বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, মিলল চিরকুট
চট্টগ্রাম নগরীর খুলশী এলাকায় একটি বাসা থেকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) ওমর ফারুক সুমন নামে এক শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ প্রাথমিকভাবে এটিকে আত্মহত্যা বলে ধারণা করছে।
বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) রাতে সিলিং ফ্যানের জন্য রাখা হুকের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সুমন খুলশীর ৫ নম্বর লেনের ১৭ নম্বর বাসায় তার মামার বাসায় থাকতেন। তিনি ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের আরবি বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন।
এ সময় একটা চিরকুট পাওয়া যায়। সেখানে লেখা ছিল, আমি সুমন, ওমর ফারুক সুমন। আমার কোনো আশা–আকাঙ্ক্ষা নেই। আর আমার কারো প্রতি কোনো অভিযোগ নেই। সবাই ভালো থাকবেন। আমার সব অভিযোগ নিজের প্রতি। তাই আমার ব্যাপারে জানার চেষ্টা না করাটাই ভালো হবে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সকাল ৮টার দিকে সুমনের বড় ভাই কাজের জন্য বাসা থেকে বেরিয়ে যান। সারাদিন সুমন বাসায় একাই ছিল। বিকেল ৪টার দিকে তিনি বড় ভাইকে ফোন দিয়ে জানতে চান ‘তুমি কোথায়, বাসায় আসতে কতক্ষণ লাগবে?’ বড় ভাই জানান যে তার আসতে একটু দেরি হবে। এর কিছুক্ষণ পর বড় ভাই সুমনকে ফোন করলে তিনি আর রিসিভ করেননি। পরে বাড়ি থেকে তার মা ছেলের নম্বরে ফোন দিয়ে যোগাযোগ না পেয়ে বিষয়টি বড় ভাইকে জানান। এতে উদ্বেগ দেখা দিলে বড় ভাই বাসার দারোয়ানকে দিয়ে বাসা চেক করান।
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) শিক্ষকদের অধিকার, মর্যাদা ও পেশাগত স্বার্থ রক্ষার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ে গণতান্ত্রিক ও স্বচ্ছ পরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে ‘সাদা দল’ নামে একটি শিক্ষক সংগঠনের আত্মপ্রকাশ হয়েছে।
একই সাথে সংগঠনটির পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট আহবায়ক কমিটি গঠিত হয়েছে। এতে ফসল উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. ওবায়েদুল ইসলাম আহ্বায়ক এবং উদ্ভিদ রোগতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন সদস্য সচিব হিসেবে মনোনীত হয়েছেন।
কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন- মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. আবু জোফার মো. মোসলেহ উদ্দিন, ফিজিওলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহা. ইলিয়াছুর রহমান ভূঁইয়া এবং মাইক্রোবায়োলজি অ্যান্ড হাইজিন বিভাগের অধ্যাপক ড. কে এইচ এম নাজমুল হুসাইন নাজির।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত সংগঠনটির এক ঘোষণাপত্রে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, শিক্ষকদের পেশাগত স্বাধীনতা, মর্যাদা ও অধিকার বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক প্রভাব ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে বাধাগ্রস্ত হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে শিক্ষকদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং পেশাগত সমস্যা সমাধানে একটি কার্যকর ও দায়িত্বশীল সংগঠন প্রয়োজন।
