ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২০ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৪:১৮ পিএম

নারীদের নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ যাতায়াত নিশ্চিত করতে ঢাকাসহ তিন জেলায় ‘গোলাপি বাস’ সেবা চালু করেছে সরকার। ভবিষ্যতে সম্পূর্ণ নারী পরিচালিত এ সেবার পরিসর বাড়াতে পরিবেশবান্ধব বাস কেনার পরিকল্পনা চলছে। খোঁজা হচ্ছে তিন হাজার ৫৪৬ কোটি টাকার বৈদেশিক ঋণ। দুটি আলাদা প্রকল্পের আওতায় মোট ৮০০ এসি সিঙ্গেল ডেকার ইলেকট্রিক এসি বাস কেনা হবে। যার মধ্যে কিছু বাস ব্যবহার হবে ‘গোলাপি বাস’ সেবার জন্য। এতে বাড়বে গোলাপি বাসের রুট, সংখ্যা ও পরিসর। বাকিগুলো পরিবেশবান্ধব নাগরিক সেবায় কাজে লাগাবে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশন (বিআরটিসি)।


ঋণের চাহিদা মেটাতে সম্ভাব্য উৎস হিসেবে দক্ষিণ কোরিয়া ও চীনকে বিবেচনা করা হচ্ছে। দুটি প্রকল্পের সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে চার হাজার ৫৮৩ কোটি ৭০ লাখ টাকা। বাকি অর্থ সরকারি কোষাগার থেকে মেটানো হবে।


পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ ও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনের (বিআরটিসি) একাধিক সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করে।


বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনের (বিআরটিসি) পরিচালক (প্রশাসন ও অপারেশন) মো. রাহেনুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা পর্যায়ক্রমে এক হাজার বাস কিনবো। এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে পিংক সিটি সার্ভিসের পরিষেবা আরও বাড়বে।’


তবে চীন থেকে ৫শ ও দক্ষিণ কোরিয়া থেকে ৩শ বাস কেনা প্রসঙ্গে কোনো মন্তব্য করেননি রাহেনুল ইসলাম।


নারীদের নিরাপদ যাতায়াতে রাজধানী ঢাকা, চট্টগ্রাম ও বগুড়ায় মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) থেকে  চলাচল করছে গোলাপি রঙের ‘মহিলা বাস’। বাসগুলোর মধ্যে ডাবল ডেকার বেশি। এগুলোতে এসি নেই।


সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ‘প্রকিউরমেন্ট অব ইলেকট্রিক সিঙ্গেল ডেকার ৩০০ এসি বাস ফর বিআরটিসি’ প্রকল্পের আওতায় বাসগুলো কেনা হবে। এ প্রকল্পের মোট প্রস্তাবিত ব্যয় দুই হাজার ৭১৩ কোটি ১৯ লাখ টাকা। এর মধ্যে ঋণ দুই হাজার ৯ কোটি এবং বাকি ৭০৩ কোটি টাকা সরকারি কোষাগার থেকে মেটানো হবে। বাসগুলো কেনা হবে চলতি সময় থেকে জুন ২০৩০ মেয়াদে। প্রাথমিক উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা অনুমোদন করেছে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়।


অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী দক্ষিণ কোরিয়ান বাসের বিষয়ে ইতিবাচক। এজন্য তিনি প্রাথমিক উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবে (পিডিপিপি) সই করেছেন। প্রকল্প ঋণের উৎস হিসেবে দক্ষিণ কোরিয়ান অর্থনৈতিক উন্নয়ন সহযোগিতা তহবিলকে (ইডিসিএফ) নির্ধারণ করেছে সরকার। ইডিসিএফ থেকে ঋণ পেতে এরই মধ্যে ইআরডির মাধ্যমে চিঠি পাঠানো হয়েছে।


আরও ৫০০ বাস কেনারও পরিকল্পনা করছে সরকার। এ খাতে ব্যয় হবে এক হাজার ৮৭০ কোটি ৫১ লাখ টাকা। তবে এ প্রকল্পের প্রাথমিক উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবে (ডিপিপি) সই করেননি অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী। তিনি সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগে প্রকল্পটি ফেরত পাঠিয়েছেন আরও যাচাই-বাছাই করার জন্য। এজন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে চিঠি পাঠানো হয়েছে।


