সেনানিবাসে কয়েকটি ব্যাটালিয়ন ও রেজিমেন্টকে ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড (জাতীয় পতাকা) প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বক্তব্য দেন
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, জাতীয় স্বার্থ, সার্বভৌমত্ব ও আত্মমর্যাদা রক্ষাই হবে আগামীর বাংলাদেশের মূল অঙ্গীকার। বাংলাদেশ পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সমতার ভিত্তিতে সব দেশের সঙ্গে বন্ধুত্ব ও সহযোগিতা সুদৃঢ় করতে চায়। তিনি বলেন, সরকার সশস্ত্র বাহিনীকে আরও প্রযুক্তিনির্ভর, দক্ষ, শৃঙ্খলাবদ্ধ, পেশাদার ও আধুনিক বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলার কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে।
রোববার সকালে সাভার সেনানিবাসে কয়েকটি ব্যাটালিয়ন ও রেজিমেন্টকে ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড (জাতীয় পতাকা) প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘একটি আধুনিক সশস্ত্র বাহিনীর শক্তি শুধু অস্ত্র, সরঞ্জাম বা জনবলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর প্রকৃত শক্তি নিহিত থাকে শৃঙ্খলা, দক্ষতা, নেতৃত্ব, নৈতিকতা, প্রশিক্ষণ ও জনগণের আস্থার মধ্যে; সর্বোপরি, চেইন অব কমান্ডের ওপর।’
তিনি বলেন, ‘একটি ইউনিটের পেশাগত সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে দেওয়া ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড শুধু একটি পতাকা নয়; এটি ওই ইউনিটের ইতিহাস, ঐতিহ্য, শৃঙ্খলা, আত্মত্যাগ, পেশাদারিত্ব ও দেশের প্রতি অঙ্গীকারের প্রতীক।’
জাতীয় পতাকার গৌরবময় উড্ডয়ন প্রতিনিয়ত স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও অসংখ্য মানুষের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করিয়ে দেয় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই পতাকা অর্জনের অর্থ হলো অর্পিত দায়িত্ব আরও নিষ্ঠার সঙ্গে পালনের নতুন শপথ। পতাকার মর্যাদা রক্ষা করা প্রত্যেক সৈনিকের পবিত্র দায়িত্ব।’
তিনি আরও বলেন, ‘বিভিন্ন সময়ে সশস্ত্র বাহিনীর ভাবমূর্তি বিনষ্টের অপচেষ্টা হয়েছে। তবে মনে রাখতে হবে, স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়েই বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর জন্ম হয়েছে।’
তারেক রহমান, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে বাংলাদেশের স্বাধীনতাকামী মানুষের ওপর বর্বরোচিত হামলা শুরু হলে চট্টগ্রামে অষ্টম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের তৎকালীন উপঅধিনায়ক মেজর জিয়াউর রহমান ‘উই রিভোল্ট’ ঘোষণা করেন। এরপর তিনি রেজিমেন্টের বাংলাভাষী কর্মকর্তা ও সৈনিকদের একত্র করে সশস্ত্র সংগ্রামে অবতীর্ণ হওয়ার নির্দেশ দেন।
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ‘একটি জাতির জন্ম’ নিবন্ধের উদ্ধৃতি দিয়ে তারেক রহমান বলেন, ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ রাত ২টা ১৫ মিনিটে জিয়াউর রহমান ব্যাটালিয়নের কর্মকর্তা, জেসিও ও সৈনিকদের সশস্ত্র সংগ্রামে অংশ নেওয়ার নির্দেশ দেন।
তিনি বলেন, ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি বাহিনীর গণহত্যার বিরুদ্ধে প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ ও অষ্টম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের বাংলাভাষী সেনাসদস্যরা সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন। ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে সশস্ত্র সংগ্রামে অবতীর্ণ হওয়ার নির্দেশ এবং ২৭ মার্চ কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধে একজন সেনাকর্মকর্তার এমন ঐতিহাসিক ভূমিকা সশস্ত্র বাহিনীর জন্য গৌরব ও অনুপ্রেরণার উৎস। এ কারণেই স্বাধীনতাপ্রিয় দেশপ্রেমিক জনগণ সেনাবাহিনীর যেকোনো সাফল্যকে বাংলাদেশের সাফল্য হিসেবে বিবেচনা করে।’
দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সশস্ত্র বাহিনীর সব পর্যায়ের কর্মকর্তা ও সৈনিক সংবিধান, আইন, সামরিক বিধিবিধান এবং মানবিক মূল্যবোধের প্রতি অবিচল থাকবেন বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী।
বর্তমান বিশ্বের পরিবর্তিত নিরাপত্তা পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, যুদ্ধের ধরন ও কৌশল দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। স্থল, সমুদ্র ও আকাশের পাশাপাশি সাইবার স্পেস, মহাকাশ, ড্রোন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ইলেকট্রনিক যুদ্ধ এবং তথ্যভিত্তিক সক্ষমতা এখন জাতীয় নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এ বাস্তবতায় দেশের প্রতিরক্ষা প্রস্তুতিকে সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে নেওয়ার কাজ চলছে।
