বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) বায়োইনফরমেটিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রথম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের প্রথম ইন্টার্নশিপ থেকে অর্জিত জ্ঞান তুলে ধরতে পোস্টার প্রেজেন্টেশন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সকাল ১০টায় কৃষি প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের ডিন অফিসের সামনে এ প্রেজেন্টেশনের আয়োজন করা হয়।
এতে কম্পিউটার সায়েন্স এ্যান্ড ম্যাথমেটিক্স বিভাগের অধ্যাপক ড. মোঃ রাকিব হাসান, সহযোগী অধ্যাপক ড. মেছবাহ উদ্দিনসহ অন্যান্য অনুষদের শিক্ষকেরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রদর্শনীতে শিক্ষার্থীরা দেড় মাসে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে সম্পন্ন করা ইন্টার্নশিপের অভিজ্ঞতা উপস্থাপন করেন। প্রতিটি শিক্ষার্থী পোস্টারের মাধ্যমে ইন্টার্নশিপ চলাকালে ব্যবহৃত প্রযুক্তি, গবেষণার ফলাফল এবং অর্জিত দক্ষতা তুলে ধরার চেষ্টা করেন।
পোস্টারগুলোতে জিনোম ও ট্রান্সক্রিপ্টোম বিশ্লেষণ, নেক্সট জেনারেশন সিকোয়েন্সিং (NGS), ভ্যারিয়েন্ট কলিং, মেশিন লার্নিংভিত্তিক জিন শনাক্তকরণ, কৃষিতে জিওস্পেশিয়াল এআই, ইউএভি (ড্রোন) নির্ভর প্রিসিশন এগ্রিকালচার, ডেঙ্গু পূর্বাভাস মডেল, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক বায়োমেট্রিক ও ডকুমেন্ট ভেরিফিকেশন, মাছের জিনোম বিশ্লেষণসহ নানা আধুনিক গবেষণা ও প্রযুক্তিনির্ভর কাজের স্থান পায়।
প্রেজেন্টেশনে অংশ নেওয়া বায়োইনফরমেটিক্সের শিক্ষার্থী এম রাফিউল বাহার রাফি বলেন,
"প্রথম ব্যাচ হিসেবে আমরা দেড় মাস দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ইন্টার্নশিপ করেছি, যেখানে ডিএনএ, আরএনএ ও জিনোমিক ডেটা বিশ্লেষণসহ বায়োইনফরমেটিক্সভিত্তিক কাজ পরিচালিত হচ্ছে। ইন্টার্নশিপের মাধ্যমে বাংলাদেশের এ খাতের বর্তমান সক্ষমতা ও সম্ভাবনা সম্পর্কে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি। ভবিষ্যতে কৃষি, জনস্বাস্থ্য, জীবনিরাপত্তাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে এই প্রযুক্তির বিস্তৃত প্রয়োগ এবং দেশীয় স্টার্টআপ ও প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সুযোগ রয়েছে। আজকের পোস্টার প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে আমরা ইন্টার্নশিপে অর্জিত অভিজ্ঞতা ও দেশের বায়োইনফরমেটিক্স শিল্পের বর্তমান চিত্র সবার সামনে তুলে ধরেছি।"
উল্লেখ্য, ইন্টার্নশিপের জন্য শিক্ষার্থীরা ইনভেন্ট টেকনোলজিস লিমিটেড, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব নিউক্লিয়ার এগ্রিকালচার (বিনা), বাংলাদেশ ফিশারিজ রিসার্চ ইনস্টিটিউট (বিএফআরআই), বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদ (বিসিএসআইআর), মাইক্রোম্যাক টেকনো ভ্যালি লিমিটেডসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ইন্টার্নশিপ সম্পন্ন করেন।
৫ আগস্ট জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে নানা কর্মসূচি থাকলেও বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুটেক্স) আয়োজন সীমাবদ্ধ রয়েছে আবাসিক হলের বিশেষ খাবারে। ক্যাম্পাসে দিবসটিকে কেন্দ্র করে কোন আয়োজন না থাকায় এবং অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের জন্য আয়োজন না রেখে কেবল আবাসিক শিক্ষার্থীদের জন্য হলে আয়োজন থাকায় প্রশাসনের বিরুদ্ধে প্রশ্ন তুলেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।
দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে নানা কর্মসূচির মাধ্যমে পালিত হচ্ছে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস। কোথাও আলোচনা সভা, কোথাও শহীদদের স্মরণ ও স্মৃতিচারণ আবার কোথাও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, আলোকচিত্র ও ডকুমেন্টারি প্রদর্শনী কিংবা চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। এসব কর্মসূচিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারীদের পাশাপাশি আবাসিক ও অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের সুযোগও রাখা হয়েছে।
অন্যদিকে বুটেক্সে ৫ আগস্ট উপলক্ষে ক্যাম্পাসে কোন অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয় নি। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র থেকে জানা যায়, ৫ আগস্ট ছুটির দিন হওয়ায় উপস্থিতি কম থাকার কারণ দেখিয়ে ৪ আগস্ট ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠান করার কথা থাকলেও পরবর্তী অজ্ঞাত কারণে তা বাতিল করা হয়। কেবল আবাসিক হলগুলোতে বিশেষ খাবারের আয়োজন করা হলেও অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদা কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের পাশাপাশি আবাসিক ও অনাবাসিক সকল শিক্ষার্থী অংশ নিতে পারেন এমন কোনো কেন্দ্রীয় সাংস্কৃতিক, স্মরণমূলক বা বুদ্ধিবৃত্তিক কর্মসূচিও বিশ্ববিদ্যালয়ে রাখা হয়নি।
দিনটি আরও অন্তর্ভুক্তিমূলকভাবে পালনের সুযোগ ছিল বলে মনে করেন ফেব্রিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. মো. এমদাদ সরকার। তিনি বলেন,"আবাসিক শিক্ষার্থীদের জন্য হলে বিশেষ খাবারের ব্যবস্থা থাকলেও অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের জন্য তেমন কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বৈষম্যের অনুভূতি তৈরি হতে পারে, যা জুলাইয়ের বৈষম্যবিরোধী চেতনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। আজকের দিবসটিকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে শহীদদের স্মরণে আলোচনা সভা, আলোকচিত্র বা ডকুমেন্টারি প্রদর্শনীর মতো কর্মসূচির মাধ্যমে জুলাইয়ের ইতিহাস ও আত্মত্যাগ শিক্ষার্থীদের সামনে তুলে ধরার সুযোগ ছিল।"
জুলাইয়ের চেতনা ও এর সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের দায়ের প্রসঙ্গ তুলে ধরে ইয়ার্ন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. সুলতান মাহমুদ বলেন,"জুলাই মানে সাম্যতা ও ন্যায্যতা। মুখে আমরা জুলাইয়ের সাম্যতার কথা বলছি, অথচ আজকের দিনে বুটেক্সে কোনো কেন্দ্রীয় আয়োজন নেই। যারা জুলাইয়ের সুবিধা নেবে, তাদের জুলাইয়ের দায়টাও নিতে হবে। আমরা যারা ৩৬ জুলাই রাস্তায় ছিলাম, আজ তারা কেউ কোনো কিছুতেই নেই। বর্তমান প্রশাসনেরও এই দিনটি নিয়ে কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। ক্যাম্পাসের দিকে তাকালেই সেটা বোঝা যায়।"
এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ৪৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ধ্রুব সাহা রুদ্র বলেন,
"৫ আগস্টে বুটেক্সের হলগুলোতে ফিস্ট ছাড়া ক্যাম্পাসে কোনো ধরনের সাংস্কৃতিক বা বুদ্ধিবৃত্তিক আয়োজন নেই। জুলাই আন্দোলনে সামনে থেকে অংশ নেওয়া বুটেক্সের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়টিও গুরুত্ব পাওয়ার দাবি রাখে।
পাশাপাশি আন্দোলনের পর এসব শিক্ষার্থীর ‘পোস্ট-জুলাই ট্রমা’ নিয়ে এখন পর্যন্ত কোনো কাউন্সেলিং হয়নি বলেও উল্লেখ করেন তিনি। এছাড়াও ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতির বর্তমান পরিস্থিতি নিয়েও প্রশাসনের ভূমিকার সমালোচনা করেন।
আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের যথাযথ মূল্যায়নের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে ফেব্রিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ৪৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থী সারোয়ার হোসেন সামি বলেন,"৫ আগস্টের মধ্য দিয়েই বর্তমান প্রশাসনের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা আজকের অবস্থানে পৌঁছেছেন। অথচ সেই দিনটিকে ঘিরে বিশ্ববিদ্যালয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো আয়োজন নেই। শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের নিয়ে সেমিনারের আয়োজন করে জুলাই আন্দোলনের ত্যাগ ও নতুন বাংলাদেশের স্মৃতি রোমন্থন করা যেত। আন্দোলনে যেসব শিক্ষক ও শিক্ষার্থী সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছেন, তাদের সম্মাননাও দেওয়া যেত।"
টেক্সটাইল ফ্যাশন অ্যান্ড ডিজাইন বিভাগের ৪৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মো. শাহ নাফি উদ্দিন তুর বলেন,"সীমিত পরিসরে কেবল আবাসিক শিক্ষার্থীদের জন্য কিছু আয়োজন করা হলেও অধিকাংশ অনাবাসিক শিক্ষার্থী এর বাইরে থেকে গেছে। বুটেক্সের অধিকাংশ শিক্ষার্থী অনাবাসিক হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মসূচিগুলো এমনভাবে হওয়া উচিত, যাতে সবাই সমানভাবে অংশগ্রহণের সুযোগ পায়।"
এব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার এবং উপাচার্যের সঙ্গে একাধিক বার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের পক্ষ থেকে কোন উত্তর পাওয়া যায় নি।
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।
'শেখ হাসিনাকে ফেরাতে গোপন তৎপরতা' শীর্ষক বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের পরিপ্রেক্ষিতে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) কয়েকজন শিক্ষকের সম্ভাব্য সংশ্লিষ্টতা অনুসন্ধানে তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
বুধবার (৫ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মো. তামজীদ হোসাইন চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।
অফিস আদেশে বলা হয়, গত ৪ আগস্ট বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত 'শেখ হাসিনাকে ফেরাতে গোপন তৎপরতা' শীর্ষক সংবাদের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজের কার্যক্রম এবং সম্ভাব্য নাশকতার পরিকল্পনার সঙ্গে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষক সম্পৃক্ত আছেন কি না, সে বিষয়ে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ ও অনুসন্ধানের লক্ষ্যেই ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং কমিটি গঠন করা হয়েছে।
হাসিনাকে ফেরানোর অভিযোগে কুবির ১১ শিক্ষকের সম্পৃক্ততা, তদন্তে ৪ সদস্যের কমিটি
কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলামকে। সদস্য হিসেবে রয়েছেন কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. হাছান উদ্দীন এবং সদস্য-সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক এ এফ এম আরিফুর রহমান।
অফিস আদেশে আরও উল্লেখ করা হয়, কমিটিকে প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য গ্রহণ এবং বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে অনুসন্ধান করে যথাযথ সুপারিশসহ প্রতিবেদন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে দাখিল করতে হবে।
