ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) মানববন্ধন

  • প্রকাশ : রবিবার ০৮ মার্চ, ২০২৬, সময় : ৯:৪৭ এএম

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) অফিস চলাকালীন সময়ে কর্মচারী ফজলুর রহমান কর্তৃক সমাজকল্যাণ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও বিভাগীয় সভাপতি আসমা সাদিয়া রুনা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মানববন্ধন করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএনপিপন্থী শিক্ষক সংগঠন 'জিয়া পরিষদ'-'ইউট্যাব' এবং জামাতপন্থী শিক্ষক সংগঠন 'গ্রীণ ফোরাম'।


আজ রবিবার (৮ মার্চ) দুপুর সাড়ে ১২ টার দিকে প্রশাসন ভবনের সামনে মানববন্ধনে হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য পদ্ধতি বিভাগের প্রফেসর ড. মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এয়াকুব আলী, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. জাহাঙ্গীর আলম, রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মনজুরুল হক, প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান, ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. ওবায়দুল ইসলাম। এছাড়া মানববন্ধনে একাত্মা জানিয়ে শাখা ছাত্রদল, শাখা ছাত্রশিবির ও শাখা ছাত্র ইউনিয়নের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। 


গ্রীণ ফোরামের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, দ্রুততম সময়ে রুনা হত্যার বিচার নিশ্চিত করতে হবে। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় একটি অনিরাপদ স্থানে অবস্থিত। এজন্য সকল ছাত্র, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিরাপত্তা জোরদারে ইউনিক আইডেনটিটির ব্যবস্থা করতে হবে। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ে যত থোক বা ডে লেবার হিসেবে কাজ করে প্রত্যেকের ডাটা সংগ্রহ করতে হবে যেন পরবর্তীতে তাদেরকে আমরা আয়ত্তে রাখতে পারি।


জিয়া পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. ফারুকুজ্জামান খান বলেন, ৯৫’র নভেম্বরে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরি পেয়েছি। শিক্ষকদের উপর বিভিন্ন ধরনের হামলা দেখেছি, এ ধরনের হামলায় আমরা তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছি, দুঃখজনক বিষয় হলো একটি হামলার এখন পর্যন্ত বিন্দুমাত্র বিচার হয়নি। বিচার না হওয়ার সম্মিলিত ফলাফল হচ্ছে এই নিষ্ঠুর হত্যাকান্ড। এই হত্যাকাণ্ড হতো না যদি ঐ বিচার গুলো হতো। কিছুদিন আগে একজন শিক্ষার্থীর নিহত হয়েছে তার ব্যাপারে পুলিশ কিংবা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের পক্ষ থেকে ন্যূনতম একটি বিবৃতি আমরা পাই নাই। 


মাননীয় উপাচার্য মহোদয়ের কাছে একটাই অনুরোধ করব আপনি এই দুই খুনের বিচারের জন্য প্রশাসনের কাছে যতটুকু আগানো সম্ভব আপনি আগান প্রয়োজন বোধে আমরা যাব। যদি আপনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে গিয়ে বিচার না পান, রেসপন্স না পান, আমরা রাস্তায় নামবো। কিন্তু আপনি উদ্যোগ নেন, বসে থাকবেন না। ছাত্র হত্যার ব্যাপারে যতটুকু রেসপন্স দেখেছি আমরা সন্তুষ্ট নয়, এটা পরিষ্কার কথা। আমার মনে হয় ছাত্রছাত্রীদের ভেতর থেকে এরকমই রেসপন্স পেয়েছি তারাও সন্তুষ্ট নয়। এই ঘটনার ক্ষেত্রেও যদি একই ঘটনা ঘটে যে পুলিশের কাছে গেছে পুলিশ ঘুরছে,আর ঘুরছে তাহলে সেটা খুবই বেদনাদায়ক হবে।


