ছবি : সংগৃহীত
কাকডাকা ভোর থেকে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় শুরু হয়েছে বৃষ্টি। মুষলধারে বৃষ্টিতে ভোগান্তিতে পড়েছেন লোকজন। অনেক জায়গায় পানি জমে রাস্তা প্রায় উপচে গেছে। তৈরি হয়েছে জলাবদ্ধতা। তবে দুদিনের বৃষ্টি এনে দিয়েছে শীতল অনুভূতি।
কয়েক দিন যে ভ্যাপসা গরম ছিল তাতে এসেছে স্বস্তি। দেশের অনেক জায়গায় বয়ে চলা ৪০ ডিগ্রি ছুঁইছুই তাপমাত্রা আজ ও গতকালের বৃষ্টিতে কমেছে অনেকটা। সিলেটের শ্রীমঙ্গলে তাপমাত্রা নেমে এসেছে ১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, এমন বর্ষণ চলবে আরও চারদিন, অর্থাৎ শনিবার পর্যন্ত সারা দেশে ঝরবে বৃষ্টি। কোথাও কোথাও দমকা ও ঝড়ো হাওয়াসহ বিদ্যুৎ চমকাবে। ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট এই তিন বিভাগের ভারি বর্ষণ হতে পারে। সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। শনিবারের পর বৃষ্টি কমে আসবে এবং সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়বে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এতে বলা হয়, চলমান লঘুচাপের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ থেকে উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে।
আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আজ বুধবার রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা ও ঝড়ো হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি ও বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারী ধরনের ভারি থেকে অতি ভারি বর্ষণ হতে পারে। সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
আহামীকাল বৃহস্পতিবার ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা ও ঝড়ো হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি ও বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি থেকে অতি ভারি বর্ষণ হতে পারে।
শুক্রবার রংপুর, ময়মনসিংহ, ঢাকা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা ও ঝড়ো হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি ও বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে রংপুর, ময়মনসিংহ, ঢাকা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি থেকে অতি ভারি বর্ষণ হতে পারে।
শনিবার ঢাকা, ময়মনসিংহ, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা ও ঝড়ো হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি ও বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে ঢাকা, ময়মনসিংহ, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি থেকে অতি ভারি বর্ষণ হতে পারে। এরপর বৃষ্টি কমে আসবে এবং সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে।
আগামী পাঁচ দিন দেশের বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এর মধ্যে কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী বর্ষণ হতে পারে। বৃষ্টির সঙ্গে অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াও বয়ে যেতে পারে। বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ১২০ ঘণ্টার পূর্বাভাসে এ তথ্য জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
পূর্বাভাস অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার রংপুর, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু এলাকায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী বর্ষণ হতে পারে। এদিন ঢাকা, ফরিদপুর, রংপুর, যশোর ও খুলনা জেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া মৃদু তাপপ্রবাহ প্রশমিত হতে পারে।
শুক্রবার রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের দু-এক জায়গায় বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে।
শনিবার বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও খুলনা বিভাগের কিছু এলাকায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী বর্ষণ হতে পারে। এদিন দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে।