এদিকে, কমিটির প্রথম সভা বুধবার (৫ আগস্ট) বিকেল ৩টায় আহ্বায়কের দপ্তরে অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে অফিস আদেশে জানানো হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অনুসন্ধান কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য উদঘাটনের ভিত্তিতেই পরবর্তী প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।
জুলাই শহীদদের স্মরণে প্রীতি ফুটবল ম্যাচের আয়োজন করেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন। বুধবার ( ৫ আগস্ট) বিকাল ৪ টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ফুটবল মাঠে সিনিয়র একাদশ বনাম জুনিয়র একাদশের মধ্যে এ খেলা অনুষ্ঠিত হয়।
খেলা শুরু হওয়ার পূর্বে শহীদের স্মরণে এক মিনিট নিরবতা পালন করে উভয় দলের খেলোয়াড়েরা। নির্ধারিত সময়ে ম্যাচ গোল শূন্য ড্র হয়। পরে ট্রাইবেকারে জুনিয়র একাদশ ৩-১ গোলে জয়লাভ করে।
শাখা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম-আহ্বায়ক আনোয়ার পারভেজের তত্ত্বাবধানে এ ম্যাচে শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি ইউসুফ আলী, ইবিসাস সভাপতি নিয়ামতুল্লাহ মুনিমসহ ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
আয়োজক কমিটির পক্ষে শাখা ছাত্রদলের সিনিয়র-যুগ্ম আহ্বায়ক আনোয়ার পারভেজ বলেন, শিক্ষার্থীদের মধ্যে জুলাইয়ের চেতনা জাগ্রত এবং ভ্রাতৃত্ব বন্ধন আরও দৃঢ় করতে আমাদের এ আয়োজন। এছাড়াও জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে প্রশাসনের কাছে একটি ফুটবল ম্যাচের আয়োজনের দাবি জানিয়েছিলাম। কিন্তু প্রশাসন ফুটবল ম্যাচ আয়োজন না করায় আমরা এটি আয়োজন করি।
ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুটেক্স) সৈয়দ নজরুল ইসলাম হলে ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মো. রুবেল মিয়ার বিরুদ্ধে অনুমোদন ছাড়া হলে অবস্থানের অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে তাঁকে ঘিরে মিছিল, স্লোগান এবং বড় পরিসরে খাবারের আয়োজনের ঘটনাও আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাত ৯টার দিকে মো. রুবেল মিয়া প্রায় অর্ধশতাধিক নেতা-কর্মী নিয়ে হলে প্রবেশ করেন। এ সময় তাঁকে স্বাগত জানিয়ে ‘ছাত্রদলের পক্ষ থেকে লাল গোলাপ শুভেচ্ছা’ এবং ‘রুবেল ভাইয়ের আগমন, শুভেচ্ছা স্বাগতম’—এ ধরনের স্লোগান দেওয়া হয়। পরে উপস্থিত নেতা-কর্মী ও অন্যান্যদের নিয়ে হলের ডাইনিং রুমে প্রায় ৩০০ জনের খাবারের আয়োজন করা হয়। যদিও তখন আবাসিক শিক্ষার্থীদের জন্য ডাইনিং চালু ছিল না।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রুবেল বর্তমানে হলের ৩০১ নম্বর কক্ষে একাই অবস্থান করছেন। কক্ষে দুটি বেডের পাশাপাশি কর্মীদের বসার জন্য কয়েকটি চেয়ারও রাখা হয়েছে। অথচ গত ২১ জুলাই প্রকাশিত হল প্রশাসনের রুম বরাদ্দ তালিকা অনুযায়ী, কক্ষটি ৪৭তম ব্যাচের চারজন রি-এড শিক্ষার্থীর নামে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তারা বর্তমানে ৩০২ নম্বর কক্ষে অবস্থান করছেন। অন্যদিকে, ৩০২ নম্বর কক্ষে বরাদ্দপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা এখনো হলে ওঠেননি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের হল নীতিমালা অনুযায়ী, সমাপনী বর্ষের চূড়ান্ত ফল প্রকাশের সাত দিনের মধ্যে কৃতকার্য ও অকৃতকার্য—উভয় ধরনের শিক্ষার্থীকেই হলের সিট ছাড়তে হয়। এছাড়া প্রভোস্টের পূর্বানুমতি ছাড়া হলে কোনো ভোজ বা আমোদ-প্রমোদের আয়োজন করা যায় না।
রুবেল ৪৬তম ব্যাচের টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং ম্যানেজমেন্ট বিভাগের শিক্ষার্থী। তিনি ৪৭তম ব্যাচের সঙ্গে রি-এড করলেও গত ৯ এপ্রিল প্রকাশিত চূড়ান্ত ফলাফলে চারটি বিষয়ে অকৃতকার্য হন। ইতোমধ্যে ৪৭তম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা হল ত্যাগ করেছেন।
