• প্রকাশ : সোমবার ০৪ মে, ২০২৬, সময় : ১:৫৮ এএম

জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনে প্রতিবছরই বিভিন্ন ধরনের সুযোগ-সুবিধা ও ক্ষমতা বাড়ানোর প্রস্তাব ওঠে। এবারও এর ব্যতিক্রম হয়নি। গতকাল রোববার সম্মেলনের প্রথম দিনে তাদের পক্ষ থেকে ফৌজদারি কার্যবিধির (সিআরপিসি) ১৯০ ধারার অধীনে বিচারিক ক্ষমতা ফিরে পাওয়ার দাবি জানিয়েছেন। এ ধারার অধীনে একজন ম্যাজিস্ট্রেট অপরাধ আমলে নিয়ে পরবর্তী কিছু পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষমতা রাখেন। 


তবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছেন। প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে তিনি ডিসিদের বলেছেন, এ বিষয়ে আদালতে মামলা চলমান। ফলে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে না। 


গতকাল রোববার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে চার দিনের জেলা প্রশাসক সম্মেলনের প্রথম দিন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে মুক্ত আলোচনায় ডিসি ও বিভাগীয় কমিশনারদের পক্ষ থেকে বিষয়টি তুলে ধরা হয়। বৈঠক সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।


এর আগে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়েও সংক্ষিপ্ত বিচারসহ ফৌজদারি কার্যবিধির অন্তত সাতটি ধারার ক্ষমতা ফিরে পাওয়ার জন্য একাধিকবার প্রস্তাব দিয়েছিলেন ডিসিরা। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও সেই প্রস্তাবে সায় দেননি। 


গতকাল ডিসি সম্মেলনে ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে বলেন, বিচার বিভাগ পৃথককরণের পর মাঠ পর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখাসহ ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে সমস্যা হচ্ছে। এ জন্য জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা বাড়াতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৯০(১)(এ)(বি)(সি) (ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক অপরাধ আমলে নেওয়ার ক্ষমতা) ধারায় ক্ষমতা দেওয়ার প্রয়োজন।


সম্মেলনে মুক্ত আলোচনায় একাধিক বিভাগীয় কমিশনার ও ডিসি বলেন, বিচার বিভাগ পৃথককরণের পর ডিসির বিচারিক ক্ষমতা কমলেও শান্তি-শৃঙ্খলা ও অপরাধ দমনে এখনও অনেক করণীয় আছে। অপরাধ দমন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় জেলা পুলিশকে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ রাখার নির্দেশ আছে। জেলার শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা ও অপরাধ দমনে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট দায়ী। গুলিবর্ষণের তাৎক্ষণিক রিপোর্ট জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে জানাতে হয়। জেলা ম্যাজিস্ট্রেট দ্রুত সরকারকে অবহিত করে থাকেন। গুলিবর্ষণ-পরবর্তী প্রশাসনিক তদন্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক পরিচালনার নির্দেশ রয়েছে। এ জন্য ১৯০ ধারার ক্ষমতার প্রয়োজন রয়েছে।


সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জেলা পুলিশ ম্যাজিস্ট্রেসি বৈঠক নিয়মিত করার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানানো হয়। ডিসিরা জানান, বিচার বিভাগ পৃথককরণের পর এই বৈঠক নিয়মিত হচ্ছে না। এখন রাজনীতিবিদদের সমন্বয়ে এ বৈঠক করা হবে বলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাদের জানিয়েছেন। 


সাবেক জেলা জজ ড. শাহজাহান সাজু বলেন, ডিসি-এসপিদের সমন্বয়ে পুলিশ ম্যাজিস্ট্রেসি বৈঠক প্রতি মাসে হওয়া উচিত। এতে বিচারপ্রার্থী জনগণ যেসব সমস্যার মুখোমুখি হয়, সেগুলো উঠে আসবে। সাধারণ মানুষ ন্যায়বিচার পাবে। জেলায় কর্মরত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, মহানগর দায়রা জজ ও চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের সভাপতিত্বে নিয়মিত পুলিশ ম্যাজিস্ট্রেসি কনফারেন্সও হওয়া প্রয়োজন। 


