পুত্রজায়ায় যৌথ সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম

  • প্রকাশ : সোমবার ২২ জুন, ২০২৬, সময় : ৪:১৬ এএম

বাংলাদেশিদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার দ্রুত উন্মুক্ত করতে সে দেশের প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার সকালে পুত্রজায়ায় মালয়েশিয়ায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী এই আহ্বান জানান। 


প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমকে আরও বেশি বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ এবং দ্রুত শ্রমবাজার উন্মুক্ত করার বিষয়টি বিবেচনার অনুরোধ জানিয়েছি। পাশাপাশি অনিয়মিত শ্রমিকদের বৈধকরণ এবং আটক বাংলাদেশিদের সম্ভাব্য প্রত্যাবাসনের বিষয়টিও উত্থাপন করেছি। আমরা একমত হয়েছি যে, শ্রমিক নিয়োগ প্রক্রিয়া হতে হবে স্বচ্ছ, ন্যায্য ও সাশ্রয়ী যাতে মধ্যস্বত্বভোগীদের ভূমিকা কমে এবং শ্রমিকদের ব্যয় হৃাস পায়।’


দুই দেশের উচ্চ পর্যায়ে বৈঠকের পর মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যৌথ সংবাদ সম্মেলনে আসেন। প্রথমে প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বক্তব্য রাখেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী। পরে তারেক রহমান দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের বিষয়বস্তু তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন। দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় এই বৈঠকে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মালয়েশিয়ার প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে দেন আনোয়ার ইব্রাহিম। বৈঠকে দুই দেশের দ্বি-পক্ষীয় বিভিন্ন বিষয় এবং সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।


যৌথ সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে আনোয়ার ইব্রাহিমের প্রতি ধন্যবাদ জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘গত ফেব্রুয়ারিতে আমি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম যে শুভেচ্ছা বার্তাগুলো পেয়েছিলাম, তার একটি ছিল প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের কাছ থেকে। তিনি আমাকে অভিনন্দন জানান এবং মালয়েশিয়া সফরের আমন্ত্রণ জানান।’


তিনি বলেন, ‘তাঁর সেই আন্তরিক আমন্ত্রণ গ্রহণ করতে পেরে আমি সম্মানিত বোধ করছি। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আমার প্রথম বিদেশ সফরে আমার স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে মালয়েশিয়ায় আসতে পেরে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত।’ বাবা প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ১৯৭৯ সালে মালয়েশিয়া সফরের কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সেই সফর দুই দেশের রাজনৈতিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করেছিল এবং শ্রমবিষয়ক সহযোগিতার ভিত্তি স্থাপন করেছিল। আমি আমার মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ১৯৯৩ সালের মালয়েশিয়া সফরের কথাও স্মরণ করছি। তাঁর সেই সফর আমাদের বন্ধুত্বকে আরও গভীর করে এবং দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র উন্মোচন করে ‘


তিনি বলেন, মালয়েশিয়া বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত ও ঘনিষ্ঠ অংশীদার। পারস্পরিক আস্থা, অভিন্ন মূল্যবোধ এবং জনগণের মধ্যে দৃঢ় সম্পর্কের ভিত্তিতে আমাদের এই বন্ধুত্ব গড়ে উঠেছে।


‘ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে’


প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আমার বিস্তৃত ও ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। আমরা দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছি এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে মতবিনিময় করেছি।’ তিনি বলেন, ‘আজ আমরা বাংলাদেশ–মালয়েশিয়া সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছি। যৌথ কমিশন বৈঠক এবং দুই দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় পরামর্শ প্রক্রিয়াসহ বিদ্যমান কাঠামোর মাধ্যমে সম্পৃক্ততা বাড়ানোর বিষয়ে আমরা একমত হয়েছি।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের প্রবৃদ্ধিকে স্বাগত জানিয়েছি এবং বাংলাদেশ–মালয়েশিয়া মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে আলোচনাকে এগিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’


‘দুই দেশের সম্পর্কে নতুন অধ্যায়ের সূচনা’


বৈঠকে সংস্কৃতি বিষয়ক সমঝোতা স্মারকসহ সন্ত্রাসবাদ দমন বিষয়ে গবেষণা ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহযোগিতা সংক্রান্ত একটি দলিল এবং বিনিয়োগ সংক্রান্ত একটি দ্বিপাক্ষিক দলিল বিনিময় হওয়ায় স্বাগত জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এসব উদ্যোগ আমাদের সহযোগিতাকে আরও সুদৃঢ় করবে এবং সম্পর্কের ইতিবাচক গতিধারা বজায় রাখতে সহায়তা করবে। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, আজকের আলোচনা বাংলাদেশ–মালয়েশিয়া সম্পর্কের এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে। আমরা যৌথ সমৃদ্ধি, আঞ্চলিক শান্তি এবং আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে একসঙ্গে কাজ করার প্রত্যাশা করছি।’ এ বৈঠকের পর দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে সংস্কৃতি বিষয়ক একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। এ ছাড়া সন্ত্রাসবাদ দমন বিষয়ে গবেষণা ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহযোগিতা সংক্রান্ত একটি দলিল এবং বিনিয়োগ সংক্রান্ত একটি দ্বিপাক্ষিক দলিল বিনিময় করা হয়। দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী দলিল দুটি বিনিময় করেন। এরপর দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী একটি যৌথ সংবাদ সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেন।


