প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
শিগগিরই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাতের আশা প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গতকাল সোমবার (৩১ আগস্ট) প্রধানমন্ত্রীকে পাঠানো এক চিঠিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট এ প্রত্যাশার কথা জানান।
প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এ তথ্য জানান।
চিঠিতে ট্রাম্প উল্লেখ করেন, নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে গেলেও তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ ও এ দেশের জনগণের একটি উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ রয়েছে বলে তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন। চিঠিতে তিনি বাংলাদেশের জনগণের প্রতি তার আন্তরিক শুভেচ্ছা ও ভালোবাসার কথাও জানান।
এছাড়া, যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
তিনি আশ্বস্ত করে বলেন, বোয়িং বাংলাদেশকে হতাশ করবে না। একইসঙ্গে এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত মনোযোগের কথা তিনি সবসময় মনে রাখবেন বলেও উল্লেখ করেন।
শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন
বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্ত শিক্ষক ও কর্মচারীরা নতুন পে-স্কেলে অন্তর্ভুক্ত হবেন এবং সে অনুযায়ী বেতন-ভাতা পাবেন বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। আজ মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বিকেল পৌনে ৫টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ তথ্য জানান।
পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদেরও নতুন বেতন কাঠামোতে বেতন দেওয়া হবে।’
এর আগে সোমবার বিকেলে ‘জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬’ অনুমোদন দেয় সরকারের মন্ত্রিসভা। মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর সন্ধ্যায় এ নিয়ে ব্রিফিং করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি। সেখানে তাকে প্রশ্ন করা হয়েছিল যে, এমপিওভুক্ত শিক্ষক ও কর্মচারীরা নতুন পে-স্কেলে অন্তর্ভুক্ত হবেন কি না।
জবাবে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি বলেন, ‘এ বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।’
এ নিয়ে তাৎক্ষণিক ক্ষোভ জানায় দেশের প্রায় সোয়া ছয় লাখ এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের সংগঠন এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণপ্রত্যাশী জোট। সংগঠনের পক্ষ থেকে পে-স্কেলে এমপিওভুক্ত শিক্ষক ও কর্মচারীদের অন্তর্ভুক্ত করে প্রজ্ঞাপন জারির দাবি জানানো হয়।
জোটের সদস্যসচিব অধ্যক্ষ দেলাওয়ার হোসেন আজিজী এক বিবৃতিতে উল্লেখ করেন, দেশের এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা জাতীয় বেতন স্কেল অনুযায়ী বেতন-ভাতা পেয়ে থাকেন। আশা করি, সরকার বিষয়টি সদয় বিবেচনায় নিয়ে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নবম পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন জারির পরপরই এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদেরও নবম পে-স্কেলের অন্তর্ভুক্ত করে পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করবে।
