• প্রকাশ : রবিবার ০২ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৫:১৪ পিএম

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) জুলাই গণঅভ্যুত্থানের জন-আকাঙ্ক্ষা, অর্জন ও পরবর্তী বাস্তবতা নিয়ে ‘চব্বিশের জুলাই: জন-আকাঙ্ক্ষা ও বাস্তবতা’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।


আজ রোববার (২ আগস্ট) দুপুর ১২ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের জামায়াতপন্থী শিক্ষক সংগঠন গ্রীণ ফোরামের উদ্যোগে রবীন্দ্র-নজরুল কলা ভবনের গণন হরকরা গ্যালারিতে এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।

 

সেমিনার বিশ্ববিদ্যালয় গ্রীণ ফোরামের সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সভাপতিত্ব প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. এমতাজ হোসেন। এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষাক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।




এসময় প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. সালেহ হাসান নকীব। এছাড়া প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের দাওয়াহ অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. কামরুজ্জামান।


প্রবন্ধে অধ্যাপক ড. মো. কামরুজ্জামান তুলে ধরেন যে, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান কেবল সরকার পরিবর্তনের আন্দোলন ছিল না; বরং বৈষম্য, দমন-পীড়ন, দুর্নীতি ও কর্তৃত্ববাদের অবসান ঘটিয়ে জবাবদিহিমূলক ও বৈষম্যহীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন-আকাঙ্ক্ষার বহিঃপ্রকাশ ছিল। গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্র সংস্কারে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হলেও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, রাজনৈতিক অসহিষ্ণুতা, অর্থনৈতিক সংকট ও সংস্কার বাস্তবায়নে ধীরগতির কারণে মানুষের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে।


অনুষ্ঠানে গ্রীণ ফোরামের সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, "জুলাইকে আমাদের বাঁচিয়ে রাখতে হবে। এই জুলাইকে বিপন্ন হতে দেওয়া যাবে না। জুলাইয়ের চেতনা নিয়েই আগামী দিনে একটি সুখী, সমৃদ্ধশালী, বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার জন্য আমাদের সকলকেই ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা পালন করতে হবে"


ইবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান বলেন, ‘জুলাই আন্দোলন এ দেশের স্বাধীনতার আন্দোলনসহ অতীতে সংঘটিত অন্যান্য আন্দোলন থেকে ভিন্ন। এ আন্দোলনের ভিন্ন বৈশিষ্ট্যের কারণেই এর আকাঙ্ক্ষা ও প্রত্যাশাগুলো কতটুকু বাস্তবায়িত হয়েছে, তা আমাদের ভেবে দেখা উচিত।’


তিনি আরও বলেন, জুলাই আন্দোলনের প্রতিফলন আমরা দেশের বাইরেও দেখতে পাচ্ছি। এ আন্দোলন উপমহাদেশের অন্যান্য দেশেও একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে এর সূচনা হলেও পরবর্তীতে সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণের ফলে ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন সম্ভব হয়েছে। সমাজের স্তরে স্তরে জুলাইয়ের যোদ্ধারা ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছেন। তাই কোনো ব্যক্তি বা সংগঠন এককভাবে জুলাই আন্দোলনের কৃতিত্ব বা দাবিদার হতে পারে না।


আলোচনা সভায় প্রধান আলোচক রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. সালেহ হাসান নকীব বলেন, ‘২৪-এর জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান সফল হয়েছে না ব্যর্থ হয়েছে-এটি একটি অবান্তর প্রশ্ন। গণঅভ্যুত্থান শতভাগ সফল হয়েছে। এর মূল উদ্দেশ্য ছিল স্বৈরশাসনের অবসান, আর সেই লক্ষ্য অর্জনে জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের কোনো ব্যর্থতা নেই।’