৩০২ নম্বর কক্ষে বরাদ্দপ্রাপ্ত ৪৮তম ব্যাচের অ্যাপারেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী তারেখ শেখ বলেন, “আমি হলে নিয়মিত থাকব না। মূলত পরীক্ষা বা বিশেষ প্রয়োজনে হলে আসব। ৩০২ নম্বর কক্ষে অতিরিক্ত বেড রয়েছে, প্রয়োজনে সেখানেই থাকব।”
একই কক্ষে বরাদ্দপ্রাপ্ত ৪৬তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান মুন্না প্রথমে বিষয়টি এড়িয়ে গেলেও পরে বলেন, “হলে উঠব ভেবেছিলাম, কিন্তু উঠিনি। আর আমি অ্যালটমেন্টও নিইনি।”
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নজরুল হলের এক শিক্ষার্থী বলেন, “জুলাই আন্দোলনের পর বুটেক্সে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত এখনো বহাল রয়েছে। কিন্তু সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো সেই সিদ্ধান্তের বাস্তব প্রয়োগ নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে। বরাদ্দ ছাড়া রাজনৈতিক নেতার হলে অবস্থান এবং প্রকাশ্যে রাজনৈতিক আয়োজনকে কেন্দ্র করে জুনিয়র শিক্ষার্থীদের মধ্যে নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকলে তা সবার ক্ষেত্রে সমানভাবে কার্যকর করা উচিত। আর নীতিতে পরিবর্তন এলে সেটিও আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো প্রয়োজন।”
বুটেক্স ছাত্রদলের এক পদধারী নেতা বলেন, “সংগঠনের পূর্বনির্ধারিত পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই রুবেল ভাই হলে উঠেছেন। খুব শিগগিরই হল কমিটি ঘোষণা করা হবে।”
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মো. রুবেল মিয়া বলেন, “নজরুল হলে রুম দখলের বিষয়টি সম্পূর্ণ বানোয়াট এবং অসত্য। আমি বারবার আবেদন করার পরেও হল প্রশাসন সম্পূর্ণ নীরব ভূমিকা পালন করেছেন।
ক্যাম্পাসের রানিং স্টুডেন্ট হিসেবে আমি হলগুলোতে অবস্থান করার পুরোপুরি অধিকার রাখি। আশা করি অতিদ্রুত হল প্রশাসন আমার আবেদনটি আমলে নিবেন।”
খাবারের আয়োজনের জন্য হল প্রশাসনের অনুমতি নেওয়া হয়েছিল কি না—এ প্রশ্নে সংশ্লিষ্টরা জানান, এ বিষয়ে তাঁদের আগে থেকে কিছু জানানো হয়নি। ডাইনিং কর্তৃপক্ষও জানায়, এটি রাজনৈতিক আয়োজন—এমন কোনো তথ্য তাদের দেওয়া হয়নি।
ঘটনার পরদিন তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় সৈয়দ নজরুল ইসলাম হলের প্রভোস্ট মোতাকাব্বির হাসান তমাল বলেন, “আমি বিষয়টি আগে জানতাম না। খোঁজ নিয়ে হল কমিটির সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”
তবে চার দিন পরও রুবেল হলে অবস্থান করছেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, “হলের ডাইনিং বা অন্য কোনো সুবিধা ব্যবহার করতে হলে প্রভোস্টের অনুমতি প্রয়োজন। কিন্তু এই আয়োজন আমার অনুমতি ছাড়াই হয়েছে। রুবেল হলে সিটের জন্য আবেদন করেছিল, তবে তাকে বরাদ্দ দেওয়া হয়নি। ৩০১ নম্বর কক্ষে বরাদ্দপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা জানিয়েছে তারা ৩০২ নম্বর কক্ষে থাকবে এবং ৩০২ নম্বর কক্ষে বরাদ্দপ্রাপ্তরা ৩০১ নম্বর কক্ষে উঠবে। কিন্তু তারা এখনো হলে ওঠেনি। তাদের সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগের জন্য কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আশা করছি এক-দুই দিনের মধ্যে গ্রহণযোগ্য সমাধান হবে।”
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট বুটেক্সের সিন্ডিকেটের জরুরি সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সব ধরনের রাজনৈতিক সংগঠন ও রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়।
