সংগৃহীত ছবি

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ১১ জুন, ২০২৬, সময় : ১১:৫৯ এএম

রাজধানীর মগবাজারে আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতালটির লাইসেন্স বাতিল করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। ঘটনার পর দেওয়া কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশের জবাব সন্তোষজনক না হওয়ায় বৃহস্পতিবার এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এক সংবাদ সম্মেলনে এ সিদ্ধান্তের কথা জানান স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস। 


যেসব রোগী এই মুহূর্তে আদ্-দ্বীন হাসপাতালে চিকিৎসারত আছেন, লাইসেন্স বাতিলের পর এখন তাঁরা কী করবেন এই প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস বলেছেন, ‘লাইসেন্সবিহীন হাসপাতালে কোনো রোগীর চিকিৎসা নিতে যাওয়া উচিত নয়। যাঁরা চিকিৎসা নিচ্ছেন, আমরা কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করেছি সেসব রোগীদের যেন নিকটতম উপযুক্ত হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। তাঁদের যদি কোনো সহায়তা দরকার হয়, তাঁরা যেন তা আমাদের জানায়।’


স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বলেন, রাজধানীর মগবাজারে আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতালটির লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে। কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে না পারায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মেডিকেল প্র্যাকটিস অ্যান্ড প্রাইভেট ক্লিনিকস অ্যান্ড ল্যাবরেটরিজ (রেগুলেশন) অর্ডিন্যান্স, ১৯৮২-এর ১১(২)(খ) ধারা অনুযায়ী, আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে। তবে আইন অনুযায়ী হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সামনে এখনও আপিলের সুযোগ রয়েছে। অর্ডিন্যান্সের ১২ ধারা অনুযায়ী, লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ৩০ দিনের মধ্যে সরকারের কাছে আপিল বা পুনর্বিবেচনার আবেদন করতে পারবে প্রতিষ্ঠানটি।


মহাপরিচালক জানান, ২৭ মে হাসপাতালটিতে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনার পর অর্ডিন্যান্সের ১১ ধারা অনুযায়ী একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ৪ জুন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। নোটিশে জানতে চাওয়া হয়, কেন তাদের লাইসেন্স বাতিল করা হবে না। এ বিষয়ে ৭ জুন বিকেল পাঁচটার মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছিল। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সময় বৃদ্ধির আবেদন করলে ৯ জুন বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত সময় বাড়িয়ে দেওয়া হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আদ্-দ্বীন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ লিখিত জবাব জমা দেয়।


এই ঘটনায় ২৮ মে মৃত নবজাতকের এক বাবা বাদী হয়ে মামলা করেন। তবে কাউকে গ্রোপ্তার করা হয়নি। এদিকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের আইনজীবী শিশির মনির রোববার সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ক্ষতিপূরণ হিসেবে প্রত্যেক পরিবারকে ৮০ লাখ টাকা করে দেওয়া হবে।




নুরুল হক নুর

  • প্রকাশ : বুধবার ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৮:০৫ পিএম

নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহ থেকেই মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে বলে জানিয়েছেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক। আজ বুধবার (২৮ অক্টোবর) রাজধানীতে উইটনেস ফাউন্ডেশন আয়োজিত অভিবাসন সংলাপ শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।


তিনি বলেন, সরকারি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেডের (বোয়েসেল) মাধ্যমে একজন কর্মীর যেতে আনুমানিক ১ লাখ ৫৫ হাজার থেকে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা খরচ হতে পারে। 


বেসরকারি এজেন্সির মাধ্যমে কর্মী পাঠানোর খরচও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে নির্ধারণ করা হবে।


নুরুল হক বলেন, নভেম্বরের শুরুতে মালয়েশিয়ায় কর্মীদের মেডিকেল পরীক্ষা শুরু হলে দুই থেকে চার দিনের মধ্যে পরীক্ষার প্রক্রিয়া শেষ করে কর্মীরা যেতে পারবেন। নভেম্বরের ১ তারিখ অথবা প্রথম সপ্তাহে ফ্লাইট চালু হতে পারে।


তিনি বলেন, মালয়েশিয়ার সঙ্গে আলোচনা করে মেডিকেল পরীক্ষার অনুমোদিত কেন্দ্রগুলোর তালিকা চূড়ান্ত করা হচ্ছে। ৩১ অক্টোবরের মধ্যে মালয়েশিয়া কর্তৃপক্ষ তালিকা চূড়ান্তভাবে প্রকাশ করবে বলে বাংলাদেশকে জানিয়েছে। দুই দেশের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও কর্তৃপক্ষ নিজ নিজ ওয়েবসাইটে তালিকা প্রকাশ করবে। মেডিকেল পরীক্ষার খরচও নির্ধারণ করা হবে।


