ভূমিসেবা মেলার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
জনগণকে ভূমি সেবা পেতে আর দুর্নীতি শিকার হতে হবে না বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার (১৯ মে) তেজগাঁও ভূমি ভবনে ৩ দিনব্যাপী ভূমি সেবা মেলা-২০২৬ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের লক্ষ্য এমন একটি ভূমি ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা যেখানে ভূমি সেবা গ্রহণের জন্য মানুষকে আর অফিসে অফিসে ঘুরতে হবে না।আমরা এমন একটি পরিবেশ চাই যেখানে জনগণকে দুর্নীতি কিংবা হয়রানির শিকার হতে হবে না।
সরকারপ্রধান বলেন, দেশের ভূমি ব্যবস্থাপনাকে আধুনিকীকরণ করে জমিজমা সংক্রান্ত বিষয়ে জনগণকে সহায়তার লক্ষ্যে সারাদেশে ভূমি সেবা মেলা আয়োজন এবং ভূমি ব্যবস্থাপনাকে আরও সহজ ও আধুনিকীকরণ করার ব্যাপারে আমরা জাতীয় নির্বাচনের কয়েক বছর আগে প্রণীত ৩১ দফা এবং সর্বশেষ নির্বাচনী ইশতেহারেও বিষয়টি উল্লেখ করেছিলাম। তারই ধারাবাহিকতায় ভূমি প্রশাসনের প্রায় সব সেবা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নিয়ে এসে নাগরিকদের জন্য সেবা গ্রহণকে আরও সহজ, দ্রুত এবং কার্যকর করারও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, ভূমি জমি ব্যবস্থাপনা যত বেশি আধুনিক এবং প্রযুক্তি নির্ভর করা যায়, জমি সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির পথও খুব সম্ভবত তত বেশি সহজ হয়ে যায়। জমি ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে অনলাইন সুবিধা নিশ্চিত করায় জমি-জমা সংক্রান্ত দুর্ভোগ অনেকাংশেই লাগব হবে। একই সঙ্গে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে ভূমি অফিসগুলোতে মধ্যস্বত্তভোগীদের দৌরাত্ম কমবে। চলমান এই ভূমিসেবা মেলা আধুনিক ভূমি ব্যবস্থাপনা এবং নাগরিকদের নিজেদের দায়দায়িত্ব সম্পর্কেও আরও সচেতন করবে।
তিনি বলেন, দেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে আমাদের মাথাপিছু জমির পরিমাণও কমে আসছে। ফলে জমির অর্থনৈতিক মূল্য যেমন বাড়ছে, তেমনি জমি নিয়ে বিরোধ, মামলা, মোকদ্দমা এবং জটিলতাও বাড়ছে। একইসঙ্গে অনেক ক্ষেত্রে এসব বিরোধ ব্যক্তি ও পরিবারের শান্তিও নষ্ট করার পাশাপাশি জাতীয় উন্নয়ন কর্মকাণ্ডেও প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এমন বাস্তবতায় ভূমির পরিকল্পিত ব্যবহার, নির্ভুল রেকর্ড সংরক্ষণ এবং দক্ষ ব্যবস্থাপনা বর্তমান সময়ের অপরিহার্য দাবি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে জরিপ কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে নির্ভুল ভূমি রেকর্ড প্রস্তুত করতে ভূমি মন্ত্রণালয় কাজ করছে। ভূমিসেবা মেলার আয়োজনের মাধ্যমে সরকার জনগণের কাছে আরও একটি নির্বাচনী ইশতেহার পূরণ করতে যাচ্ছে। এভাবে সরকার পর্যায়ক্রমে একের পর এক নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিটি দফা বাস্তবায়নের মাধ্যমে জনগণের কাছে দেওয়া ওয়াদা পূরণের রাজনীতিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে।
তিনি বলেন, শুধুমাত্র জমিজমা সংক্রান্ত বিষয় নয়, প্রতিটি ক্ষেত্রেই জনবান্ধব কর্মসূচি নিয়ে সরকার জনগণের কাছে দায়বদ্ধ থাকতে চায়। কারণ দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় ধরে ফ্যাসিবাদ শাসন-শোষণের যাতাকলে পৃষ্ঠ দেশের জনগণ বর্তমানে রাষ্ট্র এবং রাজনীতিতে তাদের অধিকারের প্রতিফলন দেখতে চান। এ কারণেই বর্তমান সরকার রাষ্ট্র পরিচালনার প্রথম সপ্তাহ থেকে নির্বাচনী ইশতেহার এবং জুলাই সনদের প্রতিটি দফা পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নের দিকে মনোযোগ দিয়েছে।
তারেক রহমান বলেন, জমি বা ভূমি শুধু এক টুকরো সম্পদই নয় বরং মানুষের জীবনে এটি এক ধরনের নিরাপত্তা, নির্ভরতা, অর্থনৈতিক স্থিতি, জীবিকা এবং ভবিষ্যতে ভিত্তি।
