শহীদ আব্দুল কাইয়ুমের পরিবারের সাথে কুবি প্রশাসন

  • প্রকাশ : সোমবার ০৩ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১:৪৪ পিএম


ছাত্র-জনতার জুলাই গণঅভ্যুত্থানে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের একমাত্র শহীদ, শহীদ আব্দুল কাইয়ুমের পরিবারকে আগামী ৫ আগস্টের ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত কর্মসূচিতে আমন্ত্রণ জানাতে সাভারে তাদের বাসভবনে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতিনিধি দল।


সোমবার (৩ আগস্ট) দুপুর ১২ টায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে শহীদ আব্দুল কাইয়ুমের পরিবারের হাতে আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণপত্র তুলে দেওয়া হয়। 


এসময় উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের একাউন্টিং এন্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. মো. নজরুল ইসলাম, জনসংযোগ কর্মকর্তা মোহাম্মদ এমদাদুল হক এবং ডেপুটি রেজিস্ট্রার মো. মোশারফ হোসাইন।


আগামী ৫ আগস্ট ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’-এর দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে আলোচনা সভা ও সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শহীদ আব্দুল কাইয়ুমের আত্মত্যাগের স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁকে মরণোত্তর সম্মাননা প্রদান করা হবে।


এছাড়া, শহীদ পরিবারের যাতায়াত ও আবাসনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে করা হয়েছে। শহীদ আব্দুল কাইয়ুমের পরিবারের উপস্থিতি তাঁর স্মৃতির প্রতি সম্মিলিত শ্রদ্ধা নিবেদনকে আরও অর্থবহ ও মর্যাদাপূর্ণ করে তুলবে।


শহীদ আব্দুল কাইয়ুমের বিভাগ একাউন্টিং এন্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. মো. নজরুল ইসলাম বলেন, “শহীদ আব্দুল কাইয়ুম আমার বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন। সে আমার সরাসরি শিক্ষার্থী ছিলো। তাই আগামী ৫ আগস্ট অনুষ্ঠিতব্য ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’-এর অনুষ্ঠানে তাঁর পরিবারকে আমন্ত্রণ জানাতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আমি নিজেও তাদের বাসায় এসেছি। শহীদ আব্দুল কাইয়ুমের মা-বাবা অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার আশ্বাস দিয়েছেন। তাঁদের উপস্থিতি অনুষ্ঠানকে আরও অর্থবহ ও মর্যাদাপূর্ণ করে তুলবে।”





ইবি খালেদা জিয়া হল ডিবেটিং সোসাইটির নেতৃত্বে মুমতাহিনা-অথি

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১১:০২ পিএম

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের খালেদা জিয়া হল ডিবেটিং সোসাইটির ২০২৬-২৭ বর্ষের কার্যনির্বাহী কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে।


এতে সভাপতি হিসেবে ইংরেজি বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মুমতাহিনা রিনি এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে অর্থনীতি বিভাগের একই শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী তাসলিমা আরেফিন অথি মনোনীত হয়েছেন।


বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) খালেদা জিয়া হল প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. জালাল উদ্দিন স্বাক্ষরিত কমিটি ঘোষণা করা হয়।


কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন-


সহ-সভাপতি সাবরিনা খাতুন, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক বিথী খাতুন, সাংগঠনিক সম্পাদক সুমাইয়া খাতুন, অর্থ সম্পাদক মোসা: ইসমা খাতুন, যুগ্ম অর্থ সম্পাদক মারজাহান আক্তার তানিয়া, দপ্তর সম্পাদক উম্মে মরিয়ম, প্রচার সম্পাদক কাজী ফাতেহা আসমিয়া আর্দি, প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক জাকিয়া সুলতানা, বিতর্ক গবেষণা সম্পাদক রুনা লায়লা, অনুষ্ঠান সম্পাদক রিয়া আক্তার রুমা।