জানা যায়, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা প্রতি মাসে সরকার থেকে বেতনের মূল অংশ এবং কিছু ভাতা পান। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সোয়া ৬ লাখের বেশি শিক্ষক–কর্মচারী এমপিওভুক্ত রয়েছেন।
বাংলাদেশ শিক্ষাতথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর (ব্যানবেইস) তথ্যমতে, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে ৩ লাখ ৯৮ হাজার, মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে প্রায় পৌনে ২ লাখ এবং কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে ২৩ হাজারের বেশি শিক্ষক-কর্মচারী এমপিওভুক্ত রয়েছেন।
এদিকে, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা এতদিন সরকারের কাছ থেকে মাসে মূল বেতন, ১ হাজার টাকা বাড়িভাড়া ও ৫০০ টাকা চিকিৎসা ভাতা পেয়ে আসছিলেন। সম্প্রতি আন্দোলনের মুখে সরকার এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বাড়িভাড়া ভাতা মূল বেতনের ১৫ শতাংশ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
বাড়িভাড়া ভাতার এ অর্থ দুই ধাপে দেওয়া হয়েছে। প্রথম ধাপে ১৫ শতাংশের মধ্যে সাড়ে ৭ শতাংশ (ন্যূনতম ২ হাজার টাকা) ২০২৫ সালের ১ নভেম্বর থেকে কার্যকর হয়েছে। বাকি সাড়ে ৭ শতাংশ চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে কার্যকর করা হয়েছে।
ছবি : সংগৃহীত
ঢাকা থেকে কুড়িগ্রামগামী আন্তনগর কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস ট্রেনের খাবারের বগিতে এক নারী যাত্রীকে (৪৪) ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। গত রোববার রাতে এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় ওই নারী যাত্রী আজ মঙ্গলবার সান্তাহার জিআরপি থানায় একটি মামলা করেছেন। এতে ক্যান্টিনবয় আবু বক্কর সিদ্দিক (২২) এবং ট্রেনে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা অজ্ঞাতপরিচয় দুই পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। ওই মামলায় আবু বক্করকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠিয়েছে রেলওয়ে পুলিশ। তিনি নাটোরের আবদুলপুর এলাকার বাসিন্দা।
মামলার এজাহার ও রেলওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সিরাজগঞ্জ সদর এলাকার ওই নারী গত রোববার রাতে রাজধানীর বিমানবন্দর স্টেশন থেকে কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেসে ওঠেন। ট্রেনটির সিরাজগঞ্জ স্টেশনে যাত্রাবিরতি নেই। তাই তিনি আত্মীয়ের বাড়িতে যাওয়ার জন্য দিনাজপুরের পার্বতীপুর স্টেশনে নামার সিদ্ধান্ত নেন।
এজাহারে ওই নারী অভিযোগ করেছেন, ট্রেনটি সিরাজগঞ্জ স্টেশন পার হওয়ার পর নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা দুই পুলিশ সদস্য তাঁকে দেহ তল্লাশির কথা বলে খাবারের বগিতে নিয়ে যান। সেখানে ওই দুই পুলিশ সদস্য তাঁর শ্লীলতাহানি করেন। খাবারের বগির ক্যান্টিনবয় আবু বক্কর সিদ্দিক তাঁকে ধর্ষণ করেন।
পরে ওই নারী জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল করে অভিযোগ করেন। খবর পেয়ে রেলওয়ে পুলিশের সান্তাহার থানার একটি দল চলন্ত ট্রেন থেকে আবু বক্করকে আটক করে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সান্তাহার রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দুলাল উদ্দিন।