তিনি বলেন, জমি ব্যবস্থাপনাকে হয়রানি ও দুর্নীতিমুক্ত করার অঙ্গীকার নিয়ে জনগণের দৌড়গোড়ায় রাষ্ট্রীয় সেবা পৌঁছে দিতে বর্তমান সরকার কাজ করছে। ভূমি মন্ত্রণালয় মন্ত্রী থেকে শুরু করে এই মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব কর্মকর্তা এবং কর্মচারীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলতে চাই, সেবা প্রদান জনগণের প্রতি করুণা নয়, বরং জনগণের সেবা নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্ব। আমাদের লক্ষ্য একটি হয়রানিমুক্ত, প্রযুক্তি নির্ভর এবং নাগরিকবান্ধব ভূমি ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা, যা দেশের টেকশই উন্নয়নকে আরও ত্বরান্বিত করবে।
তাহসিফের ‘বন্ধুস্থানীয় ছোট ভাই’ আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দ্বীপকে নিয়ে ঘটনাস্থলে নৌ পুলিশ ও পিবিআই
বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরি’র (২৮) মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় তাঁর ‘বন্ধুস্থানীয় ছোট ভাই’ আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দ্বীপকে নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে নৌ পুলিশ ও পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। শুক্রবার দুপুর ১টার দিকে তাকে নিয়ে টঙ্গীর হোন্ডা রোড ও হাজী মাজার বস্তি সংলগ্ন ইজতেমার মাঠ পরিদর্শন করা হয়।
বুধবার বিকেলে ঢাকার তুরাগ নদের রাজবাড়ী ঘাট থেকে তাহসিফের ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করে নৌ পুলিশ। তার কাছাকাছি জায়গা টঙ্গী সেনাকল্যাণ সংস্থার পাশে হোন্ডা রোড থেকে একটি মোটরসাইকেল পাওয়া গেছে। সেই হোন্ডা রোড থেকে উদ্ধার করা মোটরসাইকেল এবং হাজী মাজার বস্তি সংলগ্ন ইজতেমার মাঠ পরিদর্শন করেন তাঁরা।
তাহসিফের মৃত্যুর আগে এই স্থানটিতেই এসেছিলেন তাহসিফ ও দ্বীপ। জিজ্ঞাসাবাদে দ্বীপ পুলিশকে বলেছেন, ‘সেদিন তারা ঘটনাস্থলে কথা বলছিলেন। এ সময় কিছু লোক তাদের ধাওয়া করে। তাহসিফ নদে ঝাঁপ দেন। আর তিনি পালিয়ে আসেন।’
পিবিআই কর্মকর্তারা বলছেন, ‘রাজবাড়ী ঘাট এলাকাটি মাদকের স্পট হিসেবে পরিচিত। যারা ধাওয়া দিয়েছিল তারা মাদক কারবারি হতে পারে এমন প্রাথমিক ধারণা করা হচ্ছে। তাদের ধাওয়ায় তাহসিফ নদে পড়ে ডুবে যেতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।’
পিবিআই জানায়, বুধবার রাতে দ্বীপকে তথ্য সংগ্রহের জন্য পিবিআইয়ের ঢাকা মেট্রো উত্তরে নেওয়া হয়। যেহেতু দুইজন একসাথে ছিলেন। কোথায় কোথায় গিয়েছিলেন- তার দেওয়া এ ধরনের কিছু তথ্য যাচাই-বাছাই চলছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্যই তাকে হেফাজতে নিয়েছে পিবিআই।
যে মোটরসাইকেলটি নিয়ে তাহসিফ বাসা থেকে বের হয়েছিলেন উদ্ধার করা মোটরসাইকেল সেটিই বলে নিশ্চিত হয়েছে পিবিআই। তবে নম্বর প্লেটবিহীন এই মোটরসাইকেলটি তাহসিফের কিনা তা যাচাই করছে পিবিআই। নম্বর প্লেট না থাকায় এর মূল মালিকানা যাচাই করা হচ্ছে।
হেফাজতে নেওয়ার পর দ্বীপের কাছ থেকে বেশ কিছু তথ্য পাওয়ার কথা জানিয়েছে পিবিআই। পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার আবু ইউসুফ বলেন, ‘দ্বীপ বলেছে, আমরা সেখানে (ঘটনাস্থল) কথা বলছিলাম। এ সময় কিছু লোক ধাওয়া করে। তাহসিফ নদীতে ঝাঁপ দেয়। আর আমি পালিয়ে আসি। তার এ কথাসহ জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া অন্যান্য তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।’
পুলিশ সুপার আরও বলেন, ‘যে মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করা হয়েছে তাতে কোনো নম্বর প্লেট নেই। তাহসিফ যে মোটরসাইকেলটি ব্যবহার করতেন তাতেও কোনো নম্বর প্লেট নেই বলে সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, এটি তারই মোটরসাইকেল। তবে বিষয়টি নিশ্চিত হতে আরও যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।’
পিবিআইয়ের ছায়া তদন্তে এসব তথ্য উঠে এসেছে। পিবিআই জানিয়েছে, এই মামলার মূল তদন্ত করছে নৌ পুলিশ। ঘটনাটি জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় তারা এর ছায়া তদন্ত করছে। নৌ পুলিশকে সহযোগিতার জন্য পুলিশের অন্যান্য ইউনিটের মতো কাজ করে যাচ্ছে পিবিআই। প্রাপ্ত তথ্য সবকিছু নৌ পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হচ্ছে।
ছবি : সংগৃহীত
