ছবি : সংগৃহীত
প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে কিংবা রাতে ঘুমানোর আগে টুথপেস্ট দিয়ে দাঁত ব্রাশ করা মানুষের নিত্য অভ্যাস। শিশু থেকে বয়স্ক– সব বয়সী মানুষের ব্যবহৃত নিত্যপ্রয়োজনীয় টুথপেস্ট নিয়ে এবার উদ্বেগজনক তথ্য সামনে এসেছে।
দেশের বাজারে বিক্রি হওয়া বিভিন্ন ব্র্যান্ডের টুথপেস্টের প্রায় চারটির মধ্যে তিনটিতেই মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে। শুধু প্রাপ্তবয়স্কদের নয়, শিশুদের জন্য বাজারজাত টুথপেস্টেও মিলেছে এই ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণা।
এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (এসডো) এক বছরের গবেষণায় বাজারের ১৯টি ব্র্যান্ডের ৩৪টি টুথপেস্টের নমুনা পরীক্ষা করে দেখেছে, এর মধ্যে ২৬টিতে, অর্থাৎ ৭৬ দশমিক ৫ শতাংশ নমুনায় মাইক্রোপ্লাস্টিক রয়েছে। গবেষণায় প্রতি ১০০ গ্রাম টুথপেস্টে ২০ থেকে সর্বোচ্চ ৩২০টি পর্যন্ত মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা শনাক্ত হয়েছে। রোববার রাজধানীর লালমাটিয়ায় এসডোর কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ‘মাইক্রোপ্লাস্টিক ইন টুথপেস্ট’ শীর্ষক গবেষণার ফল প্রকাশ করা হয়।
সংস্থাটি বলছে, যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ, দক্ষিণ কোরিয়াসহ বিভিন্ন দেশে বৈজ্ঞানিক গবেষণায় টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি প্রমাণিত হয়েছে। বাংলাদেশে বাজারজাত টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি নিয়ে এটিই প্রথম বৈজ্ঞানিক গবেষণা। গবেষণার উদ্দেশ্য কোনো নির্দিষ্ট ব্র্যান্ডকে লক্ষ্যবস্তু করা নয়; বরং ভবিষ্যতের নীতিনির্ধারণে ব্যবহারযোগ্য বৈজ্ঞানিক তথ্যভান্ডার তৈরি করা।
এক বছরে সংগ্রহ ও পরীক্ষাগার বিশ্লেষণ
গবেষণাটি পরিচালিত হয়েছে ২০২৫ সালের জুলাই থেকে গত জুন পর্যন্ত। এই সময় দেশের বিভিন্ন সুপারশপ, খুচরা দোকান ও পাইকারি বাজার থেকে স্থানীয় ও আমদানি করা ১৯টি ব্র্যান্ডের ৩৪টি টুথপেস্টের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। পরে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের এনভায়রনমেন্টাল হেলথ অ্যান্ড ইকোটক্সিকোলজি (ইএইচই) গবেষণাগারে এসব নমুনার বিশ্লেষণ করা হয়। একই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন এলাকার দুই হাজার ৭৬০ জন ভোক্তার ওপর চালানো হয় একটি জরিপ।
পরীক্ষার ফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, বাংলাদেশে উৎপাদিত ২৫ নমুনার মধ্যে ২২টিতে মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে। ভিয়েতনাম থেকে আমদানি করা দুটি নমুনার দুটিতেই মাইক্রোপ্লাস্টিক মিলেছে। থাইল্যান্ডের দুটি নমুনার একটিতে এবং ভারতের পাঁচটি নমুনার একটিতে এই ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণা পাওয়া গেছে।
কোন টুথপেস্টে সবচেয়ে বেশি
