রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র
পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি না পাওয়ায় রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের পারমাণবিক জ্বালানি বাংলাদেশে পৌঁছাতে দেরি হচ্ছে। রাশিয়া থেকে জ্বালানি বহনকারী একটি কার্গো বিমান ২৪ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে পৌঁছানোর কথা থাকলেও পাকিস্তানের অনুমতি না মেলায় তা সম্ভব হয়নি। ইসলামাবাদ কেন এমনটি করেছে সেটি স্পষ্ট নয়।
ভারতীয় সংবাদ সংস্থা এএনআইকে এ তথ্য জানিয়েছেন বাংলাদেশের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম।
তিনি বলেন, ‘আমরা জানতে পেরেছি বাংলাদেশের রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য ইউরেনিয়াম বহনকারী একটি কার্গো বিমানের ২৪ সেপ্টেম্বর আসার কথা ছিল। তবে, বিমানটিকে পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়নি। ফলে পরিকল্পনা অনুযায়ী ইউরেনিয়াম বাংলাদেশে পৌঁছায়নি। পাকিস্তান কেন আকাশসীমা ব্যবহারের ছাড়পত্র দেয়নি, তার সঠিক কারণ এখনও জানা যায়নি।’
তিনি আরও বলেন, ‘রাশিয়া নতুন করে অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে জ্বালানি বাংলাদেশে পৌঁছানোর তারিখ প্রস্তাব করেছে।’
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব শেখ মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলামও আকাশসীমা ব্যবহারে বাধা পাওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি এএনআইকে বলেন, ‘জ্বালানি পরিবহনের জন্য বিমানবন্দরে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। তবে রুশ পারমাণবিক জ্বালানি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান রোসাটমের সমন্বয় কর্মকর্তা আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি না থাকার বিষয়টি জানান। এরপর পরিবহন কার্যক্রম স্থগিত করতে হয়।’
রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি সংস্থা রোসাটমের সহায়তায় রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করা হচ্ছে। পাবনার ঈশ্বরদীর রূপপুরে পদ্মা নদীর তীরে নির্মাণাধীন এই বিদ্যুৎকেন্দ্রটি বাংলাদেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র।
কেন্দ্রটিতে তৃতীয় প্রজন্মের দুটি ভিভিইআর-১২০০ রিঅ্যাক্টর স্থাপন করা হচ্ছে। দুটি ইউনিট থেকে মোট ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য রয়েছে।
এর আগে ২০২৩ সালের অক্টোবরে রূপপুরের প্রথম ইউনিটের জন্য রাশিয়া থেকে ইউরেনিয়াম জ্বালানির প্রথম চালান বাংলাদেশে আসে। রোসাটমের নোভোসিবিরস্ক কেমিক্যাল কনসেনট্রেটস প্ল্যান্টে তৈরি ১৬৪টি নতুন জ্বালানি সংবলিত ওই চালান রাশিয়ার একটি কার্গো বিমানে করে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আনা হয়।
পরে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে বিশেষভাবে সুরক্ষিত কনটেইনারে করে সেনাবাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাহারায় এসব জ্বালানি ‘গ্রিন করিডোর’ দিয়ে ঈশ্বরদীর রূপপুর প্রকল্প এলাকায় নেওয়া হয়।
সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে কথা বলছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিয়োগবঞ্চিতরা আগামী ১ অক্টোবরের মধ্যে নিয়োগপত্র পাবেন বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত প্রাথমিকের নিয়োগবঞ্চিত ৮১৭ জন বাকি আছেন। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটির সভায় তিনি এ কথা জানান। বিশ্ব শিক্ষক দিবস উদযাপন উপলক্ষে এ সভার আয়োজন করা হয়।
মন্ত্রী বলেন, ‘এখন পর্যন্ত প্রাথমিকের নিয়োগবঞ্চিত ৮১৭ জন বাকি আছেন। তারা আগামী ১ অক্টোবরের মধ্যে নিয়োগ পাবেন। যারা পাবেন না তাদের নিয়ে আমরা কাজ করব।’
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ের নিয়োগ পরীক্ষায় পরীক্ষার্থী ছিল নিয়ারলি ১০ লাখ ৬৯ হাজার। যথাযথভাবে নিয়োগ প্রক্রিয়া মেইনটেইন করার জন্য আমরা কাজ শুরু করেছিলাম। আমাদের কাছে ৩৩ জনের ৮৫৪ জনের ফাইনাল অ্যাপ্লিকেশন এসেছে। ডিপিও ইস্যু করে নিয়োগপত্র। সে সময় দেখা গিয়েছে তাদের ভেরিফিকেশন এবং অনেকেই ঠিকানা পাল্টিয়েছেন। সেগুলো পর্যায়ক্রমে তারা দিচ্ছে।’
পর্যায়ক্রমে ভেরিফিকেশন হচ্ছে, ঠিকানা আসছে বলে জানান তিনি। বলেন, ‘যাদের হয়নি সেগুলো আমরা পর্যবেক্ষণে রেখেছি এবং সেগুলো রিভিউ করছি। ১ অক্টোবর পর্যন্ত এটা চলবে।’
ছবি : সংগৃহীত
নেপালে চলমান ভারী বৃষ্টিপাত, বন্যা ও ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ভ্রমণে বাংলাদেশি পর্যটকদের সতর্ক করেছে বাংলাদেশ দূতাবাস। স্থানীয় সময় রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাতে কাঠমান্ডুতে বাংলাদেশ দূতাবাস এক সতর্ক বার্তায় এ তথ্য জানিয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, সব বাংলাদেশি পর্যটক ও ট্রেকারদের নেপালে চলমান ভারী বৃষ্টিপাত, বন্যা ও ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ভ্রমণে সতর্ক থাকতে এবং যতক্ষণ আবহাওয়া ও সার্বিক পরিস্থিতির উন্নতি না হচ্ছে, পরিস্থিতি বিবেচনায় ভ্রমণে বিরত থাকাতে বলা হয়েছে।
বিশেষ করে পিসাং, চামে, মানাং ও আশপাশের পর্যটন এলাকাগুলোতে অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন। অব্যাহত বৃষ্টিপাতের কারণে ভূমিধস, এবং তুষারপাতের ফলে অনেক স্থানে সড়ক যোগাযোগে বিঘ্নিত হয়েছে। দুর্গম ভূপ্রকৃতি ও যোগাযোগব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ায় উদ্ধার কার্যক্রম অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে।
এ ছাড়া, ভূমিধসের কারণে সড়ক যোগাযোগ এবং নিকটবর্তী ট্রেকিং গন্তব্যে যাতায়াত ব্যাহত হওয়ায় পোখারা ও আশপাশের এলাকা ভ্রমণেও সতর্কতা অবলম্বন করার আহ্বান জানানো হচ্ছে। মুস্তাং, জমসম এবং অন্যান্য পার্বত্য এলাকার ভ্রমণের পূর্বে গান্দাকি প্রদেশের বিভিন্ন সড়ক যোগাযোগ সম্পর্কে যথেষ্ট অবগত থাকা প্রয়োজন কেননা এসব সড়ক ব্যবস্থা তাৎক্ষণিক বিঘ্নিত হতে পারে।
এ কারণে বাংলাদেশি নাগরিকদের অন্নপূর্ণা, মানাং, মুস্তাং ও মানাসলু অঞ্চলসহ বিভিন্ন পার্বত্য ও ভূমিধসপ্রবণ এলাকায় ট্রেকিং, পর্বতারোহণ এবং ভ্রমণের পরিকল্পনা করার আগে সকল তথ্য যাচাই করা এবং নেপাল সরকার ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের জারি করা নির্দেশনাগুলো ঘনিষ্ঠভাবে অনুসরণ করার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।
দূতাবাস নেপালের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষাসহ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পরবর্তী হালনাগাদ তথ্য প্রকাশ করবে।
প্রসঙ্গত, নেপালে ভয়াবহ তুষারধসের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ১৪ জন নেপালি নিখোঁজ হয়েছেন। এদিকে খারাপ আবহাওয়ার কারণে ৭ হাজার ১২৬ মিটার উচ্চতার পর্বতশৃঙ্গে হেলিকপ্টার পৌঁছাতে পারছে না বলে জানিয়েছেন ট্রেকিং কর্মকর্তারা। এর ফলে উদ্ধার অভিযান ব্যাহত হচ্ছে বলে জানা গেছে।
টিআইবি
দখলবাজি ও চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা সরকার ও ক্ষমতাসীন দলের জন্য অশনিসংকেত বলে মন্তব্য করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।
সংস্থাটি বলেছে, দখলবাজি, চাঁদাবাজি ও আধিপত্য বিস্তারের অভিযোগে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক জবাবদিহির আওতায় আনার পাশাপাশি সারাদেশে দলের আত্মশুদ্ধি অভিযান প্রয়োজন।
নির্ভরযোগ্য গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের বরাত দিয়ে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে মধ্যরাতে পুলিশের উপস্থিতিতে লুটপাট, ভাঙচুর ও জবরদখল, কিশোরগঞ্জে জলমহাল দখল নিয়ে স্থানীয় বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষে অর্ধশতাধিক আহত এবং কনটেন্ট ক্রিয়েটরের কার্যালয় ভাঙচুরের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ জানিয়েছে টিআইবি।
আজ রোববার এক বিবৃতিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, রাড্ডা এমসিএইচ-এ লুটপাট, ভাঙচুর ও জবরদখল সরকার ও ক্ষমতাসীন দলের জন্য বিব্রতকর দৃষ্টান্ত। জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত আসনের একজন সদস্যের পৃষ্ঠপোষকতায় পুলিশের উপস্থিতিতে শত শত মানুষের সামনে দীর্ঘদিন ধরে গরিব ও অসহায় মা ও শিশুদের স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে আসা একটি দাতব্য প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করে ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা কী ধরনের দৃষ্টান্ত স্থাপন করছেন, সে প্রশ্ন তোলেন তিনি।
তিনি বলেন, রক্তক্ষয়ী জুলাই অভ্যুত্থানের মাধ্যমে কর্তৃত্ববাদী শাসনের পতনের পর ঐতিহাসিক নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসা দলের নেতাকর্মীদের এ ধরনের কর্মকাণ্ড দেশবাসীর কাছে নেতিবাচক বার্তা দিচ্ছে। সাধারণ জনগণের মানসপটে বিগত সময়ের কর্তৃত্ববাদী সরকারের স্বেচ্ছাচারী আচরণ এখনো সতেজ। এমন প্রেক্ষাপটে বিএনপির নীতিনির্ধারকেরা দলীয় নেতাকর্মীদের একটি অংশের চলমান দখলবাজি ও চাঁদাবাজির পরিণতি ভেবে দেখছেন কি না, সে প্রশ্নও তোলেন তিনি।
ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে বিএনপির নেতাকর্মীদের একটি অংশের বিরুদ্ধে সারাদেশে দখলবাজি, চাঁদাবাজি ও আধিপত্য বিস্তারের ব্যাপক অভিযোগ উঠছে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তৃণমূলসহ বিভিন্ন পর্যায়ের দলের অনেক নেতাকর্মীর বেপরোয়া আচরণ গণমাধ্যম, পর্যবেক্ষক ও রাজনৈতিক মহলে উদ্বেগের সঙ্গে আলোচিত হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ঢাকার সায়েদাবাদ, মহাখালী ও গাবতলীসহ চট্টগ্রাম, সিলেট ও খুলনার প্রধান বাস টার্মিনাল, ফুটপাত, বাজার, জলমহাল, বালুমহাল, হাটবাজার, ক্যাবল সংযোগ ও ইন্টারনেট এবং বর্জ্য সংগ্রহের ব্যবসাসহ উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়েও চাঁদাবাজি ও দখলবাজির হাতবদল ঘটেছে। এগুলোকে কেন্দ্র করে নিজেদের মধ্যে অসুস্থ প্রতিযোগিতা ও অন্তর্ঘাত অনেক ক্ষেত্রে সহিংস রূপ নিয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, দৈনিক, মাসিক ও এককালীন চাঁদাবাজির এই অপতৎপরতা চলমান থাকার পাশাপাশি সরকারের একজন মন্ত্রী চাঁদাবাজিকে ‘দুর্নীতি নয়, সমঝোতার লেনদেন’ হিসেবে উল্লেখ করে একাধিকবার বক্তব্য দিলেও তাঁর অবস্থানের বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এর ফলে চাঁদাবাজি ও দখলবাজি আরও স্বাভাবিকতা লাভ করেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
কিশোরগঞ্জের জলমহাল দখল নিয়ে স্থানীয় বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ এবং ক্রিয়েটিভ স্টুডিও ভাঙচুরের ঘটনা উল্লেখ করে ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, এগুলো কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং ২০২৪ সালের আগস্টের পর থেকে সংঘটিত ঘটনাবলির ধারাবাহিকতা। এসব ঘটনা সরকারের ভালো উদ্যোগ ও সদিচ্ছাকে ম্লান করে জনগণের কাছে নেতিবাচক বার্তা দিচ্ছে।
তিনি বলেন, সরকারি দল যদি দুর্নীতিবিরোধী নির্বাচনী অঙ্গীকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে এখনই কার্যকর আত্মশুদ্ধিমূলক পদক্ষেপ না নেয়, তাহলে ভবিষ্যতে দখলবাজি ও চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণের সুযোগ হারাতে পারে। স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীকে কঠোরভাবে দমন করতে না পারলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
বিবৃতিতে বলা হয়, দলীয় নেতা-কর্মীদের এ ধরনের অপতৎপরতায় উচ্চ পর্যায় থেকে বিব্রতবোধের পরিপ্রেক্ষিতে বহিষ্কারসহ সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হলেও কঠোর প্রতিরোধমূলক কৌশলের ঘাটতি রয়েছে। পাশাপাশি ক্ষমতার অপব্যবহারের এসব কর্মকাণ্ডে জড়িতদের সরকারি দলের সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সম্পৃক্ততার কারণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারছে না বলে দাবি করেছে টিআইবি।
এর ফলে স্বেচ্ছাচারিতা, দুর্নীতি, অনিয়ম ও বিচারহীনতার সংস্কৃতি পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছে সংস্থাটি। এর দায়ভার সরকারকেই নিতে হবে উল্লেখ করে প্রতিটি ঘটনার যথাযথ তদন্ত করে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে টিআইবি।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আগামী অক্টোবর ও নভেম্বরে তিনটি দেশ সফরের প্রস্তুতি চলছে। এর মধ্যে তিনি জাপান ও সৌদি আরব যাবেন দ্বিপক্ষীয় সফরে। আর জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক ৩১তম সম্মেলনে (কপ৩১) অংশ নিতে তিনি যাবেন তুরস্কে। টোকিও, রিয়াদ ও আঙ্কারায় বাংলাদেশের কূটনৈতিক সূত্রগুলো গতকাল শনিবার এ তথ্য জানিয়েছে।
জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর অক্টোবরে জাপান সফর এবং নভেম্বেরে প্রথমে তুরস্ক, এরপর সৌদি আরব সফরের প্রাথমিক প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।
টোকিও, রিয়াদ ও আঙ্কারার কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, অক্টোবরের শেষ সপ্তাহে জাপান সফরে যাওয়ার কথা প্রধানমন্ত্রীর। এরপর নভেম্বরের প্রথম দিকে তুরস্ক, দ্বিতীয়ার্ধে সৌদি আরব সফর হওয়ার কথা।
কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, আসন্ন এই তিন সফরের প্রাথমিক প্রস্তুতি ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা পর্যায়ে যোগাযোগ চলছে।
ঢাকা ও টোকিওর কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে সেদেশ সফরে যাওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের। অক্টোবরের শেষ সপ্তাহে তিন থেকে চার দিনের এই সফর আয়োজনের বিষয়ে সম্প্রতি ঢাকায় দুই দেশের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের মধ্যে আলোচনা হয়।
আঙ্কারা থেকে একটি কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, তুরস্কের আনাতোলিয়ায় আগামী ১০ থেকে ১২ নভেম্বর কপ৩১-এর শীর্ষ নেতাদের বৈঠক হবে। এই বৈঠকে অংশ নিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তুরস্ক সফর করবেন।
ঢাকার কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, সৌদি আরবের যুবরাজ ও দেশটির প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমানের আমন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী নভেম্বরের দ্বিতীয়ার্ধে রিয়াদ সফরে যেতে পারেন। সফরটি আয়োজনের বিষয়ে দুই দেশের কর্মকর্তাদের মধ্যে কথাবার্তা শুরু হয়েছে।
জাপান সফর
জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে অক্টোবরের শেষ সপ্তাহে তারেক রহমানের তিন থেকে চার দিনের টোকিও সফর এমন সময়ে হতে যাচ্ছে, যখন দুই দেশের সম্পর্ক ঘনিষ্ঠতর করার প্রক্রিয়া অব্যাহত আছে।
২০২৫ সালের মে মাসে বাংলাদেশের তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস টোকিও সফর করেছিলেন। তাঁর সফরে বিনিয়োগ, জ্বালানি ও প্রযুক্তি খাতে সাতটি সমঝোতা স্মারক সই হয়।
পাঁচ বছরে জাপানে এক লাখ বাংলাদেশি দক্ষ কর্মী পাঠানোর লক্ষ্য ঠিক করা হয়ছিল। সফরে দুই দেশ নিজেদের কৌশলগত অংশীদারত্বও পুনর্নিশ্চিত করেছিল।
তখন জাপান জানিয়েছিল, ‘বে অব বেঙ্গল’ উদ্যোগের আওতায় বাংলাদেশে অবকাঠামো উন্নয়নসহ জাপানি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগ সম্প্রসারণে তারা সহযোগিতা জোরদার করবে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন জাপান সফরে বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, ব্যবসায়ীদের সম্মেলন আয়োজন ও জনশক্তি রপ্তানির অগ্রগতি পর্যালোচনা প্রাধান্য পেতে পারে।
তুরস্ক সফর
তুরস্কের আনাতোলিয়ায় কপ৩১ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে ৯ থেকে ২০ নভেম্বর। আর কপ৩১-এর শীর্ষ নেতাদের সম্মেলন হবে ১১ ও ১২ নভেম্বর। এই দুই দিনের জন্য তুরস্ক সফর করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
কূটনৈতিক সূত্রের আভাস, কপ৩১-এ প্রথম দুই দিনের বদলে তৃতীয়–চতুর্থ দিনে শীর্ষ নেতাদের সম্মেলন রাখার বিষয়টিকে রাজনৈতিক মনোযোগ ধরে রাখার একটি কৌশল মনে করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা একটি দেশ হিসেবে বাংলাদেশের জন্য এই সম্মেলন গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, প্যারিস জলবায়ু চুক্তির এক দশকের বেশি সময় পর এখন মূল প্রশ্ন, নতুন লক্ষ্য ঠিক করা নয়।
বরং প্রশ্ন, আগে ঘোষিত লক্ষ্য কীভাবে বাস্তবায়িত হবে, জলবায়ু অর্থায়নসহ ক্ষতিপূরণ তহবিল কতটা কার্যকর হবে।
সৌদি সফর
সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের আমন্ত্রণে নভেম্বরের দ্বিতীয়ার্ধে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পরিকল্পিত রিয়াদ সফরও তাৎপর্যপূর্ণ। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ককে ঐতিহ্যগত জনশক্তি রপ্তানির বাইরে নিয়ে যাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে সৌদি আরব।
গত আগস্টে সৌদির উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়ালিদ এল-খেরেজি ঢাকায় অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে মৎস্য, খাদ্য, জ্বালানি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, তথ্যপ্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতে বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন।
ঢাকায় নিযুক্ত সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত আব্দুল্লাহ জাফর এইচ বিন আবিয়া সম্প্রতি বলেন, দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের জন্য আগামী পাঁচ বছর একটি রূপান্তরমূলক পর্যায় হতে পারে। বাংলাদেশকে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম গতিশীল বিনিয়োগ গন্তব্য হিসেবে বর্ণনা করেন তিনি।
বর্তমানে ২৮ লাখের বেশি বাংলাদেশি শ্রমিক সৌদি আরবে কর্মরত, যা দেশটিকে বাংলাদেশের বৃহত্তম শ্রমবাজারে পরিণত করেছে।
কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পরিকল্পিত সৌদি সফরে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার, জ্বালানি আমদানি, বিনিয়োগ চুক্তি এবং আঞ্চলিক-আন্তর্জাতিক ইস্যুতে দুই পক্ষের মধ্যে মতবিনিময় হতে পারে। পাশাপাশি রোহিঙ্গা প্রশ্নে সৌদি আরবের সমর্থন অব্যাহত রাখার বিষয়টি গুরুত্ব পেতে পারে।
প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়
বিদেশে থাকা প্রবাসী বাংলাদেশিদের নানা সমস্যা দ্রুত ও কার্যকর উপায়ে সমাধানের জন্য দারুণ এক উদ্যোগ নিয়েছে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়।
মন্ত্রণালয়ের পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ‘প্রবাসীদের কষ্ট লাঘবে মন্ত্রণালয় গঠন করেছে একটি বিশেষ ‘অভিযোগ নিষ্পত্তি ও নিরসন সেল।’
প্রবাসী মন্ত্রণালয়ের একদল অভিজ্ঞ কর্মকর্তার সমন্বয়ে গঠিত এই সেলের মাধ্যমে প্রবাসীরা এখন থেকে তাদের যেকোনো সমস্যা বা অভিযোগ খুব সহজেই সরাসরি ইমেইলের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠাতে পারবেন।
ইমেইলে আসা প্রতিটি অভিযোগ অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দ্রুত বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
বিশেষ করে, প্রবাসীদের পাঠানো প্রতিটি আবেদন ও অভিযোগ দৈনিক ও সাপ্তাহিক ভিত্তিতে সরাসরি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও সচিবের নিকট উপস্থাপন করা হবে, যেন নীতিনির্ধারক পর্যায়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়।
অফিস আদেশে বলা হয়, minister@probashi.gov.bd এবং inister.expat@gmail.com ই-মেইল ঠিকানায় প্রাপ্ত অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে সেলটি।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
পূর্বের এক প্রচেষ্টা বাতিল হওয়ার পর, এবার নভেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফরের সময়সূচি চূড়ান্ত করার লক্ষ্য রাখছে ভারত ও বাংলাদেশ—এমনটিই জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
অক্টোবরের শেষ সপ্তাহে বা নভেম্বরের শুরুতে বাংলাদেশে নিযুক্ত নতুন হাইকমিশনার আসাদ আলম সিয়াম দায়িত্ব গ্রহণের পর এ সফর পুনর্বিন্যাসের প্রচেষ্টা আরও গতি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তবে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ সংক্রান্ত অমিমাংসিত বিষয়টিই প্রধান উদ্বেগ—যা এই সফর বাস্তবে রূপান্তরিত হবে কি না তা নির্ধারণ করতে পারে।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে পাঠানো তারেক রহমানের জন্মদিনের শুভেচ্ছা এবং তার জবাবে মোদির দ্রুত সাড়া সফরটির তারিখ দ্রুত চূড়ান্ত হওয়ার সম্ভাবনাকে কিছুটা বাড়িয়ে দিয়েছে।
তবে, ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা (এনএসএ) অজিত ডোভাল সম্প্রতি ঢাকা সফর করেছেন কি না—যেটি ১৭ সেপ্টেম্বর হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে সে বিষয়ে কোনো পক্ষই স্পষ্ট করে কিছু জানায়নি।