ক্যান্সার, কিডনি রোগসহ সাতটি জটিল ও দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত রোগীদের এককালীন এক লাখ টাকা করে চিকিৎসা সহায়তা দেবে সরকার। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে মোট ৬৫ হাজার রোগীকে এ সহায়তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন সমাজসেবা অধিদপ্তর এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করবে।
সমাজসেবা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দীর্ঘমেয়াদি ও দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত দরিদ্র ও অসচ্ছল রোগীদের চিকিৎসার ব্যয় মেটাতে সহায়তা করা এবং তাদের পরিবারের আর্থিক চাপ কমানো এ কর্মসূচির মূল লক্ষ্য।
যে সাত রোগে মিলবে আর্থিক সহায়তা
সরকারের এ কর্মসূচির আওতায় সাতটি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিরা আর্থিক সহায়তার জন্য আবেদন করতে পারবেন। রোগগুলো হলো-
১. ক্যান্সার
২. কিডনি রোগ
৩. লিভার সিরোসিস
৪. প্যারালাইসিস
৫. হৃদরোগ
৬. লিউকেমিয়া
৭. থ্যালাসেমিয়া
কারা পাবেন অগ্রাধিকার
আর্থিক সহায়তা পেতে আবেদনকারীকে বাংলাদেশের স্থায়ী নাগরিক হতে হবে। রোগী নির্বাচনের ক্ষেত্রে দরিদ্র ও অসচ্ছল ব্যক্তিদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। এ জন্য পরিবারের আয়-ব্যয় ও আর্থিক অবস্থা বিবেচনা করা হবে।
এ ছাড়া যেসব রোগীর জরুরি চিকিৎসা প্রয়োজন এবং যাঁদের জীবন ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে, তাঁদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, শিশু, নারী ও প্রবীণ রোগীরাও অগ্রাধিকার পাবেন।
তবে আবেদনে ভুল তথ্য দেওয়া, জাল কাগজপত্র জমা দেওয়া, একই বিষয়ে সরকারের অন্য কোনো আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করা কিংবা তালিকাভুক্ত হওয়ার পর সহায়তা নিতে অনিচ্ছা প্রকাশ করলে সংশ্লিষ্ট কমিটি আবেদন বাতিল করতে পারবে।
নিয়ম অনুযায়ী, একজন আবেদনকারী একই অর্থবছরে একবার এবং সারা জীবনে সর্বোচ্চ তিনবার এ সহায়তা পেতে পারবেন।
আবেদনে যেসব কাগজপত্র লাগবে
আর্থিক সহায়তার জন্য আবেদন করতে রোগীর জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি দিতে হবে। অপ্রাপ্তবয়স্ক রোগীর ক্ষেত্রে জন্মনিবন্ধন সনদের ফটোকপি জমা দিতে হবে।
এ ছাড়া প্রযোজ্য ক্ষেত্রে আবেদনকারী বা অভিভাবকের জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি, পাসপোর্ট সাইজের এক কপি ছবি, নমিনির তথ্য, রোগী বা আবেদনকারী কিংবা অভিভাবকের ব্যাংক হিসাবের তথ্য এবং ব্যাংকের চেকবইয়ের কভার পাতার ফটোকপি দিতে হবে।
আবেদনের সঙ্গে চিকিৎসকের সর্বশেষ ব্যবস্থাপত্রের ফটোকপি এবং রোগ শনাক্তকরণ-সংক্রান্ত পরীক্ষার রিপোর্টের সত্যায়িত কপিও জমা দিতে হবে।
রোগভেদে যেসব পরীক্ষার রিপোর্ট প্রয়োজন
ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগীদের টিস্যু ডায়াগনস্টিক, হিস্টোপ্যাথলজি, সাইটোপ্যাথলজি, বোন ম্যারো বা বায়োপসি রিপোর্টসহ প্রযোজ্য পরীক্ষার প্রতিবেদন দিতে হবে।
কিডনি রোগীদের রক্তে ইউরিয়া ও ক্রিয়েটিনিনের মাত্রা নির্ণয়ের রিপোর্ট এবং ডায়ালাইসিস বা কিডনি প্রতিস্থাপন-সংক্রান্ত কাগজপত্র জমা দিতে হবে। নিয়মিত ডায়ালাইসিস নেওয়া রোগীদের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল বা সেবাকেন্দ্রের চিকিৎসকের সনদও প্রয়োজন হবে।
লিভার সিরোসিসে আক্রান্তদের লিভারের আল্ট্রাসনোগ্রাম ও ফাইব্রোস্ক্যান রিপোর্টসহ প্রাসঙ্গিক পরীক্ষার প্রতিবেদন দিতে হবে। প্যারালাইসিসের ক্ষেত্রে এমআরআই বা সিটি স্ক্যানের রিপোর্ট কিংবা রোগের প্রমাণযোগ্য ছবি জমা দেওয়া যাবে।
হৃদরোগীদের এনজিওগ্রাম বা ইকোকার্ডিওগ্রামের রিপোর্টসহ প্রয়োজনীয় পরীক্ষার প্রতিবেদন দিতে হবে। অন্যদিকে, থ্যালাসেমিয়া ও লিউকেমিয়ায় আক্রান্ত রোগীদের হিমোগ্লোবিন ইলেকট্রোফোরেসিস বা প্রযোজ্য অন্যান্য পরীক্ষার রিপোর্ট জমা দিতে হবে।
অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী, রোগ শনাক্তকরণ-সংক্রান্ত পরীক্ষার রিপোর্ট সাধারণত এক বছরের বেশি পুরোনো হওয়া যাবে না। প্রয়োজনীয় রিপোর্টের সত্যায়িত ফটোকপি জমা দিতে হবে; মূল কপি জমা দেওয়ার প্রয়োজন নেই।
যেভাবে আবেদন করবেন
আর্থিক সহায়তা পেতে প্রথমে নির্ধারিত অনলাইন লিংকে প্রবেশ করে আবেদন করতে হবে। আবেদন সম্পন্ন করার পর প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ আবেদনপত্রের স্বাক্ষরিত প্রিন্টকপি, চিকিৎসকের সর্বশেষ ব্যবস্থাপত্রের ফটোকপি এবং পরীক্ষার রিপোর্টের সত্যায়িত কপি জমা দিতে হবে।
অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আবেদন ফরম, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও প্রত্যয়নপত্র পূরণ করে দুই কপি সংশ্লিষ্ট উপজেলা বা শহর সমাজসেবা কার্যালয়ে জমা দেওয়ার কথাও উল্লেখ রয়েছে।
তাই আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট উপজেলা বা শহর সমাজসেবা কার্যালয় থেকে সর্বশেষ নির্দেশনা, নির্ধারিত অনলাইন আবেদনের লিংক এবং কাগজপত্র জমা দেওয়ার পদ্ধতি নিশ্চিত করে নেওয়া উচিত।
আবেদন করতে এখানে ক্লিক করুন।
প্রতীকী ছবি
দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ৭ জন মারা গেছেন। একই সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এক হাজার ৩৭৩ জন। আজ বুধবার (২১ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদফতরের বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
এতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় ৭ জন মারা গেছেন।
স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গুতে মোট ৩৬৪ জন মারা গেছেন।
এছাড়া, ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এক লাখ ১৬ হাজার ৯৯০ জন।
প্রতীকী ছবি
গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে হাম উপসর্গে একজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে সন্দেহ ও নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছেন এক হাজার ১০ জন। আজ বুধবার (২১ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় সিলেট বিভাগে হামের উপসর্গ নিয়ে একজনের মৃত্যু হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশে গত ১৫ মার্চ থেকে হাম ও হামের উপসর্গে এ পর্যন্ত মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে এক হাজার ২০৫ জন। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে ১০৪ জন ও হামের উপসর্গ নিয়ে এক হাজার ১০১ জনের মৃত্যু হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ৯৯৭ জনের শরীরে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। এ নিয়ে মোট সন্দেহভাজন সংক্রমণের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে দুই লাখ ১৬ হাজার ৭৬৫ জনে।
এ ছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছেন ১৩ জন। এ নিয়ে এ পর্যন্ত নিশ্চিত হামে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৩ হাজার ২১২ জনে।
গত ১৫ মার্চ থেকে সারা দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হাম সন্দেহে এক লাখ ৯২ হাজার ৬৯৫ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। একই সময়ে হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন এক লাখ ৮৫ হাজার ১১০ জন।
আগামী ১ নভেম্বর থেকে খাদ্য ব্যবসায় নিবন্ধন ও লাইসেন্স গ্রহণ বাধ্যতামূলক করছে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ (বিএফএসএ)। এর আওতায় রাস্তার পাশের অস্থায়ী বা ভ্রাম্যমাণ খাবারের দোকান, রেস্তোরাঁ, বেকারি থেকে শুরু করে খাদ্য উৎপাদনকারী ও আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে নিতে হবে নিবন্ধন বা লাইসেন্স।
গত ১৬ জুলাই ‘নিরাপদ খাদ্য (রেজিস্ট্রেশন ও লাইসেন্স) প্রবিধানমালা, ২০২৬’ সরকারি গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট খাদ্য ব্যবসায়ী ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্ধারিত সময় থেকে প্রয়োজনীয় নিবন্ধন ও লাইসেন্সের জন্য আবেদন করতে আহ্বান জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রচলিত ১৬ শ্রেণির খাদ্য ব্যবসার প্রথমবার নিবন্ধন বিনামূল্যে করা হবে। তবে বিশেষায়িত খাদ্যপণ্যের ক্ষেত্রে লাইসেন্স নিতে হবে এবং প্রযোজ্য ফি দিতে হবে।
নিবন্ধন ও লাইসেন্সের মেয়াদ হবে তিন বছর। খাদ্যপণ্যের প্যাকেটে উল্লেখ করতে হবে বিএফএসএ নিবন্ধন নম্বর। নিবন্ধন বা লাইসেন্স ছাড়া ব্যবসা পরিচালনা করলে তা দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে।
প্রাথমিকভাবে সংশ্লিষ্ট জেলা কার্যালয়ে আবেদন করা যাবে। পরে কর্তৃপক্ষ ধাপে ধাপে শতভাগ অনলাইন আবেদন গ্রহণের কার্যক্রম গ্রহণ করবে।
ছবি : সংগৃহীত
যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের (বিএআরসি) সহকারী পরিচালক সোহাগ ফকিরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দিবাগত রাতে মাদারীপুরের রাজৈর থানার বদরপাশা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টারের বিশেষ পুলিশ সুপার (সাইবার ইনভেস্টিগেশন অ্যান্ড অপারেশনস) মো. জাহিদুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় করা মামলায় সোহাগ ফকিরের সম্পৃক্ততা পাওয়ার তথ্যের ভিত্তিতে মাদারীপুর রাজৈর থানা পুলিশের সহায়তায় বিএআরসির সহকারী পরিচালক সোহাগ ফকিরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
সিআইডি সূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তারের সময় তার কাছ থেকে দুটি স্মার্টফোনসহ বেশ কিছু আলামত জব্দ করা হয়েছে।
ছবি : সংগৃহীত
মণ্ডপে মণ্ডপে বিষাদের ছায়া। ঢাক-কাঁসরের বাদ্যি-বাজনা, রাত্রি উজ্জ্বল করা আরতি ও পূজারি-ভক্তদের পূজা-অর্চনায় শুধু মা দুর্গার বিদায়ের আয়োজন। আজ বুধবার শুভ বিজয়া দশমী। হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসব শেষ হবে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে। মর্ত্যলোক ছেড়ে বিদায় নেবেন মা। অশ্রুসজল চোখে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ বিসর্জন দেবেন প্রতিমা। এর মাধ্যমে ভাঙবে ছয় দিনের সার্বজনীন মিলনমেলা।
উৎসবের পঞ্চম দিনে গতকাল মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হয় মহানবমী পূজা। এদিন সকাল ৯টা ৫৭ মিনিটের মধ্যে দেবীর মহানবমী কল্পারম্ভ ও মহানবমীবিহিত পূজার আয়োজন করা হয়। পূজা শেষে হোম ছাড়াও যথারীতি পুষ্পাঞ্জলি, প্রসাদ বিতরণ ও সন্ধ্যায় ভোগ-আরতি ছিল।
দিনটির প্রধান আকর্ষণ ছিল মণ্ডপে মণ্ডপে আরতি প্রতিযোগিতা। সন্ধ্যা ও রাতকে উজ্জ্বল করে ভক্তরা মেতে উঠেছিলেন নানা ঢঙে, আরতি নিবেদনে। সেই সঙ্গে ছিল দিনভর পুরোহিতদের চণ্ডীপাঠ। মণ্ডপে মণ্ডপে ভক্তদের কীর্তন-বন্দনা। এ উপলক্ষে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির মেলাঙ্গনের পূজামণ্ডপে সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত হয় আরতি প্রতিযোগিতা।
আজ বিজয়া দশমীতে সকাল ৯টা ৫৭ মিনিটের মধ্যে দশমীবিহিত পূজা অনুষ্ঠিত হবে। পূজা শেষে দর্পণ বিসর্জন দেওয়া হবে। এরপর সারাদেশে স্থানীয় আয়োজন ও সুবিধামতো সময়ে বিজয়ার শোভাযাত্রা সহকারে প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হবে। সর্বত্র বিসর্জন শেষে ভক্তরা শান্তিজল গ্রহণ করবেন।
বিসর্জনের উদ্দেশ্যে রাজধানীর ঢাকেশ্বরী মন্দির মেলাঙ্গন থেকে কেন্দ্রীয় বিজয়া শোভাযাত্রা বের হবে বেলা ৩টায়। এর আগে রাজধানীর ২৫৮টি পূজামণ্ডপের অধিকাংশই এসে জমা হবে পলাশীর মোড়ে। সেখান থেকে সম্মিলিত বাদ্যি-বাজনা, মন্ত্রোচ্চারণ ও পূজা-অর্চনার মধ্য দিয়ে শুরু হবে বিজয়ার শোভাযাত্রা। এরপর সদরঘাটের ওয়াইজঘাটের বুড়িগঙ্গা নদীর জলে একে একে বিসর্জন দেওয়া হবে প্রতিমা। নিরাপত্তার কারণে সরকারের পক্ষ থেকে সন্ধ্যার আগেই প্রতিমা বিসর্জনের নির্দেশনা রয়েছে।
বিজয়া দশমী উপলক্ষে আজও সরকারি ছুটি। বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতারসহ স্যাটেলাইট টেলিভিশনগুলো বিশেষ অনুষ্ঠানমালা প্রচার করবে। সংবাদপত্রগুলো প্রকাশ করবে বিশেষ সংখ্যা ও নিবন্ধ।
শারদীয় দুর্গোৎসব ও বিজয়া দশমী উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সকালে বঙ্গভবনে হিন্দু সম্প্রদায়ের জন্য সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করবেন।
নবমীর আনন্দ
ঢাকের শব্দে মুখর চারদিক। কোথাও মণ্ডপজুড়ে আলোর ঝলকানি, কোথাও প্রতিমার সামনে দাঁড়িয়ে প্রার্থনায় মগ্ন ভক্ত। দুর্গোৎসবের মহানবমীতে পুরান ঢাকার শাঁখারীবাজার, তাঁতীবাজার, লক্ষ্মীবাজারসহ বিভিন্ন এলাকার মণ্ডপে আনন্দের পাশাপাশি অনুভূত হচ্ছে বিষাদের আবহ।
গতকাল নবমীর দিনে পুরান ঢাকার অলিগলিতে উৎসবের এমনই এক পরিচিত ছবি দেখা যায়। পুরোনো বাড়িঘর, পাশাপাশি দোকানপাট আর সরু রাস্তার ফাঁকে ফাঁকে সাজানো পূজামণ্ডপ। কোথাও ভক্তদের প্রার্থনা, কোথাও ঢাকের বাদ্যি। শাঁখারীবাজারের পথে এগোলে একের পর এক মণ্ডপে চোখে পড়ে প্রতিমার সাজসজ্জা। দেবীর মুখের দিকে তাকিয়ে প্রণাম করছেন ভক্তরা। অনেকে পরিবারের ছোটদের নিয়ে ঘুরছেন, কেউ আবার ছিলেন বন্ধুদের সঙ্গে প্রতিমা দর্শনে ব্যস্ত।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ
প্রতিবেশী কোনো দেশের সঙ্গে সমঝোতা করে তাদের সমর্থনের ওপর নির্ভর করে ক্ষমতায় টিকে থাকার রাজনীতিতে বিশ্বাস করেন না বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী জেএম সেন হলের দুর্গাপূজামণ্ডপ পরিদর্শন এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।
সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, জেএম সেন হলে তারা সব সময় এসেছেন। তবে অতীতে এখানে আসা কেউ কেউ সনাতন ধর্মাবলম্বীদের আশ্বস্ত করে বলেছিলেন, একটি প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে এবং সেই দেশের সমর্থনে তারা ক্ষমতায় থাকবেন। কিন্তু এ ধরনের রাজনীতিতে তারা বিশ্বাস করেন না।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমাদের প্রত্যাশা এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তোলা, যেখানে কোনো ধরনের বৈষম্য থাকবে না। মুক্তিযুদ্ধে জীবন উৎসর্গকারী শহীদ ও মুক্তিযোদ্ধারাও ধর্মীয় সম্প্রীতিপূর্ণ বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিলেন। তবে আমরা সচেতনভাবেই ‘সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি’ শব্দটি ব্যবহার এড়িয়ে চলি। কারণ, আইনগতভাবে দেশে কোনো সম্প্রদায়কে আলাদা পরিচয়ে স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়টি আমরা সামনে আনতে চাই না. তিনি বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নানা ধর্মের মানুষের বসবাস রয়েছে এবং কোথাও সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষও থাকে। কিন্তু বাংলাদেশে কাউকে সংখ্যালঘু হিসেবে চিহ্নিত করতে চান না তারা। এ দেশের সব মানুষের পরিচয় বাংলাদেশি নাগরিক। এই পরিচয় নতুন করে উপলব্ধি করার যে সংস্কৃতি ২০২৪-পরবর্তী বাংলাদেশে চালু হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, এ দেশের সনাতন ধর্মাবলম্বী, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানসহ সব ধর্মের মানুষ রক্ত দিয়ে দেশ স্বাধীন করেছেন। ফ্যাসিবাদ থেকে মুক্তি পেতে গণ-অভ্যুত্থানেও সব ধর্মের মানুষ রক্ত দিয়েছেন।
ধর্মের ভিত্তিতে বিভাজন কিংবা রাজনীতিতে বিশ্বাস করেন না জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা ধর্মের ভিত্তিতে বিভাজন চাই না। ধর্মের ভিত্তিতে কোনো রাজনীতি করি না। ধর্মের ভিত্তিতে রাজনীতি বিশ্বাস করি না। সুতরাং যারা আপনাদেরকে ভোট ব্যাংক হিসেবে সব সময় মনে করেছিল, তাদের ভ্রম ভেঙে দিয়েছিলেন গতবার। আপনারা আস্থা প্রকাশ করেছেন, আমরা বিশ্বাস রেখেছি। আস্থা এবং বিশ্বাসের প্রতীক আমাদের নেতা তারেক রহমান।