রোববার রংপুর, রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের কিছু এলাকায় এবং ঢাকা, ময়মনসিংহ, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের দু-এক জায়গায় বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।
সোমবার রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কিছু এলাকায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী বর্ষণ হতে পারে। দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, উত্তর আন্দামান সাগর ও তৎসংলগ্ন পূর্বমধ্য বঙ্গোপসাগরে একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে। মৌসুমি বায়ুর অক্ষের বর্ধিতাংশ রাজস্থান, উত্তর প্রদেশ, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর কম সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে মাঝারি অবস্থায় রয়েছে।
বর্ধিত পাঁচ দিনের পূর্বাভাসে আবহাওয়ার উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়েছিলেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এর জবাবে তারেক রহমানকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
এর আগে, তারেক রহমানের এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট @trahmanbnp থেকে নরেন্দ্র মোদিকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানানো হয়।
তারেক রহমানের পোস্টে লেখা হয়, ‘ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে আন্তরিক জন্মদিনের শুভেচ্ছা। আপনাকে জন্মদিনের অনেক অনেক শুভেচ্ছা। ভারতের জনগণের প্রতি আপনার নিবেদিত সেবার সঙ্গে সব সময় সুস্বাস্থ্য ও উচ্চ মনোবল বজায় থাকুক।’
আইন মন্ত্রণালয়
বিভিন্ন বিচারলয়ে কর্মরত ৪৪ জেলা জজ, ২৬ অতিরিক্ত জেলা জজ, ২৫ যুগ্ম জেলা জজ, দুই সিনিয়র সিভিল জজ ও দুই সিভিল জজসহ মোট ৯৯ বিচারককে বদলি করা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শক্রমে আইন মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগ থেকে আজ বৃহস্পতিবার এ-সংক্রান্ত পৃথক ছয়টি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। রাতে বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা ড. মো. রেজাউল করিম।
এর মধ্যে যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ পদমর্যাদার ১৭ বিচারককে চিফ লিগ্যাল এইড অফিসার হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে। পাশাপাশি জেলা জজ ও অতিরিক্ত জেলা জজ পদমর্যাদার কয়েকজন বিচারককে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, আইন ও বিচার বিভাগ, দুর্নীতি দমন কমিশন এবং নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে আইনসংক্রান্ত পদে বদলি করা হয়েছে।
জেলা জজ পর্যায়ে বদলি
সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা জজ) স্বপন কুমার সরকারকে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের আইন উপদেষ্টা, ঝিনাইদহের ল্যান্ড সার্ভে আপিল ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা জজ) মো. মাসুদ আলীকে আইন ও বিচার বিভাগের উপসচিব, পাবনার পারিবারিক আপিল আদালতের বিচারক (জেলা জজ) মো. ফেরদৌস ওয়াহিদকে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের আইন উপদেষ্টা এবং আইন ও বিচার বিভাগে সংযুক্ত জেলা জজ সোনিয়া আহমেদকে আইন ও বিচার বিভাগের ডেপুটি সলিসিটর করা হয়েছে।
অতিরিক্ত জেলা জজ পর্যায়ে বদলি