প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার চালুর ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া সরকারের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। কিছু কাজ এখনো বাকি রয়েছে, সেগুলো সম্পন্ন করতে আরো কিছুটা সময় লাগবে। তবে নভেম্বর থেকে কর্মী পাঠানোর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা চালু হবে বলে আশা করা হচ্ছে।


তিনি জানান, মালয়েশিয়ার অনুমোদিত ৩৩৮টি বড় নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের তালিকা পাওয়াকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে বাংলাদেশ। ইতিমধ্যে বিভিন্ন কোম্পানি ও প্রতিষ্ঠানের চাহিদাপত্র (ডিমান্ড লেটার) জমা দেওয়া হয়েছে।


মালয়েশিয়ার বিদেশি কর্মী নিয়োগের নির্ধারিত ব্যবস্থা এফডব্লিউসিএমএস এবং বাংলাদেশ দূতাবাসের সংশ্লিষ্ট সেবার মাধ্যমে এসব চাহিদাপত্র জমা দেওয়া হচ্ছে। তবে বাংলাদেশ দূতাবাসের সত্যায়ন ছাড়া কোনো চাহিদাপত্র গ্রহণযোগ্য হবে না বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। তার ভাষ্য, চাহিদাপত্র সত্যায়নের পাশাপাশি কর্মীদের মেডিকেল পরীক্ষা সম্পন্ন করতে হবে। কোন কোন মেডিকেল কেন্দ্রে পরীক্ষা করা যাবে, তা দুই দেশের আলোচনার ভিত্তিতে নির্ধারণ করা হবে।


অনুমোদনহীন মেডিকেল কেন্দ্রে পরীক্ষা নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর আশঙ্কা রয়েছে উল্লেখ করে নুরুল হক বলেন, মেডিকেল পরীক্ষা শুরুর বিষয়ে সরকার ইতিমধ্যে বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে। অনুমোদিত কেন্দ্রের বাইরে পরীক্ষা না করতে কর্মীদের সতর্ক থাকতে হবে।


আইইডিসিআর এর পরিচালক অধ্যাপক কাজী আহমেদ জাকিরের কক্ষে ঢুকে তাঁকে মারধর করা হয়

  • প্রকাশ : বুধবার ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৭:৫০ পিএম

রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) পরিচালক ডা. কাজী আহমেদ জাকীরের কক্ষে ঢুকে মারধরের ঘটনা তদন্তে কমিটি গঠনের জন্য নির্দেশনা দিয়েছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।


এদিকে, এ ঘটনায় ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) সহ-আইন বিষয়ক সম্পাদক ডা. জাহিদ হাসানের সদস্যপদ স্থগিত করে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। আজ বুধবার (২৮ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।


সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, আইইডিসিআরের পরিচালক অধ্যাপক জাকিরের কার্যালয়ে ঢোকেন কিছু ব্যক্তি। মিটিং চলাকালীন পরিচালকের শার্ট ধরে টেনে হিচড়ে বের করে আনছেন।


অভিযুক্ত চিকিৎসক ডা. জাহিদ হাসান ড্যাবের আজীবন সদস্য এবং সহ-আইন বিষয়ক সম্পাদক। এমন অসদাচরণের ঘটনায় তার সদস্যপদ স্থগিত করে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংগঠনির মহাসচিব ডা. মো. জহিরুল ইসলাম শাকিল।


পরিচালকের চাকরির মেয়াদ শেষ হওয়াকে কেন্দ্র করে ক্ষোভের বিষয়টি বিভিন্ন সূত্রে জানা গেলেও, তা এখনও নিশ্চিত নয়। তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।


এদিকে, আইইডিসিআরে এ ঘটনাকে মব সৃষ্টি করে হামলা হিসেবে উল্লেখ করে নিন্দা জানিয়েছেন জামায়াত আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।


প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

  • প্রকাশ : বুধবার ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৬:২৪ পিএম

আগামী ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশের জিডিপি এক ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একইসঙ্গে তিনি বাংলাদেশকে একটি ‘গ্লোবাল ম্যানুফ্যাকচারিং হাব’ বা বিশ্বমানের উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে জাপানি ব্যবসায়ীদের বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন।


আজ বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিকেলে জাপানের টোকিওতে আয়োজিত ‘বাংলাদেশ-জাপান ইকোনমিক ফোরাম’-এ দেওয়া মূল বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।