‘মালয়েশিয়ার ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান’


প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) জনগণের কাছ থেকে শক্তিশালী জনসমর্থন পেয়েছে। জনগণের বিপুল সমর্থনের ভিত্তিতে আমরা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছি।  তিনি বলেন, আমাদের অগ্রাধিকার হলো কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করা। আমরা একটি বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলছি এবং বিনিয়োগকারীদের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি করছি। আমি বিশ্বাস করি, বাংলাদেশে মালয়েশিয়ার বিনিয়োগের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। আমি মালয়েশিয়ার ব্যবসায়ীদের এসব সুযোগ কাজে লাগানোর আন্তরিক আহ্বান জানাচ্ছি।


দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের আলোচনা তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি), জ্বালানি, অবকাঠামো, জনশক্তি, হালাল শিল্প, কৃষিভিত্তিক প্রক্রিয়াজাতকরণ, শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন, প্রতিরক্ষা, ডিজিটাল অর্থনীতি, সেমিকন্ডাক্টর এবং অন্যান্য উচ্চমূল্য সংযোজন খাত অন্তর্ভুক্ত ছিল বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী বলেন, মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত বাংলাদেশি শ্রমিক, শিক্ষার্থী, পেশাজীবী এবং উদ্যোক্তারা দুই দেশের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করছেন। তাদের অবদান উভয় দেশের অর্থনীতি ও সমাজের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।


‘রোহিঙ্গা সমস্যা প্রসঙ্গে’


প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর দুর্দশা নিয়ে আমি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছি। তাদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের বিষয়ে মালয়েশিয়ার ধারাবাহিক সমর্থনের জন্য ধন্যবাদ জানাচ্ছি। 


‘বাংলাদেশ আসিয়ানের সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক চায়’


প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা আঞ্চলিক সহযোগিতার বিষয়েও আলোচনা করেছি। বাংলাদেশ আসিয়ান এর সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠ সম্পৃক্ততা চায় এবং আসিয়ানের সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনার হওয়ার প্রত্যাশা করে। একই সঙ্গে আমরা আঞ্চলিক সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্বে (আরসিইপি) যোগদানে আগ্রহী। বাংলাদেশের আঞ্চলিক সংযুক্তি প্রচেষ্টায় মালয়েশিয়ার সমর্থনের জন্য আমি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।’ বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতিসহ বিভিন্ন বৈশ্বিক বিষয় নিয়েও মতবিনিময় হয়েছে জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, আমরা জাতিসংঘ এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থায় একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছি। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতিত্বের জন্য বাংলাদেশের প্রার্থিতাকে সমর্থন করায় মালয়েশিয়াকে ধন্যবাদ জানাই। পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে আমাদের ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে আমরা আশাবাদী।




উদ্ধার করা অবিস্ফোরিত বোম

  • প্রকাশ : শুক্রবার ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৫:১০ পিএম

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর বিচারক মঞ্জুরুল বাছিতের বাসার সামনে ককটেল বিস্ফোরিত হয়েছে। শুক্রবার জুমার নামাজের ঠিক আগে ধানমন্ডির কলাবাগান এলাকায় ওই বাসার সামনে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় চারজনকে গ্রেপ্তারের তথ্য দিয়েছে পুলিশ।


পুলিশ বলছে, এ ঘটনার পর সেখান থেকে আরও তিনটি অবিস্ফোরিত ককটেল উদ্ধার করা হয়েছে।


পুলিশের রমনা বিভাগের উপকমিশনার শেখ জাহিদুল ইসলাম বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর বিচারকের বাসার সামনে চার থেকে পাঁচটি ককটেল বিস্ফোরিত হয়েছে। যে তিনটি ককটেল অবিস্ফোরিত ছিল, সেগুলো উদ্ধারের পর বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটের সদস্যরা নিষ্ক্রিয় করেছেন।


“পালিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে,” বলেন তিনি।


ঘটনার বিষয়ে বিচারকের এক স্বজন বলেছেন, জুমার নামাজের ঠিক আগমুহূর্তে তাদের বাসার সামনে দুর্বৃত্তরা তিনটি ককটেল নিক্ষেপ করে। এর মধ্যে দুটি বিস্ফোরিত হয় এবং একটি অবিস্ফোরিত অবস্থায় ছিল।