তিনি বলেন, ‘প্রতিটি গণঅভ্যুত্থান মানুষের মনে নতুন আকাঙ্ক্ষা ও স্বপ্নের জন্ম দেয়। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে হোঁচট খাওয়ার ইতিহাসও চিরন্তন। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রতিশ্রুতিও ৫৫ বছর পর পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি। এর অর্থ এই নয় যে, আমাদের স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষার মধ্যে কোনো ঘাটতি ছিল। বরং ইতিহাস থেকে আমাদের শিক্ষা নিতে হবে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষার মধ্যেও কোনো ঘাটতি ছিল না। এই গণঅভ্যুত্থান আমাদের নতুন করে রাষ্ট্র ও সমাজ গঠন এবং সংস্কারের সুযোগ করে দিয়েছে। আমরা সেই সুযোগ কতটা কাজে লাগাতে পেরেছি, সেই প্রশ্নের উত্তর জুলাই-আগস্ট দেবে না; এর উত্তর আমাদেরই দিতে হবে।’




ফান্ডামেন্টাল ডিবেট ওয়ার্কশপ

  • প্রকাশ : রবিবার ০২ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৮:৪৮ পিএম

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) ম্যানেজমেন্ট ক্লাবের আয়োজনে ‘ম্যানেজমেন্ট ডিবেটার হান্ট ১.০’ উপলক্ষে ‘ফান্ডামেন্টাল ডিবেট ওয়ার্কশপ’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। কর্মশালায় বিতর্কের মৌলিক বিষয়, যুক্তি উপস্থাপনের কৌশল, বক্তব্য প্রদানের দক্ষতা এবং প্রতিযোগিতামূলক বিতর্কের বিভিন্ন দিক নিয়ে অংশগ্রহণকারীদের প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়।


রোববার (২ আগস্ট) দুপুর ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের কনফারেন্স রুমে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।


অনুষ্ঠানে ম্যানেজমেন্ট ক্লাবের কনভেনর ও ব্যবস্থাপনা শিক্ষা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. জাহিদ হাসানের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্যবস্থাপনা শিক্ষা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মাহবুব আলম এবং একই বিভাগের প্রভাষক ও ক্লাবের কো-কনভেনর আলেয়া আক্তার।


কর্মশালায় প্রশিক্ষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ডিবেটিং সোসাইটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (প্রশাসন) নাজমুস সাকিব।


বক্তারা শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক চিন্তাশক্তি, নেতৃত্বের গুণাবলি এবং কার্যকর যোগাযোগ দক্ষতা বিকাশে বিতর্কচর্চার গুরুত্ব তুলে ধরেন। কর্মশালায় বিভাগের বিভিন্ন ব্যাচের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। প্রাণবন্ত এ আয়োজনের মধ্য দিয়ে ‘ম্যানেজমেন্ট ডিবেটার হান্ট ১.০’-এর কার্যক্রমের সূচনা হয়।


ম্যানেজমেন্ট ক্লাবের কনভেনর ও ব্যবস্থাপনা শিক্ষা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. জাহিদ হাসান বলেন, “শিক্ষার্থীদের শুধু বিতর্কের মঞ্চেই নয়, জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে এবং প্রতিটি শব্দ বিনিময়ে যৌক্তিক ও বস্তুনিষ্ঠ হওয়া উচিত।”


জাতীয় ছাত্রশক্তি, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়

  • প্রকাশ : রবিবার ০২ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৮:৪২ পিএম

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) নারী শিক্ষার্থীদের জন্য মাতৃত্বকালীন ছুটি ও একাডেমিক শিথিলকরণের দাবিতে পাঁচ দফা দাবি-সংবলিত একটি স্মারকলিপি উপাচার্যের কাছে জমা দিয়েছে জাতীয় ছাত্রশক্তি, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা।


রোববার (২ আগস্ট) দুপুর ১২টার জাতীয় ছাত্রশক্তি কুবি শাখার সংগঠক সৈয়দা নাজিফা নাফিল স্বাক্ষরিত স্মারকলিপিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম. এম. শরীফুল করীমের কাছে হস্তান্তর করা হয়।


