মহান বিজয় দিবস আজ। বাঙালি জাতির হাজার বছরের শৌর্যবীর্য এবং বীরত্বের এক অবিস্মরণীয় গৌরবময় দিন। বীরের জাতি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করার দিন। পৃথিবীর মানচিত্রে বাংলাদেশ নামে একটি স্বাধীন ভূখণ্ডের নাম জানান দেওয়ার দিন। ১৯৭১ সালে ৯ মাসব্যাপী রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে পাকিস্তানি দখলদার বাহিনীর কবল থেকে দেশ মুক্ত হওয়ার এই দিনটিকে মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) জাতি বিজয় দিবস হিসেবে উদ্যাপন করবে।
পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণ এবং বাংলাদেশ বিশ্ব মানচিত্রে একটি স্বাধীন রাষ্ট্রে পরিণত হওয়ার মুহূর্তকে স্মরণ করে বিজয় দিবস উদ্যাপন শুরু হবে ৩১ বার তোপধ্বনির মধ্য দিয়ে। বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে সকালে সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধের শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে প্রথমে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং এরপর প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন। এরপর, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপদেষ্টার নেতৃত্বে বীরশ্রেষ্ঠ পরিবার, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা এবং বীর মুক্তিযোদ্ধারা সেখানে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন।
এছাড়াও, বাংলাদেশে নিযুক্ত বিদেশি কূটনীতিকরা এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন, সর্বস্তরের মানুষ মহান মুক্তিযুদ্ধে সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকারকারী শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাবেন।
এ উপলক্ষ্যে সকল সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি ভবন এবং বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস এবং মিশনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন এবং গুরুত্বপূর্ণ ভবন ও স্থাপনায় আলোকসজ্জা করা হবে। ঢাকা এবং দেশের বিভিন্ন শহরের প্রধান সড়ক ও সড়ক দ্বীপগুলো ইতোমধ্যেই জাতীয় পতাকাসহ ব্যানার, ফেস্টুন এবং রঙিন পতাকা দিয়ে সজ্জিত করা হয়েছে।
মহান বিজয় দিবস দেশব্যাপী জাঁকজমকপূর্ণভাবে উদ্যাপনের অংশ হিসেবে সর্বোচ্চসংখ্যক জাতীয় পতাকা নিয়ে প্যারাশুটিং করে বিশ্ব রেকর্ড গড়া হবে। এ উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী এবং বিমানবাহিনী সকাল মঙ্গলবার বেলা ১১টা থেকে শহরের তেজগাঁও পুরাতন বিমানবন্দরে পৃথকভাবে ফ্লাই-পাস্ট প্রদর্শন করবে। সেখানে একটি বিশেষ বিজয় দিবস ব্যান্ড শো আয়োজন করা হবে।
এছাড়াও, ‘টিম বাংলাদেশ’-এর ৫৪ জন প্যারাট্রুপার দেশের স্বাধীনতার ৫৪ বছর উপলক্ষ্যে সকাল ১১টা ৪০ মিনিট থেকে পতাকাবাহী স্কাইডাইভ প্রদর্শন করবে। যা বিশ্বের সর্ববৃহৎ পতাকা-প্যারাশুটিং প্রদর্শনী হবে, যা একটি নতুন গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড স্থাপন করবে। এছাড়া, দেশের অন্যান্য শহরেও সশস্ত্র বাহিনী দ্বারা একই রকম ফ্লাই-পাস্ট প্রদর্শনী পরিচালিত হবে। এর পাশাপাশি, পুলিশ, বিজিবি এবং আনসার বাহিনী দেশব্যাপী ব্যান্ড শো আয়োজন করবে। সমস্ত অনুষ্ঠান জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।
বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় দেশের সকল জেলা ও উপজেলায় তিন দিনব্যাপী বিজয় মেলার আয়োজন করবে। জেলা ও উপজেলা প্রশাসন শিশুদের জন্য মুক্তিযুদ্ধের ওপর আবৃত্তি, প্রবন্ধ রচনা এবং চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা এবং দিবসটি উদ্যাপনের জন্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করবে।
সকাল ৯টায়, বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীরা সমবেত হয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, জাতীয় সংগীত পরিবেশন এবং কুচকাওয়াজে অংশগ্রহণ করবে। আজ বিকেল ৩টা থেকে নগরীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বিজয় দিবসের গান পরিবেশিত হবে এবং নতুন প্রজন্মের শিল্পীরা দেশের ৬৪টি জেলায় একযোগে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের গান পরিবেশন করবেন।
এ উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি, বাংলা একাডেমি, জাতীয় জাদুঘর, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর এবং বাংলাদেশ শিশু একাডেমিসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক আলোচনা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, শিশুদের চিত্রাঙ্কন, রচনা ও ক্রীড়া প্রতিযোগিতা এবং মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক তথ্যচিত্র প্রদর্শনের আয়োজন করবে। বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসগুলোও দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে অনুরূপ কর্মসূচি গ্রহণ করবে।
দিবসটি উপলক্ষ্যে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সুবিধাজনক সময়ে স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা এবং অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে ক্রীড়া অনুষ্ঠান, ফুটবল ম্যাচ, টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট টুর্নামেন্ট, কাবাডি ও হাডুডু খেলা আয়োজন করা হবে।
রাষ্ট্রপতি বিকেলে বঙ্গভবনে বীরশ্রেষ্ঠ পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনা জানাবেন। এছাড়াও, মহানগর, জেলা ও উপজেলায় মুক্তিযোদ্ধা এবং শহীদদের পরিবারের সদস্যদের জন্য সংবর্ধনা অনুষ্ঠান আয়োজন করা হবে।
বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতার এবং বেসরকারি টিভি চ্যানেল ও রেডিও মুক্তিযুদ্ধের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস তুলে ধরে অনুষ্ঠান সম্প্রচার করবে। সারা দেশের সিনেমাহলগুলোতে শিক্ষার্থীদের জন্য বিনামূল্যে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র এবং দেশের অডিটোরিয়াম এবং উন্মুক্ত স্থানে মুক্তিযুদ্ধের ওপর ভিত্তি করে তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হবে।
সরকারি এবং স্বায়ত্তশাসিত জাদুঘরগুলো প্রবেশ ফি ছাড়াই সারাদিন জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে, অন্যদিকে দেশের সকল বিনোদন কেন্দ্রে শিশুদের জন্য বিনামূল্যে প্রবেশের সুযোগ থাকবে। এছাড়াও, চট্টগ্রাম, খুলনা, মংলা এবং পায়রা বন্দর, ঢাকা সদরঘাট, পাগলা এবং বরিশালসহ বিআইডব্লিউটিসি জেটিতে সকাল ৯টা থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত বাংলাদেশ নৌবাহিনী এবং কোস্টগার্ডের জাহাজগুলো জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।
শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের বিদেহী আত্মার চিরশান্তি, আহত প্রবীণদের সুস্থতা এবং দেশের শান্তি ও অগ্রগতি কামনা করে মসজিদ, মন্দির, গির্জা, প্যাগোডা এবং অন্যান্য উপাসনালয়ে বিশেষ প্রার্থনা করা হবে। এছাড়াও দেশের সকল হাসপাতাল, কারাগার, বৃদ্ধাশ্রম, এতিমখানা, পথশিশু পুনর্বাসন কেন্দ্র, প্রতিবন্ধী কল্যাণ কেন্দ্র, ডে-কেয়ার সেন্টার, শিশু উন্নয়ন কেন্দ্র এবং শিশু পরিবার এবং সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের উন্নত খাবার পরিবেশন করা হবে।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান
চার দশক পর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতির আসনে আরেকবার বসল বাংলাদেশ।
আজ মঙ্গলবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে সভাপতিত্ব করার মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ শুরু করলেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান।
গত ২ জুন জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতি পদের নির্বাচনে বাংলাদেশের প্রার্থী খলিলুর রহমান ৯৯ ভোট পেয়ে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী সাইপ্রাসের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বিশেষ দূত আন্দ্রেয়াস এস কাকোরিসকে পরাজিত করেন।
নিউইয়র্কের স্থানীয় সময় অনুযায়ী মঙ্গলবার দুপুরে খলিলুর রহমানের সভাপতিত্বে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের নতুন অধিবেশন শুরু হয়। সভাপতির দায়িত্ব নেওয়ার আগে ৮১তম অধিবেশন নিয়ে নিজের পরিকল্পনা তুলে ধরেন তিনি। এরপর তিনি কাজ শুরু করেন।
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে ২২ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের ভাষণের মধ্য দিয়ে শুরু হবে উচ্চপর্যায়ের সাধারণ বিতর্ক। এ অধিবেশনে যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
সাবেক পেশাদার কূটনীতিক খলিলুর রহমান কর্মজীবনের বড় অংশজুড়ে জেনেভা ও নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে বিভিন্ন সংস্থায় দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৯৯১ সালে জেনেভায় জাতিসংঘ বাণিজ্য ও উন্নয়ন সম্মেলনের (আঙ্কটাড) বিশেষ উপদেষ্টা হিসেবে যোগ দেন খলিলুর রহমান।
এরপর ২৫ বছর নিউইয়র্ক ও জেনেভায় জাতিসংঘের বিভিন্ন জ্যেষ্ঠ পদে দায়িত্ব পালন করেন তিনি; ছিলেন জাতিসংঘের বিভিন্ন প্রকাশনার প্রধান লেখক।
বাংলাদেশ ২০২০ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতি পদে নির্বাচনে প্রার্থিতা ঘোষণা করে। তবে এই পদে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানকে দেশের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হয় গত ২৭ ফেব্রুয়ারি। এর পর থেকে পূর্ণমাত্রার কূটনৈতিক প্রচার শুরু হয়। দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তুতির সুযোগ ছিল না।
তবে স্বল্প সময়ের মধ্যেই বাংলাদেশ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক, দ্বিপক্ষীয় যোগাযোগ এবং বহুপক্ষীয় কূটনৈতিক ফোরামে অত্যন্ত সক্রিয় ও কৌশলগত প্রচার চালিয়ে আন্তর্জাতিক সমর্থন অর্জনে সফল হন। অপর দিকে বাংলাদেশের প্রতিদ্বন্দ্বী সাইপ্রাস ২০১৬ সালে তাদের প্রার্থিতা ঘোষণা করে। এক দশক ধরে ধারাবাহিক প্রচার চালায় দেশটি।
১৯৮৬ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৪১তম অধিবেশনে সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছিলেন বাংলাদেশের সাবেক পররাষ্ট্রসচিব ও রাজনীতিবিদ হুমায়ুন রশিদ চৌধুরী।
রাজনীতিতে যোগদানের পর বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনের ফাঁকে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছিলেন তিনি। পরে জাতীয় সংসদের স্পিকার হন হুমায়ুন রশিদ চৌধুরী।
স্বামী-স্ত্রী উভয়ের কর্মস্থল কাছাকাছি, একই জায়গা, শহর কিংবা একই উপজেলায় রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।
তিনি আজ সংসদে বিরোধী দলের সদস্য মারদিয়া মমতাজের বিধি-৭১ এর আওতায় জরুরি জন-গুরুত্বসম্পন্ন বিষয়ে মনোযোগ আকর্ষণ নোটিশের জবাবে এ কথা জানান।
সমাজকল্যাণমন্ত্রী জানান, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের অধীনে ৪৪টি ডে-কেয়ার সেন্টার ইতোমধ্যে কাজ করছে। বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে রয়েছে ২০টি ডে-কেয়ার সেন্টার। এছাড়াও আরও ২০টি ডে-কেয়ার অর্থাৎ মোট ৬৪টি ডে-কেয়ার সেন্টার এই মুহূর্তে ঢাকা শহর এবং ঢাকার বাইরে আমরা পরিচালনা করছি।
তিনি বলেন, সারা বাংলাদেশে আরও ৬০টি ডে-কেয়ার সেন্টার স্থাপনের জন্য কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। এই সমস্ত ডে-কেয়ার সেন্টারগুলোতে ইতোমধ্যে ৪ হাজার ৫০টি ১৫ দিন থেকে ৬ বছর বয়সী শিশুদের অফিস চলাকালীন সকাল সাড়ে ৮টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত রাখার ব্যবস্থা রয়েছে।
মন্ত্রী জানান, বর্তমানে ৫৩টি শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্রে কর্মরত মায়েদের জন্য ব্রেস্টফিডিং সেন্টারও আমাদের আছে। আরও ১১টি ব্রেস্টফিডিং সেন্টার স্থাপনের কার্যক্রম প্রায় শেষ পর্যায়ে। এছাড়া আরও ১২টি কিছুদিনের মধ্যে করতে পারবো। অর্থাৎ ৬৪টিতেই ব্রেস্টফিডিংয়ের ব্যবস্থা সুনিশ্চিত করা হবে।
বাংলাদেশ জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব নিচ্ছে আজ
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান আজ মঙ্গলবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।
আজ বাংলাদেশ সময় রাত ৯টায় নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮০তম অধিবেশনের সমাপ্তি পর্ব এবং ৮১তম অধিবেশনের নবনির্বাচিত সভাপতি ড. খলিলুর রহমানের আনুষ্ঠানিক শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
শপথ গ্রহণের আগে বাংলাদেশ সময় রাত ৮টা ৪৫ মিনিটে মিডিয়া ব্রিফিংয়ে অংশ নেবেন ড. খলিলুর রহমান। তাঁর দায়িত্ব গ্রহণের মধ্য দিয়ে চার দশক পর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্বে ফিরছে বাংলাদেশ।
শপথ গ্রহণের পর বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের প্রথম প্লেনারি সভায় সভাপতিত্ব করবেন ড. খলিলুর রহমান।
ছবি : সংগৃহীত
অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, উনি (সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন) আইনজীবীদের কল্যাণে ও স্বার্থে কিছু কথা প্রধান বিচারপতির কাছে বলেছেন বলে দাবি করেছেন। আসলে এমন কোনো কথা আজকের মামলার প্রসিডিংয়ে (কার্যধারা) হয়নি।
এক মামলায় আইনজীবীকে পাঁচ লাখ টাকা খরচা আরোপের বিষয়টি সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি মাহবুব উদ্দিন খোকনের উপস্থাপনের এক পর্যায়ে আজ মঙ্গলবার দুপুর ১২টার পর এজলাস ত্যাগ করেন প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন পাঁচ বিচারপতির আপিল বিভাগ। এ বিষয়ে হাইকোর্ট বিভাগের বর্ধিত ভবনের সামনে ব্রিফিং করেন এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন।
পরে নিজ কার্যালয়ে বেলা সোয়া দুইটার দিকে ব্রিফিং করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। তিনি বলেন, প্রধান বিচারপতি বিচারিক শৃঙ্খলা, সততা প্রাধান্য দেন। কোনো প্রতারণা যদি দেখেন, তা সিরিয়াসলি ডিল (গুরুত্বের সঙ্গে দেখেন) করেন।
যে কারণে খরচা আরোপ
