• প্রকাশ : মঙ্গলবার ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৭:২৯ পিএম

ব্রয়লার মুরগির মাংসকে আরও নিরাপদ ও পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ করতে ঔষধি উদ্ভিদ প্ল্যানটেইনভিত্তিক একটি নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) গবেষকরা। দীর্ঘ প্রায় ২০ বছরের গবেষণার ধারাবাহিকতায় প্ল্যানটেইনের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ঔষধি গুণকে কাজে লাগিয়ে তারা তৈরি করেছেন ‘বাউ-প্লান্টিভ’ নামে একটি ফাইটোজেনিক ফিড অ্যাডিটিভ।


গবেষকদের মতে, এ উদ্যোগ শুধু নিরাপদ ব্রয়লার মাংস উৎপাদনেই নয়, দেশে প্ল্যানটেইনের উৎপাদন ও ব্যবহারকে ঘিরে একটি সম্ভাব্য দেশীয় ভ্যালু চেইন গড়ে তুলতেও ভ‚মিকা রাখতে পারে। এর মাধ্যমে প্ল্যানটেইনের বীজ উৎপাদন, চাষাবাদ, প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং পরবর্তী সময়ে খামারে ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট উপকরণের আমদানিনির্ভরতা কমানোর সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে।


বাকৃবির এনিমেল নিউট্রিশন বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-মামুন গবেষণাটির প্রকল্প পরিচালক হিসেবে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। গবেষণায় সহযোগী হিসেবে রয়েছেন উদ্যানতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. তামান্না হক। পাশাপাশি স্নাতকোত্তর ও পিএইচডি পর্যায়ের শিক্ষার্থীরাও গবেষণা কার্যক্রমে অংশ নিয়েছেন।


বাংলাদেশ একাডেমি অব সায়েন্সেস (বিএএস)-ইউএসডিএ-এর অর্থায়নে পরিচালিত ‘সাসটেইনেবল কমার্শিয়ালাইজেশন অব প্ল্যানটেইন অ্যান্ড সিড ভ্যালু চেইন ডেভেলপমেন্ট ফর সেফ অ্যান্ড ফাংশনাল ব্রয়লার মিট প্রোডাকশন’ প্রকল্পের আওতায় এ গবেষণা পরিচালিত হয়েছে।


ড. মোহাম্মদ আল-মামুন বলেন, ‘আমাদের প্রধান লক্ষ্য হলো প্রাকৃতিকভাবে নিরাপদ ও পুষ্টিগুণসম্পন্ন পোল্ট্রি মাংস উৎপাদন করা। প্রচলিত ব্রয়লার উৎপাদনে ব্যবহৃত কৃত্রিম মেডিসিন, ভিটামিন ও গ্রোথ প্রমোটরের বিকল্প হিসেবে আমরা প্ল্যানটেইন নিয়ে গবেষণা করছি। আমাদের লক্ষ্য শুধ ‘বাউ-প্লান্টিভ’ বাজারে আনার পাশাপাশি প্ল্যানটেইন থেকে বীজ, বীজ থেকে ফিড, ফিড থেকে কার্যকরী মাংস এবং গবেষণা থেকে একটি টেকসই বাংলাদেশভিত্তিক বাণিজ্যিক সিড-টু-মিট ভ্যালু চেইন তৈরি করা।’


ড. আল-মামুন বলেন, ‘বাউ-প্লান্টিভ খাওয়ানো ব্রয়লারের হাড়ের গঠন শক্তিশালী হয় এবং হাড়ে ক্যালসিয়াম, ফসফরাস ও আয়রনের পরিমাণ বাড়ে। মুরগির দৈহিক তৎপরতাও বৃদ্ধি পায়। পাশাপাশি পালক ঘন ও উজ্জ্বল হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, এসব মুরগির মাংসে স্বাস্থ্যকর ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড বা আলফা-লিনোলেনিক অ্যাসিডের পরিমাণ প্রায় ৮ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়। একই সঙ্গে মাংসের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বৈশিষ্ট্য বাড়ে এবং গরমের ধকল বা হিট স্ট্রেস সহ্য করার সক্ষমতাও উন্নত হয়।’


তিনি জানান, গবেষণার প্রতিটি ট্রায়ালে প্রায় ৪৫০টি করে ব্রয়লার মুরগি নিয়ে ৩৫ দিন পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। এভাবে তিনটি পৃথক পর্যায়ে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করা হয়। ময়মনসিংহ ও মানিকগঞ্জে উন্মুক্ত মাঠের পাশাপাশি এসি ও নন-এসি গ্রিনহাউসেও প্ল্যানটেইন চাষ করা হয়েছে। এতে বাংলাদেশে বাণিজ্যিকভাবে প্ল্যানটেইন উৎপাদনের সম্ভাবনা পাওয়া গেছে।


প্ল্যানটেইন চাষের ক্ষেত্রে বীজের আমদানিনির্ভরতা ছিল অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। আমদানিকৃত প্যারেন্টাল বীজ দিয়ে প্রাথমিক পর্যায়ে প্রতি একরে মাত্র আড়াই কেজি বীজ পাওয়া যায়। পরবর্তীতে প্রথম প্রজন্মের (জি-১) বীজ উৎপাদন বেড়ে প্রায় ১৪০ কেজিতে এবং দ্বিতীয় প্রজন্মে (জি-২) প্রতি একরে প্রায় ২০০ কেজিতে পৌঁছেছে। বর্তমানে এক একর প্ল্যানটেইন থেকে উৎপাদিত বীজ দিয়ে প্রায় ৮০ একর জমিতে নতুন করে চাষ করা সম্ভব। ফলে ভবিষ্যতে আমদানিকৃত বীজের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে দেশে প্ল্যানটেইনের বীজের একটি শিল্প গড়ে তোলার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।


