পেশাদার সাংবাদিকদের অধিকার আদায়ের একক বৃহত্তম সংগঠন ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে)-এর আবাসন প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্যে রোববার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ)-র সাগর-রুনি হলে এক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় বিদ্যমান সমবায় সমিতির পুনর্গঠন, নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্তি এবং আবাসন প্রকল্পের জন্য জমি বরাদ্দের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন ডিআরইউর সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ডিইউজের নির্বাহী পরিষদের সদস্য গাজী আনোয়ার।
সভায় বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ফেডারেল ইউনিয়ন অব জার্নালিস্টস (বিএফইউজে)-এর দপ্তর সম্পাদক আবু বকর, ডিইউজের নির্বাহী কমিটির সদস্য ফখরুল ইসলাম, ডিইউজের সাবেক দপ্তর সম্পাদক ডিএম আমিরুল ইসলাম অমর, ডিইউজে সদস্য রাসেল পাটোয়ারী,ফয়েজ উল্লাহ ভূইয়া মানিক এবং এসএম তাজুল ইসলাম।
বক্তারা বলেন, ডিইউজের নির্বাহী কমিটির মধ্যস্থতায় বর্তমানে কার্যরত সমবায় সমিতির সঙ্গে সমন্বয় করে পাশের জমি বরাদ্দ নেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করা যেতে পারে। বিকল্প হিসেবে নতুন সমবায় সমিতি নিবন্ধনের মাধ্যমে আবাসন প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার কথাও তারা উল্লেখ করেন।
তারা আরও বলেন, বিদ্যমান সমিতি বহুতল ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নিলে ডিইউজের আরও সদস্যকে আবাসন সুবিধার আওতায় আনা সম্ভব হবে।
সভায় বক্তারা ঢাকা সাংবাদিক সমবায় সমিতি লিমিটেড (রেজি. নং-৩৫৫)-এর কার্যক্রম নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তাদের দাবি, সমিতির প্রায় ৫০ জন সদস্য অতীতে সরকারের কাছ থেকে বরাদ্দ পাওয়া জমি বিক্রি করে দিয়েছেন। এ কারণে সংশ্লিষ্ট সদস্যদের অব্যাহতি দিয়ে সমিতির অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা প্রতিবেদন বর্তমান ডিইউজে নির্বাহী পরিষদের কাছে উপস্থাপনের আহ্বান জানান তারা।
সাংবাদিকদের আবাসন সমস্যা সমাধানে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের ওপর সভায় গুরুত্বারোপ করা হয়।
এ লক্ষ্যে মনিটরিং সেল এবং বাস্তবায়ন বিষয়ক কমিটি নামে দুটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
মনিটরিং সেলের সদস্যরা হলেন: বাছির জামাল, তালুকদার এএইচএম নুরুল মোমেন (তালুকদার রুমী), আবু বকর, আবুল কালাম, সালাহ উদ্দিন রাজ্জাক, ইকবাল মজুমদার তৌহিদ, এম মোশাররফ হোসাইন, আব্দুল্লাহ মজুমদার, নিজাম উদ্দিন দরবেশ, রাজু আহমেদ, ডিএম অমর, সাইরাস মাহমুদ, মেছবাহ শিমুল, ইলিয়াছ মাহমুদ, মো. হুমায়ুন কবির, মো. ফয়েজ উল্লাহ ভূইয়া মানিক এবং নুরুল হোসেন কাইয়ুম।
বাস্তবায়ন বিষয়ক কমিটির সদস্যরা হলেন: গাযী আনোয়ার (সমন্বয়ক), কামরুল ইসলাম (সহ-সমন্বয়ক), তালুকদার রুমী (অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষক), রফিক লিটন, ফখরুল ইসলাম, আবু হানিফ, আল আমিন, রফিক রাফি, জিয়াউর রহমান, এসএম রিয়েল, এসএম তাজুল ইসলাম এবং নোমান মোশারেফ।
সভায় বিভিন্ন গণমাধ্যমের বিপুলসংখ্যক সাংবাদিক উপস্থিত ছিলেন।
ছবি : সংগৃহীত