তুরাগ নদের যে স্থান থেকে বিমান বাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা তাহসিফ সাউরীর ভাসমান লাশ উদ্ধার করা হয়েছে, তার সাড়ে তিন কিলোমিটার দূরে মাজার বস্তি এলাকা থেকে নম্বর প্লেটবিহীন একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে।
পিবিআই সদর দপ্তরের পুলিশ সুপার আবু ইউসুফ এক বার্তায় জানান, নদ থেকে আনুমানিক ৫০ গজ দূরে মাজার বস্তি এলাকায় একটি মোটরসাইকেল পাওয়া গেছে। মোটরসাইকেলটি তাহসিফের কি না, তা যাচাই-বাছাই চলছে।
অবশ্য পিবিআই প্রধান মোস্তফা কামাল শুক্রবার সকালে বলেন, “আমরা তাহসিফের মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করেছি।”
ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার দেশত্যাগের ‘ভিডিও ধারণকারী’ হিসেবে আলোচনায় থাকা তাহসিফ সাউরীর ভাসমান লাশ বুধবার বিকালে তুরাগের রাজাবাড়ী ঘাট এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়। এ স্থানটি উত্তরখান থানায় পড়লেও উদ্ধার হওয়া বাইকের ঘটনাস্থল টঙ্গী পশ্চিম থানার অধীন। তবে দুই স্থানেই তুরাগ নদের সংযোগ রয়েছে।
পিবিআইয়ের এক পুলিশ সুপার বলেন, “দীপের দেখানো মতে নম্বর প্লেটবিহীন মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করা হয়েছে। নম্বর প্লেট না থাকায় মালিকানা যাচাই করা হচ্ছে। তাহসিফ বাসা থেকে যে মোটরসাইকেল নিয়ে বের হন, সেটিও নম্বর প্লেটবিহীন বলে সিসিটিভি ভিডিওতে দেখা গেছে।”
তাহসিফ নিখোঁজ হওয়ার আগে যে বন্ধুস্থানীয় ছোটভাইয়ের ডাকে বাসা থেকে বেরিয়েছিলেন, সেই আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বৃহস্পতিবার রাতে হেফাজতে নেয় পিবিআই ঢাকা মেট্রো উত্তর।
দীপকে নিয়ে রাতভর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানোর তথ্য দিয়ে ওই পুলিশ সুপার বলেন, “দীপ বলেছে, ‘আমরা সেখানে (ঘটনাস্থল) কথা বলছিলাম। এ সময় কিছু লোক ধাওয়া করে। তাহসিফ ভাই নদীতে ঝাঁপ দেয়। আর আমি পালিয়ে আসি।’
“দীপের এ কথাসহ জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া অন্যান্য তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।”
অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক মোস্তফা কামাল বলেন, “দীপকে হেফাজতে নেওয়ার পর আমরা বেশ কিছু তথ্য পেয়েছি।”
তদন্তের স্বার্থে সেসব এখনই প্রকাশ করতে চাননি তিনি।
তাহসিফের বাবা এনায়েতুল করিমের ভাষ্য, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় দীপের ফোন কলেই তাহসিফ বাসা থেকে বেরিয়েছিলেন। রাত ১টা ৩৫ মিনিটের দিকে তাহসিফ তার মায়ের মোবাইলে একটি বার্তা পাঠিয়ে জানান, তিনি বাসায় ফিরছেন।
তবে ওই বার্তায় তাকে ব্যস্ত মনে হয়েছিল জানিয়ে তিনি বৃহস্পতিবার দুপুরে বলেন, এরপর থেকে তাহসিফ সাউরীর আর কোনো হদিস মিলছিল না।
তবে তাহসিফের এক নিকটাত্মীয় বলেছেন, মায়ের মোবাইলে সবশেষ পাঠানো ‘ভয়েস মেসেজটি’ তার কাছে তাহসিফের বলে মনে হয়নি।
বিমান বাহিনীর সাবেক এ কর্মকর্তা উত্তরার দিয়াবাড়ির বাসা থেকে নিজের বাইক নিয়ে বেরিয়েছিলেন। তার লাশ উদ্ধারের সময় নৌপুলিশ হাতঘড়ি ও মানিব্যাগ পেলেও তখন বাইকটির সন্ধান পায়নি।
রেজা দীপ বৃহস্পতিবার বিকালে বলেছিলেন, বাসা থেকে বের হওয়ার পর তাহসিফের বাইক মেরামতের জন্য তারা গ্যারেজে যান। সেখান থেকে উত্তরার রুয়াপ শপিং কমপ্লেক্সের ‘কুকরুকু’ রেস্তোরাঁয় রাতের খাবার খান।
এরপর সেখান থেকে বেরিয়ে দুজন নিজ নিজ বাইকে ফিরছিলেন। উত্তরা হাউজ বিল্ডিং এলাকা পর্যন্ত একসঙ্গেই ছিলেন। রাত আনুমানিক ১২টার দিকে দুজন আলাদা হয়ে যান। এরপর দীপ নিজে বাসায় ফিরলেও তাহসিফের বিষয়ে ‘আর কিছু জানেন না’ বলে দাবি করেন।
দীপ একটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সদ্য স্নাতক সম্পন্ন করেছেন জানিয়ে বলেন, তার বাসা রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী হাসপাতাল এলাকায়।
পুলিশ কর্মকর্তা মোস্তফা কামাল শুক্রবার সকালে বলেন, দীপ ও তাহসিফ মোটরসাইকেল ঠিক করা এবং রেস্তোরাঁয় যাওয়া ছাড়া আর কোথায় কোথায় গিয়েছিলেন, সেই জায়গাগুলোতে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।
ছবি : সংগৃহীত
