ছবি: নোবিপ্রবিতে এনএসটিইউ সাইন-এর ৩য় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত।
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের নিয়ে কাজ করা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘এনএসটিইউ স্পেশাল হেল্প এন্ড ইনক্লুসিভ নেটওয়ার্ক ফর এডুকেশন’ (NSTU SHINE)-এর ৩য় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত হয়েছে।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিডিও কনফারেন্স রুমে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নোবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী।
অনুষ্ঠানের শুরুতে সংগঠনের সার্বিক কার্যক্রম নিয়ে একটি ভিজ্যুয়াল ডকুমেন্টারি প্রদর্শন করা হয়। অনুষ্ঠানে সংগঠনের উপদেষ্টা ও সাবেক নেতৃত্ববৃন্দ সংগঠনের সার্বিক কার্যক্রম ও শিক্ষাবান্ধব উদ্যোগসমূহকে আরও সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী বলেন, "আমরা এমন একটি ক্যাম্পাস গড়ে তুলতে চাই, যেখানে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীরা অন্য সবার মতোই স্বাভাবিকভাবে শিক্ষা গ্রহণ, সহশিক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা ব্যবহারের সুযোগ পাবে। একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রকৃত সাফল্য তখনই অর্জিত হয়, যখন সেখানে প্রত্যেকের মর্যাদা, নিরাপত্তা, সমান সুযোগ ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা যায়।"
তিনি আরও বলেন, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন কোনো শিক্ষার্থীকে সহানুভূতির চোখে নয়, বরং সমমর্যাদা ও অধিকারসম্পন্ন একজন শিক্ষার্থী হিসেবে দেখতে হবে। গত তিন বছরে এ সংগঠনটি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী ও পরিবারগুলোর জীবনমান উন্নয়ন, সামাজিক মেলবন্ধন এবং আত্মউন্নয়নে যে সহযোগিতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করেছে, তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। এ সময় একটি পূর্ণাঙ্গ অন্তর্ভুক্তিমূলক বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তুলতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকলের সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন তিনি।
সংগঠনের সভাপতি ইয়াসিন আরাফাত বলেন, "বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের অধিকার ও সুবিধা নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়েই এই সংগঠনের পথচলা, যা আজ তিন বছরে পদার্পণ করলো। এই তিন বছরে আমরা শিক্ষা সহায়তা, মেধা বৃত্তি প্রদান, শ্রুতিলেখক সংবর্ধনাসহ ক্যাম্পাসকে প্রতিবন্ধীবান্ধব ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করতে নানা কার্যক্রম পরিচালনা করেছি।" বক্তব্য শেষে তিনি শিক্ষার্থীদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বেশ কিছু দাবি তুলে ধরেন এবং উপাচার্যের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নিকট একটি স্মারকলিপি হস্তান্তর করেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম ও কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. হাছান উদ্দীন।
সংগঠনের উপদেষ্টা ও ইংরেজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক রুবাইয়ান আসিফ এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের তাসনীম আলমের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকমণ্ডলী, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও সংগঠনের সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অন্যান্য কর্মসূচির অংশ হিসেবে সমস্যার সমাধানভিত্তিক সচেতনতামূলক প্রতিযোগিতা ‘সমতার পথে’ অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিযোগিতায় সেরা সমাধান দেওয়া ৩ জন বিজয়ীর হাতে পুরস্কার তুলে দেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী।
