কৃষিতে অতিরিক্ত নাইট্রোজেন সার ব্যবহারের প্রবণতা কমিয়ে কৃষকের উৎপাদন ব্যয় হ্রাস ও পরিবেশ সুরক্ষায় নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) একদল শিক্ষক ও তরুণ গবেষক। বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিজ্ঞান এবং কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের যৌথ উদ্যোগে তৈরি রিমোট সেন্সিংভিত্তিক নির্ভুল নাইট্রোজেন ব্যবস্থাপনা প্রযুক্তিটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘N-FertiSmart’।
গবেষকদের দাবি, প্রযুক্তিটি ব্যবহার করা গেলে প্রচলিত সুপারিশের তুলনায় গড়ে প্রায় ২২ শতাংশ নাইট্রোজেন সার কম ব্যবহার করা সম্ভব।
গতকাল শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে প্রযুক্তিটি উদ্ভাবনের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার ২০২৬-এ ‘N-FertiSmart: Remote Sensing Based Precision Nitrogen Management for Sustainable Agriculture in Bangladesh’ শীর্ষক প্রকল্পটি উপস্থাপন করা হয়েছে। প্রকল্পটিতে জবির উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের ড. মো. আতাউল গনি ও ড. এ এম এম গোলাম আদম এবং সিএসই বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন কাজ করেছেন। তাঁদের সঙ্গে দুই বিভাগের তরুণ গবেষক বিপ্লব বিশ্বাস ও মো. নাজিম শরিফও যুক্ত রয়েছেন।
গবেষকরা জানান, প্রচলিত ‘Fertilizer Recommendation Guide-2024’ (FRG-2024) অনুযায়ী প্রতি হেক্টরে প্রায় ১৭৪ কেজি নাইট্রোজেন সার প্রয়োগের সুপারিশ রয়েছে। তবে N-FertiSmart প্রযুক্তির মাধ্যমে সম্ভাব্য ডিনাইট্রিফিকেশন হার হিসাব করে গবেষণায় প্রতি হেক্টরে প্রয়োজনীয় নাইট্রোজেনের পরিমাণ ১৩৫ দশমিক ৭০ কেজিতে নামিয়ে আনার সম্ভাবনা পাওয়া গেছে। এতে প্রচলিত সুপারিশের তুলনায় গড়ে প্রায় ২২ শতাংশ নাইট্রোজেন সার কম ব্যবহার করা সম্ভব বলে দাবি গবেষকদের।
গবেষকদের ভাষ্য, অনেক কৃষক বেশি নাইট্রোজেন বা ইউরিয়া সার প্রয়োগ করলে ফলন বাড়বে এমন ধারণা থেকে সুপারিশকৃত মাত্রার চেয়েও বেশি সার ব্যবহার করেন। কিন্তু ফসলের গাছ প্রয়োজনের অতিরিক্ত নাইট্রোজেন গ্রহণ করতে পারে না। ফলে অতিরিক্ত সার মাটিতে থেকে যায় কিংবা বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় পরিবেশে ছড়িয়ে পড়ে।
গবেষকদের তথ্য অনুযায়ী, নাইট্রোজেন সারের প্রায় ৬০ শতাংশ পর্যন্ত ডিনাইট্রিফিকেশন প্রক্রিয়ায় হারিয়ে যেতে পারে। এতে একদিকে কৃষকের উৎপাদন ব্যয় বাড়ে, অন্যদিকে পানিদূষণ, গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ ও জলজ জীববৈচিত্র্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।
গবেষকরা আরও জানান, বাংলাদেশের প্রায় ৬৫ শতাংশ কৃষিজমি প্রতিবছর কোনো না কোনোভাবে প্লাবিত হয়। প্লাবনের ফলে মাটির উর্বরতা ও পুষ্টি উপাদানের অবস্থায় পরিবর্তন ঘটে। ফলে কয়েক বছর পরপর প্রচলিত পদ্ধতিতে নির্ধারিত সার প্রয়োগের সুপারিশ সব এলাকার পরিবর্তিত মাটির অবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।
এই সীমাবদ্ধতা কাটাতেই N-FertiSmart-এ স্যাটেলাইটভিত্তিক তথ্য ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রযুক্তিটির মাধ্যমে নির্দিষ্ট এলাকার সম্ভাব্য ডিনাইট্রিফিকেশন হার ও নাইট্রোজেনের প্রয়োজনীয়তা নির্ধারণে সহায়তা পাওয়া যাবে। ফলে জমির বর্তমান অবস্থা বিবেচনায় নিয়ে প্রয়োজন অনুযায়ী সার প্রয়োগের সুযোগ তৈরি হবে।
গবেষকদের মতে, প্রচলিত সার সুপারিশ নির্দিষ্ট সময় পরপর হালনাগাদ করা হলেও স্যাটেলাইটভিত্তিক এই পদ্ধতির মাধ্যমে প্রতিবছর জমির অবস্থা ও সম্ভাব্য ডিনাইট্রিফিকেশন হার বিবেচনায় নিয়ে নাইট্রোজেনের প্রয়োজনীয়তা নির্ধারণ করা সম্ভব হবে। এতে কৃষক অতিরিক্ত সার প্রয়োগ এড়াতে পারবেন। একই সঙ্গে সার ব্যবহারের দক্ষতা বাড়বে, কৃষকের খরচ কমবে এবং পরিবেশে নাইট্রোজেনের অপচয় ও দূষণও কমানো সম্ভব হবে।
গবেষক দলের সদস্য ও জবির সিএসই বিভাগের মাস্টার অব সায়েন্সের শিক্ষার্থী বিপ্লব বিশ্বাস বলেন, “একজন গবেষক হিসেবে N-FertiSmart প্রকল্পটি নিয়ে আমি অত্যন্ত আশাবাদী ও গর্বিত। এই প্রকল্পের মাধ্যমে কৃষি, রিমোট সেন্সিং এবং ডেটাভিত্তিক প্রযুক্তিকে একত্রিত করে বাস্তব কৃষি সমস্যার একটি কার্যকর সমাধান তৈরির চেষ্টা করা হয়েছে। গবেষণার সবচেয়ে বড় আনন্দ হলো একটি বৈজ্ঞানিক ধারণাকে মাঠপর্যায়ে ব্যবহারযোগ্য প্রযুক্তিতে রূপান্তর করার সুযোগ পাওয়া।”
তিনি বলেন, “এই প্রকল্প শুধু নাইট্রোজেন সার ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন নয়, বরং কৃষকের খরচ কমানো, সার ব্যবহারের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং পরিবেশবান্ধব টেকসই কৃষি গড়ে তোলার একটি সম্ভাবনাময় পদক্ষেপ।”