সিটি করপোরেশন এলাকায় চলাচলকারী ব্যাটারিচালিত তিন চাকার ই-রিকশার সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ২৫ কিলোমিটার নির্ধারণ করেছে সরকার। তবে স্কুল, হাসপাতাল, ধর্মীয় উপাসনালয় ও জনবহুল স্থানে এসব যানবাহনের সর্বোচ্চ গতি হতে হবে ঘণ্টায় ১৫ কিলোমিটার।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে। দেশের সব সিটি করপোরেশন এলাকায় চলাচলরত ই-রিকশার ক্ষেত্রে এ বিধিমালা প্রযোজ্য হবে।
নতুন বিধিমালা অনুযায়ী, তিন চাকার স্বল্পগতির ব্যাটারিচালিত রিকশা বা ই-রিকশার নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে পাঁচ বছরের জন্য। এসব যানবাহনের সর্বোচ্চ গতিসীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ঘণ্টায় ২৫ কিলোমিটার।
পাশাপাশি, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) নির্ধারিত প্রযুক্তিগত মানদণ্ড ও নিরাপত্তাবৈশিষ্ট্য পূরণ না করলে কোনো ই-রিকশা সড়কে চলাচল করতে পারবে না। নতুন বিধিমালায় ই-রিকশার চলাচলের স্থান, গতি, যাত্রী ধারণক্ষমতা, নিবন্ধন, ফি, ফিটনেস, প্রযুক্তিগত মান এবং চালকদের দায়িত্ব সম্পর্কে বিস্তারিত নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, ই-রিকশাকে সবসময় সড়কের বাম লেন দিয়ে চলাচল করতে হবে। তবে জাতীয় মহাসড়ক, এক্সপ্রেসওয়ে, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে এবং প্রধান বাস চলাচলের সড়ক বা করিডোরে এসব যান চলতে পারবে না।
সাধারণ অবস্থায় ই-রিকশার সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ২৫ কিলোমিটার হলেও স্কুল, হাসপাতাল, ধর্মীয় উপাসনালয় ও জনবহুল এলাকায় তা ঘণ্টায় ১৫ কিলোমিটারের মধ্যে রাখতে হবে। যাত্রী পরিবহনের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। ই-রিকশার আকার ও ধারণক্ষমতা অনুযায়ী চালক ছাড়া সর্বোচ্চ দুই অথবা চারজন যাত্রী বহন করা যাবে। যাত্রীর হাতে বহনযোগ্য মালামাল ছাড়া অন্য কোনো বাণিজ্যিক পণ্য পরিবহন করা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এ ছাড়া ই-রিকশায় ৪০ ডেসিবেলের বেশি তীব্রতার হর্ন ব্যবহার করা যাবে না।
ই-রিকশার নিবন্ধন পেতে আবেদনকারীকে বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে এবং তার বয়স কমপক্ষে ১৮ বছর হতে হবে। নির্ধারিত ফি ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ সংশ্লিষ্ট আবেদন ফরম পূরণ করে কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করতে হবে। আবেদন ও দাখিল করা কাগজপত্র যাচাইয়ের পাশাপাশি বুয়েটের নির্ধারিত প্রযুক্তিগত মানদণ্ড এবং নিরাপত্তাবৈশিষ্ট্যের সঙ্গে ই-রিকশার সামঞ্জস্য পরীক্ষা করা হবে। এসব বিষয়ে সন্তুষ্ট হলে আবেদন পাওয়ার ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে নিবন্ধন দেয়ার বিধান রাখা হয়েছে।
নিবন্ধন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে যাত্রী ধারণক্ষমতার ভিত্তিতে। দুজন যাত্রী ধারণক্ষমতার ই-রিকশার প্রারম্ভিক এককালীন নিবন্ধন ফি ৮ হাজার টাকা এবং বার্ষিক নবায়ন ফি ৪ হাজার টাকা। অন্যদিকে, চারজন যাত্রী ধারণক্ষমতার ই-রিকশার এককালীন নিবন্ধন ফি ১০ হাজার টাকা এবং বার্ষিক নবায়ন ফি ৫ হাজার টাকা। এ ছাড়া প্রতিটি ই-রিকশার ফিটনেস সার্টিফিকেটের জন্য ১ হাজার টাকা ফি নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রতিটি নিবন্ধিত ই-রিকশার জন্য কিউআর কোডযুক্ত স্বতন্ত্র নিবন্ধন নম্বর ও নির্দিষ্ট নম্বর প্লেট দেওয়া হবে। এসব নম্বর ও প্লেট যানবাহনের দৃশ্যমান স্থানে প্রদর্শন করতে হবে। একটি জাতীয় পরিচয়পত্রের বিপরীতে এক বা একাধিক সিটি করপোরেশন থেকে সর্বোচ্চ পাঁচটি ই-রিকশার নিবন্ধন নেওয়া যাবে। তবে কোনো একটি সিটি করপোরেশনে নিবন্ধিত ই-রিকশা অন্য সিটি করপোরেশন এলাকায় বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে চালানো যাবে না।
বিধিমালা অনুযায়ী, ই-রিকশার নিবন্ধনের মেয়াদ হবে পাঁচ বছর। মেয়াদ শেষ হলে নির্ধারিত ফি দিয়ে নিবন্ধন নবায়ন করতে হবে। নিবন্ধন গ্রহণ বা নবায়ন ছাড়া কোনো ই-রিকশা সড়কে চলাচল করতে পারবে না। বর্তমানে সড়কে চলাচলরত ই-রিকশাগুলোকেও নিবন্ধন পেতে হলে বুয়েটের নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী নকশা পরিবর্তন করতে হবে।
