মৌসুমী-ফল আম
জাতভিত্তিক আম সংগ্রহের তারিখ নির্ধারণ করেছে সরকার। সে অনুযায়ী সাতক্ষীরায় গোপালভোগ, গোবিন্দভোগ, গোলাপখাসসহ স্থানীয় জাতের আম পাড়া শুরু হয়েছে ৫ মে থেকে। এবার সর্বশেষ জাত হিসেবে গৌরমতি ১৪ আগস্ট সংগ্রহ শুরু হবে। এর মধ্যে সংগ্রহ করা যাবে অন্যান্য আম।
অর্থাৎ মে মাস আম সংগ্রহ শুরু হলেও জাত এবং জেলাভিত্তিক আম পরিপক্কতার সময় ভিন্নতার কারণে আম অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত সংগ্রহ করা যাবে। এর আগে সারা দেশের আম সংগ্রহের তারিখ ম্যাংগো ক্যালেন্ডার (সময়সূচি) করেছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।
গত রোববার খামারবাড়িতে রপ্তানিযোগ্য আম উৎপাদন প্রকল্পের উদ্যোগে আম সংগ্রহের ক্যালেন্ডার তৈরি সংক্রান্ত সভা হয়। সভায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সভাপতিত্ব করেন।
সভায় আম বিজ্ঞানী, কৃষিবিদ, রপ্তানিকারক, আম উৎপাদনকারী বিভিন্ন জেলার কৃষি বিভাগের উপপরিচালকেরা উপস্থিত ছিলেন। এরপর ম্যাংগো ক্যালেন্ডার চূড়ান্ত করা হয়।
সভায় জানানো হয়, বাংলাদেশের আম বিশ্বের ৩৭টি দেশে রপ্তানি হয়। রপ্তানিকৃত দেশের সঙ্গে আমাদের কৃষিজ পণ্য বাণিজ্যের পাশাপাশি উভয় রাষ্ট্রের মধ্যকার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক জড়িত। এ কারণে রপ্তানির ক্ষেত্রে আম সঠিক সময় সংগ্রহ এবং বাজারজাতকরণ অতি গুরুত্বপূর্ণ। সভায় জাতওয়ারি জেলাভিত্তিক আম সংগ্রহের সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণ করা হয়।
বক্তারা জানান, মানসম্মত আম রপ্তানি এবং বাজার ব্যবস্থায় স্থায়িত্ব ধরে রাখার জন্য ঠিক পরিপক্ক ধাপে আম সংগ্রহ করা প্রয়োজন। পাকা আম পরিপূর্ণ পুষ্টতায় না পৌঁছানো পর্যন্ত গাছ থেকে পাড়া উচিত নয়। কারণ অপুষ্ট আম ঠিকমতো পাকে না এবং স্বাদে টক বা অল্প মিষ্টি হয়। জলবায়ু ও ভৌগোলিক কারণে আম পরিপক্কতার সময়ে ভিন্নতা পরিলক্ষিত হয়। এজন্য মানসম্মত আম রপ্তানির লক্ষ্যে জেলাওয়ারি জাতভিত্তিক আম সংগ্রহের সময় নির্ধারণ করা প্রয়োজন।
সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ড. শরফ উদ্দিন। বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে আম রপ্তানি ও বিপণন ব্যবস্থা বিষয়ে আলোচনা করেন মোহাম্মদ আরিফুর রহমান।
রপ্তানিযোগ্য আমের জাত ও সংগ্রহের সময়
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর রপ্তানিযোগ্য আমের জাত অনুযায়ী আম সংগ্রহের সময়সূচি তৈরি করেছে। পাশাপাশি স্থানীয় আবহাওয়া ও জলবায়ুর ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসনও আমের সময়সূচি তৈরি করে থাকে। অপরিপক্ব আম সংগ্রহ ও বাজারজাত ঠেকাতে এরই মধ্যে আম সংগ্রহের সময়সূচি ঘোষণা করেছে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসন।
নির্ধারিত সময়ের আগে কোনো জাতের আম পাড়া বা বিক্রি করা যাবে না বলেও কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সাতক্ষীরা: জেলা প্রশাসনের সময়সূচি অনুযায়ী গত ৫ মে থেকে গোপালভোগ, গোবিন্দভোগ, গোলাপখাস, বৈশাখী ও বোম্বাইসহ স্থানীয় বিভিন্ন জাতের আম পাড়া শুরু হয়েছে। ১৫ মে থেকে হিমসাগর, ২৭ মে থেকে ল্যাংড়া এবং ৫ জুন থেকে আম্রপালি আম সংগ্রহের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।