গবেষণায় সবচেয়ে বেশি মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে মেডিপ্লাস ফ্লুরাইড জেল টুথপেস্টে। প্রতি ১০০ গ্রামে এতে ৩২০টি কণা শনাক্ত হয়েছে। এ ছাড়া ক্লোজআপ রেড হট ও ক্লোজআপ মেন্থল ফ্রেশে ১৬০টি করে, কোদোমো আলট্রা শিল্ড ফর্মুলায় ১৪০টি, সিগন্যাল গ্রিন টিতে ১২০টি, পেপসোডেন্ট অ্যাডভান্স সল্ট ও হিমালয়া কমপ্লিট কেয়ারে ১০০টি করে এবং সেনসোডাইন ফ্রেশ মিন্টে ৮০টি কণা পাওয়া গেছে। এ ছাড়া পেপসোডেন্ট সেনসিটিভ এক্সপার্ট, হোয়াইট প্লাস রেড, হোয়াইট প্লাস প্রো সেনসিটিভ জেল, মেরিল বেবি স্ট্রবেরি, সিগন্যাল হোয়াইটেনিং ও মেডিপ্লাস টিজিপি ফর্মুলা টুথপেস্টে ৬০টি করে কণা শনাক্ত হয়েছে।
অন্যদিকে এএমপিএম হার্বাল, মেডিপ্লাস ডিএস, পেপসোডেন্ট জার্মিচেক+, মেরিল বেবি অরেঞ্জ, ম্যাজিক হারবাল, মেসওয়াক ও ক্লোজআপ মেন্থল ফ্রেশ স্যাশেতে ৪০টি করে কণা পাওয়া গেছে। ডেন্টিন জেল, পেপসোডেন্ট কিডস অরেঞ্জ, ক্লোজআপ লেমন সি সল্ট, ব্রাশআপ হোয়াইটেনিং জেল এবং হোয়াইট প্লাস প্রো সেনসিটিভে পাওয়া গেছে ২০টি করে কণা।
মাইক্রোপ্লাস্টিক মেলেনি আটটিতে
গবেষণায় আটটি টুথপেস্টে কোনো শনাক্তযোগ্য মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া যায়নি। এগুলো হলো জেনফ্রেশ, প্যারাসুট জাস্ট ফর বেবি (ম্যাঙ্গো), ক্লোজআপ রেড-হট জিংক ফ্রেশ টেকনোলজি, প্যারোডনট্যাক্স এক্সপার্ট গাম কেয়ার, সেনসোডাইন ফ্রেশ জেল, কোলগেট ম্যাক্সফ্রেশ, কোলগেট অ্যাক্টিভ সল্ট এবং কোদোমো অরেঞ্জ।
শিশুদের টুথপেস্টও মুক্ত নয়
শিশুদের জন্য বাজারজাত করা ছয়টি টুথপেস্টও গবেষণার আওতায় আনা হয়। এর মধ্যে চারটিতে অর্থাৎ, প্রায় ৬৭ শতাংশ নমুনায় মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে। এসব টুথপেস্টে প্রতি ১০০ গ্রামে ২০ থেকে ১৪০টি পর্যন্ত কণা শনাক্ত হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ১৪০টি কণা পাওয়া যায় কোদোমো আলট্রা শিল্ড ফর্মুলায়। মেরিল বেবি স্ট্রবেরিতে পাওয়া গেছে ৬০টি, মেরিল বেবি অরেঞ্জে ৪০টি এবং পেপসোডেন্ট কিডস অরেঞ্জে ২০টি কণা। তবে প্যারাসুট জাস্ট ফর বেবি ও কোদোমো অরেঞ্জে কোনো মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া যায়নি।
মোড়কে নেই কোনো তথ্য
গবেষণায় আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে আসে। পরীক্ষা করা কোনো টুথপেস্টের মোড়কে মাইক্রোপ্লাস্টিক কিংবা ব্যবহৃত সিনথেটিক পলিমারের তথ্য উল্লেখ করা হয়নি। এসডো বলছে, এর ফলে ভোক্তারা সচেতনভাবে পণ্য বেছে নেওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। একই সঙ্গে নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর জন্যও বাজার তদারকি কঠিন হয়ে পড়ছে।
সংবাদ সম্মেলনে এসডোর মহাসচিব ও সিনিয়র টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজার ড. শাহরিয়ার হোসেন বলেন, গবেষণায় ব্যবহৃত সব নমুনা সরাসরি সুপারশপ, খুচরা বিক্রেতা ও বাজার থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে। ফলে নকল বা ভেজাল পণ্য গবেষণার অন্তর্ভুক্ত হওয়ার সুযোগ ছিল না। তিনি বলেন, প্রতিদিন ব্যবহৃত একটি পণ্যে মাইক্রোপ্লাস্টিক থাকতে পারে এ বিষয়টি অধিকাংশ ভোক্তারই অজানা। তাই টুথপেস্টের উপাদান লেবেলে উল্লেখ বাধ্যতামূলক করা, জনসচেতনতা বাড়ানো এবং নিয়ন্ত্রক তদারকি জোরদার করা জরুরি।
ভোক্তাদের সচেতনতা সীমিত
