আসন্ন শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির আবেদন ও ক্লাস শুরুর সময় এগিয়ে আনা হচ্ছে। শিক্ষা বোর্ডগুলোর নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, আগামী ২ সেপ্টেম্বর একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির অনলাইন আবেদন শুরু হয়ে চলবে ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। ভর্তি কার্যক্রম শেষ করে ২৩ সেপ্টেম্বর ক্লাস শুরুর প্রস্তাব করা হয়েছে।
ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের উচ্চপর্যায়ের একজন কর্মকর্তা বলেন, এ সময়সূচি উল্লেখ করে তাঁরা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠিয়েছেন। আজ বৃহস্পতিবারের মধ্যেই মন্ত্রণালয় থেকে এ বিষয়ে অনুমোদন পাওয়ার আশা করছেন তাঁরা। এর আগে ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির আবেদন নেওয়া এবং ভর্তি কার্যক্রম শেষে ১২ নভেম্বর ক্লাস শুরুর পরিকল্পনা ছিল।
ঢাকা শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, এবারও এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি করা হবে। কোনো ভর্তি পরীক্ষা হবে না। কেন্দ্রীয়ভাবে অনলাইনে আবেদন নেওয়া হবে এবং শিক্ষার্থীদের ফলাফল, পছন্দক্রম ও প্রযোজ্য ক্ষেত্রে কোটা বিবেচনায় নিয়ে ভর্তির জন্য মনোনয়ন দেওয়া হবে।
কয়েক বছর ধরেই এসএসসি ও সমমানের ফলের ভিত্তিতে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি করা হচ্ছে। নির্ধারিত ফি দিয়ে ভর্তি-ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের সর্বনিম্ন ৫টি এবং সর্বোচ্চ ১০টি কলেজ বা সমমানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পছন্দক্রম দিয়ে অনলাইনে আবেদন করতে হয়। পরে ফলাফল, পছন্দক্রম ও প্রযোজ্য ক্ষেত্রে কোটা বিবেচনায় একটি প্রতিষ্ঠানে ভর্তির জন্য মনোনয়ন দেওয়া হয়।
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) কারিগরি সহায়তায় ঢাকা শিক্ষা বোর্ড কেন্দ্রীয়ভাবে একাদশ শ্রেণির অনলাইন ভর্তি কার্যক্রম পরিচালনা করে। এই পদ্ধতিতে কলেজ ও মাদ্রাসায় ভর্তি কার্যক্রম পরিচালিত হয়। কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীন প্রতিষ্ঠানগুলোয় ভর্তি হয় পৃথক প্রক্রিয়ায়। ঢাকার নটর ডেম কলেজসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ছাড়া দেশের প্রায় সব কলেজ ও মাদ্রাসায় এ পদ্ধতিতে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি করা হয়।
ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের একটি সূত্র জানিয়েছে, আবেদনের নির্ধারিত সময় অনুযায়ী আগামী ২ থেকে ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ভর্তি–ইচ্ছুক সবাইকে আবেদন করতে হবে। যারা ফল পুনর্নিরীক্ষণের জন্য আবেদন করেছে, তাদেরও আবেদন করতে হবে। তবে পুনর্নিরীক্ষণে যাদের ফল পরিবর্তন হবে, তাদের পুনরায় আবেদনের সময় দেওয়া হবে। ১০ সেপ্টেম্বর পুনর্নিরীক্ষণে ফল প্রকাশ হওয়ার কথা।
শিক্ষা বোর্ডগুলোর প্রস্তাব অনুযায়ী, ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর যাদের পুনর্নিরীক্ষণে ফল পরিবর্তন হবে, তারা আবেদন করতে পারবে। এভাবে যাচাই–বাছাই শেষে ২০, ২১ ও ২২ সেপ্টেম্বর ভর্তির কাজ হবে। তারপর ২৩ সেপ্টেম্বর ক্লাস শুরু হবে।
তবে যারা এ সময়ে ও প্রক্রিয়ায় কোনো কলেজ-মাদ্রাসা পাবে না বা প্রত্যাশিত কলেজ পাবে না অথবা কোনো কারণে আবেদন করতে পারবে না, ২৩ সেপ্টেম্বরের পরপর তাদেরও ভর্তির জন্য আবেদনের সুযোগ দেওয়া হবে।