গবেষকেরা জানান, প্ল্যানটেইনকে প্রধান উপাদান হিসেবে ব্যবহার করে দেশীয় কয়েকটি ঔষধি উদ্ভিদের সমন্বয়ে ‘বাউ-প্লান্টিভ’ নামে ফাইটোজেনিক ফিড অ্যাডিটিভ তৈরি করা হয়েছে। ব্রয়লার ও দেশি মুরগির ওপর ধারাবাহিক পরীক্ষায় এর ইতিবাচক প্রভাব পাওয়া গেছে। প্রচলিত কৃত্রিম অ্যাডিটিভের তুলনায় বাউ-প্লান্টিভ ব্যবহারে উৎপাদন ব্যয়ও কিছুটা কমে। প্রচলিত মেডিসিন ব্যবহারে প্রতি মুরগিতে গড়ে সাড়ে ৮ টাকা খরচ হলেও বাউ-প্লান্টিভ ব্যবহারে তা প্রায় ৭ টাকায় নামিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে।


ড. আল-মামুন বলেন, ‘বাংলাদেশে প্ল্যানটেইন নিয়ে গবেষণার কাজ আমিই প্রথম শুরু করি। ২০০৪ সালে জাপানে পিএইচডি করার সময় থেকেই এই ভেষজ নিয়ে কাজ করছি। ব্রয়লার মুরগিতে প্ল্যানটেইনের ব্যবহার বাংলাদেশ এমনকি বিশ্বেও প্রথমবারের মতো আমরা করেছি। জাপানে গবেষণার সময় প্ল্যানটেইনের সম্ভাবনা নিয়ে কাজ শুরু হলেও পরে বাংলাদেশে এর চাষ, ব্যবহার ও বাণিজ্যিক সম্ভাবনা যাচাই করা হয়েছে। আমাদের তৈরি ‘বাউ-প্লান্টিভ’ এখন গবেষণাগার থেকে খামার পর্যায়ে প্রয়োগের পর্যায়ে এসেছে।’


তিনি বলেন, ‘এখন মূল চ্যালেঞ্জ বৃহৎ পরিসরে উৎপাদন ও বাজারজাতকরণ। সরকার, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, বীজ কোম্পানি, ফিড মিল, পোল্ট্রি শিল্প, এনজিও ও বাজার ব্যবস্থাপনার সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। পাশাপাশি আধুনিক প্রসেসিং, ব্লাস্ট ফ্রিজিং ও কোল্ড-চেইন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। এ উদ্যোগ সফল হলে একদিকে নিরাপদ ও পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ পোল্ট্রি মাংস উৎপাদন বাড়বে, অন্যদিকে প্ল্যানটেইন বীজ ও ফিড অ্যাডিটিভ শিল্পের বিকাশ, কৃষকের আয় বৃদ্ধি এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে।’


গবেষক জানান, প্ল্যানটেইন একটি ঔষধি উদ্ভিদ। এতে গ্লাইকোসাইড, ক্যাটালপলসহ বিভিন্ন বায়োঅ্যাক্টিভ যৌগ রয়েছে। উদ্ভিদটির শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বৈশিষ্ট্যও রয়েছে। বাংলাদেশে উৎপাদিত প্ল্যানটেইনের বায়োঅ্যাক্টিভ উপাদানের মান জাপানে উৎপাদিত প্ল্যানটেইনের কাছাকাছি বলে গবেষণায় দেখা গেছে। বাংলাদেশের আবহাওয়ায় অক্টোবর থেকে মে পর্যন্ত প্রায় আট মাস এটি চাষ করা সম্ভব।


গবেষক বলেন, ‘বাউ-প্লান্টিভ’ প্ল্যানটেইন ও দেশীয় কয়েকটি ঔষধি ভেষজের সমন্বয়ে তৈরি করা হয়েছে। প্রকল্পটির কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয় ২০২৩ সালের এপ্রিলে এবং চলতি বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর এর মেয়াদ শেষ হচ্ছে। গবেষণার বিভিন্ন ফলাফল নিয়ে ‘পোল্ট্রি সায়েন্স জার্নাল’ ও ‘ইতালিয়ান জার্নাল অব অ্যানিমেল সায়েন্স’সহ বিভিন্ন সাময়িকীতে গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। উদ্ভাবিত প্রযুক্তির পেটেন্টের জন্যও আবেদন করা হয়েছে।


গত ২৭ সেপ্টেম্বর ঢাকার ফার্মগেটে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে প্রকল্পটির সমাপনী কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ একাডেমি অব সায়েন্সের (বিএএস) সভাপতি অধ্যাপক ড. জহুরুল করিম। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিএএসের সহসভাপতি ও বিএএস-ইউএসডিএ এনডাউমেন্ট প্রোগ্রামের কারিগরি উপদেষ্টা কমিটির চেয়ারপারসন অধ্যাপক ড. জেড এন তহমিদা বেগম। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রকল্পের প্রধান গবেষক ড. মোহাম্মদ আল-মামুন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) ডা মো বয়জার রহমান। এছাড়াও অনুষ্ঠানে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের বিভিন্ন কর্মকর্তা, ফিড কোম্পানির প্রতিনিধি, গবেষক, বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।