রাজধানী ঢাকায় যাত্রীপরিবহনের শৃঙ্খলা ফেরাতে ব্যাটারিচালিত রিকশা (ই-রিকশা) চলাচলের নীতিমালা প্রকাশ করেছে সরকার। নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, লাইসেন্স ছাড়া ঢাকা শহরে ব্যাটারিচালিত রিকশা চলতে পারবে না। গতকাল বৃহস্পতিবার স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ব্যাটারিচালিত রিকশার এই নীতিমালা প্রকাশ করে। নীতিমালায় বলা হয়েছে, ই-রিকশা নিবন্ধনের জন্য কোনো ব্যক্তিকে কর্তৃপক্ষের কাছে ফিসহ কাগজপত্র দাখিল করতে হবে। এরপর বর্ণিত ফরম অনুযায়ী আবেদন করতে হবে।
রেজিস্ট্রেশনের জন্য পাওয়া আবেদন যাচাই-বাছাই করা হবে। যাচাই-বাছাইয়ে সন্তুষ্ট হলে আবেদনের ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে নিবন্ধন হবে। নিবন্ধনের মেয়াদ হবে পাঁচ বছর।
প্রতিটি নিবন্ধিত ই-রিকশার জন্য একটি কিউআর কোডযুক্ত ইউনিক নিবন্ধন নম্বর ও নম্বর প্লেট দেবে কর্তৃপক্ষ। কিউআর কোডযুক্ত নিবন্ধন নম্বর ই-রিকশার দৃশ্যমান স্থানে প্রদর্শন করতে হবে।
আবেদন যাচাই-বাছাইয়ে সন্তুষ্ট না হলে তা নামঞ্জুর করবে কর্তৃপক্ষ। নামঞ্জুরের কারণ আবেদনকারীকে সাত কার্যদিবসের মধ্যে লিখিতভাবে জানানো হবে।
নামঞ্জুরে সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি আদেশ পাওয়ার ১০ কার্যদিবসের মধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আপিল করতে পারবেন। আপিলের ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে।
একটি জাতীয় পরিচয়পত্রের বিপরীতে যেকোনো এক বা একাধিক সিটি করপোরেশন থেকে অনধিক পাঁচটি ই-রিকশার নিবন্ধন নেওয়া যাবে। এক সিটি করপোরেশনে নিবন্ধিত ই-রিকশা অন্য সিটি করপোরেশন এলাকায় বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে চালানো যাবে না।
বুয়েটনির্ধারিত প্রযুক্তিগত মানদণ্ড, নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী, ফিটনেস সার্টিফিকেট ও সংশ্লিষ্ট ট্রাফিক বিভাগের প্রতিস্বাক্ষর ছাড়া কোনো ই-রিকশার নিবন্ধন হবে না। নবায়ন করা যাবে না।
স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইন, ২০০৯-এর ক্ষমতাবলে এ-সংক্রান্ত একটি বিধিমালা প্রণয়ন করেছে সরকার। এটি সিটি করপোরেশন এলাকায় তিন চাকার স্বল্পগতির ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচল বিধিমালা, ২০২৬ নামে অভিহিত হবে। এটি দেশের সব সিটি করপোরেশন এলাকায় চলাচলকারী ই-রিকশার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে।
পর্যায়ক্রমে ই-রিকশাকে বিমার আওতায় আনা হবে। প্রতিটি ই-রিকশার ‘ইকোনমিক লাইফটাইম’ হবে নিবন্ধনের তারিখ থেকে ১২ বছর। এই মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নম্বর প্লেটসহ সংশ্লিষ্ট ই-রিকশার নিবন্ধন বাতিল হবে।
প্রতিটি ই-রিকশায় ‘স্পিডোমিটার’ বা ‘ওডোমিটার’ স্থাপন করতে হবে। ত্রুটিযুক্ত ও অবৈধ যানবাহন চলাচল নিষিদ্ধ। কোনো যান্ত্রিক বা নিরাপত্তা ত্রুটিযুক্ত ও নিবন্ধনবিহীন অবৈধ ই-রিকশা সড়কে চালানো যাবে না।
মেট্রোপলিটন এলাকার ট্রাফিক বিভাগ বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট যৌথভাবে অথবা পৃথকভাবে অবৈধ ই-রিকশা চলাচল বন্ধের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবেন।
ই-রিকশা জাতীয় মহাসড়ক, এক্সপ্রেসওয়ে, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে ও প্রধান বাস চলাচলের সড়ক বা করিডর এবং প্রশাসন কর্তৃক সময়–সময় নিষেধাজ্ঞা আরোপিত সড়কে চলাচল করতে পারবে না।
ই-রিকশা ফুটপাতে চলাচল করতে পারবে না। ই-রিকশাচালক সব সময় সড়কের বাঁ লেন অনুসরণ করে চলাচল করবে।
ই-রিকশাচালক ড্রাইভিং করা অবস্থায় মুঠোফোন ব্যবহার করতে পারবেন না। ই-রিকশাচালক নিয়মবহির্ভূতভাবে ওভারটেকিং ও লেন পরিবর্তন করতে পারবেন না।
নীতিমালায় বলা হয়েছে, ই-রিকশায় চালক ছাড়া আকারভেদে দুই বা চারজনের বেশি যাত্রী পরিবহন করা যাবে না। যাত্রীর হাতে বহনযোগ্য মালামাল ছাড়া অন্য কোনো বাণিজ্যিক পণ্য পরিবহন করা যাবে না।
ই-রিকশায় ৪০ ডেসিবেলের অধিক তীব্রতার হর্ন ব্যবহার করা যাবে না। স্কুল, হাসপাতাল, ধর্মীয় উপাসনালয় বা জনবহুল স্থানে ই-রিকশার সর্বোচ্চ গতি হবে প্রতি ঘণ্টায় ১৫ কিলোমিটার।
ই-রিকশা চলাচলের ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষ ও ট্রাফিক বিভাগ যৌথভাবে রুট (চলাচলের সড়ক) নির্ধারণ করে দেবে। সিটি করপোরেশন এলাকায় রুট হবে জোনভিত্তিক। এক জোনের ই-রিকশা অন্য জোনে চলাচল করতে পারবে না।
নীতিমালায় বলা হয়েছে, কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট ট্রাফিক বিভাগের সঙ্গে পরামর্শক্রমে প্রতিটি ওয়ার্ডে বা উপযুক্ত স্থানে প্রয়োজনীয়সংখ্যক পার্কিং এলাকা নির্ধারণের ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
কর্তৃপক্ষ কর্তৃক অনুমোদিত ও সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশনের লাইসেন্সপ্রাপ্ত চার্জিং পয়েন্ট বা নির্দিষ্ট গ্যারেজে ই-রিকশা ব্যাটারি চার্জ দিতে পারবে। সংশ্লিষ্ট চার্জিং পয়েন্ট বা গ্যারেজে নবায়নযোগ্য জ্বালানি বা সৌরশক্তি ব্যবহারের ব্যবস্থা করতে হবে। ই-রিকশার ব্যাটারি চার্জিং স্টেশনে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহার বৃদ্ধিতে উদ্যোগ গ্রহণ ও উৎসাহিত করতে হবে। অনিয়ন্ত্রিত ও নিয়মবহির্ভূত চার্জিং পরিহার করতে হবে। অবৈধভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহার করে চার্জ করলে বিদ্যমান সংশ্লিষ্ট আইনের আওতায় দণ্ড প্রদান করা হবে।
কে এম তাহসিফ সাউরি
রাজধানীর উত্তরখান থানা এলাকার তুরাগ নদ থেকে বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরির মরদেহ উদ্ধার করেছে নৌ পুলিশ। বুধবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে এসব তথ্য জানান নৌ পুলিশের ঢাকা রিজিয়নের পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মামুন।
তিনি বলেন, বুধবার জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বর থেকে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে তুরাগ নদ থেকে তাহসিফ সাউরির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তাঁর এক আত্মীয়কে খবর দেওয়ার পর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
তাঁর মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি বলে জানান পুলিশ সুপার। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
পুলিশ জানায়, বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন পেয়ে উত্তরখান থানার রাজাবাড়ী ঘাটসংলগ্ন তুরাগ নদে যায় টঙ্গী নৌ পুলিশ ফাঁড়ির একটি দল। সেখানে নদে ভাসমান অবস্থায় অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তাঁর বয়স আনুমানিক ২৮ বছর। মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির সময় তাঁর পরনে সাদা পাজামা ও কালো জামা, হাতে ঘড়ি এবং পকেটে একটি আইফোন পাওয়া যায়। ওই ফোনের মাধ্যমে তাঁর পরিচয় শনাক্ত করা হয়। তিনি বিমানবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরি। তাঁর বাবার নাম কে এম এনায়েতুর। তিনি উত্তরার ১৮ নম্বর সেক্টরের ১৪/বি নম্বর সড়কের বাসিন্দা।
এদিকে, তাহসিফ সাউরির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করা হচ্ছে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় শেখ হাসিনার দেশত্যাগের মুহূর্তের যে ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছিল, সেটি ধারণ করেছিলেন তিনি। তবে এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেননি নৌ পুলিশের কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন।
রাজধানী ঢাকার রাস্তা ও ফুটপাত দখলমুক্ত করার নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে আজ ঢাকা ট্রেড সেন্টার ও ফুলবাড়িয়া সুপারমার্কেট সংলগ্ন ফুটপাত থেকে শতাধিক অবৈধ দোকান উচ্ছেদ করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি)। ডিএসসিসি’র চারজন বিজ্ঞ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট, শতাধিক উচ্ছেদ কর্মী এবং পর্যাপ্ত পুলিশ বলের সহায়তায় এই উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকাল ১০টা থেকে শুরু হয়ে দুপুর ১টা পর্যন্ত এ অভিযান চলে। পে-লোডারসহ বিভিন্ন ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে অবৈধ অবকাঠামো গুঁড়িয়ে দেওয়ার পর উচ্ছেদকৃত মালামাল ও সরঞ্জামাদি জব্দ করা হয়।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আবদুস সালাম সরাসরি উপস্থিত থেকে এ উচ্ছেদ অভিযান পরিদর্শন করেন এবং গণমাধ্যমের সাথে কথা বলেন।
পরিদর্শনকালে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, "সিটি কর্পোরেশনের নিয়মিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে রাস্তা ও ফুটপাত পরিষ্কার এবং দখলমুক্ত রাখা হচ্ছে। হকারদের জন্য নির্দিষ্ট কিছু ফুটপাত, নৈশকালীন মার্কেট ও হলিডে মার্কেট নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে, তারা কেবল সেখানেই বসতে পারবেন। বিশেষ করে গুলিস্তান থেকে সদরঘাট পর্যন্ত পুরো রাস্তা সম্পূর্ণ পরিষ্কার রাখা হবে এবং মূল রাস্তায় কোনোভাবেই হকার বসতে দেওয়া হবে না।"
হকারদের সতর্ক করার বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, "রাস্তা ও ফুটপাত পরিষ্কার রাখার জন্য বিভিন্ন মাধ্যমে সতর্ক করার পাশাপাশি হকার সংগঠনের নেতাদের সাথেও একাধিকবার বৈঠক করা হয়েছে। কিন্তু উচ্ছেদের পরও পুনরায় বসে পড়ায় এখন কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া ছাড়া উপায় নেই। নিয়ম অমান্য করে বসলে মালামাল জব্দের পাশাপাশি প্রয়োজনে গ্রেফতার করা হবে।" এই উচ্ছেদ ও দখলমুক্তকরণ অভিযান একটি চলমান প্রক্রিয়া হিসেবে অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।
অভিযানটি পরিচালনা করেন ডিএসসিসি’র প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা ও বিজ্ঞ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ রেজাউল করিম, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা ও বিজ্ঞ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট জনাব জোনায়েদ কবীর সোহাগ, সম্পত্তি কর্মকর্তা ও বিজ্ঞ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট হাছিবা খান এবং বিজ্ঞ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট (সিনিয়র সহকারী সচিব) মোঃ আমিনুল ইসলাম।
পথচারীদের নিরবচ্ছিন্ন ও নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে ফুটপাত দখলমুক্ত রাখতে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের এই অভিযান সামনেও অব্যাহত থাকবে।
রাজধানীর গুলিস্তান এলাকায় আজ উচ্ছেদ অভিযান চালায় ডিএসসিসি
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক আবদুস সালাম বলেছেন, রাজধানীর গুলিস্তান থেকে সদরঘাট পর্যন্ত পুরো রাস্তা দখলমুক্ত রাখা হবে। এই সড়কের কোথাও হকারদের বসতে দেওয়া হবে না। নির্ধারিত স্থানের বাইরে রাস্তা ও ফুটপাত দখল করে কোনো হকার দোকান বসালে মালামাল জব্দের পাশাপাশি প্রয়োজনে গ্রেপ্তার করা হবে। আজ বুধবার রাজধানীর গুলিস্তানে উচ্ছেদ অভিযান পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন ডিএসসিসি প্রশাসক।
এর আগে সকাল ১০টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত গুলিস্তানের ঢাকা ট্রেড সেন্টার ও ফুলবাড়িয়া সুপারমার্কেট–সংলগ্ন এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান চালায় ডিএসসিসি। এ সময় ফুটপাত দখল করে গড়ে তোলা শতাধিক অবৈধ দোকান ও অবকাঠামো উচ্ছেদ করা হয়। পে-লোডারসহ ভারী যন্ত্রপাতি দিয়ে অবৈধ অবকাঠামো ভেঙে ফেলার পাশাপাশি মালামাল–সরঞ্জাম জব্দ করা হয়।
অভিযান চলাকালে ডিএসসিসি প্রশাসক আবদুস সালাম বলেন, হকারদের জন্য নির্দিষ্ট কিছু ফুটপাত, নৈশকালীন মার্কেট ও হলিডে মার্কেট নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। তাঁরা কেবল সেখানেই বসতে পারবেন। বিশেষ করে গুলিস্তান থেকে সদরঘাট পর্যন্ত পুরো রাস্তা সম্পূর্ণ পরিষ্কার রাখা হবে। মূল রাস্তায় কোনোভাবেই হকার বসতে দেওয়া হবে না।
উচ্ছেদের পর আবার রাস্তা ও ফুটপাত দখল করে দোকান বসানোর বিষয়ে প্রশাসক বলেন, হকারদের বিভিন্ন মাধ্যমে সতর্ক করা হয়েছে। হকার সংগঠনের নেতাদের সঙ্গেও একাধিকবার বৈঠক হয়েছে। এরপরও উচ্ছেদ করা জায়গায় আবার দোকান বসানো হচ্ছে। এ কারণে এখন কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া ছাড়া উপায় নেই।
আবদুস সালাম বলেন, নিয়ম অমান্য করে বসলে মালামাল জব্দের পাশাপাশি প্রয়োজনে গ্রেপ্তার করা হবে। রাস্তা ও ফুটপাত দখলমুক্ত রাখতে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে।
ডিএসসিসি জানিয়েছে, আজকের অভিযানে সংস্থাটির চারজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, শতাধিক উচ্ছেদকর্মী ও ছয় প্লাটুন পুলিশ অংশ নেন।
অভিযান পরিচালনা করেন ডিএসসিসির প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রেজাউল করিম, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জোনায়েদ কবীর সোহাগ, সম্পত্তি কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হাছিবা খান এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম।
পথচারীদের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে ফুটপাত দখলমুক্ত রাখার অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে ডিএসসিসি।
নজীবুর রহমান
মেট্রোরেলে প্রচণ্ড ভিড়। দাঁড়িয়ে থাকা ৬৪ বছর বয়সী নজীবুর রহমান অসুস্থ বোধ করছিলেন। বসে থাকা যাত্রীদের উদ্দেশে কয়েকবার তাঁকে বসতে দেওয়ার অনুরোধও জানান। কিন্তু কেউ সাড়া দেননি বলে অভিযোগ তাঁর ছেলে নাকিবুর রহমানের। এর এক থেকে দুই মিনিটের মধ্যে মেট্রোরেলের মেঝেতে পড়ে যান নজীবুর রহমান। পরে তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন।
নজীবুর রহমান জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ছিলেন। ২৪ অক্টোবর বিকেলে মেট্রোরেলে অসুস্থ হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়। বাবার মৃত্যুর পর একটি আক্ষেপই তাড়া করে ফিরছে ছেলে নাকিবুরকে।
তিনি মঙ্গলবার রাতে বলেন, ‘ছেলে হিসেবে আজীবন একটাই আক্ষেপ থাকবে, কেউ যদি আব্বুকে বসতে দিতেন। তাহলে হয়তো বাবা এভাবে নিচে না পড়ে, কারও কোলে মাথা রেখে মারা যেতে পারতেন।’
নাকিবুর রহমান জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য। পাশাপাশি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। তিনি জানান, ২৪ অক্টোবর সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকদের একটি অনুষ্ঠানে অংশ নিতে যান তাঁর বাবা। অনুষ্ঠান শেষে বেলা তিনটার দিকে শাহবাগ মেট্রোস্টেশন থেকে উত্তরার উদ্দেশে মেট্রোরেলে ওঠেন তিনি। তাঁর সঙ্গে ছিলেন বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক। তাঁর কাছ থেকেই তিনি এ ঘটনা শুনেছেন।
কয়েক দিনের ছুটি শেষ হওয়ায় সেদিন মেট্রোরেলে প্রচণ্ড ভিড় ছিল। বসার আসন না পেয়ে দুজনই ভেতরের হাতল ধরে দাঁড়িয়ে ছিলেন। ভিড়ের মধ্যে ঠেলাঠেলিতে একপর্যায়ে তাঁদের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়।
নাকিবুর রহমান জানান, বেলা সাড়ে তিনটার দিকে মেট্রোরেল শেওড়াপাড়া এলাকায় পৌঁছালে ঠেলাঠেলির মধ্যে তাঁর বাবা অসুস্থ হয়ে পড়েন। এ সময় সিটে বসে থাকা যাত্রীদের কাছে কয়েকবার বসার সুযোগ চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু কেউ সাড়া দেননি। এর এক থেকে দুই মিনিটের মধ্যে তিনি মেঝেতে পড়ে যান।
পাশে দাঁড়িয়ে থাকা যাত্রীরা তাঁকে ধরে তোলার চেষ্টা করেন। শোরগোল শুনে বাবার সহকর্মীও পরে সেখানে আসেন। অন্য যাত্রীদের সহায়তায় পরীক্ষা শেষে বুঝতে পারেন, নজীবুর রহমান বেঁচে নেই। নাকিবুরের ধারণা, মেট্রোরেলের ভেতরে পড়ে যাওয়ার সময়ই তাঁর বাবার মৃত্যু হয়েছিল।
শেষবিদায়ে থাকতে পারেননি পরিবারের আর কেউ
নাকিবুর রহমান জানান, তাঁর বাবার ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ ছিল। বাবাকে মেট্রোরেলের উত্তরা উত্তর স্টেশনে নামানোর পর আনসার সদস্যদের সহায়তায় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করা হয়। পরে অ্যাম্বুলেন্সে করে তাঁকে উত্তরার ক্রিসেন্ট হাসপাতালে নেওয়া হয়। বাবার সহকর্মীদের কাছ থেকে খবর পেয়ে সেখানে যান তিনি। বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে চিকিৎসকেরা তাঁর বাবাকে আনুষ্ঠানিকভাবে মৃত ঘোষণা করেন।
বাবার মৃত্যুর সময় পরিবারের কেউ পাশে ছিলেন না। নাকিবুর জানান, তাঁর মা ও ছোট ভাই ওমরাহ পালনে সৌদি আরবে ছিলেন। সৌদি আরবের বিমানের টিকিটসংক্রান্ত জটিলতায় তাঁরা সময়মতো দেশে ফিরতে পারেননি। তাঁর বোন পরিবার নিয়ে নিউজিল্যান্ডে থাকেন। আরেক ভাইও সেখানে পড়াশোনা করেন। তাঁরাও বাবার মৃত্যুর পর দেশে আসতে পারেননি। পরিবারের এই সদস্যদের ছাড়াই বরিশালের গৌরনদী উপজেলায় গ্রামের বাড়িতে নজীবুর রহমানকে দাফন করা হয়।
বাবার মৃত্যুর ঘটনা বলতে গিয়ে নাকিবুর বলেন, ‘আমি কাউকে দোষারোপ করছি না। যে কেউ এমন পরিস্থিতিতে পড়তে পারেন। বয়স্ক মানুষের প্রতি আমাদের সবার সহানুভূতিশীল হওয়া উচিত। তাঁদের সঙ্গে বন্ধুসুলভ আচরণ করুন।’
ঢাকা মহানগরীকে একটি পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে গঠিত পরিবীক্ষণ টিমগুলোকে কঠোর আইনি অবস্থান নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। একইসঙ্গে ঢাকায় সরকারি বাসা নিয়ে যে চাকরিজীবীরা থাকছেন, তাদের উদ্দেশে কড়া এক হুঁশিয়ারি বার্তাও দিয়েছেন তিনি।
তিনি বলেছেন, ঢাকা শহরের পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে কোনো রকম আপস করা হবে না। এমনকি সরকারি বাসস্থানে অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ কিংবা এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গেলে সরাসরি সংশ্লিষ্ট ফ্ল্যাটের বরাদ্দ বাতিল এবং নিয়ম লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে বড় অঙ্কের জরিমানা করা হবে।সোমবার (২৬ অক্টোবর) বিকেলে তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শাপলা হলে আয়োজিত ‘ঢাকা মহানগরীর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম বাস্তবায়ন ও পরিবীক্ষণ’ বিষয়ক এক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।
মীর শাহে আলম বলেন, ঢাকা শহরকে বাসযোগ্য নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে প্রধানমন্ত্রী প্রথম দিন থেকেই অত্যন্ত সচেষ্ট। তিনি স্বচক্ষে বিভিন্ন সরকারি হাসপাতাল ও কোয়ার্টারের অবস্থা দেখে এসেছেন। তবে অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, বড় বড় সরকারি কোয়ার্টার, বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্ট ও হাসপাতাল পরিদর্শনে গিয়ে এডিস মশার লার্ভা ও চরম অবহেলার চিত্র পাওয়া গেছে।পরিবীক্ষণ কমিটির সদস্যদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনারা প্রধানমন্ত্রীর প্রতিনিধি হিসেবে মাঠে কাজ করছেন। তাই যেখানেই অনিয়ম ও লার্ভা পাবেন, সেখানেই তাৎক্ষণিক আইনগত ব্যবস্থা ও কঠোর জরিমানা আদায় করবেন। সরকারি কর্মচারীরা নিজেদের কোয়ার্টার পরিষ্কার রাখতে না পারলে তাদের সরকারি বাসায় থাকার কোনো যোগ্যতা নেই।নগরীর সৌন্দর্য ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী জানান, ঢাকার হাতিরঝিল, ধানমন্ডি, বনানী ও গুলশান লেক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে পূর্বের সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনতে রাজউক ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন কাজ করছে। এছাড়া উত্তর সিটি করপোরেশনের ২৯টি এবং দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ২৬টি খাল পুনঃখনন, গাইড ওয়াল নির্মাণ ও নেটিং করার কাজ চলমান রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, প্লাস্টিক বা লোহার ডাস্টবিন চুরি হয়ে যাওয়ার বিষয়টি মাথায় রেখে ফাইবার বোর্ড দিয়ে নতুন বিন তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা দুই সিটি করপোরেশন পর্যায়ক্রমে স্থাপন করবে।
টিমগুলোর সমন্বিত ও কঠোর ভূমিকা থাকলে আগামী এক-দুই মাসের মধ্যেই ঢাকার দৃশ্যমান পরিবর্তন আসবে বলে এ সময় আশাবাদ ব্যক্ত করেন প্রতিমন্ত্রী।
উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা বাস্তবায়নে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আওতাধীন প্রতিটি আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের এলাকাভিত্তিক ২০টি জোনে ২০টি বিশেষ পরিবীক্ষণ কমিটি গঠন করা হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা উত্তরে ১০টি এবং দক্ষিণে ১০টি কমিটি কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এসব জোনাল কমিটির প্রধান হিসেবে নেতৃত্ব দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিচালক পর্যায়ের কর্মকর্তারা।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর। এছাড়া, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিবীক্ষণের দায়িত্বে থাকা ২০ কমিটির সদস্যরাও অংশ নেন এতে।