তবে বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটের এক কর্মকর্তা বলেছেন, খবর পেয়ে তাদের দল ঘটনাস্থলে যায়। সেখানে তিনটি অবিস্ফোরিত ককটেল উদ্ধার করে সেগুলো নিষ্ক্রিয় করা হয়।


পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির

  • প্রকাশ : শুক্রবার ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৪:১৭ পিএম

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাপান সফর কার্যকর ও ফলপ্রসূ হয়েছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফর নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান তিনি। হুমায়ুনি কবির বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সফরের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ ও জাপান সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে।


প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরের মাধ্যমে একদিকে যেমন বাংলাদেশের জন্য জাপানের উন্নয়ন সহযোগিতা চলমান থাকা এবং বৃদ্ধি পাওয়ার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত হয়েছে, অন্যদিকে বেসরকারি বিনিয়োগ এবং মানবসম্পদ উন্নয়ন ক্ষেত্র প্রশস্ত হয়েছে।


হুমায়ূন কবির বলেন, বাংলাদেশের পররাষ্ট্র নীতি—‘সবার আগে বাংলাদেশ’কে ভিত্তি করে এবং ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জকে সামনে রেখে যোগাযোগ, পরিবেশ, কৃষি, মানবসম্পদ, স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাপনা, টেকসই অর্থনীতি আন্তর্জাতিক শান্তি ও স্থীতিশীলতা এবং রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধানের ক্ষেত্রে জাপানের নিরবিচ্ছিন্ন সহায়তার প্রতিশ্রুতি নিয়ে প্রত্যাবর্তন করেছেন প্রধানমন্ত্রী।  


এর আগে, ২৬ অক্টোবর জাপানে পৌঁছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ২৭ অক্টোবর জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠকে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জ্বালানি নিরাপত্তা, অবকাঠামো, প্রযুক্তি, মহাকাশ গবেষণা এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়ে সহযোগিতা জোরদার করার বিষয়ে আলোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।


এ ছাড়া বাংলাদেশের জ্বালানি, অবকাঠামো এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) খাতে এক ট্রিলিয়ন জাপানি ইয়েন (প্রায় ৬ দশমিক ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার) বেসরকারি বিনিয়োগের প্রস্তাব নিয়েও তারা আলোচনা করেন। বিনিয়োগ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের গতি ত্বরান্বিত করতে জাপানি একটি প্রতিনিধি দলকে বাংলাদেশে পাঠানোর বিষয়েও তারা আলোচনা করেন।


সফরকালে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে ছয়টি দ্বিপক্ষীয় সমঝোতা দলিল স্বাক্ষরিত হয়েছে। পাশাপাশি মোট ৪৬ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন জাপানি ইয়েন (প্রায় ২৯৫ দশমিক ৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার) মূল্যের দুটি ‘ইয়েন-লোন’ (ঋণ সহায়তা) প্রকল্পের প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে।


এই চুক্তিগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের উপকূলীয় নিরাপত্তা সক্ষমতা জোরদার করার লক্ষ্যে একটি টহল জাহাজ সংগ্রহের জন্য ২ দশমিক ১২ বিলিয়ন জাপানি ইয়েন (১৩ দশমিক ৪৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার) পর্যন্ত অনুদান সহায়তা সংক্রান্ত চুক্তিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।


পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির জাপানে এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, সরকারি পর্যায়ের চুক্তির বাইরেও জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশন (জেট্রো)-তে বেসরকারি খাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৭টি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে। 



তাহসিফের ‘বন্ধুস্থানীয় ছোট ভাই’ আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দ্বীপকে নিয়ে ঘটনাস্থলে নৌ পুলিশ ও পিবিআই

  • প্রকাশ : শুক্রবার ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৩:৩৭ পিএম

বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরি’র (২৮) মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় তাঁর ‘বন্ধুস্থানীয় ছোট ভাই’ আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দ্বীপকে নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে নৌ পুলিশ ও পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। শুক্রবার দুপুর ১টার দিকে তাকে নিয়ে টঙ্গীর হোন্ডা রোড ও হাজী মাজার বস্তি সংলগ্ন ইজতেমার মাঠ পরিদর্শন করা হয়। 


বুধবার বিকেলে ঢাকার তুরাগ নদের রাজবাড়ী ঘাট থেকে তাহসিফের ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করে নৌ পুলিশ। তার কাছাকাছি জায়গা টঙ্গী সেনাকল্যাণ সংস্থার পাশে হোন্ডা রোড থেকে একটি মোটরসাইকেল পাওয়া গেছে। সেই হোন্ডা রোড থেকে উদ্ধার করা মোটরসাইকেল এবং হাজী মাজার বস্তি সংলগ্ন ইজতেমার মাঠ পরিদর্শন করেন তাঁরা। 