শিক্ষিকা রুনা হত্যার ঘটনায় প্রশাসন গঠিত তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান বলেন, তদন্ত কমিটির আহবায়ক হিসেবে আমি দল, মত নির্বিশেষে নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠুভাবে  তদন্ত করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে রিপোর্ট দেওয়ার চেষ্টা করবো ইনশাআল্লাহ। আপনারা সবাই সহযোগিতা করবেন, যদি আপনারা সহযোগিতা না করেন তাহলে কিন্তু আমাদের দোষারোপ করে লাভ হবে না। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সহ আমরা আমাদের সহকর্মীকে হারিয়েছি। তাকে তার পরিবার হারিয়েছে, স্বামী তার স্ত্রীকে হারিয়েছে, নাবালিকা সন্তান তার মাকে হারিয়েছে, বৃদ্ধ পিতা তার সন্তানকে হারিয়েছে, সে কষ্ট  ভাষায় প্রকাশ করার নয়। আল্লাহ তায়ালা অপরাধীদেরকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে পারি সেই তৌফিক আমাদের দান করুন। যদি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দৃশ্যমান কোনো কাজের অগ্রগতি না দেখাতে পারেন তাহলে ভর্তি পরীক্ষার পরে আমরা এই শিক্ষক, ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়ে পরবর্তীতে কর্মসূচি ঘোষণা করব। 


উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ বলেন, আসমা সাদিয়া রুনার হত্যাকান্ডের ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে- বিশ্ববিদ্যালয়ে অভ্যন্তরীণভাবে একটি তদন্ত কমিটি করেছি এবং এই বিভাগ যাতে সচল থাকে সে ব্যবস্থা আমরা করেছি। রুনার অকাল মৃত্যুতে যে অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে রুনা আমাদের হৃদয়ে সারাজীবন জাগরক থাকবে। যত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অপরাধী চিহ্নিত করণ, অপরাধীকে গ্রেফতার এবং অপরাধীর বিরুদ্ধে তদন্তের ক্ষেত্রে প্রশাসন যত ধরনের সহযোগিতা চাবে আমরা তত ধরনের সহযোগিতা দিব। 


এই ব্যাপারে কোন ধরনের কার্পণ্য করা হবে না এবং সেটা ট্রান্সপারেন্ট ওয়েতে প্রদান করা হবে। অপরাধী সহ যাদের অভিযুক্ত করা হয়েছে তাদেরকে সুষ্ঠ এবং যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে হত্যার বিষয়ে সবাইকে চিহ্নিত করা হোক। আমরা প্রশাসনের কাছে, বিচার প্রশাসনের কাছে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। এই ধরনের ঘটনার যাতে আর পুনরাবৃত্তি না হয় এ ব্যাপারে আমরা প্রশাসনের কাছে সর্বাত্মক সহযোগিতার হাত বাড়ায়ে দিব। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে নতুনভাবে ঠেলে সাজানোর জন্যে ছাত্র শিক্ষক সবার পরামর্শ মতে আমরা এই ব্যবস্থা গ্রহণ করব ইনশাআল্লাহ।




  • প্রকাশ : সোমবার ২৭ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১:৩৯ এএম

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব আখতার হোসেন দাবি করেছেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর সঙ্গে বিএনপির একটি অভ্যন্তরীণ সমঝোতা ছিল। সেই সমঝোতার অংশ হিসেবেই সরকার গঠনের পরও নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত তাকে রাষ্ট্রপতির পদে বহাল রাখা হয় এবং বর্তমানে তাকে ‘সেফ এক্সিট’ দেওয়ার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।


রোববার (২৬ জুলাই) দুপুরে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) শাখা জাতীয় ছাত্রশক্তির আয়োজিত এক আলোচনা সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।


আখতার হোসেন বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় কমান্ড রেসপনসিবিলিটির জায়গা থেকে সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর ভূমিকা ছিল। তার অভিযোগ, সে সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার পরিবর্তে তিনি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সহযোগী হিসেবে কাজ করেছেন।


