ছবি : সংগৃহীত
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করবে।
প্রয়োজনে আইন অনুযায়ী বল প্রয়োগ করা হবে বলে জানিয়েছেন সেনাবাহিনীর মিলিটারি অপারেশনস পরিদপ্তরের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল দেওয়ান মোহাম্মদ মনজুর হোসেন।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে গুলিস্তানে জাতীয় ফুটবল স্টেডিয়াম এলাকায় ‘ইন এইড টু দ্য সিভিল পাওয়ার’-এর আওতায় নিয়োজিত সেনাবাহিনীর কার্যক্রম বিষয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
এর আগে সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট ২০২৬ উপলক্ষে গুলিস্তানের জাতীয় স্টেডিয়ামে অবস্থিত সেনা ক্যাম্প পরিদর্শন করেন এবং অসামরিক প্রশাসনের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
নির্বাচনী কেন্দ্রগুলোর অবস্থা বিবেচনায় যদি অতিরিক্ত বল প্রয়োগের প্রয়োজন হয় সেক্ষেত্রে সেনাবাহিনীর রুলস অফ এনগেজমেন্টটা কী হবে? বিজিবি বলেছে তারা কোনো অতিরিক্ত বল প্রয়োগ করবে না।
এ ক্ষেত্রে সেনাবাহিনী কী করবে? জানতে চাইলে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল দেওয়ান মোহাম্মদ মনজুর হোসেন বলেন, সেনাবাহিনীর জন্য সুনির্দিষ্টভাবে এনগেজমেন্ট বলে দেওয়া আছে। আমরা আইনের আওতায় থেকে সে রুলস অফ এনগেজমেন্ট অনুসরণ করে আমরা আমাদের দায়িত্ব পালন করে থাকি।
যদি সত্যি সত্যি কোনো ক্ষেত্রে অতিরিক্ত বল প্রয়োগের প্রয়োজন হয়, তাহলে রুলস অফ এনগেজমেন্টে যে ক্রমান্বয়ে বল প্রয়োগের মাত্রা বৃদ্ধির একটা প্রক্রিয়া আছে সেটা অনুসরণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ভোটের দিন, আগে কিংবা পরে মব হলে সেনাবাহিনীর কী ভূমিকা থাকবে- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ইতিপূর্বে দেখেছি যে বেশ কয়েকটি হামলার ঘটনা ঘটেছে, মবের ইনসিডেন্ট আমরা দেখেছি। বাংলাদেশ সরকার, নির্বাচন কমিশন, অসামরিক প্রশাসন এবং সব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি সশস্ত্র বাহিনী একটি অবাধ এবং সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য যা যা করণীয় তা করতে বদ্ধপরিকর।
একটি সুষ্ঠু নির্বাচন করতে গিয়ে যা করণীয়, আইন অনুযায়ী যে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন, সে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি সশস্ত্র বাহিনী সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে।
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল দেওয়ান মোহাম্মদ মনজুর হোসেন বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ১০ জানুয়ারি থেকে মাঠপর্যায়ে সেনাবাহিনীর সদস্য সংখ্যা ৩৫ হাজার থেকে বাড়িয়ে ৫০ হাজার করা হয়। পরবর্তী সময়ে ২০ জানুয়ারি তা এক লাখে উন্নীত করা হয়।
পাশাপাশি নৌবাহিনীর ৫ হাজার এবং বিমানবাহিনীর ৩ হাজার ৭৩০ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। সেনাবাহিনী দেশের ৬৪ জেলার মধ্যে ৬২ জেলায়, ৪১১টি উপজেলায় এবং মেট্রোপলিটন শহরগুলোয় মোট ৫৪৪টি অস্থায়ী ক্যাম্প স্থাপন করেছে। নিয়মিত টহল, যৌথ অভিযান ও চেকপোস্টের মাধ্যমে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতির পাশাপাশি অস্ত্র উদ্ধারের হারও বেড়েছে বলে জানিয়েছেন দেওয়ান মোহাম্মদ মনজুর হোসেন। তিনি বলেন, ২০ জানুয়ারি থেকে গত ১৪ দিনে প্রায় দেড় শতাধিক অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে, যার অধিকাংশই দেশি-বিদেশি পিস্তল। এ ছাড়া গোলাবারুদ, ককটেল ও বোমা তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।
