বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা
বাংলাদেশে হাম পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। পরিস্থিতি জাতীয়ভাবে ‘উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ’ বলে মূল্যায়ন করেছে সংস্থাটি। বাংলাদেশের ৬৪ জেলার মধ্যে ৫৮ জেলায় সংক্রমণ ছড়ানো, বিশালসংখ্যক শিশুর আক্রান্ত হওয়া, টিকাদানের অভাবে এ রোগ প্রতিরোধ সক্ষমতায় ঘাটতি এবং হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর ঘটনাবলির আলোকে সংস্থাটির গতকাল বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ মূল্যায়ন করা হয়।
২০২৬ সালের ৪ এপ্রিল বাংলাদেশের জাতীয় আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্যবিধি বা আইএইচআর ফোকাল পয়েন্ট বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে জানায়, দেশে হাম রোগীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এই বৃদ্ধি হয়েছে দেশের ভেতরে চলমান সংক্রমণের কারণে। জানুয়ারি থেকেই বাংলাদেশে হাম রোগীর সংখ্যা স্পষ্টভাবে বাড়তে দেখা যাচ্ছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নতুন মূল্যায়নের পর সংস্থাটির সাবেক পরামর্শক ও জনস্বাস্থ্যবিদ ডা. মুশতাক হোসেন আজ শুক্রবার বলেন, ‘সংক্রমণ পরিস্থিতি বাড়তে থাকায় আমরা বলেছিলাম, হামকে জরুরি স্বাস্থ্য পরিস্থিতি ঘোষণা করা হোক। এখন সরকারের উচিত জরুরি পরিস্থিতি ঘোষণা করা এবং টিকাদান এগিয়ে নিয়ে যাওয়া।’
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৫ মার্চ থেকে ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত দেশে মোট ১৯ হাজার ১৬১ সন্দেহভাজন হাম রোগীর তথ্য পাওয়া গেছে। একই সময়ে পরীক্ষা করে নিশ্চিত রোগী পাওয়া গেছে ২ হাজার ৮৯৭।
তবে পরিস্থিতির বিস্তারিত বিবরণে পরীক্ষাগারে নিশ্চিত রোগীর সংখ্যা ২ হাজার ৯৭৩ উল্লেখ করা হয়েছে। এ সময় হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে ১৬৬ জনের। মৃত্যুহার বা সিএফআর ০ দশমিক ৯ শতাংশ। পরীক্ষাগারে নিশ্চিত হাম-সম্পর্কিত মৃত্যু হয়েছে ৩০ জনের। এ ক্ষেত্রে মৃত্যুহার ১ দশমিক ১ শতাংশ।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১২ হাজার ৩১৮ জন। হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে ৯ হাজার ৭৭২ জন।
সবচেয়ে বেশি ঢাকা বিভাগে, বস্তির রোগী বেশি
হাম রোগীর সবচেয়ে বেশি চাপ দেখা যাচ্ছে ঢাকা বিভাগে। ১৫ মার্চ থেকে সন্দেহভাজন রোগীর সংখ্যা ঢাকা বিভাগে ৮ হাজার ২৬৩। এরপর রয়েছে রাজশাহী বিভাগে ৩ হাজার ৭৪৭, চট্টগ্রাম বিভাগে ২ হাজার ৫১৪ এবং খুলনা বিভাগে ১ হাজার ৫৬৮ জন।
ঢাকায় রোগী বেশি পাওয়া যাচ্ছে ঘনবসতিপূর্ণ বস্তি এলাকায়। এর মধ্যে রয়েছে ডেমরা, যাত্রাবাড়ী, কামরাঙ্গীরচর, কড়াইল, মিরপুর এবং তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল ও বস্তি এলাকা।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, দেশের আট বিভাগেই রোগী শনাক্ত হয়েছে। ৬৪ জেলার মধ্যে ৫৮ জেলায়, অর্থাৎ ৯১ শতাংশ জেলায় রোগী পাওয়া গেছে। এটি দেখাচ্ছে, সংক্রমণ এখন জাতীয়ভাবে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।
দেশের সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) তথ্য বলছে, দেশের ৬১টি জেলায় হাম ছড়িয়েছে। আক্রান্ত শিশুদের ৮৩ শতাংশের বয়স ৫ বছরের নিচে।
আক্রান্তদের বেশির ভাগই শিশু
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়, হাসপাতালে যাওয়া রোগীদের বেশির ভাগই পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু। এই হার ৭৯ শতাংশ। এর মধ্যে দুই বছরের কম বয়সী শিশু ৬৬ শতাংশ এবং ৯ মাসের কম বয়সী শিশু ৩৩ শতাংশ।
