদকের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদী আমলের মতো রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীকে হেয় করতেই নিজের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।
আজ বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবে নিজের বিরুদ্ধে দুদকে আনা অভিযোগকে মিথ্যা দাবি করে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত উপস্থাপন করেন তিনি।
আসিফ মাহমুদ বলেন, বিএনপি সরকারের সময়ে হওয়া বিভিন্ন পদোন্নতি ও বদলির ঘটনাকে কেন্দ্র করেই তার বিরুদ্ধে অনুসন্ধান করা হচ্ছে। তার দাবি, এসব সিদ্ধান্তের সঙ্গে তার কোনো অনিয়মের সম্পর্ক নেই।
মিডিয়া ট্রায়ালের মাধ্যমে তার পরিবারকে হেয় এবং চরিত্রহননের উদ্দেশ্যেই এসব অভিযোগ সামনে আনা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন সাবেক এই উপদেষ্টা। একই সঙ্গে দুদককে দলীয় কাজে ব্যবহারের অভিযোগ তুলে সংস্থাটির কার্যক্রম নিয়েও প্রশ্ন তোলেন আসিফ মাহমুদ। দুদক চেয়ারম্যানের নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
এর আগে, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের নিয়োগ, বদলি, পদোন্নতি ও সরকারি কেনাকাটাসহ বিভিন্ন বিষয়ে আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধান শুরু করার কথা জানিয়েছিল দুদক।
তবে নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দাবি করে সেগুলোর জবাব দিতে আজ জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন আসিফ মাহমুদ।
জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
ভোলা থেকে সরাসরি মূল ভূখণ্ডে গ্যাস নিতে পাইপলাইন নির্মাণে অন্তত সাত বছর সময় লাগবে বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তাই মূল ভূখণ্ডে গ্যাস নেওয়ার দীর্ঘ অপেক্ষায় না থেকে ভোলাতেই শিল্প-কারখানা স্থাপন, সার কারখানা গড়ে তোলা এবং নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। আজ বুধবার (০৯ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত মহিলা আসনের সদস্য সুলতানা আহমেদের করা সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে সরকারপ্রধান এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভোলার গ্যাস পাইপলাইনের মাধ্যমে মূল ভূখণ্ডে বা মেইনল্যান্ডে নিয়ে আসার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হলে তা বাস্তবায়নে অন্তত সাত বছরের মতো সময় লেগে যাবে। তাই সরকার বিকল্প ও দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপের ওপর বেশি জোর দিচ্ছে। ভোলায় যাতে বিপুল পরিমাণ শিল্প-কারখানা স্থাপন করা যায়, সে লক্ষ্যে ইতোমধ্যেই কাজ শুরু হয়েছে। অনেক শিল্প উদ্যোক্তা সেখানে গ্যাসভিত্তিক শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার আন্তরিক চেষ্টা চালাচ্ছেন। স্থানীয়ভাবে এই গ্যাস ব্যবহার করে শিল্পায়ন হলে একদিকে যেমন ভোলায় ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে, অন্যদিকে অঞ্চলের সামগ্রিক অর্থনীতির আকারও বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।
ভোলার গ্যাসকে দেশের মানুষের সার্বিক কল্যাণে ও জাতীয় স্বার্থে ব্যবহারের বিস্তারিত পরিকল্পনা তুলে ধরে সরকারপ্রধান বলেন, সেখানে একটি বড় সার (ফার্টিলাইজার) কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা করছে সরকার। এর পাশাপাশি একই স্থানে ৫০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার আরেকটি নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্র গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে ভোলার গ্যাস সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত হবে।
জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে ভোলা-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ নূরুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের ২০২৬ সালের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে আগামী পাঁচ বছরের জন্য একটি বিশেষ কৌশলগত উন্নয়ন কাঠামো প্রণয়ন করা হয়েছে। জুলাই ২০২৬ থেকে জুন ২০৩১ মেয়াদি এই উন্নয়ন পরিকল্পনায় দেশের প্রতিটি অঞ্চলের সুষম ও ভারসাম্যপূর্ণ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। ভোলার আঞ্চলিক বৈশিষ্ট্য, স্থানীয় প্রাকৃতিক সম্পদ, সাধারণ মানুষের চাহিদা, উপকূলীয় জলবায়ু ঝুঁকি এবং অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতাকে বিবেচনায় নিয়েই সাজানো হচ্ছে এই সমন্বিত মাস্টারপ্ল্যান।
ভোলার বিপুল প্রাকৃতিক গ্যাস সম্পদকে জাতীয় অর্থনীতিতে ব্যবহারের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপের কথা জানানো হয় সংসদে। ভোলা জেলায় একটি নতুন ৪০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার।
এর পাশাপাশি ভোলার ভেদুরিয়া ও ইলিশা গ্যাসক্ষেত্র থেকে প্রতিদিন ৬০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস এলএনজি-তে রূপান্তর করে লাইটারেজ অপারেশনের মাধ্যমে খুলনার বিদ্যুৎ হাবে সরবরাহের উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এই প্রকল্পগুলো চালু হলে ভোলার গ্যাসের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি দেশের সার্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা আরও সুদৃঢ় হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতীয় অর্থনীতিতে সমুদ্র ও উপকূলীয় সম্পদের কার্যকর অবদান বাড়াতে প্রণীত বিশেষ বিন্যাসে ভোলাকে বিশেষ মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। নতুন কৌশলগত কাঠামোর অধীনে ভোলা জেলা এবং এর আশেপাশের দ্বীপগুলোকে ব্লু ইকোনমির সেন্ট্রাল জোনের প্রধান কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এই বিশেষ জোনের আওতায় জাতীয় রুপালি সম্পদ ইলিশ ও অন্যান্য মৎস্য সম্পদ সংরক্ষণ, উপকূলীয় বিস্তৃত চরাঞ্চলের সমন্বিত কৃষি বিকাশ, জলবায়ু সহনশীল সুরক্ষিত অবকাঠামো নির্মাণ এবং নৌ-নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
ভোলার বিশেষ ভৌগোলিক অবস্থান, গ্যাস ক্ষেত্র, উর্বর কৃষি জমি এবং বিপুল উপকূলীয় মৎস্যসম্পদের কথা বিবেচনায় রেখে দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনা ও সরকারি-বেসরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধির ওপর জোর দিয়েছে সরকার। এই সমন্বিত উদ্যোগগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের মাধ্যমে আগামী দিনে দ্বীপ জেলা ভোলার সার্বিক অর্থনীতিতে এক নতুন বৈপ্লবিক পরিবর্তনের প্রত্যাশা করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘চট্টগ্রামের সঙ্গে ঢাকার যাতায়াতে সময় ও দূরত্ব কমিয়ে আনার লক্ষ্যে চট্টগ্রাম-ঢাকা করিডোরে ইলেকট্রিক ট্রেন পরিচালনায় ডিজাইন প্রণয়নের কাজ শেষ করেছে সরকার।’ আজ বুধবার বিকেলে সংসদ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্বে চট্টগ্রাম-১২ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ এনামুল হকের তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
মোহাম্মদ এনামুল হকের প্রশ্ন ছিলো, দেশের অর্থনীতির লাইফলাইন চট্টগ্রামের সঙ্গে ঢাকার যাতায়াতে সময় ও দূরত্ব কমিয়ে আনার লক্ষ্যে ইলেকট্রিক (বুলেট ট্রেন) ট্রেন চালু করার পরিকল্পনা সরকারের আছে কিনা; থাকলে কবে নাগাদ বাস্তবায়ন করা হবে?