টোকিওস্থ জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশনের (জেটরো) প্রধান কার্যালয়ে এই ফোরামের আয়োজন করা হয়। জেটরো এবং দ্য জাপান-বাংলাদেশ কমিটি ফর কমার্শিয়াল অ্যান্ড ইকোনমিক কো-অপারেশন (জেবিসিসিইসি) যৌথভাবে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।


বক্তব্যের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর প্রথম স্বীকৃতি দেওয়া দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম হওয়ায় জাপানের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।


তিনি বলেন, ‘জাপান বাংলাদেশের মানুষের হৃদয়ে একটি বিশেষ স্থানে রয়েছে। সেই থেকে জাপান আমাদের অন্যতম প্রধান উন্নয়ন অংশীদার।’


জাপানের শীর্ষ ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের সামনে বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় অর্থনীতির চিত্র তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের বাজার ১৮০ মিলিয়নেরও বেশি মানুষের। আমাদের তরুণ ও দক্ষ জনশক্তি রয়েছে যাদের গড় বয়স ২৭ বছর। প্রতি বছর ৪০ থেকে ৫০ হাজার শিক্ষার্থী ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক সম্পন্ন করছে। ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ বিশ্বের নবম বৃহত্তম ভোক্তা অর্থনীতির দেশে পরিণত হবে। আর ক্রমবর্ধমান মধ্যবিত্ত শ্রেণির ওপর ভর করে ২০৩৪ সালের মধ্যে আমাদের জিডিপি ১ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে যাবে।’


বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক আরও প্রসারিত করতে চলতি বছর বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে স্বাক্ষরিত ‘ইকোনমিক পার্টনারশিপ অ্যাগ্রিমেন্ট (ইপিএ)’-এর কথা উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। 


তিনি বলেন, ‘এটিই প্রথম কোনো দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের এই ধরনের চুক্তি। আমাদের অংশীদারত্ব শুরু হয়েছিল উন্নয়ন সহযোগিতার মাধ্যমে। এখন সময় এসেছে অর্থনৈতিক সহযোগিতা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগের মাধ্যমে একে পরবর্তী ধাপে নিয়ে যাওয়ার।’


জাপানি বিনিয়োগকারীদের তিনটি প্রধান উদ্বেগের


নির্ভরযোগ্য জ্বালানি, দক্ষ অবকাঠামো এবং শুল্ক ও কর নীতি-কথা স্বীকার করে প্রধানমন্ত্রী আশ্বস্ত করেন যে, সরকার ইতোমধ্যেই বেশ কিছু সমস্যার সমাধান করেছে এবং বাকিগুলো দ্রুত সমাধানে কাজ করছে। আড়াইহাজারে ‘জাপানিজ ইকোনমিক জোন’-এ বিনিয়োগের সুবিধাও তুলে ধরেন তিনি।


জাপানি কোম্পানিগুলোকে তিনটি মূল খাতে বিনিয়োগের আমন্ত্রণ জানান প্রধানমন্ত্রী


১. জ্বালানি খাত 

জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা বাংলাদেশের জন্য অপরিহার্য উল্লেখ করে তিনি জ্বালানি অবকাঠামো, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্পে জাপানি বিনিয়োগ চান।


২. প্রযুক্তি ও মহাকাশ

এআই, ক্লাউড কম্পিউটিং ও রোবোটিক্স নিয়ে একটি উদ্ভাবন-কেন্দ্রিক 'বাংলাদেশ-জাপান টেকনোলজি পার্ক' স্থাপনের পরিকল্পনার কথা জানান প্রধানমন্ত্রী। এছাড়া মহাকাশ প্রযুক্তি এবং স্যাটেলাইট ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে জাপানের উন্নত সক্ষমতা ও অভিজ্ঞতার সহায়তা নেওয়ার আগ্রহও প্রকাশ করেন তিনি।


৩. উন্নত অবকাঠামো 

৬টি প্রধান বিভাগীয় শহরকে যুক্ত করে দেশব্যাপী এলিভেটেড রোড নেটওয়ার্ক এবং হাই-স্পিড রেল নির্মাণের মহাপরিকল্পনায় জাপানের কারিগরি ও আর্থিক সহায়তা চান প্রধানমন্ত্রী।


জনগণের সঙ্গে জনগণের সম্পর্কের ওপর জোর দিয়ে প্রধানমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ সরকার শিক্ষার্থীদের জাপানি ভাষা শেখানোর উদ্যোগ নিয়েছে, যাতে আগামীতে লাখো তরুণ জাপানি ভাষায় কথা বলতে পারে এবং দুই দেশের সম্পর্ক আরও দৃঢ় হয়।


‘জাপান আমাদের ভিত্তি গড়তে পাশে দাঁড়িয়েছে। এখন আমি আপনাদের আমাদের শিল্প-কারখানা গড়তে, নতুন সুযোগ তৈরি করতে এবং আমাদের সঙ্গে এগিয়ে যাওয়ার আমন্ত্রণ জানাচ্ছি’, যোগ করেন প্রধানমন্ত্রী।


অনুষ্ঠানে জাপানের ভাইস মিনিস্টার শিনজি, জেটরো প্রেসিডেন্ট সুসুমু কাতাওকাসহ দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তা ও ব্যবসায়িক নেতারা উপস্থিত ছিলেন। 


এর আগে, গতকাল মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) জাপানের প্রধানমন্ত্রী তাকাশির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের একটি ফলপ্রসূ দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বুধবার ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৫:১৩ পিএম

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ভোট দেওয়ার অভিযোগে বাংলাদেশের নাগরিক মোহাম্মদ হাচিবুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দেশটির মেরিল্যান্ড অঙ্গরাজ্যের ফেডারেল প্রসিকিউটর কার্যালয়। আজ বুধবার (২৮ অক্টোবর) যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নি অফিস ফর দ্য ডিস্ট্রিক্ট অব মেরিল্যান্ড এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে।


বিবৃতিতে বলা হয়, ৩৩ বছর বয়সী হাচিবুর রহমান যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক না হয়েও নিজের নাগরিকত্ব না থাকার বিষয়টি জেনেশুনে ২০২৪ সালের নভেম্বরের নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন বলে অভিযোগ আনা হয়েছে। ওই নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট, ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং মার্কিন সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য নির্বাচনের ভোটগ্রহণ হয়েছিল।


মেরিল্যান্ডের ইউএস অ্যাটর্নি কেলি ও. হেইস এবং এফবিআইয়ের বাল্টিমোর ফিল্ড অফিসের স্পেশাল এজেন্ট ইনচার্জ জিমি পল এ মামলার ঘোষণা দেন।


অভিযোগ প্রমাণিত হলে হাচিবুর রহমানের সর্বোচ্চ এক বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। তবে ফেডারেল অপরাধের ক্ষেত্রে প্রকৃত সাজা সাধারণত সর্বোচ্চ নির্ধারিত সাজার চেয়ে কম হয়। সাজা নির্ধারণের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আদালতের বিচারক সাজা নির্দেশিকা ও সংশ্লিষ্ট আইনগত বিষয় বিবেচনা করবেন।


বিবৃতিতে স্পষ্ট করা হয়েছে, মামলা দায়ের হওয়া অপরাধ প্রমাণিত হওয়ার সমতুল্য নয়। বিচারিক প্রক্রিয়ায় দোষী প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্ত নির্দোষ বলে বিবেচিত হবেন।


তদন্তে সহায়তার জন্য এফবিআই এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্টের (আইসিই) ওয়াশিংটন ফিল্ড অফিসকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন ইউএস অ্যাটর্নি কেলি ও. হেইস। মামলাটি পরিচালনা করছেন সহকারী ইউএস অ্যাটর্নি ফিলিপ মোৎসে।


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বুধবার ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৪:৫৫ পিএম

রাজধানীর মিরপুর-১০ নম্বরের মতো মিরপুর-১ নম্বর এলাকার ফুটপাতও দখলমুক্ত করে নগরবাসীর হাঁটাচলার উপযোগী করা হবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান।


তিনি বলেন, উচ্ছেদের পর যত দিন কেউ ফুটপাতে দোকান বসানোর চেষ্টা করবে, এ অভিযান তত দিন চলবে।


আজ বুধবার (২৮ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর মিরপুর-১ নম্বর রাড্ডার সামনে ডিএনসিসির উচ্ছেদ অভিযান চলাকালে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।


শফিকুল ইসলাম খান বলেন, মিরপুর-১ নম্বর এলাকার বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল ফুটপাত ও সড়ক দখলমুক্ত করা।


শাহ আলী, দারুস সালাম, মিরপুরসহ আশপাশের বিভিন্ন থানা ও ওয়ার্ডের বাসিন্দারা অবৈধভাবে ফুটপাত দখল করে হকারদের ব্যবসা পরিচালনার কারণে হাঁটাচলার অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। হকাররা শুধু গত এক-দুই বছর ধরে নয়, আগের ফ্যাসিবাদী আমল থেকেই এখানে অবৈধভাবে ব্যবসা করে আসছেন।