ঘোষণাপত্রে ‘সাদা দল’-কে সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক শিক্ষক সংগঠন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সংগঠনটির লক্ষ্য হিসেবে সত্য, ন্যায়, সততা, সাম্য ও ইনসাফভিত্তিক একটি গণতান্ত্রিক ও সুন্দর শিক্ষক সমাজ গড়ে তোলার কথা বলা হয়েছে। ঘোষণাপত্র অনুযায়ী আহ্বায়ক কমিটি সংগঠনের পূর্ণাঙ্গ গঠনতন্ত্র প্রণয়ন, সদস্যপদ-সংক্রান্ত নীতিমালা নির্ধারণ এবং পরবর্তী সময়ে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করবে বলে জানানো হয়।
দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে তরুণ উদ্যোক্তাদের সহায়তা দিতে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) অরেঞ্জ কর্নার্স বাংলাদেশের রোডশো অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাকৃবি ক্যারিয়ার ক্লাব (বাউসিসি) এবং থ্রী জিরো ক্লাবের সহযোগিতায় এ রোডশো অনুষ্ঠিত হয়।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সৈয়দ নজরুল ইসলাম সম্মেলন কক্ষে এ আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ছাত্র বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল ইসলাম সরদার।
'ময়মনসিংহে উদ্যোক্তাবান্ধব পরিবেশ শক্তিশালীকরণ'
শীর্ষক আলোচনায় বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষিব্যবসা ও বিপণন বিভাগের প্রধান সহযোগী অধ্যাপক ড. দিলশাদ জাহান ইথেন, সেফ ফুডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জিকরুল হাকিম, ওয়াই ওয়াই ভেনচারের প্রোগ্রাম পরিচালক মুস্তাফিজুর রহমান।
আলোচনায় তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য বিভিন্ন সুযোগ ও সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন বক্তারা। সহযোগী অধ্যাপক ড. দিলশাদ জাহান ইথেন বলেন, বাকৃবি এমন একটি প্ল্যাটফর্ম, যেখানে সম্পদ ও সুযোগের দারুণ একটি সমন্বয় রয়েছে। এখানে যেমন তরুণ মেধাবী শিক্ষার্থীরা রয়েছে, তেমনি আছেন অভিজ্ঞ অ্যাকাডেমিশিয়ানরা। এটি একটি একাডেমিক বিশ্ববিদ্যালয় হওয়ায় এখানে ইন্ডাস্ট্রি ও খামার পর্যায়ের বিভিন্ন অংশীদারদের বিচরণ রয়েছে। ফলে এখানে জ্ঞানকে সরাসরি প্র্যাকটিক্যাল সেশনে রূপান্তর করে কাজের সুযোগ অনেক।
সেফ ফুডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জিকরুল হাকিম বলেন, ব্যবসা শুরু করার পর এটার সাথে লেগে থাকাটাই গুরুত্বপূর্ণ। লেগে থাকতে গেলে অনেক ভুল হবে, ফলে ক্ষতিও হবে। কিন্তু থেমে যাওয়া যাবে না। লক্ষ্য ঠিক রেখে ভুলটা কিভাবে খুব দ্রুত শুধরানো যায়, এই চেষ্টাটা খুব জরুরি। পাশাপাশি জরুরি একটা ব্যাপার হলো নেটওয়ার্কিং। এটি অনেক কঠিন কাজকেও সহজ করে দেয়।
ওয়াই ওয়াই ভেনচারের প্রোগ্রাম পরিচালক মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, আমরা তরুণ উদ্যোক্তাদের উদ্ভাবনী আইডিয়াকে ব্যবসায় রূপান্তর করি মেন্টরিং, নেটওয়ার্কিং ও আর্থিক সহায়তা দেওয়ার মাধ্যমে। ময়মনসিংহে উদ্যোক্তাদের সুবিধা সম্পর্কে তিনি বলেন, এখানে উদ্যোক্তারা মাটি, কৃষি ও সাধারণ মানুষের খুব কাছাকাছি থাকেন। সমস্যার মূল জায়গা ধরে সমাধান বের করা তাদের জন্য সহজ। ঢাকায় নেটওয়ার্কিং বা ব্যাংকের সুযোগ বেশি থাকলেও ঢাকার বাইরে সম্ভাবনার ক্ষেত্র অনেক বড়। স্থানীয় অভিজ্ঞ ব্যবসায়ী ও কৃষি বিশেষজ্ঞরা এই কাজে নতুনদের মেন্টরশিপ দিতে প্রস্তুত।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল ইসলাম সরদার বলেন, এই ধরনের প্রোগ্রাম তরুণদের দক্ষতা বৃদ্ধি ও উজ্জ্বল ক্যারিয়ার গঠনে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকে। বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক কর্মক্ষেত্রে যে ধরনের যোগ্যতার প্রয়োজন, চাকরির বাজারে তার চাহিদা ক্রমশ বাড়ছে। তাই এখন আমাদের চিন্তাভাবনা ও দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিবর্তন আনা জরুরি।