চীনা বাসগুলো কতদিন সার্ভিস দেবে, ঋণে সুদের হার কত হবে, বাসগুলোর পার্টস নষ্ট হলে কীভাবে সংগ্রহ করা হবে- ইত্যাদি বিষয় যাচাই-বাছাই করে পুনরায় পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে পাঠাতে বলা হয়েছে।


পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, দক্ষিণ কোরিয়া থেকে ৩শ বাস কেনার বিষয়ে পিডিপিপি অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী অনুমোদন করেছেন। তবে চীনের বিষয়ে আরও যাচাই-বাছাই হচ্ছে


৩০০ বাস কিনতে দরকার ২ হাজার ৯ কোটি টাকা বৈদেশিক ঋণ


৩০০টি একতলা ইলেকট্রিক বাস সংগ্রহের জন্য বৈদেশিক অর্থায়ন প্রাপ্তির বিষয়ে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) বরাবর চিঠি দিয়েছে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ। এই চিঠি চলতি মাসে দক্ষিণ কোরিয়া বরাবর পাঠিয়েছে ইআরডি। প্রকল্পের মোট সম্ভাব্য ব্যয় দুই হাজার ৭১৩ কোটি ১৯ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারি অর্থায়ন ৭০৩ কোটি ৪২ লাখ টাকা বাকি বৈদেশিক ঋণ দরকার ২ হাজার ৯ কোটি ৭৭ লাখ টাকা। বাস্তবায়নকাল ১ জুলাই ২০২৬ থেকে ৩০ জুন ২০২৯ পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।


ইআরডির উপসচিব (এশিয়া, জেইসি ও এফঅ্যান্ডএফ) আইরিন পারভীন বলেন, ‘দক্ষিণ কোরিয়া থেকে ৩শ বাস কেনা হবে। ঋণের বিষয়ে আমরা দক্ষিণ কোরিয়ায় চিঠি পাঠিয়েছি।’


উদ্দেশ্য


আন্তঃনগরের নির্ভরযোগ্য ও আরামদায়ক গণপরিবহন সুবিধা বাড়ানো, আধুনিক প্রযুক্তিগত পরিবহন ব্যবস্থায় প্রবেশ, বিআরটিসি বহর থেকে পুরোনো বাস প্রতিস্থাপন, শহরে যানজট ও পরিবেশ দূষণ কমানো এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা।


প্রধান কার্যক্রম


৩শ ইলেকট্রিক ভেহিক্যাল (সিঙ্গেল ডেকার এসি বাস) কেনা খাতে এক হাজার ৩৮৩ কোটি ৭৫ লাখ টাকা ব্যয় হবে। মোট ব্যয়ের ১৫ শতাংশ ধরা হয়েছে ইভির স্পেয়ার পার্টসে, এ খাতে ২০৭ কোটি ৫৬ লাখ টাকা ব্যয় হবে। ২৫টি ইলেক্ট্রিক চার্জিং স্টেশন (ইসিএস) খাতে ব্যয় রাখা হয়েছে ৯২ কোটি ২৫ লাখ টাকা।


ইসিএস স্পেয়ার পার্টস খাতে রাখা হয়েছে ১৩ কোটি ৮৪ লাখ টাকা। ২৫টি জেনারেটর ও ট্রান্সফরমার কিনতে ২৬ কোটি ১৪ লাখ, ২০টি ইভির ওয়ার্কিং শেড খাতে ১২ কোটি ৩০ লাখ, তিনটি স্পেয়ার পার্টসের ওয়্যারহাউজ (গুদামঘর) খাতে তিন কোটি ৬৯ লাখ টাকা রাখা হয়েছে।