এ বছরের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষার ফল পুনর্নিরীক্ষণের জন্য ৪ লাখের বেশি পরীক্ষার্থী প্রায় ১৩ লাখ আবেদন করেছে। এর মধ্যে ১০ লাখ ৫৬ হাজারের বেশি আবেদন পড়েছে লিখিত (তত্ত্বীয়) পরীক্ষার উত্তরপত্রের জন্য। আর ব্যবহারিক পরীক্ষার খাতার জন্য আবেদন পড়েছে ২ লাখ ৩১ হাজারের বেশি।
অর্ধেকের বেশি আসন খালি থাকবে
১০ আগস্ট এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হয়। এবার ১১টি শিক্ষা বোর্ডে মোট ১৮ লাখ ২৯ হাজার ৪৮৫ জন পরীক্ষার্থী ছিল। এর মধ্যে পাস করেছে ১১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৭৭ জন। অর্থাৎ প্রায় ৭ লাখ পরীক্ষার্থী উত্তীর্ণ হতে পারেনি। সারা দেশে একাদশ শ্রেণিতে কলেজ ও মাদ্রাসা মিলিয়ে ভর্তিযোগ্য আসন রয়েছে প্রায় ২৫ লাখ। ফলে মোট আসনের অর্ধেকের বেশি এবার খালি থাকার আশঙ্কা রয়েছে।
তবে আসন বেশি থাকলেও জিপিএ-৫ পাওয়া সব শিক্ষার্থী তাদের পছন্দের প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হতে পারবে না। কারণ, তুলনামূলক ভালো প্রতিষ্ঠানগুলোয় আসনসংখ্যা সীমিত। এবার ১১টি শিক্ষা বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী। এর মধ্যে ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ৬ হাজার ৯ জন
জাতীয় পর্যায়ের উদ্ভাবনী প্রতিযোগিতা ‘আইডিয়া ফেস্ট-২০২৫'-এ বিজয়ী হয়েছে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) শিক্ষার্থীদের দল 'এসএইউ এগ্রি ৩৬০' (SAU AGRI 360)। গতকাল রোববার রাজধানীর শাহবাগে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ২৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে দলটির সদস্যদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
চ্যাম্পিয়ন দলের সদস্যরা হলেন কৃষি অনুষদের ৭৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মারুফ মোস্তফা মুনিম, কৃষি অর্থনীতি অনুষদের ৭৭তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মো. মুহাইমিনুল ইসলাম ও একই অনুষদের ৮০তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মো. রিয়াদ মিয়া। দলনেতা মারুফ মোস্তফা মুনিমের নেতৃত্বে তাঁরা কৃষককেন্দ্রিক স্মার্ট কৃষি ইকোসিস্টেমের একটি সমন্বিত মডেল উপস্থাপন করেন।
গত ১০ অক্টোবর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদে প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। এতে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। প্রাথমিক পর্যায় থেকে নির্বাচিত ১৮টি দল সেমিফাইনালে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। সেখান থেকে সাতটি দল চূড়ান্ত পর্বে জায়গা পায়।
দলটির প্রস্তাবিত মডেলে কৃষিসংশ্লিষ্ট সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, প্রযুক্তি, অর্থায়ন ও বাজারব্যবস্থাকে একটি জাতীয় নেটওয়ার্কের আওতায় আনার পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়। এর মাধ্যমে কৃষকের দোরগোড়ায় আধুনিক কৃষিসেবা পৌঁছে দেওয়া, মধ্যস্বত্বভোগীদের ওপর নির্ভরতা কমানো এবং কৃষিপণ্যের সরবরাহব্যবস্থা শক্তিশালী করার প্রস্তাব করা হয়েছে। পাশাপাশি নির্ভুল কৃষিপদ্ধতি, কৃষিপণ্যের মূল্য সংযোজন, রপ্তানিমুখী উৎপাদন ও নতুন কৃষি উদ্যোক্তা তৈরির বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে দলের পক্ষ থেকে বক্তব্য দেন মারুফ মোস্তফা মুনিম। তিনি বলেন, দেশের উন্নয়নে নিজেদের জ্ঞান ও উদ্ভাবনী চিন্তা কাজে লাগানোর সুযোগ তাঁদের জন্য বড় প্রাপ্তি। এ অর্জন শুধু দলের তিন সদস্যের নয়, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরো পরিবারের গৌরব।