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) অফিসার পরিষদের ২০২৬ সালের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। নির্বাচনে সভাপতি পদে এডিশনাল রেজিস্ট্রার ( সংস্থাপন-১) ড. এ.কে.এম. মাহবুবুর রশীদ গোলাপ এবং সাধারণ সম্পাদক পদে এডিশনাল ডিরেক্টর ( ছাত্রকল্যাণ ও নির্দেশনা) মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন নির্বাচিত হয়েছেন।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের কমিউনিটি সেন্টারে সকাল ৯টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। সন্ধ্যায় নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও আর্থ-সামাজিক গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর পরিচালক কৃষিবিদ মো. ছারোয়ার হোসেন।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা যায়, মোট ৩৯৫ জন ভোটারের মধ্যে ৩৮৫ জন কর্মকর্তা ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। অফিসার পরিষদের নির্বাহী কমিটির ১৫টি সাংগঠনিক পদের মধ্যে ১১টিতে প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। বাকি চারটি পদে ১৩ জন কর্মকর্তা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।
নির্বাচনে সভাপতি পদে ড. এ.কে.এম. মাহবুবুর রশীদ গোলাপ ২৭৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আব্দুল বাতেন পান ৬৭ ভোট। সাধারণ সম্পাদক পদে মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন ৯৭ ভোট পেয়ে জয়ী হন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বোরহান উদ্দীন পান ৯০ ভোট। এ ছাড়া সহসভাপতি পদে ডেপুটি রেজিস্ট্রার আব্দুল মান্নান ২২৫ ভোট এবং কোষাধ্যক্ষ পদে হোসাইন আহমেদ মুকুল ২২০ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন।
প্রায় আড়াই বছর পর অনুষ্ঠিত এ নির্বাচনে কর্মকর্তাদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ দেখা যায়। নির্বাচিত নতুন কমিটি কর্মকর্তাদের ন্যায্য দাবি আদায় ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোতে সক্রিয় ও সহযোগিতামূলক ভূমিকা রাখবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন ভোটাররা।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) দাবির মুখে এক নম্বর গেইট থেকে জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত চক্রাকার বাস সেবা চালু করা হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে এ সেবা চালু হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক কামরুল হোসেন।
তিনি বলেন, “সকাল ৮টা থেকে চারটি বাস এক নম্বর থেকে জিরো পয়েন্ট এবং জিরো পয়েন্ট থেকে এক নম্বর—উভয় রুটে শিক্ষার্থী আনা নেওয়া করছে। এটা সম্পূর্ণ ফ্রি সার্ভিস।”
এ সেবা কতদিন চলবে, জানতে চাইলে অধ্যাপক কামরুল বলেন, “এই ব্যবস্থা মোটামুটি স্থায়ী করা হয়েছে। পরবর্তীতে শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবি যেটা হয়, ওটা হবে।”
চট্টগ্রাম-রাঙামাটি মহাসড়কের যে স্থানে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংযোগ সড়ক মিলিত হয়েছে, সেটিই চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের এক নম্বর গেইট হিসেবে পরিচিত। আর সংযোগ সড়কের বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটক প্রান্তকে জিরো পয়েন্ট বলা হয়ে থাকে।