তিনি বলেন, এলাকার বিভিন্ন মার্কেট কমিটির নেতারা এবং সাধারণ মানুষ ব্যক্তিগতভাবে তাকে এ বিষয়ে একাধিকবার অভিযোগ জানিয়েছেন। ডিএনসিসির প্রশাসক হিসেবে তার কাছে মনে হয়েছে, নগরবাসীর হাঁটাচলার রাস্তা তাদের বুঝিয়ে দেওয়া নৈতিক দায়িত্ব।


ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, আজ বুধবার সকাল ১১টায় উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়েছে। দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত অভিযান চলছিল। অভিযানে নামার পর এলাকার সাধারণ মানুষ, মার্কেট কমিটির কর্মকর্তা ও অনেক দোকানি তাদের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। স্থানীয় নেতারাও এ কাজে সহযোগিতা করছেন।


তিনি আরও বলেন, উচ্ছেদের পর ফুটপাতের দখল যাতে আবার ফিরে না আসে, সে জন্য স্থানীয় বাসিন্দারা তদারকি করবেন। পুলিশের সংশ্লিষ্ট উপকমিশনারও ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে পুলিশ সদস্যদের মাধ্যমে বিষয়টি তদারকি করছেন। কেউ আবার ফুটপাত দখল করে বসার চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


কতটি স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে, এমন প্রশ্নের জবাবে শফিকুল ইসলাম খান বলেন, শত শত স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে হকারদের সতর্ক করা হয়েছে, মাইকিং করা হয়েছে এবং আলটিমেটাম দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তারা তাতে কর্ণপাত করেননি। এ কারণে অভিযান শুরু করতে হয়েছে।


তিনি বলেন, যত দিন কেউ ফুটপাতে আবার দোকান বসানোর চেষ্টা করবেন, তত দিন এ অভিযান চলবে। জরিমানা পরের বিষয়, আগে নগরবাসীর চলাচলের পথ উন্মুক্ত করতে হবে।


মিরপুর-১০ নম্বর এলাকার উদাহরণ দিয়ে ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, সেখানে অভিযান চালিয়ে ফুটপাত দখলমুক্ত করার পর তা নগরবাসীর কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। ফুটপাতে গাছ লাগানো হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন, রোপণ করা গাছগুলোর পরিচর্যা করতে হবে এবং নিয়মিত পানি দিতে হবে। সে অনুযায়ী জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের গাছের পরিচর্যায় যুক্ত করা হয়েছে। মঙ্গলবারও এ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে।


শফিকুল ইসলাম খান বলেন, প্রধানমন্ত্রী ‘ক্লিন ঢাকা, গ্রিন ঢাকা’ গড়ার নির্দেশনা দিয়েছেন। সেই অঙ্গীকার সামনে রেখে ঢাকা শহরকে পরিচ্ছন্ন ও সবুজ নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করছেন তারা। প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা বাস্তবায়নে দীর্ঘদিন ধরেই কাজ চলছে।


তিনি বলেন, নগরবাসীকে সঙ্গে নিয়েই এ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে চান তারা। ফুটপাত দখলমুক্ত করে মানুষের চলাচলের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া এবং উচ্ছেদের পর সেই পরিবেশ ধরে রাখাই তাদের লক্ষ্য।


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বুধবার ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৩:৪১ পিএম

ঠাকুরগাঁও-১ উপ নির্বাচনের আগের দিন ভোটের সার্বিক পরিবেশ নিয়ে ‘অসন্তোষের মধ্যে’ জামায়াত ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের প্রতিনিধি দল প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে বৈঠকে বসেছেন। আজ বুধবারের এই বৈঠকে নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসিরউদ্দিন, চার নির্বাচন কমিশনার ও ইসি সচিব উপস্থিত রয়েছেন।


১১ দলীয় ঐক্যের প্রতিনিধি দলে নেতৃত্ব দেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ।


উপ নির্বাচন হবে বৃহস্পতিবার; সামনে ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন হবে; ২১ জানুয়ারি থেকে ২৭ মে পাঁচ ধাপে হবে ভোট। এ বৈঠকে উপ নির্বাচন ও স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে আলোচনা হতে পারে।


১০ জনের প্রতিনিধি দলে জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, ঢাকা- ১৬ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল বাতেন, মুস্তাফিজুর রহমান ইরানসহ আরও কয়েকজন আছেন।


আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিরপেক্ষ হবে কি না, তা নিয়ে ইতোমধ্যে শঙ্কা প্রকাশ করেছে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য।


ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ভোটের প্রচারে ক্ষমতাসীন দলের বিরুদ্ধে বেশ কিছু অনিয়মের অভিযোগ এনে নির্বাচন কমিশনেও ‘নালিশ’ করেছে জামায়াতে ইসলামী।