মেট্রোরেল
রাজধানীর মেট্রোরেলে রাতের চলাচলের সময় উভয় দিক থেকে আরও ২০ মিনিট করে বাড়ানো হচ্ছে। আগামী রোববার (৭ জুন) থেকে নতুন এ সময়সূচি কার্যকর হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মতিঝিল থেকে উত্তরা রুটে সর্বশেষ ট্রেন ছাড়বে রাত ১০টা ৩০ মিনিটে। আগে এই ট্রেন ছাড়ত রাত ১০টা ১০ মিনিটে। অন্যদিকে উত্তরা থেকে মতিঝিলগামী সর্বশেষ ট্রেন ছাড়বে রাত ৯টা ৫০ মিনিটে, যা আগে ছাড়ত রাত সাড়ে ৯টায়।
মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রাতের সময় বাড়ানোর বিষয়টি পরীক্ষামূলকভাবে গত এক মাস ধরে যাচাই করা হয়েছে। আগামীকাল থেকে যাত্রী পরিবহন শুরু হবে নতুন সূচিতে। তবে শুরুতে বাড়তি ২০ মিনিটে প্রতিটি দিক থেকে একটি করে ট্রিপ চালানো হবে, ফলে দুই ট্রেনের মধ্যে ১০ মিনিটের ব্যবধান বজায় থাকবে।
ঢাকা মাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল) সূত্র জানায়, রাতের সময় একসঙ্গে আরও বেশি বাড়ানোর পরিকল্পনা থাকলেও পর্যাপ্ত যাত্রী প্রবাহ নিশ্চিত না হওয়ায় ধাপে ধাপে সময় বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে আরও আধা ঘণ্টা পর্যন্ত রাতের চলাচল বাড়ানোর বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।
ডিএমটিসিএলের পরিচালক (অপারেশন অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স) নজরুল ইসলাম বলেন, “রাতে দুই দিকেই মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ানোর সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সময় আরও বাড়ানো হবে, তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে আসবে।”
বর্তমানে প্রতিদিন সকালে উত্তরা থেকে প্রথম ট্রেন ছাড়ে সাড়ে ৬টায় এবং মতিঝিল থেকে সোয়া ৭টায়। সকালে চলাচলের সময় বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা আপাতত নেই বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
ডিএমটিসিএল সূত্র অনুযায়ী, বর্তমানে দিনে ২৯৭টি ট্রিপ পরিচালিত হয়। সময় বাড়ানোর ফলে ট্রিপের সংখ্যা আরও বাড়বে এবং প্রায় ১৪ সেট ট্রেন সার্বক্ষণিকভাবে ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রকল্পের নকশা অনুযায়ী মেট্রোরেল সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত চলাচলের সক্ষমতা রাখে। তবে লোকবল সংকটসহ বিভিন্ন কারণে সময়সূচি ধাপে ধাপে সম্প্রসারণ করা হচ্ছে।
বর্তমানে মেট্রোরেলে দৈনিক গড়ে প্রায় সোয়া চার লাখ যাত্রী যাতায়াত করছেন। কমলাপুর পর্যন্ত সম্প্রসারণ সম্পন্ন হলে যাত্রী সংখ্যা আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২২ সালের ২৮ ডিসেম্বর উত্তরা–আগারগাঁও অংশে মেট্রোরেল চালু হয় এবং পরবর্তীতে ধাপে ধাপে মতিঝিল পর্যন্ত সম্প্রসারণ করা হয়।
ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ বঙ্গভবনে তাঁর কার্যক্রম শুরু করেছেন
ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ বঙ্গভবনে তাঁর কার্যক্রম শুরু করেছেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি এ প্রথম কার্যক্রম শুরু করেন। মঙ্গলবার সকাল সোয়া ১১টায় তিনি বঙ্গভবনে পৌঁছেন।
বঙ্গভবনের প্রধান ফটক-২ এ প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টের (পিজিআর) একটি সুসজ্জিত অশ্বারোহী দল ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতিকে স্বাগত জানায় এবং গার্ড অব অনার প্রদানের জায়গায় নিয়ে যায়। পরে পিজিআর-এর একটি চৌকস দল তাঁকে গার্ড অব অনার দেন।
গার্ড অব অনার শেষে রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব মেজর জেনারেল এ এস এম বাহাউদ্দিন, জনবিভাগের সচিব খান মো. নূরুল আমিন, প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম এবং সহকারী সামরিক সচিব ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ রাইসুল ইসলাম ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতিকে অক্টাগনে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান।
আনুষ্ঠানিকতা শেষে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি তাঁর কার্যালয়ে উপস্থিত হন এবং সেখানকার জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। এ সময় সামরিক সচিব ও জনবিভাগের সচিব তাঁকে বঙ্গভবনের বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে অবহিত করেন।
জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সঙ্গে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের নেতৃত্বে ইসির বৈঠক
জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সঙ্গে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের নেতৃত্বে নির্বাচন কমিশন (ইসি) বৈঠক করেছেন।
মঙ্গলবার সকাল ১১টায় জাতীয় সংসদে ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের কার্যালয়ে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে সামনে রেখে এই বৈঠকে আলোচনা হয় বলে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সূত্রে জানা গেছে।
বৈঠক শেষে সিইসি সাংবাদিকদের জানান, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত আছে কমিশন। দিনক্ষণ এখনও ঠিক হয়নি।
সিইসি জানান, নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে। এ–সংক্রান্ত আইনে নির্বাচনের আগে জাতীয় সংসদের স্পিকারের সঙ্গে পরামর্শক্রমে দিনক্ষণ ঠিক করার কথা বলা আছে। সে জন্য নির্বাচন কমিশন ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছে। জাতীয় সংসদ অধিবেশন থাকলে এ নির্বাচন একভাবে হবে, আর না থাকলে আরেক ধরনের ব্যবস্থা রয়েছে। এ বিষয়ে প্রাথমিকভাবে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। তবে নির্বাচনের দিনক্ষণ এখনও চূড়ান্ত হয়নি। এটি চূড়ান্ত হলে জানানো হবে।
সিইসি আরও বলেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশন পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে, তা জানানো হয়েছে ভারপ্রাপ্ত স্পিকারকে। সংসদ সচিবালয় এ নির্বাচনের ভোটার তালিকা দেবে, এ জন্য নির্বাচন কমিশন চিঠিও দিয়েছে।
তিনি বলেন, ‘সাতক্ষীরা–৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের বিষয়ে বৈঠকে কোনো আলোচনা হয়নি। এ আসনের বিষয়ে সংসদ সচিবালয় পদক্ষেপ নিতে বললে কমিশন ব্যবস্থা নেবে।
বৈঠকে অন্যদের মধ্যে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ, আনোয়ারুল ইসলাম সরকার ও তাহমিদা আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে সোমবার এ বিষয়ে ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ স্বাক্ষরিত একটি চিঠি সংসদ সচিবের কাছে পাঠানো হয়। চিঠিতে বলা হয়, রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন শুক্রবার নিজ পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদের দফা ২-এর বিধান অনুসারে, রাষ্ট্রপতি পদ থেকে পদত্যাগের কারণে এই পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে তা পূর্ণ করার জন্য নির্বাচন অনুষ্ঠান করতে হবে।’
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন, ১৯৯১ এর ৫ ধারার (২) ও (৩) উপ-ধারার বিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য স্পিকারের সাথে আলোচনাক্রমে নির্বাচন কমিশনকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তপশিল সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে ঘোষণা করতে হবে। এ বিষয়ে স্পিকার কর্তৃক নির্ধারিত সুবিধাজনক তারিখ ও সময়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সাক্ষাতের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ করা হলো।
সিতাংশু কুমার সুর চৌধুরী (এস কে সুর চৌধুরী)
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর সিতাংশু কুমার সুর চৌধুরীকে (এস কে সুর চৌধুরী) তিন বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সম্পদের হিসাব বিবরণী দাখিল না করায় আজ মঙ্গলবার তাঁকে এ দণ্ডাদেশ দেওয়া হয়। ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-২-এর বিচারক আয়েশা নাসরিন এ রায় ঘোষণা করেন। দুদকের কৌঁসুলি আবুল কালাম আজাদ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। সকালে কারাগার থকে এস কে সুরকে আদালতে হাজির করা হয়। সাজা ঘোষণার পর তাঁকে আবার কারাগারে পাঠানো হয়।
এর আগে দুদক ও আসামি পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে ১৫ জুলাই এ মামলার রায়ের দিন ধার্য করা হয়। দুদকের পক্ষে প্রসিকিউটর আবুল কালাম আজাদ যুক্তিতর্ক তুলে ধরে তাঁর সর্বোচ্চ তিন বছরের সাজা প্রার্থনা করেন আদালতের কাছে। আসামি পক্ষের আইনজীবী সরোজ কুমার হাওলাদার আসামির খালাস চান। মামলাটির বিচার চলাকালে আদালত সাতজনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন । আলোচিত পি কে হালদারের আর্থিক কেলেঙ্কারিতে নাম আসায় ২০২২ সালে এস কে সুরের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। ওই বছরের মার্চে তাঁকে দুদকে তলব করা হয়। এস কে সুর চৌধুরী ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে ডেপুটি গভর্নরের পদ থেকে অবসরে যান।
২০২৫ সালের ১৪ জানুয়ারি দুদকের এনফোর্সমেন্ট টিম রাজধানীর সেগুনবাগিচা এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে। এরপর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন।
অভিযোগ আছে, এস কে সুর ডেপুটি গভর্নর থাকাকালে আলোচিত এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রশান্ত কুমার হালদারের (পি কে হালদার) ঋণ কেলেঙ্কারির ঘটনায় সহযোগিতা করেছেন এবং সুবিধা নিয়েছেন।
মামলার তথ্য অনুযায়ী, এসকে সুরের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ বা সম্পত্তির মালিক হওয়ার অভিযোগে তাঁর ও তাঁর ওপর নির্ভরশীল ব্যক্তিদের স্বনামে বা বেনামে অর্জিত যাবতীয় স্থাবর বা অস্থাবর সম্পদ বা সম্পত্তি, দায়-দেনা, আয়ের উৎস ও তা অর্জনের বিস্তারিত বিবরণী দাখিল করার জন্য সম্পদের হিসাব বিবরণীর নোটিশ জারি করা হয়। ২০২৫ সালের ২৭ অক্টোবর নিজ স্বাক্ষরে সম্পদ বিবরণী দাখিলের আদেশসহ সম্পদ বিবরণী ফরম গ্রহণ করেন তিনি। তবে আদেশ পাওয়ার ২১ কার্যদিবসের মধ্যে সম্পদ বিবরণী দাখিল করেননি। নির্ধারিত এই সময়ের মধ্যে সম্পদ বিবরণী দাখিল না করায় এস কে সুর, তার স্ত্রী সুপর্ণা সুর চৌধুরী ও কন্যা নন্দিতা সুর চৌধুরীর বিরুদ্ধে ওই বছরের ২৩ ডিসেম্বর দুদক মামলা করেন দুদকের উপপরিচালক নাজমুল হুসাইন। ২৫ আস্ট তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন দুদকের উপ-পরিচালক মো. আহসান উদ্দিন। ৬ নভেম্বর এস কে সুরের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেয় আদালত।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে অনুষ্ঠিত বিতর্কিত ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বরের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ডেপুটি কমিশনারের (ডিসি) দায়িত্ব পালন করা ৩২ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়েছে সরকার। ওই নির্বাচনটি ‘রাতের ভোট’ হিসেবে আলোচিত।
তারা সবাই আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে যুগ্ম সচিব পদে পদোন্নতি পান। পরে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে তাদের জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করা হয়। আজ সোমবার রাতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ-সংক্রান্ত পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
এতে বলা হয়, তাদের চাকরির মেয়াদ ২৫ বছর পূর্ণ হয়েছে। জনস্বার্থে সরকারি চাকরি থেকে অবসর দেওয়া প্রয়োজন বিবেচনায় সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ৪৫ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে তাদের অবসরে পাঠানো হয়েছে। বিধি অনুযায়ী তারা অবসরজনিত সব সুবিধা পাবেন।
ওই সময়ের ডিসিদের মধ্যে রয়েছেন—নেত্রকোণার ডিসি মঈনউল ইসলাম, কুমিল্লার ডিসি মো. আবুল ফজল মীর, বান্দরবানের ডিসি মোহাম্মদ দাউদুল ইসলাম, নাটোরের ডিসি মো. শাহরিয়ার, চাঁদপুরের ডিসি মো. মাজেদুর রহমান খান, শরীয়তপুরের ডিসি কাজী আবু তাহের, চাঁপাইনবাবগঞ্জের ডিসি এ জেড এম নুরুল হক, ময়মনসিংহের ডিসি মো. মিজানুর রহমান, চট্টগ্রামের ডিসি মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসেন, লক্ষ্মীপুরের ডিসি অঞ্জন চন্দ্র পাল, রাঙ্গামাটির ডিসি এ কে এম মামুনুর রশিদ, কক্সবাজারের ডিসি মো. কামাল হোসেন, কুষ্টিয়ার ডিসি মো. আসলাম হোসেন, শেরপুরের ডিসি আনার কলি মাহবুব।
এছাড়া তৎকালীন মানিকগঞ্জের ডিসি এস এম ফেরদৌস, চুয়াডাঙ্গার ডিসি গোপাল চন্দ্র দাশখাগড়াছড়ির ডিসি মো. শহিদুল ইসলাম, ফেনীর ডিসি মো. ওয়াহিদুজ্জামান, বরিশালের ডিসি এস এম অজিয়র রহমান, ভোলার ডিসি মোহাম্মদ মাসুদ আলম ছিদ্দিক, পটুয়াখালীর ডিসি মো. মতিউল ইসলাম চৌধুরী, সুনামগঞ্জের ডিসি মো. আব্দুল আহাদ, পাবনার ডিসি মো. জসিম উদ্দিন, ঝিনাইদহের ডিসি সরোজ কুমার নাথ, নীলফামারীর ডিসি নাজিয়া শিরিন, রাজশাহীর ডিসি এস এম আব্দুল কাদের, মাগুরার ডিসি মো. আলী আকবর, হবিগঞ্জের ডিসি মাহমুদুল কবীর মুরাদ, কিশোরগঞ্জের ডিসি মো. সারওয়ার মুর্শেদ চৌধুরী, নরসিংদীর ডিসি সৈয়দা ফারহানা কাউনাইন, খুলনার ডিসি মোহাম্মদ হেলাল হোসেন, কুড়িগ্রামের ডিসি মোছা. সুলতানা পারভীনকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে।
ছবি : সংগৃহীত
রাজধানীর কাফরুলে যুবদলকর্মী ইউসুফ বেপারীকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় জড়িত অভিযোগে এ পর্যন্ত আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ বলছে, কাফরুল থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক হাফিজুর রহমান হাফিজ ওরফে সিএনজি হাফিজের পরিকল্পনায় এ ঘটনা ঘটে। তিনি কাফরুল থানা যুবদলের সদস্য সচিব হাফিজুল ইসলাম বাবুকে হত্যার উদ্দেশ্যে ২৫ লাখ টাকার চুক্তিতে শুটার ভাড়া করেন। তবে সেদিন গুলিতে মারা যান ইউসুফ।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন নাহিদ হাসান, শাফিন আহমেদ, জিয়ারুল মোল্লা, আলী হোসেন, জিহাদ মোল্লা, মাসুম বিল্লাহ ও আবির হাওলাদার। ধারাবাহিক অভিযানে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করে ডিবি ও কাফরুল থানা পুলিশ। এর আগে ঘটনার পরপরই চঞ্চল মোল্লা নামে শুটারকে অস্ত্রসহ আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে জনতা।
এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে গতকাল সোমবার রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলন করা হয়। এতে ডিবি প্রধান অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এলাকার ময়লার টেন্ডার, ফুটপাত দখল ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধে যুবদল নেতা বাবুকে হত্যার পরিকল্পনা করেন হাফিজ। তবে ঘটনাচক্রে অস্ত্রধারীদের গুলিতে যুবদলকর্মী ইউসুফ নিহত এবং দুজন গুরুতর আহত হন।
তিনি জানান, হত্যার মিশনে ১১ জন অংশ নেয় বলে জানা গেছে। তাদের মধ্যে সরাসরি জড়িত চার শুটারসহ আটজনকে এ পর্যন্ত গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে পলাতক মূল পরিকল্পনাকারী হাফিজ। জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা জানান, যুবদল নেতা বাবুকে হত্যার জন্য হাফিজ তাদের ঝিনাইদহ ও মাগুরা থেকে ভাড়া করে আনেন।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ইউসুফ হত্যার ঘটনায় তাঁর বড় ভাই কাফরুল থানায় মামলা করেন। এর পরপরই ডিবি মিরপুর বিভাগ ও কাফরুল থানা পুলিশ তদন্ত শুরু করে। তদন্তের ধারাবাহিকতায় গত শনিবার ডিবি মিরপুর এলাকা থেকে নাহিদ হাসান ও শাফিন আহমেদকে গ্রেপ্তার করে। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মাগুরার শালিখা উপজেলার আড়পাড়া থেকে জিয়ারুল এবং মিরপুর থেকে আলী হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। অন্যদিকে কাফরুল থানা পুলিশ শরীয়তপুর থেকে জিহাদ মোল্লা এবং যশোরের বাঘারপাড়া থেকে মাসুম বিল্লাহকে গ্রেপ্তার করে। এ ছাড়া ঘটনার সঙ্গে জড়িত আবির হাওলাদারকে গণপিটুনির পর স্থানীয়রা কাফরুল থানায় সোপর্দ করেছিল।
গ্রেপ্তারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্তের বরাতে ডিবি জানায়, গত ২৯ জুন পেশাদার খুনি হাসান, জিয়ারুল, চঞ্চল, জিহাদসহ অজ্ঞাত আরও দুই-তিনজন ঢাকায় আসেন। তারা মিরপুর-১০ নম্বরের বৈশাখী হোটেলে ওঠেন এবং পরে সিএনজি হাফিজের গ্যারেজে বৈঠক করেন। তখন আবির হাওলাদারের কাছ থেকে দুটি পিস্তল নিয়ে সেখানে হাজির হন হাফিজের ম্যানেজার নাহিদ। হাফিজ অস্ত্রে গুলি ভরার সময় একটি পিস্তল থেকে মিসফায়ার হলে সেদিন হত্যার পরিকল্পনা স্থগিত করা হয়। তবে অভিযুক্তরা হাফিজুল ইসলাম বাবুর অফিসের আশপাশে গিয়ে তাঁকে শনাক্ত করেন। সেইসঙ্গে হাফিজের কাছ থেকে অগ্রিম ৫০ হাজার টাকা নিয়ে নিজ নিজ এলাকায় ফিরে যান। ২২ জুলাই হাফিজের নির্দেশে তারা পুনরায় ঢাকায় এসে মিরপুর-২ নম্বরের সোনালী হোটেলে ওঠেন। এরপর ২৩ জুলাই সন্ধ্যায় পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী সবাই হাফিজের গ্যারেজে একত্রিত হন। সেখানে নাহিদের কাছ থেকে জিহাদ গুলিভর্তি দুটি পিস্তল নিয়ে একটি জিয়ারুল এবং অপরটি চঞ্চলের কাছে হস্তান্তর করেন। পরে জিয়ারুল, চঞ্চল, হাসান, জিহাদ, মাসুম বিল্লাহসহ অজ্ঞাত দুই-তিনজন বাবুকে হত্যার উদ্দেশ্যে তাঁর অফিসের সামনে অবস্থান নেন। হাফিজের কর্মচারী শাফিন এবং জিয়ারুলের আত্মীয় আলী হোসেন ঘটনাস্থল রেকি, আসামিদের পালিয়ে যেতে সহায়তা এবং ঘটনার পর পুলিশের তৎপরতা ও এলাকার পরিস্থিতি সম্পর্কে নিয়মিত তথ্য সরবরাহের দায়িত্ব পালন করেন।
গত শুক্রবার রাত সোয়া ১১টার দিকে কাফরুলের ওপেক্স গার্মেন্টসের দক্ষিণ পাশে লিংক রোডে বাবু তাঁর কার্যালয়ের সামনে নেতা-কর্মীদের সঙ্গে কথা বলছিলেন। তখন অপরিচিত কয়েকজনকে সন্দেহ হলে তিনি পরিচয় জানতে চান। একপর্যায়ে তল্লাশির চেষ্টা করলে তাদের একজন পিস্তল বের করে গুলি চালায়। এতে ইউসুফ গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। সবজি বিক্রেতা নালাম সরদার ও মনির হোসেন আহত হন।
এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক সংগঠনের শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের কোনো সংশ্লিষ্টতা আছে কিনা? এমন প্রশ্নে ডিবিপ্রধান বলেন, সন্ত্রাসীদের কোনো দল নেই। রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে গিয়ে তাদের সন্ত্রাসী হিসেবেই বিবেচনা করা হবে।
এদিকে হত্যাকাণ্ডের পেছনে শীর্ষ সন্ত্রাসী কিলার আব্বাস ও ইব্রাহিমের যোগসাজশ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত তাদের সরাসরি সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি। তবে অপরাধীরা নিজেদের প্রভাবশালী হিসেবে তুলে ধরতে অনেক সময় শীর্ষ সন্ত্রাসীদের নাম ব্যবহার করে।
যুবদল নেতা হাফিজুল ইসলাম বাবু সমকালকে বলেন, ময়লার টেন্ডার বা ফুটপাত দখল নিয়ে বিরোধের কথা পুরোপুরি মিথ্যা। হাফিজ শুটার ভাড়া করেছেন, কিন্তু তাঁর সঙ্গে আমার কোনো বিরোধ নেই। তিনি অন্য কারও হয়ে কাজ করেছেন। তাঁকে পেলে সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
অভিযুক্ত কাফরুল থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক হাফিজুর রহমান হাফিজের মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় তাঁর বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
প্রতীকী ছবি
গণভোটে জুলাই জাতীয় সনদ অনুমোদিত হলেও সংবিধান সংশোধন না হওয়ায় নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হবে পুরোনো নিয়মেই। গোপন ব্যালট ব্যবহার হবে না। তবে যদি একাধিক প্রার্থী থাকেন, তাহলে সংসদ সদস্যরা (এমপি) ব্যালটে সইয়ের মাধ্যমে প্রকাশ্যে ভোট দেবেন।
জুলাই সনদে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ ছাড়াই ছয়টি প্রতিষ্ঠানে নিয়োগের একক ক্ষমতা রাষ্ট্রপতিকে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। যদিও এর একাংশে বিএনপির নোট অব ডিসেন্ট রয়েছে। সংবিধান ও সংশ্লিষ্ট আইনগুলো সংশোধন না হওয়া পর্যন্ত রাষ্ট্রপতি এসব নিয়োগ ক্ষমতা পাবেন না। জুলাই সনদ অনুযায়ী সংবিধান সংশোধন করতে ইতোমধ্যে সংসদীয় কমিটি করেছে সরকারি দল। তবে বিরোধী দল এতে যোগ দেয়নি। তারা সংবিধান সংশোধন নয়; গণভোটে অনুমোদিত জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার চায়।
এদিকে সরকারি দলের সংবিধান সংশোধন কমিটির প্রথম সভা এখনও হয়নি। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, সংবিধান সংশোধন করতে কয়েক মাস লেগে যাবে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আগে তার সম্ভাবনা নেই। এরই মধ্যে নির্বাচন কমিশন (ইসি) জানিয়েছে, শিগগির তারা স্পিকারের সঙ্গে দেখা করবেন। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তপশিল ঘোষণার আগে ইসি তা করে থাকে। ফলে আগামী সপ্তাহে জানা যাবে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তপশিল ঘোষণা কবে হবে। সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন হওয়ার কথা। মোঃ সাহাবুদ্দিন রাষ্ট্রপতি পদ ছাড়েন ২৪ জুলাই। এ হিসাবে আগামী ২২ সেপ্টেম্বরের মধ্যে নির্বাচন করতে হবে।
১৯৯১ সালে সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রবর্তনের পর রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তপশিলে সর্বোচ্চ ২৫ দিন সময় দেওয়ার নজির রয়েছে। ফলে আগামী সেপ্টেম্বরে এই নির্বাচন হতে পারে। একাধিক প্রার্থী না থাকলে এর আগেও নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হতে পারেন।
রাষ্ট্রপতি এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর পদত্যাগে শূন্য পদে ২০০২ সালের ২১ জুন থেকে ৭৭ দিন অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন তৎকালীন স্পিকার জমিরউদ্দিন সরকার। রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের মৃত্যুতে শূন্য পদে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি হিসেবে মোঃ আবদুল হামিদ ২০১৩ সালের ২০ মার্চ থেকে ওই বছরের ২৩ এপ্রিল পর্যন্ত ৩৪ দিন দায়িত্ব পালন করেন।
২০১৩ সালের ৯ এপ্রিল তপশিল ঘোষণা করে ২৯ এপ্রিল ভোট গ্রহণের দিন ধার্য করা হয়েছিল। মোট সময় দেওয়া হয়েছিল ২০ দিন। তবে আবদুল হামিদ একক প্রার্থী হওয়ায় ভোট গ্রহণের আর প্রয়োজন হয়নি। ২০১৩ সালের তপশিলে মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন ছিল ২১ এপ্রিল। যাচাই-বাছাই ছিল ২২ এপ্রিল। আর কোনো প্রার্থী না থাকায় সেদিনই আবদুল হামিদ নির্বাচিত হয়ে যান।
এবারের সংসদে বিএনপির দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। নির্বাচন হবে ১৯৯১ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন অনুযায়ী। এই আইনের ১০ ধারা অনুসারে প্রকাশ্যে ভোট দেওয়ার নিয়ম থাকায়, বিএনপির প্রার্থী ছাড়া অন্য কারও নির্বাচনে জয়ের সম্ভাবনা নেই।
তাই নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোটে প্রার্থী দেওয়ার সম্ভাবনা নেই। জামায়াত নেতারা ইতোমধ্যে তা সমকালকে জানিয়েছেন। ১৯৯১ সালে তৎকালীন বিরোধী দল আওয়ামী লীগ প্রার্থী দেওয়ায়, সেবার প্রথম এবং শেষবারের মতো রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট গ্রহণ করতে হয়েছিল। বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর এমপিদের সমর্থনে ১৭২ ভোট পেয়ে আবদুর রহমান বিশ্বাস জয়ী হয়েছিলেন।
ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীর বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়া ঠেকাতে জুলাই সনদে প্রস্তাব করা হয়েছে, সংসদের উভয় কক্ষের ৪৫০ এমপির গোপন ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন। যে ৩০টি সংস্কার প্রস্তাবে কোনো দলেরই নোট ডিসেন্ট ছিল না, এর একটি এই প্রস্তাব। সংবিধানের সংশোধন না হওয়ায় ১০০ আসনের সংসদের উচ্চকক্ষও গঠিত হয়নি।
ক্ষমতার ভারসাম্য আনতে জুলাই সনদে ছয় প্রতিষ্ঠানে নিয়োগের একক ক্ষমতা রাষ্ট্রপতি দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়। এতে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ ছাড়াই মানবাধিকার কমিশন, তথ্য কমিশন, প্রেস কাউন্সিল, আইন কমিশন, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর এবং এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের চেয়ারম্যান ও সদস্যদের নিয়োগ দিতে পারবেন রাষ্ট্রপতি।
বিএনপি এ প্রস্তাবের একাংশে নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছে। দলটি রাষ্ট্রপতিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গর্ভনর এবং এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনে নিয়োগের ক্ষমতা দিতে রাজি হয়নি। গণভোটে অনুমোদিত জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশে যে ৯টি সংস্কার প্রস্তাবে নোট অব ডিসেন্ট অনুযায়ী সংস্কারের কথা বলা হয়েছে, এর একটি এটি।
বিএনপি নোট অব ডিসেন্ট অনুযায়ী সংবিধান সংশোধনের কথা বলছে। যদিও বিরোধী দল এতে রাজি নয়। তবে বিএনপির দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় দলটি যেভাবে চাইবে সেভাবেই সংবিধান সংশোধন হবে। ফলে আগামী দিনের রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর এবং এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের চেয়ারম্যান ও সদস্যদের নিয়োগ ক্ষমতা পাওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ।
সংবিধানের ৪৮(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতিকে প্রধানমন্ত্রী এবং প্রধান বিচারপতি নিয়োগ ছাড়া সব কাজ প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে করতে হয়। সংবিধানের ৫৬(৩) অনুচ্ছেদ সংখ্যাগরিষ্ঠ সংসদ সদস্যের আস্থাভাজনকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দিতে বাধ্য রাষ্ট্রপতি। ফলে প্রধান বিচারপতি নিয়োগ ছাড়া আর কোনো ক্ষমতা নেই তাঁর। চারটি প্রতিষ্ঠানের নিয়োগ ক্ষমতা দিতে হলেও সংবিধান সংশোধন করতে হবে।