দুর্নীতি দমন কমিশন সচিবালয়ের উপ-পরিচালক মো. হুমায়ুন কবীরকে ঢাকার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ, রংপুরের অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মোছা. মার্জিয়া খাতুনকে নীলফামারীর চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ সত্যব্রত শিকদারকে ঝিনাইদহের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ, কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ সুলতান উদ্দিন প্রধানকে চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ, নীলফামারীর চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এনামুল হক বাসুনিয়াকে ঠাকুরগাঁওয়ের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ, আইন ও বিচার বিভাগে সংযুক্ত অতিরিক্ত জেলা জজ মো. মতিউর রহমানকে কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ, আইন ও বিচার বিভাগে সংযুক্ত অতিরিক্ত জেলা জজ শফি উদ্দিনকে সাতক্ষীরার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ এবং রংপুরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. সুলতান মাহমুদকে পঞ্চগড়ের চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট করা হয়েছে।
আইন ও বিচার বিভাগে সংযুক্ত অতিরিক্ত জেলা জজ মো. নুরু মিয়াকে নেত্রকোনার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ, বরিশালের চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জহির উদ্দিনকে কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ, যশোরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. শহীদুল ইসলামকে বরিশালের চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট, আইন ও বিচার বিভাগে সংযুক্ত অতিরিক্ত জেলা জজ তাহেরা আনোয়ারকে যশোরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ, খুলনার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. শামীম সুফিকে যশোরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ, মাদারীপুরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. নাহিদুর রহমানকে গাজীপুরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ, মৌলভীবাজারের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ফাহমিদা খাতুনকে মাদারীপুরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ এবং আইন ও বিচার বিভাগে সংযুক্ত অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ রায়হানুল ইসলামকে লক্ষ্মীপুরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ করা হয়েছে।
যুগ্ম জেলা জজ পর্যায়ে বদলি
নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ নুরুল হুদা চৌধুরীকে পটুয়াখালীর কলাপাড়া আদালতের যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ, ঢাকার অর্থ ঋণ আদালতের বিচারক (যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ) মো. মোশাররফ হোসেনকে পঞ্চগড়ের অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, আইন ও বিচার বিভাগে সংযুক্ত যুগ্ম জেলা জজ ইসরাত জাহানকে হবিগঞ্জের যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ এবং যশোরের অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. আসাদুল ইসলামকে ঢাকার যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ করা হয়েছে।
নারায়ণগঞ্জের ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালের যুগ্ম জেলা জজ মো. মেহেদী হাসানকে সিরাজগঞ্জের যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ এবং আইন ও বিচার বিভাগে সংযুক্ত যুগ্ম জেলা জজ হরিদাস কুমারকে সিলেটের জেলা জুডিসিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেটর এবং দিনাজপুরের ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালের যুগ্ম জেলা জজ ইকবাল হাসানকে রংপুরের ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালের যুগ্ম জেলা জজ করা হয়েছে।
চিফ লিগ্যাল এইড অফিসার নিয়োগ
আইন ও বিচার বিভাগে সংযুক্ত যুগ্ম জেলা জজ রাহেলা পারভীনকে কিশোরগঞ্জ, আইন ও বিচার বিভাগে সংযুক্ত যুগ্ম জেলা জজ ফাতেমা তুজ জোহরা মুনাকে মুন্সিগঞ্জ, নরসিংদীর ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. তারেক আজিজকে নরসিংদী, জয়পুরহাটের যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ জান্নাতুল রাফিন সুলতানাকে জয়পুরহাট, কুড়িগ্রামের ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালের বিচারক কনক বড়ুয়াকে কুড়িগ্রাম, দিনাজপুরের যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ ফাতিমা খাতুনকে দিনাজপুর, আইন ও বিচার বিভাগে সংযুক্ত যুগ্ম জেলা জজ সাবিনা ইয়াসমিনকে মাগুরা এবং ময়মনসিংহের যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ তারিকুল ইসলামকে ঝিনাইদহের চিফ লিগ্যাল এইড অফিসার করা হয়েছে।
