ছবি: সংগৃহীত
সিন্ডিকেটের নির্যাতনে ব্যবসা বন্ধ করে বিদেশ চলে যাচ্ছেন নবীন পাঞ্জাবির ব্যবস্থাপনা পরিচালক হাফেজ এনামুল হাসান নবীন। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) রাতে তিনি নিজেই ফেসবুকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
পোস্টে এনামুল হাসান নবীন লিখেছেন, ‘সিংহের মতো বাঁচতে চাই। কিন্তু সিন্ডিকেটের গুলিতে সন্তানদের এতিম করতে চাই না। তাই দেশ ছেড়ে চলে যাচ্ছি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে হয়তো একদিন দেশে ফিরব ইনশাআল্লাহ।’ তবে, কোন দেশে যাচ্ছেন সে বিষয়ে কিছু বলেননি তিনি।
এর আগে এদিন বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে এনামুল নবীন বলেন, আমাদের মূল্য নির্ধারণ করে দেওয়া হয় যে, ৪ হাজার ৫০০ টাকার নিচে পাঞ্জাবি বিক্রি করা যাবে না আর ১ হাজার ৫০০ টাকার নিচে পাজামা বিক্রি করা যাবে না। তারা এই সিন্ডিকেট সবসময় নিয়ন্ত্রণ করে আসছে। তবে আমাদের লক্ষ্য গ্রাহকের কাছে ন্যায্যমূল্যে পণ্য বিক্রি করা। এর কারণে যদি আমাদের বাধার সম্মুখীন হতে হয় তাহলে আমরা ব্যবসা বন্ধ করে দেব। আমি আবার প্রবাসে ফিরে যাব। আমার মনে হয় বাংলাদেশে ব্যবসা করা হবে না।
তিনি বলেন, আমাদের ফোন দিয়ে ভয় দেখানো হচ্ছে যে, সব শোরুম বন্ধ করে দেব যদি ভিডিও ডিলিট না করো। আমরা তো ভিডিও করিনি, আমাদের এক গ্রাহক ভিডিও করে ফেসবুকে দিয়েছে, সেখান থেকে সংবাদকর্মীরা ভিডিওগুলো নিয়েছে। এই প্রতিষ্ঠানের আয়-ব্যয় সম্পূর্ণ গরিব, দুঃখী, অসহায়দের মাঝে আমরা বিতরণ করে থাকি। ব্যবসার লাভ্যাংশ দিয়ে আমরা গরিব, দুঃখী, অসহায়দের খাবার বিতরণ করে থাকি। তাদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করে থাকি। তারপর থেকে আমরা সবসময় মিডিয়ার আড়ালেই থেকেছি। কখনোই সামনে আসিনি।
নবীনের মালিক আরও বলেন, আমরা ৩০০ টাকায় পাঞ্জাবি ও পাজামা বিক্রি করি। এ ছাড়া আমাদের বিভিন্ন মূল্যের প্রোডাক্ট আছে যেটা বাজার মূল্যের চেয়ে অনেক কম। কারণ আমাদের প্রোডাকশন কস্ট কম। আমাদের কোম্পানিতে প্রতিবন্ধী, তৃতীয় লিঙ্গ, আগে মাদকাসক্ত ছিলেন এখন ভালো হয়ে গেছেন এমন লোক এখানে কাজ করেন।
তিনি বলেন, আমরা অনেক বাধা উপেক্ষা করে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছি। আমাদের সরকার সহযোগিতা করবে এই প্রত্যাশা আমরা সবসময় করি, কিন্তু আমাদের মতো ব্যবসায়ীরা কখনই সরকারের কাছ থেকে কোনো সহযোগিতা পায়নি। সহযোগিতা পায় সিন্ডিকেটরা, বড় বড় ব্যবসায়ীরা, যারা বড় অঙ্কের লোন নেয় ব্যাংক থেকে, নিয়ে ঋণখেলাপি হয়। আমরা জনগণের জন্য যদি কিছু করতে চাই সেক্ষেত্রে আমাদের একটা ভয়-ভীতি দেখানো হয়।
ব্যবসা বন্ধ করে বিদেশ চলে যাচ্ছেন ‘নবীন ফ্যাশন’ এর মালিক
এ সময় সিন্ডিকেটের নির্যাতনে ব্যবসা বন্ধ করে বিদেশ চলে যাওয়ার ঘোষণা দেন এনামুল হাসান নবীন।
ঈদুল ফিতরের আগের দিন গত ২০ মার্চ কম দামে পাঞ্জাবি বিক্রি করায় আশপাশের ব্যবসায়ীরা পুলিশের সহায়তায় জোরপূর্বক রাজধানীর মগবাজারে ‘নবীন ফ্যাশন’-এর দোকান বন্ধ করে দেয়। কমদামে পণ্য বিক্রিকে ‘রিলিফ দেওয়ার’ সঙ্গে তুলনা করে আপত্তি জানান প্রতিবেশী দোকানদাররা।
আদ্-দ্বীন হাসপাতাল
রাজধানীর বড় মগবাজারে অবস্থিত আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের আদেশ প্রত্যাহার করেছে সরকার। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন সন্তোষজনক বিবেচনা করে শর্তসাপেক্ষে হাসপাতালটিকে পুনরায় কার্যক্রম পরিচালনার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। আজ সোমবার স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের জারি করা এক আদেশে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
আদেশে বলা হয়, হাসপাতালটিতে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাখিল করা আপিল ও এর বিস্তারিত বিবরণ পর্যালোচনার জন্য গঠিত তদন্ত কমিটিকে সরেজমিনে পরিদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তদন্ত শেষে কমিটির দাখিল করা প্রতিবেদন সন্তোষজনক হওয়ায় লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করা হয়েছে।
তবে হাসপাতালটির কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে কয়েকটি শর্ত আরোপ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে- দ্য মেডিকেল প্রাকটিস অ্যান্ড প্রাইভেট ক্লিনিক অ্যান্ড ল্যাবরেটরিস (রেগুলেশন) অর্ডিন্যান্স, ১৯৮২- এর বিধান যথাযথভাবে অনুসরণ করা, লাইসেন্সের শর্ত অনুযায়ী দ্রুত প্রয়োজনীয় ডিউটি চিকিৎসক ও নার্স নিয়োগ সম্পন্ন করা এবং ভবিষ্যতে লাইসেন্সের শর্ত ভঙ্গ হলে সরকার আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারবে।
স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরীর সই করা আদেশে হাসপাতালের নির্বাহী পরিচালককে বিষয়টি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তর ও কর্মকর্তার কাছেও আদেশের অনুলিপি পাঠানো হয়েছে।
এর আগে হাসপাতালটিতে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়। ওই ঘটনার পর হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছিল। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আপিল করলে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সরকার পুনরায় কার্যক্রম পরিচালনার অনুমতি দেয়।
সিএনজি স্টেশন মালিকদের কর্মসূচি স্থগিত
গ্যাস সংকটের কারণে আগামী ৩০ জুলাই সিএনজি স্টেশন বন্ধ কর্মসূচি প্রত্যাহার করেছে স্টেশন মালিক সমিতি। ৩০ জুলাইয়ের কর্মসূচি প্রত্যাহার করলেও দাবি মানতে। এজন্য আগামী ২২ আগস্ট পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে। আজ সোমবার (২৭ জুলাই) রাজধানীর বিজয়নগরের আকরাম টাওয়ারে সংবাদ সম্মেলনে কর্মসূচি প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা।
সমিতির পক্ষ থেকে বলা হয়, দেশজুড়ে গ্যাস সংকটের কারণে তারা কর্মসূচি প্রত্যাহার করেছেন। দাবি না মানলে আগামী ২৩ আগস্ট থেকে দেশজুড়ে অনির্দিষ্টকালের জন্য সিএনজি ফিলিং স্টেশন বন্ধের সিদ্ধান্ত বহাল থাকবে বলেও জানান সমিতির নেতারা।
সংগঠনটির চার দফা দাবির মধ্যে রয়েছে, প্রতি ঘনমিটার সিএনজি বিক্রিতে কমিশন ৮ টাকা থেকে বাড়িয়ে অন্তত ১৩ টাকা ৯৬ পয়সা নির্ধারণ, ভবিষ্যতে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি পেলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে কমিশন সমন্বয়ের ব্যবস্থা চালু করা, গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির কারণে পুরোনো গ্রাহকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত জামানত নেওয়ার প্রথা বাতিল এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগের ভূমি ইজারাসহ বিভিন্ন সরকারি সংস্থার লাইসেন্স ও নবায়ন ফি যৌক্তিক পর্যায়ে নামিয়ে আনা।
এর আগে কমিশন বৃদ্ধিসহ ৪ দাবিতে আগামী ৩০ জুলাই সারা দেশের সব সিএনজি স্টেশন বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছিল বাংলাদেশ সিএনজি ফিলিং স্টেশন অ্যান্ড কনভার্শন ওয়ার্কশপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন।
সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত
আগামী সপ্তাহে গ্যাস সংকট পরিস্থিতির উন্নতি হবে। পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে আরও এক সপ্তাহ সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। সোমবার (২৭ জুলাই) সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রতিমন্ত্রী এ কথা জানান।
সরকারের পক্ষ থেকে গ্যাস সংকট পরিস্থিতি উত্তরণে সব প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে দাবি করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা জানি বাসা-বাড়িতে মা-বোনেরা, গৃহিণীরা সংসারের রান্নার কাজে প্রতিদিন চ্যালেঞ্জ অনুভব করছেন। ইন্ডাস্ট্রিগুলোর প্রোডাকশন কম্প্রোমাইজড হয়েছে। এই কারণে আমরা আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি জনগণের কাছে।
তিনি বলেন, বলতে কোনো দ্বিধা নেই এটা সরকারি কোনো প্রতিষ্ঠানের ত্রুটি নয়। একটা বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। কিন্তু, স্টিল তারা দেশের এই সাপ্লাইটা এনসিওর করে। আমরা তাদের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করছি। আমরা এই মুহূর্তে তাৎক্ষণিক সমাধান দিতে পারছি না, এটা আমাদের সীমাবদ্ধতা। আমরা এজন্য বারবার দুঃখপ্রকাশ করছি। কিন্তু, একেবারে ২৪/৭ আমাদের টিম তাদের সঙ্গে একান্তভাবে কাজ করছে। আমরা যেটা বললাম, আশা করছি আগামী সপ্তাহ থেকে পরিস্থিতির উন্নয়ন হবে ইনশাআল্লাহ।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, টোটাল সাপ্লাইটা (ত্রুটি দেখা দেওয়া ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল বা এফএসআরইউ থেকে) ৫০০-৫৫০ এর মতো, আমরা আশা করছি আগামী সপ্তাহ থেকে ২৮০-৩০০ তারা ন্যাশনাল গ্রিডে, অর্থাৎ ২৮০-৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট পার ডে তারা ন্যাশনাল গ্রিডে সাপ্লাই দিতে সমর্থ হবে। এটা তাদের স্টেটমেন্ট অনুযায়ী বলছি। এটা আমাদের নয়, তাদের তথ্যের ভিত্তিতে।
অনিন্দ্য ইসলাম বলেন, আগামী সপ্তাহে ৫০ শতাংশ সরবরাহ চালু করতে পারলে পরের সপ্তাহে ১০০ শতাংশ করতে পারবে। এটাই এখন পর্যন্ত প্ল্যানিং আছে।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী জানান, দেশে বর্তমানে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট। এর বিপরীতে দেশীয় উৎপাদন ও আমদানিকৃত এলএনজি মিলিয়ে দৈনিক প্রায় ২ হাজার ৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হয়। এর মধ্যে দেশীয় উৎপাদন ১ হাজার ৬০০ থেকে ১ হাজার ৬৫০ মিলিয়ন ঘনফুট এবং আমদানিকৃত এলএনজি থেকে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যোগ হয়।
তিনি বলেন, আমদানিকৃত এলএনজি দুটি ভাসমান টার্মিনাল (এফএসআরইউ) দিয়ে রি-গ্যাসিফাই করে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হয়। গত সপ্তাহে এক্সিলারেট এনার্জি পরিচালিত একটি এফএসআরইউতে বড় ধরনের কারিগরি ত্রুটি দেখা দেওয়ায় সেখান থেকে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। ফলে আমদানিকৃত এলএনজি থেকে গ্যাস সরবরাহ প্রায় ৫০ শতাংশ কমে গেছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রথমে ধারণা করা হয়েছিল ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সমস্যার সমাধান হবে। পরে ৪৮ ঘণ্টা পার হলেও সমাধান না হওয়ায় আয়ারল্যান্ড, যুক্তরাজ্য ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে বিশেষজ্ঞ আনা হয়েছে। পেট্রোবাংলা, আরপিজিসিএল ও জ্বালানি বিভাগের কর্মকর্তারা সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন এবং এক্সিলারেট এনার্জির বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক কারিগরি বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছেন।
বিদেশ থেকে প্রয়োজনীয় স্পেয়ার পার্টস আনা হচ্ছে। এগুলো এয়ার ফ্রেইটে আনা হলে দ্রুততম সময়ের মধ্যে কাস্টম ছাড়পত্র দিয়ে মেরামত কাজে ব্যবহার নিশ্চিত করা হবে বলেও জানান অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।
প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে এফএসআরইউতে একটি বয়লার বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আরও কিছু যন্ত্রাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকতে পারে। তিনি বলেন, ওই সময় কাছাকাছি একটি এলএনজি কার্গো থাকলেও দ্রুত সেটি সরিয়ে নেওয়ায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
তিনি আরও জানান, এলএনজি দীর্ঘ সময় মজুত করে রাখা হয় না। জাহাজে করে এলএনজি আসে এবং এফএসআরইউতে তা গ্যাসে রূপান্তর করে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হয়। একটি টার্মিনাল অচল থাকায় কার্গোর সময়সূচিতে কিছু পরিবর্তন আনতে হয়েছে। তবে সামিট পরিচালিত অন্য এফএসআরইউ স্বাভাবিকভাবে কাজ করছে।
স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা
জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী জানান, শুধু বর্তমান সংকট মোকাবিলা নয়, ভবিষ্যতের জ্বালানি নিরাপত্তার জন্যও সরকার একাধিক বিকল্প নিয়ে কাজ করছে। স্বল্পমেয়াদে ভোলার উদ্বৃত্ত গ্যাস ব্যবহার এবং মালয়েশিয়া থেকে আইএসও ট্যাংকের মাধ্যমে এলএনজি আমদানির পরিকল্পনা রয়েছে। মধ্যমেয়াদে তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম এফএসআরইউ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। আর দীর্ঘমেয়াদে স্থলভিত্তিক এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি বলেন, বর্তমানে রি-গ্যাসিফিকেশন সক্ষমতা সীমিত হওয়ায় প্রয়োজন থাকলেও অতিরিক্ত এলএনজি আমদানি করা সম্ভব হচ্ছে না। নতুন টার্মিনাল স্থাপন করা গেলে সরবরাহ বাড়ানো যাবে।
অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জানান, ভোলার স্থানীয় চাহিদা, শিল্প ও বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রয়োজন মেটানোর পর যদি উদ্বৃত্ত গ্যাস থাকে, তাহলে তা মূল ভূখণ্ডে আনার পরিকল্পনা রয়েছে। এজন্য সম্ভাব্যতা যাচাই চলছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও জনগণের সঙ্গে আলোচনা শেষে সবকিছু অনুকূলে থাকলে প্রায় এক বছরের মধ্যে সেই গ্যাস শিল্পকারখানা বা বিদ্যুৎকেন্দ্রে সরবরাহ করা সম্ভব হতে পারে।
প্রতিমন্ত্রী জানান, দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বাড়াতে অফশোর বিডিং রাউন্ড চালু করা হয়েছে এবং আন্তর্জাতিক তেল-গ্যাস কোম্পানিগুলো এতে আগ্রহ দেখাচ্ছে। আগামী নভেম্বরে বিড জমা দেওয়ার শেষ সময়।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভবিষ্যতে দেশীয় গ্যাস উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।
প্রতীকী ছবি
দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে ৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে এ সময়ে নিশ্চিত হামে কারও মৃত্যু হয়নি। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে দেশে হাম ও হামের উপসর্গে এখন পর্যন্ত মোট মৃত্যু বেড়ে হয়েছে ৮২৫।
আজ সোমবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়। এই হিসাব রোববার সকাল ৮টা থেকে আজ সকাল ৮টা পর্যন্ত।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর দেশে নিশ্চিত হামে ৯৫ জন ও হামের উপসর্গ নিয়ে ৭৩০ জন মারা গেছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে ঢাকা বিভাগে ৩ জন এবং সিলেট ও রংপুর বিভাগে একজন করে মারা গেছে। একই সময়ে নিশ্চিত হামের সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে ১১৩ জনের। এ বছর নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছে ১৫ হাজার ৫৫৫ জন।
এছাড়া ২৪ ঘণ্টায় ৯৯২ জনের শরীরে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। এতে করে মোট সন্দেহভাজন সংক্রমণের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক লাখ ২৪ হাজার ৭৪৫ জনে।
ছবি : সংগৃহীত
সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামোর (পে স্কেল) ঘোষণা পিছিয়ে যাচ্ছে। আগামী মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহের মধ্যে গেজেট প্রকাশের যে প্রাথমিক পরিকল্পনা ছিল, তা আপাতত বাস্তবায়ন হচ্ছে না। গতকাল রোববার সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে প্রায় পাঁচ ঘণ্টাব্যাপী বৈঠকে নতুন পে স্কেলের আর্থিক প্রভাব, সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং সরকারের রাজস্ব সক্ষমতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এ সময় প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি আরও পর্যালোচনার নির্দেশ দেন।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার অংশ হিসেবে আইএমএফ আর্থিক চাপের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে অন্তত দুই বছর নতুন পে স্কেল বাস্তবায়ন স্থগিত রাখার পরামর্শ দিয়েছে। সম্প্রতি আইএমএফের একটি প্রতিনিধি দল ঢাকা সফরকালে অর্থ বিভাগের সঙ্গে বৈঠকে এ সুপারিশ করে। সরকারের নীতিনির্ধারকরা এ পরামর্শ গ্রহণে আগ্রহী নন। তবে বেতন কাঠামো ঘোষণা করতে একটু দেরি হবে। আগামী অক্টোবরে আইএমএফের বার্ষিক সভার আগে নতুন পে স্কেলের গেজেট জারি হবে।
গতকালের বৈঠকে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, অর্থ সচিব ড. খায়েরুজ্জামান মজুমদার, পে স্কেল-সংক্রান্ত ফোকাল কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সেখানে অর্থমন্ত্রী নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের সম্ভাবনা, আর্থিক চাপ ও সীমাবদ্ধতার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। পরে প্রধানমন্ত্রী সার্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রস্তাবটি আরও বিশদভাবে পর্যালোচনার নির্দেশ দেন।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র সমকালকে জানায়, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের পর মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বাধীন সচিব কমিটিকে আরও অন্তত দুই থেকে তিনটি বৈঠক করতে হবে। এ প্রক্রিয়া শেষ করতে প্রায় তিন মাস সময় লাগতে পারে। তবে দ্রুত কাজ শেষ করারও চেষ্টা থাকবে। কমিটির সুপারিশ প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপনের পর মন্ত্রিসভার অনুমোদন সাপেক্ষে অর্থ বিভাগ গেজেট প্রকাশ করবে। সরকারের বর্তমান পরিকল্পনা অনুযায়ী নতুন পে কমিশনের সুপারিশ ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হতে পারে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে মন্ত্রিসভা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, বৈঠকে নতুন পে স্কেলের আর্থিক প্রভাব, বাজেট ব্যবস্থাপনা, রাজস্ব আহরণের সক্ষমতা এবং সামষ্টিক অর্থনীতির বর্তমান পরিস্থিতি গুরুত্ব পেয়েছে। পাশাপাশি আইএমএফের আপত্তি ও পর্যবেক্ষণ নিয়েও আলোচনা হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিরতায় জ্বালানির আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কা, দেশে গ্যাস সরবরাহের চাপ এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যে বড় অঙ্কের অতিরিক্ত ব্যয় কতটা যৌক্তিক হবে, সে বিষয়ও পুনর্মূল্যায়নের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
জানা গেছে, আইএমএফ চাইছে বিষয়টি অন্তত অক্টোবর পর্যন্ত ঝুলিয়ে রাখা হোক। এতে থাইল্যান্ডে অনুষ্ঠিতব্য আইএমএফের বার্ষিক সভায় নতুন ঋণ কর্মসূচির আলোচনার সময় পে স্কেলের আর্থিক প্রভাব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা সম্ভব হবে। পরে নভেম্বরে সংস্থাটির আরেকটি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ সফর করে নতুন ঋণ কর্মসূচি ও পে স্কেল বিষয়ে আরও বিস্তারিত আলোচনা করতে পারে।
সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য সর্বশেষ জাতীয় বেতন স্কেল ঘোষণা করা হয়েছিল ২০১৫ সালে। এরপর প্রতিবছর মূল বেতনের ৫ শতাংশ বার্ষিক বৃদ্ধি এবং কয়েক দফা বিশেষ ইনক্রিমেন্ট দেওয়া হলেও নতুন জাতীয় পে স্কেল ঘোষণা হয়নি। ফলে দীর্ঘদিন ধরে নতুন বেতন কাঠামোর অপেক্ষায় রয়েছেন সরকারি কর্মচারীরা।
২০২৫ সালে অন্তর্বর্তী সরকার সাবেক অর্থ সচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বে জাতীয় বেতন কমিশন-২০২৫ গঠন করে। কমিশন চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি সরকারের কাছে প্রতিবেদন জমা দেয়। প্রতিবেদনে সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়।
কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী সর্বনিম্ন মূল বেতন বর্তমান আট হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে এক লাখ ৬০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়। পাশাপাশি বৈশাখী ভাতার হার ২০ শতাংশ থেকে ৫০ শতাংশে উন্নীত করা, ১০ম থেকে ২০তম গ্রেড পর্যন্ত যাতায়াত ভাতার কাঠামোয় পরিবর্তন আনা এবং অন্যান্য ভাতা পুনর্বিন্যাসের সুপারিশ করা হয়।
কমিশনের হিসাব অনুযায়ী এসব সুপারিশ বাস্তবায়নে সরকারের অতিরিক্ত প্রায় এক লাখ ছয় হাজার কোটি টাকা ব্যয় হবে। তবে সচিব কমিটি কমিশনের সুপারিশ পর্যালোচনা করে কিছু কাটছাঁটসহ একটি সংশোধিত প্রস্তাব অর্থ মন্ত্রণালয়ে জমা দিয়েছে, যা প্রধানমন্ত্রীর সামনে উপস্থাপন করা হয়েছে।
বেতন কমিশনের সুপারিশ, বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস পে কমিশন-২০২৫ এবং সশস্ত্র বাহিনী বেতন কমিটি-২০২৫-এর প্রতিবেদন পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য গত ২১ এপ্রিল মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বে ১০ সদস্যের একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়। সচিব কমিটি তিনটি প্রতিবেদনের আর্থিক ও প্রশাসনিক প্রভাব বিশ্লেষণ করে সরকারের পরবর্তী সিদ্ধান্তের জন্য সুপারিশ করবে।
চলতি অর্থবছরের বাজেট বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী জুলাই থেকে ধাপে ধাপে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের ঘোষণা দেন। এ জন্য ‘জনপ্রশাসন-নিট’ খাতে চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের তুলনায় ৫৪ হাজার ৫৭২ কোটি টাকা বেশি বরাদ্দ রাখা হয়েছে। অতিরিক্ত অর্থের অন্তত ৪৪ হাজার কোটি টাকা রাখা হয়েছে মূলত সরকারি কর্মচারী, এমপিওভুক্ত শিক্ষক এবং পেনশনভোগীদের জন্য নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের জন্য। তাই গেজেট যখন প্রকাশ হোক, গত জুলাই থেকে নতুন বেতন পাবেন সরকারি চাকরিজীবীরা।
ছবি : সংগৃহীত
বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত গভীর নিম্নচাপের প্রভাবে বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় দমকা বা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
আবহাওয়ার বিশেষ বুলেটিনে বলা হয়েছে, উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও পাশের উড়িষ্যা-পশ্চিমবঙ্গ উপকূলীয় এলাকায় অবস্থানরত নিম্নচাপটি ঘণীভূত হয়ে একই এলাকায় গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে।
ঘূর্ণিবায়ুর ওই চক্র সোমবার সকাল ৯টায় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে প্রায় ৪২৫ কিলোমিটার পশ্চিম-দক্ষিণপশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৪৩০ কিলোমিটার পশ্চিমে, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ২০ কিলোমিটার পশ্চিম-দক্ষিণপশ্চিমে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ২৬০ কিলোমিটার পশ্চিম-দক্ষিণপশ্চিমে অবস্থান করছিল। সেই সময় গভীর নিম্নচাপ কেন্দ্রের ৪৮ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৫০ কিলোমিটার, যা দমকা বা ঝোড়ো হাওয়ার আকারে ঘণ্টায় ৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছিল।
নিম্নচাপ কেন্দ্রের কাছাকাছি এলাকায় সাগর উত্তাল রয়েছে। গভীর নিম্নচাপের প্রভাবে সমুদ্রবন্দর, উত্তর বঙ্গোপসাগর ও লাগোয়া বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকার উপর দিয়ে দমকা বা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।
এ কারণে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দকে আগের মতোই ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার সব নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।
দেশজুড়ে বৃষ্টির আভাস
আবহাওয়ার সকালের নিয়মিত বুলেটিনে বলা হয়েছে, গভীর নিম্নচাপটি সোমবার সন্ধ্যায় পশ্চিমবঙ্গ-উত্তর উড়িষ্যা উপকূল অতিক্রম করতে পারে। আর মৌসুমি বায়ুর অক্ষের বর্ধিতাংশ রাজস্থান, উত্তর প্রদেশ, বিহার, গভীর নিম্নচাপের কেন্দ্রস্থল ও বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে৷
মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের উপর সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে প্রবল অবস্থায় রয়েছে জানিয়ে বুলেটিনে বলা হয়েছে, এদিন সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের বেশিরভাগ জায়গায় এবং রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।
সেই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি থেকে অতি ভারি বৃষ্টি হতে পারে।