প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. জহুরুল করিম বলেন, একটি ভালো কৃষি প্রযুক্তি বা উন্নত জাত উদ্ভাবনে দীর্ঘ সময় ও দীর্ঘ প্রক্রিয়ার প্রয়োজন হয়। বিশ^জুড়ে কৃষি উৎপাদনে ধান, গমসহ বিভিন্ন ফসলে বহুগুণ ফলন বৃদ্ধির চেষ্টা চলছে। বাংলাদেশেও উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে কৃষি উৎপাদন বাড়ানোর বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। উন্নত বিশ্বে বেসরকারি খাতের অর্থায়নেই সিংহভাগ গবেষণা পরিচালিত হয়। বাংলাদেশেও জিন এডিটিং, হাইব্রিড জাত ও গবেষণালব্ধ প্রযুক্তি সম্প্রসারণে বেসরকারি খাতকে এগিয়ে আসতে হবে। গবেষকদের উদ্ভাবিত প্রযুক্তি শুধু গবেষণাগারে সীমাবদ্ধ না রেখে মাঠপর্যায়ে পাইলটিং ও রিফাইনমেন্টের মাধ্যমে কৃষকের ব্যবহারের উপযোগী করতে হবে। নতুন প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারের জন্য নির্দিষ্ট নির্দেশিকা বা ম্যানুয়াল প্রস্তুত করতে হবে। পাশাপাশি প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর (ডিএলএস) ও সম্প্রসারণ সংস্থাগুলোর মাধ্যমে তিন ধাপে কার্যকর প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নিতে হবে।



সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৭:১৬ পিএম

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি) মিউজিক্যাল রেজিমেন্টের আগামী এক বছরের জন্য নতুন কার্যকরী কমিটি গঠন করা হয়েছে। এতে সভাপতি হয়েছেন অধ্যাপক ড. মো. শহিদুল ইসলাম এবং সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন রিভু কুমার সাহা। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সংগঠনটির নতুন এ কমিটি গঠন করা হয়।


কমিটিতে উপদেষ্টা হিসেবে রয়েছেন অধ্যাপক ড. মোছা. মিনারা খাতুন। সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সোহেল রানা সিদ্দিকী, অধ্যাপক ড. কাজী ফরহাদ কাদির, অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ, অধ্যাপক ড. মাহবুবুল প্রতীক সিদ্দিক, অধ্যাপক ড. মো. তানভীর রহমান, অধ্যাপক ড. মো. আনিছুর রহমান মজুমদার ও অধ্যাপক কাজী শেখ ফরিদ।


যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে রয়েছেন আহমেদ রিয়াদ, অদিতি চৌধুরী, নুবাহ নাশিতা ফারিহাত, সুষ্ময় হাজারি, নীলাদ্রি শেখর দাস নোবেল, তনিমা তন্বী, বিশাল সাহা উৎস, আসিফ ইকবাল ও ভাস্বতী মণ্ডল সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে রয়েছেন ফারদিন আহসান প্রিন্স ও মোহাম্মদ ওবায়দুল্লাহ। সহকারী সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে রয়েছেন মোহাম্মদ আবু হোরায়রা আল রিজন, পুষ্পিতা দাস, জয়িতা সরকার, জান্নাতুল ফেরদৌস ঐশী ও মোহাম্মদ ফাহিম।


কোষাধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন লস্কর মহন্ত। সাংস্কৃতিক ও পরিবেশনা সম্পাদক হিসেবে রয়েছেন সাজিদ শাহরিয়ার রোহান, দীপান্বিতা দীপা, তাজরী সরকার ও পৃথ্বীরাজ সরকার। তথ্য ও প্রচার সম্পাদক হিসেবে রয়েছেন উচ্ছ্বাস সরকার প্রীতম, জবা দেবনাথ ববি ও আল ফুয়াদ বিন হাবিব প্রিয়। বৈদেশিক বিষয় ব্যবস্থাপনা সম্পাদক হিসেবে রয়েছেন স্যামযোগ শ্রেষ্ঠা, কারান গৌরোচা, প্রবেশ পান্তা ও সুবাশ পান্তা।


এ ছাড়া কার্যনির্বাহী সদস্য হিসেবে রয়েছেন রামিছা ইশরাক প্রাপ্তি, ঐশী মণ্ডল, ইমাম মাহবুব, অনন্যা গাইন, উইলিয়াম আবীর, ফাতিন ইশরাক সম, সৌম্য প্রামাণিক, প্রদীপ পান্ডে, মৌমিতা দত্ত ও মুঈন শাহরিয়ার ওরাত।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৬:৩৮ পিএম

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন বিভাগের উদ্যোগে পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধকে ঘিরে গণমাধ্যমের ভূমিকা, তথ্যযুদ্ধ, সাংবাদিকতার নৈতিকতা, আন্তর্জাতিক আইন ও মানবিক দায়বদ্ধতা নিয়ে আন্তর্জাতিক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। 


আজ মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে ‘পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ ও বিশ্ব মিডিয়া: নৈতিক দায়বদ্ধতা ও আত্মপর্যালোচনা’ শীর্ষক সেমিনারটি অনুষ্ঠিত হয়। 


সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সুইডেনের উপসালা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক গ্রেগরি জে. সিমনস। বক্তব্য দেন ঢাকায় নিযুক্ত ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরানের রাষ্ট্রদূত জলিল রহিমী জাহানাবাদী, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্‌দীন এবং ঢাকায় নিযুক্ত রুশ ফেডারেশনের রাষ্ট্রদূতের প্রেস সেক্রেটারি সোফিয়া কুতেপোভা। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. শাহ মো. নিসতার জাহান কবীর। 


মূল প্রবন্ধে অধ্যাপক গ্রেগরি জে. সিমনস পশ্চিমা গণমাধ্যমের ভূমিকা ও যুদ্ধের তথ্যগত এবং মনস্তাত্ত্বিক দিক নিয়ে আলোচনা করেন। তার বক্তব্যে প্রচলিত ‘Fourth Estate’ ধারণার সমালোচনা, বিকল্প গণমাধ্যমের উত্থান এবং যুদ্ধের সময় তথ্য ও বয়ান নিয়ন্ত্রণের বিষয় উঠে আসে। 


সিমনসের মতে, পশ্চিমা গণমাধ্যমের প্রচলিত ‘চতুর্থ স্তম্ভ’ ধারণা কার্যকর নেই। তার বক্তব্য অনুযায়ী, গণমাধ্যম শুধু তথ্য জানানোতেই সীমাবদ্ধ নয়, জনমতকে নির্দিষ্ট দিকে প্রভাবিত করার ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হয়। পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতে সামরিক লড়াইয়ের পাশাপাশি তথ্য ও মনস্তাত্ত্বিক লড়াইও চলছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। 


ইরানের রাষ্ট্রদূত জলিল রহিমী জাহানাবাদী বলেন, যুদ্ধের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাত্রা হলো ‘মিডিয়া যুদ্ধ’। তার অভিযোগ, পশ্চিমা মূলধারার গণমাধ্যমে ফিলিস্তিন ও গাজার বাস্তুচ্যুত মানুষকে একভাবে এবং ইসরায়েলকে অন্যভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। 


তিনি বলেন, “পশ্চিমাদের এই যুদ্ধের বয়ান বা ন্যারেটিভ সম্পূর্ণ অন্যায় ও পক্ষপাতদুষ্ট।” 


স্বাধীন গণমাধ্যমের ভূমিকা সম্পর্কে জাহানাবাদী বলেন, কোনো পক্ষের হয়ে নয়, বরং সত্য, ন্যায়বিচার ও আন্তর্জাতিক আইনের মৌলিক নীতির পক্ষে থাকা উচিত গণমাধ্যমের। যুদ্ধের সময় হাসপাতাল, শিশু, বিদ্যালয়, নারী ও ঐতিহাসিক স্থাপনায় হামলা নিয়ে প্রশ্ন তোলার আহ্বান জানান তিনি। 


ইরানের রাষ্ট্রদূত দাবি করেন, ইরানের রাজনৈতিক ব্যবস্থা অক্ষুণ্ন রয়েছে এবং দেশটির কোনো ভূখণ্ড দখল হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের ইরানের ওপর তথাকথিত বিজয় কতটা হয়েছে, তা বিচার করার দায়িত্ব তিনি শ্রোতাদের ওপর ছেড়ে দেন। 


অন্যদিকে, রুশ ফেডারেশনের রাষ্ট্রদূতের প্রেস সেক্রেটারি সোফিয়া কুতেপোভা বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে সংঘাত শুরুর আগে সামরিক, রাজনৈতিক ও প্রচারণামূলক প্রস্তুতির পরিসর ও ধরন বড় ধরনের সংঘাতের ইঙ্গিত দিচ্ছিল। 


তিনি বলেন, “ইরানের বিরুদ্ধে এই দায়িত্বজ্ঞানহীন আক্রমণের পূর্বে সামরিক, রাজনৈতিক এবং প্রচারণামূলক প্রস্তুতি যে পরিসর ও চরিত্রের ছিল, তা এই সংকেতই দিচ্ছিল যে এক বিরাট সংঘাত শুরু হতে যাচ্ছে।” 


তার মতে, সংঘাতের পর ইরান নিজেকে একটি স্থিতিস্থাপক ও শক্তিশালী রাষ্ট্র হিসেবে প্রমাণ করেছে এবং যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে সহজ লক্ষ্যবস্তু বানাতে পারেনি। 


সাংবাদিকতার নৈতিকতার ওপরও গুরুত্ব দেন সোফিয়া কুতেপোভা। রুশ দূতাবাসের প্রেস সেক্রেটারি হওয়ার আগে সংবাদমাধ্যমে কাজ করার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, সাংবাদিকদের জন্য সত্য এবং তথ্য যাচাই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। 


তিনি বলেন, “মিডিয়া কর্মীদের জন্য সত্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং আমাদের দর্শক ও পাঠকদের সঠিক তথ্য প্রদান ও নিখুঁত থাকার জন্য তথ্য যাচাই করা অত্যন্ত জরুরি।” 


জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্‌দীন যুদ্ধকে শুধু সামরিক বা রাজনৈতিক সংঘাত হিসেবে না দেখে মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখার আহ্বান জানান। 


তিনি বলেন, “যুদ্ধ কেবল সেনাবাহিনী, সরকার বা রাজনৈতিক স্বার্থের মধ্যকার সংঘর্ষ নয়। এর গভীরতম স্তরে, যুদ্ধ হলো একটি মানবিক ট্র্যাজেডি।” 


সাংবাদিকতার তিনটি নৈতিক দায়িত্ব তুলে ধরে উপাচার্য বলেন, সত্য, মানবিক মর্যাদা এবং প্রাসঙ্গিকতা ও ভারসাম্য বজায় রাখা সাংবাদিকতার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। যুদ্ধকালীন তথ্য জনমত ও আন্তর্জাতিক ধারণাকে প্রভাবিত করতে পারে উল্লেখ করে তিনি রাষ্ট্র, আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং নাগরিকদেরও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান। 


সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো ছবি, ভিডিও বা অভিযোগ শেয়ার করার আগে তা সত্য ও বিশ্বাসযোগ্য কি না, তা যাচাই করার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, “মিডিয়া একা কোনো যুদ্ধ বন্ধ করতে পারে না, তবে মানুষ কীভাবে যুদ্ধকে অনুধাবন করে তা প্রভাবিত করতে পারে।” 


গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও দায়িত্বশীলতার ভারসাম্য তুলে ধরে উপাচার্য বলেন, “আমাদের যা প্রয়োজন তা কম সাংবাদিকতা নয়, বরং আরও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা; মতপ্রকাশের কম স্বাধীনতা নয়, বরং সত্য ও সত্যতা যাচাইয়ের প্রতি আরও বড় প্রতিশ্রুতি; নীরবতা নয়, বরং নৈতিক ও সাহসী প্রতিবেদন।” 


সেমিনারের সভাপতির বক্তব্যে ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. শাহ মো. নিসতার জাহান কবীর আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত সবাইকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বিশেষভাবে ইরানের রাষ্ট্রদূত, রুশ দূতাবাসের প্রেস সেক্রেটারি সোফিয়া কুতেপোভা, উপাচার্য, কোষাধ্যক্ষ এবং মূল প্রবন্ধ উপস্থাপক গ্রেগরি জে. সিমনসের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। 


অধ্যাপক নিসতার জাহান কবীর বলেন, শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ ছাড়া এ আয়োজন সফল করা সম্ভব হতো না। তিনি শিক্ষার্থীদের আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, “তোমরাই এই অনুষ্ঠানটিকে সফল করেছ।” 


গ্রেগরি জে. সিমনসের বক্তব্যের প্রশংসা করে তিনি বলেন, তার উপস্থাপন ও বক্তব্য বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের কাছে আকর্ষণীয় ও গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়েছে। ভবিষ্যতে তাকে আবারও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, বিশেষ করে ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন বিভাগে আসার আমন্ত্রণ জানান তিনি। 


রুশ দূতাবাসের প্রেস সেক্রেটারি সোফিয়া কুতেপোভাকে ভবিষ্যতে নিয়মিত বিশ্ববিদ্যালয়ে আসার আহ্বান জানান অধ্যাপক নিসতার জাহান কবীর। একই সঙ্গে তিনি জানান, ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন বিভাগ শিগগিরই একটি চলচ্চিত্র উৎসব আয়োজনের বিষয়ে আলোচনা করছে। 


অনুষ্ঠান আয়োজনের সুযোগ দেওয়ায় উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্‌দীনের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান তিনি। কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. সাবিনা শারমীনের নিয়মিত উৎসাহের কথাও উল্লেখ করেন বিভাগের চেয়ারম্যান। 


সেমিনারে বক্তাদের বক্তব্যে যুদ্ধের সংবাদ পরিবেশনে সত্যতা যাচাই, মানবিক মর্যাদা, ভারসাম্য, আন্তর্জাতিক আইন এবং গণমাধ্যমের নৈতিক দায়িত্বের বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়। পাশাপাশি প্রচলিত ও বিকল্প গণমাধ্যমের ভূমিকা এবং যুদ্ধের তথ্য ও মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব নিয়েও আলোচনা হয়। 


অনুষ্ঠানে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. সাবিনা শারমীন, শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও মার্কেটিং বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. ইমরানুল হক, আইন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আহমদ ইহসানুল কবীরসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

সর্বশেষ সব খবর

শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের মর্গ

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৪:০১ পিএম

শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের মর্গ থেকে ছড়ানো উৎকট গন্ধে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) একাডেমিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। মর্গের এক্সহস্ট ফ্যানের মাধ্যমে দূষিত বাতাস সরাসরি বিশ্ববিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে প্রবেশ করায় স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। দুর্গন্ধে বমি করে অসুস্থ হয়ে পড়ার ঘটনাও ঘটেছে বলে জানা গেছে।


রাস্তার পাশে অবস্থিত বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবনে তিনটি অনুষদের ক্লাস ও পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। দুর্গন্ধের কারণে সেখানে স্বাভাবিকভাবে ক্লাস করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। একই ভোগান্তিতে পড়ছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে দায়িত্ব পালনকারী আনসার সদস্যরাও। সরেজমিনে মাস্ক পরে দায়িত্ব পালনরত এক আনসার সদস্য জানান, দুর্গন্ধের কারণে দায়িত্ব পালন কঠিন হয়ে পড়েছে।


মাহবুবুজ্জামান ভবনের এক শিক্ষার্থী বলেন, “ক্লাসে ঢোকার উপায় নেই। মর্গের এমন পচা গন্ধে টিকতে না পেরে অনেক শিক্ষার্থী ইতিমধ্যে বমি করে দিয়েছে। এই বিষাক্ত বাতাসে সারাক্ষণ ক্লাস করা আমাদের জন্য রীতিমতো এক ধরনের শারীরিক নির্যাতন।”


বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আখতার হোসেন বলেন, “মর্গের উৎকট গন্ধের কারণে মাহবুবুজ্জামান ভবনের শ্রেণিকক্ষে থাকা যাচ্ছে না। এই গন্ধে আমি নিজেও বমি করেছি। অনেক শিক্ষার্থীও বমি করেছেন, অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। বিষয়টি দ্রুত সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।”


এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মো. নজরুল ইসলাম বলেন, “মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। তারা দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিষয়টি সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন।”


মর্গের ত্রুটিপূর্ণ অবকাঠামোর কথা স্বীকার করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের ভাইস প্রিন্সিপাল ডা. সোলায়মান কবীর বলেন, “অবকাঠামোগত অনেক ত্রুটি রয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে মিনিমাইজ করার জন্য আমরা কিছু কাজ হাতে নিয়েছি। কালকে কেমিক্যাল আসবে, আসার পরে জিনিসটা আরও মিনিমাইজ হবে।”


মর্গের নকশাগত ত্রুটির কথা স্বীকার করে তিনি আরও বলেন, “প্রথমে যে সেটআপটা, সেটাই তো ভুল ছিল। এটা কখনোই রাস্তার পাশে হয় না। তবে আমরা এটা নিয়ে কাজ করছি, দ্রুতই সমাধান হবে।”


তবে কর্তৃপক্ষের আশ্বাসে সন্তুষ্ট নন শিক্ষার্থীরা। মর্গের বায়ু নির্গমন ব্যবস্থার কারণে বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় দূষিত বাতাস ছড়ানো বন্ধে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা ও স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়েছেন তারা।

সর্বশেষ সব খবর

রুশ ফেডারেশনের রাষ্ট্রদূতের প্রেস সেক্রেটারি সোফিয়া কুতেপোভা

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ২:৫৩ পিএম

ইরানের বিরুদ্ধে সংঘাত শুরুর আগে সামরিক, রাজনৈতিক ও প্রচারণামূলক প্রস্তুতির যে পরিসর ও ধরন দেখা গিয়েছিল, তাতে বড় ধরনের সংঘাতের পূর্বাভাস পাওয়া যাচ্ছিল বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত রুশ ফেডারেশনের রাষ্ট্রদূতের প্রেস সেক্রেটারি সোফিয়া কুতেপোভা। তার মতে, পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহে ইরান নিজেকে একটি স্থিতিস্থাপক ও শক্তিশালী রাষ্ট্র হিসেবে প্রমাণ করেছে।


মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত ‘পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ ও বিশ্ব মিডিয়া: নৈতিক দায়বদ্ধতা ও আত্মপর্যালোচনা’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক সেমিনারে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এসব কথা বলেন।


সোফিয়া কুতেপোভা বলেন, “ইরানের বিরুদ্ধে এই দায়িত্বজ্ঞানহীন আক্রমণের পূর্বে সামরিক, রাজনৈতিক এবং প্রচারণামূলক প্রস্তুতি যে পরিসর ও চরিত্রের ছিল, তা এই সংকেতই দিচ্ছিল যে এক বিরাট সংঘাত শুরু হতে যাচ্ছে।”


তিনি বলেন, সংঘাত শুরু হওয়ার ঘটনায় রাশিয়া গভীরভাবে মর্মাহত হয়েছিল। একই সঙ্গে চলতি বছরের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের প্রাণহানির ঘটনাতেও রাশিয়া শোক প্রকাশ করেছে বলে জানান তিনি।


ইরানের সক্ষমতা প্রসঙ্গে রুশ দূতাবাসের প্রেস সেক্রেটারি বলেন, “ইরান নিজেকে একটি স্থিতিস্থাপক ও শক্তিশালী রাষ্ট্র হিসেবে প্রমাণ করেছে এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাদের লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে; তারা এটিকে আরেকটি সহজ লক্ষ্যবস্তু বানাতে পারেনি।”


তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যাশার তুলনায় বেশি শক্তিশালী রাষ্ট্র হিসেবে নিজেদের সক্ষমতা তুলে ধরেছে।


সেমিনারে উপস্থিত শিক্ষার্থীদের সাংবাদিকতা পেশায় আসার সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে সোফিয়া কুতেপোভা নিজের পেশাগত অভিজ্ঞতাও তুলে ধরেন। রুশ দূতাবাসের প্রেস সেক্রেটারি হওয়ার আগে তিনি রাশিয়ার একটি সংবাদমাধ্যমে কাজ করেছেন বলে জানান।


ভবিষ্যৎ সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে সত্যকে গুরুত্ব দেওয়া এবং পাঠক ও দর্শকদের সঠিক তথ্য দেওয়ার জন্য তথ্য যাচাই বা ‘ফ্যাক্ট-চেকিং’ করা অত্যন্ত জরুরি।


সোফিয়া কুতেপোভা বলেন, “মিডিয়া কর্মীদের জন্য সত্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং আমাদের দর্শক ও পাঠকদের সঠিক তথ্য প্রদান ও নিখুঁত থাকার জন্য তথ্য যাচাই করা অত্যন্ত জরুরি।”


বক্তব্যের শেষে আমন্ত্রণ ও উপস্থিতির জন্য জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানান তিনি। সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন বিভাগের চেয়ারম্যান ড. শাহ মো. নিসতার জাহান কবীর।


সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সুইডেনের উপসালা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক গ্রেগরি জে. সিমনস। বক্তব্য দেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্‌দীন এবং ঢাকায় নিযুক্ত ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরানের রাষ্ট্রদূত জলিল রহিমী জাহানাবাদী।


এ ছাড়া জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. সাবিনা শারমীন, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