কুষ্টিয়ার যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ মো. আরিফুল ইসলামকে কুষ্টিয়া, আইন ও বিচার বিভাগে সংযুক্ত যুগ্ম জেলা জজ আসমা মাহমুদকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ, আইন ও বিচার বিভাগে সংযুক্ত যুগ্ম জেলা জজ তানিয়া ইসলামকে ঢাকা মহানগর, আইন ও বিচার বিভাগে সংযুক্ত যুগ্ম জেলা জজ নাসিমা খাতুনকে ময়মনসিংহ, বান্দরবানের অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ দাউদ হাসানকে কক্সবাজার, চট্টগ্রামের মানি লোন কোর্টের যুগ্ম জেলা জজ মো. হাসিবুল হাসানকে যশোর, নড়াইলের যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ শারমিন সুলতানা সুমিকে রাজবাড়ী এবং খাগড়াছড়ির যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ শ্রী জ্ঞান তঞ্চঙ্গ্যাকে বান্দরবানের চিফ লিগ্যাল এইড অফিসার করা হয়েছে।
সিনিয়র সিভিল জজ ও সিভিল জজ
মেহেরপুরের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাহিদুর রহমানকে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব (সিনিয়র সিভিল জজ), চট্টগ্রামের সন্দ্বীপের সিনিয়র সিভিল জজ আবদুল্লাহ আল হাসিবকে ঢাকার বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক, গাজীপুরের সিভিল জজ মাসুমা রহমানকে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের আইন কর্মকর্তা এবং নোয়াখালীর সিভিল জজ এস এম শামীম রেজাকে ঝালকাঠির জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, বদলি হওয়া বিচারকদের আগামী ২২ সেপ্টেম্বরের মধ্যে দায়িত্বভার নির্ধারিত কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর করে নতুন কর্মস্থলে যোগ দিতে হবে। প্রশিক্ষণ বা ছুটিতে থাকা বিচারকদের প্রশিক্ষণ বা ছুটি শেষ হওয়ার পর নতুন কর্মস্থলে যোগ দিতে হবে।
পে-স্কেল
মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পরও এখনো প্রকাশ হয়নি নতুন জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬ এর গেজেট। গত ৩১ আগস্ট মন্ত্রিসভার বৈঠকে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতনকাঠামো অনুমোদন করা হলেও গেজেট ও বাস্তবায়ন নির্দেশনা জারির অপেক্ষা রয়েছে।
এর মধ্যেই নতুন পে স্কেলে বাড়িভাড়া, চিকিৎসা, ইনক্রিমেন্ট, মোবাইল, যাতায়াত ও টিফিন ভাতাসহ ১১টি ক্ষেত্রে পরিবর্তন আনার বিষয়টি সামনে এসেছে। পাশাপাশি উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার সময়সীমা কমানো, প্রতিবন্ধী সন্তানের জন্য নতুন ভাতা এবং সশস্ত্র বাহিনীর বিভিন্ন ভাতা পুনর্নির্ধারণের প্রস্তাব রয়েছে।
নতুন কাঠামোয় বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বহাল রেখে গ্রেডভেদে মূল বেতন ১০০ থেকে সর্বোচ্চ ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। নতুন বেতনকাঠামো ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর ধরা হয়েছে। তবে মূল বেতন একসঙ্গে নয়, ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে।
সাম্প্রতিক সরকারি ব্যাখ্যা অনুযায়ী, মূল বেতন তিন ধাপে বাস্তবায়ন হবে এবং অন্যান্য ভাতা ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।
১. বাড়িভাড়া ভাতার হার কমছে
নতুন পে-স্কেলের অন্যতম বড় পরিবর্তন বাড়িভাড়া ভাতা। বর্তমানে ঢাকা সিটি করপোরেশন এলাকায় গ্রেডভেদে মূল বেতনের ৫০ থেকে ৬৫ শতাংশ বাড়িভাড়া দেওয়া হয়। নতুন কাঠামোয় তা কমিয়ে ৪০ থেকে ৬০ শতাংশ করার প্রস্তাব রয়েছে।