দলের সদস্য মো. মুহাইমিনুল ইসলাম বলেন, কৃষকের দোরগোড়ায় আধুনিক কৃষিসেবা পৌঁছে দেওয়া, সরবরাহব্যবস্থা শক্তিশালী করা এবং উৎপাদনকে বাজারমুখী করার লক্ষ্যেই তাঁদের এ মডেল তৈরি করা হয়েছে। এটি বাস্তবায়িত হলে কৃষকের ন্যায্য মূল্যপ্রাপ্তি ও নতুন উদ্যোক্তা তৈরির সুযোগ বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়স্থ চট্টগ্রাম জেলা ছাত্রকল্যাণ পরিষদের ২০২৬-২৭ মেয়াদের নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে। এতে সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের লোকপ্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী জিসাদুল ইসলাম এবং সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন একই শিক্ষাবর্ষের ফিন্যান্স বিভাগের শিক্ষার্থী আবু শাহরিয়াজ অনিক।
আজ রোববার (১৮ অক্টোবর) উপদেষ্টা মণ্ডলীর সম্মতিক্রমে সাবেক সভাপতি আরাফাত চৌধুরী নিলয় ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নোমানের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ কমিটি ঘোষণা করা হয়।
আগামী এক বছরের জন্য অনুমোদিত এ কমিটিতে সিনিয়র সহ-সভাপতি হয়েছেন ইকবাল হোসেন, আসরাফুল ইসলাম আসিফ ও জুনাইদুল ইসলাম। সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন অবন্তী রায়, মোবারক চৌধুরী ও সিরাজদৌল্লাহ।
কমিটির সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন শান্ত শর্মা, মোহাম্মদ মিশকাত, গোবিন্দ দাশ, আকিলা হাসান, জেসমিন আক্তার, মো. জিহান, মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ ও জাহিদ হাছান রাহাত।
যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন মো. ফাতিন ইলহাম তানজিম, মোহাম্মদ হামিদুর রহমান অভি, ইনান চৌধুরী সাব্বির, অন্ত ধর, মো. আকরাম আলী ও শফিকুল ইসলাম মাসুদ।
সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন জাবির খান, মোহাম্মদ আকিব, মো. সাইদুল আলম সাব্বির, জাবিদ হাসান ও সামি উদ্দীন সাজিদ।
এ ছাড়া দপ্তর সম্পাদক হয়েছেন ফয়সাল ইসলাম, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মোহাম্মদ ইমতিয়াজ উদ্দীন, অর্থ সম্পাদক মো. আসিফুর রহমান, ক্রীড়া সম্পাদক মো. আল ইমরান চৌধুরি এবং সমাজসেবা সম্পাদক মোহাম্মদ ইয়াছিন।
ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্ট সম্পাদক হয়েছেন শাহরিয়া আজাদ জিসান, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ফছি ইবনে আলম, সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক ইয়াসির আহমেদ, ধর্ম ও সম্প্রীতি সম্পাদক মো. মুস্তাকিম বিল্লাহ এবং মানবসম্পদ সম্পাদক অভিষেক চৌধুরী।
অন্যদিকে, ছাত্রীকল্যাণ সম্পাদক হয়েছেন প্রিয়ন্তি ভৌমিক রিমি, আইন বিষয়ক সম্পাদক আদিত্য দাশ গুপ্ত, শিক্ষা ও পাঠচক্র সম্পাদক আবির রহমান সাধ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক রাশেদ উল্লাহ হাসান এবং তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক মো. ফাহিম মুনতাসির চৌধুরী।
নবনির্বাচিত সভাপতি জিসাদুল ইসলাম বলেন, আমার ওপর আস্থা রেখে সভাপতি নির্বাচিত করায় উপদেষ্টা মণ্ডলী, সাবেক সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও সংগঠনের সকল সদস্যের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত চট্টগ্রামের শিক্ষার্থীদের কল্যাণে কাজ করা, পারস্পরিক ঐক্য ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন সুদৃঢ় করা এবং শিক্ষার্থীদের যেকোনো প্রয়োজনে পাশে থাকাই হবে আমাদের প্রধান লক্ষ্য। সকলের সহযোগিতা ও সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সংগঠনকে আরও গতিশীল, সুসংগঠিত ও শিক্ষার্থীবান্ধব হিসেবে গড়ে তুলতে চাই।