উত্তরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘চট্টগ্রাম-ঢাকা করিডোরে ইলেকট্রিক ট্রেন পরিচালনার জন্য ইলেকট্রিক ট্র্যাকশন স্থাপনের নিমিত্ত সম্ভাব্যতা সমীক্ষা এবং বিশদ ডিজাইন প্রণয়নের কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থায়ন নিশ্চিত হওয়ার পর প্রকল্পের বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা ও সময়সূচি নির্ধারণ করা হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘অর্থায়ন প্রাপ্তি সাপেক্ষে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে চট্টগ্রাম-ঢাকা করিডোরে ইলেকট্রিক ট্রেন পরিচালনা করা সম্ভব হবে। ফলে ট্রেনের গড় গতি বৃদ্ধি পাবে এবং যাতায়াতের সময় কমবে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ঢাকা-চট্টগ্রাম করিডোরের দূরত্ব হ্রাস করার লক্ষ্যে ঢাকা হতে কুমিল্লা পর্যন্ত কর্ডলাইন নির্মাণের উদ্দেশ্যে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা এবং বিশদ ডিজাইন প্রণয়নের কাজ চলমান আছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ঢাকা-চট্টগ্রামের মধ্যে দূরত্ব হ্রাস পাবে এবং গড় গতি বৃদ্ধি পাবে। তাই অল্প সময়ে ঢাকা-চট্টগ্রামের মধ্যে যাতায়াত করা যাবে।’
সরকার ঢাকা হতে চট্টগ্রাম পর্যন্ত রেলপথকে ডুয়েলগেজ ডাবল লাইনে রূপান্তরের পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এসব পদক্ষেপের আওতায় টঙ্গী- আখাউড়া এবং লাকসাম-চট্টগ্রাম পর্যন্ত ডুয়েলগেজ ডাবল লাইন নির্মাণের জন্য ইতোমধ্যে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা এবং বিশদ ডিজাইন প্রণয়নের কাজ শেষ হয়েছে। তন্মধ্যে, লাকসাম-চট্টগ্রাম ডুয়েলগেজ ডাবল লাইন উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবটি অনুমোদনের জন্য প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এছাড়া, টঙ্গী-আখাউড়া ডুয়েলগেজ ডাবল লাইন প্রকল্পের ডিপিপি প্রণয়ন শেষ পর্যায়ে।’
তারেক রহমান বলেন, ‘আশা করি এই প্রকল্প দুটি বাস্তবায়িত হলে চট্টগ্রাম-ঢাকা করিডরে বাংলাদেশ রেলওয়ের যাত্রী পরিবহনের সক্ষমতা এবং ট্রেনের গতি বৃদ্ধি পাবে।’
জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে বিকেল সাড়ে তিনটায় সংসদের অধিবেশন শুরু হয়। অধিবেশনের প্রথম ৩০ মিনিট ছিলো প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্ব।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দীন
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সময় পুলিশকে নির্বাচন কমিশন (ইসি) কোনো বেআইনি নির্দেশনা দেবে না বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দীন।
তিনি বলেছেন, পুলিশের পক্ষ থেকে সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের জন্য কাজ করার বিষয়ে আশ্বস্ত করা হয়েছে। নির্বাচন আয়োজনে কমিশনের পাশাপাশি পুলিশেরও সাংবিধানিক ও আইনি দায়িত্ব রয়েছে।
আজ বুধবার রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ অডিটরিয়ামে ‘নির্বাচনি দায়িত্ব পেশাদারত্বের সঙ্গে সম্পাদনের লক্ষ্যে পুলিশের দক্ষতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধি’ শীর্ষক প্রশিক্ষণ কোর্সের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে সিইসি এসব কথা বলেন।
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে কিনা সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, এটা দলভিত্তিক কোনো নির্বাচন না। আইন অনুযায়ী যারা যোগ্য হবেন, তারাই নির্বাচন করতে পারবেন। যারা আইনে বাধার কারণে যোগ্য হবেন না তারা বাতিল হবেন।
নির্বাচনের প্রস্তুতির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জাতীয় নির্বাচনের মতো স্থানীয় সরকার নির্বাচনও গ্রহণযোগ্য হবে। সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য পুলিশের কাছে সহায়তা চাওয়া হয়েছে।
নাসির উদ্দীন বলেন, খুব শিগগিরই স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনকে মূলত পুলিশের সক্ষমতার ওপর নির্ভর করতে হয়। স্থানীয় সরকার নির্বাচনের দায়িত্বে যারা নিয়োজিত হবেন, অথচ আগে নির্বাচনকেন্দ্রিক কার্যক্রমের বিষয়ে প্রশিক্ষণ নেননি, তাদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার জন্য আইজিপিকে অনুরোধ করা হয়েছিল।