তিনি আরও দাবি করেন, অতীতে সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া রাষ্ট্রবিরোধী বিভিন্ন ষড়যন্ত্রে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগও তুলে তিনি বলেন, লন্ডনে অবস্থানকালে সাবেক রাষ্ট্রপতি শেখ হাসিনার সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন বলেও তারা জেনেছেন। এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করে তাকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।


রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক দায়মুক্তি প্রসঙ্গে আখতার হোসেন বলেন, সংবিধানের ৫১ অনুচ্ছেদের ভুল ব্যাখ্যা দেওয়া হচ্ছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি দায়িত্বে থাকাকালে সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনের বিষয়ে দায়মুক্তি ভোগ করেন। তবে পদত্যাগ বা দায়িত্ব ছাড়ার পর তার বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।


এ প্রসঙ্গে তিনি সাবেক রাষ্ট্রপতি এইচ এম এরশাদের উদাহরণ টেনে বলেন, রাষ্ট্রপতির পদ ছাড়ার কয়েক দিনের মধ্যেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তাই রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব শেষ হওয়ার পর ব্যক্তিগত কর্মকাণ্ডের বিষয়ে তদন্ত বা আইনি পদক্ষেপ গ্রহণে সাংবিধানিক কোনো বাধা নেই বলে তিনি মন্তব্য করেন।


আখতার হোসেন আরও বলেন, রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে থাকায় এতদিন সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর বিষয়ে তদন্ত হয়নি। এখন তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ, বিশেষ করে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান-সংক্রান্ত অভিযোগগুলো তদন্ত করে সত্যতা যাচাই করা প্রয়োজন।


তিনি অভিযোগ করেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি শুধু রাজনৈতিকভাবেই বিতর্কিত নন, আর্থিক অনিয়মের সঙ্গেও জড়িত ছিলেন। তার দাবি, ইসলামী ব্যাংক এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে যাওয়ার ঘটনায় সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর ভূমিকা ছিল। এছাড়া বিদেশে সম্পদ গড়া এবং ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পদত্যাগপত্র নিয়ে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগও করেন তিনি।


এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় ‘বর্ষা বিপ্লবের স্মৃতিচারণ ও নতুন রাজনৈতিক ধারা বিনির্মাণ’ শীর্ষক আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা জাতীয় ছাত্রশক্তি।


সংগঠনটির আহ্বায়ক ফুয়াদ হাসানের সভাপতিত্বে এবং সদস্যসচিব ইফতেহার উদ্দীনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা ছিলেন জাতীয় ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদ আহসান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক আলী আহসান জুনায়েদ, সারোয়ার তুষার এবং যুগ্ম মুখ্য সংগঠক ডা. মাহমুদা মিতুসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।


রংপুর-৪ আসনের এমপি আখতার হোসেন

  • প্রকাশ : রবিবার ২৬ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১১:০২ পিএম

জাতীয় নাগরিক কমিটির সদস্য সচিব ও রংপুর-৪ আসনের এমপি আখতার হোসেন বলেন, সরকারি চাকরিগুলোর নিয়োগ যেন দলীয়করণ থেকে মুক্ত থাকে। সরকারি কর্ম কমিশন যেন কোনো ভাবেই দলীয়করণের আওতায় না পড়ে।


আজ রবিবার (২৬ জুলাই) ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশক্তি কতৃক আয়োজিত ''বর্ষা বিপ্লবের স্মৃতিচারণ ও নতুন রাজনৈতিক ধারা বিনির্মাণ'' শীষক আলোচনায় তিনি এ কথা বলেন।  


তিনি বলেন, "যদি পিএসসিতে শুধু সরকারদলীয় লোককে নিয়োগ দেওয়া হয়, তাহলে একটা আশঙ্কা থেকেই যায় যে সেখানে এক ধরনের আনফেয়ার পরিস্থিতি সেখানে তৈরি হতে পারে। সে কারণেই কিন্তু আমরা সকল রাজনৈতিক দলগুলো মিলে আলোচনা করেছিলাম যে পিএসসিতে নিয়োগ হতে হবে এমনভাবে যেখানে সরকারি দল কথা বলবে বিরোধী দল যারা আছে তারাও কথা বলবে।"