প্রয়োজনীয় সরঞ্জামসহ ইভি রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামতের জন্য স্ট্যান্ডার্ড ওয়ার্কশপ থাকবে তিনটি। এ খাতে ব্যয় ৫ কোটি ৫৪ লাখ। ২০টি ওয়াশিং প্ল্যান্ট খাতে ৩৬ কোটি ৯০ লাখ, ভিডিও মনিটরিং সিস্টেমসহ (ভেতর ও বাইরের দৃশ্য) বিল্ট-ইন সফটওয়্যারভিত্তিক ভিটিএস (ভেহিক্যাল ট্র্যাকিং সিস্টেম) খাতে ১০ কোটি, চার্জিং স্টেশন/যানবাহনের গ্যারেজের জন্য সিভিল ওয়ার্কস/অবকাঠামো/গ্যারেজ ও চার্জিং স্টেশন উভয়ের সংলগ্ন সেন্সরভিত্তিক স্বয়ংক্রিয় অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা (জরুরি অবস্থার জন্য) থাকবে ২০টি, এ খাতে মোট ব্যয় হবে ১২৩ কোটি টাকা।


২৫ টনের ২৫টি রেকার কিনতে ৩৯ কোটি ৩৬ লাখ, ২০টি জেনারেটরসহ ভেহিক্যাল মাউন্টেড পোর্টেবল চার্জার কিনতে ৪৯ কোটি ২০ লাখ এবং বৈদেশিক ও স্থানীয় প্রশিক্ষণ খাতে চার কোটি টাকা ব্যয় রাখা হয়েছে।


চীন থেকে ৫০০ বাস কেনার পরিকল্পনা


বিআরটিসির জন্য ৫০০টি একতলা বৈদ্যুতিক এসি বাস সংগ্রহের জন্য বৈদেশিক অর্থায়ন পেতে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ পিডিপিপি প্রস্তাব পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে। তবে এ প্রকল্পের পিডিপিপিতে পরিকল্পনামন্ত্রী সই করেননি। যাচাই-বাছাইয়ের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে ফেরত পাঠানো হয়েছে।


পিডিপিপিতে প্রকল্পটির প্রাক্কলিত ব্যয় এক হাজার ৮৭০ কোটি ৫১ লাখ টাকা। প্রকল্পে সরকারি অর্থায়ন ৩৩৩ কোটি ও প্রকল্প ঋণ হিসেবে চীন থেকে এক হাজার ৫৩৭ কোটি টাকা বৈদেশিক ঋণ পাওয়ার সম্ভাব্য উৎস হিসেবে বিবেচনা করছে সরকার। বাস কেনার বাস্তবায়নকাল ১ জুলাই ২০২৬ থেকে ৩০ জুন ২০২৯ পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।


চীনের বাস কেনার উদ্দেশ্য


বায়ুদূষণ ও গ্রিনহাউজ গ্যাস নির্গমন কমাতে প্রচলিত ডিজেলচালিত বাসের পরিবর্তে শূন্য কার্বন নিঃসরণকারী বৈদ্যুতিক এসি বাস চালু করা, যাত্রীদের জন্য নিরাপদ, আধুনিক, শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত এবং আরামদায়ক পরিবহন সেবা নিশ্চিত করা, প্রচলিত ডিজেলচালিত বাসের তুলনায় বৈদ্যুতিক বাসের জ্বালানি ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় হ্রাস তথা পরিচালন ব্যয় কমানো।


এছাড়া ন্যাশনালি ডিটারমাইন্ড কন্ট্রিবিউশন, বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন কৌশল ও কর্মপরিকল্পনা (বিসিসিএসএপি) এবং খসড়া জাতীয় বৈদ্যুতিক বাস নীতির লক্ষ্য ও অঙ্গীকার বাস্তবায়নে সহায়তা করা, বিআরটিসির বাস বহর আধুনিকীকরণের মাধ্যমে সেবার নির্ভরযোগ্যতা, কার্যকারিতা ও ইতিবাচক ভাবমূর্তি বাড়ানো, অধিক সংখ্যক যাত্রী আকর্ষণ করা এবং সড়ক পরিবহন ব্যবস্থার দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে যানজট নিরসনে অবদান রাখা।