প্রযুক্তিগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিটি ই-রিকশায় বুয়েট নির্ধারিত মানদণ্ড ও নিরাপত্তাবৈশিষ্ট্য থাকা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রতিটি যানবাহনে স্পিডোমিটার বা ওডোমিটার স্থাপন করতে হবে। কোনো যান্ত্রিক বা নিরাপত্তাজনিত ত্রুটিযুক্ত এবং নিবন্ধনবিহীন অবৈধ ই-রিকশা সড়কে চালানো যাবে না। বিধিমালায় প্রতিটি ই-রিকশার অর্থনৈতিক আয়ুষ্কাল নিবন্ধনের তারিখ থেকে ১২ বছর নির্ধারণ করা হয়েছে। এ সময়সীমা শেষ হলে সংশ্লিষ্ট ই-রিকশার নম্বর প্লেটসহ নিবন্ধন বাতিল করতে হবে।
ব্যাটারি চার্জের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট ব্যবস্থা অনুসরণের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। ই-রিকশার ব্যাটারি সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশনের লাইসেন্সপ্রাপ্ত চার্জিং পয়েন্ট অথবা নির্ধারিত গ্যারেজে চার্জ দিতে হবে। এসব চার্জিং পয়েন্ট বা গ্যারেজে নবায়নযোগ্য জ্বালানি কিংবা সৌরশক্তি ব্যবহারের ব্যবস্থা রাখার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
নতুন বিধিমালায় ই-রিকশাচালকদের দায়িত্ব ও নিষিদ্ধ কার্যক্রমও উল্লেখ করা হয়েছে। নিবন্ধন ছাড়া যান চালানো, অনুমোদিত গতিসীমা অতিক্রম করা, অতিরিক্ত যাত্রী বহন, অননুমোদিত ব্যাটারি ব্যবহার, মোটর বা যানবাহনের কাঠামো পরিবর্তন এবং নিষিদ্ধ সড়ক বা এলাকায় ই-রিকশা চালানো আইনত দণ্ডনীয় হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া বিপজ্জনকভাবে যান চালানো এবং দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যাওয়াও দণ্ডনীয় অপরাধ বলে প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে। দুর্ঘটনা ঘটলে চালককে সঙ্গে সঙ্গে থামতে হবে।
বাসা থেকে বের হওয়ার আগে তাহসিফ সাউরি। ছবি-ভিডিও থেকে
বিমান বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ সাউরী নিখোঁজ হওয়ার আগে যে বন্ধুস্থানীয় ছোটভাইয়ের ডাকে বাসা থেকে বেরিয়েছিলেন, সেই আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। তাকে পিবিআই ঢাকা মেট্রো উত্তরে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংস্থার সদর দপ্তরের পুলিশ সুপার আবু ইউসুফ।
পিবিআইয়ের এ গণমাধ্যম কর্মকর্তা শুক্রবার সকালে বলেন, “গত রাতে তাকে সেখানে নেওয়া হয়। দুজন একসঙ্গে ছিলেন বলে তারা কোথায় কোথায় গিয়েছিলেন, সে বিষয়ে রেজা দীপের দেওয়া কিছু তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।”
পুলিশ কর্মকর্তা আবু ইউসুফ বলেন, তথ্য সংগ্রহ ও যাচাইয়ের অংশ হিসেবেই তাকে পিবিআই ঢাকা মেট্রো উত্তরে নেওয়া হয়েছে।
ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার দেশত্যাগের ‘ভিডিও ধারণকারী’ হিসেবে আলোচনায় থাকা তাহসিফ সাউরীর ভাসমান লাশ বুধবার বিকালে তুরাগের রাজাবাড়ী ঘাট এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়।
তার বাবা এনায়েতুল করিম জানান, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় দীপের ফোন কলেই তাহসিফ বাসা থেকে বেরিয়েছিলেন। রাত ১টা ৩৫ মিনিটের দিকে তাহসিফ তার মায়ের মোবাইলে একটি বার্তা পাঠিয়ে জানান, তিনি বাসায় ফিরছেন।
তবে ওই বার্তায় তাকে ব্যস্ত মনে হয়েছিল জানিয়ে তিনি বৃহস্পতিবার দুপুরে বলেন, এরপর থেকে তাহসিফ সাউরীর আর কোনো হদিস মিলছিল না।
তবে তাহসিফের এক নিকটাত্মীয় বলেছেন, মায়ের মোবাইলে সবশেষ পাঠানো ‘ভয়েস মেসেজটি’ তার কাছে তাহসিফের বলে মনে হয়নি।
বিমান বাহিনীর সাবেক এ কর্মকর্তা উত্তরার দিয়াবাড়ির বাসা থেকে নিজের বাইক নিয়ে বেরিয়েছিলেন। তার লাশ উদ্ধারের সময় নৌপুলিশ হাতঘড়ি ও মানিব্যাগ পেলেও বাইকটির সন্ধান পায়নি।
পিবিআই প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক মোস্তফা কামাল শুক্রবার সকালে বলেন, “দীপকে হেফাজতে নেওয়ার পর আমরা বেশ কিছু তথ্য পেয়েছি।
“আশা করছি তাহসিফ সাউরীর মোটরসাইকেলটি খুব শিগগির পাওয়া যাবে।”
রেজা দীপ বৃহস্পতিবার বিকালে বলেছেন, বাসা থেকে বের হওয়ার পর তাহসিফের বাইক মেরামতের জন্য তারা গ্যারেজে যান। সেখান থেকে উত্তরার রুয়াপ শপিং কমপ্লেক্সের ‘কুকরুকু’ রেস্তোরাঁয় রাতের খাবার খান।