নবনির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক আবু শাহরিয়াজ অনিক বলেন, সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আমাকে নির্বাচিত করায় সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। এই দায়িত্ব আমি সম্মান ও দায়বদ্ধতার সঙ্গে পালন করতে চাই। চট্টগ্রামের শিক্ষার্থীদের মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি বজায় রাখা, নবীন শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা করা এবং শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে পাশে থাকাই হবে আমাদের অগ্রাধিকার। সভাপতিসহ কার্যনির্বাহী কমিটির সকল সদস্যকে সঙ্গে নিয়ে সংগঠনের কার্যক্রম আরও গতিশীল করার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের কল্যাণে কাজ করে যেতে চাই।
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) পঞ্চম সমাবর্তন অনুষ্ঠানের চূড়ান্ত তারিখ ও নিবন্ধন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। আগামী বছরের (২০২৭) ২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য সমাবর্তন উপলক্ষে আগামী ৫ থেকে ২০ নভেম্বর পর্যন্ত নিবন্ধন কার্যক্রম চলবে। সমাবর্তনে অংশগ্রহণের নিবন্ধন ফি ৫ হাজার টাকা এবং সনদ ফি ১ হাজার টাকা নির্ধারণ করেছে কর্তৃপক্ষ। এতে অংশ নিতে পারবেন ২০১২-১৩ থেকে ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক (সম্মান) এবং ২০১৫-১৬ থেকে ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করা শিক্ষার্থীরা।
আজ রবিবার (১৮ অক্টোবর) সমাবর্তনকেন্দ্রিক নিবন্ধন উপকমিটির আহ্বায়ক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের অধ্যাপক ড. ফারুকুজ্জামান খান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. আতিকুর রহমান জানান, ‘সমাবর্তন ঘিরে ইতোমধ্যে ২২টি উপকমিটি গঠন করা হয়েছে। এ ছাড়া একটি কেন্দ্রীয় সেল গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে। সেখান থেকে সবার কার্যক্রম মনিটরিং করা হবে এবং পারস্পরিক যোগাযোগ সমন্বয় করা হবে।’
নিবন্ধনের তারিখ নিয়ে আলোচনা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য সংশ্লিষ্ট উপকমিটি নিশ্চিত করতে পারবে।
এ ব্যাপারে সমাবর্তনকেন্দ্রিক নিবন্ধন উপকমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. ফারুকুজ্জামান খান বলেন, “আগামী ০৫ নভেম্বর থেকে রেজিস্ট্রেশন শুরু হবে, যা ২০ নভেম্বর পর্যন্ত চলবে। প্রাথমিকভাবে রেজিস্ট্রেশন ফি ৫০০০ টাকা ও সনদ ফি ১০০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। অতিথিদের জন্য ফি পরবর্তীতে নির্ধারণ করা হবে।”
এর আগে উপাচার্য অধ্যাপক ড. একেএম মতিনুর রহমান গণমাধ্যমে জানান, সমাবর্তন বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য কিছুটা চ্যালেঞ্জ হলেও আমরা বিকেন্দ্রীকরণের ভিত্তিতে দায়িত্ব বণ্টন করে দিয়েছি। যাতে সহজে কার্যক্রম সহজ করা যায়৷ ইতিমধ্যে যথাসময়ে কার্যক্রম সম্পন্ন করতে উপকমিটিকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, আগামী ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৭ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের পঞ্চম সমাবর্তন আয়োজনের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। সমাবর্তন আয়োজন নির্বিঘ্ন করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিভিন্ন কমিটির মাধ্যমে প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
কেউ তৈরি করেছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর স্মার্ট চশমা, কেউ রোবটিক হাত, আবার কেউ নদী ও জলাশয় থেকে বর্জ্য অপসারণের প্রযুক্তি। পরিবেশ সুরক্ষা, চিকিৎসা প্রযুক্তি, নিরাপত্তা ও স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থাপনার নানা উদ্ভাবনী ধারণা নিয়ে নিজেদের মেধার পরিচয় দিয়েছে শিক্ষার্থীরা। তাদের এই সৃজনশীলতা ও প্রযুক্তিগত দক্ষতার স্বীকৃতি দিতে পুরস্কার বিতরণের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে রাজধানীর মানারাত ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের (এমডিআইসি) দুই দিনব্যাপী ‘এমডিআইসি স্টেম ফেস্ট ২০২৬-২৭’।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) বিকেলে কলেজ ক্যাম্পাসে আয়োজিত সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিতভিত্তিক এ আয়োজনে রাজধানী ও আশপাশের প্রায় ৮৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আট শতাধিক প্রতিযোগী অংশ নেয়।
শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞানমনস্কতা, সৃজনশীল চিন্তা, উদ্ভাবনী দক্ষতা এবং বাস্তব জীবনের সমস্যা সমাধানে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে মানারাত ক্লাবস ফর কো-কারিকুলার অ্যাক্টিভিটিজের (এমসিসিএ) অধীনে এ উৎসবের আয়োজন করা হয়।
উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ ছিল শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী প্রকল্প প্রদর্শনী। তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণি, ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণি এবং নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য তিনটি বিভাগে প্রকল্প প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। এতে রোবোটিকস, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, পরিবেশ সংরক্ষণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তা ও স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন প্রকল্প তুলে ধরে প্রতিযোগী দলগুলো।
প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের দৈনন্দিন জীবন সহজ করার লক্ষ্যে শিক্ষার্থী মাহিমা আহমেদ ও তাঁর দলের তৈরি ‘রোবটিক হ্যান্ড’ এবং ‘ব্লাইন্ড ম্যান হেল্পার’ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। রোবটিক হ্যান্ডে মোটর, সার্কিট বোর্ড ও থ্রিডি প্রিন্টেড পাঁচটি আঙুল ব্যবহার করা হয়েছে। অন্যদিকে, ব্লাইন্ড ম্যান হেল্পারে প্রক্সিমিটি সেন্সর ও আরডুইনো ন্যানোর সাহায্যে সামনে থাকা বাধা শনাক্ত করে শব্দের মাধ্যমে ব্যবহারকারীকে সতর্ক করার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
পরিবেশ সংরক্ষণের ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের আরেকটি উদ্যোগ ‘সার্কুলার ব্লু’। নদী ও জলাশয় থেকে বর্জ্য সংগ্রহের উদ্দেশ্যে তৈরি এ ভাসমান প্ল্যাটফর্মে ডিসি মোটর, সার্ভো মোটর ও আরডুইনো ন্যানো ব্যবহার করা হয়েছে। প্রযুক্তির সাহায্যে জলাশয়ের বর্জ্য অপসারণের সম্ভাবনা তুলে ধরে শিক্ষার্থীরা পরিবেশদূষণ মোকাবিলায় নিজেদের চিন্তার প্রতিফলন ঘটিয়েছে। এ ছাড়া ‘ককলিয়া ক্যাপ’, ‘সায়ার-ডিজিটাল রিসাইক্লার’, ‘টিম কার্বন ফাইটার’, ‘অমনিঅ্যাক্সিস’, ‘গ্লেন ব্লেজ রেসার্স’, ‘টেক টাইটানস’ ও ‘নিনজা সেভার্স অব দ্য নেচার’সহ বিভিন্ন দলের প্রকল্পে চিকিৎসা প্রযুক্তি, পুনর্ব্যবহার, পরিবেশ সুরক্ষা ও আধুনিক প্রযুক্তির নানা দিক উঠে আসে।