প্রকল্পের প্রধান কার্যক্রম


৫০০ বৈদ্যুতিক যানবাহন (একতলা এসি বাস) কিনতে ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ২৩০ কোটি টাকা। ইভির জন্য স্পেয়ার পার্টস কিনতে ১২৩ কোটি টাকা, ইলেকট্রিক চার্জিং স্টেশন (প্রতিটিতে চারটি করে ৩২০ কিলোওয়াট ফাস্ট চার্জার এবং অবকাঠামোসহ) খাতে ৩০ কোটি ৭৫ লাখ টাকা ব্যয় হবে।


এছাড়া প্রয়োজনীয় সরঞ্জামসহ ইভি রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামতের জন্য স্ট্যান্ডার্ড ওয়ার্কশপ (কম্পিউটারভিত্তিক ডায়াগনোসিস সিস্টেমসহ) খাতে ১৩৫ কোটি ৩০ লাখ টাকা, পাঁচটি জেনারেটরসহ যানবাহনে স্থাপিত বহনযোগ্য (পোর্টেবল) চার্জার ১২ কোটি ৩০ লাখ, চালক, টেকনিশিয়ান ও অপারেটরদের জন্য প্রশিক্ষণ খাতে ৬ কোটি ১৫ লাখ টাকা রাখা হয়েছে।



সর্বশেষ সব খবর

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) অনলাইন ভ্যাট রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৬:২০ পিএম

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ই-ভ্যাট সিস্টেমে জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর ২০২৬ কর মেয়াদের অনলাইন ভ্যাট রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে। 


নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত কোনো সুদ ও জরিমানা ছাড়াই এসব কর মেয়াদের ভ্যাট রিটার্ন দাখিল করতে পারবেন করদাতারা। 


আজ বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) এনবিআরের দ্বিতীয় সচিব শেখ মো. মাসুদুর রহমানের (মূসক: মনিটরিং, পরিসংখ্যান ও সমন্বয়) সই করা এক প্রজ্ঞাপনে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।


প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, জাতীয় বাজেট ২০২৬-২৭-এ ভ্যাট রিটার্ন দাখিলসংক্রান্ত বিধান সংশোধন করে ‘মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬’ জারি করা হয়েছে। নতুন বিধান অনুযায়ী, প্রতি কর মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ভ্যাট রিটার্ন দাখিলের ব্যবস্থা সংযুক্ত করা হয়েছে। এ কারণে এনবিআরের ই-ভ্যাট সিস্টেমে কিছু প্রশাসনিক সংস্কার প্রয়োজন।


এ পরিস্থিতিতে জনস্বার্থ বিবেচনায় মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২-এর ধারা ৬৪-এর উপধারা (২)-এ দেয়া ক্ষমতাবলে জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর ২০২৬ কর মেয়াদের অনলাইন ভ্যাট রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা বাড়িয়েছে এনবিআর। বর্ধিত সময়ের মধ্যে অর্থাৎ আগামী ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত করদাতারা সুদ ও জরিমানা ছাড়াই রিটার্ন জমা দিতে পারবেন।


এদিকে ভ্যাট রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা নির্ধারণ করে নতুন অধ্যাদেশ জারি করেছে সরকার। নতুন বিধান অনুযায়ী, সাধারণ নিবন্ধিত, তালিকাভুক্ত, নিবন্ধনযোগ্য বা তালিকাভুক্তিযোগ্য ব্যক্তিকে সংশ্লিষ্ট কর মেয়াদ শেষ হওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে ভ্যাট রিটার্ন দাখিল করতে হবে।


তবে সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা, ব্যাংক, বিমা প্রতিষ্ঠান এবং শূন্য রিটার্ন দাখিলকারী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের জন্য সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ২০ দিন। অর্থাৎ এসব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান কর মেয়াদ শেষ হওয়ার ২০ দিনের মধ্যে রিটার্ন জমা দিতে পারবে।

সর্বশেষ সব খবর

মতিঝিলের দিলকুশা শাখার প্রবেশপথে গ্রাহকদের ফুল দিয়ে বরণ করে নিচ্ছেন ব্যাংক কর্মীরা