উল্লেখ্য, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থী ও পরিবারগুলোর জীবনমান উন্নয়ন, সামাজিক মেলবন্ধন এবং আত্মউন্নয়নে সহযোগিতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছে সংগঠনটি।
কুবিতে টেকসই ও সবুজ ক্যাম্পাস হিসেবে গড়তে বিশেষজ্ঞদের নিয়ে কর্মশালা
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স সেল (আইকিউএসি)-এর উদ্যোগে টেকসই ও পরিবেশবান্ধব সবুজ ক্যাম্পাস গড়ে তুলতে কৌশলগত কাঠামো প্রণয়নের লক্ষ্যে বিশেষজ্ঞজনদের নিয়ে ‘ডেভেলপিং স্ট্র্যাটেজিক ফ্রেমওয়ার্ক ফর সাসটেইনেবল গ্রিন ক্যাম্পাস অব কুমিল্লা ইউনিভার্সিটি’ শীর্ষক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর)সকাল সাড়ে ১০টায় উপাচার্য কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে কর্মশালাটি অনুষ্ঠিত হয়
আইকিউএসি'র পরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সৈয়দুর রহমানের সভাপতিত্বে কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করীম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন সরকার এবং কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বেলাল উদ্দিন।
কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ও আইকিউএসি'র পরিচালক ড. মোহাম্মদ সৈয়দুর রহমান।
এছাড়া কর্মশালায় বিশেষজ্ঞ হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক ও সাবেক উপাচার্য ড. জসিম উদ্দিন আহমদ, রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. জয়নুল আবেদীন সিদ্দিকী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-আমীন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. মোঃ আহসান হাবিব, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের সাবেক বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. শফি মোহাম্মদ তারেক, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান শাখার সাবেক প্রধান অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ হারুণ চৌধুরী এবং অর্থনীতি শাখার সাবেক প্রধান অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হায়দার এবং বিভিন্ন অনুষদের ডিন ও বিভাগের বিভাগীয় প্রধানবৃন্দ।
বিশেষজ্ঞরা কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়কে পরিবেশবান্ধব ও টেকসই গ্রিন ক্যাম্পাসে রূপান্তরের লক্ষ্যে বর্জ্যব্যবস্থাপনা, বৃক্ষ রোপনের মাধ্যমে ক্যাম্পাস সবুজায়ন, আশেপাশের পর্যটনশিল্পের কারনে পরিবেশের উপর তৈরী চাপ কমাতে বিভিন্ন পরিকল্পনা প্রণয়নের দিক নির্দেশনা প্রদান করেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আহসান হাবিব বলেন, "কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়কে পরিবেশবান্ধব ও টেকসই গ্রিন ক্যাম্পাসে রূপান্তরের লক্ষ্যে পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধি ও সঠিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া উচিত। ক্যাম্পাসের স্বাভাবিক পাহাড়ি ভূমি ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য অক্ষুণ্ন রেখে অবকাঠামো নির্মাণ প্রয়োজন। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের একাডেমিক জীবনের শুরুতেই পরিবেশবিষয়ক শিক্ষার আওতায় আনার পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। বিশেষ করে ফার্মেসি ও রসায়ন গবেষণাগারের কেমিক্যালযুক্ত তরল বর্জ্য সরাসরি ড্রেনে ফেলা বন্ধ করা এবং সৌর প্যানেল বা ব্যাটারি ব্যবহারের ক্ষেত্রে সিসা ও ক্যাডমিয়ামের মতো ক্ষতিকর পদার্থের বিষাক্ততা এড়াতে সুসংহত দীর্ঘমেয়াদি বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা প্রয়োজন।"
