ডিজিএফআই সদর দপ্তরে থাকা জেআইসি পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম
জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেন্টারে (জেআইসি) আটকে রেখে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকেও নির্যাতন করা হয়েছিল বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। তিনি বলেন, ১/১১ এর সময় তারেক রহমানকে জেআইসির একটি কক্ষে নেওয়া হয়েছিল। এরপর তার ওপর নির্যাতন করা হয়। ট্রাইব্যুনালে দেওয়া সাক্ষীদের বর্ণনা ও আমাদের তদন্তে এ সংক্রান্ত তথ্য পাওয়া গেছে। শনিবার ঢাকা সেনানিবাসে ডিজিএফআইয়ের 'জেআইসি সেল' নামের গোপন বন্দিশালা বা 'আয়নাঘর' পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা জানান।
চিফ প্রসিকিউটর বলেন, বিগত সরকার শেখ হাসিনার নেতৃত্বে একটি অমানবিক রাষ্ট্র কায়েম করেছিল। সরকারের অসৎ উদ্দেশ্যে ‘আয়নাঘর’ নামে টর্চার সেল প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। আমরা আজকে আমাদের বিচারের অংশ হিসেবে ডিজিএফআইয়ের কমপ্লেক্সের ভেতরে জেআইসি... এটি টর্চার সেল, 'আয়নাঘর' হিসেবে পরিচিত... সেই জেআইসি পরিদর্শনে তিনজন বিচারপতি, সাংবাদিক মতিউর রহমান চৌধুরী, আমাদের প্রসিকিউশন টিমের সদস্য উপস্থিত ছিলাম। আমাদের ডিফেন্স টিমের আইনজীবী বন্ধুরাও উপস্থিত ছিলেন। সবাই আমরা আমাদের বিচারপতিদের নেতৃত্বে এই জেআইসিটি পরিদর্শন করেছি।
আমিনুল ইসলাম বলেন, 'জেআইসি ছিল মানুষকে ধরে এনে বন্দি রেখে তাদের ওপর অত্যাচার এবং নির্যাতনের একটা সেল, যেটা পরে সর্বজন পরিচিত 'আয়নাঘর' হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। সেখানে কী অমানবিকভাবে বন্দিদের ধরে এনে দিনের পর দিন, মাসের পর মাস, বছরের পর বছর রাখা হয়েছে, সেই নির্মম চিত্র আজকে এই পরিদর্শনের মধ্য দিয়ে কিছুটা অনুভব করা গেছে।'
তিনি আরও বলেন, 'আজকে যে জেআইসি, এখানে কিন্তু ব্রিগেডিয়ার আজমীসহ বন্দিদের এই জেআইসিতে রাখা হয়েছে। দিনের পর দিন তাদের ওপর অত্যাচার-নির্যাতন করা হয়েছে।'
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সম্পর্কে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, 'আরও একটি বিষয় দেখবেন, এক-এগারোর সময় আজকের প্রধানমন্ত্রী... আজকে যে জেআইসি সেলটি আমরা পরিদর্শন করেছি, তারই কোনো একটি কামরায় তাকেও কিন্তু আনা হয়েছে। তার ওপর নির্যাতন করা হয়েছিল। আমাদের ইনভেস্টিগেশনে বিভিন্ন সাক্ষীদের মুখের বর্ণনা থেকে সেই তথ্য পাওয়া গেছে এবং পর্যায়ক্রমে এগুলো বিচারের রিফ্লেকশন হবে।'
তিনি আরও বলেন, 'বিগত সরকার শেখ হাসিনার নেতৃত্বে একটি অমানবিক রাষ্ট্র কায়েম করা হয়েছিল। যেখানে কিছুসংখ্যক অতি উৎসাহী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সরকারের কিছু অসৎ উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের জন্য এই আয়নাঘর নামে টর্চার সেলগুলো বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠা করেছিল। সেখানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, বিভিন্ন ইসলামিক সংগঠনের নেতা, যারা মত-পথের ভিন্ন ব্যক্তিত্ব ছিলেন, তাদের ধরে এনে অনেক মানুষকে সেখান থেকে পরে গুম করা হয়েছে। সেই গুমের অনেক ভিকটিমদের আমরা কিন্তু এখন পর্যন্ত তাদের হদিস পাইনি। অনেক ভিকটিমদের সেখানে মাসের পর মাস, বছরের পর বছর আটকে রাখা হয়েছে। তাদের ওপর অবর্ণনীয় নির্যাতন করা হয়েছে।'
চিফ প্রসিকিউটর বলেন, 'আপনারা ইতোমধ্যে জানবেন যে, এই ডিজিএফআই এবং জেআইসি সেলের সম্পৃক্ত যেসব কর্মকর্তারা ছিল, তাদের অনেককেই বিচারের আওতায় আনা হয়েছে এবং তাদের বিচার চলছে। ভবিষ্যতেও যাদের সংশ্লিষ্টতা এভাবে পাওয়া যাবে, তাদেরও এই অমানবিক ঘটনার জন্য বিচারের সম্মুখীন করা হবে।'
চিফ প্রসিকিউটর বলেন, 'হুম্মাম কাদের চৌধুরী, তাকেও কিন্তু এই জেআইসি সেলে বন্দি করে রাখা হয়েছিল। তিনি কতদিন বন্দি ছিলেন, তার নিজের হাতের একটা লেখা ছিল এবং এইচ কিউ সি নামে একটা ব্যাপার ছিল, সেটি কিন্তু তারা সাদা রং করে প্লাস্টার করে দিয়েছে। প্লাস্টারের পরেও তার এই লেখাটা জেআইসি সেলের একটি রুমের মধ্যে বিদ্যমান আছে এবং সেখানে হুম্মাম কাদের চৌধুরীর বর্ণনা থেকে কিন্তু আমরা এটা পেয়েছি।'
তিনি বলেন, 'তার (হুম্মাম) বর্ণনার সঙ্গে জেআইসিতে যে রুমটি, এটার হুবহু মিল পাওয়া গেছে। আমরা এগুলো সিলগালা করে রেখেছি। বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত হয়তো এগুলো আমাদের কাস্টডিতে থাকবে।'
ঢাকা সেনানিবাসে প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) সদর দপ্তরে থাকা জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেন্টারের (জেআইসি) গোপন বন্দিশালা পরিদর্শন করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর তিন বিচারপতি। ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি গোলাম মর্তূজার নেতৃত্বে এই পরিদর্শন দলে ছিলেন চিফ প্রসিকিউটর ও আসামিপক্ষের আইনজীবীরাও। এর আগে, গত শনিবার উত্তরায় র্যাব পরিচালিত বন্দিশালা বা গুমঘর পরিদর্শন করেন তারা।
প্রসিকিউশন জানায়, র্যাব ও ডিজিএফআই পরিচালিত বন্দিশালায় গুম করে রাখার অভিযোগে দুটি মামলা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন। এই বিচারপ্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে এসব বন্দিশালা পরিদর্শন করছেন বিচারপতিরা।
পেট্রোবাংলা
কক্সবাজারের মহেশখালী ভাসমান টার্মিনালে কার্গো থেকে এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) ট্রান্সফার শুরু হওয়ায় গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ তেল, গ্যাস, খনিজসম্পদ করপোরেশন (পেট্রোবাংলা) থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
এতে বলা হয়, কক্সবাজারের মহেশখালী ভাসমান টার্মিনালে কার্গো থেকে এলএনজি স্থানান্তর শুরু হওয়ায় গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হচ্ছে।
এর আগে, বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) পেট্রোবাংলা জানিয়েছিল, মহেশখালী এলাকায় দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে আমদানিকৃত এলএনজি কার্গো থেকে ভাসমান টার্মিনালে এলএনজি ট্রান্সফার প্রক্রিয়ায় বিঘ্ন ঘটছে। এতে সামগ্রিক গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় কিছুটা হ্রাস পেয়েছিল।
পেট্রোবাংলা জানিয়েছিল, বঙ্গোপসাগরের আবহাওয়ার উন্নতি হলে দ্রুততম সময়ে গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে।
প্রতীকী ছবি
সারাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে এ সময়ে নিশ্চিত হামে কারও মৃত্যু হয়নি। শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে ঢাকা, হবিগঞ্জ ও কুষ্টিয়া জেলায় একজন করে মারা গেছে। একই সময়ে ৬৪ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে। এ পর্যন্ত নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছে ২১ হাজার ১৫ জন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছর দেশে হাম ও হামের উপসর্গে এ পর্যন্ত মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে এক হাজার ৮৪। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে ১০১ জন ও হামের উপসর্গ নিয়ে ৯৮৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।
এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় এক হাজার ২০১ জনের শরীরে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। এতে মোট সন্দেহভাজন সংক্রমণের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক লাখ ৮৫ হাজার ৮৩৩ জনে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
মার্কিন প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের কাছ থেকে বাংলাদেশ ও তুরস্কের উড়োজাহাজ কেনার বিষয়টি নিয়ে নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে পোস্ট দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গতকাল বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড অ্যাকাউন্ট থেকে পোস্টটি দেন ট্রাম্প।
বোয়িংয়ের কাছ থেকে ১১টি নতুন উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি করেছে বাংলাদেশ। স্থানীয় সময় গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের গ্র্যান্ড হায়াত হোটেলের লবিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন।
অন্যদিকে গত বুধবার বোয়িং ঘোষণা দেয়, তুরস্কের রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী টার্কিশ এয়ারলাইনস ১০০টি উড়োজাহাজ কিনেছে। আরও ৫০টি কেনার সুযোগ নিশ্চিত করেছে।
ট্রাম্প তাঁর ট্রুথ সোশ্যালের এক পোস্টে উড়োজাহাজ বিক্রির এই দুই ঘটনাকে বোয়িং ও মার্কিন পণ্য প্রস্তুতকারক খাতের জন্য ‘বড় দিন’ হিসেবে অভিহিত করেন।
ট্রাম্প লিখেছেন, তুরস্ক ও বাংলাদেশ মোট ১১১টি বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার ঘোষণা দিয়েছে। এর সঙ্গে আরও ৫০টি উড়োজাহাজ কেনার সুযোগও রাখা হয়েছে। এতে সহায়তা করেছেন মার্কিন বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিক ও মার্কিন বাণিজ্য দপ্তর।
ট্রাম্প তাঁর পোস্টে উল্লেখ করেন, উড়োজাহাজ বিক্রির এই আয়, এই বিপুল মার্কিন রপ্তানি যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে হাজার হাজার কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সহায়তা করবে।
ট্রাম্প তাঁর পোস্টে বলেন, ‘বোয়িং ও আমি সব সময়ই যে বিষয়টি জানতাম, বাজার এখন সেটিই স্বীকার করছে। আপনি যখন আমেরিকায় উৎপাদন করবেন, আমেরিকা থেকে রপ্তানি করবেন এবং মার্কিন কর্মীদের সমর্থন করবেন, তখন আপনার কোম্পানি আরও শক্তিশালী হয়ে উঠবে।’
ট্রাম্প তাঁর পোস্টে বলেন, বোয়িং ও এর অসাধারণ কর্মীদের অভিনন্দন!
ড. খলিলুর রহমান
জাতিসংঘ নিখুঁত নয়, তবে এটি অপরিহার্য এবং এর কোনো বিকল্প অকল্পনীয় বলে মন্তব্য করেছেন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি ড. খলিলুর রহমান। শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সকালে জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশনের উদ্বোধনী বক্তব্যের প্রসঙ্গ তুলে ধরে নিজের অফিসিয়াল ফেসবুক পোস্টে তিনি এ কথা বলেন।
পোস্টে ড. খলিলুর রহমান বলেন, জাতিসংঘ কোথায় পিছিয়ে পড়ছে তা চিহ্নিত করতে হবে। যেসব বিষয় আর কার্যকর নয়, সেগুলোতে সংস্কার আনতে হবে। একই সঙ্গে শিল্পখাতের নেতা থেকে শুরু করে তরুণ পরিবর্তনকারীদের মতো আরও বেশি কণ্ঠকে সিদ্ধান্ত গ্রহণের আলোচনায় যুক্ত করতে হবে।
তিনি বলেন, ‘আস্থা চাওয়া যায় না, এটি অর্জন করতে হয়।’
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি আরও বলেন, এবারের অধিবেশন এমন একটি জাতিসংঘ গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি করেছে, যা কঠিন বাস্তবতা মোকাবিলায় যথেষ্ট বাস্তববাদী, সংস্কারের জন্য যথেষ্ট সাহসী এবং প্রয়োজনীয় অংশীজনদের অন্তর্ভুক্ত করার ক্ষেত্রে যথেষ্ট উন্মুক্ত।
এভাবেই জাতিসংঘকে ভবিষ্যতের উপযোগী করে তোলা সম্ভব বলে মন্তব্য করেন তিনি।
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে ভাষণ দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা ও আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারসহ ফিলিস্তিনি জনগণের ন্যায্য দাবির প্রতি বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে দেড় দশকের বেশি সময়ের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকটের পর বাংলাদেশ পুনর্গঠনে সরকারের ‘রিকভারি, রেস্টোরেশন অ্যান্ড রিকন্সট্রাকশন’ বা ‘থ্রি-আর’ কৌশলের কথা বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরেছেন তিনি। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাধারণ বিতর্কে দেওয়া ভাষণে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।
ফিলিস্তিন প্রসঙ্গে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তারেক রহমান বলেন, ফিলিস্তিনি জনগণের দুর্দশা বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে।
আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার এবং একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠাসহ তাদের ন্যায্য দাবির প্রতি বাংলাদেশ তার সমর্থন অব্যাহত রাখবে। বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে চলমান সংঘাতের প্রসঙ্গ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানবসৃষ্ট সংঘাতের কারণে বিভিন্ন দেশে অস্থিতিশীলতা তৈরি হচ্ছে।
এতে বিপুলসংখ্যক মানুষ বাস্তুচ্যুত হওয়ার পাশাপাশি মানবিক সংকট আরও তীব্র হচ্ছে। যুদ্ধ ও সংঘাতের প্রভাব বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও পড়ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, জ্বালানি নিরাপত্তার সংকট, বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থায় বিঘ্ন এবং ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি আন্তর্জাতিক অর্থনীতিতে চাপ বাড়াচ্ছে। এসব সংকট মোকাবিলায় সংঘাতের পরিবর্তে সংলাপ, কূটনীতি ও পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ সময়ের আন্দোলন-সংগ্রামের পর ২০২৪ সালে বাংলাদেশ ‘ফ্যাসিবাদ থেকে মুক্ত’ হয়েছে-এমন দাবি করে তিনি জানান, দেশ এখন আবার গণতন্ত্রের পথে এগিয়ে যাচ্ছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, জনগণই সব রাজনৈতিক ক্ষমতার উৎস এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও মানবাধিকারের গুরুত্বকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
দেশ পুনর্গঠনের পরিকল্পনা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, সরকার ‘রিকভারি, রেস্টোরেশন অ্যান্ড রিকন্সট্রাকশন’-এই তিনটি স্তম্ভের সমন্বয়ে ‘থ্রি-আর’ কৌশল গ্রহণ করেছে। এর মাধ্যমে অর্থনীতি পুনরুদ্ধার, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠন এবং দেশের উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতার ভিত্তি শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ভাষণে তিনি তরুণ জনগোষ্ঠীকে দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বাংলাদেশকে একটি উৎপাদনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন। পাশাপাশি নারী শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা তৈরিতে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা উল্লেখ করেন।
আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংকটের প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গা সংকট, জলবায়ু পরিবর্তন, নিরস্ত্রীকরণ, অভিবাসন এবং প্রযুক্তিতে ন্যায্য প্রবেশাধিকারের বিষয়েও বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেন।
রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানে মিয়ানমারে নিরাপদ প্রত্যাবাসনের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও কার্যকর সহযোগিতা কামনা করেন। একই সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় জলবায়ু ন্যায়বিচার, অর্থায়ন ও অভিযোজন সহায়তা বাড়ানোর আহ্বান জানান।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও প্রযুক্তির প্রসঙ্গে তিনি উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য প্রযুক্তি হস্তান্তর, দক্ষতা উন্নয়ন এবং সাশ্রয়ী প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
ভাষণের শেষদিকে জাতিসংঘের নীতি ও মূল্যবোধের প্রতি বাংলাদেশের অবিচল সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করে বিশ্বশান্তি ও মানবতার স্বার্থে বহুপক্ষীয় সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।
জাইমা রহমান
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি খলিলুর রহমানের কার্যালয়ে ‘লিগ্যাল অফিসার’ হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মেয়ে জাইমা রহমান।
খলিলুর রহমানের কার্যালয়ে বিভিন্ন পদে রয়েছেন মোট ৪০ জন। তাদের মধ্যে জাইমা রহমানসহ ছয়জন বাংলাদেশি।
বাংলাদেশি কূটনীতিক আব্দুল আলিম এই অফিসের উপ-প্রধানের দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া উপদেষ্টা ও প্রশাসনিক সহকারী মোয়াজ্জেম হোসেন, তথ্য, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও কৌশলগত পূর্বাভাস বিষয়ক জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা মাফিজুল ইসলাম, টেকসই উন্নয়ন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা জাকির আহমেদ ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন দেশগুলো বিষয়ক জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা মো. রফিকুল আলম মোল্লা হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নেন ৮ সেপ্টেম্বর। তার সভাপতিত্বে বৃহস্পতিবার সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথমবার ভাষণ দেবেন তারেক রহমান।
জাতিসংঘ কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, জাইমা রহমান খলিলুর রহমানের কার্যালয়ে আইন কর্মকর্তা হিসেবে আইনি বিষয়গুলো দেখাশোনা করবেন।
জাইমা রহমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও ডা. জুবাইদা রহমানের একমাত্র মেয়ে। তিনি সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার নাতনি।
জাইমা আইন বিষয়ে পড়াশোনা করেছেন লন্ডনের কুইন মেরি বিশ্ববিদ্যালয়ে। পরে যুক্তরাজ্যে বার-অ্যাট-ল করেন। ২০২৬ সালের জুনে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের আইনজীবী তালিকাভুক্তির প্রথম ধাপের পরীক্ষাতেও তিনি উত্তীর্ণ হন।
৮১তম সাধারণ পরিষদের সভাপতির অফিসে ‘ডেপুটি চিফ অব ক্যাবিনেট’ হিসেবে দায়িত্ব পাওয়া আব্দুল আলিম দীর্ঘদিন ধরে কূটনৈতিক পেশায় আছেন। এর আগে তিনি বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের মিশনে কাজ করেছেন।
জাতিসংঘের কর্মকর্তারা জানান, সাধারণ পরিষদের সভাপতি সরাসরি জাতিসংঘের কর্মী নন এবং তিনি এ সংস্থা থেকে সরাসরি কোনো নিয়মিত বেতন পান না। সাধারণ পরিষদের সভাপতির বেতন-ভাতা, আবাসন বা বাড়ি ভাড়াসহ বিভিন্ন খরচ সাধারণত তার নিজের দেশ বা নিজ সরকার বহন করে থাকে। এছাড়া কিছু ক্ষেত্রে জাতিসংঘের নিয়মিত বাজেট ও ট্রাস্ট ফান্ড থেকেও কিছু ব্যয় নির্বাহ করা হয়।