ছবি: সংগৃহীত।
বাংলাদেশের বৃহত্তম ইসলামপন্থি দলটি আগামী মাসে ভোট বাক্সে তাদের সেরা পারফরম্যান্স দেখাতে প্রস্তুত। এ প্রেক্ষাপটে মার্কিন কূটনীতিকরা দলটির সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর চেষ্টা করছেন। ওয়াশিংটন পোস্টের প্রাপ্ত অডিও রেকর্ডিং থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার প্রকাশিত দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে আসে।
সাংবাদিক প্রাণসু বর্মার প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশের ইতিহাসে জামায়াতে ইসলামী সংগঠনটি একাধিকবার নিষিদ্ধ হয়েছে। সর্বশেষ ২০২৪ সালে ছাত্র বিক্ষোভে উৎখাত হওয়ার আগে শেখ হাসিনাও দলটিকে নিষিদ্ধ করেন। দলটি ঐতিহ্যগতভাবে শরিয়াহ আইন দ্বারা শাসন পরিচালনা ও নারীদের ‘তাদের সন্তানদের প্রতি কর্তব্য পালনে’ সহায়তার জন্য কর্মঘণ্টা হ্রাসের পক্ষে বলে আসছে। সম্প্রতি জনসাধারণের মধ্যে ভাবমূর্তি নরম করতে ও সমর্থন বাড়াতে তারা বলেছে, দুর্নীতি নির্মূল করতেই তাদের মনোনিবেশ।
অডিও রেকর্ডিংয়ের উদ্ধৃতি দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপট পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে সেখানকার মার্কিন কূটনীতিকরা ইঙ্গিত দিয়েছেন– তারা পুনরুত্থিত ‘ইসলামপন্থি আন্দোলনের’ সঙ্গে কাজ করার জন্য উন্মুখ। গত ১ ডিসেম্বর বাংলাদেশের নারী সাংবাদিকদের সঙ্গে এক রুদ্ধদ্বার বৈঠকে ঢাকায় নিযুক্ত এক মার্কিন কূটনীতিক বলেন, বাংলাদেশ ‘ইসলামিকভাবে পরিবর্তিত হয়েছে’। তিনি ভবিষ্যদ্বাণী করেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী ‘আগের চেয়ে ভালো করবে’। ওই কূটনীতিক বলেন, ‘আমরা চাই তারা আমাদের বন্ধু হোক।’
নিরাপত্তার কারণে ওই কূটনীতিকের নাম প্রকাশ করা হয়নি। জামায়াত বাংলাদেশে ইসলামী আইনের ব্যাখ্যা জোর করে প্রয়োগের চেষ্টা করবে– এমন উদ্বেগকে তিনি খাটো করে দেখছেন। তিনি বলেন, ওয়াশিংটনের কাছে এমন সুবিধা রয়েছে, যা তারা ব্যবহার করতে প্রস্তুত। ওই কূটনীতিক বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি না যে, জামায়াত শরিয়াহ আরোপ করতে পারে।’ আর দলটির নেতারা যদি উদ্বেগজনক পদক্ষেপ নেন, তাহলে কী হবে– এমন প্রশ্নে ওই কূটনীতিক বলেন, এমনটা করলে যুক্তরাষ্ট্র ‘পরদিন তাদের ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করবে।’
দ্য ওয়াশিংটন পোস্টকে দেওয়া বিবৃতিতে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মুখপাত্র মনিকা শি বলেন, ডিসেম্বরে যে কথোপকথন হয়েছিল, তা ছিল নিয়মিত আলোচনা। এটা মার্কিন দূতাবাসের কর্মকর্তা ও স্থানীয় সাংবাদিকদের মধ্যে রেকর্ডবিহীনভাবে হয়েছে।
তিনি বলেন, বৈঠকে ‘অনেক রাজনৈতিক দল নিয়ে আলোচনা হয়। যুক্তরাষ্ট্র একটি রাজনৈতিক দলকে অন্য দলের চেয়ে বেশি প্রাধান্য দেয় না। বাংলাদেশের জনগণের দ্বারা নির্বাচিত যে সরকারই হোক না কেন, তার সঙ্গে কাজের পরিকল্পনা (ওয়াশিংটনের) রয়েছে।’
এ প্রসঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর মার্কিন মুখপাত্র মোহাম্মদ রহমান এক বিবৃতিতে বলেন, ‘একটি ব্যক্তিগত কূটনৈতিক বৈঠকে করা মন্তব্যের প্রেক্ষাপটে আমরা মন্তব্য না করার সিদ্ধান্ত নিই।’ মার্কিন গণমাধ্যমটি লিখেছে, এসব মন্তব্য পরিবর্তনের এ গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন কূটনীতিকরা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ কীভাবে দেখছেন, তার একটি স্পষ্ট চিত্র তুলে ধরে।
এ প্রসঙ্গে আটলান্টিক কাউন্সিলের দক্ষিণ এশিয়ার একজন জ্যেষ্ঠ ফেলো মাইকেল কুগেলম্যান বলেন, জামায়াতে ইসলামীর প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের যোগাযোগ ‘যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের মধ্যে সম্ভাব্যভাবে আরেকটি ফাটল তৈরি করতে পারে।’ পাকিস্তানের সঙ্গে ভারতের সাম্প্রতিক বিরোধ, রাশিয়ান তেল ক্রয়, একটি অসমাপ্ত বাণিজ্য চুক্তি ও অনেক ভারতীয় পণ্যের ওপর মার্কিন শুল্ক আরোপের কারণে দেশগুলোর মধ্যে সম্পর্ক ইতোমধ্যেই তলানিতে পৌঁছেছে।
তিনি বলেন, ‘বহু বছর ধরে বাংলাদেশে ভারতের সবচেয়ে বড় ভয় জামায়াতকে।’ ভারত দলটিকে পাকিস্তানের মিত্র ও তাদের আঞ্চলিক নিরাপত্তা কৌশলের জন্য হুমকি হিসেবে দেখে। তবে মনিকা শি তাঁর বিবৃতিতে লেখেন, বাংলাদেশের নির্বাচন ‘মার্কিন-ভারত সম্পর্কের ওপর কোনো উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলবে না।’
প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক ইতোমধ্যেই তলানিতে। হাসিনা ভারত সরকারের মিত্র ছিলেন এবং ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর নয়াদিল্লিতে নির্বাসনে যান। গত নভেম্বরে বাংলাদেশের ট্রাইব্যুনাল তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেয়, যেখানে কমপক্ষে এক হাজার ৪০০ বিক্ষোভকারীর হত্যাকাণ্ডের তত্ত্বাবধানের জন্য তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের অনুরোধ সত্ত্বেও ভারত তাঁকে তাঁর সাজা ভোগ করার জন্য ঢাকায় প্রত্যর্পণ করেনি।
অস্থিতিশীল অবস্থান মধ্যে দেশে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা ও রাজনৈতিক পরিবর্তনের জন্য দেশকে প্রস্তুত করার চেষ্টা করছে অন্তর্বর্তী সরকার। ২০২৪ সালে ক্ষমতা গ্রহণের পর ইউনূস (অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস) বলেছিলেন, ‘বাংলাদেশ একটি পরিবার। আমাদের একে ঐক্যবদ্ধ করতে হবে।’ গত সপ্তাহে এক্স পোস্টে তিনি বলেন, আসন্ন নির্বাচন সুষ্ঠু ও সময়মতো হবে। যে যাই বলুক, নির্বাচন ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের আশা, নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর শক্তিশালী প্রদর্শন থাকবে। অস্ট্রেলিয়ার ওয়েস্টার্ন সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলাদেশি রাজনীতির বিশেষজ্ঞ ও সহকারী গবেষক মুবাশ্বার হাসানের মতে, হাসিনার অধীনে রাজনীতি থেকে নিষিদ্ধ হওয়ার পর প্রচারণার সময় দলটি গতি পেয়েছে। এখন মূলধারায় পরিণত হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র জামায়াতের মুখপাত্র মোহাম্মদ রহমান বলেন, দলটি ‘দুর্নীতিবিরোধী, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও সুশাসন’-এর প্ল্যাটফর্মে চলছে। নারীদের জন্য কর্মঘণ্টা কমানোর প্রস্তাবটি এখনও ‘প্রাথমিক পর্যায়ে’। শরিয়াহ আইন বাস্তবায়নের কোনো পরিকল্পনা দলের নেই।
ছবি : সংগৃহীত
মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হত্যাযজ্ঞের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকীকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। এ মামলায় তাকে হাতকড়া পরানো নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন তার ছোট ভাই, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল কাদের সিদ্দিকী (বীর উত্তম)। আজ বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।
হাতকড়া প্রসঙ্গে কাদের সিদ্দিকী বলেন, ‘এ নিয়ে কোনো কথা বলার নেই। এটা সরকার বুঝবে। আমাদের হাতে বহুবার হাতকড়া পড়েছে। এতে আমরা খারাপ কিছু মনে করি না। বিয়ের সময় মেয়ের হাতে যেমন চুড়ি পরানো হয়, আমরা হাতকড়াকেও তেমনই মনে করি।’
তিনি বলেন, ‘নিষ্পাপ একজন মানুষকে অন্যায়ভাবে আসামি করায় প্রতিবাদ জানাতে এসেছি। আদালতে প্রত্যেক অভিযুক্তের কথা বলার অধিকার আছে। লতিফ সিদ্দিকীও কথা বলতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তাকে সেই সুযোগ দেওয়া হয়নি।’
লতিফ সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে কাদের সিদ্দিকী বলেন, ‘তার বয়স এখন ৮৭ বছর। তিনি যদি এমন অপরাধে ফাঁসির দণ্ড পান, যা তিনি করেননি, তাহলে দুনিয়ায় যে ভুল-ত্রুটি করেছেন, সেগুলো থেকে তিনি মাফ পাবেন। আমরাও তা সাদরে গ্রহণ করব। কারণ শেষ বিচারে আল্লাহ তাআলা তাকে মুক্তি দেবেন।’
শাপলা চত্বরে গণহত্যার পরিকল্পনাকারী হিসেবে লতিফ সিদ্দিকীকে আসামি করা হয়েছে- এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে কাদের সিদ্দিকী বলেন, তাকে পরিকল্পনাকারী বলা যায় না। কারণ তিনি তখন ‘কিচেন কেবিনেটের’ সদস্য ছিলেন না। তিনি পাটমন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন। ‘পাট নিয়ে হত্যা চলে না। ওই সময় বিভিন্ন ঘটনা নিয়ে তিনি আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনার কাছে বিতর্কিত ছিলেন। পরে তাকে আওয়ামী লীগ থেকেও বহিষ্কার করা হয়’।
আওয়ামী লীগের শাসনামলের ঘটনার বিচার এখন তার ভাইকে মোকাবিলা করতে হচ্ছে- এ বিষয়ে কাদের সিদ্দিকী বলেন, ‘এটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আমরা আইনের মাধ্যমেই লড়াই চালিয়ে যাব।’
অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়
আগের সব নিয়োগ বাতিল করে নতুন করে ৮৬ জন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এবং ১৭৯ জন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার আইন ও বিচার বিভাগের সলিসিটর অনুবিভাগ থেকে পৃথক আদেশে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে।
২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে অ্যাটর্নি কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের পদত্যাগ চলে। এর মধ্যে ৮ অগাস্ট সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মো. আসাদুজ্জামানকে অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়, যিনি বর্তমানে আইনমন্ত্রীর দায়িত্বে রয়েছেন।
১৩ অগাস্ট আইনজীবী আব্দুল জব্বার ভুঁইয়া, অনীক আর হক ও মোহাম্মদ আরশাদুর রউফকে অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে নিয়োগ দেয় সরকার। এরপর ২৮ অগাস্ট ৬৬ জন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এবং ১৬১ জন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল নিয়োগ দেয় অন্তর্বর্তী সরকার।
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের পরে গত ২৩ জুন অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের জামায়াতপন্থি হিসেবে ১৮ জন আইন কর্মকর্তা পদত্যাগ করেন। তাদের মধ্যে সাতজন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল (ডিএজি) এবং ১১ জন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল (এএজি) পদে ছিলেন।
জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না হওয়া, বিচার বিভাগের জন্য পৃথক সচিবালয় গঠনে রাষ্ট্রের বিরোধিতা এবং সুপ্রিম কোর্টে বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ বাতিলের প্রতিবাদে তারা একযোগে পদত্যাগের কথা জানিয়েছিলেন।
কমলো হজ টিকেটের দাম
বাংলাদেশি হজযাত্রীদের ব্যয় কমাতে হজের বিমান টিকিটের মূল্য আরও ২৫ হাজার টাকা কমিয়েছে সরকার। ফলে ২০২৬ সালের হজে বিমান টিকিটের নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে এক লাখ ৩০ হাজার টাকা।
আজ বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে জাতীয় হজ ও ওমরাহ ফেয়ার-২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ ঘোষণা দেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। তিন দিনব্যাপী এই ফেয়ারের আয়োজন করেছে হজ এজেন্সিজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (হাব)।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সবার আগে বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান সরকার দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। এ যাত্রায় বাংলাদেশি হজযাত্রীদের জন্য যৌক্তিক খরচে ও হয়রানিমুক্ত পরিবেশে হজ প্যাকেজ নিশ্চিত করাকে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।