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১২:০৭ পিএম

নতুন করে স্বাভাবিক ব্যাংকিং শুরুর প্রথম দিনে গ্রাহকদের ফুল দিয়ে স্বাগত জানিয়ে টাকা ফেরত দেওয়া শুরু করেছে ন্যাশনাল ব্যাংক। বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীতে ব্যাংকটির দিলকুশা শাখায় সরেজমিন দেখা যায়, বেলুন দিয়ে সাজানো হয়েছে শাখাটি। প্রবেশপত্রে লাইন ধরে দাঁড়িয়ে ব্যাংকের কর্মীরা গ্রাহকদের ফুল দিয়ে বরণ করে নিচ্ছেন। 



অনেকটা উৎসবের আমেজে গ্রাহকদের টাকা ফেরত দেওয়ার কার্যক্রম চালাচ্ছেন তারা। টাকা তুলতে আসা গ্রাহকদের মিষ্টিমুখ করানোর পাশাপাশি কফি দিয়ে আপ্যায়ন করা হচ্ছে। আজ যাঁরা টাকা তুলছেন, তাঁদের মূলত নতুন টাকার নোট দেওয়া হচ্ছে।



ব্যাংটির ওই শাখাটির কর্মকর্তারা জানান, ১১ অক্টোবর যারা টাকা ফেরত চেয়ে আবেদন করেছেন, আজ তাঁদের চাহিদা অনুযায়ী টাকা ফেরত দেওয়া হচ্ছে। এর বাইরে মানবিক ও বিশেষ বিবেচনায় অন্য গ্রাহকদেরও অর্থ দেওয়া হচ্ছে। সে ক্ষেত্রে বড় অঙ্কের অর্থ কেউ তুলতে চাইলে তাঁকে কয়েক দিন পর আসতে বলা হয়েছে। সকালে এই শাখায় কথা হয় মুন্সিগঞ্জ গজারিয়া শাখার এক গ্রাহক মোহাম্মদ হান্নান দেওয়ানের সঙ্গে। অসুস্থ বাবার চিকিৎসা খরচের জন্য ৪০ হাজার টাকা তুলেছেন তিনি।



তিনি বলেন, ‘প্রতি সপ্তাহে এই শাখা থেকে ২০ হাজার টাকা করে তুলেছি। আজ ৪০ হাজার টাকা তুলেছি। বাবা হাসাপাতালে ভর্তি; তাঁর নিয়মিত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে প্রতি সপ্তাহে ২০ হাজার টাকা লাগে। এর আগে একসঙ্গে বেশি টাকা তুলতে চেয়েছিলাম; কিন্তু পাইনি।’



দিলকুশার শাখা ব্যবস্থাপক মঈনুল ইসলাম বলেন, ১১ অক্টোবর যাঁরা টাকা তোলার আবেদন করেছেন, তাদের চাহিদা অনুযায়ী টাকা ফেরত দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি অন্য গ্রাহকদেরও টাকা দেওয়া হচ্ছে। তিনি জানান, এই শাখায় মোট ৩৩ জন গ্রাহক প্রথম দিনে ১ কোটি টাকার বেশি আমানত ফেরত চেয়ে আবেদন করেছেন।


একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সকাল ১০টায় লেনদেন শুরুর পর প্রথম ঘণ্টায় মোট ৪০ জন গ্রাহককে ৩২ লাখ টাকার মতো ফেরত দেওয়া হয়েছে। টাকা তোলার পাশাপাশি টাকা জমাও নেওয়া হচ্ছে এই শাখায়। অনেক গ্রাহক আজ টাকাও জমা দিয়েছেন।


নতুন করে স্বাভাবিক ব্যাংকিং শুরু

আজ নতুন করে স্বাভাবিক ব্যাংকিং শুরুর এই কার্যক্রমকে ব্যাংকের নবযাত্রা হিসেবে ঘোষণা দিয়েছে ন্যাশনাল ব্যাংক। ৮ অক্টোবর ন্যাশনাল ব্যাংক জানায়, তাদের গ্রাহকেরা ১৫ অক্টোবর থেকে সব ধরনের স্বাভাবিক লেনদেন করতে পারবেন।