এছাড়া বিদ্যুৎ, পানি ও কাগজের ব্যবহার কমিয়ে আনার পাশাপাশি জাতিসংঘের নির্দিষ্ট কিছু টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এসডিজি)দিকে গুরুত্ব দেওয়া কথা বলেন তিনি।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল আমিন বলেন, 'ক্যাম্পাসে যানবাহনের ধোঁয়া, কার্বন ফুটপ্রিন্ট কমাতে ইলেকট্রিক কার ব্যবহারের আয়তায় আনতে হবে। পাশাপাশি যদি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো শিক্ষার্থীদের ভর্তির সময় গাছ দিয়ে বৃক্ষ রোপনকে কোর্সের আওতাভুক্ত করা যায় তাহলে জীববৈচিত্র্য বৃদ্ধি পাবে অনেকাংশে। এছাড়া বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে টেকসই করতে শিক্ষার্থী ও স্থানীয় জনগণকে যুক্ত করে একটি কার্যকর মডেল তৈরি করতে হবে। সর্বোপরি, মানুষের মনস্তত্ত্ব ও চাহিদাকে বুঝে তাঁদের সঠিক সম্পৃক্ততার মাধ্যমেই পরিবেশ সংরক্ষণের যে কোনো উদ্যোগ সফল করার চেষ্টা করতে হবে।'
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. জসিম উদ্দিন আহমদ বলেন, 'এই পৃথিবী ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছ থেকে আমরা ঋণ হিসেবে পেয়েছি। তাই আগামী বহু বছরের কথা চিন্তা করে পৃথিবী রক্ষা করা আমাদের দায়িত্ব। শুধু পরিবেশগত সচেতনতা থাকলেই চলবে না, পলিথিন বর্জনের মতো ইতিবাচক অভ্যাস গড়ে তোলার জন্য অনুপ্রেরণাও প্রয়োজন এবং বালতির পানি ব্যবহারের প্রতি জোর দেওয়া প্রয়োজন। পাশাপাশি শিক্ষকদের সামাজিক ও গবেষণামূলক কর্মকাণ্ডকে আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করে পরিবেশ রক্ষায় একযোগে কাজ করার জন্য শিক্ষার্থী ও তরুণদের প্রতি আহ্বান জানাতে হবে।'
কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বেলাল উদ্দিন বলেন, প্রফেসর সৈয়দুর রহমান স্যারের ফ্রেমওয়ার্ক উপস্থাপনা থেকে আমরা টেকসইতার যে ধারণা পেয়েছি, তার তিনটি দিক রয়েছে—অর্থনৈতিক, সামাজিক এবং পরিবেশগত, যা টেকসই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তার উল্লেখিত ৩R (Reduce, Reuse, Recycle) এর সাথে আরেকটি R যুক্ত করতে হবে , তা হলো Repair। ফলে টেকসই পরিকল্পনা আরো ভালো ভাবে বাস্তবায়িত হবে। আমাদের গ্রিন ক্যাম্পাস বাস্তবায়নের জন্য পানি সংরক্ষণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, জীববৈচিত্র্য, টেকসই পরিবহন ও সবুজ অবকাঠামো নির্মাণের উপর অত্যাদিক জোর দিতে হবে।'
উপ উপাচার্য অধ্যাপক ড. আমজাদ হোসেন সরকার বলেন, 'আইকিউএসি নির্দেশকের প্রস্তুতকৃত ফ্রেমওয়ার্ক স্বল্প সময়ে বাস্তবায়ন করতে পারলে আমরা শিক্ষার্থীদের দ্রুত একটি টেকসই গ্রিন ক্যম্পাস উপহার দিতে পারব। তাই আমাদের সকলকে এগিয়ে আসতে হবে এবং নিজ নিজ জায়গা থেকে সর্বাধিক প্রচেষ্টা চালাতে হবে।'
আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় ক্যারাম প্রতিযোগিতা-২০২৬-এ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) ক্যারাম দল। প্রতিযোগিতায় শিরোপাজয়ী দলের দুই খেলোয়াড়কে ব্লেজার পরিয়ে দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল ইসলাম সরদার।
বুধবার (৩০ ডিসেম্বর) ভিসির সচিবালয়ের সভাকক্ষে চ্যাম্পিয়নদের ব্লেজার পরিধান অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। ক্রীড়া উন্নয়ন বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন দলকে এ ব্লেজার পরানো হয়।
