পুত্রজায়ায় যৌথ সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম

  • প্রকাশ : সোমবার ২২ জুন, ২০২৬, সময় : ৪:১৬ এএম

বাংলাদেশিদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার দ্রুত উন্মুক্ত করতে সে দেশের প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার সকালে পুত্রজায়ায় মালয়েশিয়ায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী এই আহ্বান জানান। 


প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমকে আরও বেশি বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ এবং দ্রুত শ্রমবাজার উন্মুক্ত করার বিষয়টি বিবেচনার অনুরোধ জানিয়েছি। পাশাপাশি অনিয়মিত শ্রমিকদের বৈধকরণ এবং আটক বাংলাদেশিদের সম্ভাব্য প্রত্যাবাসনের বিষয়টিও উত্থাপন করেছি। আমরা একমত হয়েছি যে, শ্রমিক নিয়োগ প্রক্রিয়া হতে হবে স্বচ্ছ, ন্যায্য ও সাশ্রয়ী যাতে মধ্যস্বত্বভোগীদের ভূমিকা কমে এবং শ্রমিকদের ব্যয় হৃাস পায়।’


দুই দেশের উচ্চ পর্যায়ে বৈঠকের পর মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যৌথ সংবাদ সম্মেলনে আসেন। প্রথমে প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বক্তব্য রাখেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী। পরে তারেক রহমান দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের বিষয়বস্তু তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন। দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় এই বৈঠকে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মালয়েশিয়ার প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে দেন আনোয়ার ইব্রাহিম। বৈঠকে দুই দেশের দ্বি-পক্ষীয় বিভিন্ন বিষয় এবং সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।


যৌথ সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে আনোয়ার ইব্রাহিমের প্রতি ধন্যবাদ জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘গত ফেব্রুয়ারিতে আমি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম যে শুভেচ্ছা বার্তাগুলো পেয়েছিলাম, তার একটি ছিল প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের কাছ থেকে। তিনি আমাকে অভিনন্দন জানান এবং মালয়েশিয়া সফরের আমন্ত্রণ জানান।’


তিনি বলেন, ‘তাঁর সেই আন্তরিক আমন্ত্রণ গ্রহণ করতে পেরে আমি সম্মানিত বোধ করছি। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আমার প্রথম বিদেশ সফরে আমার স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে মালয়েশিয়ায় আসতে পেরে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত।’ বাবা প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ১৯৭৯ সালে মালয়েশিয়া সফরের কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সেই সফর দুই দেশের রাজনৈতিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করেছিল এবং শ্রমবিষয়ক সহযোগিতার ভিত্তি স্থাপন করেছিল। আমি আমার মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ১৯৯৩ সালের মালয়েশিয়া সফরের কথাও স্মরণ করছি। তাঁর সেই সফর আমাদের বন্ধুত্বকে আরও গভীর করে এবং দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র উন্মোচন করে ‘


তিনি বলেন, মালয়েশিয়া বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত ও ঘনিষ্ঠ অংশীদার। পারস্পরিক আস্থা, অভিন্ন মূল্যবোধ এবং জনগণের মধ্যে দৃঢ় সম্পর্কের ভিত্তিতে আমাদের এই বন্ধুত্ব গড়ে উঠেছে।


‘ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে’


প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আমার বিস্তৃত ও ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। আমরা দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছি এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে মতবিনিময় করেছি।’ তিনি বলেন, ‘আজ আমরা বাংলাদেশ–মালয়েশিয়া সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছি। যৌথ কমিশন বৈঠক এবং দুই দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় পরামর্শ প্রক্রিয়াসহ বিদ্যমান কাঠামোর মাধ্যমে সম্পৃক্ততা বাড়ানোর বিষয়ে আমরা একমত হয়েছি।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের প্রবৃদ্ধিকে স্বাগত জানিয়েছি এবং বাংলাদেশ–মালয়েশিয়া মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে আলোচনাকে এগিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’


‘দুই দেশের সম্পর্কে নতুন অধ্যায়ের সূচনা’


