রাজধানীর ব্যস্ততম নিউমার্কেট এলাকার নূরজাহান সুপার মার্কেটের সামনে বৃষ্টির কারণে জমে থাকা হাঁটু পরিমাণ পানি। ছবি: সংগৃহীত

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ১১ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১:৫৩ এএম

বৃষ্টির শুরুর এক ঘণ্টাতেই হাঁটু পরিমাণ পানি জমে গিয়েছে রাজধানীর ব্যস্ততম নিউমার্কেট এলাকায়। এতে বিপাকে পড়েছেন ক্রেতা, ব্যবসায়ী, পথচারী ও ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীরা। জলাবদ্ধতার কারণে যান চলাচল ব্যাহত হওয়ায় রিকশাসহ ছোট যানবাহনের ভাড়াও বেড়ে যায় প্রায় দ্বিগুণ।


সোমবার (১০ আগস্ট) সন্ধ্যা ৭টার দিকে শুরু হওয়া টানা বৃষ্টিতে নিউমার্কেট ও আশপাশের বিভিন্ন সড়কে পানি জমে যায়। এক ঘণ্টা পর বৃষ্টি কমে এলেও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি পড়ছিল।


সরেজমিনে দেখা যায়, চন্দ্রিমা সুপার মার্কেট, নূরজাহান মার্কেট, ঢাকা কলেজের মূল ফটক, নায়েমের গলি থেকে টিচার্স ট্রেনিং কলেজ এবং নিউমার্কেটের দ্বিতীয় ফটক পর্যন্ত সড়কের বিভিন্ন অংশ পানিতে তলিয়ে গেছে। কোথাও কোথাও হাঁটু পরিমাণ পানি জমে থাকায় স্বাভাবিকভাবে চলাচল করতে পারছেন না পথচারীরা।


এছাড়া, ঢাকা কলেজের মূল ফটক ও নায়েমের গলিতে পানি জমে থাকায় আবাসিক হলের শিক্ষার্থীরাও পড়েছেন ভোগান্তিতে। প্রয়োজনীয় কাজে বাইরে বের হওয়া কিংবা হলে ফেরার সময় তাদের পানি মাড়িয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। এদিকে, জলাবদ্ধতার কারণে ক্রেতাদের উপস্থিতি কমে যাওয়ায় বেচাকেনা কমেছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।


নূরজাহান সুপার মার্কেটের দোকানদার আব্দুল গফুর বলেন, বিশ বছর ধরে এই এলাকায় ব্যবসা করছি। একটু বৃষ্টি হলেই মার্কেটের সামনে পানি উঠে যায়। পানি উঠলে ক্রেতা থাকে না। এই সমস্যার কোনো সমাধান হচ্ছে না।


ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী মিজান জানান, বৃষ্টি হলেই ঢাকা কলেজের গেট থেকে নায়েমের গলি-হলপাড়া পর্যন্ত জলাবদ্ধতা হয়। রাস্তায় পানি থাকায় খাওয়া-দাওয়াসহ প্রয়োজনীয় কাজে বাইরে যেতে পারি না।


সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা সমস্যার স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।




রাজধানী

  • প্রকাশ : সোমবার ০৫ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৪:১৬ পিএম

রাজধানীর পূর্ব কাজীপাড়ার মাদবর পুকুরপাড়ে ভাড়া বাসায় থাকেন একটি নামি করপোরেট প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা জাকির হোসেন। ২৬ বছর ধরে চাকরি করছেন তিনি। 


কর্মস্থলের নিয়ম অনুযায়ী, আর চার বছর পর অবসরে যেতে হবে। অথচ দীর্ঘ কর্মজীবনেও ঢাকায় বাড়ি করার জন্য জমি কেনা কিংবা একটি ফ্ল্যাট কেনার সামর্থ্য হয়নি তাঁর।


হতাশা প্রকাশ করে জাকির হোসেন বলেন, একসময় রাজধানীতে নিজের একটি ফ্ল্যাট কিংবা শহরতলিতে স্বপ্নের ঠিকানা গড়ার স্বপ্ন দেখতেন। এখন আর সেই স্বপ্ন দেখেন না। তিনি বলেন, ‘যা বেতন পাই, তা দিয়ে সংসার মোটামুটি চলে। অতিরিক্ত কিছু করার মতো টাকা হাতে থাকে না। ছেলেমেয়ের লেখাপড়া, অসুস্থ মায়ের ওষুধপত্র ও পরিবারের পেছনেই সব ব্যয় হয়ে যায়।’