২০১৩ সালে একজন কাজি নিয়োগ থেকে শুরু হওয়া ঘটনা উল্লেখ করে রুহুল কুদ্দুস বলেন, ‘যেখানে মামলার বাদী পাঁচটি রিট দায়ের করেছেন একই আদেশ চ্যালেঞ্জ করে। পাঁচটি রিট দায়ের করেছেন অথচ পূর্বে রিজেক্ট হওয়ার আদেশটি পরবর্তী রিটে উল্লেখ করা হয়নি। যে কারণে নারী আইনজীবীকে আজ আপিল বিভাগ ফাইন করেছেন পাঁচ লাখ টাকা এবং রিট আবেদনকারীকে পাঁচ লাখ টাকা, যে টাকা সুপ্রিম কোর্টের পক্ষ থেকে ঢাকা শিশু হাসপাতালে জমা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। নারী আইনজীবীর বক্তব্য অনুযায়ী মামলায় সিনিয়র আইনজীবী ছিলেন এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন। সকালে যখন আদেশ হয়, তখন নারী আইনজীবী আমার পাশে বসে আদেশটি শুনেছেন; মাহবুব উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন না।’
ওই মামলায় সকাল সোয়া নয়টার দিকে আদেশ হয় বলে জানান অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল। তিনি বলেন, ‘আর এ ঘটনার (এজলাস ত্যাগ) অবতারণা হচ্ছে ১২টা ৩৫ সময়। অন্য একটি মামলার সময় মাহবুব উদ্দিন খোকন ওই প্রসঙ্গে (খরচা আরোপ) বললেন যে “একজন আইনজীবীকে আপনারা ফাইন করেছেন।”
এর পরিপ্রেক্ষিতে তখন প্রধান বিচারপতি বলেন, “দেখেন, আমরা সবকিছুতে দেখে–শুনে একটা আদেশ দিয়েছি, আমাদের আদেশ আমরা পরিবর্তন করব না। কারণ, ওনাদের (আদালত) বক্তব্য অনুযায়ী সিরিয়াস ফ্রড করা হয়েছে। আদালতের সঙ্গে প্রতারণা এমনকি সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের ইতিপূর্বের আদেশও ফ্রড করা হয়েছে।”
এ পরিস্থিতিতে বললেন, “আপনি (মাহবুব উদ্দিন খোকন) এটা বলবেন না।”
কথোপকথন ও এজলাস ত্যাগ
অ্যার্টনি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস বলেন, তখন অত্যন্ত অপ্রত্যাশিতভাবে মাহবুব উদ্দিন খোকন বলে ফেললেন যে ‘আপনি প্রধান বিচারপতি হওয়ার পরে আইনজীবীদের ইনকাম কমে গেছে।’ বিষয়টি প্রধান বিচারপতি একটু লাইটলি নিলেন।
তারপরে বললেন, ‘আপনি (মাহবুব উদ্দিন খোকন) কি এটা মিন করেন? মাহবুব উদ্দিন খোকন অনেকটা সেই একই কথা বলার যখন চেষ্টা করেন, তখন প্রধান বিচারপতি বলেছেন যে ‘আপনি (খোকন) যে কথাটা বলেছেন, সেটা অ্যাবসলিউটলি আদালত অবমাননার শামিল। যেহেতু আপনি এত বড় একটা কথা বলেছেন, আমি আজকে আর আদালতের কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করব না।’
এ কথা বলে উনি (প্রধান বিচারপতি) উঠে (এজলাস থেকে) গেছেন।’
জাহেদ-উর-রহমান ও বাঁধন
অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।
তিনি বলেছেন, বাঁধনের ওপর হামলার ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আমরা প্রস্তুত আছি, আপনারা একই কাজ করতে পারেন এবং এটা কারো ওপরে যদি হয়, আমরা ছাড়বো না, নিশ্চিত ছাড়বো না।
আজ মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
বাঁধনের ওপর হামলা প্রসঙ্গে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, আজমেরী হক বাঁধনের ওপর হামলা হয়েছে। আমরা ভিডিও দেখেছি। যারা হামলা করেছেন, তারাও নিজেরা ভিডিও করে সেটা প্রকাশ করেছেন।
তিনি বলেন, এই ব্যাপারে আইনানুগ ব্যবস্থা ওই দেশে যা যা নেওয়া, এটার প্রসেস শুরু হয়েছে। আমরা অবশ্যই এটা ছেড়ে দেবো না। এটা কোনোভাবেই ছেড়ে দেওয়া যাবে না।
আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের হামলার প্রসঙ্গ তুলে জাহেদ উর রহমান বলেন, আওয়ামী লীগ একটা রাজনৈতিক দল কি না, এই আলাপটা আমরা কেউ কেউ করেছি। খুব করেছি। আমি আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিক দল মনে করি না। ইট ইজ আ মাফিয়া গ্যাং।
আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিক দল হিসেবে বিবেচনা করে তাদের দেশে রাজনীতি করার সুযোগ দেওয়া উচিত কি না, বাঁধনের ওপর হামলার ঘটনা সেই প্রশ্ন আবারও সামনে এনেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তথ্য উপদেষ্টা বলেন, আপনি (আওয়ামী লীগ) যা যা ঘটিয়েছেন, যদি আপনার ন্যূনতম দুঃখবোধ থাকতো, আপনার যদি রাজনীতিতে ফিরে আসার উদ্দেশ্য থাকতো, এই সহিংসতাগুলো করা হতো না। কোনোভাবেই হতো না।
বাঁধনের ওপর হামলার ঘটনাকে তার জন্য এক ধরনের সম্মান ও অর্জন হিসেবে উল্লেখ করেন জাহেদ উর রহমান।
তিনি বলেন, আজমেরী হক বাঁধনের উদ্দেশ্যে বলব, এটা তার এক ধরনের অর্জন, সম্মানপ্রাপ্তি যে, আওয়ামী লীগের হেনস্তার শিকার হওয়া, একটা মাফিয়া গ্যাংয়ের শিকার হওয়া প্রমাণ করে আপনি আসলে সঠিক পথে ছিলেন।
তথ্য উপদেষ্টা বলেন, একইভাবে আমরা অনেকেই হামলার শিকার হতে পারি। বাট উই ডোন্ট কেয়ার। একেবারেই না।
দেশের বাইরে থাকা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের হামলার প্রসঙ্গেও কথা বলেন তথ্য উপদেষ্টা। তিনি বলেন, এর আগেও করেছে, এটা অব্যাহত আছে। আমরা প্রস্তুত আছি, আপনারা একই কাজ করতে পারেন এবং এটা কারো ওপরে যদি হয়, আমরা ছাড়বো না, নিশ্চিত ছাড়বো না।
শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে জাহেদ উর রহমান বলেন, শেখ হাসিনাকেই কেয়ার করিনি, আমরা ওই সময় শেখ হাসিনার ১৪ পুরুষকে পালাতে বাধ্য করেছি। আর সেখানে কিছু মাস্তান একটু পার্ক-টার্কে মাস্তানি করবে, উই ডোন্ট কেয়ার। তবে আমরা ছাড়বো না, নিশ্চিত ছাড়বো না।
শেখ হাসিনা ও জাহেদ-উর-রহমান
শেখ হাসিনাকে ভারত থেকে ফেরত আনার বিষয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট ও অনড় বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেন, শেখ হাসিনা নিজে আসুন বা সরকার তাকে ফিরিয়ে আনুক তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে কোনো কৌশল নেই।
আজ মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা বলেন।
ভারতের গণমাধ্যমে হাসিনাকে এখনও কথা বলতে দেওয়া অপ্রত্যাশিত: তথ্য উপদেষ্টা
জাহেদ উর রহমান বলেন, শেখ হাসিনাকে সরকার ফিরিয়ে আনতে চায় কি না এ নিয়ে কেউ কেউ যে ধরনের অনুমান করছেন, তা সঠিক নয়। ভারতের ওপর চাপ তৈরির জন্য প্রত্যর্পণের দাবি তোলা হচ্ছে এমন কোনো কৌশল সরকারের নেই। ভারত সরকারের সঙ্গে বিষয়টি শর্ত হিসেবে দেওয়া হয়েছিল এবং সেটিকে গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়ার কথা বলা হয়েছিল।
তিনি বলেন, আমরা প্রায়ই বলছি, আপনি (শেখ হাসিনা) আসবেন না, আপনাকে ধরে নিয়ে আসতে চাই। আপনি আসামি, আপনি পলাতক আসামি, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি।
শেখ হাসিনার আপিলের সুযোগ নিয়েও কথা বলেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রধান প্রসিকিউটর জানিয়েছেন, শেখ হাসিনার এখন আর আপিল করার সুযোগ নেই। ফলে তিনি দেশে ফিরে বিচার পুনর্বিবেচনার সুযোগও পাবেন না।
জাহেদ উর রহমান বলেন, টেকনিক্যালি এখন ব্যাপারটা এ রকম তিনি আসবেন এবং তার জন্য মৃত্যুদণ্ড অপেক্ষা করছে। আমরা তাকে ধরে আনতে চাই।
ভারতীয় গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার নিয়ে অসন্তোষ
সম্প্রতি শেখ হাসিনা ভারতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠিত গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিচ্ছেন উল্লেখ করে এ বিষয়ে ভারত সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেন, শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান করে সংবাদমাধ্যমে কথা বলছেন এটি সরকারের কাছে অপ্রত্যাশিত। প্রত্যর্পণ না হওয়া পর্যন্ত অন্তত তিনি যেন এ ধরনের কর্মকাণ্ড করতে না পারেন, ভারত সরকারের কাছ থেকে সে বিষয়ে পদক্ষেপ প্রত্যাশা করেছিল বাংলাদেশ।
তিনি বলেন, আমরা এক্সপেক্ট করবো ভারত সরকার, এ ব্যাপারে তাকে একটা বার (বাধা) দেবেন। একই সঙ্গে শেখ হাসিনা ভারতে কী ধরনের মর্যাদা বা অধিকার ভোগ করছেন, সে বিষয়েও স্পষ্ট কোনো তথ্য নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ভারত সরকারের এ অবস্থান ‘সঠিক হচ্ছে না’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, শেখ হাসিনাকে ফেরত চাওয়ার দাবি শক্তিশালী এবং তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সরকারের কোনো দ্বিধা নেই।
ভারত চাইলে সম্পর্ক উন্নয়নে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নিতে পারে
বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের উন্নয়নে ভারত চাইলে তাৎক্ষণিকভাবে একটি পদক্ষেপ নিতে পারে বলেও মন্তব্য করেন জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেন, সেটি হলো শেখ হাসিনাকে গণমাধ্যমে কথা বলা থেকে বিরত রাখা।
তিনি বলেন, ইন্ডিয়ান সরকার সম্পর্কটা উন্নতি করার জন্য অন্তত একটা স্টেপ ইমিডিয়েটলি নিতে পারতো, সেটা হচ্ছে তার মুখ বন্ধ রাখা। সেটা কেন নিচ্ছেন না, সেই জবাব আমার মনে হয় আমি আপনাদের কাছে চাইবো।
ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনারের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, তিনি গণমাধ্যমবান্ধব এবং সাংবাদিকদের সঙ্গে নিয়মিত কথা বলেন। একই সঙ্গে পেশাদার কূটনীতিকের পরিবর্তে একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিকে হাইকমিশনার হিসেবে পাঠানোকে বাংলাদেশ ইতিবাচক সংকেত হিসেবে দেখেছে বলেও জানান তিনি।
তবে শেখ হাসিনার বক্তব্যের কারণে বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে যে ক্ষোভ তৈরি হচ্ছে, তা ভারতীয় পক্ষের বোঝা উচিত বলে মন্তব্য করেন জাহেদ উর রহমান।
তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বিভিন্ন ঘটনায় বাংলাদেশিরা হামলার শিকার হচ্ছেন। এমন পরিস্থিতিতে শেখ হাসিনাকে ভারতীয় গণমাধ্যমে কথা বলতে দেখা বাংলাদেশের মানুষের জন্য কতটা ‘ইরিটেটিং’ (বিরক্তিকর) ও ক্ষোভের তা ভারত সরকারের বোঝা উচিত।
আস্থার পরিবেশ তৈরির তাগিদ
শেখ হাসিনার একটি সংবাদ সম্মেলনের পর বাংলাদেশের পক্ষ থেকে দেওয়া প্রতিবাদলিপির প্রসঙ্গও তুলে ধরেন জাহেদ উর রহমান।
তিনি বলেন, দুই দেশের সম্পর্কের উন্নতির জন্য একটি আস্থার পরিবেশ তৈরি করা প্রয়োজন। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ভারতকে বিশ্বাস করানোর মতো পরিস্থিতি তৈরি করতে হবে যে তারা বাংলাদেশের সঙ্গে যথেষ্ট সম্পৃক্ত হতে চায়।
তিনি আরও বলেন, একটা এনভায়রনমেন্ট আসলে লাগবে আস্থার এনভায়রনমেন্ট। আমাকে কনভিন্সড হতে হবে আপনি আসলে আমার সঙ্গে যথেষ্ট এনগেজ করতে চাইছেন।
সার্বিকভাবে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের দাবিকে বাংলাদেশের সরকারের গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান হিসেবে তুলে ধরে জাহেদ উর রহমান বলেন, তাকে দেশে ফেরানোর বিষয়ে সরকারের কোনো কৌশল বা দ্বৈত অবস্থান নেই। তিনি নিজে দেশে ফিরুন কিংবা তাকে ফিরিয়ে আনা হোক- সরকার তাকে দেশে ফেরাতে চায়।