স্মারকলিপিতে নারী শিক্ষার্থীদের মাতৃত্বকালীন সময়ে একাডেমিক কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখতে পাঁচ দফা দাবি উত্থাপন করা হয়। দাবিগুলো হলো: মাতৃত্বকালীন শিক্ষার্থীদের জন্য একটি স্থায়ী ও সুস্পষ্ট একাডেমিক সহায়তা নীতিমালা প্রণয়ন ও কার্যকর করা, প্রশাসনের গৃহীত সিদ্ধান্ত বিভাগীয় পর্যায়ে বাধাহীনভাবে বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা এবং কোনো শিক্ষার্থী যেন হয়রানির শিকার না হন, তা নিশ্চিত করা, গর্ভকালীন সময় ও সন্তান জন্মের পর নির্ধারিত সময় পর্যন্ত উপস্থিতির ক্ষেত্রে বিশেষ ছাড় প্রদান এবং ৬০ শতাংশের কম উপস্থিতি থাকলেও জরিমানা পরিশোধ সাপেক্ষে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ রাখা, মাতৃত্বকালীন সময়ে মিস হওয়া অ্যাসাইনমেন্ট, সিটি পরীক্ষা ও মিডটার্ম পরবর্তীতে সম্পন্ন করার সুযোগ নিশ্চিত করা; এবং উপস্থিতির হার শিথিল করে সেমিস্টার পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ নিশ্চিত করা।


এ বিষয়ে জাতীয় ছাত্রশক্তি কুবি শাখার সংগঠক সৈয়দা নাজিফা নাফিল বলেন, “একজন মায়ের শিক্ষিত হওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একজন নারীর জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হলো মাতৃত্ব। এ সময়ে শারীরিক ও মানসিক নানা ধরনের পরিবর্তন ও চাপের কারণে স্বাভাবিক কার্যক্রম, বিশেষ করে একাডেমিক কাজ নির্ধারিত সময়ে সম্পন্ন করা কঠিন হয়ে পড়ে। নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিত থাকা সম্ভব হয় না। ফলে অনেক শিক্ষার্থীকে অতিরিক্ত জরিমানা দিয়ে পরীক্ষায় অংশ নিতে হয়, আবার কেউ কেউ ইয়ার ড্রপ দিতে বাধ্য হন। এমন পরিস্থিতিতে অনেকের পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়। তাই আমরা মাতৃত্বকালীন সময়ে একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়নের দাবি জানাচ্ছি।”


তিনি আরও বলেন, “আমরা এ বিষয়ে যৌক্তিক দাবিগুলো উপাচার্য স্যারের কাছে উপস্থাপন করেছি। আশা করছি, তিনি বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।”


এ বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম. এম. শরীফুল করীম বলেন, “যেসব শিক্ষার্থী মাতৃত্বকালীন সময়ে একাডেমিক কার্যক্রমে শিথিলতা চান, তাদের একটি তালিকা প্রয়োজনীয় তথ্যসহ, যেমন নাম, বিভাগ, রোল এবং কোর্সভিত্তিক সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের নাম ও মোবাইল নম্বরসহ জমা দিন। এরপর আমরা বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করব।”


অভিযুক্ত দুই কিশোর

  • প্রকাশ : রবিবার ০২ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৮:৩৭ পিএম

অনলাইনে অর্ডার করা একটি ড্রোনের মূল্য পরিশোধ না করে মোটরসাইকেলে পালিয়ে যাওয়ার সময় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) দুই শিক্ষার্থীকে ধাক্কা দিয়ে আহত করার অভিযোগে দুই কিশোরকে আটক করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। পরে প্রক্টর অফিসে তাদের অভিভাবকদের উপস্থিতিতে মুচলেকা নিয়ে পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়।


রোববার (২ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজয়-২৪ হলের সামনে এ ঘটনা ঘটে। আটক দুই কিশোর হলেন মো. সাকিব (১৪) ও মো. শহিদুল (১৫)। তারা কুমিল্লার বিজয়পুর এলাকার রাজারখলা গ্রামের বাসিন্দা।


জানা যায়, অভিযুক্তরা অনলাইনে একটি ড্রোন অর্ডার করেন। ডেলিভারিম্যান ড্রোনটি পৌঁছে দিলে তারা মূল্য পরিশোধ না করেই সেটি নিয়ে মোটরসাইকেলে দ্রুত পালানোর চেষ্টা করেন। এ সময় বেপরোয়া গতিতে মোটরসাইকেল চালানোর কারণে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের দুই শিক্ষার্থী আহত হন।


ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং স্টেডফাস্ট কুরিয়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা অভিযুক্তদের আটক করে প্রক্টর অফিসে নিয়ে যান। পরে তাদের অভিভাবকদের উপস্থিতিতে বিষয়টির নিষ্পত্তি করা হয়। ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধে জড়াবে না মর্মে মুচলেকা নেওয়ার পর তাদের পরিবারের জিম্মায় হস্তান্তর করা হয়।


এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর মাহমুদুল হাসান বলেন, “সিএসই বিভাগের দুই শিক্ষার্থী বিজয়-২৪ হলের পেছনের সড়কে দুই মোটরসাইকেল আরোহীর ধাক্কায় আহত হন। প্রাথমিকভাবে জানা যায়, অভিযুক্ত দুই ব্যক্তি একটি ড্রোন ডেলিভারি গ্রহণ করে মূল্য পরিশোধ না করেই দ্রুত মোটরসাইকেলে পালানোর চেষ্টা করছিলেন। এ সময় বেপরোয়া গতিতে মোটরসাইকেল চালানোর ফলে দুর্ঘটনাটি ঘটে। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও স্টেডফাস্টের কর্মকর্তারা তাদের আটক করে ক্যাম্পাসে নিয়ে আসেন।”


তিনি আরও বলেন, “প্রক্টর অফিসে অভিযুক্তদের অভিভাবকদের উপস্থিতিতে ভুক্তভোগীদের মতামত নেওয়া হয়। আহত শিক্ষার্থীরা অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নেই বলে জানিয়েছেন। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে অভিযুক্তদের অভিভাবকদের কাছ থেকে মুচলেকা নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা ঘটলে এর দায় তারাই বহন করবেন। এরপর তাদের পরিবারের জিম্মায় হস্তান্তর করা হয়।”



  • প্রকাশ : রবিবার ০২ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৮:৩২ পিএম

দেশের সব বেসরকারি দাখিল ও আলিম মাদরাসার বিদ্যমান অ্যাডহক কমিটি বাতিল করেছে বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড। একই সঙ্গে সংশোধিত প্রবিধানমালা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় অনুমোদন নিয়ে আগামী ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে নতুন অ্যাডহক কমিটি গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রোববার (২ আগস্ট) বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক এস এম তৌহিদুজ্জামানের সই করা জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।


বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড (দাখিল ও আলিম স্তরের বেসরকারি মাদরাসার ম্যানেজিং কমিটি ও গভর্নিং বডি) প্রবিধানমালা, ২০২৫-এর প্রবিধি ৬৪ অনুযায়ী মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটিসহ দেশের সব বেসরকারি দাখিল ও আলিম মাদরাসার বিদ্যমান অ্যাডহক কমিটি বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে।


এতে আরও বলা হয়, একইসঙ্গে সংশোধিত প্রবিধানমালা (এসআরও নং ৮৯-আইন/২০২৬) অনুসারে নতুন অ্যাডহক কমিটি গঠনের পদ্ধতি ও শর্তও নির্ধারণ করে দিয়েছে বোর্ড। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের গত ৩০ জুলাই জারি করা নির্দেশনার আলোকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।


নির্দেশনা অনুযায়ী, নতুন অ্যাডহক কমিটির সভাপতি মনোনয়নের জন্য স্থানীয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং জেলা প্রশাসকের (ডিসি) মাধ্যমে তিন সদস্যের একটি প্যানেল প্রস্তাব করবেন প্রতিষ্ঠান প্রধান (অধ্যক্ষ বা সুপার)।


শিক্ষানুরাগী ব্যক্তি, খ্যাতিমান সমাজসেবক, জনপ্রতিনিধি অথবা কর্মরত বা অবসরপ্রাপ্ত নবম গ্রেড বা এর চেয়ে ওপরের পদমর্যাদার সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্য থেকে এ প্যানেল তৈরি করতে হবে। পরে অন্য সদস্যের মনোনয়নের প্রস্তাবসহ তা সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডে পাঠাতে হবে।