জাকির হোসেনের মতো এমন বাস্তবতার মুখোমুখি ঢাকায় বসবাসকারী বহু মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত কর্মজীবী মানুষ। নিম্ন আয়ের মানুষের অবস্থা আরও করুণ। তাদের একটি অংশের ঠাঁই হয় বস্তি কিংবা বসবাসের অনুপযোগী ছোট কক্ষে।


রাজধানীতে কত মানুষ নিজের বাড়িতে থাকেন, তার সুনির্দিষ্ট হিসাব নেই। তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ধারণা, ঢাকার জনসংখ্যা আড়াই কোটি হলে সর্বোচ্চ ৫০ লাখ মানুষের নিজস্ব আবাসন রয়েছে। সে হিসাবে বাকি দুই কোটি মানুষকে ভাড়া বাসায় থাকতে হয়।


এমন বাস্তবতায় আজ সোমবার পালিত হচ্ছে বিশ্ব বসতি দিবস। ১৯৮৫ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে দিবসটি পালনের সিদ্ধান্ত হয়। ১৯৮৬ সাল থেকে প্রতিবছর অক্টোবর মাসের প্রথম সোমবার দিবসটি পালিত হয়ে আসছে। এবারের প্রতিপাদ্য ‘সর্বজনীন বাসস্থান, টেকসই নগরায়ণ’। দিবসটি উপলক্ষে সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। এর একটি কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান থাকবেন। 


গতকাল রোববার গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে শেরেবাংলা নগর এলাকায় র‍্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ ছাড়া বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আজ থেকে শুরু হচ্ছে তিন দিনের আবাসন মেলা।


রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (রিহ্যাব) সভাপতি ড. আলী আফজাল বলেন, আবাসন সংকট সমাধানে সরকারি ও বেসরকারি খাতকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। প্রথমত, মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্তের জন্য বিশেষ আবাসন অর্থায়ন ব্যবস্থা চালু করা প্রয়োজন, যাতে দীর্ঘ মেয়াদে কম সুদে ঋণ পাওয়া যায়। দ্বিতীয়ত, অনুমোদন প্রক্রিয়া আরও সহজ ও স্বচ্ছ করতে হবে।


ড. আলী আফজাল বলেন, আবাসন খাতের ওপর কর ও ফি যৌক্তিক পর্যায়ে নামিয়ে আনতে হবে। সরকার চাইলে বেসরকারি উদ্যোক্তাদের সঙ্গে অংশীদারিত্বের মাধ্যমে রাজধানীসহ দেশের সব জেলা শহরে সাশ্রয়ী আবাসন প্রকল্প হাতে নিতে পারে। 


তিনি বলেন, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, নীতিতে স্থিতিশীলতা থাকতে হবে। উদ্যোক্তারা যদি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও বিনিয়োগের নিশ্চয়তা পান, তাহলে তারা আরও বেশি আবাসন তৈরি করতে পারবেন। এতে অনেকেরই নিজস্ব বাসস্থান হবে।


রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক), জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ, বাংলাদেশ হাউজিং অ্যান্ড বিল্ডিং রিসার্চ ইনস্টিটিউট, রিহ্যাবসহ আবাসন খাতের সঙ্গে সম্পৃক্ত দায়িত্বশীলদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জলবায়ু পরিবর্তন, নদীভাঙনসহ বিভিন্ন কারণে রাজধানীতে মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। তবে সবার মাথা গোঁজার ঠাঁই রাজধানীতে হচ্ছে না। তারা বস্তি, ফুটপাত, বাস-লঞ্চ-ট্রেনস্টেশনেও রাত কাটাচ্ছেন। 


ইনস্টিটিউট ফর প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (আইপিডি) নির্বাহী পরিচালক ও নগর পরিকল্পনাবিদ ড. আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, রাজধানীতে কিছু মানুষ ভাড়া বাসায় থাকবেন, সেটাই স্বাভাবিক। কিন্তু ঢাকায় নিজস্ব আবাসন ও ভাড়া বাসায় বসবাসের মধ্যে ভারসাম্যহীনতা অত্যন্ত প্রকট। এখানে ৭০ শতাংশের বেশি মানুষের নিজস্ব বাসস্থান নেই। তাদের মধ্যে নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যবিত্তের পাশাপাশি রয়েছেন বস্তিবাসীও।