ওসি বলেন, মামলায় নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা অজ্ঞাতপরিচয় দুই পুলিশ সদস্যকেও আসামি করা হয়েছে। ওই দুই পুলিশ সদস্য এ ঘটনায় জড়িত কি না-তা তদন্ত করা হচ্ছে। বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ওই নারীর স্বাস্থ্য পরীক্ষা হয়েছে।
আওয়ামী লীগ (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) নেতাদের যুক্ত করে দিল্লিতে ভারত সরকারের সেমিনারের অনুমতি না দেওয়ার সিদ্ধান্তকে দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি ‘ইতিবাচক পদক্ষেপ’ বলে মনে করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফরের বিষয়ে জানতে চাইলে হুমায়ুন কবির বলেন, উপযুক্ত সময় বা পরিবেশ তৈরি হলে প্রধানমন্ত্রী অবশ্যই ভারত সফর করবেন। তবে এখনো কোনো তারিখ নির্ধারণ করা হয়নি। এ সময় তিনি যুক্তরাষ্ট্র থেকে উড়োজাহাজ কেনা নিয়েও সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দেন। এভিয়েশন খাতের চাহিদা অনুযায়ী উড়োজাহাজ কেনা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
আজ মঙ্গলবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এসব ইস্যুতে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
‘ইতিবাচক পদক্ষেপ’
গত ২৯ আগস্ট আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত বক্তাদের নিয়ে দিল্লিতে আয়োজিত একটি আন্তর্জাতিক আলোচনা সভার অনুমতি দেওয়া হয়নি। দিল্লি পুলিশ ফরেন করেসপনডেন্টস ক্লাবকে (এফসিসি) এই অনুমতি দিতে অস্বীকার করেছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, অনুমতি না দেওয়ার সিদ্ধান্ত দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি ‘ইতিবাচক পদক্ষেপ’।
উপযুক্ত সময়ে প্রধানমন্ত্রীর দিল্লি সফর
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দিল্লি সফর আপাতত হচ্ছে কি না, এমন প্রশ্নের উত্তরে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, এখনো কোনো তারিখ নির্ধারণ হয়নি। তবে একটি উপযুক্ত সময়ে অবশ্যই সফরটি হবে। পারস্পরিক সম্মান ও জাতীয় স্বার্থের ওপর ভিত্তি করে এবং উভয় দেশের প্রধানমন্ত্রীর সময় ও উপস্থিতির ওপর নির্ভর করে তারিখ ঠিক করা হবে।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের আগে প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের কোনো সম্ভাবনা আছে কি না, জানতে চাইলে হুমায়ুন কবির বলেন, ‘আমরা এখনো কোনো নির্দিষ্ট তারিখ ঠিক করিনি।’
এ সময় সাংবাদিকেরা যে আলোচনাটি (ভারতের সঙ্গে) স্থবির হয়ে গিয়েছিল, তা নতুন করে আবার শুরু বা সচল হলো কি না, জানতে চান। এটা নিয়ে প্রশ্নের উত্তরে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘না, কোনো তারিখ ঠিক না করা মানেই তো আর আলোচনা থমকে যাওয়া নয়।’ কোনো তারিখ নির্ধারণ না করলেও আলাপ-আলোচনা চলছিল বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আলোচনার সময়ে ৫ আগস্টের মতো একটি ঘটনা ঘটে, যা বাংলাদেশের মানুষের অনুভূতিতে আঘাত হেনেছিল। আপনারা সবাই জানেন যে আমরা সেই বিষয়টি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছি। এখন আবারও আমাদের আলোচনা চলছে।’