চাকসুর যোগাযোগ ও আবাসন সম্পাদক ইসহাক ভূঁঞা বলেন, “আজকে সকাল ৮টা থেকে চারটি বাস এক নম্বর থেকে জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত এলাকায় চলছে।
“রাত কয়টা পর্যন্ত চলবে তা আলোচনার মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে। এই সার্ভিস শিক্ষার্থীদের জন্য সম্পূর্ণ বিনামূল্যে।”
চক্রাকার বাস চালুর দাবিতে সোমবার রাত পৌনে ৯টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন চাকসুর কয়েকজন নেতা। সেখানে রাত ১টার দিকে উপস্থিত হয়ে এ দাবি মেনে নেওয়ার ঘোষণা দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক মোহাম্মদ আল-আমিন।
তিনি বলেছিলেন, “আমাদের এখানে যারা শিক্ষার্থী রয়েছে, তাদের দাবি ছিল স্থায়ীভাবে চক্রাকার বাস চালু করা।
“এখন রাত হয়েছে, শিক্ষার্থীদের আসলে হলে ফিরে যাওয়া উচিত। ইনশাল্লাহ, আগামীকাল থেকে স্থায়ীভাবে চারটি বাস চালু থাকবে।”
এ বিষয়ে জানতে চাইলে পরিবহন দপ্তরের প্রশাসক অধ্যাপক মোহাম্মদ মোরশেদুল ইসলাম বলেন, “আমার কোনো বক্তব্য নেই। এগুলো প্রশাসনের বিষয়।”
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকট নিরসনে কেরানীগঞ্জের ৭ একর জমিতে ২০২৬ সালের মধ্যে ১ হাজার ৬০০ শিক্ষার্থীর আবাসনের ব্যবস্থা এবং বিশেষ বৃত্তির বকেয়া অর্থ দ্রুত হস্তান্তরের দাবিতে মানববন্ধন করেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু)।
আজ সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের রফিক ভবনের সামনে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে জকসুর পক্ষ থেকে বলা হয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের দীর্ঘদিনের আবাসন সংকট শিক্ষার্থীদের জন্য অন্যতম বড় সমস্যা। সীমিত জায়গা ও পর্যাপ্ত আবাসিক সুবিধার অভাবে অধিকাংশ শিক্ষার্থীকে ক্যাম্পাসের বাইরে বিভিন্ন মেস ও বাসাবাড়িতে চরম ভোগান্তির মধ্যে থাকতে হচ্ছে। এতে শিক্ষার্থীদের অতিরিক্ত ব্যয় ও নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
এসময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের নবীন শিক্ষার্থী জুবায়ের আহমেদ সিয়াম বলেন, "নবীন শিক্ষার্থী হিসেবে আমাদের আগমনের শুরুতেই হল ও আবাসন ব্যবস্থা অত্যন্ত জরুরি। কিন্তু পুরান ঢাকার বিভিন্ন মেসে নানা সমস্যার মধ্যে আমাদের থাকতে হচ্ছে। সকল ব্যাচের শিক্ষার্থীদের স্বার্থে আমরা কেরানীগঞ্জে দ্রুত অস্থায়ী আবাসন নির্মাণের আহ্বান জানাচ্ছি। একই সঙ্গে বৃত্তির বাকি টাকা দ্রুত পরিশোধের দাবি জানাচ্ছি।"
জকসুর সমাজসেবা সম্পাদক মুস্তাফিজুর রহমান তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন, শিক্ষার্থীদের অধিকার ও আবাসন ব্যবস্থা নিশ্চিত করাই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রধান দায়িত্ব হওয়া উচিত। তিনি প্রশাসনকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, "২০২৬ সালের মধ্যে ৭ একর জমিতে ১৬০০ শিক্ষার্থীর আবাসনের সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা করতে হবে; অন্যথায় শিক্ষার্থীরা কঠোর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হবে। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত অফিসে বসে মেসের শিক্ষার্থীদের বাস্তব কষ্ট বোঝা সম্ভব নয়।"
এ ছাড়া, আবাসন বৃত্তির ৫৬ কোটি টাকার মধ্যে বাকি ৪৬ কোটি টাকা অনতিবিলম্বে শিক্ষার্থীদের দেওয়ার জোর দাবি জানান তিনি।