ড. আদিল বলেন, এসব মানুষের পক্ষে নিজস্ব আবাসনের ব্যবস্থা করা কঠিন। তাদের আয়ের ৪০ থেকে ৫০ শতাংশই আবাসন খাতে ব্যয় হয়। ফলে যুগের পর যুগ তারা নিজস্ব আবাসনের বাইরে থেকে যাচ্ছেন। এ পরিস্থিতির অন্যতম কারণ সরকারের যথাযথ আবাসন নীতির ঘাটতি।


এই ভারসাম্যহীনতা দূর করতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের জন্য জমি বরাদ্দ এবং স্বল্প সুদে ঋণের ব্যবস্থা করার পরামর্শ দেন ড. আদিল। পাশাপাশি সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বে আবাসন প্রকল্প গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন। সবার জন্য বাসস্থান নিশ্চিত করার বিষয়ে সরকারের দায়িত্বশীল কেউ কথা বলতে রাজি হননি। তবে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের একটি তালিকা সরবরাহ করা হয়েছে। 


মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন শহরে উচ্চ, মধ্যম ও স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য ভূমি উন্নয়ন, অবকাঠামো নির্মাণ এবং আবাসিক প্লট তৈরি করে বরাদ্দ দেওয়ার কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য ফ্ল্যাট নির্মাণের পাশাপাশি স্বল্প খরচে টেকসই ঘর তৈরির কলাকৌশল ও প্রযুক্তি উদ্ভাবন এবং তা বিপণনের উদ্যোগও রয়েছে। গৃহহীন মানুষের পুনর্বাসনের ব্যবস্থাও নেওয়া হচ্ছে। 


মন্ত্রণালয়ের তথ্য বলছে, ৩ হাজার ৫১৩ কোটি ৯৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ৪৪টি প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ চলছে। এর মধ্যে রয়েছে মিরপুরের ৯ নম্বর সেকশনে ১৫টি ১৪ তলা আবাসিক ভবন নির্মাণ প্রকল্প।


বিকাশ চন্দ্র সরকার

  • প্রকাশ : সোমবার ০৫ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ২:২৬ পিএম

রাজধানীর ইসিবি চত্বরে নিউ গিনি প্রপার্টি আবাসন প্রকল্পে হামলার অন্যতম পরিকল্পনাকারী বিকাশ চন্দ্র সরকারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার গভীর রাতে মাগুরা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। ডিবির এক কর্মকর্তা আজ সোমবার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। 


সূত্র জানিয়েছে, হামলার আগে তিনি ওই আবাসন প্রকল্পের চেয়ারম্যান নাজিমুদ্দিন ভূঁইয়া এবং সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল গোলাম মহিউদ্দিন চৌধুরীসহ জমির মালিকদের সঙ্গে সমঝোতার চেষ্টা করেছিলেন। যখন সমঝোতা হয়নি তখন মামলার এক নম্বর আসামি শাহরিয়া মাহমুদকে হামলার জন্য সন্ত্রাসী ভাড়া করে দেন।  


এদিকে হামলার এই ঘটনায় গ্রেপ্তার ছয়জনকে অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কারাগার থেকে মিন্টো রোডে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের কার্যালয়ে নেওয়া হয়েছে। রোববার তাদের তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। তারা হলেন–শাহরিয়া মাহমুদ, মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম লীগ নেতা শাহ আলম অনিক, কুষ্টিয়া-২ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য (এমপি) মো. আব্দুর গফুরের জামাতা মিজানুর রহমান, ভাসানটেক বস্তির বাসিন্দা মো. মামুন, মো. মুন্না ও অটোরিকশাচালক আসলাম। 


এদিকে তিন দিনের রিমান্ড শেষ হওয়ায় সোমবার ওই মামলার চার নম্বর আসামি মেজর জেনারেল (অব.) গোলাম মহিউদ্দিন চৌধুরীকে আদালতে হাজির করে পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। পরে তাঁর জামিন মঞ্জুর করেছেন আদালত। 