গবেষক দলের অন্যতম সদস্য অধ্যাপক ড. এ এম এম গোলাম আদম বলেন, “বাংলাদেশ কৃষিপ্রধান দেশ। উদ্ভিদের ফলনের জন্য নাইট্রোজেন অত্যন্ত প্রয়োজনীয় একটি ম্যাক্রোনিউট্রিয়েন্ট। আমাদের দেশে স্থান, মাটির প্রকৃতি ও ফসলভেদে নাইট্রোজেনের সুপারিশকৃত পরিমাণ নির্ধারণ করা আছে। কিন্তু তা প্রতিবছর হালনাগাদ হয় না। আমাদের এই প্রযুক্তির মাধ্যমে প্রতিবছর সম্ভাব্য ডিনাইট্রিফিকেশন হার নির্ণয়ের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় নাইট্রোজেনের পরিমাণ নির্ধারণ করতে পারব।”
তিনি বলেন, “এর ফলে কৃষকদের সারের জন্য অতিরিক্ত ব্যয় লাঘব করে তাদের মুনাফা বৃদ্ধি করা সম্ভব হবে। একইভাবে দেশে সারের ঘাটতি কমানো, পরিবেশদূষণ রোধ এবং জাতীয়ভাবে কৃষি খাতকে অনেকাংশে সমৃদ্ধ করা সম্ভব হবে।”
নিজেদের উদ্ভাবন প্রান্তিক পর্যায়ের কৃষকদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার প্রত্যাশা জানিয়ে অধ্যাপক গোলাম আদম বলেন, “আমি সত্যিই অনেক ভালো অনুভব করব যদি আমরা আমাদের এই উদ্ভাবনকে প্রান্তিক পর্যায়ে কৃষকদের কাছে পৌঁছে দিতে পারি। আর এটি তখনই সম্ভব হবে, যখন আমরা সরকারি সহায়তার মাধ্যমে বড় পরিসরে আমাদের উদ্ভাবনকে বাস্তবে সকল কৃষকের জন্য উন্মুক্ত করতে পারব। কৃষকরা আমাদের সবার জন্য সারা বছর কাজ করেন, আহারের ব্যবস্থা করেন। তাঁদের জন্য কিছু করতে পারা সত্যিই আমাদের জন্য একটি অনন্য অর্জন।”
প্রকল্পটির কম্পিউটার সায়েন্স ও প্রযুক্তিগত অংশের সঙ্গে যুক্ত অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন বলেন, “স্যাটেলাইটভিত্তিক তথ্য ও ডেটা বিশ্লেষণকে কাজে লাগিয়ে কৃষিজমির অবস্থাভেদে নাইট্রোজেনের প্রয়োজনীয়তা নির্ধারণ করা সম্ভব। এর ফলে একই পরিমাণ সার সব জমিতে প্রয়োগের পরিবর্তে জমির প্রকৃত প্রয়োজন অনুযায়ী সার ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হবে। এতে একদিকে কৃষকের খরচ কমবে, অন্যদিকে অতিরিক্ত সার ব্যবহারের কারণে পরিবেশের ওপর যে চাপ তৈরি হয়, সেটিও কমানো সম্ভব হবে।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা এই গবেষণার জন্য তথ্য মন্ত্রণালয় থেকেও অ্যাওয়ার্ড পেয়েছি। উদ্ভাবনটি বর্তমানে নভোথিয়েটারে আয়োজিত বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ারে উপস্থাপন করা হয়েছে।”
গবেষক দলের অন্যতম প্রধান সদস্য অধ্যাপক ড. মো. আতাউল গনি বলেন, “আমাদের এই উদ্ভাবনটি নিয়ে কাজ করার মূল অনুপ্রেরণা হলো বাংলাদেশের কৃষিতে নাইট্রোজেন সার ব্যবহারে দক্ষতা বাড়ানো এবং অপ্রয়োজনীয় নাইট্রোজেন ক্ষয় কমানো। বিশেষ করে দেশের প্লাবন ও জলাবদ্ধতাপ্রবণ কৃষিজমিতে মাটি ও পানির অবস্থা সময়ের সঙ্গে দ্রুত পরিবর্তিত হয়। ফলে একই জমিতে সবসময় একই মাত্রায় সার প্রয়োগ কার্যকর নাও হতে পারে।”
তিনি বলেন, “N-FertiSmart-এর মাধ্যমে আমরা স্যাটেলাইট তথ্য ও ডিনাইট্রিফিকেশনভিত্তিক নাইট্রোজেন ক্ষয়ঝুঁকি বিশ্লেষণকে বিদ্যমান FRG-2024 সার সুপারিশের সঙ্গে সমন্বয় করে কৃষকের জন্য আরও স্থান ও সময়ভিত্তিক নাইট্রোজেন ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে চাই।”
অধ্যাপক আতাউল গনি আরও বলেন, “আমাদের লক্ষ্য হলো সঠিক পরিমাণে, সঠিক সময়ে এবং সঠিক পদ্ধতিতে নাইট্রোজেন সার প্রয়োগের মাধ্যমে ফসলের উৎপাদনশীলতা বজায় রেখে সার অপচয়, অর্থনৈতিক ক্ষতি এবং পরিবেশগত দূষণ কমানো।”
নিজের অনুভূতি জানিয়ে তিনি বলেন, “একজন গবেষক হিসেবে আমার কাছে সবচেয়ে আনন্দের বিষয় হলো, গবেষণাগারে তৈরি একটি বৈজ্ঞানিক ধারণাকে বাস্তব কৃষি সমস্যার সমাধানে এবং ভবিষ্যতে কৃষকের ব্যবহারযোগ্য প্রযুক্তিতে রূপ দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। আমি আশা করি N-FertiSmart বাংলাদেশের টেকসই ও জলবায়ু-সহনশীল কৃষি ব্যবস্থাপনায় একটি কার্যকর অবদান রাখতে পারবে।”
এখন কবে নাগাদ প্রযুক্তিটির মাঠ পর্যায়ে ব্যাপক বাস্তবায়ন নিশ্চিত করে কৃষিতে নাইট্রোজেন ব্যবহারের প্রচলিত ধারণায় পরিবর্তন আনার পাশাপাশি কৃষকের উৎপাদন ব্যয় কমানো, সারের অপচয় রোধ এবং পরিবেশগত ক্ষতি নিয়ন্ত্রণের এই নতুন সম্ভাবনাকে কাজে লাগানো হবে সেদিকেই তাকিয়ে আছেন সংশ্লিষ্টরা।
এর ফলে একই পরিমাণ সার সব জমিতে প্রয়োগের পরিবর্তে জমির প্রকৃত প্রয়োজন অনুযায়ী সার ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হবে। এতে একদিকে কৃষকের খরচ কমবে, অন্যদিকে অতিরিক্ত সার ব্যবহারের কারণে পরিবেশের ওপর যে চাপ তৈরি হয়, সেটিও কমানো সম্ভব হবে।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা এই গবেষণার জন্য তথ্য মন্ত্রণালয় থেকেও অ্যাওয়ার্ড পেয়েছি। উদ্ভাবনটি বর্তমানে নভোথিয়েটারে আয়োজিত বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ারে উপস্থাপন করা হয়েছে।”