তাহসিফের মৃত্যুর আগে এই স্থানটিতেই এসেছিলেন তাহসিফ ও দ্বীপ। জিজ্ঞাসাবাদে দ্বীপ পুলিশকে বলেছেন, ‘সেদিন তারা ঘটনাস্থলে কথা বলছিলেন। এ সময় কিছু লোক তাদের ধাওয়া করে। তাহসিফ নদে ঝাঁপ দেন। আর তিনি পালিয়ে আসেন।’

‎

‎পিবিআই কর্মকর্তারা বলছেন, ‘রাজবাড়ী ঘাট এলাকাটি মাদকের স্পট হিসেবে পরিচিত। যারা ধাওয়া দিয়েছিল তারা মাদক কারবারি হতে পারে এমন প্রাথমিক ধারণা করা হচ্ছে। তাদের ধাওয়ায় তাহসিফ নদে পড়ে ডুবে যেতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।’


পিবিআই জানায়, বুধবার রাতে দ্বীপকে তথ্য সংগ্রহের জন্য পিবিআইয়ের ঢাকা মেট্রো উত্তরে নেওয়া হয়। যেহেতু দুইজন একসাথে ছিলেন। কোথায় কোথায় গিয়েছিলেন- তার দেওয়া এ ধরনের কিছু তথ্য যাচাই-বাছাই চলছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্যই তাকে হেফাজতে নিয়েছে পিবিআই। 


যে মোটরসাইকেলটি নিয়ে তাহসিফ বাসা থেকে বের হয়েছিলেন উদ্ধার করা মোটরসাইকেল সেটিই বলে নিশ্চিত হয়েছে পিবিআই। তবে নম্বর প্লেটবিহীন এই মোটরসাইকেলটি তাহসিফের কিনা তা যাচাই করছে পিবিআই। নম্বর প্লেট না থাকায় এর মূল মালিকানা যাচাই করা হচ্ছে।


হেফাজতে নেওয়ার পর দ্বীপের কাছ থেকে বেশ কিছু তথ্য পাওয়ার কথা জানিয়েছে পিবিআই। পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার আবু ইউসুফ বলেন, ‘দ্বীপ বলেছে, আমরা সেখানে (ঘটনাস্থল) কথা বলছিলাম। এ সময় কিছু লোক ধাওয়া করে। তাহসিফ নদীতে ঝাঁপ দেয়। আর আমি পালিয়ে আসি। তার এ কথাসহ জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া অন্যান্য তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।’


পুলিশ সুপার আরও বলেন, ‘যে মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করা হয়েছে তাতে কোনো নম্বর প্লেট নেই। তাহসিফ যে মোটরসাইকেলটি ব্যবহার করতেন তাতেও কোনো নম্বর প্লেট নেই বলে সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, এটি তারই মোটরসাইকেল। তবে বিষয়টি নিশ্চিত হতে আরও যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।’


পিবিআইয়ের ছায়া তদন্তে এসব তথ্য উঠে এসেছে। পিবিআই জানিয়েছে, এই মামলার মূল তদন্ত করছে নৌ পুলিশ। ঘটনাটি জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় তারা এর ছায়া তদন্ত করছে। নৌ পুলিশকে সহযোগিতার জন্য পুলিশের অন্যান্য ইউনিটের মতো কাজ করে যাচ্ছে পিবিআই। প্রাপ্ত তথ্য সবকিছু নৌ পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হচ্ছে।



ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শুক্রবার ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১:৩৩ পিএম

তুরাগ নদের যে স্থান থেকে বিমান বাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা তাহসিফ সাউরীর ভাসমান লাশ উদ্ধার করা হয়েছে, তার সাড়ে তিন কিলোমিটার দূরে মাজার বস্তি এলাকা থেকে নম্বর প্লেটবিহীন একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে।


পিবিআই সদর দপ্তরের পুলিশ সুপার আবু ইউসুফ এক বার্তায় জানান, নদ থেকে আনুমানিক ৫০ গজ দূরে মাজার বস্তি এলাকায় একটি মোটরসাইকেল পাওয়া গেছে। মোটরসাইকেলটি তাহসিফের কি না, তা যাচাই-বাছাই চলছে।


অবশ্য পিবিআই প্রধান মোস্তফা কামাল শুক্রবার সকালে বলেন, “আমরা তাহসিফের মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করেছি।”


ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার দেশত্যাগের ‘ভিডিও ধারণকারী’ হিসেবে আলোচনায় থাকা তাহসিফ সাউরীর ভাসমান লাশ বুধবার বিকালে তুরাগের রাজাবাড়ী ঘাট এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়। এ স্থানটি উত্তরখান থানায় পড়লেও উদ্ধার হওয়া বাইকের ঘটনাস্থল টঙ্গী পশ্চিম থানার অধীন। তবে দুই স্থানেই তুরাগ নদের সংযোগ রয়েছে।