তিন বলেন, আমরা জাতীয় নির্বাচন যত সুন্দরভাবে করেছি, একইভাবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনটাও করতে চাই। জাতীয় নির্বাচনে ফলাফলের মাধ্যমে প্রমাণ করেছি, আমরা পারি। নির্বাচন কমিশনের ওপর যে মানুষের আস্থা নষ্ট হয়ে গিয়েছিল, সেটি অনেকাংশে পুনরুদ্ধার করতে পেরেছি।
পুলিশ বাহিনীর কিছু সময়সীমাবদ্ধতা রয়েছে জানিয়ে সিইসি বলেন, তাদের গাড়ির সঙ্কট রয়েছে। নির্বাচনের সময় অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতে হয়। চব্বিশের জুলাই-আগস্টে অনেক গাড়ি পুড়ে গেছে।
তিনি আরও বলেন, এই প্রশিক্ষণের জন্য প্রায় ২২ কোটি টাকা খরচ হবে। তাদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ তহবিল থেকেই এই টাকা খরচ করতে হবে। পর্যায়ক্রমে বিজিবি ও আনসারও প্রশিক্ষণ শুরু করবে।
বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে পুলিশ সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন করতে পারবে কিনা সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এই পরিস্থিতি নতুন না। জাতীয় নির্বাচনে যে অবস্থা ছিল, সেই অবস্থার চেয়ে এখনকার অবস্থা খারাপ না। পুলিশের ওপর আস্থা আছে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সহিংসতা কমাতে পরিকল্পনা সম্পর্কে সিইসি বলেন, নির্বাচনের সময় সিসি ক্যামেরা, বডি-অন ক্যামেরা থেকে শুরু করে নিরাপত্তার সব ব্যবস্থা থাকবে।
অন্যদিকে দলীয় সরকার ক্ষমতায় থাকায় পুলিশ নির্বাচনী দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে চাপমুক্ত থাকবে কি না সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আলী হোসেন ফকির বলেন, বর্তমানে দেশে দলীয় সরকার থাকলেও এটি গণতান্ত্রিক সরকার। নির্বাচন সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন করতে পুলিশের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নির্বাচন কমিশনের পরামর্শ অনুযায়ী পুলিশ দায়িত্ব পালন করবে।
গত ছয় মাসে পুলিশের ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারে কী ধরনের অগ্রগতি হয়েছে-এমন প্রশ্নের জবাবে আইজিপি দাবি করেন, এ ক্ষেত্রে পুলিশের সাফল্য শতভাগ।
প্রতীকী ছবি
দেশে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা এক হাজার ছাড়িয়েছে। বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে হামের উপসর্গে আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছর হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২ জনে। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ১০০ জন এবং হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে ৯০২ জনের। বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে নতুন করে ১ হাজার ১১৯ জনের শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে এবং ৬৯ জনের শরীরে নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে। গত ১৫ মার্চ থেকে ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে মোট ১ লাখ ৬৭ হাজার ৫৮০ জনের শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে। অন্যদিকে, একই সময়ের মধ্যে নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে ১৯ হাজার ৯০৪ জনের শরীরে।
চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়েছেন ১ লাখ ৪৭ হাজার ৩৯৩ জন রোগী। এর মধ্যে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ১ লাখ ৪১ হাজার ৮১৯ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে যে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে, তাঁরা ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা ও ঢাকা জেলার বাসিন্দা।
রোগতত্ত্ববিদরা বলছেন, হাম যে কোনো বয়সের মানুষের হতে পারে। তবে শিশুদের আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি। প্রাদুর্ভাবের সময় হামের উপসর্গ নিয়ে যেসব মৃত্যু হয়, সেগুলোকে হামের কারণে মৃত্যু হিসেবেই বিবেচনা করা হয়।