তিনি বলেন, গত বছর আমরা প্রতি টিকিটে ১২ হাজার টাকা খরচ কমাতে সক্ষম হয়েছিলাম। এ বছর আমরা টিকিটপ্রতি খরচ আরও ২৫ হাজার টাকা কমিয়ে এক লাখ ৩০ হাজার টাকায় নামিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছি।
এছাড়া বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সৌদি সরকারের কাছে বিমান টিকিটের ওপর আরোপিত সৌদি বিমানবন্দরের নির্মাণ কর কমানোর অনুরোধ জানানো হয়েছে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী।
তিনি বলেন, বাংলাদেশি হাজিদের আবাসন ব্যয় কমানোর লক্ষ্যে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার বিষয়েও সৌদি রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বিস্তর আলোচনা হয়েছে।
বক্তব্যের শেষে প্রতিমন্ত্রী নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষিত প্রতিশ্রুতিগুলো সফলভাবে বাস্তবায়নের জন্য উপস্থিত ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের কাছে দোয়া কামনা করেন। একই সঙ্গে হজযাত্রীদের সঙ্গে কোনো ধরনের প্রতারণা করা হলে সংশ্লিষ্টদের সর্বোচ্চ শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন।
অনুষ্ঠানে ধর্মসচিব মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদ এনডিসি বলেন, বাংলাদেশের হজযাত্রীদের মাত্র পাঁচ শতাংশ সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ পালন করেন, আর বাকি ৯৫ শতাংশ বেসরকারি হজ এজেন্সির মাধ্যমে সৌদি আরব যান। তিনি সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়- এমন কোনো কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকতে এজেন্সি মালিকদের প্রতি আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে রাজকীয় সৌদি দূতাবাসের উপ-মিশন প্রধান খালিদ সাঈদ আল হাদাল, হাবের নেতৃবৃন্দ এবং হজপ্রত্যাশীরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রতীকী ছবি
দেশে হামের প্রকোপে পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) পর্যন্ত হাম ও এর উপসর্গে মোট প্রাণহানি দাঁড়িয়েছে ৮৩৫ জনে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত একদিনে নতুন করে আরও এক হাজার পাঁচজনের শরীরে হাম ও এর উপসর্গ দেখা গেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে শুধু ঢাকা বিভাগেই দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। পাশাপাশি এই সময়ে সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগে হামের উপসর্গে আরও এক শিশুর প্রাণহানি হয়েছে।
সবমিলিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সারা দেশে হাম ও উপসর্গে মোট ৮৩৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে হামের উপসর্গে ৭৩৯ জন এবং হামে আক্রান্ত হয়ে ৯৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।
এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে নতুন করে ১৩৫ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। পাশাপাশি এই সময়ে আরও ৮৭০ জনের মধ্যে রোগটির উপসর্গ দেখা গেছে।
ছবি : সংগৃহীত
ভারতের ছত্তিশগড়ে অবস্থানরত গভীর নিম্নচাপ ও সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে আজ থেকে আগামী পাঁচ দিন সারাদেশে হালকা থেকে মাঝারি এবং কোথাও কোথাও ভারী বৃষ্টির আভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
সংস্থাটি জানায়, এ বৃষ্টিপাতের প্রবণতা আগামী পাঁচ দিন অব্যাহত থাকতে পারে এবং প্রথম ২৪ ঘণ্টায় দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) আবহাওয়াবিদ ড. মো. ওমর ফারুকের দেওয়া এক পূর্বাভাসে এসব তথ্য জানানো হয়।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, আগামীকাল সকাল ৯টার মধ্যে রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং চট্টগ্রাম বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সাথে সারা দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে। এছাড়া সারা দেশে দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
আগামীকাল শুক্রবার (৩১ জুলাই) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সাথে রংপুর, ময়মনসিংহ এবং সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে এবং সারা দেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা বাড়তে পারে।
আগামী শনিবার (১ আগস্ট) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সাথে রংপুর, ময়মনসিংহ এবং সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী বর্ষণ হতে পারে এবং সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে।
আগামী রোববার (২ আগস্ট) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, খুলনা ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং ঢাকা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সাথে সারা দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে এবং সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
আগামী সোমবার (৩ আগস্ট) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সাথে রংপুর, ময়মনসিংহ এবং সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী বর্ষণ হতে পারে এবং সারা দেশে দিনের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান
ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন আইন বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সচিবালয়ে আইনগত সহায়তা নিয়ে ব্র্যাক ও ব্লাস্টের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ কথা বলেন।
ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি শেখ হাসিনা আবারো আগামী ডিসেম্বরে আসার কথা জানিয়েছেন একটি ইন্টারভিউতে, এ বিষয়ে সরকারের পদক্ষেপ কী হবে- জানতে চাইলে আইনমন্ত্রী বলেন, প্রথম কথা হলো স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তার প্রত্যর্পণের চেষ্টা করছে কি করছে না, সেটা আপনি কীভাবে জানেন? অবশ্যই চেষ্টা করছে, আমি বলছি। দ্বিতীয়ত হলো- একজন ফাঁসির আসামি হলেও সে যদি বাংলাদেশের নাগরিক হয়, বাংলাদেশের আইনের প্রতি শ্রদ্ধা দেখিয়ে বাংলাদেশে এসে সারেন্ডার করতে চায়, সেখানে হয়তো তার সারেন্ডারের আগেই অ্যারেস্ট হবে। কিন্তু তার সেই তো অধিকার তো আছে।
‘এলে আসবেন, আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে। সেখানে তো আমাদের... আইনের ব্যত্যয় করে আমরা কিছু করবো না। আইন যেভাবে আমাদের অথরিটি দিয়েছে, আমরা সে অথরিটি এক্সারসাইজ করব।’ বলেন আইনমন্ত্রী।
ওনার কাছে পাসপোর্ট নেই, উনি এলে কীভাবে আসবেন? জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, উনি কীভাবে আসবেন এটা ওনার সমস্যা। এটা আমার সমস্যা না। আমাদের... এটা হলো আমার চৌহদ্দির মধ্যে যখন ঢুকবেন, সেই চৌহদ্দিতে ঢুকলে আইন যেটা আমাকে ক্ষমতা দিয়েছে, আমি আইনের প্রয়োগটা করবো। দ্যাটস সিম্পল এজ ইট ইজ।
আপনি বলেছিলেন যে, সেপ্টেম্বরে জাতীয় সংসদের পরবর্তী অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন। তো এখন কি সে পর্যায়ে আছে? নাকি স্পেশাল অধিবেশন ডাকতে হবে? এ বিষয়ে আসাদুজ্জামান বলেন, এটা এখন পর্যন্ত আমাদের কোনো আলোচনায় আসেনি। আমি বলেছি সাংবিধানিক ব্যাখ্যা। আমার সংবিধানে আছে, ১২৩-এর ২ অনুচ্ছেদে, রাষ্ট্রপতি যেদিন পদত্যাগ করবেন, তার থেকে ৯০ দিনের মধ্যে পরবর্তী নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে।
তিনি বলেন, প্রশ্ন এসেছিল যে, আমরা বিশেষ অধিবেশন ডাকবো কি না। তো ৯০ দিন যেহেতু সময় আছে, আর আমার নেক্সট অধিবেশন ৬০ দিনের মধ্যে ডাকতে হবে, গত অধিবেশন শেষ হওয়া থেকে আগামী অধিবেশন পর্যন্ত ৬০ দিনের মধ্যে আমার ডাকতে হবে। সুতরাং এই দুইটা টাইম যেহেতু ম্যাচ করছে, আমি সে কারণে বলছি বিশেষ অধিবেশনের আপাতত প্রয়োজনীয়তা দেখছি না। যদি সরকার মনে করে, নিশ্চয়ই ডাকতে পারেন।