কার্যনির্বাহী সদস্য হিসেবে রয়েছেন-


ইসরাত জাহান, তাসনীম, সুমাইয়া নাজনীন এবং সুমাইয়া জাহান।


দায়িত্ব পেয়ে সাধারণ সম্পাদক তাসলিমা আরেফিন অথি বলেন, “সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আমার মূল লক্ষ্য হবে সোসাইটিকে আরও সক্রিয়, সুসংগঠিত ও সদস্যবান্ধব করে তোলা। যেখানে নতুন সদস্য থেকে শুরু করে অভিজ্ঞ সদস্য সবাই নিয়মিত অনুশীলন এবং নিজেদের দক্ষতা বিকাশের সুযোগ পাবে। বিশেষ করে নতুনদের প্রশিক্ষণ ও আত্মবিশ্বাস তৈরির পাশাপাশি নিয়মিত অনুশীলন এবং বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি করতে চাই।”


সভাপতি মুমতাহিনা রিনি বলেন, “খালেদা জিয়া হল ডিবেটিং সোসাইটি বরাবরই আমার একটি ইমোশনের জায়গা। ২০২২ সালে আপুদের হাত ধরে আমার যে যাত্রা শুরু হয়েছিলো সময়ের পরিক্রমায় আজ আমি সেখানে সর্বোচ্চ দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়েছি। এটা আমার জন্য যেমন আনন্দের তেমনই চ্যালেজ্ঞেরও বটে। আমি আমার দায়িত্বের জায়গা থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো খালেদা জিয়া হল ডিবেটিং সোসাইটিকে একটি জাতীয় পর্যায়ের প্ল্যাটফর্ম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে, যেনো এখান থেকে দেশসেরা বিতার্কিক তৈরি হয়।”


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৯:৪৮ পিএম

দায়িত্বকালীন এক বছরের কার্যক্রমের বিবরণী প্রকাশ করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)। প্রতিবেদনে শিক্ষার্থীদের আবাসন, পরিবহন, স্বাস্থ্যসেবা, দক্ষতা উন্নয়ন, নারী শিক্ষার্থীদের সুযোগ-সুবিধা, গবেষণা ও শিক্ষা কার্যক্রমসহ বিভিন্ন উদ্যোগের তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে ডাকসু ভবনের সামনে সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করে ডাকসু সহসভাপতি (ভিপি) আবু সাদিক কায়েম কার্যক্রম ও জবাবদিহি প্রতিবেদন তুলে ধরেন।


সংবাদ সম্মেলনে সম্পূর্ণ কার্যক্রমের অডিট প্রকাশ না করা হলেও প্রকাশিত পেজেন্টেশনে কয়েকটি কাজে খরচকৃত অর্থের পরিমাণ দেখা যায়।


প্রেজেন্টেশনে দেখানো বছরব্যাপী কার্যক্রমের মধ্যে ছারপোকা দমন ও পরিচ্ছন্নতায় ব্যয় হয়েছে ৩২ লাখ টাকা। প্রদর্শিত স্লাইডে উল্লেখ করা হয়- 'হলে ছারপোকা নিধন, মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচির ফলে শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের কষ্ট অনেকটাই কমেছে।'


এছাড়া শহীদ বুদ্ধিজীবী ডা. মোহাম্মদ মোর্তজা মেডিকেল সেন্টারের আধুনিকায়নে খরচ হয়েছে ৩ কোটি টাকা, কেন্দ্রীয় মসজিদ সংস্কারে খরচ ৩ কোটি ৫০ লাখ টাকা পাশাপাশি নারী শিক্ষার্থীদের জন্য আধুনিক জিমনেসিয়াম বানাতে খরচ হয়েছে ৬৫ লাখ টাকা এবং এছাড়াও ঝুঁকিপূর্ণ হল সংস্কারে ৭ কোটি ৫১ লাখ টাকা আদায়ের কথাও জানানো হয়েছে প্রেজেন্টেশনে। 