গবেষণার অংশ হিসেবে পরিচালিত ভোক্তা জরিপে দেখা গেছে, টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি সম্পর্কে সাধারণ মানুষের সচেতনতা এখনও খুবই সীমিত। জরিপে অংশ নেওয়া ৪১ দশমিক ৯ শতাংশ মানুষ বলেছেন, তারা আগে কখনও এ বিষয়ে শোনেননি। ৩১ দশমিক ৩ শতাংশ বলেছেন, শুনেছেন তবে বিস্তারিত জানেন না। মাত্র ২৬ দশমিক ৯ শতাংশ উত্তরদাতা জানিয়েছেন, তারা এ বিষয়ে সচেতন। জরিপে আরও দেখা গেছে, ৮২ দশমিক ৫ শতাংশ উত্তরদাতা নিয়মিত টুথপেস্ট ব্যবহার করেন এবং ৯০ দশমিক ৬ শতাংশ নিয়মিত টুথব্রাশ ব্যবহার করেন। ৫৬ দশমিক ৯ শতাংশ দিনে একবার এবং ৪০ দশমিক ৬ শতাংশ দিনে দুইবার দাঁত ব্রাশ করেন।
টুথপেস্ট ব্যবহারের ক্ষেত্রে সবচেয়ে জনপ্রিয় ব্র্যান্ড হিসেবে উঠে এসেছে মেডিপ্লাস। জরিপে অংশ নেওয়া ৩৫ দশমিক ৬ শতাংশ উত্তরদাতা এই ব্র্যান্ড ব্যবহার করেন। এর পর রয়েছে ক্লোজআপ ও পেপসোডেন্ট, যেগুলো ব্যবহার করেন ১৩ দশমিক ৮ শতাংশ করে উত্তরদাতা। কোলগেট ব্যবহার করেন ১১ দশমিক ৩ শতাংশ।
মান সংশোধনের উদ্যোগ নেবে বিএসটিআই
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউটের (বিএসটিআই) উপপরিচালক (রসায়ন) মো. মনজুরুল করিম বলেন, বর্তমানে টুথপেস্টের জাতীয় মানে ৪০টি অনুমোদিত উপাদান এবং কণার আকারের সীমা নির্ধারণ রয়েছে। কিছু উৎপাদক কম খরচে ওজন বাড়ানোর উদ্দেশ্যে মাইক্রোপ্লাস্টিক ব্যবহার করতে পারেন, যা একটি খারাপ চর্চা। তিনি জানান, ২০১৯ সাল থেকেই প্রসাধনী পণ্যে মাইক্রোপ্লাস্টিক ব্যবহারের বিষয়টি বিএসটিআইয়ের নজরে রয়েছে। ইতোমধ্যে ফেসওয়াশ ও ফেসপ্যাকের মান সংশোধন করা হয়েছে। এখন টুথপেস্টের মানেও একই ধরনের সংশোধনের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
নীতিমালা নেই, বাধ্যতামূলক নয় পরীক্ষা
এসডো বলছে, বাংলাদেশে বর্তমানে টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিকের জন্য কোনো জাতীয় মানদণ্ড, অনুমোদিত সীমা, পরীক্ষার পদ্ধতি কিংবা বাধ্যতামূলক লেবেলিং নীতি নেই। ফলে উৎপাদকরা এ বিষয়ে কোনো তথ্য প্রকাশে বাধ্য নন এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থারও কার্যকর নজরদারির সুযোগ সীমিত।
সংস্থাটির চেয়ারম্যান সৈয়দ মারগুব মোরশেদ বলেন, বিশ্বাসযোগ্য বৈজ্ঞানিক তথ্যের ভিত্তিতেই কার্যকর জননীতি প্রণয়ন করা উচিত। এই গবেষণা টুথপেস্টের মানদণ্ড উন্নয়ন, নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থা জোরদার এবং ভোক্তা ও পরিবেশ সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
স্বাস্থ্য ও পরিবেশে সম্ভাব্য ঝুঁকি
গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দাঁত ব্রাশের সময় টুথপেস্টের সঙ্গে বেরিয়ে যাওয়া মাইক্রোপ্লাস্টিক বর্জ্য পানির মাধ্যমে পরিবেশে ছড়িয়ে পড়ে। পরে তা নদী, জলাশয় ও খাদ্যশৃঙ্খলে প্রবেশ করতে পারে। খাদ্য ও পানীয়ের মাধ্যমে এসব ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণা মানবদেহেও প্রবেশের শঙ্কা রয়েছে।
আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গবেষণায় মাইক্রোপ্লাস্টিকের সংস্পর্শের সঙ্গে শ্বাসতন্ত্র, পরিপাকতন্ত্র, রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা, হৃদরোগ, স্নায়ুতন্ত্র ও প্রজননস্বাস্থ্যের সম্ভাব্য ঝুঁকির ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। তবে এসব প্রভাব সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে আরও বিস্তৃত গবেষণার প্রয়োজন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