বৈঠকে সংস্কৃতি বিষয়ক সমঝোতা স্মারকসহ সন্ত্রাসবাদ দমন বিষয়ে গবেষণা ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহযোগিতা সংক্রান্ত একটি দলিল এবং বিনিয়োগ সংক্রান্ত একটি দ্বিপাক্ষিক দলিল বিনিময় হওয়ায় স্বাগত জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এসব উদ্যোগ আমাদের সহযোগিতাকে আরও সুদৃঢ় করবে এবং সম্পর্কের ইতিবাচক গতিধারা বজায় রাখতে সহায়তা করবে। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, আজকের আলোচনা বাংলাদেশ–মালয়েশিয়া সম্পর্কের এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে। আমরা যৌথ সমৃদ্ধি, আঞ্চলিক শান্তি এবং আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে একসঙ্গে কাজ করার প্রত্যাশা করছি।’ এ বৈঠকের পর দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে সংস্কৃতি বিষয়ক একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। এ ছাড়া সন্ত্রাসবাদ দমন বিষয়ে গবেষণা ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহযোগিতা সংক্রান্ত একটি দলিল এবং বিনিয়োগ সংক্রান্ত একটি দ্বিপাক্ষিক দলিল বিনিময় করা হয়। দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী দলিল দুটি বিনিময় করেন। এরপর দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী একটি যৌথ সংবাদ সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেন।


‘মালয়েশিয়ার ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান’


প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) জনগণের কাছ থেকে শক্তিশালী জনসমর্থন পেয়েছে। জনগণের বিপুল সমর্থনের ভিত্তিতে আমরা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছি।  তিনি বলেন, আমাদের অগ্রাধিকার হলো কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করা। আমরা একটি বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলছি এবং বিনিয়োগকারীদের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি করছি। আমি বিশ্বাস করি, বাংলাদেশে মালয়েশিয়ার বিনিয়োগের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। আমি মালয়েশিয়ার ব্যবসায়ীদের এসব সুযোগ কাজে লাগানোর আন্তরিক আহ্বান জানাচ্ছি।


দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের আলোচনা তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি), জ্বালানি, অবকাঠামো, জনশক্তি, হালাল শিল্প, কৃষিভিত্তিক প্রক্রিয়াজাতকরণ, শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন, প্রতিরক্ষা, ডিজিটাল অর্থনীতি, সেমিকন্ডাক্টর এবং অন্যান্য উচ্চমূল্য সংযোজন খাত অন্তর্ভুক্ত ছিল বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী বলেন, মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত বাংলাদেশি শ্রমিক, শিক্ষার্থী, পেশাজীবী এবং উদ্যোক্তারা দুই দেশের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করছেন। তাদের অবদান উভয় দেশের অর্থনীতি ও সমাজের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।


‘রোহিঙ্গা সমস্যা প্রসঙ্গে’


প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর দুর্দশা নিয়ে আমি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছি। তাদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের বিষয়ে মালয়েশিয়ার ধারাবাহিক সমর্থনের জন্য ধন্যবাদ জানাচ্ছি। 


‘বাংলাদেশ আসিয়ানের সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক চায়’


প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা আঞ্চলিক সহযোগিতার বিষয়েও আলোচনা করেছি। বাংলাদেশ আসিয়ান এর সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠ সম্পৃক্ততা চায় এবং আসিয়ানের সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনার হওয়ার প্রত্যাশা করে। একই সঙ্গে আমরা আঞ্চলিক সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্বে (আরসিইপি) যোগদানে আগ্রহী। বাংলাদেশের আঞ্চলিক সংযুক্তি প্রচেষ্টায় মালয়েশিয়ার সমর্থনের জন্য আমি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।’ বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতিসহ বিভিন্ন বৈশ্বিক বিষয় নিয়েও মতবিনিময় হয়েছে জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, আমরা জাতিসংঘ এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থায় একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছি। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতিত্বের জন্য বাংলাদেশের প্রার্থিতাকে সমর্থন করায় মালয়েশিয়াকে ধন্যবাদ জানাই। পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে আমাদের ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে আমরা আশাবাদী।




প্রতীকী ছবি

  • প্রকাশ : বুধবার ২৯ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৫:১০ পিএম

দেশে গত এক দিনে হামে আক্রান্ত হয়ে আরো একজন এবং হামের উপসর্গ নিয়ে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে।


স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বুধবার জানিয়েছে, গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত সারাদেশে হামে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে ৯৬ জনের। আর হামের উপসর্গ নিয়ে ৭৩৫ জনের মৃত্যু হয়েছে।


হামের উপসর্গ নিয়ে সবচেয়ে বেশি ৩২০ জন মারা গেছে ঢাকা বিভাগে। এর পরেই আছে সিলেট বিভাগ, সেখানে মারা গেছে ১০৭ জন। এছাড়া রাজশাহীতে ৯১, চট্টগ্রামে ৬১, বরিশালে ৪৪, ময়মনসিংহে ৬৯, খুলনায় ৩২ ও রংপুর বিভাগে ১১ জন মারা গেছে।


মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় আরো ৯৯৬ জন হামের উপসর্গ নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে এসেছে। তাদের মধ্যে ভর্তি হয়েছে ৯২৫ জন।


আর যাদের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছিল, তাদের ৭৯ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে এই সময়ে। তবে হাসপাতালে যাওয়া সবার নমুনা পরীক্ষা হয় না বলে এই সংখ্যা দিয়ে এ রোগের বিস্তারের প্রকৃতি চিত্র পাওয়া যায় না।


স্বাস্থ্য অধিদপ্তর গত ১৫ মার্চ থেকে হামের তথ্য প্রকাশ করে আসছে। ওই সময় থেকে এক লাখ ২৬ হাজার ৫৪০ জন হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে গেছে।


তাদের মধ্যে এক লাখ ৯ হাজার ৩৬৬ জন হাসপাতালে ভার্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছে। আর নমুন পরীক্ষার মাধ্যমে ১৫ হাজার ৭৩৯ জনের ক্ষেত্রে হামের সংক্রমণ নিশ্চিত হওয়া গেছে।


  • প্রকাশ : বুধবার ২৯ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৫:০২ পিএম
  • আপডেট : বুধবার ২৯ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৫:০২ এএম


প্রতীকী ছবি

  • প্রকাশ : বুধবার ২৯ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৫:০২ পিএম

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়ে ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত ৫৩৪ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।আজ বুধবার এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।


এ নিয়ে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে ৫০ জন মারা গেছেন। তাদের মধ্যে ২০ জন পুরুষ ও ৩০ জন নারী।


আর আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪ হাজার ৬৪৪ জনে।


স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, বরিশাল বিভাগ ও ময়মনসিংহ বিভাগে একজন করে মারা গেছে।


ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামালের সঙ্গে তার কার্যালয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন নেপালের রাষ্ট্রদূত ঘনশ্যাম ভান্ডারি

  • প্রকাশ : বুধবার ২৯ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৩:৫১ পিএম

দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা-সার্ককে ফের কার্যকর করার বিষয়ে একমত হয়েছেন জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামাল ও ঢাকায় নেপালের রাষ্ট্রদূত ঘনশ্যাম ভান্ডারি। বুধবার জাতীয় সংসদে ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের কার্যালয়ে তাদের সৌজন্য সাক্ষাতে এ বিষয়ে আলোচনা হয় বলে সংসদ সচিবালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।


বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে ভারপ্রাপ্ত স্পিকার বলেছেন যে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়িয়ে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর কাঙ্ক্ষিত উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সার্ক প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। সার্ককে আবার কার্যকর করে সেই লক্ষ্য অর্জনের সুযোগ এখনও রয়েছে।


এক্ষেত্রে তিনি নেপালকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানালে রাষ্ট্রদূত তাতে একমত হন।


নেপালের ফেডারেল পার্লামেন্টে ‘বাংলাদেশ-নেপাল সংসদীয় মৈত্রী গ্রুপ’ গঠিত হওয়ায় দেশটির স্পিকার দোল প্রসাদ আর্যালকে ধন্যবাদ জানান কায়সার কামাল।


বাংলাদেশের জাতীয় সংসদেও শিগগির এই মৈত্রী গ্রুপ গঠন করে দুই দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে মতবিনিময়ের আশা প্রকাশ করেন তিনি।


ভারপ্রাপ্ত স্পিকার বলেন, উভয় দেশের সংসদীয় মৈত্রী গ্রুপ কার্যকর হলে জনগণের সঙ্গে জনগণের সম্পর্ক উন্নয়নের মাধ্যমে সংসদীয় কূটনীতি ও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার করা সম্ভব হবে।