মোট ১৬৬ শিশুর সন্দেহভাজন মৃত্যুর তথ্য পাওয়ার কথা বলা হয় প্রতিবেদনে। তারা প্রধানত টিকা না পাওয়া দুই বছরের কম বয়সী শিশু।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, বর্তমান প্রাদুর্ভাবের একটি বড় উদ্বেগ হলো, অনেক শিশু হয় টিকা পায়নি, নয়তো হামপ্রতিরোধী টিকার মাত্র এক ডোজ পেয়েছে। আবার কিছু শিশু ৯ মাস বয়সে টিকার উপযুক্ত বয়সে পৌঁছানোর আগেই আক্রান্ত হয়েছে। অধিকাংশ রোগী, অর্থাৎ ৯১ শতাংশ, ১ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশু। এটি এই বয়সী শিশুদের মধ্যে বড় ধরনের রোগ প্রতিরোধঘাটতির ইঙ্গিত দেয়।
হাম কীভাবে ছড়ায়
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক তীব্র ভাইরাসজনিত রোগ। এটি সব বয়সী মানুষকে আক্রান্ত করতে পারে। বিশ্বজুড়ে অল্প বয়সী শিশুদের মৃত্যুর অন্যতম বড় কারণ হিসেবে হাম এখনো বিবেচিত হয়।
এই রোগ বাতাসের মাধ্যমে ছড়ায়। আক্রান্ত ব্যক্তির নাক, মুখ বা গলা থেকে বের হওয়া ড্রপলেটের মাধ্যমেও সংক্রমণ হতে পারে।
সংক্রমণের পর সাধারণত ১০ থেকে ১৪ দিনের মধ্যে প্রাথমিক উপসর্গ দেখা যায়। তবে এই সময়সীমা ৭ থেকে ২৩ দিন পর্যন্ত হতে পারে। উপসর্গের মধ্যে থাকে উচ্চ জ্বর, সর্দি, চোখ লাল হয়ে যাওয়া, কাশি এবং মুখের ভেতরে ছোট সাদা দাগ।
সাধারণত সংক্রমণের ১০ থেকে ১৪ দিন পর শরীরে ফুসকুড়ি দেখা দেয়। ফুসকুড়ি প্রথমে মাথায় শুরু হয়, এরপর ধীরে ধীরে শরীরের মাঝের অংশ এবং পরে নিচের অংশে ছড়িয়ে পড়ে।
ফুসকুড়ি ওঠার চার দিন আগে থেকে ফুসকুড়ি ওঠার চার দিন পর পর্যন্ত একজন রোগী অন্যদের মধ্যে রোগ ছড়াতে পারে। হামের নির্দিষ্ট কোনো অ্যান্টিভাইরাল চিকিৎসা নেই। বেশির ভাগ মানুষ দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে সুস্থ হয়ে ওঠে।
জটিলতা ও মৃত্যুঝুঁকি
সাধারণভাবে হাম মৃদু বা মাঝারি মাত্রার রোগ। তবে এটি গুরুতর জটিলতাও তৈরি করতে পারে। এর মধ্যে আছে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, কানের দ্বিতীয় পর্যায়ের সংক্রমণ, মস্তিষ্কে প্রদাহ বা এনসেফালাইটিস, অন্ধত্ব ও মৃত্যু।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংক্রমণের পর এনসেফালাইটিস প্রতি এক হাজার রিপোর্ট হওয়া রোগীর মধ্যে প্রায় একজনের হতে পারে। আর প্রতি এক হাজার রিপোর্ট হওয়া রোগীর মধ্যে দুই থেকে তিনজনের মৃত্যু হতে পারে।
ঝুঁকিপূর্ণ গোষ্ঠীর মধ্যে হাম গুরুতর অসুস্থতা তৈরি করতে পারে। এর মধ্যে আছে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু, অপুষ্টিতে ভোগা শিশু, বিশেষ করে যাদের ভিটামিন এ ঘাটতি আছে এবং যাদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা দুর্বল।
টিকাদানে ঘাটতি, আগের অগ্রগতিতে ধাক্কা
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে যে এই প্রাদুর্ভাবের আগে বাংলাদেশ হাম নির্মূলের পথে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেছিল। হামপ্রতিরোধী টিকার প্রথম ডোজের কভারেজ ২০০০ সালে ছিল ৮৯ শতাংশ। ২০১৬ সালে তা বেড়ে হয় ১১৮ শতাংশ। দ্বিতীয় ডোজ দেশব্যাপী চালুর পর ২০১২ সালে কভারেজ ছিল ২২ শতাংশ। ২০২৪ সালে তা বেড়ে হয় ১২১ শতাংশ। একই সময়ে পরীক্ষাগারে নিশ্চিত হাম রোগীর হার দ্রুত কমে এসেছিল।
তবে ২০২৪-২৫ সালে দেশে এমআর টিকার জাতীয় পর্যায়ের ঘাটতির কারণে টিকার প্রথম ও দ্বিতীয় ডোজ বা এমআর১ ও এমআর২ কভারেজ কমে যায়। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে নিয়মিত টিকাদানের ফাঁক এবং ২০২০ সালের পর নিয়মিত দেশব্যাপী সম্পূরক হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি না থাকা। এসব কারণে সংক্রমণের ঝুঁকিতে থাকা শিশুর সংখ্যা বেড়েছে এবং বর্তমান প্রাদুর্ভাব তৈরি হয়েছে।
জাতীয় পর্যায়ে ঝুঁকি ‘উচ্চ’ হিসেবে মূল্যায়ন করা হয়েছে। কারণ, একাধিক বিভাগে সংক্রমণ চলমান, বিপুলসংখ্যক শিশু সংক্রমণের ঝুঁকিতে, রোগ প্রতিরোধের ঘাটতি নথিভুক্ত এবং হাম-সম্পর্কিত সন্দেহভাজন মৃত্যু ঘটেছে।
টিকা না পাওয়া ও আংশিক টিকা পাওয়া শিশুদের মধ্যে রোগীর সংখ্যা বেশি। এর মধ্যে এমন শিশুরাও আছে, যাদের বয়স টিকা পাওয়ার জন্য এখনো যথেষ্ট হয়নি। এটি অব্যাহত সংক্রমণ এবং গুরুতর অসুস্থতার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
সামগ্রিকভাবে এই প্রাদুর্ভাব দেখাচ্ছে যে হাম নির্মূলে বাংলাদেশের আগের অগ্রগতিতে ধাক্কা লেগেছে। একই সঙ্গে এটি প্রমাণ করছে, দীর্ঘস্থায়ী সংক্রমণের ঝুঁকিতে বাংলাদেশ এখন আরও বেশি দুর্বল হয়ে পড়েছে। জরুরি ব্যবস্থা না নিলে সংক্রমণ আরও ছড়াতে পারে। তাই নজরদারি শক্তিশালী করা, দ্রুত রোগ শনাক্ত ও মোকাবিলা করা এবং ভালো মানের টিকাদান কার্যক্রমের মাধ্যমে রোগ প্রতিরোধের ঘাটতি পূরণ করা জরুরি।
টিকাদান অভিযান শুরু
জাতীয় টিকাদান কারিগরি উপদেষ্টা কমিটি বা এনআইটিএজি ২০২৬ সালের ৩০ মার্চ দেশব্যাপী হাম-রুবেলা বা এমআর টিকাদান কর্মসূচি অনুমোদন করে। এই কর্মসূচির লক্ষ্য ৬ থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশু। এর সঙ্গে ৬ থেকে ৮ মাস বয়সী শিশুদেরও বিস্তৃত আওতায় আনা হয়েছে।
৫ এপ্রিল অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত ১৮ জেলার ৩০ উপজেলায় এ কর্মসূচি শুরু হয়। এরপর ২০ এপ্রিল দেশব্যাপী কর্মসূচি শুরু হয়।
২০২৫ সালের ১৫ মার্চ সারা দেশে ভিটামিন এ ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। চলমান প্রাদুর্ভাব মোকাবিলার অংশ হিসেবে সন্দেহভাজন ও নিশ্চিত সব হাম রোগীকে ভিটামিন এ দেওয়া হচ্ছে। এটি নিয়মিত চিকিৎসা ও রোগী ব্যবস্থাপনার একটি জরুরি অংশ।
জেলা পর্যায়ের দ্রুত প্রতিক্রিয়া দল বা আরআরটি সক্রিয় করা হয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় দ্রুত টিকা সংগ্রহের ব্যবস্থাও করেছে।
প্রাদুর্ভাব মোকাবিলার অন্যান্য ব্যবস্থার মধ্যে রয়েছে নিয়মিত টিকাদান জোরদার করা, হাসপাতালের প্রস্তুতি বাড়ানো, ভিটামিন এ সরবরাহ নিশ্চিত করা, রোগী আলাদা রাখার সক্ষমতা বাড়ানো এবং সংক্রমণ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা শক্তিশালী করা।
দেশজুড়ে নজরদারি ও রোগতাত্ত্বিক বিশ্লেষণ জোরদারের কাজও চলছে। রোগ শনাক্ত ও রিপোর্টিং উন্নত করতে স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। প্রমাণভিত্তিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুবিধার্থে সাপ্তাহিক পরিস্থিতি প্রতিবেদন তৈরি করা হচ্ছে।
সীমান্ত পেরিয়ে ছড়ানোর ঝুঁকি
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, সীমান্তবর্তী এলাকায় মানুষের চলাচলের কারণে সীমান্ত পেরিয়ে সংক্রমণ ছড়ানোর উল্লেখযোগ্য ঝুঁকি আছে। ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট ও কক্সবাজারের মতো বড় নগরকেন্দ্র আন্তর্জাতিক যাতায়াত ও ট্রানজিটের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। ফলে দেশের ভেতরে ও বাইরে সংক্রমণ ছড়ানোর আশঙ্কা বাড়ে, বিশেষ করে যারা টিকা নেয়নি বা পুরোপুরি টিকা পায়নি, এমন ভ্রমণকারীদের মাধ্যমে।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলে হাম স্থানীয়ভাবে বিদ্যমান। আঞ্চলিক পর্যায়ে ঝুঁকিকে ‘উচ্চ’ হিসেবে মূল্যায়ন করা হয়েছে।
বাংলাদেশের সঙ্গে ভারত ও মিয়ানমারের দীর্ঘ স্থলসীমান্ত রয়েছে। এই সীমান্ত দিয়ে মানুষের চলাচল চলমান সংক্রমণকে আরও বাড়াতে পারে। মিয়ানমারে টিকা না পাওয়া বা শূন্য ডোজ শিশুর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য। চলমান সংঘাত ও মানবিক সংকটের কারণে সেখানে নজরদারি ও প্রতিক্রিয়া সক্ষমতা সীমিত।
ভারত উচ্চ টিকাদান কভারেজ অর্জন করলেও গত ছয় মাসে সেখানে হাম রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। যশোর ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের মতো বেশি সংক্রমণপ্রবণ শহর ভারতের সঙ্গে ব্যস্ত স্থলবন্দর ভাগ করে। এতে সীমান্তের ওপার থেকে সংক্রমণ প্রবেশের ঝুঁকি বাড়ে। বিশ্ব পর্যায়ে ঝুঁকি ‘মধ্যম’ হিসেবে মূল্যায়ন করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।
কী পরামর্শ দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সব পৌর এলাকায় হামপ্রতিরোধী টিকার প্রথম ও দ্বিতীয় ডোজে অন্তত ৯৫ শতাংশ সমান ও টেকসই কভারেজ বজায় রাখার পরামর্শ দিয়েছে। একই সঙ্গে হাম ও রুবেলা সংক্রমণের ওপর নজরদারি জোরদার করতে বলেছে, যাতে সরকারি, বেসরকারি ও সামাজিক নিরাপত্তা-সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে সব সন্দেহভাজন রোগী দ্রুত শনাক্ত করা যায়।
সংস্থাটি উচ্চ যাতায়াতপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় নজরদারি জোরদারের পরামর্শ দিয়েছে। এতে সন্দেহভাজন হাম রোগী দ্রুত শনাক্ত ও মোকাবিলা করা সম্ভব হবে। বিদেশ থেকে আসা হাম রোগীর ক্ষেত্রে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে, যাতে আবার স্থানীয় সংক্রমণ স্থায়ীভাবে প্রতিষ্ঠিত না হয়।
হাম মোকাবিলায় জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের মধ্যে সমন্বয় নিশ্চিত করতে হবে। সব পর্যায়ের মধ্যে স্থায়ী ও কার্যকর যোগাযোগব্যবস্থা থাকতে হবে।
প্রাদুর্ভাব চলাকালে হাসপাতাল পর্যায়ে যথাযথ রোগী ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে। হাসপাতালের ভেতরে সংক্রমণ ঠেকাতে রোগীকে আলাদা কক্ষে রাখা এবং হাসপাতালের অন্য রোগীদের সংস্পর্শে না আসাটা নিশ্চিত করতে হবে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে টিকা দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে, যদি তাদের টিকা নেওয়া বা হাম-রুবেলার বিরুদ্ধে রোগ প্রতিরোধক্ষমতার প্রমাণ না থাকে। এর মধ্যে রয়েছেন স্বাস্থ্যকর্মী, পর্যটন ও পরিবহন খাতে কর্মরত ব্যক্তি, হোটেল, বিমানবন্দর, সীমান্ত পারাপার, গণপরিবহন-সংশ্লিষ্ট কর্মী এবং আন্তর্জাতিক ভ্রমণকারী।
উচ্চ যাতায়াতপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় অভিবাসী জনগোষ্ঠীকে টিকা দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়ার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত অভিবাসী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের অগ্রাধিকার দিয়ে টিকা দিলে জনগোষ্ঠীর রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়বে।
সংক্রমণের সংস্পর্শে আসা ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের তিন দিনের মধ্যে হামপ্রতিরোধী টিকা দেওয়া উচিত। যাঁদের টিকা দেওয়া যায় না বা তিন দিনের মধ্যে টিকা দেওয়া সম্ভব নয়, তাঁদের ক্ষেত্রে সংক্রমণের ছয় দিনের মধ্যে বিশেষ ইনজেকশন দেওয়ার কথা বিবেচনা করা যেতে পারে। শিশু, গর্ভবতী নারী এবং রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কম- এমন ব্যক্তিদের অগ্রাধিকার দিতে হবে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা টিকা, সিরিঞ্জ ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের পর্যাপ্ত মজুত রাখার পরামর্শ দিয়েছে।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন
টিকা দেওয়ার পরও হামের সংক্রমণ না কমায় দেশে আবারও বিশেষ হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন শুরু হওয়ার কথা বলেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
তিনি বলেছেন, আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর এ ক্যাম্পেইন শুরু হচ্ছে। আজ বৃহস্পতিবার ঢাকায় এক সেমিনার শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এ তথ্য দিয়েছেন বলে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে।
সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ইতোমধ্যে অধিকাংশ টিকা ইউনিসেফের মাধ্যমে দেশে এসে পৌঁছেছে। অবশিষ্ট টিকাও আগামী ১৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে দেশে পৌঁছাবে।
হামের প্রাদুর্ভাব ও মৃত্যু বেড়ে যাওয়ায় সমালোচনার মধ্যে সরকার জরুরি ভিত্তিতে দেশের উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ ৩০টি উপজেলায় ৫ এপ্রিল থেকে ছয় মাস থেকে ৫৯ মাস বা পাঁচ বছর বয়সি টিকা দেওয়া শুরু করে।
এরপর ১২ এপ্রিল শুরু হয় চার সিটি করপোরেশন এলাকায়। ২০ এপ্রিল সারা দেশে একই বয়সি শিশুদের টিকাদান কর্মসূচি শুরু করে সরকার, যা শেষ হয় ২০ মে।
তারপরও সংক্রমণ কমছে না। সরকারি হিসাবে হামে আক্রান্ত হয়ে এবং হামের উপসর্গ নিয়ে বুধবার পর্যন্ত ১০০২ জনের মৃত্যু হয়েছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “হামের টিকা ক্যাম্পেইন শেষ করার পরও যখন সংক্রমণ অব্যাহত থাকার বিষয়টি দেখা যায়, তখন সরকার অবশিষ্ট কার্যক্রম পরিচালনা করে।”
এ কার্যক্রমের আওতায় নতুন করে ১৪ লাখ শিশুকে হামের টিকা দেওয়া হয়েছে, বলেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, বিগত সরকার দেশে কোনো টিকা রেখে যায়নি। এমন পরিস্থিতিতে বর্তমান সরকার মাত্র ২১ দিনের মধ্যে ১ কোটি ৮৫ লাখ শিশুর জন্য টিকা সংগ্রহ করে টিকাদান কার্যক্রম সম্পন্ন করেছে।
ঢাকার হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর চাপ কমাতে প্রান্তিক পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসাসেবা জোরদার করার কথা বলেছেন সাখাওয়াত হোসেন।
তিনি বলেন, “প্রতিটি হাসপাতালে আইসোলেশন বেড প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং মোবাইল হাসপাতালের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। উপজেলা পর্যায়েই রোগীদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করার পাশাপাশি টারশিয়ারি হাসপাতালগুলোর ওপর চাপ কমাতে সোসাইটি অব মেডিসিনের মাধ্যমে উপজেলা পর্যায়ের চিকিৎসকদের সঙ্গে সমন্বয় ও প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।”
ধানমণ্ডির ইউনিভার্সিটি উইমেন্স ফেডারেশন কলেজে ‘বিশ্ব আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবস’ উপলক্ষে সেমিনারটি আয়োজন করে অ্যাসোসিয়েশন ফর ডিজঅ্যাবলড পিপল (এডিপি) ও রোটারি ক্লাব আহসান মঞ্জিল।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
প্রধানমন্ত্রী সকালে সচিবালয়ে অফিস করেন। নিজের দপ্তরে প্রবেশের আগে ডিজিটাল হাজিরা দেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।
গত বুধবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের পরিপত্রে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীর সঙ্গে দাপ্তরিক যোগাযোগ, নথিপত্র ও সারসংক্ষেপ উপস্থাপনের ক্ষেত্রে তাদের পদবির আগে ‘মহামান্য’, ‘মাননীয়’ বা অন্য কোনো সম্মানসূচক শব্দ লিখিতভাবে ব্যবহার করা যাবে না।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এই প্রতিবেদককে বলেন, “সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের এই নির্দেশনা কেবল কাগজে সীমাবদ্ধ না রেখে প্রধানমন্ত্রী নিজের কার্যালয়েই তা বাস্তবায়ন শুরু করেছেন। তার কাছে উপস্থাপন করা ফাইল ও অন্যান্য সরকারি নথিতে ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী’ না লিখে শুধু ‘প্রধানমন্ত্রী’ ব্যবহারের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।”
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, ‘মাননীয়’ শব্দ বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ধারাবাহিক ইতিবাচক উদ্যোগের অংশ। এর মাধ্যমে পদমর্যাদার আনুষ্ঠানিক বিশেষণের চেয়ে দায়িত্ব, জনসেবা এবং দেশ ও জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতাকে সামনে আনার বার্তা দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী।
একই সঙ্গে দাপ্তরিক শৃঙ্খলার ক্ষেত্রেও হাজিরার প্রথা অনুসরণ করে নজির তৈরির চেষ্টা করছেন প্রধানমন্ত্রী।
কার্যালয়ে প্রবেশের সময় অন্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মতো প্রধানমন্ত্রীও নিয়মিত অনলাইন হাজিরা দিচ্ছেন। দিনের কাজ শেষে কার্যালয় ছাড়ার সময়ও নির্ধারিত পদ্ধতিতে বের হওয়ার হাজিরা দিয়ে অফিস ত্যাগ করছেন।
সরকারপ্রধান হয়ে দাপ্তরিক নিয়ম নিজের ক্ষেত্রে প্রয়োগের মাধ্যমে প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরও নিয়ম মেনে চলার বার্তা দিয়েছেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের একাধিক কর্মকর্তা জানান, প্রধানমন্ত্রীর ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি প্রশাসনে সময়ানুবর্তিতা, জবাবদিহি ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগের অংশ। রাষ্ট্র পরিচালনার সর্বোচ্চ পর্যায়ে থাকা ব্যক্তিই যখন সাধারণ দাপ্তরিক নিয়ম মেনে চলেন, তখন প্রশাসনের অন্যদের কাছেও একই নিয়ম অনুসরণের প্রত্যাশা আরও স্পষ্ট হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে রাষ্ট্রীয় কাজে ব্যক্তিকেন্দ্রিকতা ও অপ্রয়োজনীয় আড়ম্বর কমাতেও একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সরকারি কার্যক্রম ও প্রচারণায় তার ছবি ব্যবহার না করা, প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকলে গাড়ির সংখ্যা কমিয়ে আনা এবং তার চলাচলের সময় সাধারণ মানুষের জন্য ট্রাফিক সিগন্যাল বন্ধ না রাখার মতো উদ্যোগ এরই মধ্যে নেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী দেশে ও দেশের বাইরে রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান ছাড়া পতাকাবাহী গাড়ি ব্যবহার করছেন না। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এমন একটি বার্তা দেওয়া হচ্ছে যে, রাষ্ট্রের দায়িত্বশীল পদে থাকা ব্যক্তি বিশেষ সুবিধা বা বিশেষ সম্বোধনের পরিবর্তে নিয়ম ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থার অংশ হিসেবেই দায়িত্ব পালন করবেন।
নব্বই দশকের জনপ্রিয় চিত্রনায়ক সালমান শাহ হত্যা মামলায় রিমান্ড শেষে অভিনেতা আশরাফুল হক ওরফে ডনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
গতকাল বুধবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানার আদালত এ আদেশ দেন। এর আগে তাঁকে আদালতে হাজির করে কারাগারে রাখার আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা।