এছাড়া একাধিক কাজের কথা উল্লেখ করলেও বিস্তারিত খরচের পরিমাণ এখনও প্রকাশ করেনি ডাকসু। ভিপি সাদিক কায়েম জানিয়েছেন, অডিটের কাজ চলছে, খরচের বিস্তারিত কিছুদিনের মধ্যেই জানানো হবে।


সমাজসেবা সম্পাদকের ৩৫ কোটি টাকার কাজের দাবি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ডাকসু যে কাজ করেছে তা ৩৫ কোটি টাকার চাইতেও অনেক বেশি। তবে প্রশাসনের বাধার কারণে আমরা অনেক কাজই করতে পারিনি। 


সংবাদ সম্মেলনে সাদিক কায়েম বলেন, ডাকসুর জন্য নির্ধারিত বাজেট এখন পর্যন্ত প্রশাসন দেয়নি। পুরো সময় জুড়ে প্রশাসন বিমাতার মতো আচরণ করেছে। তবে শত অসহযোগিতা সত্ত্বেও এক বছরে আবাসন, পরিবহন, হলে খাবারের মান ও স্বাস্থ্য গবেষণার মতো ডাকসু কমিটি হাজারের বেশি কাজ করেছে।


শিক্ষক মূল্যায়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শিক্ষক মূল্যায়ন পদ্ধতি সংশ্লিষ্ট একাডেমিক প্রক্রিয়ায় উত্থাপিত হলেও প্রশাসনিক বিলম্বের কারণে তা বাস্তবায়িত হয়নি। পরে ডাকসু নিজ উদ্যোগে ‘DU Teachers’ Evaluation’ নামে একটি ওয়েবসাইট চালু করে।


কার্যবিবরণী অনুযায়ী, শিক্ষার্থীদের দক্ষতা উন্নয়নে মোটরসাইকেল ও গাড়ি চালনা প্রশিক্ষণ, হলভিত্তিক প্রাথমিক চিকিৎসা প্রশিক্ষণ এবং বিনামূল্যে স্পোকেন ইংলিশ কোর্সের আয়োজন করা হয়েছে। গবেষণা বিষয়ে কর্মশালা, গবেষণা প্রস্তাবনা তৈরির প্রশিক্ষণ, বৃত্তি ও উচ্চশিক্ষা বিষয়ক সেশন এবং শিক্ষা এক্সপোসহ বিভিন্ন কর্মসূচিও আয়োজন করা হয়। 


পরিবহন খাতে শনিবার বাস সার্ভিস চালু, বিভিন্ন রুটে সন্ধ্যার ট্রিপ, নারী হলগুলোর জন্য বাস এবং সাপ্তাহিক ঢাকা-কুমিল্লা বাস সার্ভিস চালুর কথা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি পরিবহন ব্যবস্থার আধুনিকায়ন ও রুট বৃদ্ধির বিভিন্ন উদ্যোগের তথ্যও দেওয়া হয়েছে।


কার্যক্রমের বিরবরণ দিয়ে দিয়ে ‘খতিয়ান’ নামে একটি বই প্রকাশ করেছে ডাকসু। বইয়ের একটি বড় অংশে বাস্তবায়ন না হওয়া বা আটকে থাকা বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও তুলে ধরা হয়েছে।


ডাকসুর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আইসিটি বিভাগের সহযোগিতায় কম্পিউটার ল্যাব স্থাপন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিষয়ক প্রশিক্ষণ, ইন্টার্নশিপ, সার্টিফিকেশন সহায়তা, ইনোভেশন হাব ও চাকরি মেলার মতো ছয়টি উদ্যোগ আটকে রয়েছে।


এ ছাড়া মাঠ সংস্কার ও ডিজিটাল সেবা, হলের ভর্তুকি মূল্যে খাবার, ডাকসু ক্যান্টিন সংস্কার, পুকুরপাড় সৌন্দর্যায়ন, ওয়াকওয়ে ও আলোকসজ্জাসহ স্থানীয় সরকার বিভাগ ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকটি প্রকল্পও বাস্তবায়িত হয়নি বলে উল্লেখ করা হয়েছে।


