বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) ক্যাম্পাসে মাদক সেবনের সময় তিন কলেজছাত্রকে হাতেনাতে আটক করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি ও ক্যাম্প পুলিশ। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেইরি ফার্ম এলাকায় এক অভিযানে তাদেরকে হাতেনাতে আটক করা হয়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে আরও একজন পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।
ক্যাম্প পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডেইরি ফার্ম এলাকায় অভিযান চালানো হয়। ঘটনাস্থলে গিয়ে চারজনকে মাদক সেবন করতে দেখতে পাওয়া যায়। তিনজনকে হাতেনাতে ধরলেও একজন দৌড়ে পালিয়ে যায়। আটক তিনজনের কাছ থেকে গাঁজাসহ মাদক সেবনের সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। আটক তিনজন ও পালিায়ে যাওয়া ব্যক্তি- চারজনই বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে অবস্থিত কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (কেবি) কলেজের বিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী বলে জানা গেছে।
ঘটনার বিষয়ে ক্যাম্প পুলিশ ইনচার্জ সাইফুল হক বলেন, প্রক্টর স্যারের মাধ্যমে জানতে পারি ডেইরি ফার্মের একটি নির্জন জায়গায় কয়েকজন নিয়মিত গাঁজাসহ মাদক সেবন করে। এর আগেও অভিযান চালানো হলে তাদের দেখা পাওয়া যায়নি। আজকে বেলা ১১টার দিকে প্রক্টরিয়াল বডির সাথে অভিযান চালানো হয়। এসময় তাদের চারজনকে দেখতে পাই। একজন ব্যাগ রেখে দৌড়ে পালাতে সক্ষম হলেও তিনজনকে হাতেনাতে আটক করা হয়।
অভিনব পদ্ধতিতে মাদক সেবনের বিষয়ে তিনি বলেন, তারা এক বোতলে দুই ছিদ্র করে হুক্কার মতো করে মাদক সেবন করে। বোতলের নিচে ছিদ্র করে পাইপে মাদকের স্টিক ঢুকিয়ে পানি দিয়ে অর্ধেক ভর্তি করে। পরে উপরের দিকে একটা ছিদ্র করে। ছিপি বন্ধ করে উপরের ছিদ্র দিয়ে হুক্কার মতো করে টানে। অবাক করা বিষয় এরা মাত্র কলেজের শিক্ষার্থী। পরে আটক তিনজনকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পুলিশ ক্যাম্পে নেওয়া হয় বলে জানান তিনি।
এবিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. আবদুল আলীম বলেন, ডেইরি ফার্ম এলাকায় অভিযান চালিয়ে তিনজকে ধরা ধরা হয়। তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে মাদক সেবনের কথা স্বীকার করে। যে ব্যাগ রেখে পালিয়ে গেছে, তার ব্যাগের মধ্যে মাদকের সরঞ্জাম পাওয়া যায়।
তিনি বলেন, তারা মাত্র কলেজে পড়াশোনা করছে। এদের অনেকের অভিভাবক বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরি করছে। বিষয়টি আসলেই হতাশাজনক।
প্রক্টর আরও বলেন, আটক শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে সামনে এ ধরনের কাজ না করার অঙ্গীকার নেওয়া হয়েছে। তাদের অভিভাবকদের ডাকা হয়। পরে মুচলেকা নিয়ে লিখিতভাবে অভিভাবকদের জিম্মায় তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে অভিভাবকদের কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়েছে, যাতে তারা সন্তানদের নিয়মিত কাউন্সেলিং ও নজরদারিতে রাখেন।
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়
প্রতিষ্ঠার দুই দশক পেরিয়ে গেলেও যুক্তরাজ্যভিত্তিক উচ্চশিক্ষাবিষয়ক সাময়িকী টাইমস হায়ার এডুকেশন (টিএইচই)-এর বৈশ্বিক বিশ্ববিদ্যালয় র্যাঙ্কিংয়ে স্থান পায়নি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় (কুবি)। একইভাবে কোয়াকোয়ারেলি সাইমন্ডস (কিউএস) ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র্যাঙ্কিংয়েও এখন পর্যন্ত স্থান হয়নি বিশ্ববিদ্যালয়টির।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত টাইমস হায়ার এডুকেশনের ২০২৭ সালের ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের ৩৫টি বিশ্ববিদ্যালয় স্থান পেয়েছে। এর মধ্যে ২৫টি বিশ্ববিদ্যালয় র্যাঙ্কিংয়ে এবং ১০টি বিশ্ববিদ্যালয় ‘রিপোর্টার’ হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়েছে। তবে এ তালিকায় নেই কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়।
টিএইচইর ২০২৭ সালের ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র্যাঙ্কিংয়ে বিশ্বের ১১৮টি দেশ ও অঞ্চলের ২ হাজার ২৯৭টি বিশ্ববিদ্যালয় স্থান পেয়েছে। শিক্ষা, গবেষণার মান, গবেষণার পরিবেশ, শিল্প খাতের সঙ্গে সংযোগ এবং আন্তর্জাতিক দৃষ্টিভঙ্গিসহ বিভিন্ন সূচকের ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মূল্যায়ন করা হয়েছে।
জানা গেছে, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর থেকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক র্যাঙ্কিংয়ে অবস্থান উন্নয়নের লক্ষ্যে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তবে সম্প্রতি আন্তর্জাতিক র্যাঙ্কিংয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানা গেছে। গত ২১ জুলাই ২০২৬ তারিখে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মো. মজিবুর রহমান মজুমদারের স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. কাউছার আহমেদ পাটোয়ারীকে আহ্বায়ক এবং ফিন্যান্স ও ব্যাংকিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. মঞ্জুর হোসেনকে সদস্যসচিব করে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়।
কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মো. কাউছার আহমেদ পাটোয়ারী বলেন, “টাইমস হায়ার এডুকেশন ২০২৭ সালের র্যাঙ্কিং প্রকাশ করেছে। র্যাঙ্কিংয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম অন্তর্ভুক্ত করতে নির্দিষ্ট কিছু নিয়ম অনুযায়ী আবেদন করতে হয়। পাশাপাশি আবেদন প্রক্রিয়াটি অনেক আগেই সম্পন্ন করতে হয়। বর্তমানে যে কমিটি গঠন করা হয়েছে, সেটি মাত্র দুই মাস আগে দায়িত্ব পেয়েছে।”
তিনি বলেন, “২০২৮ সালের কিউএস র্যাঙ্কিংয়ের জন্য সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বর এবং ডিসেম্বর থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে আবেদন করতে হবে। তবে যেসব সংস্থা র্যাঙ্কিং প্রকাশ করে, তাদের ওয়েবসাইটে বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি পোর্টাল নিবন্ধিত থাকা প্রয়োজন। এতদিন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের এমন কোনো পোর্টাল ছিল না। বর্তমানে সেই পোর্টাল নিবন্ধন করা হয়েছে।”
অধ্যাপক কাউছার আহমেদ আরও বলেন, “জনপ্রতি ৪৮টি করে তথ্য প্রায় ৪০০ জনের কাছ থেকে সংগ্রহ করে পাঠাতে হবে। পাশাপাশি আমরা আমাদের কমিটির সদস্যদের নিয়ে আগামী সপ্তাহে একটি প্রশিক্ষণের আয়োজন করব। আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি, যাতে ২০২৮ সালের র্যাঙ্কিংয়ে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম আসে।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের র্যাঙ্কিংয়ে না থাকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে ফার্মেসি বিভাগের শিক্ষার্থী আবরার আহমদ আশরাফী বলেন, “প্রতিষ্ঠার পর থেকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় টাইমস হায়ার এডুকেশনে স্থান না পাওয়া একজন শিক্ষার্থী হিসেবে আমাদের জন্য অত্যন্ত হতাশাজনক এবং একই সঙ্গে ক্ষোভের। প্রশ্ন হচ্ছে, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়কে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে তুলে ধরার দায়িত্ব যাদের, তারা আসলে কতটুকু আন্তরিক?”
তিনি আরো বলেন, “একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক র্যাঙ্কিংয়ে অবস্থান শুধু একটি সংখ্যার বিষয় নয়, এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা, গবেষণা, অবকাঠামো এবং সামগ্রিক অগ্রগতির প্রতিফলন। আমরা কি শুধু সার্টিফিকেট অর্জনের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে এসেছি? আমাদের কি গবেষণার স্বপ্ন দেখার অধিকার নেই? আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় কি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের পরিচিত করার যোগ্যতা রাখে না?”