৩১ জানুয়ারি যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলায় যৌথ অভিযানে চারটি বিদেশি পিস্তল ও ১০টি গ্রেনেডসদৃশ হাতবোমা উদ্ধার করা হয়। এ পর্যন্ত সেনাবাহিনী মোট ১০ হাজার ১৫২টি অস্ত্র ও ২ লাখ ৯১ হাজার গোলাবারুদ উদ্ধার করেছে। একই সঙ্গে ২২ হাজার ২৮২ জন চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও দুষ্কৃতিকারীকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান নির্বাচন-সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন। সেখানে তিনি দুটি বিষয় স্পষ্ট করেছেন। প্রথমত, নির্বাচন-সংশ্লিষ্ট অসামরিক প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীকে আশ্বস্ত করা যে তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সর্বোচ্চ সহযোগিতা দেবে; দ্বিতীয়ত, সাধারণ মানুষের মধ্যে নির্বাচন নিয়ে আস্থা তৈরি করা, যাতে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
দুর্গম ও ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে নির্বাচন-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও সরঞ্জাম পরিবহনে সামরিক হেলিকপ্টার ও জলযান প্রস্তুত থাকবে জানিয়ে সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, দ্রুত সাড়া দেওয়ার জন্য বিভিন্ন স্থানে আগে থেকেই হেলিকপ্টার মোতায়েন থাকবে।
সেনাপ্রধানের নির্দেশনায় নির্বাচন কমিশন, অন্তর্বর্তী সরকার, অসামরিক প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনী, গণমাধ্যম ও জনগণকে সঙ্গে নিয়ে একটি সুষ্ঠু, অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সর্বাত্মক সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত আছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিথ্যা তথ্য ও অপতথ্য প্রচার এবারের নির্বাচনে বড় হুমকি উল্লেখ করে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল দেওয়ান মোহাম্মদ মনজুর হোসেন বলেন, এই অপতথ্যের মাধ্যমে প্রার্থী বা দলকে হেয় করা, ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে যেতে নিরুৎসাহিত করা কিংবা নির্বাচন-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করা অথবা যেকোনো একটি ছোট বিষয়কে অতিরঞ্জিতভাবে প্রকাশ করে সাধারণ মানুষের মনে ভীতির সঞ্চার করার চেষ্টা হতে পারে। এ ধরনের অপপ্রচার প্রতিরোধে গণমাধ্যমের সহযোগিতা চেয়েছেন তারা।
নির্বাচনের আগে এবং নির্বাচনের পরবর্তী সময়ে আপনাদের নিজস্ব কোনো থ্রেট অ্যানালাইসিস রয়েছে কি না- জানতে চাইলে তিনি বলেন, থ্রেট অ্যাসেসমেন্ট অবশ্যই একটি সেনাবাহিনী তার কর্মপন্থায় প্রথম কাজ যেটা করে তা হচ্ছে থ্রেট অ্যাসেসমেন্ট। আমরা অবশ্যই এটা একটা থ্রেট অ্যাসেসমেন্ট করেছি এবং সে অনুযায়ী আমাদের এই মোতায়েন পরিকল্পনা করা হয়েছে।
আমরা নন-লিথাল ওয়েপন এবং রায়ট কন্ট্রোল ইকুইপমেন্ট দিয়ে আমাদের বাহিনীকে ইকুইপ করেছি। নির্বাচনকেন্দ্রিক কথা যদি বলি আমরা; নির্বাচনকে সামনে রেখে আরও বেশকিছু রায়ট কন্ট্রোল ইকুইপমেন্ট আমাদের সেনা সদস্যদের জন্য নিয়ে এসেছি।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একটি বড় রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ (কার্যক্রম) হওয়ার কারণে বা কার্যক্রম না থাকার কারণে এই নির্বাচন থেকে বাইরে আছে এবং এই দলের অনেক নেতাকর্মী আত্মগোপন করে আছে। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বা ভার্চুয়াল জগতে দেখা যাচ্ছে দলটির পক্ষ থেকে বিভিন্ন রাজনৈতিক থ্রেট বা হুমকি ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার বিষয়ে বা না যাওয়ার বিষয়ে দেওয়া হচ্ছে।