গবেষক দলের অন্যতম প্রধান সদস্য অধ্যাপক ড. মো. আতাউল গনি বলেন, “আমাদের এই উদ্ভাবনটি নিয়ে কাজ করার মূল অনুপ্রেরণা হলো বাংলাদেশের কৃষিতে নাইট্রোজেন সার ব্যবহারে দক্ষতা বাড়ানো এবং অপ্রয়োজনীয় নাইট্রোজেন ক্ষয় কমানো। বিশেষ করে দেশের প্লাবন ও জলাবদ্ধতাপ্রবণ কৃষিজমিতে মাটি ও পানির অবস্থা সময়ের সঙ্গে দ্রুত পরিবর্তিত হয়। ফলে একই জমিতে সবসময় একই মাত্রায় সার প্রয়োগ কার্যকর নাও হতে পারে।”
তিনি বলেন, “N-FertiSmart-এর মাধ্যমে আমরা স্যাটেলাইট তথ্য ও ডিনাইট্রিফিকেশনভিত্তিক নাইট্রোজেন ক্ষয়ঝুঁকি বিশ্লেষণকে বিদ্যমান FRG-2024 সার সুপারিশের সঙ্গে সমন্বয় করে কৃষকের জন্য আরও স্থান ও সময়ভিত্তিক নাইট্রোজেন ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে চাই।”
অধ্যাপক আতাউল গনি আরও বলেন, “আমাদের লক্ষ্য হলো সঠিক পরিমাণে, সঠিক সময়ে এবং সঠিক পদ্ধতিতে নাইট্রোজেন সার প্রয়োগের মাধ্যমে ফসলের উৎপাদনশীলতা বজায় রেখে সার অপচয়, অর্থনৈতিক ক্ষতি এবং পরিবেশগত দূষণ কমানো।”
নিজের অনুভূতি জানিয়ে তিনি বলেন, “একজন গবেষক হিসেবে আমার কাছে সবচেয়ে আনন্দের বিষয় হলো, গবেষণাগারে তৈরি একটি বৈজ্ঞানিক ধারণাকে বাস্তব কৃষি সমস্যার সমাধানে এবং ভবিষ্যতে কৃষকের ব্যবহারযোগ্য প্রযুক্তিতে রূপ দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। আমি আশা করি N-FertiSmart বাংলাদেশের টেকসই ও জলবায়ু-সহনশীল কৃষি ব্যবস্থাপনায় একটি কার্যকর অবদান রাখতে পারবে। এর ফলে একই পরিমাণ সার সব জমিতে প্রয়োগের পরিবর্তে জমির প্রকৃত প্রয়োজন অনুযায়ী সার ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হবে। এতে একদিকে কৃষকের খরচ কমবে, অন্যদিকে অতিরিক্ত সার ব্যবহারের কারণে পরিবেশের ওপর যে চাপ তৈরি হয়, সেটিও কমানো সম্ভব হবে।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা এই গবেষণার জন্য তথ্য মন্ত্রণালয় থেকেও অ্যাওয়ার্ড পেয়েছি। উদ্ভাবনটি বর্তমানে নভোথিয়েটারে আয়োজিত বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ারে উপস্থাপন করা হয়েছে।”
গবেষক দলের অন্যতম প্রধান সদস্য অধ্যাপক ড. মো. আতাউল গনি বলেন, “আমাদের এই উদ্ভাবনটি নিয়ে কাজ করার মূল অনুপ্রেরণা হলো বাংলাদেশের কৃষিতে নাইট্রোজেন সার ব্যবহারে দক্ষতা বাড়ানো এবং অপ্রয়োজনীয় নাইট্রোজেন ক্ষয় কমানো। বিশেষ করে দেশের প্লাবন ও জলাবদ্ধতাপ্রবণ কৃষিজমিতে মাটি ও পানির অবস্থা সময়ের সঙ্গে দ্রুত পরিবর্তিত হয়। ফলে একই জমিতে সবসময় একই মাত্রায় সার প্রয়োগ কার্যকর নাও হতে পারে।”
তিনি বলেন, “N-FertiSmart-এর মাধ্যমে আমরা স্যাটেলাইট তথ্য ও ডিনাইট্রিফিকেশনভিত্তিক নাইট্রোজেন ক্ষয়ঝুঁকি বিশ্লেষণকে বিদ্যমান FRG-2024 সার সুপারিশের সঙ্গে সমন্বয় করে কৃষকের জন্য আরও স্থান ও সময়ভিত্তিক নাইট্রোজেন ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে চাই।”
অধ্যাপক আতাউল গনি আরও বলেন, “আমাদের লক্ষ্য হলো সঠিক পরিমাণে, সঠিক সময়ে এবং সঠিক পদ্ধতিতে নাইট্রোজেন সার প্রয়োগের মাধ্যমে ফসলের উৎপাদনশীলতা বজায় রেখে সার অপচয়, অর্থনৈতিক ক্ষতি এবং পরিবেশগত দূষণ কমানো।”
নিজের অনুভূতি জানিয়ে তিনি বলেন, “একজন গবেষক হিসেবে আমার কাছে সবচেয়ে আনন্দের বিষয় হলো, গবেষণাগারে তৈরি একটি বৈজ্ঞানিক ধারণাকে বাস্তব কৃষি সমস্যার সমাধানে এবং ভবিষ্যতে কৃষকের ব্যবহারযোগ্য প্রযুক্তিতে রূপ দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। আমি আশা করি N-FertiSmart বাংলাদেশের টেকসই ও জলবায়ু-সহনশীল কৃষি ব্যবস্থাপনায় একটি কার্যকর অবদান রাখতে পারবে।”
এখন কবে নাগাদ প্রযুক্তিটির মাঠ পর্যায়ে ব্যাপক বাস্তবায়ন নিশ্চিত করে কৃষিতে নাইট্রোজেন ব্যবহারের প্রচলিত ধারণায় পরিবর্তন আনার পাশাপাশি কৃষকের উৎপাদন ব্যয় কমানো, সারের অপচয় রোধ এবং পরিবেশগত ক্ষতি নিয়ন্ত্রণের এই নতুন সম্ভাবনাকে কাজে লাগানো হবে সেদিকেই তাকিয়ে আছেন সংশ্লিষ্টরা।
ছবি: নোবিপ্রবি ভলিবল কোর্ট
উদ্বোধনের প্রায় ছয় মাস পেরিয়ে গেলেও নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) প্রায় ১ কোটি ৭০ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত নতুন ক্রীড়া অবকাঠামোর বেশিরভাগই নিয়মিত ব্যবহারের বাইরে রয়েছে। দীর্ঘদিন খেলাধুলার আয়োজন ও যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ না থাকায় নতুন নির্মিত কোর্টগুলো নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থী ও খেলোয়াড়রা।
সরেজমিনে দেখা যায়, বাস্কেটবল ও লন টেনিস কোর্ট থাকলেও সেগুলোতে নিয়মিত খেলাধুলার চিত্র নেই। অন্যদিকে, ভলিবল কোর্টের আশপাশে ব্যাপকভাবে আগাছা ও ঘাস জন্মেছে। কোথাও কোথাও ঘাস বুকসমান হয়ে যাওয়ায় কোর্টের স্বাভাবিক পরিবেশও নষ্ট হয়েছে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বিপুল সরকারি অর্থ ব্যয়ে অবকাঠামো নির্মাণ করা হলেও সেগুলো সচল রাখা ও নিয়মিত ব্যবহারের জন্য কার্যকর কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না।