কুবি শিবির সভাপতি মোজাম্মেল হোসাইন আবির
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর পার হলেও কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িত ছাত্রলীগের নেতাকর্মী ও আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের বিরুদ্ধে এখনো দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ইসলামী ছাত্রশিবিরের কুবি শাখার সভাপতি মোজাম্মেল হোসাইন আবির।
৫ আগস্ট (বুধবার) ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের কনফারেন্স রুমে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কর্তৃক জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এ অভিযোগ করেন।
মোজাম্মেল হোসাইন আবির বলেন, "জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর আমরা যে বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিলাম, সেই প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির মধ্যে তফাৎ অনেক। আওয়ামী লীগের যেসব দোসর আমাদের ওপর হামলা করেছিল, তারা এখনো ক্যাম্পাসে মাথা উচু করে চলাফেরা করছে। যেসব শিক্ষক ওই হামলায় মদদ দিয়েছিলেন, তাদের মধ্যেও ন্যূনতম লজ্জাবোধ আমরা দেখতে পাই না।"
তিনি বলেন, "বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। যাদের পড়াশোনা শেষ হয়েছে, তাদের সনদ বাতিল করা হয়েছে এবং যাদের পড়াশোনা শেষ হয়নি, তাদের বহিষ্কার করা হয়েছে। কিন্তু আমাদের ক্যাম্পাসে এখনো দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এটি আমাদের জন্য যেমন লজ্জাজনক, তেমনি দুঃখজনক।"
তিনি আরও বলেন, "সময় থাকতে আওয়ামী লীগের বিচার নিশ্চিত করুন। অন্যথায় তারা যদি আবার মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে, তখন তারা কে বিএনপি, কে জামায়াত তা দেখবে না। তাদের প্রথম ছোবল প্রশাসনের ওপরই আসবে।"
জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসে বিশ্ববিদ্যালয়ের র্যালি
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) যথাযোগ্য মর্যাদায় ছাত্র-জনতার ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ এর ২য় বর্ষপূর্তি পালন করা হয়েছে। এ উপলক্ষে র্যালি, আলোচনা সভা, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের একমাত্র শহীদ আব্দুল কাইয়ুমকে মরণোত্তর সম্মাননা প্রদান এবং দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।
বুধবার (৫ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টায় প্রশাসনিক ভবনের সামনে থেকে একটি র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি ক্যাম্পাসের মূল ফটক হয়ে গোলচত্বর ও শহীদ মিনার প্রদক্ষিণ শেষে প্রশাসনিক ভবনের সামনে এসে শেষ হয়।
পরে ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের কনফারেন্স কক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ আব্দুল কাইয়্যুমকে মরণোত্তর সম্মাননা প্রদান করা হয় এবং তাঁর মায়ের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়।
আলোচনা সভা শেষে বাদ জোহর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. আমজাদ হোসেন সরকারের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করীম। বিশেষ অতিথি ছিলেন কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বেলাল উদ্দিন ও প্রক্টর অধ্যাপক ড. আব্দুল হাকিম। এছাড়া শহীদ আব্দুল কাইয়্যুমের মা, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, হল প্রভোস্ট, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