ক্রীড়া প্রশিক্ষণ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, গত ২১ জুন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ প্রতিযোগিতায় দেশের ১৮টি বিশ্ববিদ্যালয় অংশ নেয়। ছেলেদের দ্বৈত ইভেন্টে গ্রুপ পর্ব পেরিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়কে এবং সেমিফাইনালে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়কে (কুয়েট) হারিয়ে ফাইনালে ওঠে বাকৃবি। ফাইনালে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়কে সরাসরি ২-০ সেটে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে বাকৃবি দল।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. জি.এম. মুজিবর রহমান, প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আবদুল আলীম, প্রভোস্ট কাউন্সিলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. কাজী কামরুল ইসলাম, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. মোজাম্মেল হক, জনসংযোগ ও প্রকাশনা দফতরের পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ তৌফিকুল ইসলাম, ক্রীড়া প্রশিক্ষণ বিভাগের পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মো. আসাদুল হক সজল। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন চ্যাম্পিয়ন দলের ম্যানেজার অধ্যাপক ড. মো. আনিছুর রহমান মজুমদার, দলের কোচের ক্রীড়া প্রশিক্ষণ বিভাগের উপ-পরিচালক মো. শাহীন হালিমসহ বিভিন্ন পর্যায়ের পরিচালক ও চ্যাম্পিয়ন দলের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে চ্যাম্পিয়ন দলকে অভিনন্দন জানান বাকৃবি ভিসি। পরে অংশগ্রহণকারী দুই খেলোয়াড়সহ টিম ম্যানেজার, কোচ ও টিম পরিচালকদের ব্লেজার পড়ানো হয়।
চ্যাম্পিয়ন দলের খেলোয়াড় বলেন, প্রথমবারের মতো প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে চ্যাম্পিয়ন হওয়া অনেক ভালো লাগছে। এর আগে বাকৃবি ক্যারামে অংশগ্রহণ করেনি। আমাদের কাছেও আনএক্সপেক্টেড ছিল। একক খেলাতে রেজাল্ট করতে পারিনি, আয়োজকদের থেকে আনফেয়ার ছিল। দ্বৈত ইভেন্টে চ্যাম্পিয়ন হয়েছি। এটা ভালো লাগছে বিগত কয়েকটি ইভেন্টে বাকৃবি ২য় তৃতীয় হলেও চ্যাম্পিয়ন হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি হিসেবে ভূমিকা রাখতে পেরে নিজেদেরকে গর্বিত মনে করছি।
ক্রীড়া প্রতিযোগিতা আয়োজন কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ড. জি.এম. মুজিবর রহমান বলেন, আমাদের অন্যান্য শিক্ষার্থীরা আজকের চ্যাম্পিয়নদের থেকে অনুপ্রাণিত হবে। দুইজন খেলোয়াড়কে বলবো যারা প্রতিভাবান তাদেরকে উদ্বুদ্ধ করতে। আমাদের পরিকল্পনায় রয়েছে প্রসপেক্টিভ খেলোয়াড়দের কিভাবে ক্রীড়ায় আনা যায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম অর্জন আমরা কাজ করে যাবো।
বাকৃবি ভিসি অধ্যাপক ড. ড. মো. রফিকুল ইসলাম সরদার বলেন, বাকৃবি চ্যাম্পিয়ন হওয়ায় যারা অবদান রেখেছো তাদেকে অভিনন্দন। আমাদের উদ্দেশ্য ছাত্ররা লেখাপড়ার পাশাপাশি ক্রীড়া ক্ষেত্রেও এগিয়ে আসুক। কারণ খেলাধুলা শারীরিক ও মানসিক বিকাশের অন্যতম অনুষঙ্গ।
হলে হলে ক্রীড়া আয়োজনের তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, আমাদের ঘরোয়া খেলা শুরু করতে হবে। প্রভোস্ট কাউন্সিলের আহ্বায়কে এব্যাপারে পদক্ষেপ জরুরি নিতে হবে। সামনে শীতকাল আসতেছে প্রতি হলের প্রভোস্টবৃন্দ শীতকালীন খেলার আয়োজন করতে হবে। এতে শিক্ষার্থীরা বাইরে সময় কাটানোর চেয়ে বিনোদন খুঁজে পাবে।
পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে তৃতীয় ভাষা শিক্ষা চালুর বিষয়ে দেশের উপাচার্যদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি)। বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে শিক্ষার্থীদের প্রবেশের সুযোগ সহজ করতেই এ উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা করা হয়।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) ইউজিসি কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সভায় দেশের ২৬টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যরা অংশ নেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন ইউজিসির পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সদস্য অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন।
সভায় বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল ইসলাম সরদারও উপস্থিত ছিলেন।
সভায় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভাষা কেন্দ্র স্থাপন, বিদ্যমান সক্ষমতা ও রিসোর্স ম্যাপিং এবং প্রয়োজনীয় জনবলের চাহিদা সম্পর্কে দ্রুত ইউজিসিকে অবহিত করার বিষয়ে আলোচনা হয়। তৃতীয় ভাষা নির্বাচনের ক্ষেত্রে অঞ্চলভিত্তিক চাহিদাকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়। একই সঙ্গে সব বিশ্ববিদ্যালয়ে একই ভাষা চালুর প্রয়োজন নেই বলেও মতামত উঠে আসে।
সভায় বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল ইসলাম সরদার বলেন, বাকৃবিতে ইতোমধ্যে 'ইন্টারন্যাশনাল ল্যাঙ্গুয়েজ সেন্টার বিএইউ' প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এ ল্যাঙ্গুয়েজ সেন্টারের মাধ্যমে জার্মান, চীনা ও জাপানি ভাষা প্রশিক্ষণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সভায় ইউজিসি সদস্য অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন জানান, সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষণা অনুযায়ী বাংলাদেশকে উচ্চশিক্ষার হাব হিসেবে গড়ে তুলতে প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ইন্টারন্যাশনাল অফিস খোলার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি ‘স্টাডি ইন বাংলাদেশ’ পোর্টাল চালুর পরিকল্পনাও করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে ২০টি বিশ্ববিদ্যালয়কে অগ্রাধিকার দিয়ে এ পোর্টালে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, আবাসন, বৃত্তি ও ইন্টারন্যাশনাল অফিসসংক্রান্ত তথ্য যুক্ত করা হবে।
তিনি আরও বলেন, তৃতীয় ভাষা শিক্ষা সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার। দেশে ও বিদেশে কর্মসংস্থান এবং উচ্চশিক্ষার সুযোগ বাড়াতে শিক্ষার্থীদের ভাষাগত দক্ষতার পাশাপাশি কারিগরি ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা বৃদ্ধি করতে হবে।
বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে তৃতীয় ভাষা শিক্ষার বিষয়টি রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ কার্যক্রম বাস্তবায়নে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে এবং মান ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) কৃষিবিদ গেস্ট হাউস থেকে ইয়াবাসহ চারজনকে আটক করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাতে কৃষিবিদ গেস্ট হাউসের ৬ নম্বর কক্ষ থেকে তাদের আটক করা হয়। আটক চারজনের মধ্যে একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী। পরে ময়মনসিংহ কোতোয়ালি থানার পুলিশ তাদের হেফাজতে নিয়ে যায়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আটকরা হলেন- বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি ব্যবসা ও বিতরণ বিভাগের তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী লাবিব হাসান মিথুন, সামিউল আলীম, সামিউল ইবনে আশিকুর রহমান ও সোয়াদ। তাদের কাছ থেকে ইয়াবা ও ইয়াবা সেবনের সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। এ সময় অভিযুক্তরা ইয়াবার কিছু অংশ টয়লেটে ফ্লাশ করে নষ্ট করার চেষ্টা করেন বলেও জানিয়েছেন ঘটনাস্থলে থাকা পুলিশ সদস্যরা।