তাদের দাবি, নিয়মিত অনুশীলন, প্রশিক্ষণ ও প্রতিযোগিতার ব্যবস্থা না করা হলে কোর্ট ও সংশ্লিষ্ট সরঞ্জাম দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এতে ভবিষ্যতে সংস্কারের জন্য আবারও অর্থ ব্যয়ের প্রয়োজন হতে পারে, যা সরকারি অর্থের অপচয় ডেকে আনবে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, শিক্ষার্থীদের জন্য নির্মিত ভলিবল ও বাস্কেটবল কোর্ট তৈরিতে ব্যয় হয়েছে ৫৩ লাখ ৬৩ হাজার ৮২১ টাকা। আর শিক্ষক-কর্মকর্তাদের জন্য নির্মিত লন টেনিস কোর্টে ব্যয় হয়েছে ১ কোটি ১৩ লাখ ৮২ হাজার ৭০৪ টাকা। দুই প্রকল্প মিলিয়ে ক্রীড়া অবকাঠামো নির্মাণে মোট ব্যয় হয়েছে ১ কোটি ৬৭ লাখ ৪৬ হাজার ৫২৫ টাকা।
সূত্র জানায়, গত ১৫ ফেব্রুয়ারি শিক্ষক-কর্মকর্তাদের জন্য নির্মিত লন টেনিস কোর্ট এবং ১৬ ফেব্রুয়ারি শিক্ষার্থীদের জন্য নির্মিত বাস্কেটবল ও ভলিবল কোর্টের উদ্বোধন করেন তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইসমাইল। তবে উদ্বোধনের পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও এসব কোর্টে বিশ্ববিদ্যালয়ের শরীরচর্চা বিভাগের উদ্যোগে নিয়মিত কোনো প্রতিযোগিতা বা টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হয়নি।
কোর্টগুলোর বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে নোবিপ্রবির বাস্কেটবল খেলোয়াড় আলভি হাসান বলেন, ক্রীড়া অবকাঠামো নির্মাণ অবশ্যই ইতিবাচক উদ্যোগ। কিন্তু শুধু কোর্ট নির্মাণ করলেই দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। বাস্কেটবল কোর্ট নির্মাণের প্রায় এক বছর হতে চললেও সেখানে নিয়মিত খেলা, প্রশিক্ষণ বা অনুশীলনের কার্যকর ব্যবস্থা নেই। কোর্ট থাকলেও বল, প্রশিক্ষক ও নিয়মিত খেলার সুযোগের সংকট রয়েছে। কোর্ট পরিচালনা ও সচল রাখার দায়িত্ব শারীরিক শিক্ষা বিভাগের, শিক্ষার্থীদের নয়।
ভলিবল কোর্ট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সারা বছর অনুশীলনের সুযোগ না দিয়ে কোনো টুর্নামেন্টের মাত্র দুই-তিন সপ্তাহ আগে অনুশীলন শুরু করলে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া সম্ভব নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ে খেলোয়াড়ের সংকট নেই; প্রয়োজন নিয়মিত প্রশিক্ষণ, কোচিং, প্রতিযোগিতা এবং সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা।
নোবিপ্রবি স্পোর্টস ক্লাবের সভাপতি জাহেদুল হক বলেন, বাস্কেটবল কোর্টটি দীর্ঘদিন ধরে কার্যত অচল অবস্থায় রয়েছে। শিক্ষার্থীদের খেলার আগ্রহ থাকলেও শরীরচর্চা বিভাগ থেকে নিয়মিত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়নি। শিক্ষক-কর্মকর্তাদের জন্য নির্মিত লন টেনিস কোর্টটিও পর্যাপ্ত ব্যবহার হচ্ছে না। এটি শিক্ষার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করা হলে তারা খেলার সুযোগ পেত এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্রীড়া চর্চার পরিধি বাড়ত। এভাবে পড়ে থাকলে বিপুল অর্থ ব্যয়ে নির্মিত কোর্টগুলো অযত্নে দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ক্রীড়া কার্যক্রম ও তদারকির বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শরীরচর্চা বিভাগের ডেপুটি ডিরেক্টর সঞ্জীব কুমার দে বলেন, বাস্কেটবল কোর্ট প্রস্তুত রয়েছে। টুর্নামেন্ট আয়োজন ও প্রশিক্ষণের জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। অনুমোদন পাওয়া গেলে টুর্নামেন্ট ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু করা হবে। শিক্ষার্থীদের প্রয়োজন হলে কোচের ব্যবস্থাও করা সম্ভব।
ভলিবল কোর্ট সম্পর্কে তিনি বলেন, নির্ধারিত জায়গার বাইরে খেলোয়াড়দের নিরাপত্তার জন্য অতিরিক্ত কিছু জায়গায় বালু ভরাটের কাজ শেষ হলে সেখানে খেলা শুরু করা যাবে। লন টেনিস কোর্টটি মূলত শিক্ষক-কর্মকর্তাদের জন্য নির্মাণ করা হয়েছে। তবে কর্তৃপক্ষের অনুমোদন সাপেক্ষে বিশেষ প্রয়োজনে শিক্ষার্থীরাও সেখানে অনুশীলনের সুযোগ পেতে পারে। তাঁর দাবি, জাতীয় মান বজায় রেখে কোর্টগুলো নির্মাণ করা হয়েছে এবং দ্রুত নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা নেই। পাশাপাশি বাস্কেটবল টুর্নামেন্টসহ বিভিন্ন ক্রীড়া আয়োজনের পরিকল্পনাও রয়েছে।
শরীরচর্চা দপ্তরের পরিচালক জামাল উদ্দীন বলেন, ভলিবল কোর্ট দুটির বর্তমান অবস্থা সরেজমিনে পরিদর্শনের পরিকল্পনা রয়েছে। শুধু কোর্ট নির্মাণ করলেই হয় না, খেলোয়াড়দের চলাচলের জন্য পর্যাপ্ত জায়গা এবং উপযুক্ত মাটির ব্যবস্থাও প্রয়োজন। এ কারণে কিছুটা সময় লাগছে। ভলিবল কোর্টের আশপাশের জায়গা প্রস্তুত করতে ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকার মধ্যে ব্যয় করা যায় কি না, সেটিও বিবেচনা করা হচ্ছে। অপ্রয়োজনে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে চায় না কর্তৃপক্ষ।
লন টেনিস কোর্টের ব্যবহার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কোর্টটি শিক্ষক-কর্মকর্তাদের জন্য নির্মাণ করা হলেও সেখানে যদি কেউ খেলতে না আসে, তাহলে শুধু নষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় বিষয়টি সমাধান করা যাবে না। অল্পসংখ্যক মানুষের ব্যবহারের জন্য এত অর্থ ব্যয় করা কতটা যৌক্তিক ছিল, সেটি প্রকল্প গ্রহণের সময়ই বিবেচনা করা প্রয়োজন ছিল। এখন অর্থ ব্যয় হয়ে গেছে, তবে শিক্ষার্থীদের অর্থে বাস্তবায়িত এসব কাজের জবাবদিহি থাকা প্রয়োজন।
সার্বিক বিষয়ে নোবিপ্রবির উপাচার্য ড. গোলাম রব্বানী বলেন, শিক্ষার্থীদের ভলিবল ও বাস্কেটবল খেলার সুযোগ বাড়াতে মাঠ সংস্কার করে ব্যবহার উপযোগী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বর্ষাকালে বৃষ্টির কারণে মাঠ পিচ্ছিল হয়ে যাওয়ায় খেলাধুলায় সমস্যা হয়। বৃষ্টি কমে গেলে মাঠ সংস্কারের কাজ করে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত খেলার সুযোগ তৈরি করা হবে।
শিক্ষকদের জন্য নির্মিত লন টেনিস কোর্ট সম্পর্কে উপাচার্য বলেন, শিক্ষক ও খেলোয়াড়ের সংখ্যা কম থাকায় বর্তমানে সেখানে নিয়মিত খেলা হচ্ছে না। তবে শিক্ষক ও আগ্রহী ব্যক্তিদের অংশগ্রহণ বাড়িয়ে খেলাটি নিয়মিত করার চেষ্টা করা হবে। উদ্বোধনের দিন শিক্ষক ও বাইরের অতিথিদের অংশগ্রহণে একটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছিল এবং তিনি নিজেও ওই ম্যাচে অংশ নিয়েছিলেন।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) নবীনবরণকে কেন্দ্র করে ছাত্রদলের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাব দিতে দলীয় কার্যালয়ে গেছেন জবি ছাত্রদলের ১ নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক সুমন সরদার।
জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ে নবীনবরণ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় সংগঠনের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট নেতাকর্মীদের কাছে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। নোটিশের পরিপ্রেক্ষিতে জবি ছাত্রদলের ১ নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক সুমন সরদার কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের নেতাদের কাছে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে দলীয় কার্যালয়ে যান।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সংঘর্ষের ঘটনায় সংগঠনের শৃঙ্খলা ও সাংগঠনিক দায়িত্বের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সংশ্লিষ্ট নেতাদের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে সুমন সরদারও নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় নোটিশের জবাব দিতে কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
এ বিষয়ে ছাত্রদল জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক সুমন সরদার বলেন, “সংগঠন ও দলের প্রতি আমার আনুগত্য, ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা থেকেই সাম্প্রতিক ঘটনার প্রেক্ষাপটে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছি। ঘটনার সঙ্গে আমি কোনোভাবেই জড়িত নই। দলের আদর্শ, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ও সিনিয়র নেতাদের প্রতি সর্বোচ্চ সম্মান রেখেই নোটিশের জবাব দিয়েছি। ভবিষ্যতে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা যেন পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সে বিষয়ে আমি সতর্ক ও দায়বদ্ধ থাকব।”
উল্লেখ্য, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে নবীনবরণকে কেন্দ্র করে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় ক্যাম্পাসে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। ঘটনার পর সংগঠনের পক্ষ থেকে বিষয়টি সাংগঠনিকভাবে পর্যালোচনা করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
জবি উপাচার্যের ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) মুহাম্মদ রাশেদ কাজী
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) উপাচার্যের ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) মুহাম্মদ রাশেদ কাজীর বিরুদ্ধে সাংবাদিক, শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক ও অসহযোগিতামূলক আচরণের অভিযোগ উঠেছে। উপাচার্যের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও প্রশাসনিক কাজে যোগাযোগের ক্ষেত্রে তাঁর কাছ থেকে সহযোগিতা না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, উপাচার্যের সঙ্গে সাক্ষাৎ, বক্তব্য নেওয়া কিংবা কোনো প্রশাসনিক বিষয়ে যোগাযোগের জন্য অনেক সময় পিএসের মাধ্যমে সময় নিতে হয়। এতে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে দ্রুত সাক্ষাৎ বা বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয় না। কয়েকজনের অভিযোগ, সময় চাইলে কয়েক দিন পরের সিডিউল দেওয়া হলেও দলীয় পরিচয়ে পরিচিত কিছু শিক্ষার্থী অপেক্ষা ছাড়াই উপাচার্যের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ পান।