জানতে চাইলে জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞ ফিরোজ মিয়া বলেন, জেলা পুলিশ ম্যাজিস্ট্রেসি বৈঠক মামলা-মোকদ্দমার বিষয় নিয়ে করা হয়। এখানে রাজনীতিবিদদের অন্তর্ভুক্ত করলে তদন্তে প্রভাব পড়তে পারে। এ বৈঠকে বাইরের লোক যুক্ত না করা ভালো। 


ইটভাটার জন্য মাটি কাটা বন্ধের নির্দেশ


পরিবেশ রক্ষায় সরকার নতুন করে কোনো সনাতন বা মাটির ইটভাটার অনুমোদন না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সিমেন্টের ব্লক বা কংক্রিট ব্লকের ইটভাটাকে উৎসাহিত এবং পর্যায়ক্রমে বাধ্যতামূলক করার প্রক্রিয়া চলছে। 


গতকাল ডিসিদের সঙ্গে মুক্ত আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, যারা শুধু সিমেন্ট দিয়ে ইট বানাবে, তাদের ইটভাটার জন্য অনুমোদন দেবেন। ইটভাটার জন্য মাটি কাটা পুরোপুরি বন্ধ করতে হবে।


সম্মেলনে সিলেটের ডিসি সারওয়ার আলম এলএ পেমেন্ট (ল্যান্ড অ্যাকুইজিশন) বা ভূমি অধিগ্রহণ-সংক্রান্ত ক্ষতিপূরণের পেমেন্টকে পুরোপুরি অনলাইনে করার জন্য প্রস্তাব দেন। কারণ, সরকার যখন কোনো উন্নয়নমূলক কাজের জন্য জমি অধিগ্রহণ করে, তখন জমির মালিক সে অর্থ সহজে পান না। 


তিনি আরও বলেছেন, সিলেটের চা শ্রমিকদের জন্য পৃথক হাসপাতাল করা যেতে পারে। এতে চা শ্রমিকদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত হবে। প্রধানমন্ত্রী এ প্রস্তাব ইতিবাচকভাবে নিয়েছেন। একই সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে এ প্রস্তাব পাঠাতে বলেছেন। 


সমন্বিত নীতিমালার আওতায় আসছে কওমি মাদ্রাসা


শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, দেশের কওমি মাদ্রাসাগুলোর জন্য সমন্বিত নীতিমালা তৈরির কাজ চলছে। কওমি মাদ্রাসা শিক্ষাকে জাতীয় মূলধারার সঙ্গে সমন্বয় করার লক্ষ্যে কাজ করছে সরকার। এ জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিদের সঙ্গে একাধিক দফা বৈঠক হয়েছে এবং তাদের (ডিসি) কাছ থেকে ইতিবাচক প্রস্তাব পাওয়া গেছে।


অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে চূড়ান্ত নিয়োগের সুপারিশপ্রাপ্ত ১৪ হাজার ৩৮৪ জনের কেউ বাদ পড়বেন না বলে জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। 


তিনি বলেন, শিক্ষক নিয়োগটা তড়িঘড়ি করে করা হয়েছে। অনেক প্রশ্ন রয়েছে। তবুও আমরা কাউকে বাদ দিচ্ছি না। সবাই যোগদানের সুযোগ পাবেন। 


গতকাল রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ডিসি সম্মেলনের তৃতীয় অধিবেশন শেষে ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন তিনি। 


দেশে হাম এবং হামের উপসর্গ নিয়ে তিন শতাধিক শিশুর মৃত্যুর খবরের মধ্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল বলেছেন, লক্ষ্যমাত্রার ৮১ শতাংশ শিশু হামের টিকার আওতায় এসেছে। এখন এ ক্ষেত্রে কোনো ‘ঘাটতি’ বা ‘দুর্বলতা’ নেই। পর্যাপ্ত টিকা মজুত থাকার দাবি করে তিনি বলেন, হামের টিকা দেওয়া চলছে। টিকা না পাওয়ার সংখ্যা কমে আসছে। পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে এবং মৃত্যুহারও কমে আসছে। তবে অ্যান্টিবডি তৈরি হতে একটু সময় লাগে।