সেক্ষেত্রে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী কোনো থ্রেট পেয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, রাজনৈতিক বিষয়গুলোতে আমি আলোচনায় যাবো না। যেকোনো ধরনের সহিংসতা বা নাশকতা প্রতিরোধে যে ধরনের প্রস্তুতি দরকার, অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি সশস্ত্র বাহিনীও সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।
ইলেকশনের আর মাত্র এক সপ্তাহের কম সময় আছে, সেখানে এখনো মানুষের মাঝে একটা সংশয় রয়ে গেছে যে আসলে ইলেকশনটা কীভাবে হবে, কতটুকু এনভায়রনমেন্ট আসলে হয়েছে বা ভোট হবে কি না।
এখানে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো ব্যর্থতা দেখছেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, এই সংশয় দূর করার জন্যই সেনাবাহিনী প্রধান সব বিভাগে ব্যক্তিগতভাবে গিয়েছেন এবং নির্বাচন সংশ্লিষ্ট অসামরিক প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনী যারা এই নির্বাচনের সঙ্গে নিয়োজিত থাকবেন তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন।
দুটো উদ্দেশ্য নিয়ে গিয়েছেন। একটা হচ্ছে, তাদের আস্থা দেওয়া যে তাদের যেকোনো সহায়তা প্রদানের জন্য সেনাবাহিনী প্রস্তুত আছে। দ্বিতীয়টি হচ্ছে, জনগণকে আস্থা দেওয়া এবং ওই বার্তাটা সুস্পষ্টভাবে দেওয়া যে, সব বাহিনী সমন্বিতভাবে একটি সুন্দর নির্বাচন উপহার দেওয়ার জন্য প্রস্তুত।
নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পার্বত্য চট্টগ্রাম ও রোহিঙ্গা ক্যাম্প নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল দেওয়ান মোহাম্মদ মনজুর হোসেন বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম সবসময় একটি সেনসিটিভ জায়গা এবং এ ব্যাপারে আপনারা জানেন যে শুধুই বর্তমানে নির্বাচনকেন্দ্রিক নয়, নির্বাচনের পূর্বাপর সময়ও ওখানে আমাদের সেনা মোতায়েন সার্বক্ষণিক থাকে। যেই আশঙ্কার কথা আপনি বলেছেন এগুলো আমাদের অ্যাসেসমেন্টের মধ্যে নিয়েছি।
অপর আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ভোটকেন্দ্রে সাধারণ মানুষ যেন নির্ভয়ে এবং স্বাচ্ছন্দ্যে আসতে পারেন; সে ব্যাপারে আমাদের নিয়মিত টহল জারি থাকবে। এ কারণেই আমরা এবার উপজেলাভিত্তিক এবং ক্ষেত্রবিশেষে কেন্দ্রভিত্তিক ক্যাম্প স্থাপন করেছি, যেন বিপুলসংখ্যক পেট্রোল একসঙ্গে বাইরে থাকতে পারে এবং সাধারণ মানুষের মনে আস্থার জায়গাটা হয়। নির্বাচনপরবর্তী সহিংসতা বন্ধে সর্বাত্মক আমাদের প্রস্তুতি রয়েছে।
নির্বাচনকালীন সেনাবাহিনী মোতায়েন থাকা অবস্থায় ভোটের আস্থা যদি ক্ষুণ্ন হয় এবং নির্বাচন পরবর্তী ফলাফল নিয়ে কোনো প্রশ্ন ওঠে তবে সেনাবাহিনী যে মাঠে গণতান্ত্রিকভাবে নিরপেক্ষ ছিল, এটি কীভাবে প্রমাণ করবে? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী একটি সুশৃঙ্খল বাহিনী এবং দেশমাতৃকার সেবায় নিয়োজিত একটি বাহিনী।
সেনাপ্রধান পরিষ্কারভাবে একটি কথা বলে দিয়েছেন যে, সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে আমরা আমাদের দায়িত্ব পালন করবো। দেশের সাধারণ মানুষ যেন নির্বিঘ্নে ও নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে যেতে পারে এবং তার ভোটটা সে দিতে পারে, এটা নিশ্চিত করা হবে আমাদের অন্যতম দায়িত্ব। আর দায়িত্ব পালনকালে আমরা যদি আমাদের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতে পারি তাহলে আপনাদের (সাংবাদিক) মাধ্যমে জনগণ আমাদের নিরপেক্ষতার প্রমাণ আলাদা করে পেয়ে যাবে।