তবে রপ্তানিযোগ্য আম পাড়া শুরু হবে জেলা প্রশাসনের নির্ধারিত তারিখ থেকে আরও পাঁচ থেকে সাতদিন পরে। এর মধ্যে গোপালভোগ, গোবিন্দভোগ আম সংগ্রহ শুরু হবে ১২ মে থেকে। হিমসাগর, খিরসাপাত ২২ মে, ল্যাংড়া ১০ জুন ও বারি আম-৩ (আম্রপালি) ১৫ জুন থেকে সংগ্রহ শুরু হবে।
চুয়াডাঙ্গা: চুয়াডাঙ্গা জেলায় রপ্তানিযোগ্য আম পাড়া শুরু হবে ১৫ মে থেকে। এর মধ্যে গোপালভোগ, গোবিন্দভোগ ১৫ মে, হিমসাগর, খিরসাপাত ২৭ মে, ল্যাংড়া ১০ জুন, বারি আম-৩ (আম্রপালি) ২০ জুন ও বারি আম-৪ জাত ২২ জুন থেকে সংগ্রহ শুরু হবে।
যশোর: যশোর জেলায়ও রপ্তানিযোগ্য আম পাড়া শুরু হবে ১৫ মে থেকে। এর মধ্যে গোপালভোগ, গোবিন্দভোগ ১৫ মে, হিমসাগর, খিরসাপাত ২৮ মে, ল্যাংড়া ১০ জুন, বারি আম-৩ (আম্রপালি) ২১ জুন ও বারি আম-৪ জাত ২৩ জুন থেকে সংগ্রহ শুরু হবে।
মেহেরপুর: মেহেরপুর জেলায় রপ্তানিযোগ্য আম পাড়া শুরু হবে ১৬ মে থেকে। এর মধ্যে গোপালভোগ, গোবিন্দভোগ ১৬ মে, হিমসাগর, খিরসাপাত ২৮ মে, ল্যাংড়া ১১ জুন, বারি আম-৩ (আম্রপালি) ২২ জুন, ফজলি ২৩ জুন ও বারি আম-৪ জাত ২৪ জুন থেকে সংগ্রহ শুরু হবে।
কুষ্টিয়া: কুষ্টিয়া জেলায় রপ্তানিযোগ্য আম পাড়া শুরু হবে ২০ মে থেকে। এর মধ্যে গোপালভোগ, গোবিন্দভোগ ২০ মে, হিমসাগর, খিরসাপাত ২৯ মে, ল্যাংড়া ১১ জুন, বারি আম-৩ (আম্রপালি) ২২ জুন, ফজলি ২৪ জুন ও বারি আম-৪ জাত ২৬ জুন থেকে সংগ্রহ শুরু হবে।
নাটোর: নাটোর জেলায় রপ্তানিযোগ্য আম পাড়া শুরু হবে ২৫ মে থেকে। এর মধ্যে গোপালভোগ, গোবিন্দভোগ ২৫ মে, হিমসাগর, খিরসাপাত ৩০ মে, ল্যাংড়া ১২ জুন, বারি আম-২ লক্ষণভোগ ও ব্যানানা ম্যাঙ্গো ১৬ জুন, বারি আম-৩ (আম্রপালি) ২৫ জুন, ফজলি ২৬ জুন ও বারি আম-৪ জাত ৫ জুলাই থেকে সংগ্রহ শুরু হবে।
রাজশাহী: রাজশাহী জেলায় রপ্তানিযোগ্য আম পাড়া শুরু হবে ২৫ মে থেকে। এর মধ্যে গোপালভোগ, গোবিন্দভোগ ২৫ মে, হিমসাগর, খিরসাপাত ৩০ মে, ল্যাংড়া ১২ জুন, বারি আম-২ লক্ষণভোগ ১৬ জুন, ব্যানানা ম্যাঙ্গো ১৮ জুন, বারি আম-৩ (আম্রপালি) ২৫ জুন, ফজলি ২৬ জুন, বারি আম-৪ জাত ৫ জুলাই ও বারি আম-১২ গৌরমতি ৩১ জুলাই থেকে সংগ্রহ শুরু হবে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ: চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় রপ্তানিযোগ্য আম পাড়া শুরু হবে ২৬ মে থেকে। এর মধ্যে গোপালভোগ, গোবিন্দভোগ ২৬ মে, হিমসাগর, খিরসাপাত ৪ জুন, ল্যাংড়া ১৪ জুন, বারি আম-২ লক্ষণভোগ ১৮ জুন, হাড়িভাঙ্গা ২০ জুন, ব্যানানা ম্যাঙ্গো ২২ জুন, বারি আম-৩ (আম্রপালি) ২৭ জুন, ফজলি ৩০ জুন, বারি আম-৪ জাত ৬ জুলাই ও বারি আম-১২ গৌরমতি ৪ আগস্ট থেকে সংগ্রহ শুরু হবে।
নওগাঁ: নওগাঁ জেলায় রপ্তানিযোগ্য আম পাড়া শুরু হবে ১ জুন থেকে। এর মধ্যে গোপালভোগ, গোবিন্দভোগ ১ জুন, হিমসাগর, খিরসাপাত ৮ জুন, ল্যাংড়া ১৭ জুন, হাড়িভাঙ্গা ২২ জুন, ব্যানানা ম্যাঙ্গো ২৩ জুন, বারি আম-৩ (আম্রপালি) ২৮ জুন, ফজলি ৩০ জুন, বারি আম-৪ জাত ৮ জুলাই ও বারি আম-১২ গৌরমতি ৮ আগস্ট থেকে সংগ্রহ শুরু হবে।