গেস্ট হাউসের ৬ নম্বর কক্ষে আজ সন্দেহজনক চলাফেরা নজরে আসে বলে জানান কৃষিবিদ গেস্ট হাউসের অফিসার ইন-চার্জ সহকারী অধ্যাপক ড. অনিরুদ্ধ সরকার। তিনি বলেন, অফিশিয়াল কাজ শেষ করে বাসায় যাওয়ার পর গেস্ট হাউসের স্টাফদের কাছ থেকে ফোন পাই। তারা জানান, কৃষি অর্থনীতি ও গ্রামীণ সমাজবিজ্ঞান অনুষদের স্টাফ মিথুনের নামে গেস্ট হাউসের ৬ নম্বর কক্ষটি বুকিং করা ছিল। ওই কক্ষে কিছু অপরিচিত মানুষের অনাকাঙ্ক্ষিত আসা-যাওয়া, মোটরসাইকেল রাখা ও সন্দেহজনক চলাফেরা দেখা যাচ্ছিল।
তিনি আরও বলেন, গেস্ট হাউসে অন্যান্য সম্মানীয় অতিথিরাও অবস্থান করছিলেন। তাই কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে স্টাফদের একা একা বিষয়টি মোকাবিলা না করার জন্য বলি। পরবর্তীতে সহকারী প্রক্টরের সঙ্গে ফোনে কথা বলি। তিনি প্রক্টরের সঙ্গে আলোচনা করে প্রক্টরিয়াল ভিজিল্যান্স টিমসহ দ্রুত ৬ নম্বর কক্ষে উপস্থিত হন। কক্ষটি খোলার পর ভেতরে চারজনকে পাওয়া যায়। তাদের মধ্যে বুকিংধারী স্টাফের পাশাপাশি একজন এসি মেকানিক এবং বাকি দুজন অপরিচিত ব্যক্তি ছিলেন। কক্ষের ভেতর তীব্র উৎকট গন্ধ ছিল এবং তাদের আচরণও অস্বাভাবিক মনে হচ্ছিল। পরে পুলিশ বাথরুমে তল্লাশি চালিয়ে ৪-৫টি ইয়াবাসহ একটি কিট আলামত হিসেবে জব্দ করে।
গেস্ট হাউজ কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা যায়, লাবিব হাসান মিথুন অসুস্থতাজনিত বিশেষ কারণ দেখিয়ে তিন দিন আগে এক দিনের জন্য গেস্ট হাউসের ৬ নম্বর কক্ষটি ভাড়া নেন। তবে পরবর্তীতে তিনি সেখানে তিন দিন অবস্থান করেন। এ বিষয়ে কক্ষটির তদারকির দায়িত্বে থাকা ব্যক্তির সঙ্গে একাধিকবার কথা বলতে গেলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান এবং কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হন নি।
ঘটনার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আবদুল আলীম বলেন, সন্ধ্যা ৭টা ৪৫ মিনিটে আমার কাছে খবর আসে, গেস্ট হাউসের একটি কক্ষ আমাদের একজন স্টাফ বুকিং নিয়েছেন এবং তাঁর সঙ্গে বাইরে থেকে কিছু লোক সেখানে আছেন। খবর পাওয়ার পরপরই আমরা ক্যাম্প পুলিশ ও প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা ঘটনাস্থলে যাই। এর মধ্যে কোতোয়ালি থানার পুলিশকেও বিষয়টি জানানো হয় এবং তারাও সেখানে উপস্থিত হন। রুমের বাইরে থেকে বেশ কয়েকবার ডাক দেওয়ার পর প্রায় ৫ থেকে ১০ মিনিট পর তারা দরজা খোলেন। রুমে ঢোকার পরপরই আমরা একধরনের বাজে গন্ধ পাই এবং সেখানে ইয়াবা সেবনের সরঞ্জাম দেখতে পাই। পরবর্তীতে পুলিশ তাদের কাছ থেকে ইয়াবা উদ্ধার করেন এবং তাদের আটক করে নিয়ে যান। এখন প্রচলিত আইন অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ বিষয়ে ময়মনসিংহ কোতোয়ালি থানার এসআই মাহবুব বলেন, তাদের চারজনকে আটক করা হয়েছে। আমরা থানায় নিয়ে যাচ্ছি। ঘটনার বিষয়ে নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মাদকের বিরুদ্ধে বর্তমানে 'জিরো টলারেন্স' নীতি অনুসরণ করছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। আবাসিক হলসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসের প্রতিটি এলাকায় মাদকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান সহকারী প্রক্টর সহকারী অধ্যাপক ড. মো. মাসুদ রানা।
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) অধ্যয়নরত যশোর জেলার শিক্ষার্থীদের সংগঠন ‘যশোর জেলা ছাত্র কল্যাণ সমিতি’র নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে।
