ছবি : সংগৃহীত
আইইএলটিএস পরীক্ষার তারিখ ঠিক করেছেন, হাতে সময় আছে তিন মাস। এখন প্রশ্ন হলো, এই সময়টাকে কীভাবে কাজে লাগাবেন? শুরু থেকেই একের পর এক মক টেস্ট দেবেন, নাকি আগে ইংরেজির দুর্বল জায়গাগুলো নিয়ে কাজ করবেন? চারটি অংশেই কি সমান সময় দেবেন, নাকি যেটিতে সমস্যা বেশি, সেটিতে বেশি মনোযোগ দেবেন?
তিন মাসে প্রস্তুতি নেওয়ার সুবিধা হলো, পুরো সময়টাকে কয়েকটি ধাপে ভাগ করে এগোনো যায়। প্রথমে পরীক্ষার ধরন বুঝে নিজের অবস্থান যাচাই করা, এরপর দুর্বল জায়গাগুলো নিয়ে কাজ করা এবং শেষ দিকে পরীক্ষার মতো পরিবেশে নিয়মিত অনুশীলন করা যায়। তবে তিন মাস সবার জন্য যথেষ্ট হবে, এমন নয়। আপনার ইংরেজির বর্তমান দক্ষতা এবং কাঙ্ক্ষিত ব্যান্ড স্কোরের ওপর প্রস্তুতির সময় অনেকটাই নির্ভর করবে।
তাই হাতে থাকা ১২ সপ্তাহে কত ঘণ্টা পড়বেন, শুধু সেই হিসাব না করে কখন কী নিয়ে কাজ করবেন, সেই পরিকল্পনাটাই আগে করা দরকার।
শুরুতেই নিজের অবস্থান বুঝুন
প্রথম সপ্তাহেই একটি পূর্ণাঙ্গ মক টেস্ট দিয়ে দেখুন বর্তমানে আপনি কোথায় আছেন। সম্ভব হলে পরীক্ষার মতো সময় ধরে লিসেনিং, রিডিং ও রাইটিং অংশগুলো করুন। স্পিকিংয়ের জন্য নিজের উত্তর রেকর্ড করেও শুনতে পারেন।
শুধু কত স্কোর হলো, সেটি দেখলেই হবে না। কোন ধরনের প্রশ্নে বেশি ভুল হচ্ছে, সেটিও খেয়াল করুন। রিডিং শেষ করতে সময় বেশি লাগছে? লিসেনিংয়ে বানান ভুল হচ্ছে? রাইটিংয়ে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে লেখা শেষ করতে পারছেন না? নাকি স্পিকিংয়ে উত্তর জানা থাকলেও বলতে গিয়ে আটকে যাচ্ছেন? এই সমস্যাগুলো চিহ্নিত করেই পরের তিন মাসের পরিকল্পনা সাজান।
প্রথম মাস: ভিত্তি ও পরীক্ষার ধরন বুঝুন
প্রথম মাসের লক্ষ্য হওয়া উচিত আইইএলটিএসের চারটি অংশের সঙ্গে ভালোভাবে পরিচিত হওয়া। লিসেনিং, রিডিং, রাইটিং ও স্পিকিংয়ে কী ধরনের প্রশ্ন আসে এবং প্রতিটি অংশে কতটা সময় পাওয়া যায়, সেগুলো জেনে নিন।
রিডিংয়ে বিভিন্ন ধরনের প্রশ্ন আলাদাভাবে অনুশীলন করতে পারেন। শুরুতেই দ্রুত শেষ করার চাপ না নিয়ে কেন উত্তর ভুল হচ্ছে, সেটি বোঝার চেষ্টা করুন।
লিসেনিংয়ে শুধু মক টেস্টের অডিও না শুনে নিয়মিত ইংরেজি শোনার অভ্যাসও তৈরি করুন। সংবাদ, সাক্ষাৎকার, পডকাস্ট বা অন্য কোনো আগ্রহের বিষয় শুনতে পারেন। কোনো অংশ বুঝতে সমস্যা হলে আবার শুনুন এবং নতুন শব্দ বা উচ্চারণ খেয়াল করুন।