শহীদ আব্দুল কাইয়ুমের কথা স্বরণ করে অশ্রুশিক্ত কণ্ঠে তাঁর মা বলেন, "আমার ছেলের কথা বলতে গেলে কখনো শেষ হবে না৷ আমি মনে করি আমার ছেলের মতো আর দ্বিতীয় কেউ হতে পারবে না। আমার ছেলের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সবাই এত বড় একটা আয়োজন করেছে এটার জন্য আমি খুশি। আপনারা জানেনই আমার অবস্থা; স্যাররা গিয়েছিলো আমার বাড়িতে, তারা দেখে আসছে৷"
কোষাধক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বেলাল উদ্দিন বলেন, "আমি শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করতে চাই এদেশ বিনির্মাণে যারা আত্মত্যাগ করেছেন, বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেছেন এবং সর্বশেষ ২৪ এর জুলাই আন্দোলনে শহীদ ও আহত হয়েছেন তাদেরকে। জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনাকে সামনে রেখে আমাদের দেশ, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় এবং আমরা যে যেখানে আছি সে জায়গা থেকে কাজ করে যেতে চাই। আব্দুল কাইয়ূম আমার বিভাগের একজন মেধাবী ও পরিশ্রমী স্টুডেন্ট ছিলেন। আমার প্রত্যাশা থাকবে আমরা যেন শহীদ আব্দুল কাইয়ূম কে ভুলে না যাই। প্রশাসনের প্রতি আমার প্রত্যাশা আব্দুল কাইয়ূম এর পরিবারকে যেন সর্বোচ্চ সহায়তা করা হয়।"
শহীদ আব্দুল কাইয়ুম এবং তার পরিবারকে নিয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করীম বলেন, "আমরা আব্দুল কাইয়ুমের পরিবারের প্রতি কৃতজ্ঞ তারা আমাদের ডাকে সারা দিয়েছেন, আমাদের অনুষ্ঠানে এসেছেন। আব্দুল কাইয়ুম কোন ফ্যাকাল্টিতে পড়তো, কোন বিভাগে ক্লাস করতো, পরীক্ষা দিতো এগুলো তার পরিবারকে দেখানোর জন্যই এই ফ্যাকাল্টিতে আয়োজন করেছি। শহীদ আব্দুল কাইয়ুম ৪ তারিখে যেদিন গুলিবিদ্ধ হয় সেদিন স্বৈরাচার দেশে ছিলো, আর ৬ তারিখ যেদিন মারা যায় সেদিন দেশ স্বৈরাচার মুক্ত হয়েছিলো।"
তিনি আরও বলেন, "সরকার শহীদ পরিবারদেরকে যে ফ্ল্যাট বরাদ্দ দিচ্ছে। আমাদের প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা থাকবে, যেন আপনাদের পরিবারও সেই সুবিধাটুকু পায়৷ সেটা পাওয়ার জন্য আমাদের প্রশাসনের পক্ষ থেকে যতটুকু করা লাগে আমরা সবটুকুই করবো। প্রয়োজনে আমরা মন্ত্রী মহোদয়ের সাথে দেখা করে সেই সুবিধাটুকু নিশ্চিত করার চেষ্টা করবো। আপনারা আমাদের মাঝে এসেছেন৷ আপনাদের হারানের যে বেদনা সেটা পূরণ করার ক্ষমতা আমাদের নেই। কিন্তু আপনাদের হারানোর মাধ্যমে দেশ যে প্রাপ্তিটা পেয়েছে, আমরা যে প্রাপ্তিটা পেয়েছি তার কৃতজ্ঞতা আপনাদের পরিবারের প্রতি আমাদের সারা জীবন থাকবে।"
অনুষ্ঠানের সভাপতি ও উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. আমজাদ হোসেন সরকার বলেন, "জুলাই গণঅভ্যুত্থান আমাদের আবেগের সঙ্গে জড়িত। যারা এ আন্দোলনে শহীদ হয়েছেন, তাঁদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাই এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করি। সেই সময়ে শিক্ষার্থীদের, বিশেষ করে নারী শিক্ষার্থীদের সাহসী অংশগ্রহণ না থাকলে আন্দোলনটি গণঅভ্যুত্থানে রূপ নিত কি না, তা নিয়ে সন্দেহ আছে ।'
তিনি আরও বলেন, 'বিশ্ববিদ্যালয়ের সব সাংস্কৃতিক সংগঠনকে নিয়ে আমরা একটি সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণের উদ্যোগ নিয়েছি। তারা একসঙ্গে বসে বছরের কোন সময়ে কোন সাংস্কৃতিক আয়োজন হবে, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হবে। তারা নিজস্ব কার্যক্রম পরিচালনা করবে এবং এ ক্ষেত্রে ছাত্র উপদেষ্টা প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবেন। আজকের অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে আয়োজন সফল করার জন্য সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।'