তিনি আরও বলেন, "যদি সরকারি দল-বিরোধীদল সকলের মতামতের ভিত্তিতে একজনকে পিএসসি'র দায়িত্বে নিয়োগ করা হয়, তাহলে সেই মানুষটা অন্তত পক্ষে নিরপেক্ষ ভুমিকা পালন করবে বলে আমরা আশা রাখতে পারি। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষ গণভোটে অংশ নেওয়ার পরেও, সেই গণভোটের রায় এখনো কার্যকর হয় নি। আমরা প্রত্যাশা করবো বাংলাদেশকে সত্যিকার অর্থে এগিয়ে নেওয়ার জন্য যেন গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করা হয়।"


এসময় উপস্থিত ছিলেন এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক আলী আহসান জুনায়েদ, যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার এবং যুগ্ম মুখ্য সংগঠক ড. মাহমুদা আলম মিতু এমপিসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।


এছাড়া অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন জাতীয় ছাত্রশক্তির সভাপতি জাহিদ আহসান।


  • প্রকাশ : রবিবার ২৬ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৭:১০ পিএম

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সম্মুখসারীর নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘রিমেম্বারিং জুলাই’ শীর্ষক আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।রোববার (২৬ জুলাই) দুপুর ১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় শাখা জাতীয় ছাত্রশক্তির উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে জুলাই আন্দোলনের সম্মুখসারীর নেতারা অংশ নেন।


অনুষ্ঠানে শাখা জাতীয় ছাত্রশক্তির আহ্বায়ক ফুয়াদ হাসানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেন এমপি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক আলী আহসান জুনায়েদ, যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার এবং যুগ্ম মুখ্য সংগঠক ড. মাহমুদা আলম মিতু এমপিসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। এছাড়া অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন জাতীয় ছাত্রশক্তির সভাপতি জাহিদ আহসান।


শাখা জাতীয় ছাত্রশক্তির আহ্বায়ক ফুয়াদ হাসান বলেন, জুলাই আন্দোলন কারো একার ছিল না। ছাত্র, জনতা, কৃষক, শ্রমিক সবাই মিলে আন্দোলন করেছিল। তাই জুলাইকে বাঁচিয়ে রাখতে সকল রাজনৈতিক দল মিলে ভূমিকা রাখতে হবে।”


জাতীয় ছাত্রশক্তির সভাপতি জাহিদ আহসান বলেন, “নতুন ছাত্র রাজনীতি তৈরির জন্যই আমরা জাতীয় ছাত্রশক্তি নিয়ে এগোচ্ছি। তবে পুরো রাজনৈতিক কালচারের অনেক কিছুই ছাত্রশক্তিতে রয়েছে। আমরা এক রাতে সেটা চেঞ্জ করতে পারছি না। তবে ধীরে ধীরে চেঞ্জ করছি।”


সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি ডা. মাহমুদা মিতু বলেন, “আমাদের সমাজে এখনো ভয়ের রাজনীতি বিদ্যমান। আখতার, নাহিদসহ জুলাইয়ের পরিচিত মুখগুলোকে অন্যান্য রাজনৈতিক দলের লোকেরাও ইতিবাচকভাবে দেখেন। কিন্তু আমরা যারা নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত, তাদের সঙ্গে শিক্ষার্থীরা কথা বললেই রাজনৈতিক ট্যাগ পাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। আমরা এই ভয়ের রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসতে চাই।”


তিনি আরও বলেন, “জুলাইয়ে গুম, খুন এবং লাশ পুড়িয়ে দেওয়ার মতো নৃশংস ঘটনা আমরা সবাই দেখেছি। এসব ঘটনার পর রাজনীতি করার ইচ্ছা ছিল না। তবে নিজের ক্যারিয়ার ঠিক রেখেই রাজনীতিতে যুক্ত হয়েছি। তাই আমি শিক্ষার্থীদের, বিশেষ করে ছাত্রীদের বলব—গ্র্যাজুয়েশন শেষ করে শুধু চাকরির কথা নয়, চেয়ারম্যান, মেম্বার কিংবা এমপি হওয়ার লক্ষ্যও রাখুন। এখানে উপস্থিত অনেকেরই সেই যোগ্যতা রয়েছে।”


এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন এমপি বলেন, “আমরা যখন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছিলাম, তখন দেশে ভয়ের রাজনীতি ও ফ্যাসিবাদী পরিবেশ ছিল। অন্যায়ের প্রতিবাদ করা ছিল জীবনের ঝুঁকি নেওয়ার শামিল। আমরা চাই, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আর কখনো হল দখল, নির্যাতন, বাক্‌স্বাধীনতা হরণ বা ভয়ের সংস্কৃতি ফিরে না আসুক।”


তিনি বলেন, “যে-ই ক্ষমতায় থাকুক না কেন, কোনো ছাত্রসংগঠনই যেন ছাত্রলীগের মতো ক্যাম্পাস দখলের সংস্কৃতি তৈরি না করে। জাতীয় ছাত্রশক্তিসহ সব ছাত্রসংগঠনকে এ বিষয়ে ‘চেক অ্যান্ড ব্যালেন্স’-এর মধ্যে থেকে শিক্ষার্থীদের অধিকার ও ক্যাম্পাসের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।”


তিনি আরও বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় শুধু পড়াশোনার জায়গা নয়; এখান থেকেই সম্প্রীতি, গণতান্ত্রিক চর্চা ও নেতৃত্বের শিক্ষা নিতে হবে। শিক্ষার্থীদের দেশের অসংগতি, বৈষম্য ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকতে হবে এবং প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করার জন্য কাজ করতে হবে।”


সাজিদ আব্দুল্লাহর প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, “এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাজিদ আব্দুল্লাহর হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করে দোষীদের বিচারের আওতায় আনতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দায়িত্ব এ ঘটনায় সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করা।”


বক্তব্যের শেষদিকে তিনি বলেন, “আমরা এমন একটি বাংলাদেশ চাই, যেখানে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো দলীয়করণের বাইরে থেকে নিরপেক্ষভাবে কাজ করবে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা গবেষণা, সংস্কৃতি ও দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে দেশের উন্নয়নে নেতৃত্ব দেবে।”


বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

  • প্রকাশ : রবিবার ২৬ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৫:৪০ পিএম

সরকারের মাত্র পাঁচ মাসেই দেশে নানা ধরনের কথা শুরু হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। 


তিনি বলেন, এসব থাকবেই, তবে পাওয়া সুযোগকে হেলায় হারানো যাবে না। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে। আজ রোববার (২৬ জুলাই) রাজধানীর শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে নবীনবরণ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।


মির্জা ফখরুল বলেন, সরকারের মাত্র পাঁচ মাসেই দেশে অনেক ধরনের কথা শুরু হয়ে গেছে। এসব থাকবেই। আমরা যেন সুযোগকে হেলায় না হারাই। যে সুযোগ পাওয়া গেছে, তা কাজে লাগিয়ে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে।


মন্ত্রী বলেন, বিগত ১৭ বছরে দেশের অর্থনীতিকে একেবারে ধ্বংস করা হয়েছে। সব প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করা হয়েছে। এখন সেগুলোর পুনর্গঠনের কাজ চলছে।


স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, দেশে প্রায় চার কোটি শিক্ষিত যুবক রয়েছে। সে অনুযায়ী কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা নেই। তবে পরিবর্তন আনার কাজ চলছে, এতে সময় লাগবে। এখন কর্মমুখী শিক্ষায় মনোযোগ দিতে হবে।