একটি রাজনৈতিক দলের দু’জন শীর্ষ নেতার অ্যাকাউন্ট (সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট) হ্যাক হয়েছে, যা চরম বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে। এই হ্যাকারদের চিহ্নিত করতে সেনাবাহিনীর আইটি সেকশন বা সেনাবাহিনী কোনো ভূমিকা রাখছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমাদের নিজস্ব প্রয়োজনে আমরা যেন এই আক্রমণের শিকার না হই; সে প্রস্তুতি আমরা নিয়েছি।
আর এর বাইরে প্রত্যেকের যার যার জায়গা থেকে এই প্রস্তুতি তাকে নিতে হবে। আমি আপনাকে আশ্বস্ত করতে পারি যে, সেনাবাহিনী তার যেসব আইটি সাইট আছে সেগুলো যেন হ্যাক না হয় সে ব্যাপারে যতটুকু প্রস্তুতি নেওয়ার সেই প্রস্তুতি আমরা নিয়েছি এবং নিচ্ছি।
আশকোনা হজ ক্যাম্প
যাত্রীদের টিকিট-সংক্রান্ত সেবা সহজ করতে রাজধানীর আশকোনা হজ ক্যাম্পে পুনরায় চালু করা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের টিকিট বিক্রির কাউন্টারের সময়সূচি সংশোধন করা হয়েছে। নতুন সময়সূচি অনুযায়ী, রোববার থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত এ কাউন্টারে সেবা পাওয়া যাবে।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের জনসংযোগ বিভাগ থেকে পাঠানো এক সংশোধনী বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
এর আগে, গত ২৮ অক্টোবর প্রকাশিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আশকোনা হজ ক্যাম্পের টিকিট বিক্রির কাউন্টারের সেবার সময়সূচি উল্লেখ করা হয়েছিল। সংশোধনীতে জানানো হয়েছে, নতুন সময়সূচি অনুযায়ী কাউন্টারটিতে সেবা দেয়া হবে।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বলাকায় অবস্থিত বিক্রয় বুথে কারিগরি জটিলতা দেখা দেওয়ায় যাত্রীদের টিকিট-সংক্রান্ত সেবা স্বাভাবিক রাখতে আশকোনা হজ ক্যাম্পের কাউন্টারটি পুনরায় চালু করা হয়েছে। এ ছাড়া টিকিট পুনরায় ইস্যু করার প্রয়োজন হলে যাত্রীরা আশকোনা হজ ক্যাম্পের কাউন্টারের পাশাপাশি বিমানের মতিঝিল বিক্রয়কেন্দ্র থেকেও সেবা নিতে পারবেন।
টয়োটার মোতোমাচি কারখানা পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
জাপান সফরের অংশ হিসেবে দেশটির নাগোয়া শহরে অবস্থিত টয়োটার মোতোমাচি কারখানা পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার সকালে তিনি কারখানার গাড়ি সংযোজন (অ্যাসেম্বলি) প্রক্রিয়া ঘুরে দেখেন। প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব শাহাদাৎ হোসেন স্বাধীন এ তথ্য জানিয়েছেন।
পরিদর্শনকালে টয়োটা মোটর করপোরেশনের দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মাসাহিকো মোয়েদা, টয়োটা সুশো করপোরেশনের গতিশীলতা বিভাগের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শিগেরু হারাদা এবং প্রতিষ্ঠানটির প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা (সিওও) শিনিচিরো ওতসুকাসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ।
এ ছাড়া এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে বৈদেশিক কর্মসংস্থানবিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ড. মো. শাকিরুল ইসলাম খান, প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন ও গবেষণা কর্মকর্তা আবদুস সাত্তার পাটোয়ারীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সফরসঙ্গী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
ছবি : সংগৃহীত