এতে সভাপতি হিসেবে দা'ওয়াহ অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. আব্দুল্লাহ আল জুবাইর এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আইন বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মনিরুজ্জামান তুহিন মনোনীত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সংগঠনটির উপদেষ্টা পরিষদের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে নতুন এ কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়।
কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন, সহ-সভাপতি মো. সাইফুল্লাহ আল যুবায়ের, ইয়ামিন হুসাইন, প্রভাষ দাস, মো. এখলাছ উদ্দীন সজল এবং মো. শাহরিয়ার জামান রিয়াদ। যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ অরিথ, আবু হানিফা, বুরহান উদ্দিন, জিহাদুল ইসলাম এবং জান্নাতুল ফেরদৌস বৃষ্টি।
সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে কানিজ ফাতিমা অনন্যা, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মো. রায়হান কবির, অর্থ সম্পাদক ফারদিন মোহাম্মদ, সহ-অর্থ সম্পাদক মো. হাদিউজ্জামান, দপ্তর সম্পাদক মো. জাহিদ হাসান, সহ-দপ্তর সম্পাদক মো. জুবায়ের হোসেন, প্রচার সম্পাদক মো. মাহমুদুল হাসান নিরব, সহ-প্রচার সম্পাদক আহমাদ ইসলাম নুহু, সমাজকল্যাণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল জাকের, সহ-সমাজকল্যাণ সম্পাদক মাহমুদুল হাসান রাতুল, আইন সম্পাদক তাছনিম আলম, সহ-আইন সম্পাদক আরবাজ খান শ্রাবণ, শিক্ষা ও সাহিত্য সম্পাদক শেখ তাসনিম ফাতিমা, সহ-শিক্ষা ও সাহিত্য সম্পাদক মো. আব্দুল্লাহ আল ফাহাদ, ক্রীড়া সম্পাদক সাকিব হাসান সুমন, সহ-ক্রীড়া সম্পাদক মো. মাহমুদ হাসান যায়েদ, নারী সম্পাদক আলিফ নূর, সহ-নারী সম্পাদক আফিয়া তাসনিম, তথ্য ও প্রযুক্তি সম্পাদক সামিউল ইসলাম স্বাধীন, সহ-তথ্য ও প্রযুক্তি সম্পাদক মো. মাহফুজুর রহমান, ধর্ম ও সংস্কৃতি সম্পাদক আবু তালহাও রুদ্র ঘোষ।
এছাড়া ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের কার্যনির্বাহী সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন নাজনীন সুলতানা নীলা, মো. জাহিদুল, তানজিম জামান তাহসিন, অনন্যা খাতুন, আদিবা মোবাসশিরা এবং মো. আরমান ওহিদ।
কমিটি গঠনের পর নবনির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান তুহিন বলেন, “যশোরের শিক্ষা, ঐক্য ও ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে আমরা সকল শিক্ষার্থীর পাশে এক হয়ে কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। যশোরের মেধাবী শিক্ষার্থীদের সার্বিক কল্যাণ, উচ্চশিক্ষায় সহায়তার পথ সুগম করা এবং যেকোনো সংকটে পাশে দাঁড়ানোই আমাদের সংগঠন- ‘যশোর জেলা ছাত্রকল্যাণ সমিতি’র মূল উদ্দেশ্য। একটি তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক ও সুশিক্ষিত সমাজ গঠনে আমাদের তরুণ সমাজই চালিকাশক্তি। যশোরের মাটির শেকড় ধরে রেখে, পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও ঐক্যের মাধ্যমে আমরা যশোর জেলাকে একটি অগ্রগামী ও আদর্শ জেলা হিসেবে তুলে ধরতে নিরলসভাবে কাজ করে যাব। সকলের সহযোগিতা ও ভালোবাসা নিয়ে আমরা আমাদের আগামী দিনের সকল কর্মসূচি সফল করতে চাই।”