শিগগির সবাইকে টিকার আওতায় আনার কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, এখনও চলছে অভিযান। আর দুই-চার দিনের মধ্যে ১০০ শতাংশ লক্ষ্য কাভার করে ফেলব হামের টিকার ব্যাপারে। আমাদের কোনো রকম স্টক ঘাটতি নেই। কোনো রকম দুর্বলতা নেই। 


গতকালও হামে আক্রান্ত হয়ে এবং হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ১০ শিশুর মৃত্যুর তথ্য দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। 


শিগগির স্থায়ী প্রসিকিউশন সার্ভিস গঠন


আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, সরকারি কৌঁসুলি নিয়োগে শিগগিরই স্থায়ী প্রসিকিউশন সার্ভিস গঠন করা হবে। গতকাল ডিসি সম্মেলনে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয় বিষয়ে আলোচনা শেষে সাবেক এই অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘পার্মানেন্ট প্রসিকিউশন সার্ভিস আমাদের বিবেচনাধীন রয়েছে। আমরা এটা নিয়ে কাজ করছি। বর্তমান ব্যবস্থায় পাবলিক প্রসিকিউটর নিয়োগ হয় অনেকটা রাজনৈতিক বিবেচনায়। এ জন্য কোনো পরীক্ষা নেই; তাদের নির্দিষ্ট মেয়াদও নেই।’


স্থায়ী প্রসিকিউশন সার্ভিস গঠন করা হলে বিচারিক আদালতে পাবলিক প্রসিকিউটরদের নিয়োগ হবে স্থায়ী। যোগ্যতা যাচাইয়ের জন্য পরীক্ষার ব্যবস্থা থাকবে। নির্ধারিত বেতন-ভাতাসহ সরকারি কর্মকর্তাদের মতো অন্য সুবিধা পাবেন তারা। 


বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ২০১৬ সালে ডিসি সম্মেলনে আইন মন্ত্রণালয় বিষয়ে আলোচনার পর তখনকার আইনমন্ত্রী আনিসুল হক স্বাধীন ‘প্রসিকিউশন সার্ভিস’ গঠন বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা বলেছিলেন।



সর্বশেষ সব খবর

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

  • প্রকাশ : শনিবার ২৫ জুলাই, ২০২৬, সময় : ২:৪২ পিএম

সব বাধা অতিক্রম করে দেশকে এগিয়ে নিতে চায় সরকার বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার (২৫ জুলাই) সকালে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে নভো থিয়েটারে দুই দিনব্যাপী ন্যাশনাল সেমিকন্ডাক্টর সিম্পোজিয়াম অ্যান্ড বিইএআর সামিটের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। এ সময় তিনি স্বনির্ভর ও প্রযুক্তিনির্ভর বাংলাদেশ গড়ারও আশাবাদ ব্যক্ত করেন। 


প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে ইতোমধ্যেই সেমিকন্ডাক্টর ডিজাইন ভেরিফিকেশন ট্রেনিং এমবেডেড সিস্টেম পাওয়ার ইলেকট্রনিক্স এবং অ্যাডভান্স প্যাকেজিং— এসব ক্ষেত্রে কাজ শুরু হয়েছে। দেশের বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক বাজারেও প্রবেশ করেছেন। সেমিকন্ডাক্টর খাতকে একটি জাতীয় অগ্রাধিকারভিত্তিক খাত হিসেবে আমরা বিবেচনা করছি। এই খাতের উন্নয়নে খুব সম্ভবত একক কোনো মন্ত্রণালয় বা প্রতিষ্ঠানের কাজ নয়, এটা একটা সম্মিলিত জাতীয় মিশন।  


তিনি আরও বলেন, আমরা চেষ্টা করেছি এই সেক্টরকে কীভাবে সামনে এগিয়ে নেয়া যায়, তার জন্য আমরা কতগুলো পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি; বিশেষ করে এই বাজেটে সেমিকন্ডাক্ট শিল্প তৈরির সব কাঁচামালের ওপরে সব ধরনের ট্যাক্স বা শুল্ক প্রত্যাহার করা হয়েছে। সেমিকন্ডাক্টর ডিজাইন সার্ভিসের রপ্তানি আয়ের ওপরে নগদ ইনসেন্টিভ বা প্রণোদনা চালুর উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে নতুন উদ্যোক্তা উদ্ভাবন বাস্তবায়নের জন্য সরকার প্রথমবারের মতো বছরে ৫০০ কোটি টাকার স্টার্টআপ অনুদানও রেখেছে।  