তবে, সিটি করপোরেশন এলাকার দাখিল ও আলিম মাদরাসার ক্ষেত্রে আলাদা বিধান রাখা হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের অ্যাডহক কমিটির প্রস্তাব বিভাগীয় কমিশনারের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডে পাঠাতে হবে।


এ সংক্রান্ত জরুরি নির্দেশনা দেশের সব বেসরকারি দাখিল ও আলিম মাদরাসার অধ্যক্ষ, সুপার, পরিচালনা কমিটির সদস্য এবং সংশ্লিষ্ট জেলা ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হয়েছে। নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।


  • প্রকাশ : রবিবার ০২ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৭:৪৯ পিএম



প্রতিষ্ঠার প্রায় ১৫ বছর পর প্রথমবারের মতো ট্রেজারার পেল বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয় (বুটেক্স)। বিশ্ববিদ্যালয়টির ট্রেজারার হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. মাহবুবুল হক পাটোয়ারী। 


সোমবার (২৭ জুলাই) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সরকারি সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, মো. মাহবুবুল হক পাটোয়ারী যোগদানের তারিখ থেকে চার বছরের জন্য তাঁর মেয়াদ থাকবে। 


এতে আরও বলা হয়েছে, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ কর্তৃক ২৭ ডিসেম্বর ২০২০ তারিখে জারিকৃত ২৬৭ নম্বর প্রজ্ঞাপনের বিধান অনুযায়ী তিনি ট্রেজারারের মাসিক সম্মানী পাবেন। পাশাপাশি বিধি অনুযায়ী পদসংশ্লিষ্ট অন্যান্য সুবিধা ভোগ করবেন এবং সার্বক্ষণিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অবস্থান করবেন।


প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ২০১০ এর ধারা ১৩-এর উপধারা (৩), (৫), (৬), (৭), (৮) অনুসারে তিনি দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া প্রয়োজনবোধে রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর যেকোনো সময় এ নিয়োগ বাতিল করতে পারবেন।



মো. মাহবুবুল হক পাটোয়ারী বর্তমানে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (বিশ্ববিদ্যালয়) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। শিক্ষা প্রশাসনে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। এর আগে তিনি সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন।


ট্রেজারার হিসেবে নিয়োগের বিষয়ে অনুভূতি ও কর্মপরিকল্পনা জানতে চাইলে মো. মাহবুবুল হক পাটোয়ারী বলেন, “ক্যাম্পাসে এসে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদানের পর এ বিষয়ে বিস্তারিত বক্তব্য দেব। বর্তমানে এ নিয়ে কিছু বলতে চাচ্ছি না। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক, শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সবাইকে সঙ্গে নিয়ে একসঙ্গে কাজ করতে চাই। আশা করছি, আগামী ডিসেম্বর মাসে আনুষ্ঠানিকভাবে ট্রেজারার হিসেবে যোগদান করতে পারবো।”


ট্রেজারার নিয়োগকে বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন বুটেক্সের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. জুলহাস উদ্দিন। তিনি বলেন, “ট্রেজারার নিয়োগের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় আরও স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও কাঠামোগত শৃঙ্খলা আসবে। ট্রেজারার সময়ভিত্তিক ও খাতওয়ারি বাজেট প্রণয়ন এবং আর্থিক পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন। এতে ভিসি হিসেবে আমার প্রশাসনিক ও আর্থিক চাপ অনেকটাই কমবে, ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়নমূলক বিষয়ে আরও বেশি মনোযোগ দেওয়া সম্ভব হবে।”


উল্লেখ্য, ২০১০ সালে কলেজ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নীত হওয়ার পর বুটেক্সে দীর্ঘদিন ধরে ট্রেজারার পদটি শূন্য ছিলো। বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রায় ১৫ বছর পর এবারই প্রথম এ পদে নিয়োগ দেওয়া হলো।


 বুটেক্সে শিক্ষক নিয়োগে অনিয়মের গুঞ্জন


  • প্রকাশ : রবিবার ০২ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৩:১০ পিএম

বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুটেক্স) ফেব্রিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে প্রভাষক নিয়োগকে ঘিরে অনিয়মের নানা গুঞ্জন শুনা যাচ্ছে। নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট মহলে সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।


বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের ২১ মে প্রকাশিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে উক্ত বিভাগে দুইজন প্রভাষক নিয়োগের কথা উল্লেখ ছিল। লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা সম্পন্ন হলেও এখনো চূড়ান্ত ফলাফল আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।


এদিকে, নিয়োগ প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে আলোচনায় উঠে এসেছে দুই প্রার্থী—৪৪তম ব্যাচের মো. ইয়াসিন এবং ৪৬তম ব্যাচের নাফিস মাহমুদ অর্নব। সংশ্লিষ্টদের দাবি, শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার দিক থেকে ইয়াসিন তুলনামূলকভাবে এগিয়ে রয়েছেন।


সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, লিখিত পরীক্ষায় ইয়াসিন অর্নবের তুলনায় বেশি নম্বর পেয়েছিলেন। মৌখিক পরীক্ষাতেও তার পারফরম্যান্স সন্তোষজনক ছিল বলে দাবি করা হচ্ছে। তবে চূড়ান্ত ফলাফলে সেই প্রতিফলন দেখা যায়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।


নিয়োগ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে পাঁচ সদস্যের একটি ভাইভা বোর্ড গঠন করা হয়। বোর্ডে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. জুলহাস উদ্দিনসহ ফেব্রিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. ইমদাদ সরকার, অনুষদের ডিন অধ্যাপক শিল্পী আক্তার এবং মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো. আবু বকর সিদ্দিকী ও ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ড. মাহাবুব উপস্থিত ছিলেন।


বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, ভাইভা বোর্ডে উপাচার্যের হস্তক্ষেপে নম্বরায়ণের সময় ইয়াসিনকে তুলনামূলকভাবে কম নম্বর প্রদান করে দ্বিতীয় থেকে তৃতীয় অবস্থানে আনা হয়। এমনকি প্রাথমিকভাবে বেশি নম্বর থাকা সত্ত্বেও পরবর্তীতে তা পুনর্বিন্যাস করে কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও শিক্ষক নিয়োগের সময় নিয়োগ বোর্ডে উপস্থিত ২জন বিভাগীয় শিক্ষকের মতামতকে প্রাধান্য দেয়া হয়নি বলেও অভিযোগ উঠেছে। 


এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভাইভা বোর্ডের অভ্যন্তরে মতবিরোধ ও বাকবিতণ্ডার সৃষ্টি হয় বলে একাধিক সূত্রে জানা গেছে। পরবর্তীতে বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় উপস্থাপিত হয় এবং সেখানে অর্নবকে চূড়ান্ত করা হয়েছে বলে জানা গেলেও এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি।


ভাইভা বোর্ডে উপস্থিত শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলে অভিযোগগুলোর প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। এছাড়া অভিযোগ উঠেছে, প্রভাবশালী ব্যক্তির সুপারিশের কারণে এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি সামনে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই মেধার যথাযথ মূল্যায়ন এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।