ডিবির গুলশান বিভাগের উপকমিশনার আ ফ ম আনোয়ার হোসেন খান বলেন, ছয় আসামিকে ডিবিতে আনা হয়েছে। হামলার ঘটনায় তাদের বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। 


পুলিশ জানায়, জমি নিয়ে বিরোধের জেরে ২৬ সেপ্টেম্বর রাত সোয়া ১১টার দিকে নিউগিনি আবাসন প্রকল্প ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে সশস্ত্র হামলা, ভাঙচুর ও লটুপাট চালানো হয়। ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ে হামলাকারীরা। হামলার ঘটনা সমন্বয়ের দায়িত্বে ছিলেন গ্রেপ্তার হওয়া সাবেক মাদ্রাসাশিক্ষক শাহরিয়ার মাহমুদ। হামলার প্রায় সাড়ে আট ঘণ্টা আগেও ইসিবি চত্বর এলাকায় একটি রেস্তোরাঁয় শাহরিয়া মাহমুদ ও মামলায় ২ নম্বর আসামি ক্যান্টনমেন্ট থানা জামায়াতে ইসলামীর রুকন আবুল কাশেমসহ ১৪ জন বৈঠক করেন। বৈঠকের ছবি তদন্ত-সংশ্লিষ্টদের হাতে এসেছে। বৈঠকে বিকাশ কুমার নামে একজন ঠিকাদারকেও শনাক্ত করেছেন তদন্ত-সংশ্লিষ্টরা। 


তদন্ত সূত্র জানায়, বৈঠকে যাদের ছবি দেখা যাচ্ছে, তাদের মধ্যে প্রথমে শাহরিয়া মাহমুদ গ্রেপ্তার হন। আরও কয়েকজনকে শনাক্ত করা হয়েছে। গতকাল রাতে বিকাশ কুমার হলেন। 


প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, হামলকারীরা ফাঁকা গুলি ছুড়তে ছুড়তে আবাসন প্রকল্পে প্রবেশ করেছিল। অন্তত ৫০টি গুলি ছোড়া হয়। এতে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন সেখানকার নির্মাণ শ্রমিক, নিরাপত্তাকর্মী ও আশপাশের বাসিন্দারা। হামলায় অনেক তরুণকে অংশ নিতে দেখা গেছে। ঘটনাস্থল ও ঘটনার পর যে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল, তারা বস্তির বাসিন্দা ও অটোরিকশাচালক। তাদের ভাড়া করে আনা হয়েছিল।


সূত্র জানিয়েছে, অস্ত্রগুলো বৃহত্তর মিরপুরের কোনো সন্ত্রাসী গোষ্ঠী সরবরাহ করে থাকতে পারে। তবে আগ্নেয়াস্ত্রগুলো এখনও উদ্ধার হয়নি।


  • প্রকাশ : সোমবার ০৫ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১:৪২ এএম

যানজট নিরসন, সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা ও জনদুর্ভোগ কমাতে কদমতলী বাস টার্মিনালসহ কেরানীগঞ্জ দক্ষিণ এলাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ট্রাফিক পয়েন্ট সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার জনাব শামীমা পারভীন।


রোববার (৪ অক্টোবর) পরিদর্শনকালে পুলিশ সুপার সংশ্লিষ্ট এলাকার যান চলাচলের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। একই সঙ্গে স্থানীয় জনসাধারণ, পথচারী ও পরিবহনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে মতবিনিময় করে যানজটের কারণ, জনদুর্ভোগ এবং তা নিরসনে চলমান কার্যক্রমের অগ্রগতি সম্পর্কে তাঁদের মতামত ও পরামর্শ নেন।


এ সময় স্থানীয় জনসাধারণ ঢাকা জেলা পুলিশের উদ্যোগে যানজট নিরসনে পরিচালিত বিভিন্ন কার্যক্রমের প্রশংসা করেন। তাঁদের ভাষ্য অনুযায়ী, ফুটপাত ও সড়ক দখলমুক্ত করার উদ্যোগ এবং অবৈধ হকার উচ্ছেদ কার্যক্রমের ফলে পথচারীদের চলাচল সহজ হয়েছে। পাশাপাশি সড়কে যানবাহন চলাচলেও আগের তুলনায় শৃঙ্খলা ফিরে এসেছে। এ উদ্যোগের জন্য তাঁরা পুলিশ সুপারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।


পরিদর্শনকালে পুলিশ সুপার শামীমা পারভীন বলেন, জনসাধারণের নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে ঢাকা জেলা পুলিশ নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। যানজট নিরসন, সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা এবং জনদুর্ভোগ কমাতে নেওয়া কার্যক্রম ভবিষ্যতেও ধারাবাহিকভাবে অব্যাহত থাকবে।


তিনি একটি যানজটমুক্ত, নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল সড়ক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সংশ্লিষ্ট সকলের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেন।


এ সময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম, অপস্ অ্যান্ড ট্রাফিক-দক্ষিণ) জনাব তরিকুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) জনাব সুবাস চন্দ্র সাহা, এবং ঢাকা জেলা ট্রাফিক পুলিশের টিআই প্রশাসন (দক্ষিণ) শহিদুল আলম, ঢাকা জেলা ডিবি দক্ষিণের  অফিসার ইনচার্জ আশফাক রাগীব হাসান।


এ ছাড়া ঢাকা জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।


  • প্রকাশ : রবিবার ০৪ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৩:১৮ পিএম

দুবাই থেকে আসা এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে দুই বিমানকর্মীর জুতার ভেতর থেকে ৯ দশমিক ৩৪ কেজি স্বর্ণ উদ্ধার করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (সিআইআইডি)। উদ্ধার করা স্বর্ণের আনুমানিক বাজারমূল্য ১৬ কোটি ২৫ লাখ টাকা।


রোববার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ২১ নম্বর গেট সংলগ্ন ৪ নম্বর বোর্ডিং ব্রিজের নিচে অ্যাপ্রোন এলাকায় অভিযান চালিয়ে এসব স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়।


কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর জানায়, দুবাই থেকে আসা এমিরেটস এয়ারলাইন্সের ইকে-০৫৮২ ফ্লাইটের দুই বিমানকর্মী মো. মানিক মিয়া ও মো. মিজানুর রহমানের জুতার ভেতর বিশেষ কায়দায় লুকানো অবস্থায় ৮০টি স্বর্ণবার উদ্ধার করা হয়। তারা দুজনই এয়ারক্রাফট টেকনিক্যাল হেলপার হিসেবে কর্মরত।


উদ্ধার করা প্রতিটি স্বর্ণবারের ওজন প্রায় ১১৭ গ্রাম। সব মিলিয়ে স্বর্ণের মোট ওজন ৯ দশমিক ৩৪ কেজি।


বিমানকর্মীদের জুতার ভেতর স্বর্ণবার লুকিয়ে পাচারের ঘটনায় কারা জড়িত এবং এসব স্বর্ণ কার কাছে পৌঁছানোর কথা ছিল, তা খতিয়ে দেখছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। এ ঘটনায় আইনী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।


  • প্রকাশ : শনিবার ০৩ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৯:৪৪ পিএম

শিল্পাঞ্চল আশুলিয়াসহ সাভার ও ধামরাইয়ের বিভিন্ন শিল্পকারখানা থেকে বৈদ্যুতিক মিটার চুরি করে ঘটনাস্থলে বিকাশ নম্বর রেখে টাকা আদায়ের অভিযোগে সংঘবদ্ধ চক্রের দুই সক্রিয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে শিল্প পুলিশ-এক (ঢাকা)। পুলিশের দাবি, চুরি করা মিটার ফেরত দেওয়ার বিনিময়ে দর-কষাকষির মাধ্যমে বিকাশে টাকা নিত চক্রটি।


শনিবার (৩ অক্টোবর) দুপুর দুই টার দিকে আশুলিয়ার শ্রীপুরে শিল্প পুলিশ-এক কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান শিল্প পুলিশ-এক এর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া (পিপিএম)।


গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন সিরাজগঞ্জের চৌহালী থানার পাথরাইল গ্রামের কাইয়ুম আলীর ছেলে মো. সবুজ মিয়া ওরফে ‘মিটার সবুজ’ (২৫) এবং একই উপজেলার রেহাই পুকুরিয়া এলাকার লিটন মোল্লার ছেলে মো. মারুফ মোল্লা (৩৫)।


পুলিশ জানায়, গত কয়েক মাস ধরে সাভার, আশুলিয়া ও ধামরাইয়ের শিল্পাঞ্চলের বিভিন্ন কারখানা ও প্রতিষ্ঠানের বিদ্যুৎ মিটার চুরি করে আসছিল চক্রটি। মিটার চুরির পর সেটি আশপাশের কোনো স্থানে লুকিয়ে রেখে পলিথিনে মোড়ানো একটি চিরকুটে বিকাশ নম্বর লিখে যেত। পরে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষ ওই নম্বরে যোগাযোগ করলে দর-কষাকষির মাধ্যমে বিকাশে টাকা নিয়ে মিটার ফেরত দেওয়া হতো বলে পুলিশের ভাষ্য।


পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, গত পাচ আগস্ট ধামরাইয়ের ঢুলিভিটা এলাকায় ‘দি একমি ল্যাবরেটরিজ লিমিটেড’-এর এক নম্বর গেটের সামনে থেকে পল্লী বিদ্যুতের একটি মিটার চুরি হয়। এ ঘটনায় ধামরাই থানায় মামলা হলে শিল্প পুলিশ- এক ছায়া তদন্ত শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তি ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আসামিদের শনাক্ত করা হয়।


এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার (২ অক্টোবর) বিকেল ৩টার দিকে আশুলিয়ার পলাশবাড়ী এলাকার ঘোড়াপীর মাজারসংলগ্ন মানিকগঞ্জ বুক হাউসের সামনে অভিযান চালায় শিল্প পুলিশের একটি দল। পুলিশ জানায়, এ সময় মোটরসাইকেলে থাকা সবুজ মিয়া ও মারুফ মোল্লাকে থামার সংকেত দেওয়া হলে তারা পালানোর চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পড়ে গেলে তারা আহত হন। পরে তাদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করে গ্রেপ্তার করা হয়। একই ঘটনায় অভিযান পরিচালনাকারী পুলিশের দুই সদস্যও আহত হন বলে জানানো হয়েছে।


পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সবুজ মিয়া শিল্পাঞ্চল থেকে ১৫০ থেকে ২০০টি এবং মারুফ মোল্লা ৬০ থেকে ৭০টি মিটার চুরির কথা জানিয়েছেন। তবে এসব তথ্যের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা হচ্ছে।


শিল্প পুলিশের তথ্যমতে, সাম্প্রতিক সময়ে একমি ল্যাবরেটরিজ, স্টারলিং লন্ড্রি অ্যান্ড ডেনিমস লিমিটেড, কাইজেন মেটাল ইন্ডাস্ট্রিজ, বার্জার পেইন্টস বাংলাদেশ লিমিটেড, বাংলাদেশ জে ডব্লিউ টি কোম্পানি, প্যাক অ্যান্ড টিম প্যাকেজিং লিমিটেড, ম্যাকটেক করপোরেশন, আয়েশা ক্লোথিং, ইফাদ অটোস, ট্রেন্ড সেটার্স ট্রিমস ইন্ডাস্ট্রিজ, ইউবেস্ট (বাংলা) ফ্যাশন, টর্ক ডিজাইন, এম এম মাল্টিমাইন্ড নিট গার্মেন্টস, সিনলিয়ান ইলেকট্রনিক্স টেকনোলজি বাংলাদেশ এবং ফেব্রিলাইফ ফ্যাশনসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে মিটার চুরির ঘটনা ঘটেছে।


গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের একটি হেক্সিং ব্র্যান্ডের বিদ্যুৎ মিটার, দুটি অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোন এবং একটি কালো-লাল রঙের বাজাজ পালসার ১৫০ সিসি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।


পুলিশ আরও জানায়, সবুজ মিয়ার বিরুদ্ধে সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুর ও কামারখন্দ, টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর ও মির্জাপুরসহ বিভিন্ন থানায় চুরি, চাদাবাজি ও মাদকসংক্রান্ত ছয়টি মামলা রয়েছে। মারুফ মোল্লার বিরুদ্ধে আশুলিয়া, টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর ও মির্জাপুর, সিরাজগঞ্জের চৌহালী, বেলকুচি ও কামারখন্দ এবং মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া ও সিংগাইর থানায় চুরি, দস্যুতা, চাঁদাবাজি ও মাদকসংক্রান্ত মোট ১০টি মামলা রয়েছে বলে পুলিশের দাবি। এসব মামলা বিচারাধীন।


সংবাদ সম্মেলনে শিল্প পুলিশ- এক এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মাহবুবুল হক সজীব, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপারেশনস অ্যান্ড ইন্টেলিজেন্স) সৈয়দ ফয়ছল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম, লজিস্টিকস অ্যান্ড ট্রেনিং) মো. তোফাজ্জল হোসেন এবং সহকারী পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. রাশেদুল ইসলাম বিশ্বাসসহ শিল্প পুলিশের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।



  • প্রকাশ : শনিবার ০৩ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৯:০৭ পিএম

রাজধানীর মিরপুর ১০ নম্বর সেকশনের সি ব্লকের অ্যাভিনিউ-২ সড়ক। গতকাল শুক্রবার বেলা তিনটার দিকে পানির ট্যাংক এলাকায় এসে থামল ব্যাটারিচালিত একটি অটোরিকশা। আরোহী ছিলেন দুই নারী। একজন ব্যাগ থেকে ভাড়ার টাকা বের করছিলেন, অন্যজন তাকাচ্ছিলেন চারদিকে। সড়ক ও ফুটপাতজুড়ে কোথাও কোনো দোকান নেই, নেই হকার বা ভ্রাম্যমাণ কোনো বিক্রেতাও।


চারপাশ এতটাই ফাঁকা যে রিকশা থেকে নামবেন কি না, তা নিয়েও যেন খানিকটা দ্বিধায় পড়েছিলেন তাঁরা। কারণ, এত দিনের চেনা জায়গাটি যেন ভিন্ন রূপ নিয়েছে।


শেষ পর্যন্ত ভাড়া মিটিয়ে রিকশা থেকে নামলেন দুজন। এগিয়ে গিয়ে কথা বলে জানা গেল, তাঁরা এসেছেন মিরপুর ১০-এর হোপ মার্কেটে কাপড় কিনতে। অতীতেও এখান থেকে কাপড় কিনেছেন; কিন্তু পরিচিত এই জায়গায় এসে দোকানপাটের কোনো চিহ্ন না দেখে অবাক হয়েছেন। গত বুধবার ওই এলাকায় অভিযান চালিয়ে ফুটপাত ও সড়ক থেকে হকার ও ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ীদের উচ্ছেদ করা হয়েছে-এ তথ্য তাঁদের জানা ছিল না।


এলাকাটিতে হোপ প্লাজা নামের একটি ভবন আছে। এর আশপাশের সড়ক ও ফুটপাতে এত দিন ভ্রাম্যমাণ যে বাজার বসত, তা হোপ মার্কেট নামে পরিচিতি পায়।


গতকাল কেনাকাটা করতে আসা দুই নারীই ছিলেন শিক্ষার্থী। রাজধানীর শেওড়াপাড়ায় একটি ছাত্রীনিবাসে থাকেন। তাঁদের একজন সুরাইয়া মিম, অন্যজন নওশীন জাহান। হোপ মার্কেটে এসে কেনাকাটা করতে না পেরে কিছুটা আক্ষেপ প্রকাশ করেন। তবে ফুটপাত ও সড়কের সুন্দর ফাঁকা অবস্থা দেখে ভালো লাগছে বলেও তাঁরা জানান।


সুরাইয়া মিম বলেন, এত দিন এই সড়ক যে এতটা প্রশস্ত এবং পাশে হাঁটার জন্য ফুটপাত আছে, তা বোঝারই উপায় ছিল না।


নওশীন জাহান বলেন, ফুটপাত ও সড়কজুড়ে হকারদের দোকানের কারণে এখানকার বাসিন্দাদের যে কী পরিমাণ ভোগান্তি হতো, তা এখন ফাঁকা জায়গাটি দেখে বোঝা যাচ্ছে।


গতকাল বিকেলে হোপ মার্কেট এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, সড়কে কোনো ভ্রাম্যমাণ দোকান নেই। ফুটপাতও ফাঁকা। মাথার ওপর ছাউনির মতো কাঠ-বাঁশের সঙ্গে বেঁধে রাখা পলিথিন বা ত্রিপলও নেই। প্রশস্ত ফুটপাত দিয়ে স্বচ্ছন্দে হাঁটছেন পথচারীরা। সড়কও দেখাচ্ছে খোলামেলা। মিরপুর ১০ নম্বর গোলচত্বর থেকে মিরপুর ১৩ নম্বর সেকশনের দিকে কয়েক কিলোমিটার এলাকা ঘুরেও একই চিত্র দেখা যায়। হোপ মার্কেটসহ আশপাশের সড়ক ও ফুটপাত থেকে হকারদের দোকানপাট সরে গেছে।