প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার ইতোমধ্যে সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের জন্য ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে সর্বাত্মক পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কাজ শুরু করেছে। বিনিয়োগবান্ধব নীতি কর সুবিধা, বন্ডের সুবিধা প্রদান এবং বিশেষায়িত অবকাঠামো নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিনিয়ত চেষ্টা করছে।


বাংলাদেশ সেমিকন্ডাক্টর ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশন (বিএসআইএ) এবং সিলিকন রিভার বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ সামিটে নীতিনির্ধারক, শিল্পপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, গবেষক, উদ্যোক্তা, বিনিয়োগকারী ও প্রবাসী বাংলাদেশি বিশেষজ্ঞরা অংশ নেবেন। দুদিনে ১১টি প্লেনারি সেশন, সাতটি কৌশলগত প্যানেল আলোচনা এবং প্রযুক্তি প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হবে।


সামিটে টেক্সাস ইনস্ট্রুমেন্টসের চিফ টেকনোলজি অফিসার ড. আহমেদ বাহাই, পারডু বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক দিমিত্রিওস পেরুলিসসহ আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা বক্তব্য দেবেন। এ ছাড়া গ্লোবালফাউন্ড্রিজ, এনএক্সপি, অ্যাপলাইড ম্যাটেরিয়ালস, স্যান্ডিস্ক, ক্রেডো এবং ভিয়েতনাম সেমিকন্ডাক্টর অ্যালায়েন্সের প্রতিনিধিরাও অংশ নেবেন।


সামিটের পাশাপাশি ‘বিইএআর ইনোভেশন এক্সপো ২০২৬’ অনুষ্ঠিত হবে। এতে শিক্ষার্থী ও স্টার্ট-আপ উদ্যোক্তাদের উদ্ভাবিত সেমিকন্ডাক্টর, এআই, রোবোটিক্স, স্বাস্থ্যপ্রযুক্তি ও অন্যান্য ডিপ-টেক খাতের উদ্ভাবন ৩৫টি স্টলে প্রদর্শন করা হবে।


সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শনিবার ২৫ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১১:৫৯ এএম

বাংলাদেশের সেমিকন্ডাক্টর, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), বায়োটেকনোলজি ও রোবোটিক্স খাতের সক্ষমতা, মানবসম্পদ উন্নয়ন, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার সুযোগ তুলে ধরতে রাজধানীতে আজ থেকে শুরু হয়েছে ‘ন্যাশনাল সেমিকন্ডাক্টর সিম্পোজিয়াম অ্যান্ড বিইএআর সামিট-২০২৬’। এরইমধ্যে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।


শনিবার (২৫ জুলাই) সকালে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে নভো থিয়েটারে দু’দিনব্যাপী এ সামিট শুরু হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি এ তথ্য জানিয়েছেন।


জানা যায়, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ সেমিকন্ডাক্টর ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশন (বিএসআইএ) এবং সিলিকন রিভার বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ সামিটে নীতিনির্ধারক, শিল্পপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, গবেষক, উদ্যোক্তা, বিনিয়োগকারী ও প্রবাসী বাংলাদেশি বিশেষজ্ঞরা অংশ নেবেন। দুদিনে ১১টি প্লেনারি সেশন, সাতটি কৌশলগত প্যানেল আলোচনা এবং প্রযুক্তি প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হবে।


সামিটে টেক্সাস ইনস্ট্রুমেন্টসের চিফ টেকনোলজি অফিসার ড. আহমেদ বাহাই, পারডু বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক দিমিত্রিওস পেরুলিসসহ আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা বক্তব্য দেবেন। এছাড়া গ্লোবালফাউন্ড্রিজ, এনএক্সপি, অ্যাপলাইড ম্যাটেরিয়ালস, স্যান্ডিস্ক, ক্রেডো এবং ভিয়েতনাম সেমিকন্ডাক্টর অ্যালায়েন্সের প্রতিনিধিরাও অংশ নেবেন।


সামিটের পাশাপাশি ‘বিইএআর ইনোভেশন এক্সপো ২০২৬’ অনুষ্ঠিত হবে। এতে শিক্ষার্থী ও স্টার্টআপ উদ্যোক্তাদের উদ্ভাবিত সেমিকন্ডাক্টর, এআই, রোবোটিক্স, স্বাস্থ্যপ্রযুক্তি ও অন্যান্য ডিপ-টেক খাতের উদ্ভাবন ৩৫টি স্টলে প্রদর্শন করা হবে।

সর্বশেষ সব খবর

সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন

  • প্রকাশ : শনিবার ২৫ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১১:০৭ এএম

রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন মো. সাহাবুদ্দিন। জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের কাছে শুক্রবার পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন তিনি। ২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যায়। সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি হিসেবে মো. সাহাবুদ্দিন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং উপদেষ্টাদের শপথবাক্য পাঠ করান। 


এই ঘটনা ছিল বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক মুহূর্ত। রাষ্ট্রপতির ভূমিকা তখন কেন্দ্রীয় হয়ে ওঠে। যদিও শপথ অনুষ্ঠান নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়। এরপরই শুরু হয় আরও বড় বিতর্ক।


২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর রাষ্ট্র পরিচালনার সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় বারবার আলোচনায় আসে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের নাম। ওই দিন রাতে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি বলেছিলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর কাছে পদত্যাগপত্র দিয়েছেন এবং তিনি তা গ্রহণ করেছেন। জরুরি ভিত্তিতে অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের সিদ্ধান্তের কথাও জানান তিনি। পরদিন ৬ আগস্ট রাষ্ট্রপতির আদেশে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ ভেঙে দেওয়া হয়। এরপর সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের বিষয়ে আপিল বিভাগের মতামত চান তিনি। আদালতের মতামতের ভিত্তিতে ৮ আগস্ট অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ও অন্য উপদেষ্টাদের শপথ পড়ান মো. সাহাবুদ্দিন।


আওয়ামী লীগের আমলে রাষ্ট্রপতি পদে আসীন হওয়া মো. সাহাবুদ্দিনকে অপসারণের দাবিতে বিক্ষোভও হয়েছে বিভিন্ন সময়ে। যদিও অন্তর্বর্তী সরকারের সময় মো. সাহাবুদ্দিনকে অপসারণের বিষয়ে রাজনৈতিক ঐকমত্য হয়নি। বিশেষ করে বিএনপি তখন রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ চায়নি। ফলে নির্বাচন আয়োজন পর্যন্ত রাষ্ট্রপতির পদে থেকে যান মো. সাহাবুদ্দিন।


নির্বাচন–পরবর্তী পরিস্থিতি

গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। ১৭ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং তাঁর মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ পড়ান। এর মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রপতি ও সরকারের রাজনৈতিক পটভূমিতে বড় ধরনের ভিন্নতা তৈরি হয়। মো. সাহাবুদ্দিন আওয়ামী লীগের মনোনীত রাষ্ট্রপতি; অন্যদিকে নতুন সরকার বিএনপির নেতৃত্বাধীন। তারপরও ক্ষমতায় এসে বিএনপি সরকার তাঁকে তাৎক্ষণিকভাবে সরানোর পথে যায়নি। তবে নির্বাচনের পর থেকেই তাঁর ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা চলছিল।


রাষ্ট্রপতির পদত্যাগে স্পিকারের দায়িত্ব গ্রহণের সর্বশেষ নজির তৈরি হয়েছিল ২০০২ সালে। ক্ষমতাসীন বিএনপির সঙ্গে বিরোধের জেরে ওই বছরের ২১ জুন রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেছিলেন এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী। তখনকার স্পিকার জমির উদ্দিন সরকার ২১ জুন থেকে ৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। 


সাক্ষাৎকার ঘিরে বিতর্ক

২০২৪ সালের অক্টোবরে জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক মতিউর রহমান চৌধুরীকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রপতি বলেন, তাঁর কাছে শেখ হাসিনার পদত্যাগপত্র নেই এবং তিনি শুনেছেন, শেখ হাসিনা পদত্যাগপত্র দেওয়ার সময় পাননি। এই বক্তব্য প্রকাশের পর দেশজুড়ে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়। কারণ, ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের পর সেনাপ্রধান বলেছিলেন, শেখ হাসিনা পদত্যাগ করেছেন। রাষ্ট্রপতির সাক্ষাৎকারে সেই বিবরণ নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয় তখন। 


সাক্ষাৎকার প্রকাশের পর অভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া ছাত্রনেতারা এবং রাজনৈতিক গোষ্ঠী রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ দাবি করে। বঙ্গভবনের সামনে বিক্ষোভ হয়। একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীরা বঙ্গভবন ঘেরাও কর্মসূচিও পালন করেন। নিরাপত্তা জোরদার করা হয় এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হয়। 


রাষ্ট্রপতির বক্তব্যের পর প্রশ্ন ওঠে, তাঁকে সরানো সম্ভব কিনা। সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতিকে অপসারণের জন্য সংসদে অভিশংসন প্রক্রিয়া প্রয়োজন। ফলে সে সময় অনেক সংবিধান বিশেষজ্ঞ বলেন, রাজনৈতিক দাবি থাকলেও সাংবিধানিকভাবে রাষ্ট্রপতিকে সরানো সহজ নয়। ফলে রাজনৈতিক বিতর্ক চললেও তিনি দায়িত্বে বহাল থাকেন।


নতুন সংসদেও রাষ্ট্রপতিকে নিয়ে বিতর্ক

চলতি বছর জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি সরকার গঠনের পর রাষ্ট্রপতির সংসদে ভাষণ নিয়েও বিতর্ক দেখা দেয়। সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনার সময় বিরোধী দল রাষ্ট্রপতির অতীত ভূমিকা, বিশেষ করে শেখ হাসিনার পদত্যাগ প্রসঙ্গ তুলে সমালোচনা করে। এক পর্যায়ে বিরোধী সদস্যরা ওয়াকআউট করেন। ফলে সরকার পরিবর্তনের পরও রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিনকে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক শেষ হয়নি; বরং নতুন সংসদেও তা ফিরে আসে।


সব সময় বিতর্কের কেন্দ্রে ছিলেন মো. সাহাবুদ্দিন

বাংলাদেশের অধিকাংশ রাষ্ট্রপতি তাদের সাংবিধানিক সীমার মধ্যেই থেকেছেন এবং খুব কমই সরাসরি রাজনৈতিক বিতর্কে জড়িয়েছেন। মো. সাহাবুদ্দিনের ক্ষেত্রে চিত্রটি ছিল ভিন্ন। দায়িত্ব নেওয়ার আগে তাঁর রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠতার প্রতীক হিসেবে ব্যাখ্যা করা কিছু ঘটনা, সামাজিক মাধ্যমে পুরোনো কার্যকলাপ, ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সময় তাঁর সাংবিধানিক ভূমিকা এবং পরে দেওয়া সাক্ষাৎকার– সব মিলিয়ে তিনি এমন এক রাষ্ট্রপতিতে পরিণত হন, যাঁকে ঘিরে বিতর্ক কখনও পুরোপুরি থামেনি।


৭৬ বছর বয়সী মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পাঁচ বছরের জন্য রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। যদিও রাষ্ট্রপতির পদটি সাংবিধানিকভাবে মূলত আনুষ্ঠানিক, ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর তাঁর ভূমিকা বিশেষ গুরুত্ব পায়।


বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, মো. সাহাবুদ্দিন মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে তাঁর পদত্যাগের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন। তবে এ বিষয়ে রাষ্ট্রপতির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

সর্বশেষ সব খবর

রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের পর ব্রিফিংয়ে জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান

  • প্রকাশ : শনিবার ২৫ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১০:১১ এএম

রাষ্ট্রপতির পদ থেকে মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ বিষয়ে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক দল। মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রায় পৌনে দুই বছর আগেই রাষ্ট্রপতির পদ ছাড়েন মো. সাহাবুদ্দিন। অসুস্থতাকে পদত্যাগের কারণ হিসেবে দেখালেও তাঁর এই বিদায় ঘটল জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর শুরু হওয়া দীর্ঘ বিতর্কের পটভূমিতে। শুক্রবার বিকেলে জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের কাছে স্বাক্ষরযুক্ত পদত্যাগপত্র পাঠান মো. সাহাবুদ্দিন। পদত্যাগপত্র হাতে পাওয়ার পর সংসদ ভবনের শপথকক্ষে সংবাদ সম্মেলন করে বিষয়টি জানান স্পিকার। একই সঙ্গে সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণের কথাও ঘোষণা করেন স্পিকার।


তাঁর পদত্যাগে বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি তাঁর দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করেছেন। দেরিতে হলেও জাতির ঘাড় থেকে স্বৈরাচারের একটা কালো ছায়া সরে গেল। সন্ধ্যায় রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে এক জরুরি ব্রিফিংয়ে শফিকুর রহমান এ কথা বলেন।


এদিকে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে ইস্তফা দেওয়া মো. সাহাবুদ্দিনকে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। গতকাল সন্ধ্যায় রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি জানায় দলটি।


এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন বলেন, চব্বিশের গণ–অভ্যুত্থানে শহীদদের আত্মত্যাগের পূর্ণাঙ্গ বিচার নিশ্চিত করতে এবং স্বৈরাচারী ব্যবস্থার পুনরুত্থান রোধে সাহাবুদ্দিনকে অবিলম্বে গ্রেপ্তার করতে হবে। বিএনপি যদি জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ করে, তাহলে দ্রুত সাবেক রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেবে।


পৃথক বিবৃতিতে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগকে স্বাগত জানিয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টি ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব গাজী আতাউর রহমান বলেছেন, ফ্যাসিবাদের পতনের পরই তাঁর পদত্যাগ প্রত্যাশিত ছিল। তবে নানা রাজনৈতিক বাস্তবতায় তিনি এত দিন বঙ্গভবনে বহাল ছিলেন। 


অন্যদিক মো. সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টি ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস। দুই দলই বলেছে, শুধু পদত্যাগ নয়, তাঁর বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের বিচারও নিশ্চিত করতে হবে।

সর্বশেষ সব খবর

সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন

  • প্রকাশ : শনিবার ২৫ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৯:৩৮ এএম

সদ্য বিদায়ী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন আজ শনিবার বা আগামীকাল রোববার সপরিবারে বঙ্গভবন ছাড়ছেন। তিনি রাষ্ট্রপতির সরকারি বঙ্গভবন ছেড়ে রাজধানীর গুলশানে নিজ বাড়িতে উঠবেন। 


এদিকে সদ্য সাবেক রাষ্ট্রপতির আজ শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টায় বঙ্গভবনের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সঙ্গে দরবারে অংশগ্রহণ করার কথা থাকলেও এই কর্মসূচি বাতিল করা হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে ঘরোয়াভাবে বিদায় অনুষ্ঠান হতে পারে। পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে গতকাল শুক্রবার বিকেলে পদত্যাগ করেন মো. সাহাবুদ্দিন। 


পারিবারিক সূত্র নিশ্চিত করে বলেছে, বিদায়ী রাষ্ট্রপতির বঙ্গভবন ছাড়ার সব ধরনের প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। শুক্রবার রাত ৯টা ২০ মিনিটে গুলশানের ১২৩ নম্বর রোডের ‘গ্রিন ভিলা’ নামে ওই বাসার সামনে গিয়ে দেখা যায়, পাঁচতলা ভবনটির গেটের সামনে সাদা পোশাকের কয়েকজন পুলিশ সদস্য কথা বলছেন। বাসার সামনে দুটি গাড়ি রাখা। তবে কয়েক মিনিটের মধ্যেই তারা সেখান থেকে চলে যান। বাইরে অন্য কোনো ব্যস্ততা চোখে পড়েনি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোনো সদস্যকে দেখা যায়নি

সর্বশেষ সব খবর

বঙ্গভবন

  • প্রকাশ : শনিবার ২৫ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৯:২৯ এএম

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর পরবর্তী রাষ্ট্রপতি কে হচ্ছেন এই নিয়ে নানা আলোচনা চলছে। সরকার ও বিএনপির উচ্চ পর্যায় একজন নির্ভরযোগ্য ব্যক্তিকে এ পদে বেছে নিতে চান। সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার পাঁচ মাসের মাথায় রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে মনোনয়ন নিয়ে গতকাল শুক্রবার পর্যন্ত বিএনপির তরফ থেকে সিদ্ধান্তমূলক কোনো বার্তা পাওনা যায়নি। তবে রাষ্ট্রপতি হওয়ার দৌড়ে বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতার নাম আসছে। সাবেক একজন প্রধান বিচারপতির নামও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা একজন আমলার নাম শুরু থেকে আলোচনায় আছে। 


বিশ্লেষকদের মতে, বিদ্যমান ব্যবস্থা অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করলে কে তাঁর উত্তরসূরি হবেন– সেটা মূলত প্রধানমন্ত্রীর ওপর নির্ভর করে। শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করায় সংবিধান অনুযায়ী স্পিকার সাময়িকভাবে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। পরে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জাতীয় সংসদের সদস্যদের ভোটে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন। আগামী সেপ্টেম্বরে বসবে সংসদের পরবর্তী অধিবেশন। 


বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, নতুন রাষ্ট্রপতি পদে আলোচনায় বিএনপির চার জ্যেষ্ঠ নেতা আছেন। তারা হলেন– দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ড. আব্দুল মঈন খান ও নজরুল ইসলাম খান। তবে এবার যিনি রাষ্ট্রপতি হবেন তিনি পরবর্তী জাতীয় নির্বাচনের সময় দায়িত্বে থাকবেন। তাই সরকারি দলের কাছে এটি খুব গুরুত্বপূর্ণ।


এক দশকের বেশি সময় ধরে বিএনপির মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি সংসদ সদস্য, প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন। এখন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। দল ও দলের বাইরের অনেকে মনে করেন, এখন পর্যন্ত তিনিই এ পদের জন্য সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত। তবে তিনি নিজে এ পদে যেতে চান কিনা তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।


খন্দকার মোশাররফ হোসেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ছিলেন। ১৯৭৯ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আহ্বানে সাড়া দিয়ে বিএনপিতে যোগদান করেন তিনি। দলটির প্রথম ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। তিনি শারীরিকভাবে বেশ অসুস্থ। বিভিন্ন সময় দেশে-বিদেশে চিকিৎসা নিয়েছেন তিনি। 


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞানের অধ্যাপক ছিলেন ড. আব্দুল মঈন খান। বিএনপির রাজনীতিতে তিনিও অন্যতম জ্যেষ্ঠ নেতা। বয়োজ্যেষ্ঠ এই নেতা সজ্জন হিসেবে দল ও দলের বাইরে পরিচিত। তিনিও বার্ধক্যজনিত নানা অসুস্থতায় ভুগছেন।


বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানের নামও আলোচনায় আছে। পরিচ্ছন্ন রাজনীতিবিদ হিসেবে খ্যাতি আছে তাঁর। বাকি তিনজন সংসদ সদস্য হলেও তিনি তা নন।


দলের এই চার জ্যেষ্ঠ নেতার বাইরে একজন আমলার নাম শুরুতে আলোচনায় এসেছে। এর বাইরে অবসরে যাওয়া একজন প্রধান বিচারপতির নাম আলোচনায় যুক্ত হয়েছে। 


জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী বলেন, ‘রাজনীতিবিদরা দলের জন্য স্যাক্রিফাইস (ত্যাগ) করেন, তারা রাজনীতি বোঝেন। সুতরাং সেখান থেকেই আসা উচিত।’ 


দিলারা চৌধুরীর মতে, এটা মূলত নির্ভর করবে বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ওপর। তিনি কাকে পছন্দ করেন, সেটা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, সংসদে বিএনপি সংখ্যাগরিষ্ঠ। তবে রাষ্ট্রপতি যিনিই হোন, তাতে বিদ্যমান রাষ্ট্রকাঠামোয় তেমন কোনো পরিবর্তন আসবে না।

সর্বশেষ সব খবর