জ্বালানি সংকটের প্রসঙ্গ তুলে মির্জা ফখরুল বলেন, দেশে গ্যাস নেই, তেল নেই। জ্বালানির এই সংকট এখন উন্নয়নের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এটি অনেক বড় সমস্যা। এদিকে ইরানে যুদ্ধ চলছে। তাই বিকল্প জ্বালানি আবিষ্কার করতে হবে এবং গ্রিন এনার্জির দিকে মনোযোগ দিতে হবে।


বিএনপি মহাসচিব আরও বলেন, যে যেখানে আছেন, সবাই কাজ করে তারেক রহমানকে সহযোগিতা করতে হবে। দেশের পরিবর্তনে নিজেকে আগে পরিবর্তন করতে হবে।

  • প্রকাশ : রবিবার ২৬ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৯:৪০ এএম
  • আপডেট : রবিবার ২৬ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৯:৪০ এএম

এ সম্পর্কিত আরও খবর


নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

  • প্রকাশ : রবিবার ২৬ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৯:৪০ এএম

‎নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) কোষাধ্যক্ষ (ট্রেজারার) পদে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো. হাছান উদ্দিনের নাম আলোচনায় আসার পর থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব জ্যেষ্ঠ শিক্ষকদের উপেক্ষা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি ঘিরে ক্যাম্পাসজুড়ে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সাবেক শিক্ষার্থীদের একাংশের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে।

‎সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন এবং ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. হাছান উদ্দিনকে নোবিপ্রবির ট্রেজারার পদে নিয়োগের বিষয়ে সরকারের নীতিগত সম্মতি রয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী সপ্তাহেই এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে।

‎গত ৭ জুন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মো. হানিফ মুরাদ লক্ষ্মীপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (ভিসি) হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পর ট্রেজারারের পদটি শূন্য হয়। এরপর থেকেই পদটি পূরণে নোবিপ্রবির বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ অধ্যাপকের নাম সরকারের উচ্চপর্যায়ে আলোচনায় ছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

‎উল্লেখ্য, নোবিপ্রবির আগের দুইজন ট্রেজারারই এই বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব শিক্ষক ছিলেন। ফলে এবারও বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিজ্ঞ ও জ্যেষ্ঠ কোনো শিক্ষককে এ দায়িত্ব দেওয়া হবে বলে অনেকের প্রত্যাশা ছিল। কিন্তু বাইরে থেকে শিক্ষক নিয়োগের উদ্যোগ সেই প্রত্যাশায় ভাটা ফেলেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

‎সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের দাবি, আলোচনায় থাকা সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ডিন ও ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ড. আবদুল কাইয়ুম মাসুদকে অন্যতম শক্তিশালী দাবিদার হিসেবে দেখা হচ্ছিল। আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা, ব্যবসায় প্রশাসন বিষয়ে দীর্ঘদিনের শিক্ষকতা এবং অনুষদের ডিন হিসেবে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতার কারণে ট্রেজারার পদের জন্য তিনিই সবচেয়ে এগিয়ে ছিলেন বলে সংশ্লিষ্টদের অনেকে মনে করেন।

‎বর্তমানে অধ্যাপক ড. আবদুল কাইয়ুম মাসুদ বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ডিন হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি তিনি নোবিপ্রবির বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন ‘সাদা দল’-এর সাংগঠনিক সম্পাদক। গবেষণায় অবদানের জন্য তিনি বিভিন্ন সময় স্বীকৃতি ও গবেষণা অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক প্রশাসন পরিচালনায় তাঁর বিষয়ভিত্তিক দক্ষতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারত বলেও মত সংশ্লিষ্টদের।

‎এ ছাড়া আলোচনায় ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের জীববিজ্ঞান অনুষদের ডিন ও ফিসারিজ এন্ড মেরিন সায়েন্স(ফিমস) বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর সরকার, বিজ্ঞান অনুষদের ডিন এবং পরিবেশ বিজ্ঞান ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা (ইএসডিএম) বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. মহিনুজ্জামান, ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেমস(এমআইএস) বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. জিয়াউল হক এবং ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক রাকিব-উল ইসলাম।