সর্বশেষ সব খবর

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্‌দীন

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১:৪৬ পিএম

যুদ্ধ কেবল সেনাবাহিনী, সরকার বা রাজনৈতিক স্বার্থের মধ্যকার সংঘর্ষ নয়, এর গভীরতম স্তরে এটি একটি মানবিক ট্র্যাজেডি বলে মন্তব্য করেছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্‌দীন। তিনি বলেন, প্রতিটি পরিসংখ্যানের পেছনে একজন মানুষ, প্রতিটি ধ্বংসপ্রাপ্ত ভবনের পেছনে একটি পরিবার এবং প্রতিটি বাস্তুচ্যুত মানুষের পেছনে ক্ষতি, ভয় ও আশার গল্প রয়েছে।


মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত ‘পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ ও বিশ্ব মিডিয়া: নৈতিক দায়বদ্ধতা ও আত্মপর্যালোচনা’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক সেমিনারে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।


উপাচার্য বলেন, যুদ্ধের মতো পরিস্থিতিতে গণমাধ্যমের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাংবাদিকতার তিনটি নৈতিক দায়িত্বের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “সাংবাদিকতার প্রথম নৈতিক দায়িত্ব হলো সত্য, দ্বিতীয় দায়িত্ব হলো মানবিক মর্যাদা এবং অবশেষে তৃতীয় দায়িত্ব হলো প্রাসঙ্গিকতা ও ভারসাম্য।”


তবে গণমাধ্যমের নৈতিক দায়বদ্ধতা শুধু সাংবাদিকদের একার নয় বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তার মতে, রাষ্ট্রেরও দায়িত্ব রয়েছে। যুদ্ধকালীন তথ্য প্রকাশ জনমত ও আন্তর্জাতিক ধারণাকে প্রভাবিত করতে পারে। তাই তথ্য প্রকাশে স্বচ্ছতা, সঠিকতা এবং আন্তর্জাতিক মানবিক নীতির প্রতি শ্রদ্ধা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।


আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর দায়িত্বের কথা তুলে ধরে অধ্যাপক রইছ উদ্‌দীন বলেন, তাদের স্বাধীন যাচাইকরণ, সাংবাদিকদের সুরক্ষা, নির্ভরযোগ্য তথ্যে প্রবেশাধিকার এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের দলিল সংরক্ষণে সহায়তা করা উচিত।


সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের যুগে নাগরিকদের দায়িত্বের বিষয়টিও তুলে ধরেন তিনি। উপাচার্য বলেন, বর্তমানে প্রত্যেক ব্যক্তি তথ্যের প্রচারক হয়ে উঠতে পারেন। কোনো নাটকীয় ছবি, ভিডিও বা অভিযোগ শেয়ার করার আগে প্রত্যেকের নিজেকে প্রশ্ন করা উচিত, সেটি সত্য কি না, বিশ্বাসযোগ্য কি না এবং সঠিকভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে কি না।


তিনি বলেন, “আমি কি সমঝোতায় অবদান রাখছি, নাকি বিদ্বেষ ছড়াচ্ছি?” এই প্রশ্নটিও তথ্য প্রচারের আগে বিবেচনা করা প্রয়োজন।


যুদ্ধের ওপর গণমাধ্যমের প্রভাব তুলে ধরে উপাচার্য বলেন, “মিডিয়া একা কোনো যুদ্ধ বন্ধ করতে পারে না, তবে মানুষ কীভাবে যুদ্ধকে অনুধাবন করে তা প্রভাবিত করতে পারে।”


তাঁর মতে, গণমাধ্যম একদিকে মেরুকরণকে আরও গভীর করতে পারে, অন্যদিকে সংলাপের সুযোগ তৈরি করতে পারে। একইভাবে এটি সহিংসতা বাড়াতে পারে অথবা মানুষের দুর্ভোগ তুলে ধরতে পারে। গণমাধ্যম সহিংসতাকে স্বাভাবিক হিসেবে উপস্থাপন করার পরিবর্তে প্রতিটি মানবজীবনের মর্যাদা সম্পর্কে বিশ্বকে স্মরণ করিয়ে দিতে পারে।


অধ্যাপক রইছ উদ্‌দীন বলেন, “আমাদের যা প্রয়োজন তা কম সাংবাদিকতা নয়, বরং আরও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা; মতপ্রকাশের কম স্বাধীনতা নয়, বরং সত্য ও সত্যতা যাচাইয়ের প্রতি আরও বড় প্রতিশ্রুতি; নীরবতা নয়, বরং নৈতিক ও সাহসী প্রতিবেদন।”


তিনি আরও বলেন, “আসুন আমরা কোনো অপপ্রচার ছাড়া সত্যকে, কোনো বিদ্বেষ ছাড়া সমালোচনাকে, কোনো দায়িত্বহীনতা ছাড়া স্বাধীনতাকে এবং কোনো দ্বিমুখী নীতি ছাড়া মানবতাকে সমুন্নত রাখি।”


আজকের আলোচনা এমন একটি গণমাধ্যম সংস্কৃতি গঠনে ভূমিকা রাখবে আশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, সেই সংস্কৃতির মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত সত্য, মানবিক মর্যাদা, শান্তি ও দায়বদ্ধতা।


অনুষ্ঠানে উপস্থিত ইরানের রাষ্ট্রদূত জলিল রহিমী জাহানাবাদীকে স্বাগত জানিয়ে উপাচার্য বলেন, তাঁর উপস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আনন্দিত। বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে ফারসি ভাষায় ইরানি রাষ্ট্রদূতকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে পুনরায় আসার আমন্ত্রণ জানান তিনি।


সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন বিভাগের চেয়ারম্যান ড. শাহ মো. নিসতার জাহান কবীর। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সুইডেনের উপসালা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক গ্রেগরি জে. সিমনস। 


অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত রুশ ফেডারেশনের রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ডার গ্রিগোরিয়েভিচ খোজিনের প্রতিনিধি সোফিয়া এবং ইরানের রাষ্ট্রদূত জলিল রহিমী জাহানাবাদী। 


এ ছাড়া জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. সাবিনা শারমীন, মার্কেটিং বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. ইমরানুল হক ও আইন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আহমদ ইহসানুল কবীরসহ শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

সর্বশেষ সব খবর

ইরানের রাষ্ট্রদূত জলিল রহিমী জাহানাবাদী

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১:৪০ পিএম

পশ্চিমা মূলধারার গণমাধ্যমগুলো পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের ঘটনাপ্রবাহকে অন্যায় ও পক্ষপাতদুষ্টভাবে উপস্থাপন করছে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরানের রাষ্ট্রদূত জলিল রহিমী জাহানাবাদী। তিনি অভিযোগ করেন, ফিলিস্তিন ও গাজার নির্যাতিত ও বাস্তুচ্যুত মানুষকে সন্ত্রাসী হিসেবে এবং ইসরায়েলিদের গণতন্ত্র ও স্বাধীনতার রক্ষক হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে।


মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত ‘পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ ও বিশ্ব গণমাধ্যম: নৈতিক জবাবদিহি ও আত্মসমালোচনা’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক সেমিনারে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।


ইরানের রাষ্ট্রদূত বলেন, “বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে পশ্চিমারা বা যুক্তরাষ্ট্র যখন আক্রমণ চালায়, তখন তাদের যুদ্ধের বিভিন্ন দিক থাকে এবং তার মধ্যে অন্যতম প্রধান দিক হলো ‘মিডিয়া যুদ্ধ’ বা গণমাধ্যম যুদ্ধ।”


তিনি বলেন, “পশ্চিমা মূলধারার গণমাধ্যমগুলোতে দৃশ্যপট এমনভাবে উপস্থাপন করা হয় যেন ফিলিস্তিন ও গাজার নির্যাতিত ও বাস্তুচ্যুত মানুষগুলো সন্ত্রাসী, আর যেসব ইসরায়েলি হাজার হাজার মানুষ হত্যা করছে, তারা নাকি ডেমোক্রেসি বা গণতন্ত্র ও স্বাধীনতার রক্ষক!”


জাহানাবাদী বলেন, “পশ্চিমাদের এই যুদ্ধের বয়ান বা ন্যারেটিভ সম্পূর্ণ অন্যায় ও পক্ষপাতদুষ্ট।”


স্বাধীন গণমাধ্যমের দায়িত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, “এই পরিস্থিতিতে একটি স্বাধীন গণমাধ্যমের মূল দায়িত্ব হলো বিশ্বমঞ্চে সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ ন্যায়বিচারের ঘটনাগুলো সঠিকভাবে তুলে ধরা।”


মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতে স্বাধীন গণমাধ্যমকে কোনো পক্ষের হয়ে কাজ না করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “আমরা চাই তারা সত্য, ন্যায়বিচার এবং আন্তর্জাতিক আইনের মৌলিক নীতির পক্ষে থাকুক।”


যুদ্ধের সময় বেসামরিক স্থাপনা ও মানুষের নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন ইরানের রাষ্ট্রদূত। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক আইন বা যুদ্ধ আইনের অধীনে হাসপাতাল, শিশু, বিদ্যালয়, নারী কিংবা ঐতিহাসিক স্থাপনায় আক্রমণ বৈধ কি না, তা গণমাধ্যমের সামনে প্রশ্ন হিসেবে আসা উচিত।


তিনি অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা যুদ্ধক্ষেত্রে যে কর্মকাণ্ড করছে, পশ্চিমা গণমাধ্যমের একটি অংশ সেগুলো আড়াল করার এবং যৌক্তিকতা দেখানোর চেষ্টা করছে।


বিশ্বের স্বাধীন গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানিয়ে জাহানাবাদী বলেন, “আপনারা ইরানে আসুন এবং স্বচক্ষে দেখুন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সেখানে মানবতাবিরোধী কী পরিমাণ যুদ্ধাপরাধ ঘটিয়েছে।”


এর আগে বক্তব্যের শুরুতে বাংলাদেশের জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন ইরানের রাষ্ট্রদূত। তিনি বলেন, বাংলাদেশের জনগণ ইরানিদের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছেন এবং দুই দেশের জনগণের বন্ধুত্ব ও পারস্পরিক সম্পর্ক অক্ষুণ্ন থাকবে বলে আশা করেন।


সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন বিভাগের চেয়ারম্যান ড. শাহ মো. নিসতার জাহান কবীর। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সুইডেনের উপসালা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক গ্রেগরি জে. সিমনস। অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত রুশ ফেডারেশনের রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ডার গ্রিগোরিয়েভিচ খোজিন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইস উদ্‌দীন ও কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীন।


এ ছাড়া আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও মার্কেটিং বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. ইমরানুল হক এবং আইন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আহমদ ইহসানুল কবীর ছাড়াও বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীবৃন্দ।

সর্বশেষ সব খবর