সভাপতি মো. আব্দুল্লাহ আল জুবাইর বলেন, “প্রতি বছর যশোরের অসংখ্য মেধাবী শিক্ষার্থী ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়, কিন্তু গাইডলাইনের অভাবে অনেকেই প্রথম বর্ষেই পিছিয়ে পড়ে। এই বাস্তবতা বদলাতে আমরা নবীনদের জন্য একাডেমিক গাইডলাইন, আবাসন সমস্যা সমাধানের চেষ্টা, পজিশনধারী বিভাগীয় সিনিয়রদের সাথে যোগাযোগ বৃদ্ধি, এবং নারী শিক্ষার্থীদের সমস্যাগুলো সমাধানের জন্য আলাদা প্যানেল গঠনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। পাশাপাশি আড্ডা, ক্রীড়া টুর্নামেন্ট আয়োজন ও সমিতির পেজে শিক্ষার্থীদের অর্জনের গল্প তুলে ধরার মাধ্যমে পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও ঐক্য আরও দৃঢ় করা হবে। যশোরের মাটির শেকড় ধরে রেখে আমরা একটি আদর্শ শিক্ষার্থী সমাজ গড়তে নিরলসভাবে কাজ করে যাব। সকলের সহযোগিতা ও ভালোবাসা নিয়ে আমরা আমাদের সকল কর্মসূচি সফল করতে চাই।
উল্লেখ্য, গঠনতন্ত্র অনুযায়ী যশোর জেলা ছাত্র কল্যাণ সমিতির নতুন কমিটি আগামী এক বছরের জন্য দায়িত্ব পালন করবে।
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) অধ্যয়নরত বগুড়া জেলার শিক্ষার্থীদের সংগঠন ‘বগুড়া জেলা ছাত্রকল্যাণ সমিতি’র ২০২৬-২৭ কার্যবর্ষের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। এতে সভাপতি হিসেবে দাওয়াহ এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী হযরত আলী এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স অ্যান্ড জিওগ্রাফি বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. রবিউস সানি জোহা দায়িত্ব পেয়েছেন।
গতকাল সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সংগঠনের উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল মোত্তালিব, ডেপুটি রেজিস্ট্রার এ এস এম ইমাম হাসান বাবু, ইঞ্জিনিয়ার মো. আব্দুল মালেক মিয়া এবং সদ্য বিদায়ী সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক সাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে উক্ত কমিটি ঘোষণা করা হয়।
কমিটির বাকি দায়িত্বপ্রাপ্তরা হলেন- সহ-সভাপতি ইসরাফিল আলম, মরিয়ম আক্তার চৈতি, সুমন ইসলাম, রেদয়ান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফজলে রাব্বি, আকাশ, আ. আহাদ, মোত্তাকি, দপ্তর সম্পাদক মোজাহিদ হোসেন, শাকিল, দপ্তর সম্পাদক মোজাহিদ (২৩-২৪), অর্থ সম্পাদক রবিউল ইসলাম, প্রচার সম্পাদক নাজমুস সাকিব, শিক্ষা সম্পাদক শ্রাবণ, আইন সম্পাদক আয়েশা সিদ্দিকা, উপ আইন সম্পাদক রিতু মনি, সাংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক সাজু মিয়া, বিতর্ক বিষয়ক সম্পাদক জুলেখা তাসনিম, সমাজকল্যাণ সম্পাদক আ. মান্নান ও ছাত্রী বিষয়ক সম্পাদক ইরানী।
নতুন কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. রবিউস সানি জোহা বলেন, ‘বগুড়া জেলা ছাত্রকল্যাণ সমিতিকে শিক্ষার্থীদের কল্যাণ, ঐক্য ও ভ্রাতৃত্বের একটি কার্যকর সংগঠন হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। নবীন ও প্রবীণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে সুসম্পর্ক বজায় রাখার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে কাজ করবো। সাংস্কৃতিক, সামাজিক ও শিক্ষামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে সংগঠনের পরিসর আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনা রয়েছে।’
দায়িত্ব পেয়ে সভাপতি হযরত আলী বলেন, ‘বগুড়া জেলা ছাত্রকল্যাণ সমিতি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত বগুড়ার শিক্ষার্থীদের একটি ঐক্যবদ্ধ প্ল্যাটফর্ম। শিক্ষার্থীদের মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি, ভ্রাতৃত্ববোধ ও সহযোগিতার সম্পর্ক সুদৃঢ় করতে আমরা কাজ করবো। নবীন শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে পথচলা সহজ করতে এবং যেকোনো প্রয়োজনে তাদের পাশে থাকতে চাই। সংগঠনের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও অংশগ্রহণমূলক করে তুলতে সবার সহযোগিতা কামনা করছি।’