গবেষণার ফল প্রকাশের পর বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় একটি পণ্যে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি শুধু ভোক্তার স্বাস্থ্য নয়, পরিবেশ সুরক্ষার বিষয়টিকেও সামনে নিয়ে এসেছে। তাই দ্রুত জাতীয় মানদণ্ড প্রণয়ন, বাধ্যতামূলক লেবেলিং, নিয়মিত পরীক্ষাগার তদারকি এবং উৎপাদকদের জবাবদিহি নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।
এসডোর নির্বাহী পরিচালক সিদ্দীকা সুলতানা বলেন, এই গবেষণার মাধ্যমে বাংলাদেশে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক শূন্যতা পূরণ হয়েছে। এর ফলাফল ভবিষ্যতে ওরাল কেয়ার পণ্যে মাইক্রোপ্লাস্টিকের মানদণ্ড নির্ধারণ, নিয়মিত পর্যবেক্ষণ এবং তথ্যভিত্তিক নীতিমালা প্রণয়নে সহায়ক হবে।
স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের সাবেক লাইন ডিরেক্টর দন্ত চিকিৎসক অধ্যাপক মো. মোশাররফ হোসেন খন্দকার বলেন, মুখ পরিষ্কারে ব্যবহৃত পণ্যগুলোতে এ ধরনের ক্ষতিকর উপাদান থাকা উচিত নয়। দাঁতের সুরক্ষায় ফ্লোরাইড, কার্বনেট ও সিলিকাকে সবচেয়ে প্রয়োজনীয় মনে করা হয়। মাইক্রোপ্লাস্টিক তার ঘর্ষণ ক্ষমতার কারণে দাঁত সাদা করতে পারলেও, এটি দাঁতের এনামেলের ওপর বিরূপ ও ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে।
পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিদর্শক মাহমুদা তামান্না খান বলেন, গবেষণায় যে বিষয়টি উন্মোচিত করেছি, এর ওপর ভিত্তি করে আমরা কাজ করতে আগ্রহী। বিএসটিআইকে সব ধরনের সহায়তা দিতে আমরা প্রস্তুত। সরকারি সংস্থা ও এনজিওগুলো একযোগে কাজ করলেই ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন
টিকা দেওয়ার পরও হামের সংক্রমণ না কমায় দেশে আবারও বিশেষ হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন শুরু হওয়ার কথা বলেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
তিনি বলেছেন, আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর এ ক্যাম্পেইন শুরু হচ্ছে। আজ বৃহস্পতিবার ঢাকায় এক সেমিনার শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এ তথ্য দিয়েছেন বলে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে।
সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ইতোমধ্যে অধিকাংশ টিকা ইউনিসেফের মাধ্যমে দেশে এসে পৌঁছেছে। অবশিষ্ট টিকাও আগামী ১৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে দেশে পৌঁছাবে।
হামের প্রাদুর্ভাব ও মৃত্যু বেড়ে যাওয়ায় সমালোচনার মধ্যে সরকার জরুরি ভিত্তিতে দেশের উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ ৩০টি উপজেলায় ৫ এপ্রিল থেকে ছয় মাস থেকে ৫৯ মাস বা পাঁচ বছর বয়সি টিকা দেওয়া শুরু করে।
এরপর ১২ এপ্রিল শুরু হয় চার সিটি করপোরেশন এলাকায়। ২০ এপ্রিল সারা দেশে একই বয়সি শিশুদের টিকাদান কর্মসূচি শুরু করে সরকার, যা শেষ হয় ২০ মে।