কাজী মোতাহার হোসেন ভবনের ক্যান্টিন, টেকসই বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য বিন, মোবাইল টয়লেট, নতুন যানবাহন সংগ্রহ এবং বিভিন্ন হলের অবকাঠামোগত উন্নয়নসহ আরও কয়েকটি উদ্যোগ আটকে থাকার কথা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। 


ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অনুদান বিতরণ, নারী শিক্ষার্থীদের জিমনেসিয়াম চালু এবং কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ সংস্কার নিয়েও বইয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়।


বামে মোস্তাফিজুর রহমান রুমি ও ডানে সুমন সরদার

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৪:৪৬ পিএম

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) সংঘর্ষের ঘটনায় এবার শাখা ছাত্রদলের দুই যুগ্ম আহ্বায়ক সুমন সরদার ও মোস্তাফিজুর রহমান রুমিকে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদ। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের উপস্থিতিতে সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে তাদের।


বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছিরের নির্দেশনায় দপ্তর সম্পাদক (সহ-সভাপতি পদমর্যাদা) মো. জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত এক নোটিশে এ নির্দেশ দেওয়া হয়।


নোটিশে বলা হয়, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার দায়িত্বশীল পদে আসীন থেকে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগের ভিত্তিতে তাদের বিরুদ্ধে কেন স্থায়ী সাংগঠনিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না তা ব্যাখ্যা করতে হবে।


এতে আরও বলা হয়, এ বিষয়ে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের উপস্থিতিতে সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা প্রদান করতে হবে।


এর আগে বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) মধ্যরাতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের দুই পক্ষের কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান ভবনের সামনের কাঁঠালতলা এলাকায় এ ঘটনায় তিনজন আহত হন। আহতদের মধ্যে দুজনের মাথায় আঘাত লাগে বলে ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক জানিয়েছিলেন।


  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৪:৩৮ পিএম

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের চার বিভাগে নতুন সভাপতি নিয়োগ দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। নবনিযুক্ত সভাপতিদের মধ্যে কমিউনিকেশন অ্যান্ড মাল্টিমিডিয়া জার্নালিজম বিভাগে সহকারী অধ্যাপক তন্ময় সাহা জয়, ফাইন আর্টস বিভাগে সহকারী অধ্যাপক রায়হান উদ্দিন ফকির, ফার্মেসি বিভাগে সহকারী অধ্যাপক ড. মাসুদ রানা এবং ল অ্যান্ড ল্যান্ড অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বিভাগে আল ফিকহ অ্যান্ড ল বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আনোয়ারুল ওহাব (শাহীন) দায়িত্ব পেয়েছেন।


বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. আতিকুর রহমান স্বাক্ষরিত পৃথক অফিস আদেশে এই তথ্য জানানো হয়।


প্রজ্ঞাপন সূত্রে, কমিউনিকেশন অ্যান্ড মাল্টিমিডিয়া জার্নালিজম বিভাগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. রশিদুজ্জামান, ফাইন আর্টস বিভাগের সভাপতি আরবি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের অধ্যাপক ড. কামরুল হাসান এবং ফার্মেসি বিভাগের সভাপতি বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমানকে ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সংবিধির সংশোধিত ১০(১) ধারা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট বিভাগের সহকারী অধ্যাপকদের ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে পরবর্তী তিন বছরের জন্য নিজ নিজ বিভাগের সভাপতি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

 

এদিকে ল অ্যান্ড ল্যান্ড অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বিভাগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী বিভাগের সহকারী অধ্যাপক বিলাসী সাহা গত ২৫ আগস্ট সভাপতির পদ থেকে অব্যাহতি চেয়ে আবেদন করেন। আবেদনের প্রেক্ষিতে নতুন সভাপতি নিয়োগ দেওয়া হয় আল ফিকহ এন্ড ল বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আনোয়ারুল ওহাবকে (শাহীন)।