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক জবি ক্যাম্পাস সাংবাদিক বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ কোনো বিষয়ে দ্রুত উপাচার্যের বক্তব্য প্রয়োজন হলেও অনেক সময় পিএসের মাধ্যমে সময় নিতে গিয়ে বিলম্ব হয়। এতে সময়মতো সংবাদ প্রকাশ করা কঠিন হয়ে পড়ে।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক সাংবাদিকের অভিযোগ করেন, উপাচার্যের বক্তব্য বা সাক্ষাৎকারের জন্য সিডিউল চাইলে অনেক সময় পাঁচ থেকে সাত দিন পরের সময় দেওয়া হয়। এমনকি নির্ধারিত সময়ের জন্য অপেক্ষা করেও সাক্ষাৎ না পাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে বলে দাবি করেন তিনি।
শুধু সাংবাদিক নয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতিনিধিরাও একই ধরনের অভিযোগ করেছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একটি সামাজিক সংগঠনের এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘আমাদের একটি উন্নয়নমূলক কর্মসূচির বিষয়ে উপাচার্যের সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছিলাম। সময় চাইলে কয়েক দিন পরের সিডিউল দেওয়া হয়। অথচ আমাদের পরে এসেও কয়েকজন ছাত্রনেতা উপাচার্যের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ পেয়েছেন।
আরও অভিযোগ রয়েছে, মাদারীপুর -৩ আসনের সংসদ সদস্য আনিছুর রহমান তালুকদার খোকনকে বন্ধু পরিচয় দেন সবার কাছে।
উপাচার্যের সঙ্গে সাক্ষাতের সময়সূচি নিতে গিয়ে জকসু প্রতিনিধিরাও অসহযোগিতা ও রূঢ় আচরণের মুখে পড়ছেন বলে অভিযোগ করেছেন জকসুর হল সংসদের সম্পাদক ফাতেমা তুজ জোহরা।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘ভিসির সাক্ষাতের সময়সূচি নিতে গিয়ে জকসু প্রতিনিধিদের অসহযোগিতা ও রূঢ় আচরণের মুখে পড়তে হচ্ছে। অথচ দলীয় পরিচয়ে পরিচিত কেউ গেলে অপেক্ষা ছাড়াই সাক্ষাতের সুযোগ পান এমন অভিজ্ঞতা আমাদের হয়েছে।’
তিনি আরো বলেন, এর আগেও পিএসের আচরণ নিয়ে অভিযোগ জানানো হয়েছিল দাবি করে তিনি বলেন, প্রশাসনের কাছে সবার সঙ্গে সমান ও পেশাদার আচরণ নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে।
ফাতেমা তুজ জোহারার ওই পোস্টের মন্তব্যে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ জিহাদ অভিযোগ করেন, বিভাগের শ্রেণিকক্ষ সংকট ও সংস্কারসংক্রান্ত বিষয়ে উপাচার্যের সঙ্গে দেখা করতে চাইলেও পিএসের কাছ থেকে সহযোগিতা পাননি।
তিনি আরো দাবি করেন, বিভাগের চেয়ারম্যানকে সঙ্গে নিয়ে আসার কথা বলার পর সিডিউলের জন্য আবেদন রাখা হলেও পরবর্তী সময়ে আর কোনো যোগাযোগ করা হয়নি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, উপাচার্যের কার্যালয়ে প্রবেশ ও সাক্ষাতের ক্ষেত্রে অপ্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা তৈরি হলে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও প্রশাসনের মধ্যে স্বাভাবিক যোগাযোগ ব্যাহত হতে পারে। তাঁদের মতে, একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রশাসনের সঙ্গে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের যোগাযোগ সহজ, স্বাভাবিক ও পেশাদার হওয়া প্রয়োজন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে উপাচার্যের পিএস মুহাম্মদ রাশেদ কাজী বলেন, 'এ বিষয়ে আমি কোনো কথা বলতে চাই না। অভিযোগর বিষয়ে আমি একটি কথাও বলতে চাই না।'
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি কোনো অভিযোগ পাইনি। আপনার কাছ থেকেই মাত্র শুনলাম। এখন বিষয়টি আমার নলেজে এসেছে। আমি বিষয়টি দেখব।’
ছবি : সংগৃহীত
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সংগ্রহশালায় ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের খ্যাতিমান কবি-সাহিত্যিকের একাংশ’ শিরোনামে ছয় কবি-সাহিত্যিকের নামের সঙ্গে যে ছবি ব্যবহার করা হয়েছে, তার অধিকাংশই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ছবি নয়—এমন অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে সমালোচনার পর গতকাল বৃহস্পতিবার ছবিগুলো সরিয়ে নতুন ছবি সংযুক্ত করা হয়েছে।
এর আগে সংগ্রহশালার একটি ফ্রেমে পল্লিকবি জসীমউদ্দীন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সাবেক শিক্ষক শহীদ মুনীর চৌধুরী, বাংলা একাডেমির সাবেক সভাপতি আবুল কাসেম ফজলুল হক, কবি আসাদ চৌধুরী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য আবুল ফজল ও ভাষাবিদ মুহম্মদ এনামুল হকের নামের সঙ্গে ছবি ব্যবহার করা হয়েছিল।
এই ছয়জনের মধ্যে জসীমউদ্দীন, মুনীর চৌধুরী, আবুল কাসেম ফজলুল হক ও আসাদ চৌধুরীর নামে ব্যবহৃত ছবিগুলো তাঁদের নয় বলে জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক তারিক মনজুর। আবুল ফজলের নামের সঙ্গে ব্যবহৃত ছবিটিও তাঁর নয় বলে মনে করেন তিনি। শুধু মুহম্মদ এনামুল হকের ছবিটির সঙ্গে তাঁর চেহারার কিছুটা মিল পাওয়া গেছে।
অধ্যাপক তারিক মনজুর বলেন, ‘জসীমউদ্দীন, মুনীর চৌধুরী, আবুল কাসেম ফজলুল হক ও আসাদ চৌধুরীর নামের ওপরে যেসব ছবি আছে, সেগুলো মোটেও এসব ব্যক্তির নয়। আবুল ফজলের ছবিটিও তাঁর হওয়ার কথা নয়। শ্মশ্রুমণ্ডিত ভিন্ন আবুল ফজলই আমাদের কাছে পরিচিত। একমাত্র মুহম্মদ এনামুল হকের ছবিটি খানিকটা তাঁর চেহারার সঙ্গে যায়।’
ছবিগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে বলে মনে হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন অধ্যাপক তারিক মনজুর। একই সঙ্গে ছয় সাহিত্যিকের তালিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
তারিক মনজুর বলেন, ‘খ্যাতিমান কবি-সাহিত্যিকদের একাংশ’ শিরোনামে যে তালিকা করা হয়েছে, সেটি অসম্পূর্ণ। খ্যাতিমান কবি-সাহিত্যিকদের তালিকা এত বড় যে বাস্তবে সবাইকে এক দেয়ালে জায়গা দেওয়া সম্ভব নয়। তাই নির্দিষ্ট কয়েকজনের ছবি টাঙানো সমীচীন হয়নি।
তবে ডাকসুর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ছবিগুলো ইন্টারনেট থেকে সংগ্রহ করা হয়েছিল। নকশার সময় ছবির মান বাড়াতে গিয়ে কয়েকটি ছবির চেহারা বদলে যায়। ডাকসুর মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন–বিষয়ক সম্পাদক ফাতিমা তাসনিম ঝুমা বলেন, ডিজাইনারকে ছবি দেওয়ার পর মান বাড়ানোর সময় দু-তিনটি ছবির চেহারা এক রকম হয়ে যায়।
এআই দিয়ে ছবি তৈরি করা হয়েছিল কি না, তা জানতে চাইলে ফাতিমা তাসনিম বলেন, ‘এআই দিয়ে বানানো নয়। সবার ছবি ইন্টারনেট থেকে নেওয়া। সে ক্ষেত্রে ছবিগুলোর কোয়ালিটি এনহ্যান্স করতে গিয়ে হয়েছে।’
ফাতিমা তাসনিম আরও বলেন, অনেকগুলো ছবি একসঙ্গে থাকায় বিষয়টি প্রথমে তাঁদের নজরে আসেনি। পরে তিনি বিষয়টি দেখে ডিজাইনারকে জানান। এরপর নতুন ছবি পাঠানো হলে গতকাল তা প্রিন্ট করে সংগ্রহশালায় আগের ছবি পরিবর্তন করে এই ছবি লাগানো হয়েছে।
সংগ্রহশালাটি সংস্কারের পর ১৩ সেপ্টেম্বর আবার চালু করা হয়। সংস্কারের পর সেখানে বাংলাদেশের ইতিহাসের বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামের ছবি ও নিদর্শনের বিন্যাসে পরিবর্তন আনা হয়েছে। এর মধ্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আগের কয়েকটি ছবি বাদ পড়েছে। যুক্ত হয়েছে মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর তিনটি ছবি। একটি ছবির সঙ্গে ১৯৪৮ সালের ২১ মার্চ ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে তাঁর দেওয়া বক্তব্যের তথ্যও রাখা হয়েছে। এ ছাড়া ছাত্রসংঘের সাবেক নেতা আব্দুল মালেকের ছবিও রাখা হয়েছে।
পরে ১৪ সেপ্টেম্বর সংগ্রহশালায় সাঁটানো মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর তিনটি ছবি ছিঁড়ে ফেলে প্রতিবাদ জানান একজন শিক্ষার্থী।
এদিকে জিন্নাহর ছবি প্রদর্শন করার প্রতিবাদে জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির, মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আমৃত্যু দণ্ডপ্রাপ্ত (পরে প্রয়াত) গোলাম আযমকে জুতাপেটা করার ছবি সংগ্রহশালায় টাঙিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ফেডারেশনের নেতা-কর্মীরা।
ডাকসু সংগ্রহশালায় মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ও ছাত্রসংঘের নেতা আব্দুল মালেকের ছবি টাঙানোর ঘটনাটি তদন্তে ১৪ সেপ্টেম্বরই পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ–উপাচার্য (প্রশাসন) মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানীকে আহ্বায়ক করে গঠিত এই কমিটি বিষয়টি তদন্ত করছে।
ছবি : সংগৃহীত
২০২৬–২৭ শিক্ষাবর্ষে সাধারণ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি (জিএসটি) গুচ্ছভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভর্তি পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে। এবার গুচ্ছভুক্ত ২০টি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। তবে নতুন করে আরও দুই থেকে তিনটি বিশ্ববিদ্যালয় গুচ্ছে যুক্ত হতে পারে।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) জিএসটি গুচ্ছের এক সভায় ভর্তি পরীক্ষার এই তারিখ নির্ধারণ করা হয়। সভা শেষে এবারের ভর্তি পরীক্ষার মূল কমিটির কো-কনভেনর ও নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
ঘোষিত সূচি অনুযায়ী, ‘বি’ ইউনিটের (মানবিক) ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে ২০২৭ সালের ১৯ মার্চ, ‘সি’ (বাণিজ্য) ও ‘ডি’ (আর্কিটেকচার) ইউনিটের পরীক্ষা ২০ মার্চ এবং ‘এ’ (বিজ্ঞান) ইউনিটের পরীক্ষা হবে ২৭ মার্চ।
ভর্তি আবেদনের সময়সূচি ও আবেদনসংক্রান্ত অন্যান্য তথ্য পরবর্তী সময়ে বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হবে।