সিআইডি সূত্র জানায়, রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে গত ৯ আগস্ট ডনকে গ্রেপ্তার করা হয়। সেদিনই তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়। পরে ১২ আগস্ট তাঁর জামিন আবেদন করা হলে তা নামঞ্জুর করেন আদালত। গত ২৭ আগস্ট আদালত তাঁর পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। ৬ সেপ্টেম্বর তাঁকে রিমান্ডে নেয় তদন্ত সংস্থা সিআইডি। চার দিনের রিমান্ড শেষে গতকাল তাঁকে আদালতে হাজির করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে মামলার ঘটনার সঙ্গে তাঁর জড়িত থাকার তথ্য মিলেছে।
আদালতে উপস্থাপন করা পুলিশের প্রতিবেদনে বলা হয়, ডন মামলার এজাহারভুক্ত পলাতক আসামিদের চেনেন বলে জানিয়েছেন। সালমান শাহর ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসেবে তিনি বিভিন্ন বিষয়ে অবগত ছিলেন। কিন্তু সালমান শাহর মৃত্যুর বিষয় ও মামলার অভিযোগ সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি কৌশলের আশ্রয় নেন। অনেক তথ্য কৌশলে গোপন করেন। তবে মামলার ঘটনার আগে-পরে তাঁর আচরণ ও কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার বিষয়ে অনেক তথ্যপ্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে।
তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির পরিদর্শক মুজিবুর রহমান জানান, আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তাঁর কাছ থেকে কিছু তথ্য পাওয়া গেছে।
১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সালমান শাহর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি হত্যাকাণ্ডের শিকার নাকি আত্মহত্যা করেন- সেই প্রশ্নের মীমাংসা এখনও হয়নি।
সচিবালয়ে ‘সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন, ২০২৬’-এর খসড়া পর্যালোচনা সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান
বিএনপির শাসনামলে সংবাদমাধ্যমে সরকারের কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ থাকবে না বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান পার্থ। আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আজকে আমরা যেখানে আছি, সংবাদমাধ্যম আছে বলেই সেখানে আছি। সংবাদমাধ্যম যে ভূমিকা নিয়েছে সব সময়, আমাদের যত অর্জন, গণতন্ত্রের যে পর্যায়ে আছে বাংলাদেশ, আমার মনে হয়, তার সমান সমান কৃতিত্ব সংবাদমাধ্যমের।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের সময় আপনারা ফ্রি মিডিয়া পাবেন। মিডিয়া বা সাংবাদিকতায় আমাদের কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করার কোনো ইচ্ছা নাই। আমাদের প্রধানমন্ত্রী এটা বিশ্বাস করেন যে, সবাই মিলে কাজ করলে স্বপ্নের বাংলাদেশ হবে, সোনার বাংলাদেশ হবে।’
সাইবার সুরক্ষা (সংশোধনী) আইন ২০২৬ এর খসড়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটা একটি অধ্যাদেশ ছিল। আমরা এখনো আলোচনার পর্যায়ে আছি। কিছু কিছু শব্দ আছে, যেগুলো দ্বিতীয় অর্থ আছে। আমরা গত ১৭ বছরে দেখেছি, ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট থেকে শুরু করে অন্যান্য কিছু সংবাদমাধ্যমকে দমিয়ে রাখার জন্য ব্যবহার হয়েছে।
‘আইন তো আর একদিনের জন্য হয় না, আমরা খুব সতর্ক থাকার চেষ্টা করছি, কোনো শব্দ যেন আগামীতে এ ধরনের দরজা না খুলে দেয়,’ যোগ করেন তিনি। পার্থ বলেন, ‘আমাদের মূল লক্ষ্য সোশ্যাল হারমোনি। এই যে আমরা ইদানীং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখছি, গণতন্ত্রের নামে গালিগালাজ, অ্যাবিউসিভ ল্যাঙ্গুয়েজ...যা যা হচ্ছে, এই জিনিসগুলোকে কীভাবে আমরা আইনের মধ্যে আনতে পারি, একইসঙ্গে গণমাধ্যমের স্বাধীনতাকেও শ্রদ্ধা করতে পারি—কোনোভাবেই যেন দুটি সাংঘর্ষিক না হয়, এ ব্যাপারেই আমরা বারবার কথা বলার চেষ্টা করছি। আশ্বস্ত করার চেষ্টা করছি, কোনোভাবেই কোনো কণ্ঠ দমন করার জন্য এই আইন করা হচ্ছে না। যেটা আমরা আগে দেখে এসেছি।’