  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৪:৩২ পিএম

বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে অর্জিত স্বাধীনতা ও সুযোগকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের ভবিষ্যৎ নির্মাণে এখনই লক্ষ্য নির্ধারণের আহ্বান জানিয়েছেন শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। একই সঙ্গে নিজেদের দক্ষতা বিকাশের পাশাপাশি আগামীর বাংলাদেশ গঠনে প্রস্তুত হওয়ার জন্য নবীন শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।


বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) বিজ্ঞান অনুষদ মাঠে ছাত্রদলের উদ্যোগে আয়োজিত  ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।


শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, "তোমরা তোমাদের নিজেদের জীবন প্রতিষ্ঠিত করতে চাও। অতএব বুঝতে হবে, এই যে তোমরা স্বাধীন এই স্বাধীনতাকে কতটুকু তোমরা ব্যবহার করবে, সেই প্রশ্ন তোমাদেরকে আজ জিজ্ঞেস করতে হবে।"


বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর শিক্ষার্থীদের সামনে সম্ভাবনার নতুন দুয়ার খুলে যায় উল্লেখ করে তিনি বলেন, "মনে হচ্ছে যেন একটি পুকুরের মাছ যখন বিশাল সমুদ্রে এসে পড়ে, তখন তার সাঁতার কাটার জায়গার অভাব নেই, খাবারের অভাব নেই। তোমরা আজকে বিশাল সমুদ্রে সাঁতরে বেড়াচ্ছ। এখানেই তোমাদেরকে লক্ষ্য স্থির করতে হবে কোন পথে তোমরা যাবে। তোমাদের ভবিষ্যৎ আজ তোমাদের হাতের মুঠোয়।"


নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়ার দায়িত্ব অন্যের ওপর ছেড়ে না দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, "ভেবো না তোমাদের ভবিষ্যৎ আমরা তৈরি করে দেব। আজকে নিজেকে ডিটারমাইন্ড হতে হবে কী হতে চাও, কী করতে চাও, কীভাবে নিজের জীবনকে প্রতিষ্ঠিত করবে; সেই সময়টা আজকে তোমাদের এখনই।"


আগামী দিনের বাংলাদেশ গঠনে নবীন শিক্ষার্থীদের ভূমিকার কথা তুলে ধরে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, "তোমরা যে আগামী দিনের ভবিষ্যৎ, আগামীর বাংলাদেশ; অতএব বাংলাদেশকে কীভাবে গড়বে, সেটা তোমাদের চিন্তায় আসতে হবে।"


শিক্ষার সঙ্গে কর্মমুখী দক্ষতার সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব দিয়ে আহসানুল হক মিলন বলেন, সম্প্রতি চীনের কারিগরি শিক্ষা ও শিল্প খাতের মডেল দেখতে চার দিনের সফরে গিয়েছিলেন তিনি। দেশটির শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে শিল্প খাতের যে যোগসূত্র রয়েছে, তা থেকে বাংলাদেশের অনেক কিছু শেখার সুযোগ রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।


তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার পাশাপাশি কোন বিষয়ে দক্ষতা অর্জন করবে, কোথায় কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে এবং কে উদ্ভাবক হিসেবে নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করবে, সেসব বিষয় শিক্ষার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এগিয়ে নিতে হবে।


কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, বিশ্বজুড়ে শিক্ষা ব্যবস্থায় এআই নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। সম্প্রতি ইউনেস্কোর একটি সম্মেলনে অংশ নেওয়ার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, শিক্ষা ও প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শিক্ষার্থীদেরও নিজেদের প্রস্তুত করতে হবে।


অনুষ্ঠানে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পেছনে নিজের ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, ১৯৯৫ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিষয়ে অনুমোদন দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে তিনি প্রতিমন্ত্রী থাকাকালে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় উদ্যোগ নেওয়ার কথা উল্লেখ করেন।