ঢাকার বাইরে অন্যান্য সিটি করপোরেশন ও সাভারে বর্তমানে ৪০ থেকে ৫৫ শতাংশের পরিবর্তে ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ এবং সিটি করপোরেশন ও সাভারের বাইরে ৩৫ থেকে ৫০ শতাংশের পরিবর্তে ২৫ থেকে ৪৫ শতাংশ বাড়িভাড়া দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
যদিও তবে মূল বেতন উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ায় শতাংশ কমলেও বাড়িভাড়ার প্রকৃত টাকার অঙ্ক গ্রেডভেদে বাড়তে পারে। অর্থাৎ ভাতার হার কমিয়ে মূল বেতন বৃদ্ধির সঙ্গে মোট আর্থিক সুবিধার মধ্যে ভারসাম্য রাখার চেষ্টা করা হয়েছে।
২. বয়স-ভেদে চিকিৎসাভাতা
বর্তমানে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মাসে ১ হাজার ৫০০ টাকা চিকিৎসাভাতা পান। নতুন কাঠামোয় বয়স-ভেদে এ ভাতা বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে।
৫০ বছর পর্যন্ত বয়সী চাকরিজীবীরা মাসে ৩ হাজার টাকা, ৫০ বছরের বেশি থেকে ৬০ বছর পর্যন্ত ৪ হাজার টাকা, ৬০ বছরের বেশি থেকে ৭০ বছর পর্যন্ত ৫ হাজার টাকা এবং ৭০ বছরের বেশি বয়সে ৬ হাজার টাকা চিকিৎসাভাতা পাওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।
পেনশনভোগীদের ক্ষেত্রেও বয়স অনুযায়ী চিকিৎসাভাতা বাড়ানোর ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
৩. গ্রেডভেদে কমবে বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি
বর্তমানে সব গ্রেডের সরকারি চাকরিজীবী মূল বেতনের ৫ শতাংশ হারে বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট পান। নতুন কাঠামোয় এ অভিন্ন হার আর থাকছে না।
গ্রেড-২০ থেকে গ্রেড-৬ পর্যন্ত ৫ শতাংশ হারে ইনক্রিমেন্ট দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে। গ্রেড-৫-এ এ হার ৪ শতাংশ, গ্রেড-৪ ও ৩-এ ৩ দশমিক ৫ শতাংশ এবং গ্রেড-২-এ ২ দশমিক ৭৫ শতাংশ করা হচ্ছে।
অর্থাৎ উচ্চ বেতনভোগী কর্মকর্তাদের মূল বেতন বেশি হলেও প্রতিবছর বেতন বৃদ্ধির শতাংশ তুলনামূলক কম হবে। সশস্ত্র বাহিনীতেও একই ধরনের কাঠামো অনুসরণ করা হচ্ছে।
৪. সব গ্রেডে চালু হচ্ছে মোবাইল ভাতা
নতুন বেতন-কাঠামোয় প্রথমবারের মতো সব গ্রেডের সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর জন্য মোবাইল ভাতার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। বর্তমানে প্রথম থেকে পঞ্চম গ্রেডের কর্মকর্তারা মোবাইল বিল পেয়ে থাকেন।
নতুন প্রস্তাবে প্রথম থেকে পঞ্চম গ্রেডে মাসে ৫০০ টাকা এবং ষষ্ঠ থেকে ২০তম গ্রেডে ১৫০ টাকা মোবাইল ভাতা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
এর ফলে নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীরাও প্রথমবারের মতো নির্দিষ্ট মোবাইল ভাতার আওতায় আসবেন। নতুন কাঠামোয় বিশেষ চাহিদা-সম্পন্ন সন্তানের জন্যও মাসে ৩ হাজার টাকা ভাতা চালুর সিদ্ধান্ত হয়েছে।
৫. যাতায়াত ভাতা দ্বিগুণ
জীবনযাত্রার ব্যয় ও পরিবহণ খরচ বিবেচনায় যাতায়াত ভাতা বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে। বর্তমানে মাসে ৩০০ টাকা পাওয়া গেলেও নতুন কাঠামোয় তা বাড়িয়ে ৬০০ টাকা করার কথা বলা হয়েছে।
এ ছাড়া প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে প্রেষণ ভাতার কাঠামো পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে শিক্ষা সহায়ক ভাতা, কার্যভার ভাতা, আপ্যায়ন ভাতা, কুক অ্যান্ড সিকিউরিটি অ্যালাউন্স, উৎসব ভাতা এবং শ্রান্তি-বিনোদন ভাতার বিদ্যমান হার বহাল রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
৬. টিফিন ভাতা বাড়ছে ৩০০ টাকা
নতুন কাঠামোয় টিফিন ভাতাও উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ছে। বর্তমানে মাসে ২০০ টাকা টিফিন ভাতা দেওয়া হয়। এটি বাড়িয়ে ৫০০ টাকা করার প্রস্তাব রয়েছে।
একই সঙ্গে ধোলাই ভাতা ১০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩০০ টাকা করার কথা বলা হয়েছে।
৭. প্রতিবন্ধী সন্তানের জন্য নতুন ভাতা
নতুন পে-স্কেলে প্রথমবারের মতো সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিশেষ চাহিদা-সম্পন্ন বা প্রতিবন্ধী সন্তানের জন্য ভাতা চালু করা হচ্ছে।