এরপর সেখান থেকে বেরিয়ে দুজন নিজ নিজ বাইকে ফিরছিলেন। উত্তরা হাউজ বিল্ডিং এলাকা পর্যন্ত একসঙ্গেই ছিলেন। রাত আনুমানিক ১২টার দিকে দুজন আলাদা হয়ে যান। এরপর দীপ নিজে বাসায় ফিরলেও তাহসিফের বিষয়ে ‘আর কিছু জানেন না’ বলে দাবি করেন।
দীপ একটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সদ্য স্নাতক সম্পন্ন করেছেন জানিয়ে বলেছেন, তার বাসা রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী হাসপাতাল এলাকায়।
পুলিশ কর্মকর্তা মোস্তফা কামাল শুক্রবার সকালে বলেন, দীপ ও তাহসিফ মোটরসাইকেল ঠিক করা এবং রেস্তোরাঁয় যাওয়া ছাড়া আর কোথায় কোথায় গিয়েছিলেন, সেই জায়গাগুলোতে নিয়ে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।
২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কুর্মিটোলা বিমানবন্দর থেকে উড়োজাহাজে করে দেশত্যাগের যে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ে, সেটি তাহসিফ সাউরী ধারণ করেছিলেন বলে আলোচনা রয়েছে।
গত জুলাইয়ে এক পডকাস্টে তাহসিফকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, ওই ভিডিও ধারণ করায় বিমান বাহিনী থেকে তার চাকরি গেছে কি না। জবাবে তিনি বলেছিলেন, “হতে পারে।”
ওই পডকাস্ট অনুষ্ঠানে জানতে চাওয়া হয়, ‘আমার দেশ’ পত্রিকার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই ভিডিওর বিষয়ে বিমান বাহিনী তদন্ত করতে গিয়ে বাহিনীর ভেতরে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’-এর সংশ্লিষ্টতা খুঁজে পায় এবং যারা ‘র’-এর সংশ্লিষ্ট ছিলেন, তাদের মধ্যে আপনার নামও আসে।
জবাবে তাহসিফ বলেন, “আমার মনে হয়, ‘আমার দেশ’ যে প্রতিবেদনটা করেছে, এটা তারা আসলে কোনো প্রোপাগান্ডা সার্ভ করছে।”
গত বছরের ৪ অগাস্ট ‘আমার দেশ’-এর প্রতিবেদনটি প্রকাশ হওয়ার পর আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক প্রতিবাদলিপিতে বলে, প্রতিবেদনে তাহসিফসহ দুই কর্মকর্তাকে বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর কথা বলা হয়েছে। ‘বাস্তবে’ এ দুই কর্মকর্তাকে ভিন্ন প্রেক্ষাপটে বিমান বাহিনীর প্রচলিত আইন ও বিধিমালার আওতায় যথাযথ প্রক্রিয়ায় অবসরে পাঠানো হয়েছে, যার সঙ্গে ওই অভিযোগের কোনো সম্পর্ক নেই।
তাহসিফ সাউরীর বাবা বৃহস্পতিবার বলেন, বিমান বাহিনী থেকে তাহসিফের চাকরি যাওয়ার কারণ হিসেবে ‘শৃঙ্খলাজনিত’ বিষয় উল্লেখ করা হয়েছিল।
এরপর তিনি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড এবং নেত্র নিউজে কাজ করেছিলেন বলে জানান বাবা এনায়েতুল করিম।
তার আশঙ্কা, তাহসিফকে হত্যা করে তুরাগে ফেলে দেওয়া হয়।
ছবি : সংগৃহীত
সিটি করপোরেশন এলাকায় ব্যাটারিচালিত রিকশা বা ই-রিকশার ব্যাটারি চার্জিং নিয়ন্ত্রণে নতুন বিধান করেছে সরকার। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ও সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশনের লাইসেন্সপ্রাপ্ত চার্জিং পয়েন্ট বা নির্দিষ্ট গ্যারেজে ই-রিকশার ব্যাটারি চার্জ দিতে হবে। অবৈধভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহার করে চার্জ দিলে বিদ্যমান আইন অনুযায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া যাবে।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) স্থানীয় সরকার বিভাগ জারি করা ‘সিটি করপোরেশন এলাকায় তিন চাকার স্বল্পগতির ব্যাটারিচালিত রিকশা (ই-রিকশা) চলাচল বিধিমালা, ২০২৬’-এ এসব বিধান রাখা হয়েছে।
বিধিমালা অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ট্রাফিক বিভাগ, স্থানীয় বিদ্যুৎ বিতরণকারী সংস্থা ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট পক্ষের সঙ্গে পরামর্শ করে অনুমোদিত চার্জিং স্টেশন, গ্যারেজ ও ব্যাটারি বিনিময় কেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ নেবে। সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব বা বেসরকারি খাতের মাধ্যমে এসব অবকাঠামো গড়ে তোলা যাবে। চার্জিং স্টেশন স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় সরকারি অনুমোদন নিতে হবে।
চার্জিং অবকাঠামোয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বিশেষ করে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিধিমালায় বলা হয়েছে, চার্জিং স্টেশন বা গ্যারেজে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের ব্যবস্থা করতে হবে। পর্যায়ক্রমে বৈধভাবে নিবন্ধিত চার্জিং স্টেশনে ব্যাটারি চার্জিং নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
এ ক্ষেত্রে নেট মিটারিং ব্যবস্থার মাধ্যমে সৌরবিদ্যুৎ ও জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিডের সংযোগ স্থাপনের সুযোগ রাখা হয়েছে। এর মাধ্যমে দিনের বেলায় সৌরবিদ্যুৎ গ্রিডে সরবরাহ করে প্রয়োজন অনুযায়ী রাতে গ্রিডের বিদ্যুৎ ব্যবহার করে ব্যাটারি চার্জ করা যাবে।
বিধিমালায় প্রতিটি ওয়ার্ডে বা উপযুক্ত স্থানে প্রয়োজনীয় সংখ্যক পার্কিং এলাকা নির্ধারণের ব্যবস্থাও রাখতে বলা হয়েছে। চার্জিং স্টেশন ও গ্যারেজের তথ্য ই-রিকশার ব্লু-বুকেও অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
ব্যাটারি ব্যবস্থাপনায় পরিবেশ সুরক্ষার বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। পুরোনো বা অকার্যকর ব্যাটারি খোলা জায়গা, মাটি, জলাশয় কিংবা সাধারণ বর্জ্যে ফেলা বা পোড়ানো যাবে না। ব্যাটারি বিক্রেতাকে নতুন ব্যাটারি বিক্রির সময় ক্রেতার কাছ থেকে পুরোনো ব্যাটারি সংগ্রহ করে অনুমোদিত পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানায় পাঠানোর ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
এ ছাড়া পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়া ব্যাটারি ভাঙা বা গলানোর কার্যক্রম পরিচালনা করা যাবে না। পুরোনো ব্যাটারি অনুমোদিত এজেন্ট, ডিলার বা সংগ্রহকারীর কাছে হস্তান্তর করতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
জাপানে চার দিনের সফর শেষে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গতকাল বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ২টা ৪৮ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী, তাঁর সহধর্মিণী জুবাইদা রহমান ও সফরসঙ্গীদের বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইট হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন এ তথ্য জানিয়েছেন। এর আগে বৃহস্পতিবার জাপানের স্থানীয় সময় রাত ১০টা ৫৫ মিনিটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ফ্লাইটটি টোকিওর নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করে বলে জানান তিনি।
জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে তারেক রহমানের এ সফরে উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক, সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর, বাংলাদেশে বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে জাপানি ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে আলোচনা এবং দেশটির গুরুত্বপূর্ণ শিল্প ও জ্বালানি স্থাপনা পরিদর্শন অন্তর্ভুক্ত ছিল।
২৭ অক্টোবর জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠকে তারেক রহমান ও তাকাইচি দুই দেশের দীর্ঘদিনের অংশীদারত্ব জোরদারের বিষয়ে আলোচনা করেন। আলোচনায় বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জ্বালানি নিরাপত্তা, অবকাঠামো, প্রযুক্তি, মহাকাশ গবেষণা এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিষয় বিশেষ গুরুত্ব পায়।
দুই নেতা বাংলাদেশের জ্বালানি, অবকাঠামো এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) খাতে এক ট্রিলিয়ন জাপানি ইয়েন বা ৬৩০ কোটি মার্কিন ডলার বেসরকারি বিনিয়োগের প্রস্তাব নিয়েও আলোচনা করেন। এ বিনিয়োগ পরিকল্পনার অগ্রগতি ত্বরান্বিত করতে জাপানের একটি প্রতিনিধিদল বাংলাদেশে পাঠানোর বিষয়েও তাঁরা আলোচনা করেন।
প্রধানমন্ত্রীর এ সফরে বাংলাদেশ ও জাপান ছয়টি দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা দলিলে স্বাক্ষর করেছে। পাশাপাশি ৪৬ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন ইয়েন বা প্রায় ২৯৫ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলারের দুটি ঋণ প্রকল্পের প্রতিশ্রুতিও পাওয়া গেছে। স্বাক্ষরিত দলিলগুলোর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশের উপকূলীয় নিরাপত্তা সক্ষমতা জোরদারে একটি টহল জাহাজ সরবরাহের জন্য সর্বোচ্চ ২ দশমিক ১২ বিলিয়ন ইয়েন বা ১ কোটি ৩৪ লাখ ৪০ হাজার মার্কিন ডলারের অনুদান চুক্তি।