ছাত্রদলের সঙ্গে নিজের দীর্ঘ রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, ছাত্রদল গঠনের সময় তিনি কেন্দ্রীয় কমিটির ২১ সদস্যের মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ সদস্য ছিলেন। পরে ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থেকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাওয়ার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।


অনুষ্ঠানে নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ, উপহার ও খাবার বিতরণ করা হয়। আমন্ত্রিত অতিথিদের বক্তব্যের পাশাপাশি সন্ধ্যায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ব্যান্ড ও আমন্ত্রিত শিল্পীদের পরিবেশনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।


  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৪:২৬ পিএম

বিগত ১৭-১৮ বছর ফ্যাসিবাদের করাল থাবার কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আজ নিঃস্ব অবস্থায় রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ রইছ উদ্‌দীন। তাই এসব সমস্যা সমাধানে বর্তমান সরকার কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে বলে প্রত্যাশা করেন তিনি।


বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান ভবন সংলগ্ন মাঠে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৫-২০২৬ শিক্ষাবর্ষের (২১তম আবর্তন) নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ উপলক্ষে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা আয়োজিত নবীনবরণ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এসব কথা বলেন।


জবি উপাচার্য বলেন, "জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। কিন্তু বিগত ১৭-১৮ বছর ফ্যাসিবাদের করাল থাবার কারণে আমাদের শিক্ষার্থীরা আজ নিঃস্ব অবস্থায় রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়টি যেসব ক্ষেত্রে অবহেলিত ও বঞ্চিত হয়েছে, সেসব সমস্যার সমাধানে বর্তমান সরকার কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে বলে আমি প্রত্যাশা করি।"


তিনি আরও বলেন, "আগামী দিনের বাংলাদেশ তোমাদের হাতেই গড়ে উঠবে। তাই তোমাদের শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শ ধারণ করতে হবে। সত্যিকারের দেশপ্রেম যদি কেউ শিখিয়ে গিয়ে থাকেন, তাহলে শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান তা শিখিয়েছেন। তিনি স্বাধীনতার ঘোষণা, রণাঙ্গনে নিজে নেতৃত্ব প্রদান এবং তাঁর শাহাদাতের মধ্য দিয়েও দেশপ্রেমের শিক্ষা দিয়েছেন।"


এছাড়াও তিনি বলেন, "বর্তমানে বিভিন্ন দলের বিভিন্ন ধরনের স্লোগান আমরা দেখতে পাই কারও মঞ্জিল ভারত, কারও মঞ্জিল পাকিস্তান, আবার কারও মঞ্জিল চীন। কিন্তু আমাদের মঞ্জিল একটাই। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, 'আমার ঠিকানা এই দেশ, এই মাটি।' আমরা এই দেশকে ভালোবেসে সামনে এগিয়ে যেতে চাই।"


অধ্যাপক রইছ উদ্‌দীন বলেন, "শহিদ জিয়া ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াও দেশের প্রতি ভালোবাসা ও দেশের স্বার্থকে সর্বাগ্রে রেখে কাজ করেছেন। এজন্য আমাদের স্লোগান হবে দিল্লি নয়, পিন্ডি নয়, সবার আগে বাংলাদেশ।"


তিনি বলেন, বর্তমান সরকার গঠনের পর দায়িত্ব গ্রহণের চার মাস ধরে তিনি প্রতিনিয়ত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাগ্যোন্নয়নে সরকারের নীতিনির্ধারক মহলে যোগাযোগ রেখে চলেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন ও শিক্ষার্থীদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো সমাধানে তিনি সচেষ্ট রয়েছেন। এ নিয়ে কেউ যেন ‘ক্রেডিট রাজনীতি’ না করেন, সে বিষয়েও সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান উপাচার্য।


অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন, এমপি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাদারীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য অনিসুর রহমান তালুকদার খোকন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোঃ মোফাজ্জল হোসেন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. শামীমা সুলতানা এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি মোঃ রাকিবুল ইসলাম রাকিব।


অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক ও বর্তমান নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।