প্রতি সন্তানের জন্য মাসে ৩ হাজার টাকা করে ভাতা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। সর্বোচ্চ দুই সন্তান এ সুবিধার আওতায় আসবে। অর্থাৎ একজন কর্মচারী এ খাতে মাসে সর্বোচ্চ ৬ হাজার টাকা পেতে পারেন।
৮. বাংলা নববর্ষ ভাতা কমছে
কয়েকটি ভাতা বাড়ানো হলেও বাংলা নববর্ষ ভাতার হার কমানোর প্রস্তাব রয়েছে। বর্তমানে মূল বেতনের ২০ শতাংশ হারে এ ভাতা দেওয়া হয়।
নতুন কাঠামোয় তা কমিয়ে মূল বেতনের ১৫ শতাংশ করার কথা বলা হয়েছে। অন্যদিকে পাহাড়ি ভাতা এবং হাওড়, দ্বীপ ও চরভাতা মূল বেতনের ২০ শতাংশই থাকবে। তবে এসব ভাতার সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ করা হবে।
ঝুঁকি ভাতাসহ বিভিন্ন বিশেষ ভাতার পরিমাণ বিদ্যমান হারের তুলনায় ২০ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাবও রয়েছে।
৯. পেনশনে আসছে পরিবর্তন
এক গ্রেড এক পেনশন বাস্তবায়নের প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে নিট পেনশনের নতুন সীমা নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী সর্বনিম্ন নিট পেনশন ১০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ ৭০ হাজার ২০০ টাকা হতে পারে।
পেনশন কাঠামোর এই পরিবর্তনের পাশাপাশি অবসরপ্রাপ্তদের চিকিৎসা-ভাতাও বয়স-ভেদে বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে।
নতুন বেতন-কাঠামোর আওতায় অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সুবিধা নির্ধারণের বিষয়টি গেজেট ও পরবর্তী বাস্তবায়ন নির্দেশনায় আরও স্পষ্ট হবে।
১০. উচ্চতর গ্রেড ও বিশেষ প্রণোদনায় পরিবর্তন
বর্তমানে একই গ্রেডে ১০ বছর চাকরি করলে পদোন্নতি না হলেও উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। নতুন কাঠামোয় এ সময় কমিয়ে ৮ বছর করার প্রস্তাব করা হয়েছে। দ্বিতীয়বার উচ্চতর গ্রেড পেতে একই গ্রেডে আরও ছয় বছর চাকরির শর্ত রাখা হচ্ছে।
পদোন্নতিযোগ্য পদে কর্মরতরা পদোন্নতি না পেলে চাকরিজীবনে সর্বোচ্চ দুইবার এ সুবিধা পাবেন। আর পদোন্নতির সুযোগ নেই এমন ‘ব্লকড পদে’ কর্মরতরা সর্বোচ্চ তিনবার উচ্চতর গ্রেড পাবেন।
এদিকে ২০২৪ সালে চালু হওয়া বিশেষ প্রণোদনাও নতুন পে-স্কেল কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বাতিল হবে। প্রথমে মূল বেতনের ৫ শতাংশ হারে চালু করা এ প্রণোদনা পরে ১০ শতাংশ করা হয়েছিল।
১১. সশস্ত্র বাহিনীর বেতন-ভাতাতেও বড় পরিবর্তন
জাতীয় বেতন কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সশস্ত্র বাহিনীর বেতন ও ভাতা পুনর্নির্ধারণ করা হচ্ছে। নন-কমব্যাট্যান্ট (এনরোল্ড) বা এনসি (ই) এবং সমতুল্য পদে প্রারম্ভিক মূল বেতন ২১ হাজার টাকা এবং মেজর জেনারেল ও সমপদে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে।
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ও সমপদকে গ্রেড-২ এবং কর্নেল ও সমপদকে গ্রেড-৩-এর সঙ্গে সামঞ্জস্য করার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
বিমানবাহিনীর ফ্লাইং পে বাড়ানোর পাশাপাশি কমান্ড, স্টাফ, টিচিং, কোয়ালিফিকেশন, ডিস্টার্বেন্স ও বিশেষজ্ঞ বেতন ১০ শতাংশ করে এবং দক্ষতা, নিযুক্তি, প্যারাসুট, কমান্ডো বা স্নাইপার, স্কুবা ডাইভিং ও সদাচরণ বেতন ১৫ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে। জরিপ ভাতা ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে।
সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের জন্য বিদ্যমান ৮১ ধরনের ভাতাও পর্যালোচনা করা হয়েছে। প্রতিরক্ষা ভাতা, কিট ভাতা, ডেঞ্জার মানি, দোভাষী ও শিক্ষকতা ভাতাসহ বিভিন্ন ভাতা বিদ্যমান হারের তুলনায় ১০ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে।
তবে বাড়িভাড়া, যাতায়াত, কার্যভার, আপ্যায়ন, টিফিন, ধোলাই, পাহাড়ি, উৎসব, শ্রান্তি-বিনোদন, নববর্ষ, শিক্ষা সহায়ক, চিকিৎসা এবং প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে প্রেষণ ভাতা নতুন জাতীয় বেতন স্কেলের অনুরূপ হবে।
২৪ লাখ চাকরিজীবী, সোয়া ৯ লাখ অবসরপ্রাপ্ত উপকৃত হওয়ার কথা
সরকারের হিসাবে নতুন বেতন কাঠামোয় প্রায় ২৪ লাখ সামরিক ও বেসামরিক কর্মচারী এবং সোয়া ৯ লাখ অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী ও অন্যান্য যোগ্য সুবিধাভোগী উপকৃত হবেন।
নতুন কাঠামোয় গ্রেড-২০-এর প্রারম্ভিক মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বেড়ে ২০ হাজার টাকা এবং গ্রেড-১-এর নির্ধারিত বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা হয়েছে। সর্বনিম্ন গ্রেডে মূল বেতন বৃদ্ধির হার ১৪২ শতাংশ এবং সর্বোচ্চ গ্রেডে ১০০ শতাংশ।
নতুন পে-স্কেল ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর ধরা হলেও মূল বেতন ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর এখন অর্থ বিভাগ থেকে প্রয়োজনীয় প্রজ্ঞাপন ও বাস্তবায়ন নির্দেশনা জারির অপেক্ষা রয়েছে।
ছবি : সংগৃহীত
ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন শুরুর সময় নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তবে আগামী বছরের ৬ জুনের মধ্যে ইউপি নির্বাচন শেষ করার বিষয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে সবাই সম্মত হয়েছেন। কমিশন সভায় আলোচনা শেষে নির্বাচনের সময়সূচি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হবে।
আজ বৃহস্পতিবার আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনের সম্মেলন কক্ষে আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক শেষে নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান।
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন এবং ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন সামনে রেখে এ বৈঠকের আয়োজন করা হয়।
আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে কমিশনের ঘোষিত কর্মপরিকল্পনা বিষয়ে বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে সংসদ নির্বাচনের মতোই আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হবে।
তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন আগামী ৬ জুনের মধ্যে শেষ করার বিষয়ে বৈঠকে সবাই সম্মত হয়েছেন। কমিশন যে প্রাথমিক সময়ের কথা জানিয়েছিল, সেটি সম্ভাব্য সময় ছিল।
নভেম্বর থেকে নির্বাচন শুরু হচ্ছে কি না, জানতে চাইলে এই নির্বাচন কমিশনার বলেন, বৈঠক থেকে পাওয়া তথ্য-উপাত্ত নিয়ে কমিশন সভায় আলোচনা করা হবে। এরপর নির্বাচনের সময় নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হবে।
বৈঠকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে অন্য চার নির্বাচন কমিশনার এবং ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়া মন্ত্রিপরিষদ সচিব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব, জনপ্রশাসন সচিব ও পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি)সহ সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন। বৈঠকে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, বাংলাদেশ ব্যাংক, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, অর্থ মন্ত্রণালয়, আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ, কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগ, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি), বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), কোস্টগার্ড, আনসার ও ভিডিপি, ডিজিএফআই, এনএসআই, এনটিএমসি, বাংলাদেশ ডাক বিভাগ, বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিনিধিদেরও বৈঠকে অংশ নেওয়ার জন্য বলা হয়।
ছবি : সংগৃহীত
সৌদি আরবে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক পবিত্র কোরআন প্রতিযোগিতায় পুরস্কার বিজয়ী বাংলাদেশের হাফেজদের সংবর্ধনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
তিনি বলেছেন, দেশের সন্তানরা মেধা ও যোগ্যতা দিয়ে যা কিছু ভালো অর্জন করবে, সরকার রাষ্ট্রের অবস্থান থেকে সেই অর্জনের স্বীকৃতি দেওয়ার চেষ্টা করবে।