পিবিআইয়ের এক পুলিশ সুপার বলেন, “দীপের দেখানো মতে নম্বর প্লেটবিহীন মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করা হয়েছে। নম্বর প্লেট না থাকায় মালিকানা যাচাই করা হচ্ছে। তাহসিফ বাসা থেকে যে মোটরসাইকেল নিয়ে বের হন, সেটিও নম্বর প্লেটবিহীন বলে সিসিটিভি ভিডিওতে দেখা গেছে।”


তাহসিফ নিখোঁজ হওয়ার আগে যে বন্ধুস্থানীয় ছোটভাইয়ের ডাকে বাসা থেকে বেরিয়েছিলেন, সেই আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বৃহস্পতিবার রাতে হেফাজতে নেয় পিবিআই ঢাকা মেট্রো উত্তর।


দীপকে নিয়ে রাতভর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানোর তথ্য দিয়ে ওই পুলিশ সুপার বলেন, “দীপ বলেছে, ‘আমরা সেখানে (ঘটনাস্থল) কথা বলছিলাম। এ সময় কিছু লোক ধাওয়া করে। তাহসিফ ভাই নদীতে ঝাঁপ দেয়। আর আমি পালিয়ে আসি।’


“দীপের এ কথাসহ জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া অন্যান্য তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।”


অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক মোস্তফা কামাল বলেন, “দীপকে হেফাজতে নেওয়ার পর আমরা বেশ কিছু তথ্য পেয়েছি।”


তদন্তের স্বার্থে সেসব এখনই প্রকাশ করতে চাননি তিনি।


তাহসিফের বাবা এনায়েতুল করিমের ভাষ্য, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় দীপের ফোন কলেই তাহসিফ বাসা থেকে বেরিয়েছিলেন। রাত ১টা ৩৫ মিনিটের দিকে তাহসিফ তার মায়ের মোবাইলে একটি বার্তা পাঠিয়ে জানান, তিনি বাসায় ফিরছেন।


তবে ওই বার্তায় তাকে ব্যস্ত মনে হয়েছিল জানিয়ে তিনি বৃহস্পতিবার দুপুরে বলেন, এরপর থেকে তাহসিফ সাউরীর আর কোনো হদিস মিলছিল না।


তবে তাহসিফের এক নিকটাত্মীয় বলেছেন, মায়ের মোবাইলে সবশেষ পাঠানো ‘ভয়েস মেসেজটি’ তার কাছে তাহসিফের বলে মনে হয়নি।


বিমান বাহিনীর সাবেক এ কর্মকর্তা উত্তরার দিয়াবাড়ির বাসা থেকে নিজের বাইক নিয়ে বেরিয়েছিলেন। তার লাশ উদ্ধারের সময় নৌপুলিশ হাতঘড়ি ও মানিব্যাগ পেলেও তখন বাইকটির সন্ধান পায়নি।


রেজা দীপ বৃহস্পতিবার বিকালে বলেছিলেন, বাসা থেকে বের হওয়ার পর তাহসিফের বাইক মেরামতের জন্য তারা গ্যারেজে যান। সেখান থেকে উত্তরার রুয়াপ শপিং কমপ্লেক্সের ‘কুকরুকু’ রেস্তোরাঁয় রাতের খাবার খান।


এরপর সেখান থেকে বেরিয়ে দুজন নিজ নিজ বাইকে ফিরছিলেন। উত্তরা হাউজ বিল্ডিং এলাকা পর্যন্ত একসঙ্গেই ছিলেন। রাত আনুমানিক ১২টার দিকে দুজন আলাদা হয়ে যান। এরপর দীপ নিজে বাসায় ফিরলেও তাহসিফের বিষয়ে ‘আর কিছু জানেন না’ বলে দাবি করেন।


দীপ একটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সদ্য স্নাতক সম্পন্ন করেছেন জানিয়ে বলেন, তার বাসা রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী হাসপাতাল এলাকায়।


পুলিশ কর্মকর্তা মোস্তফা কামাল শুক্রবার সকালে বলেন, দীপ ও তাহসিফ মোটরসাইকেল ঠিক করা এবং রেস্তোরাঁয় যাওয়া ছাড়া আর কোথায় কোথায় গিয়েছিলেন, সেই জায়গাগুলোতে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শুক্রবার ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১২:৩৫ পিএম

সিটি করপোরেশন এলাকায় চলাচলকারী ব্যাটারিচালিত তিন চাকার ই-রিকশার সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ২৫ কিলোমিটার নির্ধারণ করেছে সরকার। তবে স্কুল, হাসপাতাল, ধর্মীয় উপাসনালয় ও জনবহুল স্থানে এসব যানবাহনের সর্বোচ্চ গতি হতে হবে ঘণ্টায় ১৫ কিলোমিটার।


বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে। দেশের সব সিটি করপোরেশন এলাকায় চলাচলরত ই-রিকশার ক্ষেত্রে এ বিধিমালা প্রযোজ্য হবে।


নতুন বিধিমালা অনুযায়ী, তিন চাকার স্বল্পগতির ব্যাটারিচালিত রিকশা বা ই-রিকশার নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে পাঁচ বছরের জন্য। এসব যানবাহনের সর্বোচ্চ গতিসীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ঘণ্টায় ২৫ কিলোমিটার।


পাশাপাশি, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) নির্ধারিত প্রযুক্তিগত মানদণ্ড ও নিরাপত্তাবৈশিষ্ট্য পূরণ না করলে কোনো ই-রিকশা সড়কে চলাচল করতে পারবে না। নতুন বিধিমালায় ই-রিকশার চলাচলের স্থান, গতি, যাত্রী ধারণক্ষমতা, নিবন্ধন, ফি, ফিটনেস, প্রযুক্তিগত মান এবং চালকদের দায়িত্ব সম্পর্কে বিস্তারিত নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।


এতে বলা হয়েছে, ই-রিকশাকে সবসময় সড়কের বাম লেন দিয়ে চলাচল করতে হবে। তবে জাতীয় মহাসড়ক, এক্সপ্রেসওয়ে, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে এবং প্রধান বাস চলাচলের সড়ক বা করিডোরে এসব যান চলতে পারবে না।


সাধারণ অবস্থায় ই-রিকশার সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ২৫ কিলোমিটার হলেও স্কুল, হাসপাতাল, ধর্মীয় উপাসনালয় ও জনবহুল এলাকায় তা ঘণ্টায় ১৫ কিলোমিটারের মধ্যে রাখতে হবে। যাত্রী পরিবহনের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। ই-রিকশার আকার ও ধারণক্ষমতা অনুযায়ী চালক ছাড়া সর্বোচ্চ দুই অথবা চারজন যাত্রী বহন করা যাবে। যাত্রীর হাতে বহনযোগ্য মালামাল ছাড়া অন্য কোনো বাণিজ্যিক পণ্য পরিবহন করা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এ ছাড়া ই-রিকশায় ৪০ ডেসিবেলের বেশি তীব্রতার হর্ন ব্যবহার করা যাবে না।


ই-রিকশার নিবন্ধন পেতে আবেদনকারীকে বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে এবং তার বয়স কমপক্ষে ১৮ বছর হতে হবে। নির্ধারিত ফি ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ সংশ্লিষ্ট আবেদন ফরম পূরণ করে কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করতে হবে। আবেদন ও দাখিল করা কাগজপত্র যাচাইয়ের পাশাপাশি বুয়েটের নির্ধারিত প্রযুক্তিগত মানদণ্ড এবং নিরাপত্তাবৈশিষ্ট্যের সঙ্গে ই-রিকশার সামঞ্জস্য পরীক্ষা করা হবে। এসব বিষয়ে সন্তুষ্ট হলে আবেদন পাওয়ার ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে নিবন্ধন দেয়ার বিধান রাখা হয়েছে।


নিবন্ধন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে যাত্রী ধারণক্ষমতার ভিত্তিতে। দুজন যাত্রী ধারণক্ষমতার ই-রিকশার প্রারম্ভিক এককালীন নিবন্ধন ফি ৮ হাজার টাকা এবং বার্ষিক নবায়ন ফি ৪ হাজার টাকা। অন্যদিকে, চারজন যাত্রী ধারণক্ষমতার ই-রিকশার এককালীন নিবন্ধন ফি ১০ হাজার টাকা এবং বার্ষিক নবায়ন ফি ৫ হাজার টাকা। এ ছাড়া প্রতিটি ই-রিকশার ফিটনেস সার্টিফিকেটের জন্য ১ হাজার টাকা ফি নির্ধারণ করা হয়েছে।


প্রতিটি নিবন্ধিত ই-রিকশার জন্য কিউআর কোডযুক্ত স্বতন্ত্র নিবন্ধন নম্বর ও নির্দিষ্ট নম্বর প্লেট দেওয়া হবে। এসব নম্বর ও প্লেট যানবাহনের দৃশ্যমান স্থানে প্রদর্শন করতে হবে। একটি জাতীয় পরিচয়পত্রের বিপরীতে এক বা একাধিক সিটি করপোরেশন থেকে সর্বোচ্চ পাঁচটি ই-রিকশার নিবন্ধন নেওয়া যাবে। তবে কোনো একটি সিটি করপোরেশনে নিবন্ধিত ই-রিকশা অন্য সিটি করপোরেশন এলাকায় বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে চালানো যাবে না।


বিধিমালা অনুযায়ী, ই-রিকশার নিবন্ধনের মেয়াদ হবে পাঁচ বছর। মেয়াদ শেষ হলে নির্ধারিত ফি দিয়ে নিবন্ধন নবায়ন করতে হবে। নিবন্ধন গ্রহণ বা নবায়ন ছাড়া কোনো ই-রিকশা সড়কে চলাচল করতে পারবে না। বর্তমানে সড়কে চলাচলরত ই-রিকশাগুলোকেও নিবন্ধন পেতে হলে বুয়েটের নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী নকশা পরিবর্তন করতে হবে।


প্রযুক্তিগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিটি ই-রিকশায় বুয়েট নির্ধারিত মানদণ্ড ও নিরাপত্তাবৈশিষ্ট্য থাকা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রতিটি যানবাহনে স্পিডোমিটার বা ওডোমিটার স্থাপন করতে হবে। কোনো যান্ত্রিক বা নিরাপত্তাজনিত ত্রুটিযুক্ত এবং নিবন্ধনবিহীন অবৈধ ই-রিকশা সড়কে চালানো যাবে না। বিধিমালায় প্রতিটি ই-রিকশার অর্থনৈতিক আয়ুষ্কাল নিবন্ধনের তারিখ থেকে ১২ বছর নির্ধারণ করা হয়েছে। এ সময়সীমা শেষ হলে সংশ্লিষ্ট ই-রিকশার নম্বর প্লেটসহ নিবন্ধন বাতিল করতে হবে।


ব্যাটারি চার্জের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট ব্যবস্থা অনুসরণের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। ই-রিকশার ব্যাটারি সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশনের লাইসেন্সপ্রাপ্ত চার্জিং পয়েন্ট অথবা নির্ধারিত গ্যারেজে চার্জ দিতে হবে। এসব চার্জিং পয়েন্ট বা গ্যারেজে নবায়নযোগ্য জ্বালানি কিংবা সৌরশক্তি ব্যবহারের ব্যবস্থা রাখার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।


নতুন বিধিমালায় ই-রিকশাচালকদের দায়িত্ব ও নিষিদ্ধ কার্যক্রমও উল্লেখ করা হয়েছে। নিবন্ধন ছাড়া যান চালানো, অনুমোদিত গতিসীমা অতিক্রম করা, অতিরিক্ত যাত্রী বহন, অননুমোদিত ব্যাটারি ব্যবহার, মোটর বা যানবাহনের কাঠামো পরিবর্তন এবং নিষিদ্ধ সড়ক বা এলাকায় ই-রিকশা চালানো আইনত দণ্ডনীয় হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া বিপজ্জনকভাবে যান চালানো এবং দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যাওয়াও দণ্ডনীয় অপরাধ বলে প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে। দুর্ঘটনা ঘটলে চালককে সঙ্গে সঙ্গে থামতে হবে।


বাসা থেকে বের হওয়ার আগে তাহসিফ সাউরি। ছবি-ভিডিও থেকে

  • প্রকাশ : শুক্রবার ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১২:০১ পিএম

বিমান বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ সাউরী নিখোঁজ হওয়ার আগে যে বন্ধুস্থানীয় ছোটভাইয়ের ডাকে বাসা থেকে বেরিয়েছিলেন, সেই আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। তাকে পিবিআই ঢাকা মেট্রো উত্তরে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংস্থার সদর দপ্তরের পুলিশ সুপার আবু ইউসুফ।


পিবিআইয়ের এ গণমাধ্যম কর্মকর্তা শুক্রবার সকালে বলেন, “গত রাতে তাকে সেখানে নেওয়া হয়। দুজন একসঙ্গে ছিলেন বলে তারা কোথায় কোথায় গিয়েছিলেন, সে বিষয়ে রেজা দীপের দেওয়া কিছু তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।”


পুলিশ কর্মকর্তা আবু ইউসুফ বলেন, তথ্য সংগ্রহ ও যাচাইয়ের অংশ হিসেবেই তাকে পিবিআই ঢাকা মেট্রো উত্তরে নেওয়া হয়েছে।


ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার দেশত্যাগের ‘ভিডিও ধারণকারী’ হিসেবে আলোচনায় থাকা তাহসিফ সাউরীর ভাসমান লাশ বুধবার বিকালে তুরাগের রাজাবাড়ী ঘাট এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়।


তার বাবা এনায়েতুল করিম জানান, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় দীপের ফোন কলেই তাহসিফ বাসা থেকে বেরিয়েছিলেন। রাত ১টা ৩৫ মিনিটের দিকে তাহসিফ তার মায়ের মোবাইলে একটি বার্তা পাঠিয়ে জানান, তিনি বাসায় ফিরছেন।


তবে ওই বার্তায় তাকে ব্যস্ত মনে হয়েছিল জানিয়ে তিনি বৃহস্পতিবার দুপুরে বলেন, এরপর থেকে তাহসিফ সাউরীর আর কোনো হদিস মিলছিল না।


তবে তাহসিফের এক নিকটাত্মীয় বলেছেন, মায়ের মোবাইলে সবশেষ পাঠানো ‘ভয়েস মেসেজটি’ তার কাছে তাহসিফের বলে মনে হয়নি।


বিমান বাহিনীর সাবেক এ কর্মকর্তা উত্তরার দিয়াবাড়ির বাসা থেকে নিজের বাইক নিয়ে বেরিয়েছিলেন। তার লাশ উদ্ধারের সময় নৌপুলিশ হাতঘড়ি ও মানিব্যাগ পেলেও বাইকটির সন্ধান পায়নি।


পিবিআই প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক মোস্তফা কামাল শুক্রবার সকালে বলেন, “দীপকে হেফাজতে নেওয়ার পর আমরা বেশ কিছু তথ্য পেয়েছি।


“আশা করছি তাহসিফ সাউরীর মোটরসাইকেলটি খুব শিগগির পাওয়া যাবে।”


রেজা দীপ বৃহস্পতিবার বিকালে বলেছেন, বাসা থেকে বের হওয়ার পর তাহসিফের বাইক মেরামতের জন্য তারা গ্যারেজে যান। সেখান থেকে উত্তরার রুয়াপ শপিং কমপ্লেক্সের ‘কুকরুকু’ রেস্তোরাঁয় রাতের খাবার খান।


এরপর সেখান থেকে বেরিয়ে দুজন নিজ নিজ বাইকে ফিরছিলেন। উত্তরা হাউজ বিল্ডিং এলাকা পর্যন্ত একসঙ্গেই ছিলেন। রাত আনুমানিক ১২টার দিকে দুজন আলাদা হয়ে যান। এরপর দীপ নিজে বাসায় ফিরলেও তাহসিফের বিষয়ে ‘আর কিছু জানেন না’ বলে দাবি করেন।


দীপ একটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সদ্য স্নাতক সম্পন্ন করেছেন জানিয়ে বলেছেন, তার বাসা রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী হাসপাতাল এলাকায়।


পুলিশ কর্মকর্তা মোস্তফা কামাল শুক্রবার সকালে বলেন, দীপ ও তাহসিফ মোটরসাইকেল ঠিক করা এবং রেস্তোরাঁয় যাওয়া ছাড়া আর কোথায় কোথায় গিয়েছিলেন, সেই জায়গাগুলোতে নিয়ে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।


২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কুর্মিটোলা বিমানবন্দর থেকে উড়োজাহাজে করে দেশত্যাগের যে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ে, সেটি তাহসিফ সাউরী ধারণ করেছিলেন বলে আলোচনা রয়েছে।


গত জুলাইয়ে এক পডকাস্টে তাহসিফকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, ওই ভিডিও ধারণ করায় বিমান বাহিনী থেকে তার চাকরি গেছে কি না। জবাবে তিনি বলেছিলেন, “হতে পারে।”


ওই পডকাস্ট অনুষ্ঠানে জানতে চাওয়া হয়, ‘আমার দেশ’ পত্রিকার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই ভিডিওর বিষয়ে বিমান বাহিনী তদন্ত করতে গিয়ে বাহিনীর ভেতরে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’-এর সংশ্লিষ্টতা খুঁজে পায় এবং যারা ‘র’-এর সংশ্লিষ্ট ছিলেন, তাদের মধ্যে আপনার নামও আসে।


জবাবে তাহসিফ বলেন, “আমার মনে হয়, ‘আমার দেশ’ যে প্রতিবেদনটা করেছে, এটা তারা আসলে কোনো প্রোপাগান্ডা সার্ভ করছে।”


গত বছরের ৪ অগাস্ট ‘আমার দেশ’-এর প্রতিবেদনটি প্রকাশ হওয়ার পর আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক প্রতিবাদলিপিতে বলে, প্রতিবেদনে তাহসিফসহ দুই কর্মকর্তাকে বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর কথা বলা হয়েছে। ‘বাস্তবে’ এ দুই কর্মকর্তাকে ভিন্ন প্রেক্ষাপটে বিমান বাহিনীর প্রচলিত আইন ও বিধিমালার আওতায় যথাযথ প্রক্রিয়ায় অবসরে পাঠানো হয়েছে, যার সঙ্গে ওই অভিযোগের কোনো সম্পর্ক নেই।


তাহসিফ সাউরীর বাবা বৃহস্পতিবার বলেন, বিমান বাহিনী থেকে তাহসিফের চাকরি যাওয়ার কারণ হিসেবে ‘শৃঙ্খলাজনিত’ বিষয় উল্লেখ করা হয়েছিল।


এরপর তিনি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড এবং নেত্র নিউজে কাজ করেছিলেন বলে জানান বাবা এনায়েতুল করিম।


তার আশঙ্কা, তাহসিফকে হত্যা করে তুরাগে ফেলে দেওয়া হয়।