রাইটিংয়ের ক্ষেত্রে প্রশ্ন বুঝে উত্তর দেওয়ার দিকে গুরুত্ব দিন। কীভাবে ভূমিকা, মূল অংশ ও উপসংহার সাজাবেন, সেটির চর্চা করুন। কঠিন শব্দ ব্যবহারের চেয়ে বক্তব্য পরিষ্কারভাবে প্রকাশ করার অভ্যাস তৈরি করুন।
আর স্পিকিংয়ের জন্য প্রতিদিন কিছুটা সময় ইংরেজিতে কথা বলুন। একা হলেও সমস্যা নেই। পরিচিত কোনো বিষয় নিয়ে এক বা দুই মিনিট কথা বলে নিজের ফোনে রেকর্ড করতে পারেন।
দ্বিতীয় মাস: দুর্বল জায়গায় বেশি সময় দিন
এক মাস অনুশীলনের পর নিজের দুর্বল জায়গাগুলো আরও পরিষ্কার হওয়ার কথা। দ্বিতীয় মাসে তাই চারটি অংশে সমান সময় দেওয়ার প্রয়োজন নেই।
ধরুন, রিডিং ও লিসেনিংয়ে ভালো করছেন, কিন্তু রাইটিংয়ে কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে যেতে পারছেন না। তাহলে রাইটিংয়ে তুলনামূলক বেশি সময় দিন। আবার স্পিকিংয়ে বারবার থেমে গেলে নিয়মিত কথা বলার চর্চা বাড়াতে হবে।
এ সময় ভুলের একটি খাতা রাখতে পারেন। রিডিংয়ে কোন ধরনের প্রশ্নে ভুল হচ্ছে, লিসেনিংয়ে কোন শব্দ শুনতে সমস্যা হচ্ছে কিংবা রাইটিংয়ে কী ধরনের ভুল বারবার করছেন, সেগুলো লিখে রাখুন। সপ্তাহ শেষে সেই তালিকা দেখলে নিজের দুর্বলতার ধরন বোঝা সহজ হবে।
এই মাস থেকেই সময় ধরে অনুশীলনের পরিমাণও বাড়ান। কারণ উত্তর জানা এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে উত্তর দিতে পারা এক বিষয় নয়।
তৃতীয় মাস: পরীক্ষার পরিবেশে অনুশীলন করুন
শেষ মাসে নতুন নতুন কৌশল শেখার চেয়ে এত দিনের প্রস্তুতিকে পরীক্ষার উপযোগী করে তোলার দিকে মনোযোগ দিন। নির্দিষ্ট সময় ধরে পূর্ণাঙ্গ মক টেস্ট দিন। পরীক্ষা যদি কম্পিউটারভিত্তিক হয়, তাহলে কম্পিউটারে টাইপ করে রাইটিং অনুশীলন করুন।
প্রতিটি মক টেস্টের পর শুধু ব্যান্ড স্কোর নিয়ে চিন্তা না করে ভুল বিশ্লেষণ করুন। আগের ভুলগুলো কি এখনো হচ্ছে? সময়ের অভাবে কোনো অংশ বাদ যাচ্ছে? তাড়াহুড়ার কারণে সহজ প্রশ্নে ভুল করছেন? সেই অনুযায়ী পরের অনুশীলন ঠিক করুন।
স্পিকিংয়ের ক্ষেত্রেও পরিচিত প্রশ্নের মুখস্থ উত্তর না দিয়ে স্বাভাবিকভাবে কথা বলার চেষ্টা করুন। সম্ভব হলে বন্ধু, শিক্ষক বা অন্য কারও সঙ্গে পরীক্ষার মতো করে অনুশীলন করতে পারেন।
প্রতিদিন কতক্ষণ পড়বেন?
তিন মাসের প্রস্তুতিতে প্রতিদিন ঠিক কত ঘণ্টা পড়তেই হবে, এমন কোনো নিয়ম নেই। কারও জন্য প্রতিদিন এক থেকে দুই ঘণ্টা মনোযোগ দিয়ে অনুশীলন কার্যকর হতে পারে, আবার কারও আরও বেশি সময় প্রয়োজন হতে পারে।
বরং সপ্তাহের জন্য ছোট ছোট লক্ষ্য ঠিক করুন। যেমন: নির্দিষ্ট কয়েকটি রিডিং অনুশীলন শেষ করবেন, দুটি রাইটিং লিখবেন কিংবা কয়েক দিন স্পিকিং রেকর্ড করবেন। এতে শুধু ‘আজ দুই ঘণ্টা পড়েছি’ হিসাব না করে আসলে কী কাজ হলো, সেটি বোঝা যায়। এক দিন পাঁচ ঘণ্টা পড়ে পরের চার দিন কিছু না করার চেয়ে নিয়মিত চর্চা বেশি কাজে আসে।
শুধু মক টেস্টেই আটকে থাকবেন না
প্রতিদিন পূর্ণাঙ্গ মক টেস্ট দিলেই দ্রুত উন্নতি হবে, এমন নয়। মক টেস্ট মূলত আপনি কোথায় দাঁড়িয়ে আছেন এবং কোথায় সমস্যা হচ্ছে, সেটি বুঝতে সাহায্য করে।
কোনো একটি রিডিংয়ে দশটি ভুল হলে সঙ্গে সঙ্গে আরেকটি রিডিং শুরু না করে আগের ভুলগুলো দেখুন। একইভাবে রাইটিং লিখে রেখে দিলে হবে না। সম্ভব হলে কারও কাছ থেকে ফিডব্যাক নিন অথবা নির্ভরযোগ্য মূল্যায়নের মানদণ্ড দেখে নিজের লেখা যাচাই করুন। ভুল ধরার পর সেটি ঠিক করার কাজটাই প্রস্তুতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
শেষ সপ্তাহে নতুন চাপ নয়
পরীক্ষার আগের সপ্তাহে হঠাৎ করে পড়ার সময় দ্বিগুণ করার প্রয়োজন নেই। বরং যে ভুলগুলো নিয়মিত হচ্ছিল, সেগুলো আরেকবার দেখুন। পরীক্ষার নিয়ম, সময় এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে নিন। পরীক্ষার আগের রাতে নতুন শব্দের দীর্ঘ তালিকা মুখস্থ করা বা রাত জেগে মক টেস্ট দেওয়ার চেয়ে পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়া বেশি কাজে দেবে।
তিন মাসে আইইএলটিএসের প্রস্তুতি নেওয়ার ক্ষেত্রে মূল বিষয় হলো পরিকল্পনাটি নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী সাজানো। প্রথম মাসে পরীক্ষাকে বুঝুন, দ্বিতীয় মাসে দুর্বল জায়গাগুলো নিয়ে কাজ করুন এবং তৃতীয় মাসে সময় ধরে পরীক্ষার মতো অনুশীলন করুন। অন্য কেউ কত দিনে কত ব্যান্ড পেয়েছেন, সেই হিসাবের সঙ্গে নিজের প্রস্তুতি মেলানোর প্রয়োজন নেই। তিন মাস শেষে আপনার লক্ষ্য হওয়া উচিত শুধু বেশি অনুশীলন করা নয়, বরং আগের চেয়ে কম ভুল করা এবং পরীক্ষার প্রতিটি অংশ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে সামলাতে পারা।
ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম
গত ২২ আগস্ট (শনিবার) ২০২৬ নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের নবীন শিক্ষার্থীদের নিয়ে নবীন বরণের আয়োজন করেন নোবিপ্রবি ছাত্রশিবির শাখা। উক্ত অনুষ্ঠানের প্রথম অধিবেশনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক ড. আতিয়ার রহমান, সাবেক উপাচার্য, রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রাবিপ্রবি)। এছাড়া, একই অধিবেশনে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম।
নুরুল ইসলাম সাদ্দাম জুলাইয়ের শহীদ ও আহতদের স্মরণ করে তাঁর বক্তব্য শুরু করেন।
তিনি বলেন, জুলাইয়ের পর শুধুমাত্র কিছু শাসকের পরিবর্তন হয়েছে, কিছু নাম পরিবর্তন হয়েছে কিন্তু পুরোনো বন্দোবস্ত একই রকম রয়ে গেছে।
তিনি আরও বলেন, বিএনপি নির্বাচনের আগে জুলাই সনদে স্বাক্ষর করেছে, ‘হ্যাঁ’ এর পক্ষে কাউন্সেলিং করেছে। এখন ক্ষমতায় আসার পর বলছে, তারা ‘হ্যাঁ’ এর পক্ষে কাউন্সেলিং করেছে দ্রুত নির্বাচন দেওয়ার জন্য।
তিনি আরও বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে যে তেল-গ্যাসের সংকট ছিল না, বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর তা দেখা দিয়েছে। এসব সমস্যা আগামী পাঁচ বছরেও ঠিক হওয়ার নয়।
বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি বলেন, “বিএনপি ক্ষমতায় আসার পরই বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিগুলো পরিবর্তন করে ফেলছে। ১৮টি বিশ্ববিদ্যালয়ে সরাসরি তাদের পোস্টেড নেতাদের বসিয়েছে, যাদের কোয়ালিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের লেস কোয়ালিটি সম্পন্ন। যাদের একটি বিভাগের চেয়ারম্যান হওয়ার যোগ্যতা নেই, তারা ভিসি পদে আসীন হয়েছে।”
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) ভাষা শহীদ আবদুস সালাম হল ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল মালেক উকিল হলে ছাত্রদলের দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির নির্ধারিত সময়সীমা পার হলেও এখনও প্রতিবেদন জমা হয়নি। তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হলেও নির্ধারিত সময়ে তদন্ত শেষ করতে পারেনি কমিটি।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের জারি করা অফিস আদেশ সূত্রে জানা যায়, গত ১৮ আগস্ট ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রারের স্বাক্ষরে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. হাছান উদ্দীনকে আহ্বায়ক, বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মহিনুজ্জামানকে সদস্য এবং প্রক্টর অধ্যাপক এএফএম আরিফুর রহমানকে সদস্য-সচিব করা হয়। কমিটিকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
তবে নির্ধারিত সময়সীমা পার হলেও প্রতিবেদন জমা না হওয়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে তদন্ত প্রক্রিয়ায় প্রশাসনিক ধীরগতির অভিযোগও তুলেছেন কেউ কেউ।
নির্ধারিত সময়ে প্রতিবেদন জমা না হওয়ার বিষয়ে তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. হাছান উদ্দীন বলেন, “আমরা নিরপেক্ষ ও নির্ভুল একটি প্রতিবেদন তৈরির লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছি। অনলাইন মিডিয়া ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পকেট গেটের গুরুত্বপূর্ণ সিসিটিভি ফুটেজ আমাদের হাতে এসেছে। এগুলোর ফাইলের আকার অনেক বড় হওয়ায় তা বিশ্লেষণ করতে বাড়তি সময়ের প্রয়োজন হচ্ছে। বিশেষ করে সংঘর্ষের সময় বহিরাগত কারা উপস্থিত ছিল, তাদের সঠিকভাবে শনাক্ত করার জন্য এসব ফুটেজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
তিনি বলেন, “তদন্তের অংশ হিসেবে আমরা ছাত্র সংগঠনের নেতৃত্ব, আহত শিক্ষার্থী, প্রত্যক্ষদর্শী ও সাংবাদিকদের সাক্ষাৎকার গ্রহণ করছি। কমিটির সদস্যদের দাপ্তরিক ব্যস্ততার পাশাপাশি অনেক শিক্ষক ও শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসের বাইরে থাকায় সবার সঙ্গে কথা বলতেও কিছুটা সময় লাগছে।”
অধ্যাপক হাছান উদ্দীন আরও বলেন, “সংঘর্ষে জড়িত ব্যক্তিদের রাজনৈতিক পরিচয় বা প্রভাব বিবেচনা না করে প্রকৃত দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আমরা উপাচার্য মহোদয়ের কাছে আরও তিন কার্যদিবস সময় বৃদ্ধির আবেদন করেছি। আশা করছি, এই সময়ের মধ্যেই সত্য ঘটনা উদ্ঘাটন করে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে পারব।”
উল্লেখ্য, গত ১৭ ও ১৮ আগস্ট নোবিপ্রবি শাখা ছাত্রদলের দুপক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ ও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