‎অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর সরকার বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের জীববিজ্ঞান অনুষদের ডিন এবং নোবিপ্রবির বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের অন্যতম সংগঠন ‘সাদা দল’-এর সাধারণ সম্পাদক। দীর্ঘদিনের শিক্ষকতা, প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা এবং শিক্ষক রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকার কারণে তিনিও আলোচনায় ছিলেন।

‎এ বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সাবেক শিক্ষার্থীদের একাংশ সোচ্চার হয়েছেন। তাদের মতে, দুই দশক পূর্ণ করা একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পর্যাপ্ত সংখ্যক অভিজ্ঞ ও জ্যেষ্ঠ অধ্যাপক থাকা সত্ত্বেও বারবার বাইরে থেকে শীর্ষ প্রশাসনিক পদে নিয়োগ দেওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব নেতৃত্ব বিকাশে বাধা সৃষ্টি করছে।

‎তাদের দাবি, নিজস্ব শিক্ষক প্রশাসনিক দায়িত্বে থাকলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল হয় এবং শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সমন্বয় সহজ হয়। কিন্তু যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও নিজস্ব শিক্ষকদের মূল্যায়ন না করায় শিক্ষক সমাজের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।

‎এ ব্যাপারে ইনস্টিটিউট অব ইনফরমেশন সায়েন্সেস (আইআইএস)-এর ভারপ্রাপ্ত পরিচালক এবং পরিবেশ বিজ্ঞান ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা (ইএসডিএম) বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আবদুস সালাম এক ফেসবুক পোস্টে লেখেন, "আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের বয়স বিশ বছর। শিক্ষা ও গবেষণায় নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় সমসাময়িক অনেক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এগিয়ে। ইতোমধ্যেই আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় টাইমস হায়ার এডুকেশন এবং কিউএস র‍্যাঙ্কিংয়ে ভালো অবস্থান তৈরি করছে। শিক্ষা ও গবেষণার পাশাপাশি এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা প্রশাসনিক দক্ষতারও ছাপ রেখে চলেছেন। যার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত অতীতের ট্রেজারার স্যাররা, যারা এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই নিয়োগ পেয়েছিলেন।"

‎তিনি আরও লেখেন, "বর্তমানেও ট্রেজারার হওয়ার যোগ্য অনেক অধ্যাপক এ বিশ্ববিদ্যালয়ে রয়েছেন। তাই অতীতের ন্যায় এবারও আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই ট্রেজারার নিয়োগ হোক—এটাই বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের দাবি বলে আমি বিশ্বাস করি।"

‎ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট(টিএইচএম) বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. জামশেদুল ইসলাম তার ফেসবুক ওয়ালে লেখেন, "নিজেদের যোগ্য ও ত্যাগী শিক্ষকদের বাদ দিয়ে বাইরের কাউকে দায়িত্ব দিলে তা নোবিপ্রবির শিক্ষকদের জন্য অসম্মানের বিষয় হবে।"

‎তিনি আরও লেখেন, "নোবিপ্রবির বেশ কয়েকজন শিক্ষক জুলাই আন্দোলনে সামনের সারিতে ছিলেন এবং সাদা দল, জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরাম কিংবা উটাব (UTAB)-এর মতো সংগঠনে সক্রিয়ভাবে দায়িত্ব পালন করছেন। সরকারের উচ্চপর্যায়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা বজায় রাখা জরুরি। নোবিপ্রবির নিজস্ব যোগ্য ও নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষকদের মধ্য থেকেই ট্রেজারার নিয়োগে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত।"