তারপরও সংক্রমণ কমছে না। সরকারি হিসাবে হামে আক্রান্ত হয়ে এবং হামের উপসর্গ নিয়ে বুধবার পর্যন্ত ১০০২ জনের মৃত্যু হয়েছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “হামের টিকা ক্যাম্পেইন শেষ করার পরও যখন সংক্রমণ অব্যাহত থাকার বিষয়টি দেখা যায়, তখন সরকার অবশিষ্ট কার্যক্রম পরিচালনা করে।”
এ কার্যক্রমের আওতায় নতুন করে ১৪ লাখ শিশুকে হামের টিকা দেওয়া হয়েছে, বলেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, বিগত সরকার দেশে কোনো টিকা রেখে যায়নি। এমন পরিস্থিতিতে বর্তমান সরকার মাত্র ২১ দিনের মধ্যে ১ কোটি ৮৫ লাখ শিশুর জন্য টিকা সংগ্রহ করে টিকাদান কার্যক্রম সম্পন্ন করেছে।
ঢাকার হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর চাপ কমাতে প্রান্তিক পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসাসেবা জোরদার করার কথা বলেছেন সাখাওয়াত হোসেন।
তিনি বলেন, “প্রতিটি হাসপাতালে আইসোলেশন বেড প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং মোবাইল হাসপাতালের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। উপজেলা পর্যায়েই রোগীদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করার পাশাপাশি টারশিয়ারি হাসপাতালগুলোর ওপর চাপ কমাতে সোসাইটি অব মেডিসিনের মাধ্যমে উপজেলা পর্যায়ের চিকিৎসকদের সঙ্গে সমন্বয় ও প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।”
ধানমণ্ডির ইউনিভার্সিটি উইমেন্স ফেডারেশন কলেজে ‘বিশ্ব আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবস’ উপলক্ষে সেমিনারটি আয়োজন করে অ্যাসোসিয়েশন ফর ডিজঅ্যাবলড পিপল (এডিপি) ও রোটারি ক্লাব আহসান মঞ্জিল।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
প্রধানমন্ত্রী সকালে সচিবালয়ে অফিস করেন। নিজের দপ্তরে প্রবেশের আগে ডিজিটাল হাজিরা দেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।
গত বুধবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের পরিপত্রে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীর সঙ্গে দাপ্তরিক যোগাযোগ, নথিপত্র ও সারসংক্ষেপ উপস্থাপনের ক্ষেত্রে তাদের পদবির আগে ‘মহামান্য’, ‘মাননীয়’ বা অন্য কোনো সম্মানসূচক শব্দ লিখিতভাবে ব্যবহার করা যাবে না।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এই প্রতিবেদককে বলেন, “সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের এই নির্দেশনা কেবল কাগজে সীমাবদ্ধ না রেখে প্রধানমন্ত্রী নিজের কার্যালয়েই তা বাস্তবায়ন শুরু করেছেন। তার কাছে উপস্থাপন করা ফাইল ও অন্যান্য সরকারি নথিতে ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী’ না লিখে শুধু ‘প্রধানমন্ত্রী’ ব্যবহারের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।”
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, ‘মাননীয়’ শব্দ বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ধারাবাহিক ইতিবাচক উদ্যোগের অংশ। এর মাধ্যমে পদমর্যাদার আনুষ্ঠানিক বিশেষণের চেয়ে দায়িত্ব, জনসেবা এবং দেশ ও জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতাকে সামনে আনার বার্তা দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী।
একই সঙ্গে দাপ্তরিক শৃঙ্খলার ক্ষেত্রেও হাজিরার প্রথা অনুসরণ করে নজির তৈরির চেষ্টা করছেন প্রধানমন্ত্রী।
কার্যালয়ে প্রবেশের সময় অন্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মতো প্রধানমন্ত্রীও নিয়মিত অনলাইন হাজিরা দিচ্ছেন। দিনের কাজ শেষে কার্যালয় ছাড়ার সময়ও নির্ধারিত পদ্ধতিতে বের হওয়ার হাজিরা দিয়ে অফিস ত্যাগ করছেন।
সরকারপ্রধান হয়ে দাপ্তরিক নিয়ম নিজের ক্ষেত্রে প্রয়োগের মাধ্যমে প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরও নিয়ম মেনে চলার বার্তা দিয়েছেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের একাধিক কর্মকর্তা জানান, প্রধানমন্ত্রীর ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি প্রশাসনে সময়ানুবর্তিতা, জবাবদিহি ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগের অংশ। রাষ্ট্র পরিচালনার সর্বোচ্চ পর্যায়ে থাকা ব্যক্তিই যখন সাধারণ দাপ্তরিক নিয়ম মেনে চলেন, তখন প্রশাসনের অন্যদের কাছেও একই নিয়ম অনুসরণের প্রত্যাশা আরও স্পষ্ট হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে রাষ্ট্রীয় কাজে ব্যক্তিকেন্দ্রিকতা ও অপ্রয়োজনীয় আড়ম্বর কমাতেও একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সরকারি কার্যক্রম ও প্রচারণায় তার ছবি ব্যবহার না করা, প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকলে গাড়ির সংখ্যা কমিয়ে আনা এবং তার চলাচলের সময় সাধারণ মানুষের জন্য ট্রাফিক সিগন্যাল বন্ধ না রাখার মতো উদ্যোগ এরই মধ্যে নেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী দেশে ও দেশের বাইরে রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান ছাড়া পতাকাবাহী গাড়ি ব্যবহার করছেন না। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এমন একটি বার্তা দেওয়া হচ্ছে যে, রাষ্ট্রের দায়িত্বশীল পদে থাকা ব্যক্তি বিশেষ সুবিধা বা বিশেষ সম্বোধনের পরিবর্তে নিয়ম ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থার অংশ হিসেবেই দায়িত্ব পালন করবেন।
নব্বই দশকের জনপ্রিয় চিত্রনায়ক সালমান শাহ হত্যা মামলায় রিমান্ড শেষে অভিনেতা আশরাফুল হক ওরফে ডনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
গতকাল বুধবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানার আদালত এ আদেশ দেন। এর আগে তাঁকে আদালতে হাজির করে কারাগারে রাখার আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা।
সিআইডি সূত্র জানায়, রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে গত ৯ আগস্ট ডনকে গ্রেপ্তার করা হয়। সেদিনই তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়। পরে ১২ আগস্ট তাঁর জামিন আবেদন করা হলে তা নামঞ্জুর করেন আদালত। গত ২৭ আগস্ট আদালত তাঁর পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। ৬ সেপ্টেম্বর তাঁকে রিমান্ডে নেয় তদন্ত সংস্থা সিআইডি। চার দিনের রিমান্ড শেষে গতকাল তাঁকে আদালতে হাজির করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে মামলার ঘটনার সঙ্গে তাঁর জড়িত থাকার তথ্য মিলেছে।
আদালতে উপস্থাপন করা পুলিশের প্রতিবেদনে বলা হয়, ডন মামলার এজাহারভুক্ত পলাতক আসামিদের চেনেন বলে জানিয়েছেন। সালমান শাহর ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসেবে তিনি বিভিন্ন বিষয়ে অবগত ছিলেন। কিন্তু সালমান শাহর মৃত্যুর বিষয় ও মামলার অভিযোগ সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি কৌশলের আশ্রয় নেন। অনেক তথ্য কৌশলে গোপন করেন। তবে মামলার ঘটনার আগে-পরে তাঁর আচরণ ও কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার বিষয়ে অনেক তথ্যপ্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে।
তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির পরিদর্শক মুজিবুর রহমান জানান, আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তাঁর কাছ থেকে কিছু তথ্য পাওয়া গেছে।
১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সালমান শাহর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি হত্যাকাণ্ডের শিকার নাকি আত্মহত্যা করেন- সেই প্রশ্নের মীমাংসা এখনও হয়নি।
সচিবালয়ে ‘সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন, ২০২৬’-এর খসড়া পর্যালোচনা সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান
বিএনপির শাসনামলে সংবাদমাধ্যমে সরকারের কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ থাকবে না বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান পার্থ। আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আজকে আমরা যেখানে আছি, সংবাদমাধ্যম আছে বলেই সেখানে আছি। সংবাদমাধ্যম যে ভূমিকা নিয়েছে সব সময়, আমাদের যত অর্জন, গণতন্ত্রের যে পর্যায়ে আছে বাংলাদেশ, আমার মনে হয়, তার সমান সমান কৃতিত্ব সংবাদমাধ্যমের।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের সময় আপনারা ফ্রি মিডিয়া পাবেন। মিডিয়া বা সাংবাদিকতায় আমাদের কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করার কোনো ইচ্ছা নাই। আমাদের প্রধানমন্ত্রী এটা বিশ্বাস করেন যে, সবাই মিলে কাজ করলে স্বপ্নের বাংলাদেশ হবে, সোনার বাংলাদেশ হবে।’
সাইবার সুরক্ষা (সংশোধনী) আইন ২০২৬ এর খসড়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটা একটি অধ্যাদেশ ছিল। আমরা এখনো আলোচনার পর্যায়ে আছি। কিছু কিছু শব্দ আছে, যেগুলো দ্বিতীয় অর্থ আছে। আমরা গত ১৭ বছরে দেখেছি, ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট থেকে শুরু করে অন্যান্য কিছু সংবাদমাধ্যমকে দমিয়ে রাখার জন্য ব্যবহার হয়েছে।
‘আইন তো আর একদিনের জন্য হয় না, আমরা খুব সতর্ক থাকার চেষ্টা করছি, কোনো শব্দ যেন আগামীতে এ ধরনের দরজা না খুলে দেয়,’ যোগ করেন তিনি। পার্থ বলেন, ‘আমাদের মূল লক্ষ্য সোশ্যাল হারমোনি। এই যে আমরা ইদানীং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখছি, গণতন্ত্রের নামে গালিগালাজ, অ্যাবিউসিভ ল্যাঙ্গুয়েজ...যা যা হচ্ছে, এই জিনিসগুলোকে কীভাবে আমরা আইনের মধ্যে আনতে পারি, একইসঙ্গে গণমাধ্যমের স্বাধীনতাকেও শ্রদ্ধা করতে পারি—কোনোভাবেই যেন দুটি সাংঘর্ষিক না হয়, এ ব্যাপারেই আমরা বারবার কথা বলার চেষ্টা করছি। আশ্বস্ত করার চেষ্টা করছি, কোনোভাবেই কোনো কণ্ঠ দমন করার জন্য এই আইন করা হচ্ছে না। যেটা আমরা আগে দেখে এসেছি।’
সামাজিক সচেতনতা জরুরি উল্লেখ করে গণমাধ্যমকর্মীদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, একটা কিছু পেলেই শেয়ার করে দেওয়া, এই জিনিসগুলো যে মানহানিকর সেটা মানুষকে বোঝাতে আমরা কর্মসূচি নেব। আপাতত আমরা সমাজের বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের সঙ্গে কথা বলছি যাতে আইনটা এমন হয়—ভবিষ্যতে এটা দিয়ে মানুষকে অ্যাবিউস করার সুযোগ না থাকে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে নয়াদিল্লি যাচ্ছেন না প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। তিনি বলেন, যে প্রক্রিয়ায় আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে- তাতে সন্তুষ্ট নয় ঢাকা। তবে ভারতে সরকার প্রধানের দ্বিপাক্ষিক সফর হতে পারে বলে জানিয়েছেন হুমায়ুন কবির।
ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে ব্রিকসের ১৮তম শীর্ষ সম্মেলন বসছে ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর। এবারের আয়োজক ভারত।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ব্রিকস সফর নিয়ে গত কয়েকদিন ধরেই ছিল নানা আলোচনা। ভারতের পক্ষ থেকেও কয়েক দফায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণ নিয়ে তাদের কাছে নতুন কোনো নিশ্চিত তথ্য নেই।
বাংলাদেশ ব্রিকসের সদস্য না হলেও বর্তমানে বিমসটেকের চেয়ারম্যান হিসেবে প্রধানমন্ত্রীকে সম্মেলনের আউটরিচ সেশনে অংশ নিতে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল দিল্লি। তবে শেষ পর্যন্ত সেই আমন্ত্রণে সাড়া দিচ্ছেন না প্রধানমন্ত্রী। যাচ্ছেন না নয়াদিল্লিতে।
তবে ভারতে প্রধানমন্ত্রীর দ্বিপাক্ষিক সফর হতে পারে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। সব মিলিয়ে, ব্রিকস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অংশগ্রহণ নিয়ে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যে হলো তার অবসান।
ইসি সচিব আখতার আহমেদ
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ছেড়ে দেওয়া ঠাকুরগাঁও-১ আসনে উপনির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আগামী ২৯ অক্টোবর ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিব আখতার আহমেদ এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এএমএম নাসির উদ্দিন নেতৃত্বাধীন ইসি তফসিল চূড়ান্ত করার পর ইসি সচিব আখতার আহমেদ তফসিল ঘোষণা করেন।
ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন ২৭ সেপ্টেম্বর। মনোনয়নপত্র বাছাই হবে ২৯ সেপ্টেম্বর। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ৭ অক্টোবর। প্রতীক বরাদ্দ ৮ অক্টোবর এবং ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ২৯ অক্টোবর। আপলি ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে ৪ অক্টোবর। আপিল নিষ্পত্তি ৬ অক্টোবর। প্রতাহারের তারিখ ৭ অক্টোবর। প্রার্থীরা প্রচার শুরু করতে পারবেন ৮ অক্টোবর থেকে। এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা পাঁচ লাখ ১৫ হাজার।
গত ২০ অগাস্ট জাতীয় সংসদে ভোটের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন ঠাকুরগাঁও-১ আসনের সংসদ সদস্য মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বিএনপির এ প্রার্থী পরদিন শপথ নিলে আসনটি শূন্য ঘোষণা করে সংসদ সচিবালয়।