আজ বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে ৪৬তম কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক পবিত্র কোরআন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হাফেজদের এই সংবর্ধনা দেওয়া হয়। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনারা যে পুরস্কারটা জিতে এসেছেন, এটা শুধু আপনাদেরই অর্জন না। আমি মনে করি, এটা বাংলাদেশের সব মুসলমানের অর্জন।
দীর্ঘদিন পর হাফেজদের উৎসাহিত ও সম্মান জানানোর বিষয়ে তিনি বলেন, এটা বর্তমান সরকারের একটি নীতি যে দেশের সন্তান যারা আছে, যারা দেশের ভবিষ্যৎ; তারা তাদের যোগ্যতা ও মেধা দিয়ে যা কিছু ভালো অর্জন করবে, সেটাকে সরকার রাষ্ট্রের অবস্থান থেকে স্বীকৃতি দেওয়ার চেষ্টা করবে।
মেধাবীদের উৎসাহিত ও সঠিক মূল্যায়নের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে সরকারপ্রধান বলেন, মেধাবীদের উৎসাহ ও সঠিক মূল্যায়ন করতে পারলে এর সুফল অবশ্যই ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এবং দেশ পাবে। এতে দেশ ও দেশের মানুষ উপকৃত হবে।
সরকার গঠনের পর থেকে মেধাবী ও যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের উৎসাহিত করার অংশ হিসেবেই এই হাফেজদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে পুরস্কার বিজয়ী মাদরাসার শিক্ষকরা তাদের কিছু সমস্যার কথা প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, আপনারা কিছু সমস্যার কথা বলেছেন। এটার সমাধানের কোনো পথ আমাদের কাছে আছে কি-না বা থাকলে সেটা কী, যদি সম্ভব হয়, ইনশাআল্লাহ আমরা সেটা দেখব। আমাদের পক্ষে যতটুকু সম্ভব, আমরা ইনশাআল্লাহ সেটা দেখার অবশ্যই চেষ্টা করব।
ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রেও সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভবিষ্যতে এসব প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের জন্য সরকারের যদি কোনো সহযোগিতা প্রয়োজন হয়, আপনারা নিয়মমতো আমাদের জানাবেন। আমরা সরকারের পক্ষ থেকে যতটুকু করা সম্ভব, সেই ব্যবস্থা করব। আমরা চাই আমাদের ছেলে-মেয়েরা এ রকম আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতাতে অংশগ্রহণ করুক এবং দেশের মানুষের জন্য সম্মান ও গৌরব নিয়ে আসুক।
দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠা ও পরিবর্তন আনার লক্ষ্যে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আমাদের হয়তো কাজের ধরনটা কিছুটা ভিন্ন হতে পারে। কিন্তু লক্ষ্য একই। সেটা হচ্ছে দেশের মধ্যে শান্তি স্থাপন করা, যাতে সবাই মিলে আমরা ভালো থাকতে পারি। মানুষ যাতে মানুষের মতো করে বেঁচে থাকতে পারে। আমরা সবাইকে নিয়ে একসঙ্গে চলতে চাই এবং দেশের জন্য ভালো কিছু পরিবর্তন আনতে চাই।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বিজয়ীদের বই উপহার দেন। এর আগে হাফেজরা প্রতিযোগিতায় যে সূরা তিলাওয়াত করে পুরস্কার জিতেছেন, সেই সূরার আয়াত তাদের কণ্ঠে শোনেন প্রধানমন্ত্রী।
উল্লেখ্য, সৌদি আরবে অনুষ্ঠিত প্রতিযোগিতায় বিশ্বের ১৩৩টি দেশের প্রতিযোগীদের মধ্যে বাংলাদেশের হাফেজ মোহাম্মদ জাকারিয়া ১৫ পারা হিফজ, তাজবিদ ও সুন্দর তিলাওয়াত বিভাগে প্রথম স্থান অর্জন করেন। হাফেজ শেখ মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান আশরাফী ৩০ পারা হিফজ, তাজবিদ ও সুন্দর তিলাওয়াত বিভাগে দ্বিতীয় হন। এ ছাড়া হাফেজা রাবেতা বিনতে রমজান ১৫ পারা এবং হাফেজা মুসফিরা বিনতে মাহমুদ ৩০ পারা হিফজ, তাজবিদ ও সুন্দর তিলাওয়াত বিভাগে তৃতীয় স্থান অর্জন করেন।
অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে ধর্মমন্ত্রী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ, প্রতিমন্ত্রী শামীম কায়সার, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া পুরস্কার বিজয়ী হাফেজদের শিক্ষক কাইয়ুম মোল্ল্যা, মুঈনুদ্দীন মজুমদার, আবু বকর, সাজেদা খাতুন এবং মাওলানা রফিকুল ইসলামও এ সময় উপস্থিত ছিলেন।