প্রশাসনের রোডম্যাপ না থাকার সমালোচনা করে জকসুর শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক ইব্রাহিম খলিল বলেন, "শিক্ষার্থীদের মৌলিক দাবিগুলো নিয়ে যখন আমরা আন্দোলন করেছি, তখন আমাদের ওপর ন্যক্কারজনক হামলা চালানো হয়েছে। চলতি বছরের মাঝামাঝি সময়ে টাকা পাওয়ার পর প্রশাসন চাইলে তিন-চার মাসের মধ্যেই অস্থায়ী আবাসন নির্মাণ করতে পারত। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো সুস্পষ্ট রোডম্যাপ দেওয়া হয়নি। আমরা আশা করছি, চলতি বছরের মধ্যেই প্রশাসন শিক্ষার্থীদের এই ন্যায্য দাবি বাস্তবায়ন করবে।"
প্রশাসনের অদক্ষতার অভিযোগ তুলে জকসুর এজিএস মাসুদ রানা বলেন, "২০২৪ সালে আমাদের আন্দোলনের পর তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টার সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে আমরা আশ্বস্ত হয়েছিলাম। কিন্তু বর্তমান প্রশাসনের অদক্ষতা ও গড়িমসির কারণে আজ আবার আমাদের রাজপথে দাঁড়াতে হয়েছে। শিক্ষার্থীরা কোনো টেন্ডারবাজি দেখতে চায় না, তারা নিজেদের অধিকার চায়। সেই অধিকার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।"
বিশ্ববিদ্যালয়ের নানা অনিয়ম ও প্রশাসনের ব্যর্থতার বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে জকসুর জিএস আব্দুল আলিম আরিফ বলেন, "গত মে মাসে আন্দোলন ও লাঠিচার্জের প্রেক্ষাপটে আবাসন বৃত্তির জন্য ৫৬ কোটি টাকা বাজেট পাস হলেও দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও সেই বকেয়া টাকা শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছায়নি। এতে প্রশাসনের দুর্বলতা স্পষ্ট।
তিনি আরও যোগ করেন, "শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত ৭ একর জমিতে ৩ মাসের মধ্যে ১৬০০ শিক্ষার্থীর জন্য অস্থায়ী আবাসন চালুর কথা থাকলেও তা করা হয়নি। ভবন নির্মাণের অজুহাতে প্রকল্প দীর্ঘায়িত করার চক্রান্ত চলছে। বাস টার্মিনালের জন্য জমির অংশ ছেড়ে দেওয়ার বিষয়ে হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সুবিধার আগে শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকট নিরসনকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের জমির এক চুল পরিমাণও কাউকে ছেড়ে দেওয়া হবে না।"
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে শহীদ জিয়াউর রহমান হলে সংঘটিত ঘটনাকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মাঝে উত্তপ্ত পরিস্থিতির ঘটনায় দুইপক্ষের মাঝে সমঝোতা হয়েছে।
আজ সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বেলা দুইটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অফিসে প্রক্টরিয়াল বডির উপস্থিতিতে আলোচনা বসেন। পরে দুইদলের নেতৃবৃন্দ সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের এ সমঝোতার কথা বলেন।
এসময় তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ সুস্থ ও স্বাভাবিক রাখতে সৌহার্দ্যপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিতকরণ-সহ পার্শ্ববর্তী এলাকায় আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রশাসনের সকল পদক্ষেপ সার্বিক সহযোগিতা করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে বিএনপি-জামায়াত কর্মসূচি ঘোষণা করলে সংঘর্ষের আশঙ্কা সৃষ্টি হয়। এবং ১৪৪ ধারা জারিরও আবেদন জানান বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। পরে আলোচনার টেবিলে সমঝোতায় আসলে কর্মসূচি স্থগিত রাখে উভয় দল।
শাখা ছাত্রশিবির সভাপতি ইউসুব আলী বলেন, গত ৫ তারিখে জিয়া হলে তৈরি হওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এবং তার জেরে ক্যাম্পাসের তৈরি হওয়া থমথমে পরিবেশ আমরা নিজেদের মধ্যে বসে সমাধান করেছি। তবে লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে, ক্যাম্পাসের গেট সংলগ্ন ও বাইরের এলাকাগুলোতে এখনো কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত পরিবেশ তৈরি হচ্ছে। এসব বিষয় নিয়ে আমরা আবারও বৈঠকে বসেছি। আমাদের স্পষ্ট অবস্থান হলো, ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরে যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে বা কেউ তা করার চেষ্টা করলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যে পদক্ষেপ নেবে, তাতে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র শিবির সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে। পাশাপাশি, বহিরাগত কোনো সমস্যা রোধে বা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় প্রশাসন সহযোগিতা চাইলে আমরা তাদেরও সর্বোচ্চ সহায়তা প্রদান করব।
শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মাসুদ রুমি মিথুন বলেন, ভবিষ্যতে যেন এমন পরিস্থিতি আর তৈরি না হয় সে বিষয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল সর্বদা সতর্ক ও সচেষ্ট থাকবে। আমরা সবসময় একটি নিরাপদ ক্যাম্পাসের পক্ষে। নিরাপদ ক্যাম্পাস গড়ে তোলাই ছাত্রদলের মূল অঙ্গীকার। এই অঙ্গীকারকে সামনে রেখেই শিক্ষার্থীরা যাতে কোনো ধরনের ভয়-ভীতি ছাড়া নির্বিঘ্নে তাদের পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারে এবং একটি সুষ্ঠু শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ বজায় থাকে, সে লক্ষ্যে ছাত্রদল অতীতেও কাজ করেছে এবং ভবিষ্যতেও করবে। ক্যাম্পাসের শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে আমরা সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদান করব।
প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. শাহিনুজ্জামান বলেন, একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে একাডেমিক পরিবেশ বা ছাত্রদের মধ্যে এক ধরনের আতঙ্ক বিরাজ করতেছে। ইতিমধ্যেই আমরা হচ্ছে ছাত্র সংগঠনগুলো, বিশেষ করে ছাত্রশিবির এবং ছাত্রদল, এদের সাথে আমরা দফায় দফায় বৈঠক করে ওরা কিন্তু ওদের মতো করে সমঝোতা করে নিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ এখন সম্পূর্ণ স্বাভাবিক। ক্লাস, পরীক্ষা, ছাত্ররা সবকিছু একাডেমিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করতেছে।
কুষ্টিয়ার সার্কেল অফিসার মাহমুদুল হক মজুমদার বলেন, উভয় পক্ষের নেতৃত্বস্থানীয় ব্যক্তিরা একটি সমঝোতায় পৌঁছেছেন। তাঁরা সবাই ক্যাম্পাসে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার পক্ষে মত দিয়েছেন। কুষ্টিয়া জেলা পুলিশ সুপার স্যারের নেতৃত্বে আমরাও ক্যাম্পাসে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে বদ্ধপরিকর। আমাদের স্পষ্ট বার্তা হলো- এর মধ্যে যদি কেউ ক্যাম্পাসের ভেতরে বা বাইরে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টির চেষ্টা করে, তবে জেলা পুলিশ তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
উল্লেখ্য, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান হলে ছাত্রদল আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আলিনুর রহমান কর্তৃক ছাত্রশিবিরের জিয়া হল সেক্রেটারি কাজী জুহায়েরকে থাপ্পড়ের ঘটনায় ক্যাম্পাসে উত্তপ্ত পরিবেশ সৃষ্টি হয়।