সন্ত্রাসী যেন দিল্লিতে আশ্রয় না পায়
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেন, ভারত থেকে পালিয়ে আসা কোনো সন্ত্রাসীকে ঢাকায় আশ্রয় দেওয়া হবে না। একইভাবে বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে যাওয়া কোনো সন্ত্রাসী যেন দিল্লি কিংবা ভারতের কোনো সার্বভৌম ভূখণ্ডে আশ্রয় না পায়, সেই আশার কথা তিনি বলেন।
চাহিদার কারণে যুক্তরাষ্ট্র থেকে উড়োজাহাজ কেনা হচ্ছে
কোনো চাপের মুখে অথবা অন্তর্বর্তী সরকারের স্বাক্ষরিত চুক্তির ধারাবাহিকতায় যুক্তরাষ্ট্র থেকে উড়োজাহাজ কেনা হচ্ছে কি না-জানতে চাইলে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘না, কোনো চাপের কারণে নয়।’ এভিয়েশন খাতের চাহিদা অনুযায়ী উড়োজাহাজ কেনা হচ্ছে বলে তিনি জানান।
বাংলাদেশে এয়ারক্রাফট ফ্লিটের (বিমানের বহর) সক্ষমতা বাড়াতে হবে বলে জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। তা না হলে নতুন রুট চালু করা সম্ভব হবে না ও ব্যবসা হারাতে হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি। এভিয়েশন হাব হিসেবে রাজস্ব ও যাত্রীসংখ্যা বাড়াতে হলে দীর্ঘ মেয়াদে এয়ারক্রাফট কিনতেই হবে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।
উড়োজাহাজ কেনার ক্ষেত্রে কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা আছে, নাকি প্রাথমিক আলোচনা- এ প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রথমত, ওয়াশিংটনের সঙ্গে অত্যন্ত ভালো সম্পর্ক রয়েছে। আবার বেইজিংয়ের সঙ্গেও ভালো সম্পর্ক রয়েছে। বৈদেশিক সম্পর্কে একটি চমৎকার ভারসাম্য বজায় রেখে সরকার চলছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, যেসব দেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক রয়েছে, তার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র একটি অন্যতম প্রধান উন্নয়ন সহযোগী। তাই তাদের সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ আরও বাড়ানো হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী আরও উড়োজাহাজ কেনাকাটা করা হবে।
আগামী ১০ থেকে ১৫ বছরে ৭০ থেকে ৮০টি বা তারও বেশি উড়োজাহাজের চাহিদা রয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। প্রয়োজন অনুযায়ী নীতিগতভাবে বোয়িং বিমান কেনার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।
রুহুল কবির রিজভী
চলমান গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট আগামী মাসে স্বাভাবিক হবে বলে জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, সেপ্টেম্বর মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহের মধ্যে গ্যাস-বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হবে।
বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত ও শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানির সংকটে বিএনপি সরকার দায়ী নয় মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘এই সংকট একটি বৈশ্বিক সংকট। আমেরিকা-ইরানের যুদ্ধ হরমুজ প্রণালি জাহাজ আসতে পারছে না। জ্বালানি আসতে পারছে না। দুই-একটা জাহাজ যখন আসার চেষ্টা করেছে, সেখানে বোমা পড়েছে। তারপরও তো তিনি (তারেক রহমান) বসে নেই! জ্বালানি-বিদ্যুতের বাজেটের ওপরে ৪০ হাজার কোটি টাকা দিয়ে তিনি গ্যাসের সংকট সমাধান করছেন।’
সংকট নিরসনে সরকারের পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে তিনি জানান, মহেশখালীতে এফএসআরইউর কারিগরি ত্রুটি মেরামত সম্পন্ন হয়েছে। এখন রিগ্যাসিফিকেশন শুরু হয়েছে। সেপ্টেম্বরের প্রথম অথবা দ্বিতীয় সপ্তাহের মধ্যে গ্যাসের স্বাভাবিক সরবরাহ নিশ্চিত থাকবে এবং বিদ্যুৎ থাকবে।
তিনি বলেন, তার কিছু আলামত আমরা দেখতে পাচ্ছি। সুতরাং সব সংকট মোকাবিলা করে তারেক রহমান দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন, এগিয়ে নিয়ে যাবেন।
ছবি : সংগৃহীত
নাগরিকের ব্যক্তিগত তথ্য এখন অনলাইনে টাকার বিনিময়ে প্রকাশ্যেই কেনাবেচা হচ্ছে। জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) তথ্য, মোবাইলের অবস্থান, কল রেকর্ড, জন্মনিবন্ধন, পাসপোর্ট, কর শনাক্তকরণ নম্বর থেকে শুরু করে মোবাইল আর্থিক সেবার হিসাব—সবই পাওয়া যাচ্ছে নির্দিষ্ট দামে। কারও এনআইডি পেতে লাগছে মাত্র ১৭ মিনিট, মোবাইলের অবস্থান পেতে ১৬ মিনিট এবং তিন মাসের কল রেকর্ড পেতে কয়েক ঘণ্টা।
তথ্য যাচাই ও অনুসন্ধানী প্রতিষ্ঠান ডিসমিসল্যাবের অনুসন্ধানে এই চিত্র উঠে এসেছে। ১৫ জুন থেকে ১৫ জুলাই পর্যন্ত একটি শব্দ ব্যবহার করে ফেসবুকে ৬৭৫টি পোস্ট খুঁজে পায় তারা। এর মধ্যে ৬০৫টি পোস্টে ব্যক্তিগত তথ্য বিক্রির বিজ্ঞাপন ছিল। এসব পোস্টের সূত্র ধরে ১০টি সক্রিয় ওয়েবসাইটের সন্ধান পাওয়া যায়, যেখানে বিভিন্ন তথ্যের নির্দিষ্ট মূল্যতালিকাও রয়েছে।
অনুসন্ধানে তিন বিক্রেতার কাছ থেকে টাকা দিয়ে এনআইডি, অবস্থান ও কল রেকর্ড কেনে ডিসমিসল্যাব। পরে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হলে বিক্রি করা তথ্য সঠিক পাওয়া যায়। এমনকি একজনের এনআইডিতে দুই মাস আগে সংশোধন করা মায়ের নামও হালনাগাদ অবস্থায় পাওয়া গেছে।
১৭ মিনিটে এনআইডি, ১৬ মিনিটে অবস্থান
একজন ব্যক্তির সম্মতি নিয়ে তার মোবাইল নম্বর ও ৫০০ টাকা অগ্রিম দেওয়ার পর মাত্র ১৭ মিনিটে এনআইডির কপি পায় ডিসমিসল্যাব। অন্য একটি পরীক্ষায় ১৫০ টাকা দিয়ে ভোটার নম্বর ও জন্মতারিখ দেওয়ার পর পাওয়া যায় এনআইডির ‘সার্ভার কপি’। আর একটি নম্বরের তিন মাসের কল রেকর্ডের জন্য ১ হাজার ৫০ টাকা দেওয়ার আড়াই ঘণ্টার মধ্যে ফাইল পাওয়া যায়। সর্বশেষ ২০টি নম্বর, কলের সময় ও কলের ধরন প্রকৃত কল তালিকার সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হলে সবই মিলে যায়। আরেক বিক্রেতার ওয়েবসাইটে ১ হাজার ৫০০ টাকায় মোবাইলের সর্বশেষ অবস্থান, সংশ্লিষ্ট টাওয়ার, ঠিকানা ও মানচিত্রের অবস্থান দেওয়ার কথা ছিল। টাকা দেওয়ার ১৬ মিনিটের মধ্যে সেই তথ্যও সরবরাহ করা হয়।
তালিকায় আরও যা যা রয়েছে
ডিসমিসল্যাবের অনুসন্ধানে পাওয়া ওয়েবসাইটগুলোর মূল্যতালিকায় ৫০ থেকে ২০০ টাকায় এনআইডির ‘সার্ভার কপি’, ২৫০ টাকায় মোবাইল নম্বর থেকে এনআইডি, ৯০০ টাকায় তিন মাসের কল তালিকা, ১ হাজার ৮০০ টাকায় ছয় মাসের কল তালিকা এবং ১ হাজার ৫০০ টাকায় ‘লাইভ লোকেশন’ দেওয়ার কথা রয়েছে। ৭ হাজার টাকায় নগদের হিসাব এবং ৭ হাজার ৫০০ টাকায় বিকাশ-সংক্রান্ত তথ্য দেওয়ার তালিকাও পাওয়া গেছে। এ ছাড়া জন্মনিবন্ধন, পাসপোর্টের প্রথম পৃষ্ঠা, টিআইএন, পুলিশ ক্লিয়ারেন্স, ভূমি উন্নয়ন করের রসিদ, এসএমএসের তালিকা ও মোবাইল ফোনের পরিচিতি নম্বরের তথ্যও বিক্রির তালিকায় রয়েছে। এই বাজারের কার্যক্রমও বেশ সংগঠিত। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্রেতা সংগ্রহ করা হয়। পরে মধ্যস্বত্বভোগীরা বিক্রেতা ওয়েবসাইটে টাকা জমা দিয়ে তথ্যের অর্ডার করেন। বিকাশ, নগদ, রকেট ও উপায়ের মাধ্যমে টাকা নেওয়া হয়। এরপর হোয়াটসঅ্যাপ, টেলিগ্রাম ও ফেসবুকে বেশি দামে তথ্য বিক্রি করা হয়।
এক মাসে ১১২ নম্বর, ৩৬ গ্রুপ
এক মাসের অনুসন্ধানেই অন্তত ১১২টি মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে তথ্য বিক্রির প্রচারণা পাওয়া গেছে। একটি গ্রামীণফোন নম্বর ৭৫টি পোস্টে ব্যবহার করা হয়েছে। ৩৬টি সক্রিয় ফেসবুক গ্রুপে বারবার ব্যক্তিগত তথ্য বিক্রির বিজ্ঞাপন পাওয়া যায়। অনুসন্ধানে একটি ওয়েবসাইটের মালিকের পরিচয়ও পাওয়া যায়। তিনি মুঠোফোন মেরামতের কাজ করেন। তার দাবি, তিনি অন্য একটি গোষ্ঠীর কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করেন। তবে সরকারি সার্ভারে ঢোকার পদ্ধতি বা এ দাবির কারিগরি সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি। তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ সুমন আহমেদ সাবিরের মতে, কোনো ব্যক্তির হালনাগাদ তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ভেতরের কারও সম্পৃক্ততা অথবা তথ্যভাণ্ডারের নিরাপত্তার কোনো দুর্বলতা কাজে লাগানোর আশঙ্কা থাকে।
তিন বছরেও বন্ধ হয়নি
ব্যক্তিগত তথ্য বিক্রির ঘটনা নতুন নয়। গত তিন-চার বছর ধরে ফেসবুক, টেলিগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপের বিভিন্ন গ্রুপে এনআইডি ও ফোনের তথ্য বিক্রির বিজ্ঞাপন পাওয়া যাচ্ছে। ২০২৪ সালে সরকারি পর্যায়ের অনুসন্ধানেও নাগরিকের এনআইডি ও কল রেকর্ড ২১টি হোয়াটসঅ্যাপ, ৪৮টি টেলিগ্রাম এবং ৭২০টি ফেসবুক গ্রুপ ও পেজে বিক্রির তথ্য পাওয়া যায়। মোট ৭৮৯টি গ্রুপ ও পেজে এ ধরনের তথ্য কেনাবেচার সন্ধান মিলেছিল। কিছু ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের ব্যবহৃত লগইন তথ্যের অপব্যবহারের বিষয়ও সামনে আসে। এরপরও পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। বরং ২০২৬ সালে এসে ডিসমিসল্যাবের অনুসন্ধানে শত শত বিজ্ঞাপন ও সক্রিয় ওয়েবসাইটের সন্ধান মিলেছে।
বারবার ফাঁস হচ্ছে তথ্য
ব্যক্তিগত তথ্যের ঝুঁকি শুধু অনলাইনে তথ্য বিক্রির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। গত কয়েক বছরে সরকারি ডেটাবেজ, গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো, ব্যাংক ও বীমা প্রতিষ্ঠানের সাইবার নিরাপত্তা নিয়েও একের পর এক ঘটনা সামনে এসেছে। ২০২৩ সালে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের একটি সরকারি ওয়েবসাইটের নিরাপত্তা দুর্বলতার কারণে প্রায় ৫ কোটি নাগরিকের নাম, জন্মতারিখ, এনআইডি, ফোন নম্বরসহ বিভিন্ন তথ্য অনলাইনে উন্মুক্ত হয়ে যায়। ঘটনাটি সরাসরি হ্যাকিং নয়; কারিগরি দুর্বলতার সুযোগে তথ্য উন্মুক্ত হয়ে পড়েছিল।
২০২৪ সালেও সরকারি ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে একাধিক হামলা ও তথ্য নিরাপত্তার ঘটনা ঘটে। নভেম্বরে তিতাস গ্যাসের ফায়ারওয়ালের ‘রুট অ্যাকসেস’ ডার্ক ওয়েবে বিক্রির জন্য তোলার ঘটনা সামনে আসে। একই সময়ে পপুলার লাইফ ইন্স্যুরেন্সে র্যানসমওয়্যার হামলায় বিপুল পরিমাণ তথ্য চুরির দাবিও ওঠে। আর্থিক খাতও বাদ যায়নি। সিটি ব্যাংকের গ্রাহকদের কিছু আর্থিক বিবরণী অননুমোদিতভাবে দেখা ও পরে তা বিক্রির চেষ্টার ঘটনা সামনে আসে। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জানায়, একটি সিস্টেম ত্রুটির সুযোগ নিয়ে সীমিতসংখ্যক বিবরণীতে প্রবেশ করা হয়েছিল।
২০২৫ সালে ব্যাংকিং খাতসহ দেশের সাইবার অবকাঠামোতে ধারাবাহিক হামলার সতর্কতা জারি হয়। সরকারি গুরুত্বপূর্ণ তথ্যভান্ডারেও অনুপ্রবেশ ও তথ্য চুরির ঘটনা সামনে আসে। ২০২৬ সালেও সরকারি ও প্রতিরক্ষা খাত লক্ষ্য করে সাইবার হামলার খবর পাওয়া যাচ্ছে। এর মধ্যেই অনলাইনে ৬০ লাখ বাংলাদেশি চাকরিপ্রার্থীর জীবনবৃত্তান্ত বা সিভি বিক্রির বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়েছে। হ্যাকার গোষ্ঠীটির দাবি, এসব সিভি একটি চাকরির ওয়েবসাইটের তথ্যভাণ্ডার থেকে নেওয়া। সিভিগুলোতে নাম, ফোন নম্বর, ঠিকানা, ই-মেইল, শিক্ষাগত যোগ্যতা, কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা ও প্রশিক্ষণের তথ্য থাকার কথা বলা হয়েছে। বিজ্ঞাপনের সঙ্গে ১৪৮টি সিভির নমুনাও প্রকাশ করা হয়। এর মধ্যে বেশিরভাগ সিভি পুরোনো; অনেকগুলো ২০১১ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে হালনাগাদ করা। নমুনায় থাকা কয়েকজনের সঙ্গে যোগাযোগ করে তারা আগে সংশ্লিষ্ট চাকরির ওয়েবসাইটে সিভি আপলোড করেছিলেন বলে জানা গেছে। তবে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানটি তথ্য ফাঁসের অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
তথ্য আছে, জবাবদিহি কোথায়
ডিসমিসল্যাবের অনুসন্ধানে পাওয়া চিত্র বলছে, ব্যক্তিগত তথ্যের কেনাবেচা এখন আর বিচ্ছিন্ন কয়েকজনের কাজ নয়। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ওয়েবসাইট, মধ্যস্বত্বভোগী, মোবাইল আর্থিক সেবা এবং তাৎক্ষণিক তথ্য সরবরাহের একটি কাঠামো। খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, আইন ও নীতিমালায় ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষার ব্যবস্থা থাকলেও বাস্তবে নাগরিকের তথ্য কতটা নিরাপদ, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। কার তথ্য কোথা থেকে বের হচ্ছে, কারা তা সংগ্রহ করছে, কারা বিক্রি করছে এবং তথ্যভাণ্ডারের নিরাপত্তা ভেঙে পড়লে দায় নিচ্ছে কে—এখন এসব প্রশ্নের জবাবদিহিই সবচেয়ে জরুরি।
সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ তানভীর হাসান জোহা বলেন, ব্যক্তিগত তথ্য আলাদাভাবে ফাঁস হলেও একাধিক উৎসের তথ্য এক জায়গায় চলে এলে ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়। নাম, এনআইডি, ফোন নম্বর, ঠিকানা, অবস্থান ও পেশাগত তথ্য মিলিয়ে একজন ব্যক্তির বিস্তারিত পরিচয় তৈরি করা সম্ভব। এসব তথ্য ব্যবহার করে প্রতারণা, পরিচয় জালিয়াতি ও লক্ষ্যভিত্তিক ফিশিংসহ নানা ধরনের অপরাধ করা সহজ হয়। এনআইডির তথ্য ফাঁসের ঘটনা নতুন নয়। কিন্তু এ ধরনের ঘটনায় অপরাধীদের বিচার হয়েছে—এমন নজির খুব কম। ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায়িত্ব। অথচ সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো বারবার সেই দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হচ্ছে। দেশের সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থা খুবই নাজুক। তাই তথ্য ফাঁসের পর ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি কোন উৎস থেকে তথ্য বের হচ্ছে এবং কীভাবে তা বাইরে যাচ্ছে, সেটি শনাক্ত করে পুরো ব্যবস্থার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি।
দীনেশ ত্রিবেদী
‘বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ভালো সম্পর্ক কেবল সরকারকেন্দ্রিক নয়, এটা দুই দেশের জনগণের মধ্যকার সম্পর্ক। এই সম্পর্ক অতীতে আটকে থাকার কোনো সুযোগ নেই।’ এমন মন্তব্য করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী।
আজ মঙ্গলবার সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান এবং প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের সঙ্গে বৈঠক শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, দুই দেশের মধ্যে চ্যালেঞ্জ থাকবে, তবে সেসব চ্যালেঞ্জ মাথায় রেখে ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। অতীতকে ভুলে যাওয়া সম্ভব নয়, কিন্তু অতীতে আটকে থাকলে উন্নয়নের কাজ এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে না। কীভাবে আমরা দুই দেশে মুক্ত বাণিজ্য করতে পারি, এ নিয়েও কথা বলেছি।’
বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে যা হয়, সেটি নিয়ে কিছু বলতে চাই না। বলা উচিতও নয়। সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে নির্বাচিত সরকারই জনগণের জন্য কোনটি ভালো, তা ভালোভাবে বুঝবে।’
দুই দেশের জনগণের মধ্যে সম্পর্ক আরও দৃঢ় করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে ভারতের হাইকমিশনার বলেন, ‘আমরা চাই দুই দেশের জনগণের মধ্যে ভালো সম্পর্ক। আমার জায়গায় যে থাকবে, সে একই জিনিস চাইবে। কারণ আমরা যে সিদ্ধান্ত নিই, তার প্রভাব পড়ে জনগণের ওপর।’
তিনি বলেন, আমরা সীমান্তের সঙ্গে স্বপ্নও শেয়ার করি। সেজন্য প্রতিবেশী হিসেবে দায়িত্ব বেড়ে যায়। আমরা সমান। কেউ বড় কিংবা ছোট নই।
দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে সবাইকে শুভেচ্ছা জানিয়েছি। আজকের সাক্ষাতে মিলেমিশে কাজ করার বিষয়ে কথা হয়েছে।
বাংলাদেশ ও ভারতের সামনে বিভিন্ন ধরনের চ্যালেঞ্জ রয়েছে উল্লেখ করে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, চ্যালেঞ্জ থাকবেই। আমাদের দেখতে হবে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক চ্যালেঞ্জ কী? বাংলাদেশেরও দেখতে হবে ভারতের কী চ্যালেঞ্জ রয়েছে। চ্যালেঞ্জগুলো মাথায় রেখে এগিয়ে যেতে হবে।
আলোচনা সৌজন্যতার মধ্যেই ছিল: মীর শাহে আলম
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, ‘দীনেশ ত্রিবেদী সৌজন্য স্বাক্ষাত করতে এসেছেন। মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খানকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে তিনি অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন।’
তিনি বলেন, ‘আমরা জানিয়েছি চলতি অর্থবছরে নির্বাচন হবে। স্থানীয় সরকার নির্বাচন আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জ। এটা অবাধ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে হবে। যেহেতু আমরা গণতান্ত্রিক, মানুষের ভোটে নির্বাচিত সরকার। বাকি সবটুকু আলোচনা সৌজন্যতার মধ্যেই ছিল।’