ময়মনসিংহে ভেটেরিনারি চিকিৎসক ডা. মো. আশিকুর রহমান ও ডা. মো. আব্দুল হান্নানের ওপর হামলা, মারধর এবং তাঁদের চেম্বারে ভাঙচুরের প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) ভেটেরিনারি অনুষদের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।রোববার (২৩ আগস্ট) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনসংলগ্ন গ্রন্থাগারের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
এসময় উপস্থিত ছিলেন ভেটেরিনারি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. বাহানুর রহমান, সার্জারি ও অবস্টেট্রিক্স বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মোশাররফ উদ্দীন ভূঞা ও অধ্যাপক ড. মো. মাহমুদুল আলম, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও প্যারাসাইটোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আবদুল আলীমসহ ভেটেরিনারি অনুষদের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।
জানা যায়, গত ২১ আগস্ট সন্ধ্যায় ময়মনসিংহ নগরীর জিলা স্কুলের পাশে অবস্থিত ‘ডক্টরস পেট কেয়ার’ নামের ভেটেরিনারি চেম্বারে ডা. মো. আশিকুর রহমানের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এ সময় তাকে মারধরের পাশাপাশি চেম্বারে ভাঙচুর চালানো হয়। এর আগে ২০ আগস্ট কেওয়াটখালি বাজারে অবস্থিত ডা. মো. আব্দুল হান্নানের ‘ভেট এন্ড পেট কেয়ার ময়মনসিংহ’ এ একই ব্যক্তিরা হামলা করেন। ডা. আশিকুর রহমান ও ডা. মো আব্দুল হান্নান উভয়েই বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেটেরিনারি অনুষদের প্রাক্তন শিক্ষার্থী।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, একজন ভেটেরিনারি চিকিৎসকের কর্মস্থলে প্রবেশ করে তার ওপর হামলা ও মারধর কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ ধরনের ঘটনা চিকিৎসকদের নিরাপত্তা ও পেশাগত পরিবেশের জন্য হুমকিস্বরূপ।
তারা ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে হামলায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে কোনো চিকিৎসক যেন কর্মস্থলে এ ধরনের হামলার শিকার না হন, সে জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।
এসময় অধ্যাপক ড. মো. মোশাররফ উদ্দীন ভূঞা বলেন, ডা. আশিকুর রহমানের ওপর সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী, একজন শিক্ষক এবং ভেটেরিনারি পেশার একজন কর্মী হিসেবে আমি তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। মানববন্ধনের মাধ্যমে প্রশাসনের কাছে দাবি জানাচ্ছি, যারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তাদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করতে হবে।
অধ্যাপক ড. মো. মাহমুদুল আলম বলেন, ডা. আশিকুর রহমান ও ডা. আব্দুল হান্নানের ওপর এই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িতদের অতিসত্বর গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আবদুল আলীম বলেন, একজন ভেটেরিনারিয়ান হিসেবে এ ঘটনায় আমি ব্যথিত। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শাস্তি দাবি করছি।
ভেটেরিনারি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. বাহানুর রহমান বলেন, ডা. আশিকুর রহমান ও ডা. আব্দুল হান্নানের ওপর যে সন্ত্রাসী হামলা হয়েছে, তার প্রতিবাদ জানাচ্ছি। আমরা আশা করি, সরকার এ ঘটনার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে এবং জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনবে।
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) প্রথমবারের মতো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) বিষয়ক দিনব্যাপী হ্যাকাথন ‘বিল্ড উইথ এআই’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (২২ আগস্ট) সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অনুষদের সম্মেলন কক্ষে এ হ্যাকাথনের আয়োজন করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ম্যাথমেটিক্স বিভাগ আয়োজিত এ হ্যাকাথনের আনুষ্ঠানিক সমাপনী ঘোষণা করা হয় সন্ধ্যা ৭টায়।
দিনব্যাপী আয়োজনে সকালে প্রতিযোগীদের জন্য বিশেষ প্রোগ্রামিং কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। পরে দুপুর ২টা থেকে প্রতিযোগীরা জেমিনাই ও ইলেভেনল্যাবসের অ্যাপ্লিকেশন প্রোগ্রামিং ইন্টারফেস (এপিআই) ব্যবহার করে তিনটি ক্যাটাগরিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-চালিত বিভিন্ন অ্যাপ তৈরি করেন। প্রতিযোগিতার মূল লক্ষ্য ছিল জেমিনাই ও ইলেভেনল্যাবস এপিআইয়ের কার্যকর ব্যবহার এবং কৃষি খাতে টেকসই ও প্রভাবশালী প্রযুক্তিগত সমাধান তৈরি করা।
প্রতিযোগিতা শেষে পাঁচটি দলকে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে বিজয়ী হিসেবে পুরস্কৃত করা হয়। অনুষ্ঠানে বিচারক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ম্যাথমেটিক্স বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. রাকিব হাসান এবং সহযোগী অধ্যাপক ড. মেছবাহ উদ্দিন।
‘বেস্ট ইউজ অব জেমিনাই এপিআই’ ক্যাটাগরিতে বিজয়ী হয়েছে মেহনাজ বেগম হেনার ‘স্মার্ট এক্সাম প্রিপারেশন অ্যান্ড প্রিভিয়াস কোয়েশ্চেন রিপোজিটরি’ প্রকল্প। ‘প্রশ্ন ব্যাংক থেকে জ্ঞান ব্যাংক’ প্রতিপাদ্য নিয়ে তৈরি প্রকল্পটি এ সাফল্য অর্জন করে।
‘বেস্ট প্রজেক্ট বিল্ট উইথ ইলেভেনল্যাবস’ ক্যাটাগরিতে সেরা হয়েছে ইশতিয়াক আদিক, ইকবাল হোসেন ও আবদুল্লাহ আল সায়েদের ‘নিউট্রিলেন্স’। এআই-চালিত স্মার্ট ক্যাম-ভিশন প্রকল্পটি খাবারের প্লেট বিশ্লেষণ করে গর্ভকালীন ডায়াবেটিস বা কিডনি রোগের মতো জটিল পরিস্থিতিতে রিয়েল-টাইমে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের পরামর্শ দেয়।
কৃষি খাতে সবচেয়ে প্রভাবশালী সমাধানের ক্যাটাগরিতে প্রথম হয়েছে হোরাইরা রেজোন, ইহফাজ হাকিম আদনান ও মাশরাফুল হুদার তৈরি ‘এগ্রিব্রিজ’। ভয়েস ও ছবির মাধ্যমে কৃষকের ফসলের রোগ শনাক্ত করে বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও আবহাওয়ার তথ্যের সঙ্গে যুক্ত করে সমাধান প্রদান করে অ্যাপটি।
একই ক্যাটাগরিতে দ্বিতীয় হয়েছে প্রীতম চৌধুরী সাহিত্য, ফারিহা রথি, মিনহাজ আবেদীন ও সুমাইয়া সাবরিন স্বর্ণার ‘বিডি ট্রাভেল’। তৃতীয় স্থান অর্জন করেছে লাবিব ইবনে সিরাজের ‘এআই এগ্রি অ্যাসিস্ট্যান্ট’। প্রকল্পটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে কৃষকদের সমস্যা বিশ্লেষণ করে সম্ভাব্য সমাধান তৈরিতে সক্ষম।
সভাপতি মেহেদী - সাধারণ সম্পাদক শফিউল
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) আইসিটি বিভাগের সহযোগী সংগঠন আইসিটি এসোসিয়েশন-এর ২০২৬ কার্যনির্বাহী কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। এতে সভাপতি হিসেবে মনোনীত হয়েছেন ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. মেহেদী হাসান এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে মনোনীত হয়েছেন ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. শফিউল আলম চৌধুরী।
রোববার (২৩ আগস্ট) এসোসিয়েশনের প্রধান উপদেষ্টা আলিমুল রাজি স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়।
