• প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২২ জানুয়ারি, ২০২৬, সময় : ২:০৪ পিএম

গত বছর ভারতের সঙ্গে যুদ্ধের কারণে পাকিস্তানের যুদ্ধবিমান, ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ‘যুদ্ধপরীক্ষিত’ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। এরপর দেশটির প্রতিরক্ষা উৎপাদন শিল্প এখন তুমুল ব্যস্ত সময় পার করছে। এরই মধ্যে বিভিন্ন দেশ পাকিস্তানি অস্ত্র কেনার ব্যাপারে আগ্রহ দেখাচ্ছে। সেই তালিকায় যুক্ত হয়েছিলো বাংলাদেশও। পাকিস্তানের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহায়তা নিয়ে বাংলাদেশের আলোচনা হয়েছে, এটি এখন পুরোনো খবর। নতুন খবর হলো, দেশটির সঙ্গে আলোচনায় যেসব অস্ত্রের ব্যাপারে বাংলাদেশ আগ্রহ দেখিয়েছে, তা তুলে ধরেছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স। 


পাকিস্তানের তিনটি প্রতিরক্ষা সূত্রের বরাতে সংবাদ সংস্থাটি জানিয়েছে, পাকিস্তানের সঙ্গে বিস্তৃত অস্ত্র সহায়তা নিয়ে আলোচনা করেছে বাংলাদেশ। এর মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা এবং গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় চুক্তি নিয়েও আলোচনা হয়েছে। 


সূত্রের মতে, পাকিস্তানের সঙ্গে আলোচনায় বাংলাদেশ জেএফ-১৭ ব্লক থ্রি (জেএফ-১৭ ব্লক থ্রি) মাল্টি-রোল যুদ্ধবিমান, এমএফআই-১৭ মুশাক বিমান, মনুষ্যবিহীন পর্যবেক্ষণ ও আক্রমণে সক্ষম শাহপার ড্রোন, বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং মাইন-প্রতিরোধী সাঁজোয়া যান মুহাফিজ-এর ব্যাপারে আগ্রহ দেখিয়েছে। তবে রয়টার্সের প্রতিবেদনে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের কোনো বক্তব্য প্রকাশ করেনি। প্রতিবেদনে ১৯৭১ সালে পাকিস্তান থেকে স্বাধীন হয় বাংলাদেশ-এই তথ্যটিও দিয়েছে রয়টার্স। 


প্রতিবেদনে বলা হয়েছে—ভারতের সঙ্গে যুদ্ধে পাকিস্তানের যুদ্ধবিমান, ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ‘পরীক্ষিত’ তকমা পেয়েছে। এরপর থেকে দেশটির প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদন শিল্পে নতুন করে গতি পেয়েছে। 


প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম বিক্রি সম্পর্কে অবগত আছেন এমন তিনটি পাকিস্তানি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, চীনের সঙ্গে যৌথভাবে নির্মিত জেএফ-১৭ (জেএফ-১৭) যুদ্ধ বিমানসহ প্রশিক্ষণ বিমান, ড্রোন এবং অস্ত্র ব্যবস্থার চুক্তি নিয়ে ইতোমধ্যে ১৩টি দেশের সঙ্গে আলোচনা করেছে পাকিস্তান। এর মধ্যে ৬ থেকে ৮টি দেশের সঙ্গে আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। 


দেশটির প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদন মন্ত্রী নিশ্চিত করেছেন, বেশ কয়েকটি দেশ যুদ্ধবিমান এবং অন্যান্য সামরিক সরঞ্জামের বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এই ব্যাপারে মন্তব্য জানতে চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। 


বিশ্লেষকরা মতে, ইউক্রেন যুদ্ধ এবং মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে সরবরাহ ব্যবস্থা বিঘ্নিত হওয়ায় দেশগুলো এখন নতুন সরবরাহ ব্যবস্থা (সাপ্লাই চেইন) তৈরির চেষ্টা করছে। গত বছরের মে মাসে ভারতের সঙ্গে আকাশ যুদ্ধে পাকিস্তানের অস্ত্রগুলো কার্যকর বিকল্প হিসেবে ইতোমধ্যে প্রমাণিত হয়েছে। অল্প কয়েক দিনের সেই যুদ্ধে পাকিস্তানের বিমান বাহিনী উন্নত চীনা প্রযুক্তিতে নির্মিত জে-১০ (জে-১০)-এর পাশাপাশি জেএফ-১৭ (জেএফ-১৭) ব্যবহার করেছিল। 



এসব প্রতিরক্ষা চুক্তির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছয়টি সূত্র, বিমান বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত তিন কর্মকর্তা এবং এক ডজন বিশ্লেষকের সঙ্গে কথা বলেছে রয়টার্স। তারা পাকিস্তানের ক্রমবর্ধমান অস্ত্র শিল্প এবং অস্ত্র বিক্রি আলোচনার অপ্রকাশিত বিভিন্ন তথ্য দিয়েছেন। 


ভূ-রাজনৈতিক চাপ মোকাবিলা করে পাকিস্তান উৎপাদন ক্ষমতা বাড়াতে পারবে কি না তা নিয়ে কোনো কোনো বিশ্লেষক সংশয় প্রকাশ করলেও পাকিস্তানি সামরিক সরঞ্জামের প্রতি যে আগ্রহ বহুগুণ বেড়েছে সে বিষয়ে সবাই একমত। তবে, অধিকাংশ বিশ্লেষক এও সতর্ক করেছেন, অস্ত্র বিক্রির আলোচনা মানেই তা চূড়ান্ত চুক্তিতে রূপ নেবে এমন নয়। 


এদিকে, অস্ত্র বিক্রির আলোচনাগুলোকে ‘সুরক্ষিত গোপন বিষয়’ অভিহিত করে প্রতিরক্ষা উৎপাদন মন্ত্রী রাজা হায়াত হাররাজ রয়টার্সকে বলেছেন, এই আলোচনাগুলো চলছে, (তবে) আন্তর্জাতিক চাপের কারণে এগুলো ভেস্তে যেতে পারে। তিনি বলেন, ‘অনেক শর্ত আসছে এবং আমরা আলোচনা করছি। এসময় তিনি জানান, বিমান বাহিনীর সরঞ্জাম, গোলাবারুদ এবং প্রশিক্ষণের বিষয়ে ক্রেতারা আগ্রহ প্রকাশ করছেন।’ 


ক্রেতাদের ক্রমবর্ধমান তালিকা 

সূত্রগুলো জানায়ে, অস্ত্র কিনতে পাকিস্তানের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাওয়া দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে সুদান, সৌদি আরব, ইন্দোনেশিয়া, মরক্কো, ইথিওপিয়া এবং নাইজেরিয়া। এ ছাড়া, পূর্ব লিবিয়ার সরকারও আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। আবার জেএফ-১৭ এবং অন্যান্য অস্ত্রের বিষয়ে বাংলাদেশ ও ইরাকের সঙ্গে আলোচনার কথা পাকিস্তান সেনাবাহিনী প্রকাশ্যে স্বীকার করেছে। তবে, এই ব্যাপারে বিস্তারিত কোনো তথ্য জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়নি। 


প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম বিক্রি সম্পর্কে নিয়মিত খোঁজ-খবর রাখেন বিমান বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত এয়ার মার্শাল আসিম সুলেমান। তিনি বলেন, ‘ক্রেতা হিসেবে আফ্রিকার তিনটি দেশও আছে। এই সংক্রান্ত রয়টার্সের পূর্বের প্রতিবেদনে লিবিয়ান ন্যাশনাল আর্মি এবং সুদানের চুক্তিগুলোর কথা বলা হয়েছিল। তবে ওই তিনটি দেশ ওই তালিকায় নেই।’ 


ক্রমবর্ধমান সরবরাহ ব্যবস্থা 

একটি বড় বাধা হবে পাকিস্তান জেএফ-১৭-এর উৎপাদন। এটি দেশটির অস্ত্র উৎপাদন কর্মসূচির মূল ভিত্তিতে পরিণত হয়েছে। সেই সঙ্গে তাদের প্রশিক্ষণ বিমান এবং ড্রোনের চাহিদাও রয়েছে। 


বিমান বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আসিম সুলেমান বলেন, ‘প্রধান কারখানার আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণের ফলে ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ পাকিস্তানের যুদ্ধবিমান উৎপাদনের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। এমনকি বর্তমানে বার্ষিক প্রায় ২০টি বিমান তৈরির সক্ষমতা থেকে তা দ্বিগুণ হতে পারে।’ 


বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রতিরক্ষা উৎপাদন বাড়ানোর ক্ষেত্রে দৃশ্যত বাধা খুব কম। তা ছাড়া, বেইজিংয়ের সমর্থনে পাকিস্তান বেশিরভাগ বাধা কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হবে। 


এ প্রসঙ্গে কিংস কলেজ লন্ডনের নিরাপত্তা অধ্যয়ন বিভাগের প্রভাষক আন্দ্রেয়াস ক্রিগ বলেন, ‘পাকিস্তান প্রতিরক্ষা সক্ষমতার ক্ষেত্রে একটি সহজলভ্য ও মধ্যম স্তরের সরবরাহকারী হিসেবে আরও প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠছে।’ 


তিনি বলেন, ‘তারা প্রশিক্ষণ দিতে পারে, পরামর্শক পাঠাতে পারে, যৌথ মহড়া চালাতে পারে, সামুদ্রিক কার্যক্রমে সহায়তা করতে পারে এবং সাশ্রয়ী মূল্যের বিভিন্ন সরঞ্জামের প্রস্তাব করতে পারে। নাজুক আফ্রিকান অংশীদারদের জন্য এই প্যাকেজ আকর্ষণীয় হতে পারে। আর এটি পশ্চিমা অস্ত্রে সক্ষমতা বৃদ্ধির চেয়ে দ্রুতও হয়। তা ছাড়া, রাজনৈতিকভাবে কম জটিল এবং অনেক ক্ষেত্রে সস্তা। প্রতিরক্ষা খাতে, বিশেষ করে ড্রোন নির্মাণে পারদর্শী বেসরকারি খাতের সঙ্গে অংশীদারত্বও এই প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করবে।’ 


রাওয়ালপিন্ডি শহরে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সদর দপ্তর অবস্থিত। এখানেই বেসরকারি কোম্পানি সিসভার্ভ অ্যারোস্পেস অবস্থিত। এই কারখানার কর্মীরা বছরে শত শত কামিকাজ এবং পর্যবেক্ষণকারী ড্রোন তৈরি করেন এবং সেগুলো সামরিক বাহিনীকে সরবরাহ করে। 


চীনের অবস্থান 

স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের সিনিয়র অস্ত্র স্থানান্তর গবেষক সিমন ওয়েজম্যান বলেন, ‘জেএফ-১৭ বিক্রির বিষয়ে চলার আলোচনার কতগুলো বিষয় চূড়ান্ত চুক্তিতে রূপ নেবে তা স্পষ্ট নয়। নির্দিষ্ট কিছু গ্রাহকের কাছে বিক্রির বিষয়ে বেইজিং আপত্তি জানাতে পারে। যদিও মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকাজুড়ে এই বিমানের বাজারজাতকরণে পাকিস্তান চীনের স্বাভাবিক অংশীদার। তবে সুদান এবং লিবিয়ার সঙ্গে আলোচনাগুলো সত্যিই সমস্যাজনক।’ 


লিবিয়া এবং সুদানের দারফুর অঞ্চল জাতিসংঘের অস্ত্র নিষেধাজ্ঞার অধীনে রয়েছে। চীনের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখার পাশাপাশি পাকিস্তান মিত্র দেশ সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যকার উত্তেজনাও সামাল দিচ্ছে। 


ইসলামাবাদ রিয়াদের সঙ্গে একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। সৌদি আরব ও তুরস্ককে অন্তর্ভুক্ত করে আরেকটি প্রতিরক্ষা চুক্তির বিষয়ে আলোচনাও করছে দেশটি। যদিও এর বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। 




সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত

  • প্রকাশ : শনিবার ২৫ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১১:২৩ পিএম

উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও সংলগ্ন এলাকায় একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হওয়ায় দেশের চার সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত জারি করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এর প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর, উপকূলীয় এলাকা ও সমুদ্রবন্দরগুলোর ওপর দিয়ে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে। 


তবে আপাতত এই লঘুচাপ নিম্নচাপে রূপ নেওয়ার আশঙ্কা দেখছে না আবহাওয়া অধিদপ্তর।


আজ শনিবার আবহাওয়া অধিদপ্তরের সতর্কবার্তায় বলা হয়, উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ-উত্তর উড়িষ্যা উপকূলীয় এলাকায় লঘুচাপটি সৃষ্টি হয়েছে। এর প্রভাবে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।


আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ আফরোজা সুলতানা বলেন, বর্তমানে লঘুচাপটি নিম্নচাপে রূপ নেওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। এটি সর্বোচ্চ সুস্পষ্ট লঘুচাপে পরিণত হতে পারে। তাই, এর বড় ধরনের কোনো প্রভাব বাংলাদেশে পড়ার আশঙ্কা নেই। তবে তিনি বলেন, লঘুচাপের প্রভাবে দেশের দক্ষিণাঞ্চলে বৃষ্টিপাত কিছুটা বাড়তে পারে। এছাড়া ২৮ জুলাইয়ের পর উত্তরাঞ্চলেও বৃষ্টির প্রবণতা বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।


নিয়মিত আবহাওয়া বুলেটিনে অধিদপ্তর জানায়, মৌসুমি বায়ুর অক্ষের বর্ধিতাংশ ভারতের রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ, উত্তর প্রদেশ, বিহার, লঘুচাপের কেন্দ্রস্থল এবং বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর মোটামুটি সক্রিয় রয়েছে। 


অন্যদিকে উত্তর বঙ্গোপসাগরের অন্যান্য এলাকায় মৌসুমি বায়ু প্রবল অবস্থায় বিরাজ করছে।


আবহাওয়াবিদেরা বলছেন, বর্ষা মৌসুমে বঙ্গোপসাগরে এ ধরনের লঘুচাপ সৃষ্টি স্বাভাবিক ঘটনা। তবে এর অবস্থান ও গতিপ্রকৃতির ওপর নির্ভর করে বৃষ্টিপাত, দমকা হাওয়া এবং সমুদ্রের পরিস্থিতির পরিবর্তন হতে পারে। তাই, উপকূলীয় এলাকায় বসবাসকারী মানুষ এবং সমুদ্রে থাকা জেলেদের সর্বশেষ আবহাওয়া বার্তা অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।


পে-স্কেল বাস্তবায়ন

  • প্রকাশ : শনিবার ২৫ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১০:৫৮ পিএম

পে স্কেল কার্যকরে এখন শুধু অপেক্ষা গেজেটের। তবে গেজেট যখনই হোক না কেন সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য ৯ম জাতীয় পে-স্কেল নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী বাস্তবায়ন হবে। 


জাতীয় বেতন কমিশন-২০২৫ এর সুপারিশ পর্যালোচনার জন্য গঠিত কমিটি চলতি মাসের মধ্যেই তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদন সরকারের কাছে জমা দিবে। এরপর প্রস্তাবটি অনুমোদনের জন্য মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হবে।


অর্থ মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, সব ধরনের প্রশাসনিক ও নীতিগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে আগামী আগস্টের মধ্যেই নতুন পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ করা হবে। তবে নতুন বেতনকাঠামোর আর্থিক কার্যকারিতা গণনা করা হবে ১ জুলাই থেকে। অর্থাৎ গেজেট পরে প্রকাশ পেলেও সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ১ জুলাই থেকেই নতুন বেতনের সুবিধা পাবেন।


সূত্রের তথ্য বলছে, নতুন পে-স্কেল একবারে কার্যকর করা হবে, নাকি ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে-সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে মন্ত্রিসভা। বিষয়টি নিয়ে সরকারের উচ্চপর্যায়ে আলোচনা চলছে।


সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, এবার শুধু মূল বেতন বৃদ্ধি নয়; সরকারি চাকরিজীবীদের বিভিন্ন ভাতা ও সুযোগ-সুবিধার ক্ষেত্রেও বড় ধরনের পরিবর্তনের পরিকল্পনা রয়েছে। বাড়িভাড়া, চিকিৎসা, শিক্ষা ও যাতায়াত ভাতাসহ বিভিন্ন সুবিধা বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পুনর্বিন্যাস করা হচ্ছে। 


নাম অপ্রকাশিত রাখার শর্তে সরকারের শীর্ষ এক কর্মকর্তা জানান, ‘পে-স্কেল বাস্তবায়ন যথা সময়েই হবে। জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে বিষয়টি ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। গেজেট জারিসহ অন্যান্য বিষয় কার্যকর হতে কিছুটা সময় লাগলেও পে-স্কেল বাস্তবায়ন হবে।’


এ বিষয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ গণমাধ্যমকে বলেন, ‘নতুন পে স্কেল দেওয়ার তো সিদ্ধান্ত হয়েছে। এটা আমরা গ্রহণ করেছি এবং এটার বাস্তবায়ন করা হবে। দেশে বর্তমান আর্থিক প্রেক্ষাপটের কঠিন সময় আমরা অতিক্রম করছি। এটাকে মাথায় নিয়ে পে স্কেল ক্রমান্বয়ে বাস্তবায়ন করা হবে।’


সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বাড়াতে সাবেক সচিব জাকির হোসেনের নেতৃত্বে নবম পে কমিশন গঠন করে অন্তর্বর্তী সরকার। প্রায় ছয় মাসের পর্যালোচনার পর প্রতিবেদন জমা দেয় ২১ সদস্যের কমিটি। যেখানে কর্মচারীদের বেতন ১০০ থেকে ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির সুপারিশ করা হয়। সব প্রক্রিয়া শেষ হলে আগস্টে গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে ৯ম পে-স্কেল বাস্তবায়নের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হবে।


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শনিবার ২৫ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৯:৪৫ পিএম

আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর পরিত্যক্ত হয়ে থাকা শেখ হাসিনার ধানমন্ডির বাসভবন সুধা সদন থেকে এক যুবকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ শনিবার সকাল ১১টার দিকে ধানমন্ডির ৫ নম্বর রোডের ওই বাড়ি থেকে লাশ উদ্ধারের তথ্য দিয়েছেন ধানমন্ডি থানার এসআই ওয়াদুজ্জামান।


মো. শাকিল নামে ২০ বছরের ওই যুবকের বাসা মোহাম্মদপুরে হলেও তিনি থাকতেন ধানমন্ডির জিগাতলার শিবপুর টালি অফিস এলাকায়।


এসআই ওয়াদুজ্জামান বলেন, “আমরা স্থানীয়দের মাধ্যমে জানতে পারি সুধা সদনের একটি পরিত্যক্ত কক্ষে অজ্ঞাত এক যুবক গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় ঝুলে আছে৷ পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করি।”


আঙুলের ছাপ শনাক্তের মাধ্যমে তার পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার কথা বলছে পুলিশ।


মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বিকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। রমনা বিভাগের উপ কমিশনার জাহিদুল ইসলাম বলেন, “রিকশাচালক এই যুবক মাদকাসক্ত ছিলেন। কিছুদিন আগে স্ত্রী চলে গেছে। বাবা-মায়ের সাথে দীর্ঘদিন সম্পর্ক নেই। এসব নানা কারণে তিনি হতাশায় ভুগছিলেন। এই হতাশা থেকেই সে গত রাতে বাসাটি ফাঁকা পেয়ে আত্মহত্যা করে বলে আমরা ধারণা করছি।”


শেখ হাসিনার স্বামী পরমাণু বিজ্ঞানী এম এ ওয়াজেদ মিয়ার ডাকনাম সুধা মিয়া। সেই হিসেবে বাড়িটির নামকরণ করা হয়েছিল সুধা সদন। বাড়িটি একসময় আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত কার্যালয় হয়ে উঠেছিল। সেখানে নেতাকর্মীরা নিয়মিত আসা যাওয়া করতেন।


২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতন হলে শেখ হাসিনার ধানমন্ডির ওই বাড়িতে কয়েকদফা হামলা-ভাঙচুর ও আগুন দেওয়া হয়। এরপর থেকে বাড়িটি পরিত্যক্ত। সেখানে এখন ভবঘুরেদের যাতায়াত।


প্রতীকী ছবি

  • প্রকাশ : শনিবার ২৫ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৬:২২ পিএম

দেশজুড়ে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৬ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এতে গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হাম ও এর উপসর্গে প্রাণহানি ৮১৬ জনে দাঁড়িয়েছে। এ ছাড়াও গত একদিনে নতুন করে আরও ৬৯১ জনের শরীরে হাম ও এর উপসর্গ দেখা গেছে। আজ শনিবার (২৫ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।


স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত একদিনে হামের উপসর্গ নিয়ে ঢাকা বিভাগেই ৬ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সবমিলিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে শনিবার পর্যন্ত সারা দেশে হাম ও উপসর্গে মোট ৮১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে হামের উপসর্গে ৭২১ জন ও হামে আক্রান্ত হয়ে ৯৫ জনের মৃত্যু হয়েছে।


এদিকে সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৭৮ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে। পাশাপাশি এই সময়ে আরও ৬১৩ জনের মধ্যে রোগটির উপসর্গ দেখা গেছে। 


এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে শনিবার পর্যন্ত মোট ১ লাখ ২২ হাজার ৭৬৩ জনের শরীরে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। সেই সঙ্গে এই সময়ে মোট ১৫ হাজার ২৭২ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে।


স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে শনিবার পর্যন্ত সারা দেশে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে মোট ১ লাখ ৫ হাজার ২৯৮ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে এ পর্যন্ত সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ১ লাখ ১ হাজার ৫৩৫ জন ছাড়পত্র পেয়েছেন।


ডেঙ্গুতে আক্রান্ত আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে

  • প্রকাশ : শনিবার ২৫ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৬:১০ পিএম

দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি উদ্বেগজনকই রয়ে গেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছর এডিসবাহিত এই রোগে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪০ জনে। আজ শনিবার (২৫ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদফতরের পাঠানো ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।


বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে নতুন করে ৪৩৯ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে বরিশাল বিভাগে ৮৩ জন, ঢাকা বিভাগের (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ৭৭ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৭৫ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ৪৬ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ৪১ জন, খুলনা বিভাগে ৪১ জন, রংপুর বিভাগে ৩০ জন, রাজশাহী বিভাগে ২৬ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ১৯ জন এবং সিলেট বিভাগে একজন রোগী ভর্তি হয়েছেন।


স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত দেশে মোট ১২ হাজার ৬৪০ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন। আক্রান্তদের মধ্যে ৬১ দশমিক ৪ শতাংশ পুরুষ এবং ৩৮ দশমিক ৬ শতাংশ নারী। 


এদিকে, একই সময়ে ডেঙ্গু থেকে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ১১ হাজার ৪৯৭ জন।


প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

  • প্রকাশ : শনিবার ২৫ জুলাই, ২০২৬, সময় : ২:৪২ পিএম

সব বাধা অতিক্রম করে দেশকে এগিয়ে নিতে চায় সরকার বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার (২৫ জুলাই) সকালে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে নভো থিয়েটারে দুই দিনব্যাপী ন্যাশনাল সেমিকন্ডাক্টর সিম্পোজিয়াম অ্যান্ড বিইএআর সামিটের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। এ সময় তিনি স্বনির্ভর ও প্রযুক্তিনির্ভর বাংলাদেশ গড়ারও আশাবাদ ব্যক্ত করেন। 


প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে ইতোমধ্যেই সেমিকন্ডাক্টর ডিজাইন ভেরিফিকেশন ট্রেনিং এমবেডেড সিস্টেম পাওয়ার ইলেকট্রনিক্স এবং অ্যাডভান্স প্যাকেজিং— এসব ক্ষেত্রে কাজ শুরু হয়েছে। দেশের বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক বাজারেও প্রবেশ করেছেন। সেমিকন্ডাক্টর খাতকে একটি জাতীয় অগ্রাধিকারভিত্তিক খাত হিসেবে আমরা বিবেচনা করছি। এই খাতের উন্নয়নে খুব সম্ভবত একক কোনো মন্ত্রণালয় বা প্রতিষ্ঠানের কাজ নয়, এটা একটা সম্মিলিত জাতীয় মিশন।  


তিনি আরও বলেন, আমরা চেষ্টা করেছি এই সেক্টরকে কীভাবে সামনে এগিয়ে নেয়া যায়, তার জন্য আমরা কতগুলো পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি; বিশেষ করে এই বাজেটে সেমিকন্ডাক্ট শিল্প তৈরির সব কাঁচামালের ওপরে সব ধরনের ট্যাক্স বা শুল্ক প্রত্যাহার করা হয়েছে। সেমিকন্ডাক্টর ডিজাইন সার্ভিসের রপ্তানি আয়ের ওপরে নগদ ইনসেন্টিভ বা প্রণোদনা চালুর উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে নতুন উদ্যোক্তা উদ্ভাবন বাস্তবায়নের জন্য সরকার প্রথমবারের মতো বছরে ৫০০ কোটি টাকার স্টার্টআপ অনুদানও রেখেছে।  


প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার ইতোমধ্যে সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের জন্য ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে সর্বাত্মক পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কাজ শুরু করেছে। বিনিয়োগবান্ধব নীতি কর সুবিধা, বন্ডের সুবিধা প্রদান এবং বিশেষায়িত অবকাঠামো নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিনিয়ত চেষ্টা করছে।


বাংলাদেশ সেমিকন্ডাক্টর ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশন (বিএসআইএ) এবং সিলিকন রিভার বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ সামিটে নীতিনির্ধারক, শিল্পপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, গবেষক, উদ্যোক্তা, বিনিয়োগকারী ও প্রবাসী বাংলাদেশি বিশেষজ্ঞরা অংশ নেবেন। দুদিনে ১১টি প্লেনারি সেশন, সাতটি কৌশলগত প্যানেল আলোচনা এবং প্রযুক্তি প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হবে।


সামিটে টেক্সাস ইনস্ট্রুমেন্টসের চিফ টেকনোলজি অফিসার ড. আহমেদ বাহাই, পারডু বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক দিমিত্রিওস পেরুলিসসহ আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা বক্তব্য দেবেন। এ ছাড়া গ্লোবালফাউন্ড্রিজ, এনএক্সপি, অ্যাপলাইড ম্যাটেরিয়ালস, স্যান্ডিস্ক, ক্রেডো এবং ভিয়েতনাম সেমিকন্ডাক্টর অ্যালায়েন্সের প্রতিনিধিরাও অংশ নেবেন।


সামিটের পাশাপাশি ‘বিইএআর ইনোভেশন এক্সপো ২০২৬’ অনুষ্ঠিত হবে। এতে শিক্ষার্থী ও স্টার্ট-আপ উদ্যোক্তাদের উদ্ভাবিত সেমিকন্ডাক্টর, এআই, রোবোটিক্স, স্বাস্থ্যপ্রযুক্তি ও অন্যান্য ডিপ-টেক খাতের উদ্ভাবন ৩৫টি স্টলে প্রদর্শন করা হবে।