এ ছাড়া ব্যবসায়িক পরিবেশের উন্নয়ন, কৃষি, দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে কর্মসংস্থান কর্মসূচি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে সহযোগিতা বাড়াতে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক সহযোগিতার জন্যও একটি অভিপ্রায়পত্র স্বাক্ষর করা হয়েছে। ঋণ প্রকল্প দুটি বাংলাদেশের বিনিয়োগ পরিবেশের উন্নয়ন এবং উপজেলা পরিচালন ও উন্নয়ন প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায় বাস্তবায়নে সহায়তা করবে।
সরকারি পর্যায়ের চুক্তির পাশাপাশি জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশনের (জেট্রো) আয়োজনে বেসরকারি খাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৭টি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।
২৮ অক্টোবর টোকিওতে জেট্রোর সদর দপ্তরে বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক ফোরাম সংলাপে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় তিনি জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলোকে পাঁচটি অগ্রাধিকার খাতে বিনিয়োগের আহ্বান জানান। খাতগুলো হলো মোটরগাড়ি উৎপাদন, জ্বালানি, প্রযুক্তি ও মহাকাশ, দ্রুতগতির রেল ও লজিস্টিকস এবং কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ।
সফরকালে তারেক রহমান জাপানের রাজনৈতিক নেতা, উন্নয়ন সহযোগী ও ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গেও বৈঠক করেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী তারো আসো, জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) প্রেসিডেন্ট আকিহিকো তানাকা, জাপান ব্যাংক ফর ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশনের (জেবিআইসি) গভর্নর কাজুহিকো আমাকাওয়া এবং জেট্রোর প্রেসিডেন্ট সুসুমু কাতাওকা।
ইউনিক্লো, মিতসুই অ্যান্ড কোম্পানি, সুমিতোমো করপোরেশন ও জেইআরএসহ জাপানের শীর্ষস্থানীয় কোম্পানিগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, কারখানা স্থাপন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং দক্ষতা উন্নয়নের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন।
২৭ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী জাপানের ফুতসুতে জেইআরএর তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) টার্মিনাল ও বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং ইচিকাওয়ায় নিটসু লজিস্টিকস হাব পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি জাপানের জ্বালানি ও পণ্য পরিবহন ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন দিক পর্যবেক্ষণ করেন।
বৃহস্পতিবার তারেক রহমান নাগোয়া সফর করেন। সেখানে টয়োটা মোটর করপোরেশনের মোটোমাচি কারখানা এবং টয়োটা কমেমোরেটিভ মিউজিয়াম অব ইন্ডাস্ট্রি অ্যান্ড টেকনোলজি পরিদর্শন করে জাপানের মোটরগাড়ি উৎপাদন সক্ষমতা সম্পর্কে ধারণা নেন।
২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে প্রথমবারের মতো অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) স্বাক্ষরের পর দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক সম্প্রসারণের উদ্যোগের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর এ সফর অনুষ্ঠিত হলো। চুক্তিটি দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদারের নতুন কাঠামো তৈরি করেছে। জাপান দীর্ঘদিন ধরেই বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান উন্নয়ন সহযোগী।
এর আগে গত সোমবার জাপানের প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণে চার দিনের সফরে জাপান যান তারেক রহমান। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে ছিলেন জুবাইদা রহমান, অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানসহ উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধিদল।