শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। ছবিঃ সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শনিবার ১১ এপ্রিল, ২০২৬, সময় : ১১:৩৯ এএম

জনসংখ্যা অভিশাপ নয়, বরং শিক্ষাব্যবস্থার পরিবর্তনের মাধ্যমে দেশের তরুণ জনগোষ্ঠীকে যোগ্য জনশক্তিতে রূপান্তর করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।


শনিবার (১১ এপ্রিল) রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ মিলনায়তনে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড এবং রাজশাহী অঞ্চলের মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের কেন্দ্রসচিবদের সঙ্গে এক মতবিনিময়সভা শেষে তিনি এ কথা বলেন।


এ সময় শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘সিসি ক্যামেরা স্থাপনের মাধ্যমে শুধু পরীক্ষাকেন্দ্র নয়, এখন থেকে শ্রেণিকক্ষও নজরদারির আওতায় আনা হবে।’


পরীক্ষকদের খাতা মূল্যায়ন নিয়ে সমালোচনা করে তিনি জানান, অনেক পরীক্ষক নিজে খাতা না দেখে ‘হেলপার’ দিয়ে মূল্যায়ন করান। তাই খাতা দেখা সঠিকভাবে হচ্ছে কি না, তা খাতার নমুনা সংগ্রহ করে যাচাই করা হবে।


ডিজিটাল নকলের বিষয়ে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে তিনি বলেন, ‘এখন নকলের ধরন পরিবর্তন হয়ে ডিজিটাল হয়েছে। কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সংঘবদ্ধ নকল চক্র থাকলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’


এদিকে জেলা পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মান উন্নয়ন নিয়েও কথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী।


তিনি বলেন, ‘জেলা প্রশাসকদের সন্তানরা সাধারণত ঢাকায় পড়াশোনা করেন। তবে জেলার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মান বাড়াতে জেলায় কর্মরত কর্মকর্তাদের সন্তানদের স্থানীয় স্কুলে পড়াশোনা করার বিষয়টি নিশ্চিত করা উচিত।’


শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘যেসব শিক্ষার্থী লেখাপড়া বাদ দিয়ে টিকটক করে বেড়ায়, তাদের নিয়ে আমাদের চিন্তা নেই। তবে যারা মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করে, তাদের প্রতিই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে।’


অনুষ্ঠানে বিভাগীয় কমিশনার, পবা-মোহনপুরের সংসদ সদস্য, পুঠিয়ার সংসদ সদস্য, জেলা পরিষদের প্রশাসক, রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসকসহ শিক্ষক ও সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।




অধ্যাপক ড. মো. হাছান উদ্দীন

  • প্রকাশ : সোমবার ২৭ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১০:১৬ পিএম

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) নতুন কোষাধ্যক্ষ (ট্রেজারার) হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাইন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. হাছান উদ্দীন।


আজ সোমবার (২৭ জুলাই) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এই তথ্য জানানো হয়। প্রজ্ঞাপনে স্বাক্ষর করেন সহকারী সচিব মো. শাহ আলম সিরাজ।


প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলরের অনুমোদনক্রমে 'নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০০১' এর ১৩ (১) ধারা অনুযায়ী অধ্যাপক ড. মো. হাছান উদ্দীনকে নোবিপ্রবির কোষাধ্যক্ষ পদে নিয়োগ প্রদান করা হলো।


প্রজ্ঞাপনে নিয়োগের শর্তে বলা হয়, কোষাধ্যক্ষ পদে তাঁর নিয়োগের মেয়াদ যোগদানের তারিখ হতে ৪ (চার) বছর অথবা তাঁর অবসর গ্রহণের তারিখের মধ্যে যা পূর্বে ঘটে, সেই সময় পর্যন্ত কার্যকর হবে। তিনি মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ কর্তৃক পূর্বের প্রজ্ঞাপন (২৭.১২.২০২০ তারিখে জারিকৃত) অনুযায়ী মাসিক সম্মানী প্রাপ্য হবেন।বিধি অনুযায়ী পদসংশ্লিষ্ট অন্যান্য সুবিধা ভোগ করবেন এবং তাঁকে সার্বক্ষণিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অবস্থান করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয় সংবিধি ও আইন দ্বারা নির্ধারিত এবং ভাইস-চ্যান্সেলর কর্তৃক প্রদত্ত ক্ষমতা ও দায়িত্ব পালন করবেন।মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলর প্রয়োজনে যেকোনো সময় এ নিয়োগ বাতিল করতে পারবেন।


জনস্বার্থে এ আদেশ জারি করা হয়েছে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়। অনুলিপিটি অবগতি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মন্ত্রিপরিষদ সচিব, ইউজিসি চেয়ারম্যান, নোবিপ্রবি ও পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি এবং রেজিষ্ট্রারসহ সংশ্লিষ্ট একাধিক দপ্তরে প্রেরণ করা হয়েছে।

  • প্রকাশ : সোমবার ২৭ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১০:০৯ পিএম
  • আপডেট : সোমবার ২৭ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১০:০৯ এএম

এ সম্পর্কিত আরও খবর


অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর সরকার

  • প্রকাশ : সোমবার ২৭ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১০:০৯ পিএম

সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (সুবিপ্রবি) নতুন উপ-উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন সাইন্স বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর সরকার। 


আজ সোমবার (২৭ জুলাই) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা থেকে এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলরের অনুমোদনক্রমে সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০২০-এর ১২ (১) ধারা অনুযায়ী তাকে এই পদে নিয়োগ দেওয়া হয়।


নিয়োগের শর্তাবলীতে উল্লেখ করা হয়, তার নিয়োগের মেয়াদ যোগদানের তারিখ হতে ৪ (চার) বছর অথবা অবসর গ্রহণের তারিখ যেটি পূর্বে ঘটে, সেই সময় পর্যন্ত বহাল থাকবে।তিনি তার মূল পদের সমপরিমাণ বেতন-ভাতাদি প্রাপ্য হবেন।তিনি বিধি অনুযায়ী পদসংশ্লিষ্ট অন্যান্য সুবিধা ভোগ করবেন এবং সার্বক্ষণিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অবস্থান করবেন।বিশ্ববিদ্যালয়ের সংবিধি ও আইন দ্বারা নির্ধারিত এবং উপাচার্য কর্তৃক প্রদত্ত ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব পালন করবেন। মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলর প্রয়োজনে যেকোনো সময় এ নিয়োগ বাতিল করতে পারবেন।


রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে প্রজ্ঞাপনটিতে স্বাক্ষর করেছেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সহকারী সচিব মো: শাহ্ আলম সিরাজ। জনস্বার্থে অবিলম্বে এ আদেশ কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।


বাম দিক থেকে নতুন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমতাজ ও ট্রেজারার অধ্যাপক ড. ইদ্রিস

  • প্রকাশ : সোমবার ২৭ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৯:৩৫ পিএম

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) নতুন উপ-উপাচার্য (প্রো-ভিসি) হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. এমতাজ হোসেন ও ট্রেজারার হিসেবে দাওয়াহ অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. ইদ্রিস আলী নিয়োগ পেয়েছেন। 


সোমবার (২৭ জুলাই) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সরকারি সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা থেকে জারি করা পৃথক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।


প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলরের অনুমোদনক্রমে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ১৯৮০ অনুযায়ী তাদের এ নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তারা যোগদানের তারিখ থেকে চার বছর নিজ নিজ পদে দায়িত্ব পালন করবেন। দায়িত্ব পালনকালে তারা বর্তমান পদের সমপরিমাণ বেতন-ভাতাদি পাবেন এবং বিধি অনুযায়ী পদ-সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা ভোগ করবেন।


এছাড়া তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে সার্বক্ষণিক অবস্থান করবেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও সংবিধি অনুযায়ী নিজ নিজ পদের ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব পালন করবেন। তবে রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর প্রয়োজনে যেকোনো সময় এ নিয়োগ বাতিল করতে পারবেন।


নবনিযুক্ত উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. এমতাজ হোসেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের সাবেক ডিন। এছাড়াও তিনি ইউট্যাব, ইবি শাখার কার্যনির্বাহী সদস্য এবং জিয়া পরিষদের কেন্দ্রীয় মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় তিনি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন।


অন্যদিকে, নবনিযুক্ত ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মো. ইদ্রিস আলী বিশ্ববিদ্যালয়ের দাওয়াহ অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক। তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছেন।


দায়িত্ব পাওয়ার পর উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. এমতাজ হোসেন বলেন, “ভাইস চ্যান্সেলর মহোদয়কে সঙ্গে নিয়ে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রমকে এগিয়ে নেওয়া এবং বিশ্বদরবারে বিশ্ববিদ্যালয়কে মর্যাদাপূর্ণ অবস্থানে প্রতিষ্ঠিত করতে কাজ করে যাব।”


  • প্রকাশ : সোমবার ২৭ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৪:১৫ পিএম

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (নোবিপ্রবি) ক্যাম্পাসে দিন দিন বেড়েই চলেছে পথকুকুরের উৎপাত। বিশ্ববিদ্যালয়ের পকেট গেট থেকে শুরু করে বীর মুক্তিযোদ্ধা মালেক উকিল হল, আবদুস সালাম হল, নবাব ফয়জুন্নেছা হলসহ প্রায় পুরো ক্যাম্পাসজুড়ে কুকুরের অবাধ বিচরণে শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতা বাড়ছে।


শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, কুকুরগুলো প্রায়ই নিজেদের মধ্যে মারামারিতে জড়িয়ে পড়ে। অনেক সময় পথচারীদের ধাওয়া করে এবং আক্রমণাত্মক আচরণও করে। বিশেষ করে মালেক উকিল হল ও আবদুস সালাম হলসংলগ্ন সড়ক দিয়ে চলাচলকারী শিক্ষার্থীরা প্রতিনিয়ত আতঙ্কের মধ্যে চলাচল করছেন।


সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের পকেট গেটসংলগ্ন এলাকায় কুকুরের কামড়ে দুই শিশু আহত হওয়ার ঘটনায় ক্যাম্পাসজুড়ে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনার পর শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি আরও জোরালো হয়েছে।


একাধিক শিক্ষার্থী জানান, কুকুরের কারণে হল এলাকায় স্বাভাবিকভাবে চলাচল করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। তাঁদের ভাষ্য, "হলের সামনে ও আশপাশে প্রায় সব সময়ই কুকুরের অবস্থান থাকে। কিছু কুকুরকে অসুস্থ বলেও মনে হয়। এতে জলাতঙ্কসহ বিভিন্ন সংক্রামক রোগের ঝুঁকি নিয়েও আমরা শঙ্কিত।"


এক নারী শিক্ষার্থী বলেন, "কুকুরের ভয়ে ক্যাম্পাসে নিশ্চিন্তে হাঁটতে পারি না। কোনো ধরনের উসকানি ছাড়াই অনেক সময় কুকুর তেড়ে আসে এবং ধাওয়া করে। শান্তি নিকেতন এলাকা দিয়ে একা চলাচল করতেও ভয় লাগে। একাধিকবার অল্পের জন্য কুকুরের আক্রমণ থেকে রক্ষা পেয়েছি।"


এ বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া একটি পোস্টের মন্তব্যে এক শিক্ষার্থী লিখেছেন, "নবাব ফয়জুন্নেছা হলের রুমের সামনেও কুকুরের অবস্থান থাকে। বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ জানানোর পরও হল প্রশাসনের দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ দেখতে পাইনি।"


শিক্ষার্থীরা বলছেন, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে পথকুকুর ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘমেয়াদি ও মানবিক উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে কুকুরগুলোর টিকাদান, চিকিৎসা, নির্বীজন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : সোমবার ২৭ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৪:০৮ পিএম

এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল আগামী ১০ আগস্ট প্রকাশ করা হবে। ওইদিন সকাল ১০টায় আনুষ্ঠানিকভাবে ফল ঘোষণা করা হবে। সোমবার (২৭ আগস্ট) দুপুর আড়াইটার দিকে বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।


এর আগে ২০ জুলাইয়ের মধ্যে ফল প্রকাশের ঘোষণা দিয়েছিলেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তবে ঘোষিত সময়ের মধ্যে ফল প্রকাশ না হওয়ায় নানা রকম গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। উদ্বেগ জানান পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকরাও। এরপর শিক্ষামন্ত্রী চলতি মাসের মধ্যেই ফল প্রকাশ করা যায় কি না, তা নিয়ে চিন্তাভাবনা চলছে বলে জানান।


সেসময় বোর্ডকে ২৮ জুলাইয়ের মধ্যে ফল প্রস্তুত রাখতে নির্দেশনা দেওয়া হয়। এরপর মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছিল ৩০ জুলাই ফল প্রকাশের তারিখ নির্ধারণ করা হতে পারে। তা না হলে আগস্টে গণ-অভ্যুত্থান-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন অনুষ্ঠান থাকায় ফল প্রকাশ আরও পিছিয়ে যেতে পারে।


চলতি বছরের এসএসসি ও সমমানের লিখিত পরীক্ষা শেষ হয় গত ২০ মে। নিয়মানুযায়ী পরীক্ষা শেষ হওয়ার ৬০ দিনের মধ্যে ফল প্রকাশের কথা। সে হিসাবে ২০ জুলাইয়ের মধ্যে পরীক্ষার ফল প্রকাশ করার কথা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও এবার ফল প্রকাশ করতে পারেনি শিক্ষা বোর্ড।


গত ২১ এপ্রিল এ বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরু হয়। এতে অংশ নিতে মোট ১৮ লাখ ৫৭ হাজার ৩৪৪ শিক্ষার্থী ফরম পূরণ করে। এর মধ্যে সাধারণ ৯টি শিক্ষা বোর্ডে এসএসসিতে ১৪ লাখ ১৮ হাজার ৩৯৮ জন, মাদরাসা বোর্ডে দাখিলে ৩ লাখ ৪ হাজার ২৮৬ জন ও কারিগরি বোর্ডের অধীনে পরীক্ষায় অংশ নেয় ১ লাখ ৩৪ হাজার ৬৬০ জন। বিগত বছরগুলোর তুলনায় এবার এসএসসিতে বহিষ্কার ছিল খুবই কম।


ছবিঃ সংগৃহিত

  • প্রকাশ : সোমবার ২৭ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৩:২১ পিএম

রাজধানীর শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে ছাত্রসংগঠনগুলোর অংশগ্রহণ নিয়ে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়েছে। অনুষ্ঠানে শুধু বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নেতাদের মঞ্চে আসন ও বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়ার অভিযোগ তুলে প্রতিবাদ জানিয়ে অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ইসলামী ছাত্রশিবির ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা।


রবিবার (২৬ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের  (টিএসসি) অডিটোরিয়ামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উক্ত ঘটনা ঘটে। 


অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে ছাত্রনেতাদের বক্তব্য পর্বে কেবল বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নেতাদের বক্তব্য উপস্থাপনের সুযোগ দেওয়া হয়। এর প্রতিবাদে শিবির ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা স্লোগান দিতে দিতে অনুষ্ঠান বর্জন করেন। এ সময় তারা প্রশ্ন তোলেন, এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠান নাকি কোনো নির্দিষ্ট ছাত্রসংগঠনের কর্মসূচি।


অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা ড. মাহাদী আমিন, সংসদ সদস্য ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য আনিছুর রহমান, সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য ও সিন্ডিকেট সদস্য সানজিদা ইসলাম, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, উপ-উপাচার্য, ট্রেজারারসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। 


ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ইসলামী ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি আতিকুর রহমান বলেন, “নবীনবরণ বিশ্ববিদ্যালয়ের সব শিক্ষার্থীর অনুষ্ঠান; এটি কোনো দলীয় কর্মসূচি নয়। অথচ জুলাইয়ের পূর্বের মতো আবারও একটি নির্দিষ্ট ছাত্রসংগঠনকে প্রাধান্য দেওয়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, যা বৈষম্যহীন ক্যাম্পাস গঠনের চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। জুলাই আন্দোলনে বিভিন্ন মত ও সংগঠনের শিক্ষার্থীরা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে যে ঐক্যের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন, প্রশাসনের দায়িত্ব ছিল সেই অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিবেশকে আরও শক্তিশালী করা। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি সেই প্রত্যাশাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। প্রশাসন যদি বৈষম্যমূলক অবস্থান গ্রহণ করে, তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা সব ছাত্রসংগঠন ও শিক্ষার্থীর জন্য সমান মর্যাদা, সমান সুযোগ এবং বৈষম্যহীন ক্যাম্পাস নিশ্চিত করার দাবি জানাই।”


বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক মো. আসাদুল্লাহ বলেন, “জুলাই এসেছিল বৈষম্য দূর করার জন্য। কিন্তু এখানে আমরা দেখছি প্রশাসন আবারও বৈষম্য ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে। অতীতের মতো আজও একটি নির্দিষ্ট ছাত্রসংগঠনকেই বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। আমাদের বক্তব্যের সুযোগ না থাকলে কারওই থাকা উচিত নয়। আর যদি সুযোগ দেওয়া হয়, তাহলে তা সব সংগঠনের জন্য সমানভাবে নিশ্চিত করতে হবে। শুধুমাত্র একটি দলকে সুযোগ দেওয়া দৃশ্যত বৈষম্য। এই বৈষম্যের প্রতিবাদেই আমরা আজকের অনুষ্ঠান বর্জন করেছি।”


এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আরফান আলী বলেন, “সময় স্বল্পতার কারণে আমরা অন্যান্য ছাত্রসংগঠনকে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দিতে পারিনি। বিষয়টি তাদের আগের রাতেই জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল। এত বড় একটি আয়োজনে ছাত্রদের এ ধরনের আচরণ কাম্য ছিল না।”