নোবিপ্রবি মূল ফটক
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগে ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে মাস্টার্স প্রোগ্রামে ভর্তির বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। এ প্রোগ্রামে মাস্টার অব সায়েন্স ইন ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (M.Sc. Engg. (EEE)) এবং মাস্টার অব ইঞ্জিনিয়ারিং ইন ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (M. Engg. (EEE))—দুই ধরনের ডিগ্রি নেওয়ার সুযোগ থাকছে। আবেদনের শেষ সময় ২২ অক্টোবর ২০২৬।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) ইইই বিভাগের পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
আবেদনের সময় ও ফি
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, আবেদন কার্যক্রম শুরু হবে ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে এবং চলবে ২২ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত। আবেদন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার ৫০০ টাকা। প্রার্থীদের অগ্রণী ব্যাংক পিএলসি, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় শাখায় নির্ধারিত ব্যাংক হিসাবে আবেদন ফি জমা দিতে হবে। অনলাইনে ফি পরিশোধের পর মূল রসিদ আবেদনপত্রের সঙ্গে সংযুক্ত করতে হবে।
ভর্তির যোগ্যতা
ইইই বিভাগে মাস্টার্সে ভর্তির জন্য প্রার্থীকে স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় বা প্রতিষ্ঠান থেকে ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (EEE) বিষয়ে চার বছর মেয়াদি স্নাতক ডিগ্রি বা সমমানের ডিগ্রি অর্জন করতে হবে।
এ ছাড়া মাধ্যমিক/সমমান পরীক্ষায় প্রথম বিভাগ অথবা জিপিএ ৪.০০ (৫.০০-এর মধ্যে) এবং উচ্চমাধ্যমিক/সমমান পরীক্ষায় প্রথম বিভাগ অথবা জিপিএ ৪.০০ (৫.০০-এর মধ্যে) থাকতে হবে।
M.Sc. Engg. (EEE) প্রোগ্রামের জন্য বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং (EEE) বা সমমানের ডিগ্রিতে প্রথম শ্রেণি অথবা সিজিপিএ ৩.২৫ (৪.০০-এর মধ্যে) এবং M. Engg. (EEE) প্রোগ্রামের জন্য দ্বিতীয় শ্রেণি অথবা সিজিপিএ ২.৫০ (৪.০০-এর মধ্যে) থাকতে হবে।
নোবিপ্রবি ছাড়া অন্য কোনো স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় বা প্রতিষ্ঠান থেকে ডিগ্রিধারী প্রার্থীদের বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং বা সমমানের ডিগ্রিতে ন্যূনতম জিপিএ ৩.০০ থাকতে হবে।
ভর্তি পরীক্ষা ও প্রক্রিয়া
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ভর্তি কমিটির প্রয়োজন অনুযায়ী প্রার্থীদের মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নিতে হতে পারে। নোবিপ্রবি ব্যতীত অন্য বিশ্ববিদ্যালয় বা প্রতিষ্ঠান থেকে ডিগ্রিধারী প্রার্থীদের ইইই বিভাগের ভর্তি কমিটির আয়োজিত ৩০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে।
লিখিত পরীক্ষায় ইলেকট্রিক্যাল সার্কিটস, ইলেকট্রিক্যাল পাওয়ার অ্যান্ড মেশিনস এবং ইলেকট্রনিক্স—প্রতিটি বিষয়ে ১০ নম্বর করে মোট ৩০ নম্বর থাকবে। এছাড়া মৌখিক পরীক্ষা হবে ২০ নম্বরের।
দেড় বছরে সম্পন্ন হবে মাস্টার্স
ইইই বিভাগের এ মাস্টার্স প্রোগ্রামের ন্যূনতম মেয়াদ দেড় বছর বা তিনটি একাডেমিক টার্ম। উভয় ডিগ্রির জন্য মোট ৪৩ ক্রেডিট সম্পন্ন করতে হবে।
এর মধ্যে M.Sc. Engg. (EEE)-তে থিওরি ২১, থিসিস/প্রজেক্ট ১৮ এবং সেমিনার/ভাইভা-ভোস ৪ ক্রেডিট। অন্যদিকে M. Engg. (EEE)-তে থিওরি ৩০, থিসিস/প্রজেক্ট ৯ এবং সেমিনার/ভাইভা-ভোস ৪ ক্রেডিট নির্ধারণ করা হয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ সময়সূচি
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, লিখিত ভর্তি পরীক্ষা ২ নভেম্বর ২০২৬ সকাল সাড়ে ১১টায় এবং ভাইভা একই দিন দুপুর ২টায় অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচিত প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করা হবে ৩ নভেম্বর। ভর্তির শেষ তারিখ ৩০ নভেম্বর এবং ক্লাস শুরু হবে ১ ডিসেম্বর ২০২৬।
যেসব কাগজপত্র লাগবে
আবেদনপত্রের সঙ্গে প্রার্থীকে দুই কপি সত্যায়িত পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি, সকল শিক্ষাগত যোগ্যতার সার্টিফিকেট ও গ্রেড/মার্কশিট/ট্রান্সক্রিপ্টের সত্যায়িত কপি, থিসিস/প্রজেক্ট সুপারভাইজার চয়েস ফরম এবং সর্বশেষ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সত্যায়িত প্রশংসাপত্র/চারিত্রিক সনদের কপি জমা দিতে হবে।
আবেদন ফরম ও সুপারভাইজার চয়েস ফরম ইইই বিভাগের ওয়েবসাইট থেকে সংগ্রহ করা যাবে। আবেদনপত্র ইইই বিভাগ, কক্ষ নম্বর ৫২১, প্রশাসনিক ভবন, নোবিপ্রবি-তে জমা দিতে হবে।
এ ছাড়া চাকরিরত প্রার্থীদের নির্বাচিত হলে ভর্তির আগে নিজ নিজ নিয়োগকর্তার কাছ থেকে স্টাডি লিভ বা ডেপুটেশনের প্রমাণপত্র ভর্তি কমিটির কাছে জমা দিতে হবে।