নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, আজকের শিশুরা যদি আগামী দিনে নিজেদের সঠিকভাবে গড়ে তুলতে পারে, তবেই ভবিষ্যতে একটি সুন্দর ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
বাংলাদেশ আর্মি স্টেডিয়ামে আজ সোমবার বিকালে ‘ক্রীড়া হলে পেশা, পরিবার পাবে ভরসা’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত কিশোর-কিশোরীদের বৃহৎ ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৫-২৬’-এর সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত শিশু-কিশোর ও খেলোয়াড়দের উদ্দেশে বলেন, “আমরা দেশকে সঠিকভাবে গড়ে তোলার কাজ করছি। কিন্তু এই কাজটি আমরা তখনই সফলভাবে করতে পারব, যখন তোমরা আজকে যারা গ্যালারিতে বসে আছ এবং যারা খেলার মাঠে পুরস্কার পেয়েছ, তোমরা নিজেদেরকে আগামী দিনের উপযোগী করে গড়ে তুলবে। এখন পড়ার সময় মন দিয়ে পড়তে হবে, একইভাবে মন দিয়ে খেলতে হবে।”
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, “ছোট্ট বন্ধুরা সঠিকভাবে নিজেদেরকে গড়ে তুলতে হবে। তোমাদের দিকে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ তাকিয়ে আছে, বাংলাদেশ তোমাদের দিকে তাকিয়ে আছে। তোমরা যদি নিজেদের গড়ে তুলতে পারো, আমরা একটি সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারব। এই কাজ আমরা হয়তো শুরু করেছি। কিন্তু বাংলাদেশ গড়ার কাজ তোমাদেরকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।”
আমার দৃঢ় বিশ্বাস-আজ প্যান্ডেল ও গ্যালারিতে উপস্থিত হাজার হাজার শিশুর মধ্য থেকেই আগামী দিনের সফল ডাক্তার, প্রকৌশলী, স্থপতি, আন্তর্জাতিক মানের ক্রিকেটার, সাঁতারু ও টেনিস খেলোয়াড় বেরিয়ে আসবে; যারা দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। তাই ছোট্ট বন্ধুরা, তোমরা শক্তভাবে নিজেদের আত্মগঠনে মনোযোগ দাও।
ছোট্ট শিশুদের কাছে সহযোগিতা চেয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ছোট্ট বন্ধুরা, তোমাদের সকলের কাছে আমি একটি সহযোগিতা চাই। এই দেশটা আমাদের সকলের। এই দেশের আলো, এই দেশের বাতাস, এই দেশের পরিবেশ আমরা সকলে মিলে যদি ঠিক রাখি, তাহলে একটি সুন্দর পরিবেশ গড়তে পারব। তোমরা নিশ্চয়ই দেখেছ রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় তোমার বাসার আশপাশে অনেকে বিভিন্ন রকম ময়লা, প্লাস্টিকের বোতল ফেলে যায়। কেউ এগুলো ফেলছে-সেটি পুকুর হোক, নদীনালা হোক বা বাসার আশপাশে; এখন থেকে যদি এরকম কোনো দৃশ্য তোমাদের চোখে পড়ে, প্লিজ! তোমরা তাকে বারণ করবে। দরকার হলে সেই ময়লাটি তোমরা তুলে নিয়ে গিয়ে যেখানে ময়লা ফেলার জায়গা, নির্দিষ্ট সেই জায়গায় ফেলবে। যাতে আমাদের পরিবেশ, আমাদের নদীর পানি, পুকুরের পানি পরিষ্কার থাকে। সেখানে মানুষ সুন্দরভাবে হাঁটাচলা করতে বা বসতে পারে।”
শিশুদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, “প্রতিবছর চেষ্টা করবে, তোমার বাড়ির আশপাশে হোক, স্কুলের আশপাশে হোক অথবা যেখানে তুমি সুবিধা মনে কর সেইখানে একটি করে গাছ লাগাতে হবে। গাছ যদি আমরা লাগাতে পারি, আমাদের পরিবেশটা সুন্দর হবে, পরিষ্কার হবে। আমরা সকলে মিলে বুকভরে শ্বাস নিতে পারব।”
তিনি আরও বলেন, “কিছু কিছু মানুষ আছে, যারা প্রকৃতির প্রতি, বিভিন্ন পশুপাখির প্রতি অত্যন্ত নির্দয়। আজকে আমার সকল ছোট্ট বন্ধুদের আমি অনুরোধ করব, আসো আমাদের আশপাশে যত কুকুর, বিড়াল, হাঁস, মুরগি, গরু, ছাগল যত রকম পশুপাখি আছে আমরা চেষ্টা করব এই যে প্রকৃতির, আল্লাহ দেওয়া বিভিন্ন জীব, পশুপাখি এদের যত্ন নেওয়ার। যত্ন যদি নিতে না পারি, অন্তত আমরা চেষ্টা করব তাদের যাতে কোনো প্রকার ক্ষতি হতে না পারে।”
বিদ্যালয়গুলোর অবকাঠামোগত সমস্যার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, “সরকার শিক্ষার পরিবেশ উন্নত করতে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। শিশুরা যে ক্ষেত্রে নিজেদের বিকশিত করতে চায়, তা পড়ালেখা, খেলাধুলা, গান বা ছবি আঁকা-যা-ই হোক না কেন-সরকার তাতে সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে।”
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
আগামী ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশের জিডিপি এক ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একইসঙ্গে তিনি বাংলাদেশকে একটি ‘গ্লোবাল ম্যানুফ্যাকচারিং হাব’ বা বিশ্বমানের উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে জাপানি ব্যবসায়ীদের বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন।
আজ বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিকেলে জাপানের টোকিওতে আয়োজিত ‘বাংলাদেশ-জাপান ইকোনমিক ফোরাম’-এ দেওয়া মূল বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।
টোকিওস্থ জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশনের (জেটরো) প্রধান কার্যালয়ে এই ফোরামের আয়োজন করা হয়। জেটরো এবং দ্য জাপান-বাংলাদেশ কমিটি ফর কমার্শিয়াল অ্যান্ড ইকোনমিক কো-অপারেশন (জেবিসিসিইসি) যৌথভাবে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
বক্তব্যের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর প্রথম স্বীকৃতি দেওয়া দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম হওয়ায় জাপানের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, ‘জাপান বাংলাদেশের মানুষের হৃদয়ে একটি বিশেষ স্থানে রয়েছে। সেই থেকে জাপান আমাদের অন্যতম প্রধান উন্নয়ন অংশীদার।’
জাপানের শীর্ষ ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের সামনে বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় অর্থনীতির চিত্র তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের বাজার ১৮০ মিলিয়নেরও বেশি মানুষের। আমাদের তরুণ ও দক্ষ জনশক্তি রয়েছে যাদের গড় বয়স ২৭ বছর। প্রতি বছর ৪০ থেকে ৫০ হাজার শিক্ষার্থী ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক সম্পন্ন করছে। ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ বিশ্বের নবম বৃহত্তম ভোক্তা অর্থনীতির দেশে পরিণত হবে। আর ক্রমবর্ধমান মধ্যবিত্ত শ্রেণির ওপর ভর করে ২০৩৪ সালের মধ্যে আমাদের জিডিপি ১ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে যাবে।’
বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক আরও প্রসারিত করতে চলতি বছর বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে স্বাক্ষরিত ‘ইকোনমিক পার্টনারশিপ অ্যাগ্রিমেন্ট (ইপিএ)’-এর কথা উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ‘এটিই প্রথম কোনো দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের এই ধরনের চুক্তি। আমাদের অংশীদারত্ব শুরু হয়েছিল উন্নয়ন সহযোগিতার মাধ্যমে। এখন সময় এসেছে অর্থনৈতিক সহযোগিতা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগের মাধ্যমে একে পরবর্তী ধাপে নিয়ে যাওয়ার।’
জাপানি বিনিয়োগকারীদের তিনটি প্রধান উদ্বেগের
নির্ভরযোগ্য জ্বালানি, দক্ষ অবকাঠামো এবং শুল্ক ও কর নীতি-কথা স্বীকার করে প্রধানমন্ত্রী আশ্বস্ত করেন যে, সরকার ইতোমধ্যেই বেশ কিছু সমস্যার সমাধান করেছে এবং বাকিগুলো দ্রুত সমাধানে কাজ করছে। আড়াইহাজারে ‘জাপানিজ ইকোনমিক জোন’-এ বিনিয়োগের সুবিধাও তুলে ধরেন তিনি।
জাপানি কোম্পানিগুলোকে তিনটি মূল খাতে বিনিয়োগের আমন্ত্রণ জানান প্রধানমন্ত্রী
১. জ্বালানি খাত
জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা বাংলাদেশের জন্য অপরিহার্য উল্লেখ করে তিনি জ্বালানি অবকাঠামো, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্পে জাপানি বিনিয়োগ চান।
২. প্রযুক্তি ও মহাকাশ
এআই, ক্লাউড কম্পিউটিং ও রোবোটিক্স নিয়ে একটি উদ্ভাবন-কেন্দ্রিক 'বাংলাদেশ-জাপান টেকনোলজি পার্ক' স্থাপনের পরিকল্পনার কথা জানান প্রধানমন্ত্রী। এছাড়া মহাকাশ প্রযুক্তি এবং স্যাটেলাইট ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে জাপানের উন্নত সক্ষমতা ও অভিজ্ঞতার সহায়তা নেওয়ার আগ্রহও প্রকাশ করেন তিনি।
৩. উন্নত অবকাঠামো
৬টি প্রধান বিভাগীয় শহরকে যুক্ত করে দেশব্যাপী এলিভেটেড রোড নেটওয়ার্ক এবং হাই-স্পিড রেল নির্মাণের মহাপরিকল্পনায় জাপানের কারিগরি ও আর্থিক সহায়তা চান প্রধানমন্ত্রী।
জনগণের সঙ্গে জনগণের সম্পর্কের ওপর জোর দিয়ে প্রধানমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ সরকার শিক্ষার্থীদের জাপানি ভাষা শেখানোর উদ্যোগ নিয়েছে, যাতে আগামীতে লাখো তরুণ জাপানি ভাষায় কথা বলতে পারে এবং দুই দেশের সম্পর্ক আরও দৃঢ় হয়।
‘জাপান আমাদের ভিত্তি গড়তে পাশে দাঁড়িয়েছে। এখন আমি আপনাদের আমাদের শিল্প-কারখানা গড়তে, নতুন সুযোগ তৈরি করতে এবং আমাদের সঙ্গে এগিয়ে যাওয়ার আমন্ত্রণ জানাচ্ছি’, যোগ করেন প্রধানমন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে জাপানের ভাইস মিনিস্টার শিনজি, জেটরো প্রেসিডেন্ট সুসুমু কাতাওকাসহ দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তা ও ব্যবসায়িক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে, গতকাল মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) জাপানের প্রধানমন্ত্রী তাকাশির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের একটি ফলপ্রসূ দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
ছবি : সংগৃহীত
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ভোট দেওয়ার অভিযোগে বাংলাদেশের নাগরিক মোহাম্মদ হাচিবুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দেশটির মেরিল্যান্ড অঙ্গরাজ্যের ফেডারেল প্রসিকিউটর কার্যালয়। আজ বুধবার (২৮ অক্টোবর) যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নি অফিস ফর দ্য ডিস্ট্রিক্ট অব মেরিল্যান্ড এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, ৩৩ বছর বয়সী হাচিবুর রহমান যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক না হয়েও নিজের নাগরিকত্ব না থাকার বিষয়টি জেনেশুনে ২০২৪ সালের নভেম্বরের নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন বলে অভিযোগ আনা হয়েছে। ওই নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট, ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং মার্কিন সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য নির্বাচনের ভোটগ্রহণ হয়েছিল।
মেরিল্যান্ডের ইউএস অ্যাটর্নি কেলি ও. হেইস এবং এফবিআইয়ের বাল্টিমোর ফিল্ড অফিসের স্পেশাল এজেন্ট ইনচার্জ জিমি পল এ মামলার ঘোষণা দেন।
অভিযোগ প্রমাণিত হলে হাচিবুর রহমানের সর্বোচ্চ এক বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। তবে ফেডারেল অপরাধের ক্ষেত্রে প্রকৃত সাজা সাধারণত সর্বোচ্চ নির্ধারিত সাজার চেয়ে কম হয়। সাজা নির্ধারণের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আদালতের বিচারক সাজা নির্দেশিকা ও সংশ্লিষ্ট আইনগত বিষয় বিবেচনা করবেন।
বিবৃতিতে স্পষ্ট করা হয়েছে, মামলা দায়ের হওয়া অপরাধ প্রমাণিত হওয়ার সমতুল্য নয়। বিচারিক প্রক্রিয়ায় দোষী প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্ত নির্দোষ বলে বিবেচিত হবেন।
তদন্তে সহায়তার জন্য এফবিআই এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্টের (আইসিই) ওয়াশিংটন ফিল্ড অফিসকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন ইউএস অ্যাটর্নি কেলি ও. হেইস। মামলাটি পরিচালনা করছেন সহকারী ইউএস অ্যাটর্নি ফিলিপ মোৎসে।
ছবি : সংগৃহীত
রাজধানীর মিরপুর-১০ নম্বরের মতো মিরপুর-১ নম্বর এলাকার ফুটপাতও দখলমুক্ত করে নগরবাসীর হাঁটাচলার উপযোগী করা হবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান।
তিনি বলেন, উচ্ছেদের পর যত দিন কেউ ফুটপাতে দোকান বসানোর চেষ্টা করবে, এ অভিযান তত দিন চলবে।
আজ বুধবার (২৮ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর মিরপুর-১ নম্বর রাড্ডার সামনে ডিএনসিসির উচ্ছেদ অভিযান চলাকালে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
শফিকুল ইসলাম খান বলেন, মিরপুর-১ নম্বর এলাকার বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল ফুটপাত ও সড়ক দখলমুক্ত করা।
শাহ আলী, দারুস সালাম, মিরপুরসহ আশপাশের বিভিন্ন থানা ও ওয়ার্ডের বাসিন্দারা অবৈধভাবে ফুটপাত দখল করে হকারদের ব্যবসা পরিচালনার কারণে হাঁটাচলার অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। হকাররা শুধু গত এক-দুই বছর ধরে নয়, আগের ফ্যাসিবাদী আমল থেকেই এখানে অবৈধভাবে ব্যবসা করে আসছেন।
তিনি বলেন, এলাকার বিভিন্ন মার্কেট কমিটির নেতারা এবং সাধারণ মানুষ ব্যক্তিগতভাবে তাকে এ বিষয়ে একাধিকবার অভিযোগ জানিয়েছেন। ডিএনসিসির প্রশাসক হিসেবে তার কাছে মনে হয়েছে, নগরবাসীর হাঁটাচলার রাস্তা তাদের বুঝিয়ে দেওয়া নৈতিক দায়িত্ব।
ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, আজ বুধবার সকাল ১১টায় উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়েছে। দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত অভিযান চলছিল। অভিযানে নামার পর এলাকার সাধারণ মানুষ, মার্কেট কমিটির কর্মকর্তা ও অনেক দোকানি তাদের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। স্থানীয় নেতারাও এ কাজে সহযোগিতা করছেন।
তিনি আরও বলেন, উচ্ছেদের পর ফুটপাতের দখল যাতে আবার ফিরে না আসে, সে জন্য স্থানীয় বাসিন্দারা তদারকি করবেন। পুলিশের সংশ্লিষ্ট উপকমিশনারও ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে পুলিশ সদস্যদের মাধ্যমে বিষয়টি তদারকি করছেন। কেউ আবার ফুটপাত দখল করে বসার চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কতটি স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে, এমন প্রশ্নের জবাবে শফিকুল ইসলাম খান বলেন, শত শত স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে হকারদের সতর্ক করা হয়েছে, মাইকিং করা হয়েছে এবং আলটিমেটাম দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তারা তাতে কর্ণপাত করেননি। এ কারণে অভিযান শুরু করতে হয়েছে।
তিনি বলেন, যত দিন কেউ ফুটপাতে আবার দোকান বসানোর চেষ্টা করবেন, তত দিন এ অভিযান চলবে। জরিমানা পরের বিষয়, আগে নগরবাসীর চলাচলের পথ উন্মুক্ত করতে হবে।
মিরপুর-১০ নম্বর এলাকার উদাহরণ দিয়ে ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, সেখানে অভিযান চালিয়ে ফুটপাত দখলমুক্ত করার পর তা নগরবাসীর কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। ফুটপাতে গাছ লাগানো হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন, রোপণ করা গাছগুলোর পরিচর্যা করতে হবে এবং নিয়মিত পানি দিতে হবে। সে অনুযায়ী জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের গাছের পরিচর্যায় যুক্ত করা হয়েছে। মঙ্গলবারও এ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে।
শফিকুল ইসলাম খান বলেন, প্রধানমন্ত্রী ‘ক্লিন ঢাকা, গ্রিন ঢাকা’ গড়ার নির্দেশনা দিয়েছেন। সেই অঙ্গীকার সামনে রেখে ঢাকা শহরকে পরিচ্ছন্ন ও সবুজ নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করছেন তারা। প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা বাস্তবায়নে দীর্ঘদিন ধরেই কাজ চলছে।
তিনি বলেন, নগরবাসীকে সঙ্গে নিয়েই এ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে চান তারা। ফুটপাত দখলমুক্ত করে মানুষের চলাচলের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া এবং উচ্ছেদের পর সেই পরিবেশ ধরে রাখাই তাদের লক্ষ্য।
ছবি : সংগৃহীত
ঠাকুরগাঁও-১ উপ নির্বাচনের আগের দিন ভোটের সার্বিক পরিবেশ নিয়ে ‘অসন্তোষের মধ্যে’ জামায়াত ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের প্রতিনিধি দল প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে বৈঠকে বসেছেন। আজ বুধবারের এই বৈঠকে নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসিরউদ্দিন, চার নির্বাচন কমিশনার ও ইসি সচিব উপস্থিত রয়েছেন।
১১ দলীয় ঐক্যের প্রতিনিধি দলে নেতৃত্ব দেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ।
উপ নির্বাচন হবে বৃহস্পতিবার; সামনে ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন হবে; ২১ জানুয়ারি থেকে ২৭ মে পাঁচ ধাপে হবে ভোট। এ বৈঠকে উপ নির্বাচন ও স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে আলোচনা হতে পারে।
১০ জনের প্রতিনিধি দলে জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, ঢাকা- ১৬ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল বাতেন, মুস্তাফিজুর রহমান ইরানসহ আরও কয়েকজন আছেন।
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিরপেক্ষ হবে কি না, তা নিয়ে ইতোমধ্যে শঙ্কা প্রকাশ করেছে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য।
ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ভোটের প্রচারে ক্ষমতাসীন দলের বিরুদ্ধে বেশ কিছু অনিয়মের অভিযোগ এনে নির্বাচন কমিশনেও ‘নালিশ’ করেছে জামায়াতে ইসলামী।
রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) পরিচালক অধ্যাপক কাজী আহমেদ জাকিরের কক্ষে ঢুকে তাঁকে মারধর করা হয়
রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) পরিচালকের কার্যালয়ে ঢুকে তাঁর কক্ষের ভেতরে তাঁকে মারধর করা হয়েছে। আজ বুধবার বেলা ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
সংস্থাটির পরিচালক অধ্যাপক কাজী আহমেদ জাকি বলেছেন, বিএনপিপন্থী চিকিৎসকদের সংগঠন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) কর্মীরা মব সৃষ্টি করে ঘটনাটি ঘটিয়েছেন।
অধ্যাপক কাজী আহমেদকে মারধর করার ভিডিও ফুটেজ হাতে এসেছে। ভিডিওতে দেখা যায়, কাজী আহমেদ নিজের কক্ষে কয়েকজন ব্যক্তির সঙ্গে বৈঠক করছেন। এ সময় আট থেকে নয়জন লোক তাঁর কক্ষে ঢোকেন। তাঁরা কাজী আহমেদকে চেয়ার থেকে টেনে উঠিয়ে নিয়ে মারধর শুরু করেন।
আইইডিসিআর সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ সংস্থা। তাদের কাজ হলো দেশে রোগ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ, গবেষণা, সতর্কবার্তা দেওয়া ইত্যাদি।
আইইডিসিআর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও), যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার ফর ডিজিস কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের (সিডিসি) মতো সংস্থার সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করে।
বিএনপি সরকার আসার পর আইইডিসিআরের সর্বোচ্চ পদ, অর্থাৎ পরিচালক পদে অধ্যাপক কাজী আহমেদকে নিয়োগ দেয়। তিনি একজন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ। সম্প্রতি হামের টিকার কার্যকারিতা নিয়ে তিনি গবেষণা করেন।
ড্যাবের সভাপতি অধ্যাপক হারুন আল রশিদ কাছে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, ‘ওর (কাজী আহমেদ) ও তো কিছু দোষ আছে।’
কী দোষ জানতে চাইলে তিনি মুঠোফোনে থাকা একটি ছবি দেখিয়ে বলেন, ‘এই সরকারের সময় কাজী আহমেদ কী করে মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরার সঙ্গে তার (কাজী আহমেদ) নিজের অফিসে বৈঠক করে?’
জনস্বাস্থ্যবিদ মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর; রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণাপ্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) পরিচালক ছিলেন। তিনি করোনা নিয়ে সংবাদমাধ্যমে ব্রিফিং করে বেশ পরিচিতি পান। পরে তিনি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালকের দায়িত্ব পান।
কাজী আহমেদকে মারধরের সময় তাঁর কক্ষে উপস্থিত থাকা একজন জনস্বাস্থ্যবিদ নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, যাঁরা মারধর করেছেন, তাঁদের তিনি আগে কখনো আইইডিসিআরে দেখেননি।
জনস্বাস্থ্যবিদ ও আইইডিসিআরের সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মুশতাক হোসেন বলেন, আইইডিসিআরে নিজের কক্ষে পরিচালককে মারধর অত্যন্ত নিন্দনীয় ঘটনা। এ ঘটনার তদন্ত হতে হবে, দোষী ব্যক্তিদের শাস্তি দিতে হবে।
প্রতীকী ছবি
ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় আরও ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে, যা এই বছরে এক দিনে সর্বোচ্চ মৃত্যুর রেকর্ড। এর আগে গত ৬ ও ১৫ অক্টোবর ডেঙ্গুতে এক দিনে সর্বোচ্চ ১০ জনের মৃত্যু হয়েছিল। এ নিয়ে গত জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত ডেঙ্গুতে ৪০০ জন মারা গেছেন। গতকাল মঙ্গলবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গুবিষয়ক এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত সোমবার সকাল ৮টা থেকে মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন দুই হাজার ৭১ জন। এর মধ্যে দুই সিটি করপোরেশনসহ ঢাকা বিভাগে ৮৯৯ জন, বরিশাল বিভাগে ২১৭, চট্টগ্রামে ২৪১, খুলনায় ২৫০, ময়মনসিংহে ৯৭, রাজশাহীতে ২২৯, রংপুরে ১১২ ও সিলেটে ২৬ জন ভর্তি হয়েছেন। এ ছাড়া বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন ছয় হাজার ৪১৫ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে এক লাখ ২৮ হাজার ২৩৭-এ। এখন পর্যন্ত হাসপাতাল থেকে মোট ছাড়পত্র পেয়েছেন এক লাখ ২১ হাজার ৪২২ জন। আর চলতি বছরে মারা যাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে জানুয়ারিতে ২, ফেব্রুয়ারিতে ২, মে মাসে ১, জুনে ১৩, জুলাইয়ে ৩৬, আগস্টে ৪৩ এবং সেপ্টেম্বরে ১৪৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া চলতি বছরে সবচেয়ে বেশি ঢাকা বিভাগে ১৮৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর পরই খুলনা বিভাগে ৭৬, চট্টগ্রামে ৩৯, ময়মনসিংহে ৩৩, বরিশালে ২৯, রাজশাহীতে ২৭, রংপুরে ৭ ও সিলেট বিভাগে তিনজন মারা গেছেন।
এদিকে গতকাল হামবিষয়ক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ২৪ ঘণ্টায় হাম ও উপসর্গে আরও ৭ শিশু মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে একজন নিশ্চিত হামে মারা গেছে। আর হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছে এক হাজার ২৩২ শিশু এবং হাম শনাক্ত হয়েছে ৬৩ শিশুর শরীরে। সব মিলিয়ে হামের নতুন রোগী এক হাজার ২৯৫ জন। এ নিয়ে সরকারি হিসাবে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত মারা গেছে এক হাজার ২৪০ শিশু। এর মধ্যে হামে মৃত্যু হয়েছে ১০৫ শিশুর। বাকি এক হাজার ১৩৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে হামের উপসর্গে। এখন পর্যন্ত মোট আক্রান্ত হয়েছে দুই লাখ ৪৭ হাজার ৩২৫ শিশু।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গত ১৫ মার্চ থেকে গতকাল সকাল ৮টা পর্যন্ত হামের উপসর্গের রোগী পাওয়া গেছে দুই লাখ ২৩ হাজার ৭৮৪ জন। এখন পর্যন্ত হামের রোগী পাওয়া গেছে ২৩ হাজার ৫৪১ জন। এ ছাড়া হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে এক লাখ ৯৯ হাজার ১২৭ শিশু। এখন পর্যন্ত হাম থেকে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে এক লাখ ৯১ হাজার ৯০ শিশু।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ৭ শিশুর মধ্যে চট্টগ্রাম ও খুলনা বিভাগে দুজন করে, ঢাকা ও বরিশাল বিভাগে একজন করে রয়েছে। নিশ্চিত হামে যে একজনের মৃত্যু হয়েছে, সে ঢাকার বাসিন্দা। আর একই সময়ে ঢাকা বিভাগে সর্বোচ্চ ৫০৪ জন হাম উপসর্গের রোগী পাওয়া গেছে। হামের রোগী পাওয়া গেছে ৬৩ জন।