ভুক্তভোগী মো. ইয়াসিন বলেন, “নিয়োগ পরীক্ষায় লিখিত পরীক্ষা, ডেমোনস্ট্রেশন এবং মৌখিক পরীক্ষা—প্রতিটি ধাপেই আমি সর্বোচ্চ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে অংশগ্রহণ করেছিলাম। ভাইভা বোর্ডে প্রবেশের পর ভিসি স্যার আমাকে প্রেজেন্টেশন দিতে নির্দেশ দেন। কিন্তু আমি প্রেজেন্টেশন শুরু করার পরপরই কোনো এক অজানা কারনে তিনি কক্ষ ত্যাগ করেন। প্রেজেন্টেশন শেষ হওয়ার পর ভাইভা শুরু হলে কিছুক্ষণ পর তিনি পুনরায় বোর্ডে যোগ দেন। ভাইভা চলাকালে শুরুতে এক্সটার্নাল পরীক্ষকদের ধারাবাহিক প্রশ্নের উত্তর আমি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বিস্তারিতভাবে প্রদান করি। আমার উত্তর শুনে একজন এক্সটার্নাল পরীক্ষক সন্তুষ্টি প্রকাশ করে। পুরো সময়জুড়ে আমি জড়তাহীন ও সাবলীলভাবে প্রতিটি প্রশ্নের নির্ভুল উত্তর প্রদান করেছি। পরবর্তীতে অধ্যাপক ইমদাদ স্যার আমাকে একটি প্রশ্নের উত্তর বোর্ডে গিয়ে প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে ব্যাখ্যা করতে বলেন। কিন্তু ঠিক সেই সময় উপাচার্য হঠাৎ আমাকে প্রেজেন্টেশন দিতে বাধা দেন এবং উপস্থিত শিক্ষকদের সময়স্বল্পতার কথা উল্লেখ করে কেবল মৌখিক প্রশ্নোত্তর চালিয়ে যেতে বলেন এবং একটি বিব্রতকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। তখন বিষয়টি আমার কাছে অস্বাভাবিক মনে হয়নি। তবে পরবর্তীতে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলোর পর পুরো বিষয়টি আমার কাছে যথেষ্ট সন্দেহজনক বলে প্রতীয়মান হচ্ছে।"


এই ঘটনায় আইনি সহায়তা নেবেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, "আমার প্রতি যে অবিচার হয়েছে, তা নিয়ে অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কথা বলছেন। আমিও প্রকৃত সত্য উদঘাটন করতে চাই। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করে অবশ্যই আইনি সহায়তা নেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করব। আমি আমার জীবনের সাতটি মূল্যবান বছর শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য ব্যয় করেছি।"



নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষক বলেন, “ইয়াসিন লিখিত পরীক্ষায় ৫০ শতাংশের বেশি নম্বর এবং অর্ণব ৪৪ শতাংশ নম্বর পায়। ইয়াসিনের ভাইভায় খুবই ভালো পারফরম্যান্স ছিলো এবং কোনো প্রশ্নে তাঁকে আটকানো যায়নি। কিন্তু অর্ণবের ভাইভা ইয়াসিনের মতো ভালো হয়নি। এখানে উপাচার্য হঠাৎ অর্ণবকে ৯০ শতাংশ নম্বর দেয়ার কথা বলে এবং বাকি সদস্যরা সেটা সায় দেয়। তারপর লিখিত পরীক্ষার নম্বর বের করে সেটাও ম্যানুপুলেট করা হয়। ভাইবার সময়ে অর্নবকে বেশি সুবিধা দেয়া হচ্ছিল। সে ঠিকভাবে ইংরেজিতে কথা বলতে পারছিল না এবং প্রশ্নের উত্তরগুলো দেয়ার ক্ষেত্রে আটকে যাচ্ছিল। অধ্যাপক শিল্পী আক্তার অভিজ্ঞতার দিক থেকে বিবেচনা করে ইয়াসিনকে সুপারিশ করলেও উপাচার্য তাতে রাজি হননি।”



নিয়োগ বোর্ডে উপস্থিত থাকা টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং ফ্যাকাল্টির ডিন অধ্যাপক ড.শিল্পী আক্তার বলেন, “যারা পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছিল প্রত্যেকেই মেধাবী ছিল। এদের মধ্য থেকে যার উপস্থাপনা বা অন্যান্য দক্ষতা ভালো ছিল বাকীদের তুলনায় তাকেই বাছাই করা হয়েছে।”


শিক্ষক নিয়োগে অনিয়ম পাওয়ার অভিযোগের ব্যাপারে তিনি বলেন, “বাহিরে কে কী বলছে তা জানা নেই। তবে নিয়োগ বোর্ডে যে পাঁচজন ছিলেন তাদের সকলের সম্মতিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং কেউ কোন আপত্তি তুলে নেই। যেহেতু সকলের সম্মতিতে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে তাই এখানে অনিয়মের প্রশ্ন আসছে না।”