রংপুর: রংপুর জেলায় রপ্তানিযোগ্য আম পাড়া শুরু হবে ৩০ মে থেকে। এর মধ্যে গোপালভোগ, গোবিন্দভোগ ৩০ মে, ল্যাংড়া ১৮ জুন, হাড়িভাঙ্গা ২৩ জুন, ব্যানানা ম্যাঙ্গো ২৩ জুন, বারি আম-৩ (আম্রপালি) ৩০ জুন, বারি আম-৪ জাত ১৫ জুলাই ও বারি আম-১২ গৌরমতি ১১ আগস্ট থেকে সংগ্রহ শুরু হবে।
দিনাজপুর: দিনাজপুর জেলায় রপ্তানিযোগ্য আম পাড়া শুরু হবে ২ জুন থেকে। এর মধ্যে গোপালভোগ, গোবিন্দভোগ ২ জুন, হিমসাগর, খিরসাপাত ১৮ জুন, ল্যাংড়া ২০ জুন, হাড়িভাঙ্গা ২৪ জুন, ব্যানানা ম্যাঙ্গো ২৮ জুন, বারি আম-৩ (আম্রপালি) ১ জুলাই, বারি আম-৪ জাত ২০ জুলাই ও বারি আম-১২ গৌরমতি ১২ আগস্ট থেকে সংগ্রহ শুরু হবে।
ঠাকুরগাঁও: ঠাকুরগাঁও জেলায় রপ্তানিযোগ্য আম পাড়া শুরু হবে ৩ জুন থেকে। এর মধ্যে গোপালভোগ, গোবিন্দভোগ ৩ জুন, হাড়িভাঙ্গা ২৬ জুন, ব্যানানা ম্যাঙ্গো ৩০ জুন, বারি আম-৩ (আম্রপালি) ৪ জুলাই, বারি আম-৪ জাত ২০ জুলাই ও বারি আম-১২ গৌরমতি ১৪ আগস্ট থেকে সংগ্রহ শুরু হবে।
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে আজ বঙ্গভবনে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এবিএম শহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের চার সদস্যের প্রতিনিধিদল সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে শুধু চাকরি প্রত্যাশী নয়, বরং দক্ষ, উদ্ভাবনী ও প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোক্তা তৈরিতে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।
তিনি বলেন, পরিবর্তিত বিশ্বপরিস্থিতি ও প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতির চাহিদা বিবেচনায় উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে শিক্ষার্থীদের জ্ঞান ও দক্ষতার পাশাপাশি উদ্ভাবনী চিন্তা, গবেষণা এবং উদ্যোক্তা সক্ষমতা বিকাশে গুরুত্ব দিতে হবে।
আজ দুপুরে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এবিএম শহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের চার সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বঙ্গভবনে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ আহ্বান জানান। রাষ্ট্রপতির প্রেস উইং-এর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
সাক্ষাৎকালে প্রতিনিধিদল বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক শিক্ষা, গবেষণা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন।
তাঁরা জানান, যুগের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বিশ্ববিদ্যালয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং সর্বশেষ প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন বিষয়ে পাঠদান ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
রাষ্ট্রপতি বলেন, মজলুম জননেতা মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি অবিস্মরণীয় নাম।
মাওলানা ভাসানীর স্মৃতিবিজড়িত এ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের গুণগত মানসম্পন্ন শিক্ষা প্রদানের পাশাপাশি যুগোপযোগী জ্ঞান, প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও উদ্ভাবনী সক্ষমতায় প্রশিক্ষিত করে দেশের উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।
সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির সচিবগণ ও কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
নুরুল হক নুর
নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহ থেকেই মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে বলে জানিয়েছেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক। আজ বুধবার (২৮ অক্টোবর) রাজধানীতে উইটনেস ফাউন্ডেশন আয়োজিত অভিবাসন সংলাপ শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, সরকারি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেডের (বোয়েসেল) মাধ্যমে একজন কর্মীর যেতে আনুমানিক ১ লাখ ৫৫ হাজার থেকে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা খরচ হতে পারে।
বেসরকারি এজেন্সির মাধ্যমে কর্মী পাঠানোর খরচও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে নির্ধারণ করা হবে।
নুরুল হক বলেন, নভেম্বরের শুরুতে মালয়েশিয়ায় কর্মীদের মেডিকেল পরীক্ষা শুরু হলে দুই থেকে চার দিনের মধ্যে পরীক্ষার প্রক্রিয়া শেষ করে কর্মীরা যেতে পারবেন। নভেম্বরের ১ তারিখ অথবা প্রথম সপ্তাহে ফ্লাইট চালু হতে পারে।
তিনি বলেন, মালয়েশিয়ার সঙ্গে আলোচনা করে মেডিকেল পরীক্ষার অনুমোদিত কেন্দ্রগুলোর তালিকা চূড়ান্ত করা হচ্ছে। ৩১ অক্টোবরের মধ্যে মালয়েশিয়া কর্তৃপক্ষ তালিকা চূড়ান্তভাবে প্রকাশ করবে বলে বাংলাদেশকে জানিয়েছে। দুই দেশের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও কর্তৃপক্ষ নিজ নিজ ওয়েবসাইটে তালিকা প্রকাশ করবে। মেডিকেল পরীক্ষার খরচও নির্ধারণ করা হবে।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার চালুর ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া সরকারের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। কিছু কাজ এখনো বাকি রয়েছে, সেগুলো সম্পন্ন করতে আরো কিছুটা সময় লাগবে। তবে নভেম্বর থেকে কর্মী পাঠানোর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা চালু হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তিনি জানান, মালয়েশিয়ার অনুমোদিত ৩৩৮টি বড় নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের তালিকা পাওয়াকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে বাংলাদেশ। ইতিমধ্যে বিভিন্ন কোম্পানি ও প্রতিষ্ঠানের চাহিদাপত্র (ডিমান্ড লেটার) জমা দেওয়া হয়েছে।
মালয়েশিয়ার বিদেশি কর্মী নিয়োগের নির্ধারিত ব্যবস্থা এফডব্লিউসিএমএস এবং বাংলাদেশ দূতাবাসের সংশ্লিষ্ট সেবার মাধ্যমে এসব চাহিদাপত্র জমা দেওয়া হচ্ছে। তবে বাংলাদেশ দূতাবাসের সত্যায়ন ছাড়া কোনো চাহিদাপত্র গ্রহণযোগ্য হবে না বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। তার ভাষ্য, চাহিদাপত্র সত্যায়নের পাশাপাশি কর্মীদের মেডিকেল পরীক্ষা সম্পন্ন করতে হবে। কোন কোন মেডিকেল কেন্দ্রে পরীক্ষা করা যাবে, তা দুই দেশের আলোচনার ভিত্তিতে নির্ধারণ করা হবে।
অনুমোদনহীন মেডিকেল কেন্দ্রে পরীক্ষা নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর আশঙ্কা রয়েছে উল্লেখ করে নুরুল হক বলেন, মেডিকেল পরীক্ষা শুরুর বিষয়ে সরকার ইতিমধ্যে বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে। অনুমোদিত কেন্দ্রের বাইরে পরীক্ষা না করতে কর্মীদের সতর্ক থাকতে হবে।
আইইডিসিআর এর পরিচালক অধ্যাপক কাজী আহমেদ জাকিরের কক্ষে ঢুকে তাঁকে মারধর করা হয়
রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) পরিচালক ডা. কাজী আহমেদ জাকীরের কক্ষে ঢুকে মারধরের ঘটনা তদন্তে কমিটি গঠনের জন্য নির্দেশনা দিয়েছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে, এ ঘটনায় ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) সহ-আইন বিষয়ক সম্পাদক ডা. জাহিদ হাসানের সদস্যপদ স্থগিত করে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। আজ বুধবার (২৮ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, আইইডিসিআরের পরিচালক অধ্যাপক জাকিরের কার্যালয়ে ঢোকেন কিছু ব্যক্তি। মিটিং চলাকালীন পরিচালকের শার্ট ধরে টেনে হিচড়ে বের করে আনছেন।
অভিযুক্ত চিকিৎসক ডা. জাহিদ হাসান ড্যাবের আজীবন সদস্য এবং সহ-আইন বিষয়ক সম্পাদক। এমন অসদাচরণের ঘটনায় তার সদস্যপদ স্থগিত করে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংগঠনির মহাসচিব ডা. মো. জহিরুল ইসলাম শাকিল।
পরিচালকের চাকরির মেয়াদ শেষ হওয়াকে কেন্দ্র করে ক্ষোভের বিষয়টি বিভিন্ন সূত্রে জানা গেলেও, তা এখনও নিশ্চিত নয়। তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
এদিকে, আইইডিসিআরে এ ঘটনাকে মব সৃষ্টি করে হামলা হিসেবে উল্লেখ করে নিন্দা জানিয়েছেন জামায়াত আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
আগামী ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশের জিডিপি এক ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একইসঙ্গে তিনি বাংলাদেশকে একটি ‘গ্লোবাল ম্যানুফ্যাকচারিং হাব’ বা বিশ্বমানের উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে জাপানি ব্যবসায়ীদের বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন।
আজ বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিকেলে জাপানের টোকিওতে আয়োজিত ‘বাংলাদেশ-জাপান ইকোনমিক ফোরাম’-এ দেওয়া মূল বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।
টোকিওস্থ জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশনের (জেটরো) প্রধান কার্যালয়ে এই ফোরামের আয়োজন করা হয়। জেটরো এবং দ্য জাপান-বাংলাদেশ কমিটি ফর কমার্শিয়াল অ্যান্ড ইকোনমিক কো-অপারেশন (জেবিসিসিইসি) যৌথভাবে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
বক্তব্যের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর প্রথম স্বীকৃতি দেওয়া দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম হওয়ায় জাপানের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, ‘জাপান বাংলাদেশের মানুষের হৃদয়ে একটি বিশেষ স্থানে রয়েছে। সেই থেকে জাপান আমাদের অন্যতম প্রধান উন্নয়ন অংশীদার।’
জাপানের শীর্ষ ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের সামনে বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় অর্থনীতির চিত্র তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের বাজার ১৮০ মিলিয়নেরও বেশি মানুষের। আমাদের তরুণ ও দক্ষ জনশক্তি রয়েছে যাদের গড় বয়স ২৭ বছর। প্রতি বছর ৪০ থেকে ৫০ হাজার শিক্ষার্থী ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক সম্পন্ন করছে। ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ বিশ্বের নবম বৃহত্তম ভোক্তা অর্থনীতির দেশে পরিণত হবে। আর ক্রমবর্ধমান মধ্যবিত্ত শ্রেণির ওপর ভর করে ২০৩৪ সালের মধ্যে আমাদের জিডিপি ১ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে যাবে।’
বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক আরও প্রসারিত করতে চলতি বছর বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে স্বাক্ষরিত ‘ইকোনমিক পার্টনারশিপ অ্যাগ্রিমেন্ট (ইপিএ)’-এর কথা উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ‘এটিই প্রথম কোনো দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের এই ধরনের চুক্তি। আমাদের অংশীদারত্ব শুরু হয়েছিল উন্নয়ন সহযোগিতার মাধ্যমে। এখন সময় এসেছে অর্থনৈতিক সহযোগিতা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগের মাধ্যমে একে পরবর্তী ধাপে নিয়ে যাওয়ার।’
জাপানি বিনিয়োগকারীদের তিনটি প্রধান উদ্বেগের
নির্ভরযোগ্য জ্বালানি, দক্ষ অবকাঠামো এবং শুল্ক ও কর নীতি-কথা স্বীকার করে প্রধানমন্ত্রী আশ্বস্ত করেন যে, সরকার ইতোমধ্যেই বেশ কিছু সমস্যার সমাধান করেছে এবং বাকিগুলো দ্রুত সমাধানে কাজ করছে। আড়াইহাজারে ‘জাপানিজ ইকোনমিক জোন’-এ বিনিয়োগের সুবিধাও তুলে ধরেন তিনি।
জাপানি কোম্পানিগুলোকে তিনটি মূল খাতে বিনিয়োগের আমন্ত্রণ জানান প্রধানমন্ত্রী
১. জ্বালানি খাত
জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা বাংলাদেশের জন্য অপরিহার্য উল্লেখ করে তিনি জ্বালানি অবকাঠামো, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্পে জাপানি বিনিয়োগ চান।
২. প্রযুক্তি ও মহাকাশ
এআই, ক্লাউড কম্পিউটিং ও রোবোটিক্স নিয়ে একটি উদ্ভাবন-কেন্দ্রিক 'বাংলাদেশ-জাপান টেকনোলজি পার্ক' স্থাপনের পরিকল্পনার কথা জানান প্রধানমন্ত্রী। এছাড়া মহাকাশ প্রযুক্তি এবং স্যাটেলাইট ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে জাপানের উন্নত সক্ষমতা ও অভিজ্ঞতার সহায়তা নেওয়ার আগ্রহও প্রকাশ করেন তিনি।
৩. উন্নত অবকাঠামো
৬টি প্রধান বিভাগীয় শহরকে যুক্ত করে দেশব্যাপী এলিভেটেড রোড নেটওয়ার্ক এবং হাই-স্পিড রেল নির্মাণের মহাপরিকল্পনায় জাপানের কারিগরি ও আর্থিক সহায়তা চান প্রধানমন্ত্রী।
জনগণের সঙ্গে জনগণের সম্পর্কের ওপর জোর দিয়ে প্রধানমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ সরকার শিক্ষার্থীদের জাপানি ভাষা শেখানোর উদ্যোগ নিয়েছে, যাতে আগামীতে লাখো তরুণ জাপানি ভাষায় কথা বলতে পারে এবং দুই দেশের সম্পর্ক আরও দৃঢ় হয়।
‘জাপান আমাদের ভিত্তি গড়তে পাশে দাঁড়িয়েছে। এখন আমি আপনাদের আমাদের শিল্প-কারখানা গড়তে, নতুন সুযোগ তৈরি করতে এবং আমাদের সঙ্গে এগিয়ে যাওয়ার আমন্ত্রণ জানাচ্ছি’, যোগ করেন প্রধানমন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে জাপানের ভাইস মিনিস্টার শিনজি, জেটরো প্রেসিডেন্ট সুসুমু কাতাওকাসহ দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তা ও ব্যবসায়িক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে, গতকাল মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) জাপানের প্রধানমন্ত্রী তাকাশির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের একটি ফলপ্রসূ দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
ছবি : সংগৃহীত
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ভোট দেওয়ার অভিযোগে বাংলাদেশের নাগরিক মোহাম্মদ হাচিবুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দেশটির মেরিল্যান্ড অঙ্গরাজ্যের ফেডারেল প্রসিকিউটর কার্যালয়। আজ বুধবার (২৮ অক্টোবর) যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নি অফিস ফর দ্য ডিস্ট্রিক্ট অব মেরিল্যান্ড এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, ৩৩ বছর বয়সী হাচিবুর রহমান যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক না হয়েও নিজের নাগরিকত্ব না থাকার বিষয়টি জেনেশুনে ২০২৪ সালের নভেম্বরের নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন বলে অভিযোগ আনা হয়েছে। ওই নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট, ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং মার্কিন সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য নির্বাচনের ভোটগ্রহণ হয়েছিল।
মেরিল্যান্ডের ইউএস অ্যাটর্নি কেলি ও. হেইস এবং এফবিআইয়ের বাল্টিমোর ফিল্ড অফিসের স্পেশাল এজেন্ট ইনচার্জ জিমি পল এ মামলার ঘোষণা দেন।
অভিযোগ প্রমাণিত হলে হাচিবুর রহমানের সর্বোচ্চ এক বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। তবে ফেডারেল অপরাধের ক্ষেত্রে প্রকৃত সাজা সাধারণত সর্বোচ্চ নির্ধারিত সাজার চেয়ে কম হয়। সাজা নির্ধারণের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আদালতের বিচারক সাজা নির্দেশিকা ও সংশ্লিষ্ট আইনগত বিষয় বিবেচনা করবেন।
বিবৃতিতে স্পষ্ট করা হয়েছে, মামলা দায়ের হওয়া অপরাধ প্রমাণিত হওয়ার সমতুল্য নয়। বিচারিক প্রক্রিয়ায় দোষী প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্ত নির্দোষ বলে বিবেচিত হবেন।
তদন্তে সহায়তার জন্য এফবিআই এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্টের (আইসিই) ওয়াশিংটন ফিল্ড অফিসকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন ইউএস অ্যাটর্নি কেলি ও. হেইস। মামলাটি পরিচালনা করছেন সহকারী ইউএস অ্যাটর্নি ফিলিপ মোৎসে।
ছবি : সংগৃহীত
রাজধানীর মিরপুর-১০ নম্বরের মতো মিরপুর-১ নম্বর এলাকার ফুটপাতও দখলমুক্ত করে নগরবাসীর হাঁটাচলার উপযোগী করা হবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান।
তিনি বলেন, উচ্ছেদের পর যত দিন কেউ ফুটপাতে দোকান বসানোর চেষ্টা করবে, এ অভিযান তত দিন চলবে।
আজ বুধবার (২৮ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর মিরপুর-১ নম্বর রাড্ডার সামনে ডিএনসিসির উচ্ছেদ অভিযান চলাকালে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
শফিকুল ইসলাম খান বলেন, মিরপুর-১ নম্বর এলাকার বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল ফুটপাত ও সড়ক দখলমুক্ত করা।
শাহ আলী, দারুস সালাম, মিরপুরসহ আশপাশের বিভিন্ন থানা ও ওয়ার্ডের বাসিন্দারা অবৈধভাবে ফুটপাত দখল করে হকারদের ব্যবসা পরিচালনার কারণে হাঁটাচলার অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। হকাররা শুধু গত এক-দুই বছর ধরে নয়, আগের ফ্যাসিবাদী আমল থেকেই এখানে অবৈধভাবে ব্যবসা করে আসছেন।
তিনি বলেন, এলাকার বিভিন্ন মার্কেট কমিটির নেতারা এবং সাধারণ মানুষ ব্যক্তিগতভাবে তাকে এ বিষয়ে একাধিকবার অভিযোগ জানিয়েছেন। ডিএনসিসির প্রশাসক হিসেবে তার কাছে মনে হয়েছে, নগরবাসীর হাঁটাচলার রাস্তা তাদের বুঝিয়ে দেওয়া নৈতিক দায়িত্ব।
ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, আজ বুধবার সকাল ১১টায় উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়েছে। দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত অভিযান চলছিল। অভিযানে নামার পর এলাকার সাধারণ মানুষ, মার্কেট কমিটির কর্মকর্তা ও অনেক দোকানি তাদের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। স্থানীয় নেতারাও এ কাজে সহযোগিতা করছেন।
তিনি আরও বলেন, উচ্ছেদের পর ফুটপাতের দখল যাতে আবার ফিরে না আসে, সে জন্য স্থানীয় বাসিন্দারা তদারকি করবেন। পুলিশের সংশ্লিষ্ট উপকমিশনারও ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে পুলিশ সদস্যদের মাধ্যমে বিষয়টি তদারকি করছেন। কেউ আবার ফুটপাত দখল করে বসার চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কতটি স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে, এমন প্রশ্নের জবাবে শফিকুল ইসলাম খান বলেন, শত শত স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে হকারদের সতর্ক করা হয়েছে, মাইকিং করা হয়েছে এবং আলটিমেটাম দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তারা তাতে কর্ণপাত করেননি। এ কারণে অভিযান শুরু করতে হয়েছে।
তিনি বলেন, যত দিন কেউ ফুটপাতে আবার দোকান বসানোর চেষ্টা করবেন, তত দিন এ অভিযান চলবে। জরিমানা পরের বিষয়, আগে নগরবাসীর চলাচলের পথ উন্মুক্ত করতে হবে।
মিরপুর-১০ নম্বর এলাকার উদাহরণ দিয়ে ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, সেখানে অভিযান চালিয়ে ফুটপাত দখলমুক্ত করার পর তা নগরবাসীর কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। ফুটপাতে গাছ লাগানো হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন, রোপণ করা গাছগুলোর পরিচর্যা করতে হবে এবং নিয়মিত পানি দিতে হবে। সে অনুযায়ী জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের গাছের পরিচর্যায় যুক্ত করা হয়েছে। মঙ্গলবারও এ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে।
শফিকুল ইসলাম খান বলেন, প্রধানমন্ত্রী ‘ক্লিন ঢাকা, গ্রিন ঢাকা’ গড়ার নির্দেশনা দিয়েছেন। সেই অঙ্গীকার সামনে রেখে ঢাকা শহরকে পরিচ্ছন্ন ও সবুজ নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করছেন তারা। প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা বাস্তবায়নে দীর্ঘদিন ধরেই কাজ চলছে।
তিনি বলেন, নগরবাসীকে সঙ্গে নিয়েই এ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে চান তারা। ফুটপাত দখলমুক্ত করে মানুষের চলাচলের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া এবং উচ্ছেদের পর সেই পরিবেশ ধরে রাখাই তাদের লক্ষ্য।