নবগঠিত কমিটির সহ-সভাপতি হয়েছেন ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের মো. আসিফ এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন একই শিক্ষাবর্ষের ইকবাল হায়দার ইমন কোষাধ্যক্ষ মো. রায়হান, সাংগঠনিক সম্পাদক রাকিবুল হাসান, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক প্রমিত মজুমদার, সমাজকল্যাণ ও খাদ্য সম্পাদক নাবিদুল হাসান নাবিল, ওয়েব ও প্রকাশনা সম্পাদক সুলতানা আক্তার, শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক আব্দুল্লাহ, মহিলা শিক্ষার্থী সম্পাদক সাওদা হক শৈলী এবং বিভিন্ন শিক্ষাবর্ষের একাধিক কার্যনির্বাহী সদস্য কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন।
নবনির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক শফিউল আলম চৌধুরী বলেন, "সর্বপ্রথম মহান আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করছি। একই সঙ্গে সম্মানিত শিক্ষক ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই, যারা আমার ওপর আস্থা রেখে সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দিয়েছেন। সভাপতি ও পূর্ণাঙ্গ কমিটির সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করব। একাডেমিক উৎকর্ষ, সহশিক্ষামূলক কার্যক্রম, টেকনিক্যাল দক্ষতা উন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।"
নবনির্বাচিত সভাপতি মো. মেহেদী হাসান বলেন, "সর্বপ্রথম মহান আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করছি। আমাকে গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব দেওয়ায় সম্মানিত শিক্ষক ও সবার প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই। এই দায়িত্ব শুধু একটি পদ নয়, বরং বিভাগের জন্য ইতিবাচক কাজ করার সুযোগ। একাডেমিক ও প্রযুক্তিগত জ্ঞান বৃদ্ধির পাশাপাশি শিক্ষামূলক, সাংস্কৃতিক ও সহশিক্ষামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে একটি সুন্দর ও সহযোগিতাপূর্ণ পরিবেশ গড়ে তুলতে আমরা কাজ করব। সবার মতামত ও অংশগ্রহণকে গুরুত্ব দিয়ে অর্পিত দায়িত্বের মর্যাদা রক্ষা করাই আমাদের অঙ্গীকার।"
'ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ'র ৩৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ‘সবুজ ক্যাম্পাস’ গড়ার প্রত্যয়ে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি শুরু করেছে সংগঠনটি।
আজ শনিবার (২৩ আগস্ট) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের জুলাই উদ্যানে বৃক্ষরোপণের মধ্য দিয়ে এ কর্মসূচির শুরু করে সংগঠনটি। কর্মসূচির আওতায় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে মোট ৩৫টি ফলজ বৃক্ষ রোপণ করবে তারা।
এ সময় ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ ইবি শাখার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
উদ্বোধনের সময় ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ ইবি শাখার সভাপতি ইসমাইল হোসেন রাহাত বলেন, “পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং একটি সুন্দর, সবুজ ও বাসযোগ্য ক্যাম্পাস গড়ে তুলতে বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই। ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ সবসময়ই ইসলাম, দেশ, মানবতা, সমাজ ও পরিবেশের কল্যাণে ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে বিশ্বাস করে। সংগঠনের ৩৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আমরা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়কে আরও সবুজ ও নান্দনিক করে গড়ে তুলতে ৩৫টি বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নিয়েছি। ইনশাআল্লাহ, পুরো মাসজুড়ে এ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।”