নোবিপ্রবি ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাকালীন আহ্বায়ক নুর হোসেন বাবু তাঁর ফেসবুক পোস্টে লেখেন, "নোবিপ্রবির ট্রেজারার হওয়ার মতো এখনো দু'জন শিক্ষক আছেন যারা যোগ্য এবং ফ্যাসিস্ট নয় বরং বঞ্চিত এবং বিএনপির জন্য নিবেদিত। তাহলে তাদেরকে মূল্যায়ন না করে কেন ফ্যাসিবাদের দোসর ও লীগ নেতাদেরকে নিয়োগের চক্রান্ত চলছে? ছোট-বড় যারা অর্থ ও স্বার্থের কারণে এসবের পেছনে কলকাঠি নাড়ছেন, তাদের সব অপকর্ম রেকর্ড হচ্ছে। সব ফাঁস হবে। সাবধান হয়ে যান।"

‎তিনি আরও লেখেন, "আমাদের জোর দাবি হচ্ছে নোবিপ্রবি থেকেই ট্রেজারার নিয়োগ দেওয়া হোক।"

‎অন্যদিকে, বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি সাব্বির হোসেন তাঁর ফেসবুক পোস্টে লেখেন, "আজ দল সরকারে, কিন্তু মূল্যায়িত হচ্ছেন কারা? যদি সত্যি দীর্ঘদিনের ত্যাগী ও নিবেদিতপ্রাণ ব্যক্তিরা উপেক্ষিত হন এবং তাঁদের জায়গা দখল করেন অতীতে ভিন্ন রাজনৈতিক অবস্থানে থাকা বা বিতর্কিত ব্যক্তিরা—তবে তা দল ও বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য উদ্বেগের।"

‎তিনি আরও লেখেন, "যোগ্যতা, সততা, দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক অবদান ও ত্যাগকে যথাযথ গুরুত্ব দিন। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে নিবেদিতপ্রাণ কর্মীদের মূল্যায়ন নিশ্চিত করা দলকে আরও শক্তিশালী করবে।"

‎সব মিলিয়ে, ট্রেজারার নিয়োগকে ঘিরে নোবিপ্রবির নিজস্ব শিক্ষকদের মূল্যায়নের প্রশ্নটি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের একাংশের প্রত্যাশা, এ গুরুত্বপূর্ণ পদে নিজস্ব যোগ্য ও অভিজ্ঞ শিক্ষকদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।


  • প্রকাশ : শনিবার ২৫ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৪:২০ পিএম

ক্যাম্পাস সাংবাদিকদের মাল্টিমিডিয়া সাংবাদিকতা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও ফ্যাক্ট চেকিং বিষয়ে দক্ষ করে তুলতে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) তিন দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা শুরু হয়েছে। প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি) আয়োজিত এ প্রশিক্ষণে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এবং জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাককানইবি) ৪০ জন ক্যাম্পাস সাংবাদিক অংশ নিচ্ছেন।

শনিবার (২৫ জুলাই) সকাল ১০টায় বাকৃবির কৃষি অর্থনীতি ও গ্রামীণ সমাজবিজ্ঞান অনুষদের সম্মেলন কক্ষে প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধন করা হয়।

পিআইবির প্রশিক্ষক সাহানোয়ার সাইদ শাহীনের সভাপতিত্বে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মো. শহীদুল হক। তিনি কর্মশালার উদ্বোধন করেন। প্রশিক্ষণের প্রথম দিনের সেশন পরিচালনা করেন প্রশিক্ষক জি. এম. মোস্তাফিজুল আলম।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. মো. শহীদুল হক বলেন, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রি ছাড়া পড়াশোনার পাশাপাশি সাংবাদিকতা করায় তাদের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য আয়োজিত এ ধরনের প্রশিক্ষণ অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। প্রশিক্ষণের নির্ধারিত বিষয়গুলো অত্যন্ত সময়োপযোগী। বিশেষ করে আধুনিক মাল্টিমিডিয়া, ফ্যাক্ট চেকিং ও এআই এর সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে গুজবের উর্ধ্বে উঠে সংবাদের পেছনের সত্য উন্মোচন করা অত্যন্ত জরুরি। পাশাপাশি সাংবাদিকতায় নৈতিকতা বজায় না রাখলে তা সমাজের ক্ষতির কারণ হতে পারে সেদিকে আপনারা খেয়াল রাখবেন।