তারেক রহমান বলেন, বর্তমান সরকার সেনাবাহিনীর সর্বক্ষেত্রে আধুনিকায়নের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় অস্ত্র, গোলাবারুদ ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম দেশেই উৎপাদনের লক্ষ্যে দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্প প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে।
তবে প্রযুক্তি কখনো মানুষের বিকল্প হতে পারে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনী যেন প্রয়োজনের মুহূর্তে সমন্বিতভাবে কাজ করতে পারে, সে লক্ষ্যে সমন্বিত প্রতিরক্ষা সক্ষমতা গড়ে তোলা প্রয়োজন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সশস্ত্র বাহিনী শুধু দেশের প্রতিরক্ষার দায়িত্বই পালন করে না; দুর্যোগ, বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, অগ্নিকাণ্ড ও অন্যান্য জাতীয় জরুরি পরিস্থিতিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। পাশাপাশি বিদেশে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনেও তারা সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে।
তিনি বলেন, সরকার সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের কল্যাণ, আবাসন, চিকিৎসা, শিক্ষা, প্রশিক্ষণ, ক্যারিয়ার উন্নয়ন ও অবসর-পরবর্তী সামাজিক নিরাপত্তার বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। ইতোমধ্যে জাতীয় পে-স্কেলে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের বেতন ও ভাতা ১০০ থেকে ১৩৮ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। এ ছাড়া সেনাসদস্যদের জীবনযাত্রার মান আরও উন্নত করতে ‘ওয়ান র্যাঙ্ক, ওয়ান পেনশন’ বাস্তবায়নের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
অনুষ্ঠানে পেশাগত সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরূপ ৭ ও ৩২ ফিল্ড রেজিমেন্ট আর্টিলারি, ২৫ এয়ার ডিফেন্স রেজিমেন্ট, ৯ ইঞ্জিনিয়ার ব্যাটালিয়ন, ৫৬ ও ৫৭ ইস্ট বেঙ্গল এবং প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টকে ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানে মন্ত্রিসভার সদস্য ও উপদেষ্টা, সেনাবাহিনী প্রধান, কূটনৈতিক কোরের প্রতিনিধি, সশস্ত্র বাহিনীর সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন পর্যায়ের সামরিক সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
সাভার সেনানিবাসে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নবম পদাতিক ডিভিশনের সাতটি ইউনিটের কাছে ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড বা জাতীয় পতাকা তুলে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
রোববার (১৮ অক্টোবর) সকাল সোয়া ৯টার দিকে সাভার সেনানিবাসে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। এ সময় তাকে স্বাগত জানান সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। প্রধানমন্ত্রী সেনানিবাসে পৌঁছালে সেনাবাহিনীর একটি চৌকস দল তাকে গার্ড অব অনার প্রদান করে। পরে উপস্থিত সেনাসদস্যদের সঙ্গে সালাম বিনিময় করেন তিনি। এরপর নবম পদাতিক ডিভিশনের সাতটি ইউনিটের কাছে জাতীয় পতাকা তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী।
পেশাগত সাফল্যের জন্য ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড পেয়েছে ৭ এবং ৩২ ফিল্ড রেজিমেন্ট আর্টিলারি, ২৫ এয়ার ডিফেন্স রেজিমেন্ট, ৯ ইঞ্জিনিয়ার ব্যাটালিয়ন, ৫৬ ও ৫৭ ইস্ট বেঙ্গল এবং প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট।
এসময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড শুধু একটি পতাকা নয়; বরং এটি একটি ইউনিটের ইতিহাস, ঐতিহ্য, শৃঙ্খলা, আত্মত্যাগ, পেশাদারিত্ব এবং দেশের প্রতি অঙ্গীকারের প্রতীক। জাতীয় পতাকার গৌরবময় উড্ডয়ন প্রতিনিয়তই আমাদের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও অসংখ্য মানুষের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক সেই জাতীয় পতাকা আপনাদের হাতে তুলে দেয়া হলো। জাতীয় পতাকা অর্জনের অর্থ হলো আপনাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব আরও নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করার নতুন শপথ। পতাকার মান রক্ষা করা সকল সৈনিকের পবিত্র দায়িত্ব।’
তিনি আরও বলেন, ‘একটি আধুনিক সশস্ত্র বাহিনীর শক্তি শুধু অস্ত্র, সরঞ্জাম বা জনবলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এর প্রকৃত শক্তি নিহিত থাকে শৃঙ্খলা, দক্ষতা, নেতৃত্ব, নৈতিকতা, প্রশিক্ষণ এবং জনগণের আস্থার মধ্যে। সর্বোপরি চেইন অব কমান্ড। আমরা সশস্ত্রবাহিনীকে আরও প্রযুক্তিনির্ভর, দক্ষ, শৃঙ্খলাবদ্ধ, পেশাদার এবং সর্বাধুনিক হিসেবে গড়ে তোলার কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছি।’
বর্তমানে বিশ্বের নিরাপত্তা পরিবেশ দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বদলে যাচ্ছে যুদ্ধের ধরন ও কৌশল। স্থল, সমুদ্র ও আকাশের পাশাপাশি সাইবার স্পেস, মহাকাশ, ড্রোন, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স, ইলেকট্রনিক যুদ্ধ এবং তথ্যভিত্তিক সক্ষমতা বর্তমানে জাতীয় নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই বাস্তবতায় আমাদের প্রতিরক্ষা প্রস্তুতিকেও সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে নেয়ার কাজ চলমান।
সরকারপ্রধান আরও বলেন, বর্তমান সরকার সর্বক্ষেত্রে সেনাবাহিনীর আধুনিকায়নের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় অস্ত্র, গোলাবারুদ ও প্রতিরক্ষা সামগ্রী দেশেই উৎপাদনের জন্য দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্প প্রতিষ্ঠার প্রতি গুরুত্বারোপ করেছে। তবে প্রযুক্তি কখনোই মানুষের বিকল্প নয়। আমাদের এমন একটি সমন্বিত প্রতিরক্ষা সক্ষমতা গড়ে তোলা প্রয়োজন যেখানে প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনী প্রয়োজনের মুহূর্তে সমন্বিতভাবে কাজ করতে পারে।
প্রধানমন্ত্রীর সাভার সেনানিবাস সফরকে কেন্দ্র করে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কসহ আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়। এ সময় সড়কের দুপাশে দাঁড়িয়ে হাত নেড়ে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান স্থানীয় বাসিন্দারা।
ঢাকা ও চট্টগ্রাম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে চারটি পৃথক অভিযানে স্বর্ণবার, মদ, ডার্মাল ফিলার ও স্কিন বুস্টার ইনজেকশন, আমদানি নিষিদ্ধ গৌরি ক্রিম ও ব্যবহৃত ল্যাপটপ (সেকেন্ড হ্যান্ড ল্যাপটপ) জব্দ করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) অধীন কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। ১৫ ও ১৬ অক্টোবর পরিচালিত এসব অভিযানে জব্দ করা পণ্যের আনুমানিক মূল্য ৩ কোটি ২২ লাখ ৮৭ হাজার টাকা।
আজ শনিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে এনবিআর। এতে বলা হয়, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ, অবৈধ পণ্য আমদানি প্রতিরোধ ও সরকারি রাজস্ব সুরক্ষায় এসব অভিযান পরিচালনা করা হয়।
চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে স্বর্ণবার আটক
গত ১৫ অক্টোবর সকাল ৭টা ৪৫ মিনিটে দুবাই থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বিজি-১৪৮ ফ্লাইটে আসা এক যাত্রীর কাছ থেকে ১১৭ গ্রাম ওজনের একটি স্বর্ণবার আটক করা হয়। শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের গ্রিন চ্যানেলে নজরদারির সময় যাত্রী আবদুল্লাহ আল নোমান প্রথমে ১০০ গ্রাম স্বর্ণালঙ্কারের ঘোষণা দেন।
তবে জিজ্ঞাসাবাদে তিনি স্বর্ণবার বহনের বিষয়টি অস্বীকার করেন। পরে অন্যান্য সংস্থার প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে কাস্টমস হলরুমে তার দেহ তল্লাশি করে স্বর্ণবারটি উদ্ধার করা হয়। ডিটেনশন মেমোর (ডিএম) মাধ্যমে আটক স্বর্ণবারটির শুল্ককরসহ আনুমানিক বাজারমূল্য ২১ লাখ ৬ হাজার টাকা।
ঢাকা বিমানবন্দরে ৩০ লিটার মদ জব্দ
একই দিন হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৃথক অভিযানে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ৩০ লিটার মদ জব্দ করেন কাস্টমস গোয়েন্দা কর্মকর্তারা। সকাল ১১টায় মুম্বাই থেকে এয়ার ইন্ডিয়ার এআই-২১৮৩ ফ্লাইটে আসা এক যাত্রীর ব্যাগেজ পরীক্ষা করে ১৬ লিটার মদ পাওয়া যায়। এ ছাড়া বিমানবন্দরের টয়লেটে পরিত্যক্ত অবস্থায় ৭ দশমিক ৫ লিটার ও অপর দুই যাত্রীর কাছ থেকে আরও ৬ দশমিক ৫ লিটার মদ জব্দ করা হয়। জব্দ মদের আনুমানিক বাজারমূল্য ৬ লাখ টাকা।
ডার্মাল ফিলার ও স্কিন বুস্টার ইনজেকশন আটক
১৬ অক্টোবর সকাল ১১টা ১৩ মিনিটে কলম্বো থেকে শ্রীলঙ্কান এয়ারলাইনসের ইউএল-১৮৯ ফ্লাইটে আসা যাত্রী মো. রাকিব হোসেনের ব্যাগেজ থেকে চার ধরনের ১৫৫টি ডার্মাল ফিলার ও স্কিন বুস্টার ইনজেকশন আটক করা হয়। ব্যাগেজ সন্দেহজনক মনে হওয়ায় স্ক্যান ও পরীক্ষা করে এসব পণ্য পাওয়া যায়।
আটক পণ্যের মধ্যে রয়েছে- রেস্টিলেন লিডোকেইন ৫৫টি, রেস্টিলেন লিফট লিডোকেইন ৫৪টি, জুভেডার্ম ভলুমা উইথ লিডোকেইন ৪০টি ও প্রোফাইলো ৬টি। এসব পণ্যের আনুমানিক বাজারমূল্য ৫৭ লাখ ৭৬ হাজার টাকা। কাস্টমস গোয়েন্দা জানায়, এসব ইনজেকশন ত্বকের বলিরেখা কমানো, মুখের গঠন পরিবর্তন ও ত্বকের স্থিতিস্থাপকতা বাড়াতে ব্যবহার করা হয়। সংশ্লিষ্ট পণ্যগুলোর নিয়ন্ত্রক অনুমোদন ও আমদানির বৈধতা যাচাই করা হচ্ছে।
ফরেন পোস্ট অফিসে নিষিদ্ধ ক্রিম ও ব্যবহৃত ল্যাপটপ জব্দ
১৬ অক্টোবর ঢাকার বিমানবন্দরের ফরেন পোস্ট অফিসে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ৩৭ কার্টনে ১ হাজার ১০৪ কেজি আমদানি নিষিদ্ধ গৌরি স্কিন হোয়াইটেনিং ক্রিম ও ২৩টি আমদানি নিষিদ্ধ ব্যবহৃত (সেকেন্ড হ্যান্ড) কোর আই-৫ ল্যাপটপ জব্দ করা হয়। জব্দ করা পণ্যগুলোর আনুমানিক বাজারমূল্য ২ কোটি ৩৮ লাখ ৫ হাজার টাকা।
কাস্টমস গোয়েন্দা জানায়, অননুমোদিত ত্বক ফর্সাকারী ক্রিমে ক্ষতিকর উপাদান থাকার আশঙ্কা রয়েছে। জব্দ করা গৌরি ক্রিমে এ ধরনের উপাদান রয়েছে কি না, তা পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত করতে হবে।
অন্যদিকে, আমদানি নিষিদ্ধ ব্যবহৃত ল্যাপটপের অনিয়ন্ত্রিত প্রবেশ পণ্যের গুণগত মান, কার্যক্ষমতা ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর জানায়, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ, বৈধ ব্যবসার স্বার্থ রক্ষা ও রাজস্ব ফাঁকি প্রতিরোধে দেশের সব আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, সমুদ্রবন্দর, স্থলবন্দর ও অন্যান্য শুল্ক স্টেশনে নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে।
চিকিৎসককে নিজ কক্ষে ধূমপান করতে দেখে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী
রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে আকস্মিক পরিদর্শনকালে এক চিকিৎসককে নিজ কক্ষে ধূমপান করতে দেখে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ওই চিকিৎসকের কক্ষও অপরিচ্ছন্ন অবস্থায় দেখতে পান তিনি। এ ঘটনায় তাকে তাৎক্ষণিক বরখাস্তের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।
আজ শনিবার দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে শিশু হাসপাতাল পরিদর্শনে যান প্রধানমন্ত্রী। এ সময় হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগ ঘুরে দেখার পাশাপাশি চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের কর্মপরিবেশ এবং হাসপাতালের সার্বিক পরিচ্ছন্নতা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব একেএম নাজমুল হক এ কথা জানান।
তিনি জানান, পরিদর্শনের একপর্যায়ে হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক রফিকুল ইসলামের কক্ষে গিয়ে তাকে ধূমপান করতে দেখেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় ওই চিকিৎসকের কক্ষও অপরিচ্ছন্ন অবস্থায় ছিল। হাসপাতালের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসকের এমন আচরণ ও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।
সহকারী প্রেস সচিব জানান, এ ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী তাৎক্ষণিকভাবে হাসপাতালের পরিচালনা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. এ কে এম আজিজুল হককে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন।
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের পর চিকিৎসক রফিকুল ইসলামকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।
এ সময় প্রধানমন্ত্রী হাসপাতালে স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ বজায় রাখা, পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা এবং চিকিৎসকসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত দেশের কর্মসংস্থান উপযোগী দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা- রাষ্ট্রপতি
দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে ‘কর্মক্ষম ও দক্ষ মানবসম্পদ’ তৈরির আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আজ শনিবার বঙ্গভবনের সাউথ ইস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান রেজাউল করিম নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধি দল বঙ্গভবনে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে রাষ্ট্রপ্রধান এ আহ্বান জানান বলে জানিয়েছে তার দপ্তর।
রাষ্ট্রপতি বলেছেন, “দেশের বিভিন্ন শিল্প, কলকারখানা, করপোরেট সংস্থা ও বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান এমনকি বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থা পরিচালনার জন্য বিদেশ থেকে কর্মী আনতে হচ্ছে। দেশে অসংখ্য উচ্চশিক্ষিত বেকার রয়েছে। “এজন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে কারিগরি, প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিষয়ে আধুনিক ও উচ্চ মানসম্পন্ন শিক্ষা প্রদান করার ওপর জোর দিতে হবে।”
শিল্প ও করপোরেট প্রতিষ্ঠানকে যথাযথ প্রশিক্ষণ দিয়ে উপযুক্ত ও কর্মক্ষম কর্মী তৈরি করার পরামর্শ দেন রাষ্ট্রপ্রধান।
তিনি বলেন, সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত দেশের কর্মসংস্থান উপযোগী দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা।
“সেজন্য উচ্চ শিক্ষাব্যবস্থাকে সমন্বিত ও সামগ্রিক পদ্ধতিতে সাজাতে হবে, যাতে তা দেশের ও বিদেশের শ্রমবাজার উপযোগী দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে পারে। কেউ বেকার না থাকে।”
গরিব ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের শিক্ষা খরচ মওকুফ করার জন্য বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়কে আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
সাক্ষাৎকালে সাউথ ইস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান রেজাউল করিম জানান, বিশ্ববিদ্যালয়টি অনেকটা দাতব্য ও অলাভজনক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচালনারে চেষ্টা চলছে। প্রতিবছর গড়ে প্রায় ৩২ কোটি টাকা মেধাবী, অসচ্ছল ও বিশেষ কোটার শিক্ষার্থীদের জন্য টিউশন ফিতে ওয়েভার বা বৃত্তি প্রদান করা হয়।
এই সময় সাউথইস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ইউসুফ মাহবুবুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারি ভবন আকস্মিক পরিদর্শনে বের হন প্রধানমন্ত্রী
ডেঙ্গু ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা পরিস্থিতি দেখতে হাসপাতাল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আকস্মিক পরিদর্শনে বের হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
আজ সকাল ৯টা ২০ মিনিটে গুলশানের বাসা থেকে রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারি ভবন আকস্মিক পরিদর্শনে বের হন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব হাসান শিপলু জানান, দিনের শুরুতে তিনি রাজধানীর কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী সরকারি হাসপাতাল পরিদর্শন করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন রোগীদের সঙ্গে কথা বলে তাদের চিকিৎসাসেবার খোঁজখবর নেন। হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্র (আইসিইউ), অস্ত্রোপচারকক্ষসহ (অপারেশন থিয়েটার) বিভিন্ন বিভাগ ঘুরে দেখেন তিনি।
পরিদর্শনের সময় হাসপাতালের সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও পরিচ্ছন্নতার পরিস্থিতি দেখে অসন্তোষ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। হাসপাতালের পরিবেশ ও পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থার উন্নয়নে কর্তৃপক্ষকে সাত দিনের সময় দেন তিনি।
উপ প্রেস সচিব জানান, এরপর প্রধানমন্ত্রী রাজউক উত্তরা মডেল কলেজে যান। সেখানে তিনি শিক্ষক, শিক্ষার্থী, বিএনসিসি ও স্কাউট সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম সম্পর্কে খোঁজখবর নেওয়ার পাশাপাশি ডেঙ্গু প্রতিরোধে শিক্ষার্থীদের ভূমিকা নিয়ে কথা বলেন তিনি।
এ সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, বছরের এ সময়ে, বিশেষ করে নভেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গুর প্রকোপ বেড়ে যায়। প্রতিবছর ডেঙ্গুতে বহু মানুষ আক্রান্ত হন, অনেকের মৃত্যুও হয়। ডেঙ্গু মোকাবিলায় সবচেয়ে কার্যকর উপায় হচ্ছে প্রতিরোধ। আর এজন্য পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ডেঙ্গুর সঙ্গে লড়াই করতে হলে সবচেয়ে ভালো উপায় হচ্ছে প্রতিরোধ। আর এজন্য আমাদের চারপাশ পরিষ্কার রাখতে হবে। এই কাজে আমি তোমাদের সাহায্য চাই।’
তিনি বলেন, দেশের বিপুলসংখ্যক তরুণ যদি নিজেদের আশপাশ পরিচ্ছন্ন রাখার দায়িত্ব নেয়, তাহলে ডেঙ্গু প্রতিরোধসহ পরিবেশ রক্ষায় বড় পরিবর্তন আনা সম্ভব।
রাজধানীর পরিচ্ছন্নতা পরিস্থিতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঢাকা একটি বিশাল শহর। এখানে দুই থেকে আড়াই কোটির বেশি মানুষের বসবাস। সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা নিয়মিত কাজ করলেও তাদের সক্ষমতার সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তাই শুধু সিটি কর্পোরেশন বা প্রশাসনের ওপর নির্ভর করলে চলবে না। নাগরিকদেরও দায়িত্ব নিতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের বলেন, ‘তোমরা স্কাউট, গার্ল গাইড কিংবা রেড ক্রিসেন্টের সদস্য হও বা না হও, তোমরা সবাই এ দেশের নাগরিক। তোমরাই দেশের ভবিষ্যৎ। তাই নিজের বাসা, স্কুল, পাড়া ও আশপাশ পরিষ্কার রাখার দায়িত্ব তোমাদেরও নিতে হবে।’
যত্রতত্র ময়লা ফেলার প্রবণতা বন্ধে সামাজিক সচেতনতা তৈরির ওপর গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, কেউ নির্ধারিত স্থানের বাইরে ময়লা ফেললে তাকে সচেতন করতে হবে। সবাই মিলে চেষ্টা করলে ঢাকা শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখা সম্ভব।
প্রধানমন্ত্রী জানান, নগরীর বিভিন্ন স্থানে ময়লা ফেলার জন্য ডাস্টবিন স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কিন্তু দুঃখজনকভাবে অনেক জায়গা থেকে এসব ডাস্টবিন চুরি হয়ে যাচ্ছে। একইভাবে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে বিভিন্ন স্থানে লাগানো গাছের চারাও চুরি হচ্ছে। এসব কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে নাগরিকদের আরও সচেতন ও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
জন্মদিনে একটি করে গাছ লাগানোর পরামর্শ
পরিবেশ রক্ষায় শিক্ষার্থীদের প্রতিবছর নিজেদের ও পরিবারের সদস্যদের জন্মদিনে অন্তত একটি করে গাছ লাগানোর পরামর্শ দেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ‘তোমার জন্মদিনে, ভাইবোনের জন্মদিনে কিংবা নানা-নানির জন্মদিনে একটি করে গাছ লাগানোর চেষ্টা করবে। সেটা তোমার বাসায় হতে পারে, স্কুলে হতে পারে কিংবা গ্রামের বাড়িতে হতে পারে। গাছগুলো যখন বড় হবে, তোমরাও তখন বড় হবে।’
রাজধানীতে ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রা ও সবুজের ঘাটতি নিয়েও কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।
নিজের শৈশবের স্মৃতিচারণা করে তিনি বলেন, একসময় ঢাকায় অনেক বেশি গাছপালা ও খোলা জায়গা ছিল। এখন সেখানে বহুতল ভবন গড়ে উঠেছে। গাছপালা কমে যাওয়ায় শহরে গরমের অনুভূতিও বেড়েছে। তিনি বলেন, ‘গাছ যত বাড়বে, আমরা তত বুক ভরে শ্বাস নিতে পারব। গাছের পাতার ঝিরঝির শব্দ আমার খুব ভালো লাগে। আমরা সবাই মিলে গাছ লাগালে শহরের তাপমাত্রাও কিছুটা কমিয়ে আনা সম্ভব।’
শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলাপচারিতায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধ, পরিচ্ছন্নতা ও সবুজায়ন-এই তিনটি ক্ষেত্রে তরুণদের সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন। শুধু সরকারের উদ্যোগ নয়, নাগরিকদের সচেতনতা ও সম্মিলিত প্রচেষ্টাই পারে একটি পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য নগর গড়ে তুলতে।
প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের কাছে জানতে চান, নিজেদের স্কুল, বাসা, পাড়া ও আশপাশ পরিচ্ছন্ন রাখতে তাদের সহযোগিতা পাওয়া যাবে কি না। এ সময় শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পান তিনি।
বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি) ও স্কাউট সদস্যদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু সরকারের উদ্যোগের ওপর নির্ভর না করে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। বিশেষ করে শিক্ষার্থী ও তরুণ প্রজন্মকে নিজেদের বাসাবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও আশপাশের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার দায়িত্ব নিতে হবে।
১২ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ডেঙ্গু প্রতিরোধে তিন মাসের বিশেষ অভিযান উদ্বোধন করেন। এর মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে ডেঙ্গু প্রতিরোধে তিন মাসব্যাপী এ বিশেষ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও জনসচেতনতামূলক কর্মসূচি।
ডেঙ্গুর প্রকোপ মোকাবিলায় আগামী তিন মাসকে ঝুঁকিপূর্ণ সময় বিবেচনায় নিয়ে এ কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
ছবি : সংগৃহীত
দেশে দুর্ঘটনা ও আঘাতে প্রতিদিন গড়ে ২৬৮ জনের মৃত্যু হচ্ছে, স্থায়ী প্রতিবন্ধিতার শিকার হচ্ছেন ৩৮০ জন। আহত হচ্ছেন ৪৫ হাজারের বেশি মানুষ। এমন চিত্র উঠে এসেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক জরিপে। অথচ জরুরি চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই। পর্যাপ্ত পুনর্বাসনব্যবস্থাও নেই।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গুরুতর আহত ব্যক্তিদের জরুরি চিকিৎসা নিশ্চিত করতে কার্যকর ট্রমা সেন্টার, সমন্বিত জরুরি চিকিৎসাব্যবস্থা ও পুনর্বাসনসেবা গড়ে তুলতে হবে। এসব ব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে আঘাতজনিত মৃত্যু ও প্রতিবন্ধিতার বোঝা কমানো সম্ভব। পাশাপাশি সড়কের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইন প্রয়োগ, হেলমেটের মান হালনাগাদ, গতিসীমা কার্যকর করা এবং মহাসড়কে নিরাপদ অবকাঠামো নির্মাণ জরুরি।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে সড়কের পাশে নির্মিত ২৪টি ট্রমা সেন্টার চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি জরুরি সেবা সম্প্রসারণেও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
দুর্ঘটনা ও আঘাতের শিকার মানুষের জীবন রক্ষা, দ্রুত চিকিৎসা এবং পুনর্বাসন সম্পর্কে সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে আজ শনিবার বিশ্ব ট্রমা দিবস পালিত হচ্ছে। ২০২৪ সালে প্রকাশিত বাংলাদেশ স্বাস্থ্য ও দুর্ঘটনা জরিপটি যৌথভাবে পরিচালনা করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি এবং সেন্টার ফর ইনজুরি প্রিভেনশন অ্যান্ড রিসার্চ, বাংলাদেশ (সিআইপিআরবি)।
দেশের ৬৪ জেলার শহর ও গ্রামের এক লাখ ১০ হাজার পরিবারের চার লাখ ৩৯ হাজার ৭০০ সদস্যের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয়। জরিপের তথ্য অনুযায়ী, দেশে বছরে দুর্ঘটনা ও আঘাতজনিত কারণে প্রায় ৯৮ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়। এর মধ্যে প্রধান চারটি কারণ হলো সড়ক দুর্ঘটনা, আত্মহত্যা, পানিতে ডোবা ও পড়ে যাওয়া। এসব কারণে প্রতিদিন গড়ে ২১১ জনের মৃত্যু হয়।
সড়ক দুর্ঘটনায় বছরে মারা যান ২৪ হাজার ২৩৩ জন, অর্থাৎ প্রতিদিন গড়ে ৬৬ জন। আত্মহত্যায় বছরে ২০ হাজার ৫০৫ জনের মৃত্যু হয়, প্রতিদিন গড়ে ৫৬ জন। পানিতে ডুবে বছরে প্রাণ হারান ১৮ হাজার ২৬৮ জন, দিনে গড়ে ৫০ জন। আর পড়ে গিয়ে বছরে মারা যান ১৪ হাজার ২৬৮ জন, প্রতিদিন গড়ে ৩৯ জন।
এ ছাড়া বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়া, সহিংসতা, প্রাণী ও কীটপতঙ্গের কামড়, পুড়ে যাওয়া, বিষপান, শ্বাসরোধ এবং ধারালো বস্তু ও যন্ত্রপাতির আঘাতেও প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।
২৪টি ট্রমা সেন্টার চালুর উদ্যোগে ধীরগতি
সড়ক দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিদের দ্রুত জরুরি চিকিৎসা দেওয়ার লক্ষ্যে দেশের গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কের পাশে ২৪টি ট্রমা সেন্টার নির্মাণ করে সরকার। এগুলোকে নতুন নামে ‘অ্যাক্সিডেন্ট অ্যান্ড ইমার্জেন্সি ট্রিটমেন্ট সেন্টার’ হিসেবে চালুর উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানানো হলেও এখনও দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি। পরিকল্পনা ছিল, এসব কেন্দ্রে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিদের পাশাপাশি অন্যান্য আঘাতের শিকার ব্যক্তিদেরও চিকিৎসা দেওয়া হবে। কিন্তু নির্মাণের পর অধিকাংশ কেন্দ্রই দীর্ঘদিন কার্যক্রমহীন থেকেছে। প্রয়োজনীয় চিকিৎসক, নার্স, যন্ত্রপাতি ও অন্যান্য জনবলের অভাব এর অন্যতম কারণ।
স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ২০০৪-০৫ অর্থবছরে ১০টি এবং ২০১০ সালে আরও ১৪টি ট্রমা সেন্টার নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এক প্রতিবেদনে এসব অবকাঠামো নির্মাণে অন্তত ১৪০ কোটি টাকা ব্যয়ের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. আবু জামিল ফয়সাল এর আগে বলেছিলেন, শুধু ট্রমা সেন্টারের তালা খুলে দিলেই হবে না। প্রতিটি কেন্দ্রে কতজন চিকিৎসক, নার্স ও টেকনোলজিস্ট প্রয়োজন, তা নির্ধারণ করে তাদের নিয়োগ বা পদায়ন নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি অ্যাম্বুল্যান্স সেবার সঙ্গে ট্রমা সেন্টারগুলোর সমন্বয় জরুরি। গুরুতর আহত হয়ে যাঁরা প্রতিবন্ধিতার শিকার হচ্ছেন, তাদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থাও করতে হবে। তা না হলে তারা সমাজের বোঝা হয়ে থাকবেন। এটি অর্থনীতির জন্য আরও বড় হুমকি।
জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানের (নিটোর) পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. আবুল কেনান বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে বিপুল অর্থ ব্যয়ে ট্রমা সেন্টার নির্মাণ করা হলেও সেগুলো দীর্ঘদিন ধরে অকার্যকর হয়ে পড়ে রয়েছে। ফলে জরুরি মুহূর্তে দূরদূরান্তের রোগীদের রাজধানীতে ছুটতে হচ্ছে। হাসপাতালে পৌঁছাতে দেরি হওয়ায় চিকিৎসার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময় নষ্ট হচ্ছে।
প্রতিদিন ৩৮০ জন স্থায়ী প্রতিবন্ধিতার শিকার
জরিপ অনুযায়ী, দেশে প্রতিদিন গড়ে ৩৮০ জন স্থায়ী প্রতিবন্ধিতার শিকার হচ্ছেন। তাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি মানুষ স্থায়ীভাবে প্রতিবন্ধী হচ্ছেন পড়ে গিয়ে। এ সংখ্যা প্রতিদিন গড়ে ১৫৯ জন। সড়ক দুর্ঘটনায় প্রতিদিন গড়ে ১০৪ জন স্থায়ী প্রতিবন্ধিতার শিকার হচ্ছেন।
এ ছাড়া ভোঁতা বস্তুর আঘাতে প্রতিদিন ২৯ জন, ধারালো বস্তু ও যন্ত্রপাতির আঘাতে ১৮ জন, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ১৬ জন এবং সহিংসতায় ১৪ জন স্থায়ী প্রতিবন্ধিতার শিকার হচ্ছেন। প্রাণী ও কীটপতঙ্গের কামড়ে ১২ জন এবং পুড়ে গিয়ে আটজন প্রতিদিন স্থায়ী প্রতিবন্ধিতার শিকার হচ্ছেন।
পড়ে গিয়ে আহত ব্যক্তিদের বড় একটি অংশ বয়স্ক। তাদের ক্ষেত্রে সময়মতো চিকিৎসা ও যথাযথ পুনর্বাসনের অভাব স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।
অন্যদিকে সড়ক দুর্ঘটনায় কর্মক্ষমতা হারালে একজন উপার্জনক্ষম ব্যক্তির পাশাপাশি তাঁর পুরো পরিবারও আর্থিক সংকটে পড়তে পারে।
প্রতিদিন আহত ৪৫ হাজারের বেশি মানুষ
জরিপের তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রতিদিন গড়ে ৪৫ হাজার ৪০৮ জন দুর্ঘটনা ও আঘাতের শিকার হন। তাদের মধ্যে ৯১ দশমিক ৬ শতাংশের আঘাত মাঝারি ধরনের। গুরুতর আঘাতের শিকার ৬ দশমিক ৩ শতাংশ এবং মারাত্মক আঘাতের শিকার ১ দশমিক ৩ শতাংশ।
সব আহত ব্যক্তির হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার প্রয়োজন না হলেও গুরুতর ও ভয়াবহ আঘাতের শিকার ব্যক্তিদের দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করা জরুরি। দুর্ঘটনাস্থল থেকে দ্রুত উদ্ধার, প্রশিক্ষিত জরুরি সেবাকর্মী, কার্যকর অ্যাম্বুলেন্স, অস্ত্রোপচার ও নিবিড় পরিচর্যার সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে অনেকের জীবন বাঁচানো সম্ভব। দুর্ঘটনার পর শারীরিক চিকিৎসার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসনও গুরুত্বপূর্ণ। গুরুতর দুর্ঘটনা, সহিংসতা বা নির্যাতনের অভিজ্ঞতা থেকে মানসিক চাপ তৈরি হতে পারে। তাই প্রয়োজন অনুযায়ী আহত ব্যক্তিদের মানসিক স্বাস্থ্যসেবাও নিশ্চিত করতে হবে।
জরুরি সেবায় নতুন উদ্যোগ
সড়ক দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিদের দ্রুত উদ্ধার ও চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সরকার ৬০টি ‘পোস্ট-ক্র্যাশ রেসপন্স অ্যাম্বুলেন্স’ দিয়েছে। ঢাকা মহানগরে দুর্ঘটনা-পরবর্তী সেবার জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে ৪০টি মোটরসাইকেল অ্যাম্বুলেন্স। এ ছাড়া ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ও দুর্ঘটনা প্রতিরোধে হাইওয়ে পুলিশের জন্য রয়েছে ৮০টি প্যাট্রল মোটরসাইকেল।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৫০০ কিলোমিটার মহাসড়কের তিনটি করিডোরে বেসিক লাইফ সাপোর্ট (বিএলএস) অ্যাম্বুলেন্স হিসেবে ৬০টি মোতায়েনের পরিকল্পনা রয়েছে। করিডোরগুলো হলো জয়দেবপুর থেকে রাজশাহী ২২৭ কিলোমিটার, জয়দেবপুর থেকে ময়মনসিংহ ১০০ কিলোমিটার এবং হাটিকুমরুল থেকে বগুড়া হয়ে রংপুর ১৭০ কিলোমিটার।
তবে জরুরি সেবা কার্যকর করতে শুধু অ্যাম্বুলেন্সের সংখ্যা বাড়ানো যথেষ্ট নয়। দুর্ঘটনাস্থল থেকে রোগী উদ্ধার, দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছানো, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা এবং হাসপাতালগুলোর মধ্যে সমন্বিত ব্যবস্থা গড়ে তোলাও জরুরি।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, আঘাতজনিত মৃত্যু ও দীর্ঘমেয়াদি প্রতিবন্ধিতা জনস্বাস্থ্যের বড় চ্যালেঞ্জ। সড়কের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, বেপরোয়া গাড়ি চালানো নিয়ন্ত্রণ, চালকের ক্লান্তিজনিত ঝুঁকি কমানো, নিরাপদে সড়ক পারাপার এবং শিশু ও বয়স্কদের পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি কমানোর মতো প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।
গ্লোবাল হেলথ অ্যাডভোকেসি ইনকিউবেটরের কান্ট্রি কো-অর্ডিনেটর ড. শরিফুল আলম বলেন, সড়কে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণদের মধ্যে পথচারীরা অন্যতম। বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত ‘সেফ সিস্টেম অ্যাপ্রোচের’ মূল দর্শন হলো, মানুষ ভুল করলেও সেই ভুল যেন মৃত্যু বা গুরুতর আঘাতের কারণ না হয়। তাই সড়কের নকশা, অবকাঠামো ও ব্যবস্থাপনায় পথচারীদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।
সড়ক পরিবহন, রেলপথ ও নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর সংখ্যা অর্ধেকে নামিয়ে আনতে সরকার, বেসরকারি সংস্থা, উন্নয়ন সহযোগী, পরিবহনমালিক ও শ্রমিক সংগঠনসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
তিনি বলেন, একটি সমন্বিত সড়ক নিরাপত্তা আইন প্রণয়নে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সড়কের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হেলমেটের মান হালনাগাদ, গতিসীমা কার্যকর করা, দুর্ঘটনার পর জরুরি চিকিৎসাব্যবস্থা শক্তিশালী করা এবং মহাসড়কে নিরাপদ অবকাঠামো নির্মাণসহ বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।