সামাজিক সচেতনতা জরুরি উল্লেখ করে গণমাধ্যমকর্মীদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, একটা কিছু পেলেই শেয়ার করে দেওয়া, এই জিনিসগুলো যে মানহানিকর সেটা মানুষকে বোঝাতে আমরা কর্মসূচি নেব। আপাতত আমরা সমাজের বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের সঙ্গে কথা বলছি যাতে আইনটা এমন হয়—ভবিষ্যতে এটা দিয়ে মানুষকে অ্যাবিউস করার সুযোগ না থাকে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে নয়াদিল্লি যাচ্ছেন না প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। তিনি বলেন, যে প্রক্রিয়ায় আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে- তাতে সন্তুষ্ট নয় ঢাকা। তবে ভারতে সরকার প্রধানের দ্বিপাক্ষিক সফর হতে পারে বলে জানিয়েছেন হুমায়ুন কবির।
ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে ব্রিকসের ১৮তম শীর্ষ সম্মেলন বসছে ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর। এবারের আয়োজক ভারত।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ব্রিকস সফর নিয়ে গত কয়েকদিন ধরেই ছিল নানা আলোচনা। ভারতের পক্ষ থেকেও কয়েক দফায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণ নিয়ে তাদের কাছে নতুন কোনো নিশ্চিত তথ্য নেই।
বাংলাদেশ ব্রিকসের সদস্য না হলেও বর্তমানে বিমসটেকের চেয়ারম্যান হিসেবে প্রধানমন্ত্রীকে সম্মেলনের আউটরিচ সেশনে অংশ নিতে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল দিল্লি। তবে শেষ পর্যন্ত সেই আমন্ত্রণে সাড়া দিচ্ছেন না প্রধানমন্ত্রী। যাচ্ছেন না নয়াদিল্লিতে।
তবে ভারতে প্রধানমন্ত্রীর দ্বিপাক্ষিক সফর হতে পারে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। সব মিলিয়ে, ব্রিকস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অংশগ্রহণ নিয়ে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যে হলো তার অবসান।
ইসি সচিব আখতার আহমেদ
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ছেড়ে দেওয়া ঠাকুরগাঁও-১ আসনে উপনির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আগামী ২৯ অক্টোবর ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিব আখতার আহমেদ এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এএমএম নাসির উদ্দিন নেতৃত্বাধীন ইসি তফসিল চূড়ান্ত করার পর ইসি সচিব আখতার আহমেদ তফসিল ঘোষণা করেন।
ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন ২৭ সেপ্টেম্বর। মনোনয়নপত্র বাছাই হবে ২৯ সেপ্টেম্বর। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ৭ অক্টোবর। প্রতীক বরাদ্দ ৮ অক্টোবর এবং ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ২৯ অক্টোবর। আপলি ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে ৪ অক্টোবর। আপিল নিষ্পত্তি ৬ অক্টোবর। প্রতাহারের তারিখ ৭ অক্টোবর। প্রার্থীরা প্রচার শুরু করতে পারবেন ৮ অক্টোবর থেকে। এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা পাঁচ লাখ ১৫ হাজার।
গত ২০ অগাস্ট জাতীয় সংসদে ভোটের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন ঠাকুরগাঁও-১ আসনের সংসদ সদস্য মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বিএনপির এ প্রার্থী পরদিন শপথ নিলে আসনটি শূন্য ঘোষণা করে সংসদ সচিবালয়।