এছাড়া পারস্পরিক সংসদীয় সফর আয়োজন, আইন প্রণয়ন ও সুশাসনের অভিজ্ঞতা বিনিময়, আন্তর্জাতিক ফোরামে দ্বিপক্ষীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে সহযোগিতা এবং দুই দেশের সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে কাজ করার সুযোগ তৈরি হবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।


নেপাল থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ আমদানির প্রসঙ্গ তুলে কায়সার কামাল বলেন, শিক্ষা, সংস্কৃতি, যুব ও জনগণের পারস্পরিক যোগাযোগ, পানি, জ্বালানি, আঞ্চলিক যোগাযোগ, বাণিজ্য ও জলবায়ু পরিবর্তনের মতো বিষয়ে আলোচনার ক্ষেত্র বাড়ানোর সুযোগ দুই দেশ কাজে লাগাতে পারে।


সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নেপালের রাষ্ট্রদূত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশের ‘নতুন অভিযাত্রার’ প্রশংসা করেন এবং বর্তমান সরকারের সঙ্গে আরও নিবিড়ভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।


স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে বের হয়ে উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা অর্জনের বিভিন্ন সূচকে বাংলাদেশের অগ্রগতির প্রশংসা করেন তিনি।


নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই বাংলাদেশ জাতিসংঘের এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন অর্জন করতে সক্ষম হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন নেপালের রাষ্ট্রদূত।


সাক্ষাতকালে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন নেপাল দূতাবাসের ডেপুটি চিফ অব দ্য মিশন প্রতিক কার্কি এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব মো. গোলাম সরওয়ার ভুঁইয়া।


প্রতীকী ছবি

  • প্রকাশ : বুধবার ২৯ জুলাই, ২০২৬, সময় : ২:২৬ পিএম

বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব আষাঢ়ী পূর্ণিমা আজ বুধবার। আষাঢ়ী পূর্ণিমা বৌদ্ধদের কাছে অত্যন্ত পবিত্র দিন। কেননা এই দিনে বৌদ্ধ ধর্মের প্রবর্তক গৌতম বুদ্ধ মাতৃগর্ভে প্রতিসন্ধি গ্রহণ করেন, ২৯ বছর বয়সে গৃহত্যাগ করেন এবং ভারতের সারানাথে পাঁচজন শিষ্যের কাছে প্রথম ধর্মপ্রচার করেন, যাকে ধর্মচক্র প্রবর্তন সূত্র বলা হয়। 


এ উপলক্ষে আজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ থাকবে। বৌদ্ধ সম্প্রদায় নানা ধর্মীয় অনুষ্ঠানমালার দিনটি উদযাপন করবে। 


বাংলাদেশ বুদ্ধিস্ট ফেডারেশনের উদ্যোগে রাজধানীর মেরুল বাড্ডার আন্তর্জাতিক বৌদ্ধ মহাবিহারে দিনব্যাপী নানা অনুষ্ঠানমালা আয়োজিত হবে। অনুষ্ঠানমালায় রয়েছে- ভোরে জাতীয় ও ধর্মীয় পতাকা উত্তোলন, সকালে ভিক্ষুসংঘের প্রাতঃরাশ, বৌদ্ধ পূজা ও ভিক্ষু সংঘের শীল গ্রহণ, ভিক্ষু সংঘের পিন্ডদান, অতিথি আপ্যায়ন, বিকেলে পবিত্র ত্রিপিটক পাঠ ও ধর্মীয় আলোচনা সভা, সন্ধ্যায় প্রদীপ পূজা, আলোকসজ্জা ও প্রদীপ প্রজ্জালন এবং দেশের সমৃদ্ধি ও বিশ্বশান্তি কামনায় সমবেত উপাসনা। 


বাংলাদেশ বৌদ্ধ কৃষ্টি প্রচার সংঘের উদ্যোগে রাজধানীর সবুজবাগের ধর্মরাজিক বৌদ্ধ মহাবিহারে দিনব্যাপী অনুরূপ অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করা হবে। 

বিষয় : দিবস

  • প্রকাশ : বুধবার ২৯ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১২:৩৫ পিএম
  • আপডেট : বুধবার ২৯ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৩:৫৯ এএম

এ সম্পর্কিত আরও খবর


সিআইডির প্রধান হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন ব্যারিস্টার মোহাম্মদ মোশাররফ হোছাইন

  • প্রকাশ : বুধবার ২৯ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১২:৩৫ পিএম

পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)-এর নতুন প্রধান হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক (অ্যাডিশনাল আইজিপি) ব্যারিস্টার মোহাম্মদ মোশাররফ হোছাইন। বুধবার (২৯ জুলাই) রাজধানীর সিআইডি সদর দপ্তরে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন তিনি। সিআইডির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবু তালেব বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।


এর আগে, গত ২৮ জুন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের জারি করা এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তাকে সিআইডির প্রধান হিসেবে পদায়ন করা হয়। দায়িত্ব গ্রহণের আগে তিনি প্রেষণে জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই)-এর পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এনএসআইতে কর্মরত থাকাকালেই তিনি অতিরিক্ত আইজিপি পদে পদোন্নতি লাভ করেন।


ব্যারিস্টার মোহাম্মদ মোশাররফ হোছাইন ১৯৯৫ সালে ১৫তম বিসিএসের মাধ্যমে সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) হিসেবে বাংলাদেশ পুলিশে যোগ দেন। প্রায় তিন দশকের কর্মজীবনে তিনি বাংলাদেশ পুলিশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটে দায়িত্ব পালন করে তদন্ত, গোয়েন্দা কার্যক্রম, প্রশিক্ষণ ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনায় ব্যাপক অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন।


তিনি বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমি, সারদায় প্রশিক্ষণ, গবেষণা ও কারিকুলাম উন্নয়ন-সংক্রান্ত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। এ ছাড়া সিআইডির সদর দপ্তর, চট্টগ্রাম ও কুমিল্লা ইউনিটে বিশেষ পুলিশ সুপার হিসেবে দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালন করেন। মাঠপর্যায়ে পিরোজপুর ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার হিসেবেও সফলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন।


এ ছাড়া ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি), চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি), র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব), পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স এবং রাজশাহী, বরিশাল, রংপুর, খুলনা ও ঢাকা রেঞ্জের বিভিন্ন ইউনিটে দায়িত্ব পালন করে তিনি পেশাগত দক্ষতার স্বাক্ষর রেখেছেন।


শিক্ষাগত জীবনে তিনি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া থেকে অর্থনীতিতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। পাশাপাশি যুক্তরাজ্যের সিটি ইউনিভার্সিটি অব লন্ডন থেকে বার-অ্যাট-ল সম্পন্ন করেন। আধুনিক পুলিশিং, তদন্ত ও ফরেনসিক বিষয়ে দক্ষতা অর্জনের লক্ষ্যে তিনি দেশ-বিদেশে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ, কর্মশালা ও আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেছেন। এর মধ্যে মালয়েশিয়ায় ফরেনসিক ল্যাবরেটরি কোর্স, পাকিস্তানে বিশেষ আঞ্চলিক কর্মশালা এবং তুরস্কে অনুষ্ঠিত ১০তম ইন্টারপা সম্মেলনে অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্য।


দায়িত্ব গ্রহণ অনুষ্ঠানে সিআইডির ডিআইজি, অতিরিক্ত ডিআইজি, পুলিশ সুপার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপারসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত থেকে নবনিযুক্ত সিআইডি প্রধানকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান।


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বুধবার ২৯ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১২:০৯ পিএম

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের নেতৃত্বাধীন কমিশনের সঙ্গে বৈঠকে বসেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। বুধবার (২৯ জুলাই) নির্বাচন ভবনের সভাকক্ষে বেলা ১১টায় বৈঠক শুরু হয়েছে।


বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি, মিয়া গোলাম পরওয়ারের নেতৃত্ব একটি প্রতিনিধি দল এবং নির্বাচন কমিশনারসহ ইসি কর্মকর্তারা বৈঠকে অংশ নিয়েছেন।


জানা গেছে, বৈঠকে বিএনপি দলীয় সাবেক এক ইসি কর্মকর্তাকে ফের অতিরিক্ত সচিব হিসেবে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ ও স্থানীয় নির্বাচনের আইন সংশোধন নিয়ে আলোচনা হতে পারে।