বুধবার সকাল সাড়ে নয়টার দিকে মিরপুর ১০ নম্বর গোলচত্বর থেকে হোপ মার্কেটের দিকে ফুটপাতের অবৈধ দখল উচ্ছেদে অভিযান শুরু করে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। একপর্যায়ে হকার ও দোকানিদের সঙ্গে পুলিশ ও সিটি করপোরেশনের কর্মীদের সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের মধ্যে ডিএনসিসির তিনটি গাড়িতে আগুন দেওয়া এবং পুলিশের একটি গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। হামলার শিকার হন গণমাধ্যমকর্মীরাও।


পরে দুপুরের দিকে ঘটনাস্থলে যান ডিএনসিসির প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান। তাঁর উপস্থিতিতে মিরপুর ১০ থেকে মিরপুর ১৩ নম্বর পর্যন্ত সড়কের দুই পাশের ফুটপাতের ভাসমান দোকান উচ্ছেদ করা হয়।


গোলচত্বর থেকে বিআরটিএ পর্যন্ত এখন ফাঁকা


অভিযানের আগে হোপ মার্কেটকে কেন্দ্র করে মিরপুর ১০ নম্বর সেকশনের বি ব্লকের ১১/১ ও ১১/২ নম্বর লেন, বায়তুল কুদ্দুস জামে মসজিদের পাশের ফুটপাত, মিরপুর আদর্শ বালিকা উচ্চবিদ্যালয় এবং সি ব্লকের অ্যাভিনিউ-২-এর সড়ক ও ফুটপাতের বড় অংশ দখলে ছিল হকারদের। ফুটপাতের সীমানাদেয়ালের সঙ্গে বাঁশ ও কাঠ বেঁধে পলিথিন ও ত্রিপলের ছাউনি দিয়ে দোকান বসানো হয়েছিল। মূল সড়কের ভেতরেও দুই থেকে তিন সারিতে বসানো হয়েছিল অস্থায়ী দোকান। এসব দোকানে মূলত নারী ও শিশুদের পোশাক, জুতা, অলংকার, প্রসাধনীসহ বিভিন্ন পণ্য বিক্রি হতো। ছিল ফুচকা, চটপটি ও ভাজাপোড়া খাবারের দোকানও।


সি ব্লকের অ্যাভিনিউ-২ থেকে ৬ নম্বর লেন পর্যন্ত প্রায় ২০০ মিটার সড়কের দুই পাশের ফুটপাতের পুরোটাই দখলে ছিল বলে স্থানীয় বাসিন্দারা জানান। গতকাল সরেজমিন সেখানে কোনো দোকান দেখা যায়নি। বুধবার ভেঙে দেওয়া দোকানের বাঁশ, কাঠ ও ত্রিপলের অংশ পড়ে থাকতে দেখা গেছে।


চার বছরের ছেলে আফসারকে নিয়ে ফুটপাত দিয়ে হাঁটছিলেন ফরিদা বেগম। ৬ নম্বর লেনের একটি বাসায় প্রায় দুই বছর ধরে থাকেন তিনি। ফরিদা বলেন, ‘আগে এই রাস্তা ও ফুটপাত দিয়ে হেঁটে চলার উপায় ছিল না। বিশেষ করে বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত ক্রেতা-বিক্রেতার প্রচুর ভিড় থাকত। এখন নির্বিঘ্নে হাঁটতে পারছি। ছেলেও নিজে নিজেই হাঁটছে।’


হোপ মার্কেটের পাশের বি ব্লকের ১১/২ নম্বর লেনের বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘কী যে একটা যন্ত্রণার মধ্যে ছিলাম! আর এখন কী যে ভালো লাগছে, বলে বোঝানো যাবে না। এখন বাসা থেকে বের হয়ে শান্তি লাগছে।’


এই ফুটপাত-সড়ক এমনই দখলমুক্ত থাকুক- এমন প্রত্যাশা করে রফিকুল বলেন, সিটি করপোরেশন যেন এদিকে দৃষ্টি রাখে। আবারও অবৈধ কোনো দখলদারের কবলে না পড়ে ফুটপাত-সড়ক।