নিয়োগ বোর্ডের সদস্য ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক  অধ্যাপক ড. মো. মাহবুবুল হক বলেন, “আমি এই অভিযোগের বিষয়ে কিছুই জানি না। আমরা ভাইভা বোর্ডে যেটা করেছি, সেটা সবাই মিলে করেছি এবং সবাই সই করেছি। যাদেরকে নিয়োগের জন্য নির্বাচন করা হয়েছে, বোর্ড তাদেরকেই উপযুক্ত মনে করেছে। ভিসির এখতিয়ার আছে শিক্ষক নিয়োগে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়ার। বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও বাস্তবতায় ভিসি যদি মনে করেন কোনো প্রার্থী ভবিষ্যতে বিভাগের জন্য সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে বা অন্য কোনো কারণে উপযুক্ত নয়, তাহলে তাকে বাদ দেওয়ার এখতিয়ার তার রয়েছে। এটা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে নতুন কিছু নয়। আমি বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে কাজ করেছি, বহু নিয়োগ বোর্ডে ছিলাম। এমন ঘটনা আগেও বহুবার ঘটেছে, যেখানে ভিসি নিজের বিবেচনায় সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাই এসব বিষয়কে অস্বাভাবিক মনে করি না।”



বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. জুলহাস উদ্দিন নিয়োগে আনা অভিযোগ নিয়ে বলেন, “এখানে একজন উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে অভিযোগটি এনেছে। যাদের লিখিত ও ভাইভায় সর্বোচ্চ নম্বর পেয়েছে তাঁরাই নির্বাচিত হয়েছে। এখানে কারো পক্ষে-বিপক্ষে যাওয়ার সুযোগ নেই। ভাইভা বোর্ডে পাঁচজন সদস্য ছিলো এবং সেখানে সবার স্বাক্ষর নেওয়া হয়। এখানে দুর্নীতির কোনো বিন্দুমাত্র সুযোগ নেই।”



নিয়োগ পরীক্ষায় উক্ত দুই প্রার্থীর বিষয়ে বলেন, “এখানে যাকে ভুক্তভোগী হিসেবে আনা হচ্ছে তার চেয়েও লিখিত পরীক্ষায় বেশি নম্বর পেয়েছে এমন পরীক্ষার্থী নির্বাচিত হয়নি। যাকে দ্বিতীয় স্থানে রাখা হয়েছে তাঁর লিখিত পরীক্ষায় কিছু নম্বর কম থাকলেও ডেমো ও ভাইভায় পারফরম্যান্স খুব ভালো ছিলো যার জন্য সে নির্বাচিত হয়েছে।”



নিয়োগে রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “যারা নিয়োগ পেয়েছে তাদের আমি ব্যক্তিগতভাবে চিনি না। যাকে ভুক্তভোগী বানানো হয়েছে তাঁর রাজনৈতিক পরিচয় থাকতে পারে। নিয়োগের ক্ষেত্রে দলীয় কেউ আমাকে কোনো সুপারিশ করেনি এবং আমি স্বচ্ছতার ভিত্তিতে কাজ করেছি।”


   বুটেক্সে প্রথমবারের মতো ট্রেজারার নিয়োগ


উল্লেখ্য, মো. ইয়াসিন ২০২৩ সালে ৩.৯৬ সিজিপিএ অর্জন করে স্নাতক সম্পন্ন করেন এবং বর্তমানে স্নাতকোত্তর পর্যায়ে অধ্যয়নরত। তার পেশাগত অভিজ্ঞতার মধ্যে রয়েছে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড রিসার্চ (নিটার)-এ ছয় মাস প্রভাষক হিসেবে দায়িত্ব পালন, বুটেক্সে সাত মাস রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে কাজ এবং ফেব্রিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে দুই সেমিস্টার পার্ট-টাইম প্রভাষক হিসেবে শিক্ষকতা। এছাড়া প্রাইম এশিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বল্প সময়ের জন্য প্রভাষক হিসেবে দায়িত্ব পালন ও শিল্পখাতে প্রায় এক বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তার।


অন্যদিকে, নাফিস মাহমুদ অর্নব ২০২৫ সালে ৩.৮১ সিজিপিএ অর্জন করে স্নাতক সম্পন্ন করেন। তার অভিজ্ঞতার মধ্যে রয়েছে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে সাত মাস ম্যানেজমেন্ট ট্রেইনি অফিসার হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতা।