মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন (এমএসএফ)
দেশে মে মাসে বিভিন্ন ধরনের সন্ত্রাসের ঘটনায় ৩২ জন নিহত হয়েছেন। আগের মাস অর্থাৎ এপ্রিলে এ ধরনের ঘটনায় নিহত ব্যক্তির সংখ্যা ছিল ২১। চুরি, ধর্ষণচেষ্টা ও জমি বিরোধের কারণে এসব সহিংসতার সৃষ্টি হয়েছে। এ ছাড়া মে মাসে অজ্ঞাতনামা লাশ উদ্ধার হয়েছে ৫৩টি।
মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন (এমএসএফ) এই দুই মাসে দেশের মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা পর্যালোচনা করে আজ রোববার এ তথ্য জানিয়েছে। সংগঠনটি বলছে, দেশে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা বেড়েছে, এই পরিসংখ্যান এমনটাই ইঙ্গিত করে। অভিযোগের ধরন দেখায় যে সামাজিক বিরোধগুলো ক্রমেই সহিংসতায় রূপ নিচ্ছে।
দেশের বিভিন্ন সংবাদপত্রে প্রকাশিত প্রতিবেদন এবং নিজস্ব অনুসন্ধানের ওপর ভিত্তি করে এ প্রতিবেদন তৈরি করে এমএসএফ।
সহিংসতায় হতাহত বেড়েছে
এমএসএফের তথ্য অনুযায়ী, মে মাসে ৬৯টি সন্ত্রাসের ঘটনা ঘটেছে। গরু চুরি, বাকবিতণ্ডা, ধর্ষণচেষ্টা, চাঁদাবাজি, জমির বিরোধ ও ডাকাতির অভিযোগে এসব সহিংসতা ঘটেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এসব ঘটনায় ৩২ জন নিহত ও ৭১ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। এপ্রিল মাসে এ ধরনের ঘটনায় ২১ জন নিহত এবং ৪৯ জন আহত হন। অর্থাৎ মে মাসে এ ধরনের সন্ত্রাসের শিকার হয়ে নিহত ও আহত ব্যক্তির সংখ্যা দুটোই বেড়েছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও সহিংসতার শিকার হচ্ছে উল্লেখ করে এমএসএফ উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা বলছে, এটি রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্বের দুর্বলতা নির্দেশ করে। তা ছাড়া ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বনলতা এক্সপ্রেস নামক সিনেমা প্রদর্শনেও বাধা দেওয়া হয়েছে, সেটিও একটি মব বটে।
৫৩টি অজ্ঞাতনামা মরদেহ উদ্ধার
মে মাসে ৫৩টি অজ্ঞাতনামা লাশ উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে এমএসএফ। তাদের তথ্যমতে, এপ্রিলের তুলনায় এ মাসে লাশ উদ্ধার কমলেও তা এখনো অনেক বেশি। এপ্রিলে লাশ উদ্ধার হয় ৫৬টি। নদী, সড়ক, রেললাইন, ফসলি জমি থেকে এসব লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, অজ্ঞাতনামা লাশ উদ্ধার সম্ভাব্য বিচারবহির্ভূত হত্যা, গুম বা অপরাধের অপ্রকাশিত মাত্রা নির্দেশ করে। এই সংখ্যা কার্যকর তদন্ত ও জবাবদিহির অভাব স্পষ্ট করে।
রাজনৈতিক সহিংসতা কমেছে
এমএসএফের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মে মাসে রাজনৈতিক সহিংসতায় আহতের সংখ্যা এপ্রিলের তুলনায় কমেছে। এপ্রিলে রাজনৈতিক সহিংসতায় ৩০৩ জন আহত হলেও মে মাসে হয়েছেন ১৯৩ জন। আর নিহত হয়েছেন ৩ জন।
সংগঠনটি বলছে, এই পরিসংখ্যান আংশিক ইতিবাচক হলেও এখনো উচ্চমাত্রায় সহিংসতা বিদ্যমান। বিএনপি, আওয়ামী লীগ, জামায়াতসহ বিভিন্ন দলের মধ্যে সংঘর্ষ এবং দলীয় অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব পরিস্থিতিকে জটিল করছে।
সীমান্তে হত্যা বেড়েছে
সীমান্ত পরিস্থিতি সম্পর্কে মানবাধিকার সংগঠনটি তাদের প্রতিবেদনে বলেছে, মে মাসে মিয়ানমার ও ভারত সীমান্তে নিহত ব্যক্তির সংখ্যা বেড়েছে। এপ্রিল মাসে যেখানে সীমান্তে নিহত ব্যক্তির সংখ্যা ছিল ৮ জন, সেখানে মে মাসে এই সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১০ জন। আর এপ্রিলে নির্যাতনে আহতের সংখ্যা ছিল ২ জন, মে মাসে তা বেড়ে ১৩ জনে পৌঁছায়। মে মাসে ভারতীয় সীমান্তে ১০ জনকে পুশ ইন (বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানো) করার ঘটনাও ঘটেছে।
এমএসএফ বলছে, এই সংখ্যা সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় মানবাধিকার সুরক্ষার ঘাটতি নির্দেশ করে। বিশেষ করে ভারতীয় সীমান্তে নির্যাতন ও পুশ ইন বৃদ্ধি দ্বিপক্ষীয় মানবাধিকার ইস্যু হিসেবে গুরুত্ব পাচ্ছে।
কারা হেফাজতে ৭ জনের মৃত্যু
এমএসএফের তথ্য অনুযায়ী, মে মাসে কারা হেফাজতে ৭ বন্দীর মৃত্যু হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ৩ জন কয়েদি এবং ৪ জন হাজতি ছিলেন। এপ্রিলে এ সংখ্যা ছিল ৬ জন। কারাগারে মৃত্যুর ধারাবাহিকতা কারা ব্যবস্থার মানবাধিকার পরিস্থিতির দুর্বলতাই ফুটে ওঠে। নির্যাতনের ঘটনা কিছুটা কমলেও আতঙ্কজনিত মৃত্যু নতুন ধরনের ঝুঁকি নির্দেশ করে।
সাংবাদিকের চাপের ধরন বদলেছে
এসএমএফ জানায়, মে মাসে ৩৪ জন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এপ্রিলের তুলনায় এই সংখ্যা কমেছে। এপ্রিলে সাংবাদিক নির্যাতনের সংখ্যা ছিল ৪৬ জন। তবে মে মাসে আইনি হয়রানির সংখ্যা বেড়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, সাংবাদিকের ওপর চাপের ধরন পরিবর্তন হয়েছে। শারীরিক হামলার পরিবর্তে আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।
মানবাধিকার পরিস্থিতির সার্বিক মূল্যায়ন সম্পর্কে এমএসএফ বলছে, সার্বিক পরিস্থিতিতে মনে হচ্ছে বাংলাদেশে মানবাধিকার পরিস্থিতি সংখ্যাগত কিছু উন্নতি সত্ত্বেও কাঠামোগতভাবে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়ে গেছে। বিশেষ করে আইনের শাসনের দুর্বলতা, জবাবদিহির অভাব এবং প্রাতিষ্ঠানিক চাপ—এই তিনটি বিষয় ভবিষ্যতে পরিস্থিতিকে আরও অবনতির দিকে ঠেলে দিতে পারে।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন
টিকা দেওয়ার পরও হামের সংক্রমণ না কমায় দেশে আবারও বিশেষ হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন শুরু হওয়ার কথা বলেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
তিনি বলেছেন, আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর এ ক্যাম্পেইন শুরু হচ্ছে। আজ বৃহস্পতিবার ঢাকায় এক সেমিনার শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এ তথ্য দিয়েছেন বলে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে।
সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ইতোমধ্যে অধিকাংশ টিকা ইউনিসেফের মাধ্যমে দেশে এসে পৌঁছেছে। অবশিষ্ট টিকাও আগামী ১৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে দেশে পৌঁছাবে।
হামের প্রাদুর্ভাব ও মৃত্যু বেড়ে যাওয়ায় সমালোচনার মধ্যে সরকার জরুরি ভিত্তিতে দেশের উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ ৩০টি উপজেলায় ৫ এপ্রিল থেকে ছয় মাস থেকে ৫৯ মাস বা পাঁচ বছর বয়সি টিকা দেওয়া শুরু করে।
এরপর ১২ এপ্রিল শুরু হয় চার সিটি করপোরেশন এলাকায়। ২০ এপ্রিল সারা দেশে একই বয়সি শিশুদের টিকাদান কর্মসূচি শুরু করে সরকার, যা শেষ হয় ২০ মে।
তারপরও সংক্রমণ কমছে না। সরকারি হিসাবে হামে আক্রান্ত হয়ে এবং হামের উপসর্গ নিয়ে বুধবার পর্যন্ত ১০০২ জনের মৃত্যু হয়েছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “হামের টিকা ক্যাম্পেইন শেষ করার পরও যখন সংক্রমণ অব্যাহত থাকার বিষয়টি দেখা যায়, তখন সরকার অবশিষ্ট কার্যক্রম পরিচালনা করে।”
এ কার্যক্রমের আওতায় নতুন করে ১৪ লাখ শিশুকে হামের টিকা দেওয়া হয়েছে, বলেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, বিগত সরকার দেশে কোনো টিকা রেখে যায়নি। এমন পরিস্থিতিতে বর্তমান সরকার মাত্র ২১ দিনের মধ্যে ১ কোটি ৮৫ লাখ শিশুর জন্য টিকা সংগ্রহ করে টিকাদান কার্যক্রম সম্পন্ন করেছে।
ঢাকার হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর চাপ কমাতে প্রান্তিক পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসাসেবা জোরদার করার কথা বলেছেন সাখাওয়াত হোসেন।
তিনি বলেন, “প্রতিটি হাসপাতালে আইসোলেশন বেড প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং মোবাইল হাসপাতালের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। উপজেলা পর্যায়েই রোগীদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করার পাশাপাশি টারশিয়ারি হাসপাতালগুলোর ওপর চাপ কমাতে সোসাইটি অব মেডিসিনের মাধ্যমে উপজেলা পর্যায়ের চিকিৎসকদের সঙ্গে সমন্বয় ও প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।”
ধানমণ্ডির ইউনিভার্সিটি উইমেন্স ফেডারেশন কলেজে ‘বিশ্ব আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবস’ উপলক্ষে সেমিনারটি আয়োজন করে অ্যাসোসিয়েশন ফর ডিজঅ্যাবলড পিপল (এডিপি) ও রোটারি ক্লাব আহসান মঞ্জিল।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
প্রধানমন্ত্রী সকালে সচিবালয়ে অফিস করেন। নিজের দপ্তরে প্রবেশের আগে ডিজিটাল হাজিরা দেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।
গত বুধবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের পরিপত্রে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীর সঙ্গে দাপ্তরিক যোগাযোগ, নথিপত্র ও সারসংক্ষেপ উপস্থাপনের ক্ষেত্রে তাদের পদবির আগে ‘মহামান্য’, ‘মাননীয়’ বা অন্য কোনো সম্মানসূচক শব্দ লিখিতভাবে ব্যবহার করা যাবে না।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এই প্রতিবেদককে বলেন, “সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের এই নির্দেশনা কেবল কাগজে সীমাবদ্ধ না রেখে প্রধানমন্ত্রী নিজের কার্যালয়েই তা বাস্তবায়ন শুরু করেছেন। তার কাছে উপস্থাপন করা ফাইল ও অন্যান্য সরকারি নথিতে ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী’ না লিখে শুধু ‘প্রধানমন্ত্রী’ ব্যবহারের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।”
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, ‘মাননীয়’ শব্দ বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ধারাবাহিক ইতিবাচক উদ্যোগের অংশ। এর মাধ্যমে পদমর্যাদার আনুষ্ঠানিক বিশেষণের চেয়ে দায়িত্ব, জনসেবা এবং দেশ ও জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতাকে সামনে আনার বার্তা দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী।
একই সঙ্গে দাপ্তরিক শৃঙ্খলার ক্ষেত্রেও হাজিরার প্রথা অনুসরণ করে নজির তৈরির চেষ্টা করছেন প্রধানমন্ত্রী।
কার্যালয়ে প্রবেশের সময় অন্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মতো প্রধানমন্ত্রীও নিয়মিত অনলাইন হাজিরা দিচ্ছেন। দিনের কাজ শেষে কার্যালয় ছাড়ার সময়ও নির্ধারিত পদ্ধতিতে বের হওয়ার হাজিরা দিয়ে অফিস ত্যাগ করছেন।
সরকারপ্রধান হয়ে দাপ্তরিক নিয়ম নিজের ক্ষেত্রে প্রয়োগের মাধ্যমে প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরও নিয়ম মেনে চলার বার্তা দিয়েছেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের একাধিক কর্মকর্তা জানান, প্রধানমন্ত্রীর ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি প্রশাসনে সময়ানুবর্তিতা, জবাবদিহি ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগের অংশ। রাষ্ট্র পরিচালনার সর্বোচ্চ পর্যায়ে থাকা ব্যক্তিই যখন সাধারণ দাপ্তরিক নিয়ম মেনে চলেন, তখন প্রশাসনের অন্যদের কাছেও একই নিয়ম অনুসরণের প্রত্যাশা আরও স্পষ্ট হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে রাষ্ট্রীয় কাজে ব্যক্তিকেন্দ্রিকতা ও অপ্রয়োজনীয় আড়ম্বর কমাতেও একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সরকারি কার্যক্রম ও প্রচারণায় তার ছবি ব্যবহার না করা, প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকলে গাড়ির সংখ্যা কমিয়ে আনা এবং তার চলাচলের সময় সাধারণ মানুষের জন্য ট্রাফিক সিগন্যাল বন্ধ না রাখার মতো উদ্যোগ এরই মধ্যে নেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী দেশে ও দেশের বাইরে রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান ছাড়া পতাকাবাহী গাড়ি ব্যবহার করছেন না। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এমন একটি বার্তা দেওয়া হচ্ছে যে, রাষ্ট্রের দায়িত্বশীল পদে থাকা ব্যক্তি বিশেষ সুবিধা বা বিশেষ সম্বোধনের পরিবর্তে নিয়ম ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থার অংশ হিসেবেই দায়িত্ব পালন করবেন।
নব্বই দশকের জনপ্রিয় চিত্রনায়ক সালমান শাহ হত্যা মামলায় রিমান্ড শেষে অভিনেতা আশরাফুল হক ওরফে ডনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
গতকাল বুধবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানার আদালত এ আদেশ দেন। এর আগে তাঁকে আদালতে হাজির করে কারাগারে রাখার আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা।
সিআইডি সূত্র জানায়, রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে গত ৯ আগস্ট ডনকে গ্রেপ্তার করা হয়। সেদিনই তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়। পরে ১২ আগস্ট তাঁর জামিন আবেদন করা হলে তা নামঞ্জুর করেন আদালত। গত ২৭ আগস্ট আদালত তাঁর পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। ৬ সেপ্টেম্বর তাঁকে রিমান্ডে নেয় তদন্ত সংস্থা সিআইডি। চার দিনের রিমান্ড শেষে গতকাল তাঁকে আদালতে হাজির করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে মামলার ঘটনার সঙ্গে তাঁর জড়িত থাকার তথ্য মিলেছে।
আদালতে উপস্থাপন করা পুলিশের প্রতিবেদনে বলা হয়, ডন মামলার এজাহারভুক্ত পলাতক আসামিদের চেনেন বলে জানিয়েছেন। সালমান শাহর ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসেবে তিনি বিভিন্ন বিষয়ে অবগত ছিলেন। কিন্তু সালমান শাহর মৃত্যুর বিষয় ও মামলার অভিযোগ সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি কৌশলের আশ্রয় নেন। অনেক তথ্য কৌশলে গোপন করেন। তবে মামলার ঘটনার আগে-পরে তাঁর আচরণ ও কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার বিষয়ে অনেক তথ্যপ্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে।
তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির পরিদর্শক মুজিবুর রহমান জানান, আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তাঁর কাছ থেকে কিছু তথ্য পাওয়া গেছে।
১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সালমান শাহর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি হত্যাকাণ্ডের শিকার নাকি আত্মহত্যা করেন- সেই প্রশ্নের মীমাংসা এখনও হয়নি।
সচিবালয়ে ‘সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন, ২০২৬’-এর খসড়া পর্যালোচনা সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান
বিএনপির শাসনামলে সংবাদমাধ্যমে সরকারের কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ থাকবে না বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান পার্থ। আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আজকে আমরা যেখানে আছি, সংবাদমাধ্যম আছে বলেই সেখানে আছি। সংবাদমাধ্যম যে ভূমিকা নিয়েছে সব সময়, আমাদের যত অর্জন, গণতন্ত্রের যে পর্যায়ে আছে বাংলাদেশ, আমার মনে হয়, তার সমান সমান কৃতিত্ব সংবাদমাধ্যমের।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের সময় আপনারা ফ্রি মিডিয়া পাবেন। মিডিয়া বা সাংবাদিকতায় আমাদের কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করার কোনো ইচ্ছা নাই। আমাদের প্রধানমন্ত্রী এটা বিশ্বাস করেন যে, সবাই মিলে কাজ করলে স্বপ্নের বাংলাদেশ হবে, সোনার বাংলাদেশ হবে।’
সাইবার সুরক্ষা (সংশোধনী) আইন ২০২৬ এর খসড়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটা একটি অধ্যাদেশ ছিল। আমরা এখনো আলোচনার পর্যায়ে আছি। কিছু কিছু শব্দ আছে, যেগুলো দ্বিতীয় অর্থ আছে। আমরা গত ১৭ বছরে দেখেছি, ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট থেকে শুরু করে অন্যান্য কিছু সংবাদমাধ্যমকে দমিয়ে রাখার জন্য ব্যবহার হয়েছে।
‘আইন তো আর একদিনের জন্য হয় না, আমরা খুব সতর্ক থাকার চেষ্টা করছি, কোনো শব্দ যেন আগামীতে এ ধরনের দরজা না খুলে দেয়,’ যোগ করেন তিনি। পার্থ বলেন, ‘আমাদের মূল লক্ষ্য সোশ্যাল হারমোনি। এই যে আমরা ইদানীং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখছি, গণতন্ত্রের নামে গালিগালাজ, অ্যাবিউসিভ ল্যাঙ্গুয়েজ...যা যা হচ্ছে, এই জিনিসগুলোকে কীভাবে আমরা আইনের মধ্যে আনতে পারি, একইসঙ্গে গণমাধ্যমের স্বাধীনতাকেও শ্রদ্ধা করতে পারি—কোনোভাবেই যেন দুটি সাংঘর্ষিক না হয়, এ ব্যাপারেই আমরা বারবার কথা বলার চেষ্টা করছি। আশ্বস্ত করার চেষ্টা করছি, কোনোভাবেই কোনো কণ্ঠ দমন করার জন্য এই আইন করা হচ্ছে না। যেটা আমরা আগে দেখে এসেছি।’
সামাজিক সচেতনতা জরুরি উল্লেখ করে গণমাধ্যমকর্মীদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, একটা কিছু পেলেই শেয়ার করে দেওয়া, এই জিনিসগুলো যে মানহানিকর সেটা মানুষকে বোঝাতে আমরা কর্মসূচি নেব। আপাতত আমরা সমাজের বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের সঙ্গে কথা বলছি যাতে আইনটা এমন হয়—ভবিষ্যতে এটা দিয়ে মানুষকে অ্যাবিউস করার সুযোগ না থাকে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে নয়াদিল্লি যাচ্ছেন না প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। তিনি বলেন, যে প্রক্রিয়ায় আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে- তাতে সন্তুষ্ট নয় ঢাকা। তবে ভারতে সরকার প্রধানের দ্বিপাক্ষিক সফর হতে পারে বলে জানিয়েছেন হুমায়ুন কবির।
ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে ব্রিকসের ১৮তম শীর্ষ সম্মেলন বসছে ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর। এবারের আয়োজক ভারত।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ব্রিকস সফর নিয়ে গত কয়েকদিন ধরেই ছিল নানা আলোচনা। ভারতের পক্ষ থেকেও কয়েক দফায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণ নিয়ে তাদের কাছে নতুন কোনো নিশ্চিত তথ্য নেই।
বাংলাদেশ ব্রিকসের সদস্য না হলেও বর্তমানে বিমসটেকের চেয়ারম্যান হিসেবে প্রধানমন্ত্রীকে সম্মেলনের আউটরিচ সেশনে অংশ নিতে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল দিল্লি। তবে শেষ পর্যন্ত সেই আমন্ত্রণে সাড়া দিচ্ছেন না প্রধানমন্ত্রী। যাচ্ছেন না নয়াদিল্লিতে।
তবে ভারতে প্রধানমন্ত্রীর দ্বিপাক্ষিক সফর হতে পারে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। সব মিলিয়ে, ব্রিকস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অংশগ্রহণ নিয়ে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যে হলো তার অবসান।
ইসি সচিব আখতার আহমেদ
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ছেড়ে দেওয়া ঠাকুরগাঁও-১ আসনে উপনির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আগামী ২৯ অক্টোবর ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিব আখতার আহমেদ এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এএমএম নাসির উদ্দিন নেতৃত্বাধীন ইসি তফসিল চূড়ান্ত করার পর ইসি সচিব আখতার আহমেদ তফসিল ঘোষণা করেন।
ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন ২৭ সেপ্টেম্বর। মনোনয়নপত্র বাছাই হবে ২৯ সেপ্টেম্বর। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ৭ অক্টোবর। প্রতীক বরাদ্দ ৮ অক্টোবর এবং ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ২৯ অক্টোবর। আপলি ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে ৪ অক্টোবর। আপিল নিষ্পত্তি ৬ অক্টোবর। প্রতাহারের তারিখ ৭ অক্টোবর। প্রার্থীরা প্রচার শুরু করতে পারবেন ৮ অক্টোবর থেকে। এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা পাঁচ লাখ ১৫ হাজার।
গত ২০ অগাস্ট জাতীয় সংসদে ভোটের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন ঠাকুরগাঁও-১ আসনের সংসদ সদস্য মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বিএনপির এ প্রার্থী পরদিন শপথ নিলে আসনটি শূন্য ঘোষণা করে সংসদ সচিবালয়।