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাপান সফরে দেশটির সঙ্গে বাংলাদেশের উপকূলীয় নিরাপত্তা সক্ষমতা জোরদারে টহল জাহাজ দেওয়ার অনুদান সংক্রান্ত চুক্তিসহ মোট ৪টি সহযোগিতা স্মারক সই হয়েছে। এছাড়া দুটি প্রকল্পে পাওয়া গেছে ৪ হাজার ৬৫৬ বিলিয়ন ইয়েন অর্থাৎ ২৯৫.৫ মিলিয়ন ডলার ঋণের প্রতিশ্রুতি।
টোকিওর বাংলাদেশ দূতাবাসে সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির এ তথ্য তুলে ধরেন।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমানের রুমন, উপ প্রেস সচিব শাহাদাত হোসেন স্বাধীন।
প্রতিমন্ত্রীর তথ্যানুযায়ী, সফরকালে বাংলাদেশের উপকূলীয় নিরাপত্তা সক্ষমতা জোরদার করতে টহল জাহাজ দেওয়ার অনুদান সংক্রান্ত চুক্তি হয়েছে। এ ক্ষেত্রে অনুদান হিসেবে জাপান বাংলাদেশকে সর্বোচ্চ ২১২ কোটি ইয়েন (১৩.৪৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার) দেবে।
এছাড়া জাপানের অর্থনীতি, বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশের অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের মধ্যে অর্থনৈতিক সম্পর্ক এবং ব্যবসায়িক পরিবেশের উন্নয়ন বিষয়ক একটি সহযোগিতার স্মারক (এমওসি) সই হয়েছে।
জাপানের কৃষি, বন ও মৎস্য মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশের কৃষি মন্ত্রণালয়ের মধ্যে ও দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচির জন্য দুই দেশের মধ্যে কর্মসংস্থান বিষয়ক এমওসি হয়।
জাপানের কৃষি, বন ও মৎস্য মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশের মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মধ্যেও সহযোগিতার একটি স্মারক সই হয়েছে। এছাড়া জাপানের পরিবেশ মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের মধ্যে জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত সহযোগিতার বিষয়ে সই হয়েছে লেটার অব ইনটেন্ট বা প্রাথমিক সমঝোতাপত্র।
যে দুটি প্রকল্পে ঋণের প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে সেগুলো হল, বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নয়ন ও উপজেলা গভর্নেন্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট (ফেজ ২)। এর মধ্যে বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নয়ন প্রকল্পে ১ হাজার ৫৮৮ বিলিয়ন ইয়েন (১০০.৮ মিলিয়ন ডলার) ঋণের প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে।
অন্যদিকে উপজেলা গভর্নেন্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট (ফেজ ২) এর জন্য পাওয়া গেছে ৩ হাজার ৬৮ বিলিয়ন ইয়েন (১৯৪.৭ মিলিয়ন ডলার) ঋণের প্রতিশ্রুতি।
এদিকে প্রধানমন্ত্রীর সফরে জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশনের (জেটরো) মাধ্যমে বেসরকারি খাতেও ১৭টি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে বলে তথ্য দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন। এ ব্যাপারে বিস্তারিত পরে জানানো হবে বলেছেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেন, “বেসরকারি খাতেও দুই দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৭টি সমঝোতা স্মারকসহ বিভিন্ন চুক্তি ও সহযোগিতার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশের বিভিন্ন খাতে প্রায় ৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সম্ভাব্য বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
“এসব বিনিয়োগ বাস্তবায়িত হলে প্রায় দুই লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা রয়েছে।”
জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গত ২৬ অক্টোবর চার দিনের সরকারি সফরে সস্ত্রীক জাপানে যান। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানসহ উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধিদল প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে আছেন।
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে আজ বঙ্গভবনে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এবিএম শহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের চার সদস্যের প্রতিনিধিদল সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে শুধু চাকরি প্রত্যাশী নয়, বরং দক্ষ, উদ্ভাবনী ও প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোক্তা তৈরিতে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।
তিনি বলেন, পরিবর্তিত বিশ্বপরিস্থিতি ও প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতির চাহিদা বিবেচনায় উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে শিক্ষার্থীদের জ্ঞান ও দক্ষতার পাশাপাশি উদ্ভাবনী চিন্তা, গবেষণা এবং উদ্যোক্তা সক্ষমতা বিকাশে গুরুত্ব দিতে হবে।
আজ দুপুরে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এবিএম শহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের চার সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বঙ্গভবনে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ আহ্বান জানান। রাষ্ট্রপতির প্রেস উইং-এর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
সাক্ষাৎকালে প্রতিনিধিদল বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক শিক্ষা, গবেষণা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন।
তাঁরা জানান, যুগের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বিশ্ববিদ্যালয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং সর্বশেষ প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন বিষয়ে পাঠদান ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
রাষ্ট্রপতি বলেন, মজলুম জননেতা মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি অবিস্মরণীয় নাম।
মাওলানা ভাসানীর স্মৃতিবিজড়িত এ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের গুণগত মানসম্পন্ন শিক্ষা প্রদানের পাশাপাশি যুগোপযোগী জ্ঞান, প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও উদ্ভাবনী সক্ষমতায় প্রশিক্ষিত করে দেশের উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।
সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির সচিবগণ ও কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
নুরুল হক নুর
নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহ থেকেই মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে বলে জানিয়েছেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক। আজ বুধবার (২৮ অক্টোবর) রাজধানীতে উইটনেস ফাউন্ডেশন আয়োজিত অভিবাসন সংলাপ শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, সরকারি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেডের (বোয়েসেল) মাধ্যমে একজন কর্মীর যেতে আনুমানিক ১ লাখ ৫৫ হাজার থেকে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা খরচ হতে পারে।
বেসরকারি এজেন্সির মাধ্যমে কর্মী পাঠানোর খরচও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে নির্ধারণ করা হবে।
নুরুল হক বলেন, নভেম্বরের শুরুতে মালয়েশিয়ায় কর্মীদের মেডিকেল পরীক্ষা শুরু হলে দুই থেকে চার দিনের মধ্যে পরীক্ষার প্রক্রিয়া শেষ করে কর্মীরা যেতে পারবেন। নভেম্বরের ১ তারিখ অথবা প্রথম সপ্তাহে ফ্লাইট চালু হতে পারে।
তিনি বলেন, মালয়েশিয়ার সঙ্গে আলোচনা করে মেডিকেল পরীক্ষার অনুমোদিত কেন্দ্রগুলোর তালিকা চূড়ান্ত করা হচ্ছে। ৩১ অক্টোবরের মধ্যে মালয়েশিয়া কর্তৃপক্ষ তালিকা চূড়ান্তভাবে প্রকাশ করবে বলে বাংলাদেশকে জানিয়েছে। দুই দেশের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও কর্তৃপক্ষ নিজ নিজ ওয়েবসাইটে তালিকা প্রকাশ করবে। মেডিকেল পরীক্ষার খরচও নির্ধারণ করা হবে।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার চালুর ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া সরকারের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। কিছু কাজ এখনো বাকি রয়েছে, সেগুলো সম্পন্ন করতে আরো কিছুটা সময় লাগবে। তবে নভেম্বর থেকে কর্মী পাঠানোর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা চালু হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তিনি জানান, মালয়েশিয়ার অনুমোদিত ৩৩৮টি বড় নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের তালিকা পাওয়াকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে বাংলাদেশ। ইতিমধ্যে বিভিন্ন কোম্পানি ও প্রতিষ্ঠানের চাহিদাপত্র (ডিমান্ড লেটার) জমা দেওয়া হয়েছে।
মালয়েশিয়ার বিদেশি কর্মী নিয়োগের নির্ধারিত ব্যবস্থা এফডব্লিউসিএমএস এবং বাংলাদেশ দূতাবাসের সংশ্লিষ্ট সেবার মাধ্যমে এসব চাহিদাপত্র জমা দেওয়া হচ্ছে। তবে বাংলাদেশ দূতাবাসের সত্যায়ন ছাড়া কোনো চাহিদাপত্র গ্রহণযোগ্য হবে না বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। তার ভাষ্য, চাহিদাপত্র সত্যায়নের পাশাপাশি কর্মীদের মেডিকেল পরীক্ষা সম্পন্ন করতে হবে। কোন কোন মেডিকেল কেন্দ্রে পরীক্ষা করা যাবে, তা দুই দেশের আলোচনার ভিত্তিতে নির্ধারণ করা হবে।
অনুমোদনহীন মেডিকেল কেন্দ্রে পরীক্ষা নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর আশঙ্কা রয়েছে উল্লেখ করে নুরুল হক বলেন, মেডিকেল পরীক্ষা শুরুর বিষয়ে সরকার ইতিমধ্যে বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে। অনুমোদিত কেন্দ্রের বাইরে পরীক্ষা না করতে কর্মীদের সতর্ক থাকতে হবে।
আইইডিসিআর এর পরিচালক অধ্যাপক কাজী আহমেদ জাকিরের কক্ষে ঢুকে তাঁকে মারধর করা হয়
রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) পরিচালক ডা. কাজী আহমেদ জাকীরের কক্ষে ঢুকে মারধরের ঘটনা তদন্তে কমিটি গঠনের জন্য নির্দেশনা দিয়েছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে, এ ঘটনায় ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) সহ-আইন বিষয়ক সম্পাদক ডা. জাহিদ হাসানের সদস্যপদ স্থগিত করে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। আজ বুধবার (২৮ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, আইইডিসিআরের পরিচালক অধ্যাপক জাকিরের কার্যালয়ে ঢোকেন কিছু ব্যক্তি। মিটিং চলাকালীন পরিচালকের শার্ট ধরে টেনে হিচড়ে বের করে আনছেন।
অভিযুক্ত চিকিৎসক ডা. জাহিদ হাসান ড্যাবের আজীবন সদস্য এবং সহ-আইন বিষয়ক সম্পাদক। এমন অসদাচরণের ঘটনায় তার সদস্যপদ স্থগিত করে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংগঠনির মহাসচিব ডা. মো. জহিরুল ইসলাম শাকিল।
পরিচালকের চাকরির মেয়াদ শেষ হওয়াকে কেন্দ্র করে ক্ষোভের বিষয়টি বিভিন্ন সূত্রে জানা গেলেও, তা এখনও নিশ্চিত নয়। তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
এদিকে, আইইডিসিআরে এ ঘটনাকে মব সৃষ্টি করে হামলা হিসেবে উল্লেখ করে নিন্দা জানিয়েছেন জামায়াত আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।