স্টেম ফেস্টের আহ্বায়ক ও মানারাত সায়েন্স ক্লাবের ইনচার্জ ড. মো. মাকসুদুল আলম বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), জলবায়ু পরিবর্তন ও চিকিৎসা ক্ষেত্রের বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলার জন্য চিরাচরিত শিক্ষার বাইরে গিয়ে সমস্যা সমাধানের মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে। স্টেম (বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিত) কেবল চারটি বিষয়ের পাঠদান নয়; বরং এটি কৌতুহল, নতুন কিছু চেষ্টা করার সাহস এবং ধাপে ধাপে শেখার এক বিশেষ মানসিকতা। আমরা যখন বিশ্বের দিকে তাকাই, তখন আমরা চারদিকে অনেক চ্যালেঞ্জ দেখতে পাই। ভবিষ্যত পৃথিবীর জন্য এসব চ্যালঞ্জেকে সামাধান করতে হবে।
মানারাত ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল স,ম মাহবুব উল আলম, ওএসজি, এসজিপি, এনডিসি, পিএসসি (অব:) বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের শুধু পাঠ্যবইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না; তাদের বিজ্ঞানমনস্কতা, সৃজনশীল চিন্তাভাবনা, উদ্ভাবনী দক্ষতা এবং বাস্তব সমস্যার সমাধান করার সক্ষমতা গড়ে তুলতে হবে। এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের নতুন কিছু শেখার, নিজেদের মেধা বিকাশের এবং ভবিষ্যতে নতুন উদ্ভাবনের পথে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি করে।
আমাদের মনে রাখতে হবে, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহার দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে প্রযুক্তির ব্যবহার সম্পর্কে সচেতন হওয়া এবং নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও অত্যন্ত জরুরি। শিক্ষার্থীদের এমনভাবে গড়ে তুলতে হবে, যাতে তারা বর্তমানের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকতে পারে। তাদের মধ্যে দায়িত্ববোধ, দূরদর্শিতা এবং মানবকল্যাণে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ব্যবহারের মানসিকতা তৈরি করতে হবে।
মানারাত ট্রাস্টের একাডেমিক কমিটির আহ্বায়ক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মোজাম্মেল হক বলেন, স্টেম ফেস্ট শিক্ষার্থীদের তাত্ত্বিক জ্ঞানকে বাস্তব উদ্ভাবনে রূপ দেওয়ার পাশাপাশি বৈজ্ঞানিক কৌতূহল, বিশ্লেষণী চিন্তাশক্তি, নেতৃত্ব ও দলগত কাজের দক্ষতা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিতের সমন্বিত প্রয়োগের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের আগামী দিনের উদ্ভাবক হিসেবে গড়ে উঠতে হবে। তিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবোটিকস ও জীবপ্রযুক্তির সম্ভাবনা তুলে ধরে এসব প্রযুক্তির দায়িত্বশীল ব্যবহার এবং গবেষণার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বাংলাদেশের প্রাকৃতিক ও জীবসম্পদ কাজে লাগিয়ে নতুন উদ্ভাবন, শিল্পায়ন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের সম্ভাবনা তৈরিতে শিক্ষার্থীদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
উৎসবের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি এবং আহসানউল্লাহ ইউনিভার্সিটি অব সাইন্স এন্ড টেকনোলজির সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ফজলে ইলাহী। তিনি বলেন, দেশের উন্নয়নে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিত বিষয়ে দক্ষ গ্র্যাজুয়েটদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। চীনের উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষা ও দক্ষ মানবসম্পদ একটি দেশের অর্থনৈতিক ও সামরিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি নৈতিকতা, চরিত্র গঠন ও সামাজিক দায়বদ্ধতার বিষয়ে সচেতন হতে হবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবোটিকস ও জীবপ্রযুক্তির মতো আধুনিক প্রযুক্তির সম্ভাবনা কাজে লাগিয়ে দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে হবে।
এ সময় তিনি স্টেম ফেস্ট-কে শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী চিন্তা, নেতৃত্ব ও বাস্তবমুখী দক্ষতা বিকাশের গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত সায়েন্স ক্লাব, শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথিদের বক্তব্যেও বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, গবেষণা ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ প্রস্তুতির গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। পরিবেশবিজ্ঞান, জলবায়ুবিদ্যা ও আবহাওয়াবিদ্যাসহ বিভিন্ন শাখায় গবেষণা সম্প্রসারণ এবং বৈশ্বিক উষ্ণায়নের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় নতুন প্রজন্মকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান বক্তারা।
দুই দিনব্যাপী আয়োজনে প্রথম দিন গণিত, সাধারণ বিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান, রসায়ন ও পদার্থবিজ্ঞান অলিম্পিয়াডের পাশাপাশি রোবোটিকস, মাইনক্রাফটভিত্তিক কার্যক্রম এবং ট্রেজার হান্ট অনুষ্ঠিত হয়। দ্বিতীয় দিন কম্পিউটার সায়েন্স অলিম্পিয়াড, মাইনক্রাফটভিত্তিক কার্যক্রম ও প্রকল্প প্রদর্শনী শেষে সমাপনী অনুষ্ঠান ও পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন মানারাত ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল কলেজজের ভাইস প্রিন্সিপাল মো. আনোয়ারুল করীম, অধ্যাপক তাহমীনা ইয়াসমীন, বালক শাখার কো-অর্ডিনেটর মহসীন কোরাইশী, স্টেম ফেস্টের বালিকা শাখার আহ্বায়ক রোকসানা খানমসহ শিক্ষক, কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
পরিবারের সদস্যদের নিয়ে কক্সবাজারে বেড়াতে গিয়ে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারিয়েছেন ১০ জন। তাদের মধ্যে আটজন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থীদের স্বজন বলে জানা গেছে। একসঙ্গে পরিবারের ছয় সদস্যকে হারিয়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে তাদের স্বজনদের মধ্যে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও কয়েকজন।
আজ শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকাল সাতটার দিকে কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানী এলাকায় মেরিন ড্রাইভসংলগ্ন পাটুয়ারটেক সৈকতের টুপটুপ রেস্টো অ্যান্ড রিসোর্টে এ অগ্নিকাণ্ড ঘটে।
নিহতদের মধ্যে প্রাথমিকভাবে যাদের পরিচয় পাওয়া গেছে, তারা হলেন ঢাকার বনশ্রীর ইসরাত জাহান মালিহা (৩০), মিলিতা মেহেজাবিন আলভী (২৩), খিলগাঁওয়ের লায়লা জাহান নাবিলা (২৭), নাফিসতা মীম (২৭), চুয়াডাঙ্গার ফারিহা কবির (৩৩) ও পাঁচ বছর বয়সী ফায়িজান আহম্মেদ। এ ছাড়া নিহতদের মধ্যে নাফিজ ও নাবিলা নামে আরও দুজনের কথা জানা গেছে। তবে তাদের বিস্তারিত পরিচয় এবং অন্য নিহতদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এ ঘটনায় পরিবারের একাধিক সদস্যকে হারানো আহাদ বলেন, পরিস্থিতি খুব একটা ভালো না। আমাদের পরিবারের ছয়জন এই ঘটনায় মারা গেছেন। তাদের মধ্যে আমার চারজন মেয়ে কাজিন, একজন ছেলে কাজিন এবং আমার এক মেয়ে কাজিনের ছোট সন্তান ফাইয়াজ রয়েছে। নাফিজ ও নাবিলাও আমাদের আত্মীয়। তারা আমার মায়ের ফুফাতো বোনের পরিবারের সদস্য।
তিনি আরও বলেন, “আমাদের পরিবারের মোট ছয়জন নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া আহত তিনজন বর্তমানে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।”
এদিকে অগ্নিকাণ্ডের পর রিসোর্টটির অগ্নিনিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। ফায়ার সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটির অগ্নিনিরাপত্তাসংক্রান্ত লাইসেন্স ছিল না। এমনকি কয়েক মাস আগেই রিসোর্টটিকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করে সতর্ক করা হয়েছিল। এরপরও সেখানে কার্যক্রম অব্যাহত ছিল।
ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানায়, সকাল সাতটার দিকে রিসোর্টটিতে আগুনের সূত্রপাত হয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করেন। প্রায় চার ঘণ্টার চেষ্টায় বেলা ১১টার দিকে আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসে। পরে রিসোর্টের ভেতরে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা হয়।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সুলতানুল আফরীন জুনাইদ জানান, অগ্নিকাণ্ডের শিকার রিসোর্টটির ফায়ার সার্ভিসের লাইসেন্স ছিল না। গত জুনে প্রতিষ্ঠানটি পরিদর্শন করে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। সে সময় কর্তৃপক্ষকে সতর্কতামূলক নোটিশও দেওয়া হয়। কিন্তু সতর্কবার্তার পরও রিসোর্টটির কার্যক্রম বন্ধ করা হয়নি।
এ ঘটনায় আগুনের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত কীভাবে হয়েছে, রিসোর্টটিতে প্রয়োজনীয় অগ্নিনিরাপত্তাব্যবস্থা ছিল কি না এবং সতর্কতামূলক নোটিশ পাওয়ার পরও কেন কার্যক্রম চালু রাখা হয়েছিল, সেসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়
কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীতে একটি রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের মধ্যে রয়েছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) রসায়ন বিভাগের ১৫তম ব্যাচের শিক্ষার্থী লায়লা জাহান নাবিলা। তার অকালমৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
আজ শনিবার (১৭ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে পাঠানো এক শোকবার্তায় নাবিলার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
এর আগে শনিবার সকাল সাতটার দিকে কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানী এলাকায় মেরিন ড্রাইভসংলগ্ন পাটুয়ারটেক সৈকতের টুপটুপ রেস্টো অ্যান্ড রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে নাবিলাসহ অন্তত ১০ জনের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও কয়েকজন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শোকবার্তায় জানানো হয়, রসায়ন বিভাগের ১৫তম ব্যাচের শিক্ষার্থী লায়লা জাহান নাবিলার অকালমৃত্যুতে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন ও ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীন গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন।
শোকবার্তায় তারা মরহুমার আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। একই সঙ্গে এই অপূরণীয় ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পরিবারের সদস্যদের ধৈর্য ও মানসিক শক্তি কামনা করেন।
প্রসঙ্গত, আজ শনিবার সকালে রিসোর্টটিতে আগুন লাগার পর ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার ও আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজ শুরু করেন। বেলা ১১টার দিকে আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসে। পরে রিসোর্টের ভেতরে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা হয়। অগ্নিকাণ্ডের কারণ অনুসন্ধানে ইতোমধ্যে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।