গ্রাহকেরা সারা দেশে ব্যাংকটির সব শাখা ও এটিএম বুথ থেকে চাহিদা অনুযায়ী অর্থ উত্তোলন করতে পারবেন। একই দিন থেকে কাউন্টার সেবা, মোবাইল অ্যাপ, ইন্টারনেট ব্যাংকিংসহ ব্যাংকের সব ডিজিটাল ও অনলাইন সেবা পূর্ণমাত্রায় চালু হবে।


সর্বশেষ সব খবর

জুয়েলারি প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)

  • প্রকাশ : বুধবার ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৪:৫১ পিএম

শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষ্যে আগামী ১৯ অক্টোবর (সোমবার) সারাদেশের সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। গতকাল মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বাজুসের সভাপতি এনামুল হক খানের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।


বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শারদীয় দুর্গোৎসবের অষ্টমী পূজা উপলক্ষ্যে দেশের সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠান সম্পূর্ণ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।


এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে আগামী ১৯ অক্টোবর সারা দেশের সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে বাজুস। একই সঙ্গে এ বিষয়ে সবার আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেছে সংগঠনটি।

সর্বশেষ সব খবর

বাংলাদেশ ব্যাংক

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১২:২১ পিএম

শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে আগামী ২০ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত টানা তিন দিন দেশের সব তফসিলি ব্যাংক বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। পরের শুক্র-শনি মিলিয়ে এই ছুটি হতে যাচ্ছে পাঁচ দিন। তবে ছুটির আগের শনিবার অর্থাৎ ১৭ অক্টোবরের সাপ্তাহিক ছুটি বাতিল করা হয়েছে। রোববার (১১ অক্টোবর) বাংলাদেশ ব্যাংকের সুপারভাইজরি ডেটা ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড অ্যানালিটিক্স ডিপার্টমেন্ট (এসডিএডি) থেকে এ-সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করা হয়েছে।


সার্কুলারে বলা হয়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জারি করা প্রজ্ঞাপনের পরিপ্রেক্ষিতে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে ২০, ২১ ও ২২ অক্টোবর যথাক্রমে মঙ্গলবার, বুধবার ও বৃহস্পতিবার দেশের সব তফসিলি ব্যাংক বন্ধ থাকবে। তবে ১৭ অক্টোবর শনিবার ব্যাংকগুলো স্বাভাবিক নিয়মে কার্যক্রম পরিচালনা করবে।


এদিকে সমুদ্র, স্থল ও বিমানবন্দর এলাকার পোর্ট ও কাস্টমস এলাকায় অবস্থিত ব্যাংকের শাখা ও বুথগুলোতে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম সীমিত পরিসরে চালু রাখতে হবে। এ নির্দেশনা অনুযায়ী, ২০ থেকে ২২ অক্টোবর সরকারি ছুটির দিন এবং ২৩ ও ২৪ অক্টোবর শুক্রবার ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও আমদানি-রপ্তানিসংক্রান্ত কার্যক্রম সীমিত আকারে চলবে।


সার্কুলারে আরও বলা হয়, এ ক্ষেত্রে স্থানীয় প্রশাসন এবং বন্দর ও কাস্টমস কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে ব্যাংকগুলো প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারবে।


বাংলাদেশ ব্যাংক জনস্বার্থে ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৫ ধারায় অর্পিত ক্ষমতাবলে এ নির্দেশনা জারি করেছে।

সর্বশেষ সব খবর

এলপিজি সিলিন্ডার দুইদিন বিক্রি বন্ধ ঘোষণা

  • প্রকাশ : সোমবার ১২ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ২:৫৮ পিএম

এলপিজি সিলিন্ডার ব্যবসায়ীদের হয়রানির প্রতিবাদে সারা দেশে দুই দিন সব গ্যাসের দোকান বন্ধ থাকবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেডের সভাপতি সেলিম খান। 


আজ সোমবার (১২ অক্টোবর) রাজধানীর প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেওয়া হয়।


সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী বৃহস্পতি ও শুক্রবার সারা দেশে সব সিলিন্ডারের দোকান বন্ধ থাকবে।


সভাপতি বলেন, গ্যাস সিলিন্ডারের দাম ও সাপ্লাই নিয়ে বারবার হয়রানির শিকার হচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। এসবের প্রতিবাদে আগামী বৃহস্পতি ও শুক্রবার সব দোকান বন্ধ থাকবে। এলপি গ্যাস ব্যবসায়ীদের যেসব দাবি দাওয়া আছে, সেগুলো মানা না হলে আরও কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দেন তিনি।


সংবাদ সম্মেলনে সমিতির সাধারণ সম্পাদক নাসিরুদ্দিন নাসিম অভিযোগ করেন, শুধু ৫টি কোম্পানির হাতে এলপি সিলিন্ডার গ্যাসের বিপণন জিম্মি। তাদের হাত ধরে স্বৈরাচারী কায়দায় এলপি গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির হচ্ছে বলে ক্ষোভ জানান তিনি।


প্রসঙ্গেত, সর্বশেষ গত ৪ অক্টোবর এলপিজির দাম বাড়ানো হয়। ১২ কেজির সিলিন্ডার ২৫২ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৮৩৭ টাকা করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। ১২ কেজি ছাড়াও সব ওজনের সিলিন্ডারের দাম বাড়ানো হয়। 


তবে সব সময়ের মতো সরকার নির্ধারিত এই দামে কোথাও মিলছে না গ্যাস। ২ হাজার থেকে ২২০০ কিংবা ২৪০০ টাকা দিলে মিলিয়ন পাওয়া যায় ১২ কেজির সিলিন্ডার।

সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শুক্রবার ০৯ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ২:০৬ পিএম

যুক্তরাষ্ট্রের ডলারের দরপতন ও আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমার প্রভাবে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম বেড়েছে। শুক্রবার স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম ১ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১৯০ দশমিক ৫৭ ডলারে পৌঁছেছে।


বার্তা সংস্থা রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, গ্রিনিচ মান সময় (জিএমটি) সকাল ৬টা ৩০ মিনিটে এই দর রেকর্ড করা হয়। এর আগে বুধবার স্বর্ণের দাম দুই মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে গিয়েছিল। তবে শুক্রবারের দরবৃদ্ধিতে সপ্তাহজুড়ে স্বর্ণের দাম বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ডিসেম্বর মাসে সরবরাহের জন্য নির্ধারিত স্বর্ণের ফিউচার দরও ১ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ২১৫ দশমিক ৩০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।


বাজার বিশ্লেষকেরা বলছেন, ডলারের দর কমলে অন্যান্য মুদ্রার ব্যবহারকারীদের কাছে ডলারে মূল্য নির্ধারিত স্বর্ণ তুলনামূলক সস্তা হয়ে ওঠে। এতে মূল্যবান ধাতুটির চাহিদা বাড়তে পারে। তেলের দাম কমাও মূল্যস্ফীতির চাপ নিয়ে বাজারের প্রত্যাশায় প্রভাব ফেলতে পারে।


তবে বিনিয়োগকারীরা এখনো মূল্যস্ফীতির স্থায়িত্ব এবং যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হারসংক্রান্ত পরবর্তী সিদ্ধান্ত নিয়ে সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। সুদের হার কমার সম্ভাবনা সোনার বাজারকে প্রভাবিত করতে পারে, কারণ স্বর্ণ কোনো সুদ দেয় না এবং সুদবিহীন সম্পদ হিসেবে এর আকর্ষণ সুদের হারের পরিবর্তনের সঙ্গে ওঠানামা করে।


সব মিলিয়ে ডলারের দুর্বলতা ও তেলের দরপতন শুক্রবার স্বর্ণের বাজারে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা তৈরিতে সহায়তা করেছে। তবে মূল্যস্ফীতি ও ফেডের নীতিগত সিদ্ধান্তের অনিশ্চয়তা বাজারে প্রভাব বজায় রেখেছে।


সূত্র: রয়টার্স


সর্বশেষ সব খবর