প্রতীকী ছবি
দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে ২৪ ঘণ্টায় তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে ৪২ জনের হাম শনাক্ত এবং এক হাজার ২১৭ জনের মধ্যে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। আজ মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাম-সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
এতে বলা হয়, হামের উপসর্গে ঢাকা, ময়মনসিংহ ও চট্টগ্রামে একজন করে মারা গেছে। আক্রান্তদের মধ্যে আছে ঢাকায় ৩৪ জন এবং চট্টগ্রামে আটজন। উপসর্গ পাওয়া গেছে- ঢাকায় ৪৯৯, সিলেটে ১২৩, চট্টগ্রামে ২৫১, রাজশাহীতে ৩৩, ময়মনসিংহে ৬৩, বরিশালে ১২৬, খুলনায় ৯৭ এবং রংপুরে ২৫ জনের।
গত মার্চ থেকে এ পর্যন্ত নিশ্চিত হামে ১০৪ জন মারা গেছে। অন্যদিকে, হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হলো এক হাজার ১০০ জনের। এসময়ের মধ্যে নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে ২৩ হাজার ১৯৯ জনের আর হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে দুই লাখ ১৫ হাজার ৭৬৮ জনের।
বিভাগভিত্তিক হিসাব অনুযায়ী, নিশ্চিত হামে সবচেয়ে বেশি ৬৭ রোগী মারা গেছে ঢাকায়। এছাড়া বরিশালে ১৯, চট্টগ্রামে ১০, সিলেট ও রাজশাহীতে তিনজন করে এবং ময়মনসিংহে দুজন মৃত্যুবরণ করেছে।
সেই সঙ্গে সন্দেহজনক হামেও সবচেয়ে বেশি ৪৯৪ জনের মৃত্যু হয়েছে ঢাকা বিভাগে। এছাড়া সিলেটে ১৯৩, রাজশাহীতে ৯৩, চট্টগ্রামে ১০২, ময়মনসিংহে ৮৫, বরিশালে ৬৫, খুলনায় ৫১ ও রংপুরে ১৭ জন প্রাণ হারিয়েছে।
প্রতীকী ছবি
দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরও ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর ফলে এখন পর্যন্ত মোট মৃতের সংখ্যা ৩৫৭ জন ছাড়ালো। একই সময়ে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৩৬৬ জন।
আজ মঙ্গলবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, অক্টোবরের প্রথম ১৯ দিনে মারা গেছে ১১২ জন। এছাড়া সেপ্টেম্বরে সর্বোচ্চ ১৪৮ জন, আগস্টে ৪৩ জন, জুলাইয়ে ৩৬ জন, জুনে ১৩ জন, মে মাসে একজন এবং জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে দুজন করে ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে হয়, সোমবার সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ১ হাজার ৩৬৬ জন ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছর হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ১৫ হাজার ৬১৭ জনে। গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ১ হাজার ৪১৫ জন। এ পর্যন্ত মোট ১ লাখ ৯ হাজার ৩১৬ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।
গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি রোগী ভর্তি হয়েছেন ঢাকা বিভাগে ৬৩৮ জন। এছাড়া চট্টগ্রামে ১০৫ জন, খুলনায় ১৪১ জন, বরিশালে ১৯১ জন, রাজশাহীতে ১২৮ জন, ময়মনসিংহে ৮০ জন এবং রংপুরে ৭২ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে দ্বিপক্ষীয় সফরে ২৬ অক্টোবর টোকিও যাচ্ছেন প্রধানন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন এ সফরে দুই দেশের অর্থনৈতিক ও বিনিয়োগ সহযোগিতা গুরুত্ব পাবে। সফরে প্রায় আটটি সমঝোতা স্মারক নিয়ে আলোচনা চলছে, যার মধ্যে অন্তত চারটি সই হওয়ার প্রত্যাশা করছে ঢাকা। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) প্রধানমন্ত্রী জাপান সফর নিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্রসচিব এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, এই সফরের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ ও জাপানের বিদ্যমান সম্পর্ক আরও গভীর ও সময়োপযোগী করার সুযোগ তৈরি হবে। সফরে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, কৃষি প্রযুক্তি ও মানবসম্পদ উন্নয়নেও সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র চিহ্নিত করার ওপর গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।
জানা যায়, আগামী ২৭ অক্টোবর জাপানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বসবেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি জাইকার প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠক এবং জাপান-বাংলাদেশ ইকোনমিক ফোরামে বক্তব্য দেওয়ার কর্মসূচি রয়েছে তার।
ঢাকা ও টোকিওর কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, সরকারপ্রধানের সফরে বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের প্রভাবে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে সৃষ্ট চাপ মোকাবিলায় জাপানের কাছে ২০০ কোটি ডলারের সহায়তা চাইতে পারে বাংলাদেশ। পাশাপাশি বাংলাদেশে জাপানি অবকাঠামো প্রকল্পে অর্থায়নের খরচ কমানোর বিষয়টি গুরত্ব দিবে ঢাকা। এছাড়া বাণিজ্য, বিনিয়োগ, পর্যটন, মানবসম্পদের মতো বিষয়ে গুরুত্ব দিতে পারে ঢাকা।
অপরদিকে, টোকিও ‘কৌশলগত অংশীদারত্ব’-এর আওতায় এ সরকারের সঙ্গেও সব ধরনের সহযোগিতা আরও এগিয়ে নেওয়ার বার্তা দিতে পারে। পাশাপাপশি জাপান হালনাগাদ অবাধ ও উন্মুক্ত ইন্দো-প্যাসিফিক (এফওআইপি) বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে বাংলাদেশকে তাদের পাশে চাইবে।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে সরকার গঠনের পর জুনে মালয়েশিয়া হয়ে ও চীন সফর করেছেন তারেক রহমান। সরকারপ্রধানের বেইজিং সফরের পর টোকিও সফরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতির পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
এর আগে, গত এপ্রিলের শেষ দিকে জাপানের কৃষি, বন ও মৎস্যমন্ত্রী নরিকাজু সুজুকি ঢাকা সফর করেন এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির লেখা একটি চিঠি প্রধানমন্ত্রীর হাতে তুলে দেন। এরপর আগস্টে ঢাকায় অনুষ্ঠিত দুই দেশের পররাষ্ট্র সচিব পর্যায়ের আলোচনা প্ল্যাটফর্ম ফরেন অফিস কনসালটেশনে (এফওসি) তারেক রহমানের জাপান সফর নিয়ে আলোচনা হয়। পরবর্তীতে উভয় পক্ষ আলোচনার মাধ্যমে তারেক রহমানের টোকিও সফরের তারিখ চূড়ান্ত করেছে।
জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধনের লোগো
জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের অনলাইন কার্যক্রম ছয় দিনের জন্য বন্ধ থাকবে। নিবন্ধন সংক্রান্ত সফটওয়্যার বিডিআরআইএস (BDRIS) রক্ষণাবেক্ষণের জন্য এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ১৯ অক্টোবর সন্ধ্যা ৬টা থেকে ২৫ অক্টোবর সকাল ৬টা পর্যন্ত জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন সংক্রান্ত সব কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।
সফটওয়্যার রক্ষণাবেক্ষণের জন্য সাময়িকভাবে এ কার্যক্রম বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।
ছবি : সংগৃহীত
জানুয়ারিতে শুরু হতে যাওয়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সামনে রেখে চলমান ভোটার স্থানান্তরের আবেদন আগামী ৫ নভেম্বরের মধ্যে নিষ্পত্তির নির্দেশনা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। হালনাগাদের পর এ ভোটার তালিকা ২৫ নভেম্বর চূড়ান্ত করা হবে। যারা ভোটার তালিকায় থাকবেন, তারাই স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন।
ইতোমধ্যে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, প্রথম ধাপের ভোট হবে আগামী বছরের ২১ জানুয়ারি, দ্বিতীয় ধাপের ভোট ৪ ফেব্রুয়ারি, তৃতীয় ধাপে ২৯ এপ্রিল, চতুর্থ ধাপে ১৩ মে এবং পঞ্চম ও শেষ ধাপের ভোটগ্রহণ হবে ২৭ মে। এসব নির্বাচনের তফসিল জেলা নির্বাচন কর্মকর্তারা ঘোষণা করবেন।
ভোটার তালিকা মুদ্রণ চূড়ান্ত ২৫ নভেম্বর
ইসি সোমবার এক নির্দেশনায় দেশের সব উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তাকে জানিয়েছে, ২০০৮ সালের ৩১ অক্টোবর বা এর আগে যাদের জন্ম, তাদের মধ্যে যারা এ বছরের ৩১ অক্টোবরের মধ্যে ভোটার ডেটাবেজে নিবন্ধিত হবেন, তাদের অন্তর্ভুক্ত করে হালনাগাদ ভোটার তালিকা চূড়ান্ত করা হবে।
এজন্য ৫ নভেম্বর সারা দেশে খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে। দাবি-আপত্তি নিষ্পত্তি শেষে ২৫ নভেম্বর চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে।
স্থানান্তর নিষ্পত্তির নির্দেশ
স্থানীয় সরকার নির্বাচন উপলক্ষে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত ভোটার এলাকা পরিবর্তনের জন্য আবেদন করা যাবে। এসব আবেদন ৫ নভেম্বরের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে হবে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে হালনাগাদ ভোটার তালিকা চূড়ান্ত করার পরিকল্পনা ছিল আগস্টে। ইসির পরিকল্পনা ছিল, নভেম্বরে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন শুরু হবে এবং সেপ্টেম্বরে তফসিল ঘোষণা করা হবে। এ লক্ষ্যে ভোটার তালিকা মুদ্রণের কাজও শুরু করার পরিকল্পনা ছিল।
তবে ভোট পিছিয়ে যাওয়ায় দেশজুড়ে ফের ভোটার স্থানান্তর কার্যক্রম চালু করে নির্বাচন কমিশন।
ইশরাক হোসেন ও জন এফ ড্যানিলোভিচ,
অস্ত্র উঁচিয়ে মাদকবিরোধী অভিযানের জেরে সমালোচিত মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের পদত্যাগের ঘটনাকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের একটি ‘সঠিক ও দায়িত্বশীল সিদ্ধান্ত’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক উপ-রাষ্ট্রদূত জন এফ ড্যানিলোভিচ। একই সঙ্গে বাংলাদেশকে অতীতের নেতিবাচক ধারা থেকে বের করে ভিন্ন ও ইতিবাচক পথে এগিয়ে নিতে তারেক রহমানের নেতৃত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৭টা ৪০ মিনিটে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় সাবেক এই প্রভাবশালী মার্কিন কূটনীতিক এ প্রতিক্রিয়া জানান।
এক্স পোস্টে জন এফ ড্যানিলোভিচ উল্লেখ করেন, ‘ইশরাক হোসেনের বেপরোয়া কর্মকাণ্ডের পর তার পদত্যাগ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এটি সর্বশেষ এমন একটি স্পষ্ট ইঙ্গিত, যা প্রমাণ করে নিজ সরকারের সদস্যদের কর্মকাণ্ডের জন্য জবাবদিহির আওতায় আনতে তারেক রহমান আন্তরিক। বাংলাদেশের ভবিষ্যৎকে অতীতের চেয়ে ভিন্ন পথে এগিয়ে নিতে তাঁর নেতৃত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’
জন এফ ড্যানিলোভিচ ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসে দীর্ঘদিন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি ২০০৭ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত দূতাবাসের পলিটিক্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক কাউন্সিলর এবং পরবর্তীতে ২০১২ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত ডেপুটি চিফ অব মিশন (ডিসিএম) বা উপ-রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি আন্তর্জাতিক থিংকট্যাংক ‘আটলান্টিক কাউন্সিল’-এর দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক সিনিয়র ফেলো হিসেবে ভূরাজনীতি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষণে যুক্ত রয়েছেন।
এর আগে সোমবার দুপুরে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন ইশরাক হোসেন। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্র নিশ্চিত করেছে যে তাঁর পদত্যাগপত্র গৃহীত হয়েছে এবং এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারির প্রক্রিয়া চলছে।
বিতর্কের সূত্রপাত ঘটে গত শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাজধানীর গেন্ডারিয়া রেলস্টেশন-সংলগ্ন দয়াগঞ্জ গুমটিঘর রেলগেট এলাকায় ইশরাক হোসেনের একটি ব্যক্তিগত মাদকবিরোধী অভিযানকে কেন্দ্র করে। ওই দিন তাঁর ফেসবুক পেজে প্রচারিত একটি ভিডিওতে দেখা যায়, গাড়ি থেকে নেমে তিনি ব্যক্তিগত আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে কয়েকজনকে ধরতে নির্দেশ দিচ্ছেন। এ সময় তাঁর দেহরক্ষীরা এক তরুণকে লাথি মারেন এবং একজনকে গুলি করার হুমকিও দেওয়া হয়।
একজন মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রীর এভাবে সরাসরি অস্ত্র হাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মতো অভিযানে অংশ নেওয়ার আইনি বৈধতা নিয়ে দেশজুড়ে ব্যাপক সমালোচনার ঝড় ওঠে। পরে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে সরিয়ে নেওয়া হলেও ঘটনাটি তদন্তে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ওয়ারী বিভাগের উপকমিশনারকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) শফিকুল ইসলাম জানান, তদন্তে আইনের কোনো লঙ্ঘন পাওয়া গেলে বিধি মোতাবেক আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ছবি : সংগৃহীত
দুর্গাপূজা উপলক্ষে আজ মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) থেকে শুরু হয়েছে টানা পাঁচ দিনের ছুটি। সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারীরা ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত ছুটি কাটাবেন। একই সঙ্গে বন্ধ রয়েছে ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, শেয়ারবাজার ও আদালত। ছুটির আগে গতকাল সোমবার (১৯ অক্টোবর) ছিল শেষ কর্মদিবস। দুর্গাপূজার ছুটি ও সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে টানা পাঁচ দিনের ছুটি হওয়ায় সোমবার বিকেল থেকেই বাসস্ট্যান্ড, রেলস্টেশন ও লঞ্চ টার্মিনালে ঘরমুখো মানুষের ভিড় দেখা গেছে।
শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে ২০ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত তিন দিনের ছুটি ঘোষণা করে গত ৭ অক্টোবর প্রজ্ঞাপন জারি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। এর সঙ্গে ২৩ ও ২৪ অক্টোবর শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় টানা পাঁচ দিনের ছুটি পেয়েছেন সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারীরা।
২০২৬ সালের সরকারি ছুটির তালিকা অনুযায়ী, ২০ অক্টোবর মঙ্গলবার মহানবমী উপলক্ষে নির্বাহী আদেশে এবং ২১ অক্টোবর বুধবার বিজয়া দশমী উপলক্ষে সাধারণ ছুটি নির্ধারিত ছিল। ২২ অক্টোবর বৃহস্পতিবার ছিল কর্মদিবস। পরে ওই দিনও নির্বাহী আদেশে ছুটি ঘোষণার প্রস্তাব অনুমোদন করে মন্ত্রিসভা। ফলে তিন দিনের পূজার ছুটির সঙ্গে দুই দিনের সাপ্তাহিক ছুটি যুক্ত হয়ে পাঁচ দিনের ছুটি তৈরি হয়।
এর আগে গত ৫ অক্টোবর সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে সাধারণ ছুটি ও নির্বাহী আদেশে সরকারি ছুটির তারিখ পুনর্নির্ধারণের প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়। এ ছুটির কারণে গত ১৭ অক্টোবর শনিবার সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও সরকারি অফিস খোলা রাখা হয়েছিল।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, দুর্গাপূজা উপলক্ষে ২০ থেকে ২২ অক্টোবর মঙ্গলবার, বুধবার ও বৃহস্পতিবার ছুটি থাকবে। এরপর ২৩ ও ২৪ অক্টোবর শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় ২০ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত টানা পাঁচ দিনের ছুটি ভোগ করা যাবে।
তবে জরুরি সেবার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও কর্মীরা এ ছুটির আওতার বাইরে থাকবেন। বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস ও অন্যান্য জ্বালানি, ফায়ার সার্ভিস, বন্দর, পরিচ্ছন্নতা, টেলিফোন ও ইন্টারনেট, ডাক সেবা এবং এসব সেবার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট যানবাহন ও কর্মীরা ছুটির বাইরে থাকবেন।
এ ছাড়া হাসপাতাল ও জরুরি চিকিৎসাসেবা, চিকিৎসক ও সংশ্লিষ্ট কর্মী এবং ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম পরিবহনকারী যানবাহন ও কর্মীদের ছুটি প্রযোজ্য হবে না। জরুরি কাজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অফিসও এ ছুটির আওতার বাইরে থাকবে।
ব্যাংক কার্যক্রম চালু রাখার বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক এবং আদালতের কার্যক্রমের বিষয়ে সুপ্রিম কোর্ট প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেবে। বেসরকারি শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও কলকারখানার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেবে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়।