আবরার আহমদ আরও বলেন, “একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন শুধু নতুন ভবন নির্মাণ কিংবা কিছু অবকাঠামোগত পরিবর্তনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে না। গবেষণায় বরাদ্দ, গবেষণার পরিবেশ, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, একাডেমিক পরিকল্পনা এবং র্যাঙ্কিংয়ে অংশগ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত যথাযথভাবে উপস্থাপন—এসব বিষয়েও কার্যকর উদ্যোগ থাকতে হবে।”
এ বিষয়ে গণিত বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল্লাহ আল মাহবুব বলেন, “কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর থেকে টাইমস হায়ার এডুকেশন বা কিউএস র্যাঙ্কিংয়ের কোনোটিতেই আগে আবেদন করা হয়নি। এবারই প্রথম র্যাঙ্কিংয়ে যুক্ত হওয়ার জন্য নিবন্ধন ও আবেদনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের রিসার্চ সেলের পরিচালকের নেতৃত্বে কয়েকজনকে নিয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।”
তিনি বলেন, “আমাদের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের গবেষণার ব্যাপ্তি বিবেচনা করলে অনেক আগেই এই উদ্যোগ নেওয়া উচিত ছিল। বর্তমান উপাচার্য দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই এই উদ্যোগটি হাতে নিয়েছেন।”
অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আল মাহবুব আরও বলেন, “র্যাঙ্কিংয়ের জন্য একটি আলাদা র্যাঙ্কিং সেল গঠন করা উচিত, যার কাজ হবে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান নির্ণয়ের জন্য কাজ করা। সঠিক পরিকল্পনা ও প্রক্রিয়ায় সব তথ্য-উপাত্ত ও প্রোফাইল আপডেট করে আবেদন সম্পন্ন করা সম্ভব হলে, আশা করছি আগামী এক থেকে দুই বছরের মধ্যে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় একটি আন্তর্জাতিক র্যাঙ্কিংয়ে স্থান পাবে।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করীম বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়কে র্যাঙ্কিংয়ে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য প্রয়োজনীয় সব কাজ সম্পন্ন করতে আমরা একটি কমিটি গঠন করেছি। এ বিষয়ে আগামী সপ্তাহে কমিটির সদস্যদের নিয়ে একটি প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হবে, যাতে র্যাঙ্কিংয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম অন্তর্ভুক্তির প্রক্রিয়া সম্পর্কে সবাইকে প্রয়োজনীয় ধারণা দেওয়া যায়।”
তিনি বলেন, “আমরা আপাতত কিউএস র্যাঙ্কিংয়ের দিকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি। পরবর্তী সময়ে টাইমস হায়ার এডুকেশন র্যাঙ্কিংয়ে যাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করব।”
আন্তর্জাতিক ফুড সিস্টেমস ইনোভেশন চ্যালেঞ্জে সাফল্য পেয়েছে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) শিক্ষার্থীদের দল ‘দ্য গোল্ডেন লুপ’। নেদারল্যান্ডসে অনুষ্ঠিত ২০২৬ সালের এ প্রতিযোগিতায় রানার্স-আপ হয়ে শীর্ষ ছয়ে জায়গা করে নিয়েছে দলটি। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন প্রতিযোগিতার কান্ট্রি কো-অর্ডিনেটর ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ বায়োলজি এন্ড জেনেটিক্স বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মতিউর রহমান।
আয়োজক সূত্রে জানা যায়, গত ২৯ সেপ্টেম্বর নেদারল্যান্ডসের ওয়াগেনিঙ্গেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ওম্নিয়া ভবনে এ প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। এসময় ১৭টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩০টি দল অংশগ্রহণ করেন। ওয়াগেনিঙ্গেন ইউনিভার্সিটি অ্যান্ড রিসার্চ (ডব্লিউইউআর) ও নেদারল্যান্ডস ফুড পার্টনারশিপ আয়োজিত ছয় মাসব্যাপী এ প্রতিযোগিতার মূল লক্ষ্য ছিল টেকসই খাদ্যব্যবস্থা, জলবায়ু অভিযোজন ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ।
প্রতিযোগিতায় রানার্স-আপ হয়ে শীর্ষ ছয়ে জায়গা করে নেয় ‘দ্য গোল্ডেন লুপ’। এ অর্জনের মাধ্যমে ২০২৭ সাল থেকে শুরু হতে যাওয়া ‘ইয়ুথ ফুড ল্যাব ইনকিউবেশন’ কর্মসূচিতে সরাসরি অংশগ্রহণের সুযোগও নিশ্চিত করেছে দলটি। ডব্লিউইউআর, ওয়ার্ল্ড ফুড ফোরাম ও আইএএএসের যৌথ উদ্যোগে 'ইয়ুথ ফুড ল্যাব ইনকিউবেশন' আয়োজন করা হবে।
আট সদস্যের ‘দ্য গোল্ডেন লুপ' দলের মূল নেতৃত্বে ছিলেন বাকৃবির ছয় শিক্ষার্থী মুরশিদা জাহান মিতু, নূর আয়শা চৌধুরী, মো.আরকানুল ইসলাম, সাদিয়া ইসলাম বাধন, সাইফা সাবা হোসাইন ও কুর্চি রহমান লুবা। এছাড়া দলে ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লিটন ত্রিপুরা ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আহসানী তাকবিম এশা। এছাড়া দলের মেন্টর হিসেবে ছিলেন ফিশারিজ ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অধ্যাপক ড. হারুনুর রশীদ।
প্রতিযোগিতায় ‘দ্য গোল্ডেন লুপ’ প্রকল্পটি মূলত পাটের বর্জ্য ব্যবহার করে জলজ পরিবেশের সুরক্ষা ও টেকসই খাদ্যব্যবস্থার উদ্ভাবনী সমাধান তুলে ধরে। এতে বর্জ্য পাটের বস্তা প্রক্রিয়াজাত করে তৈরি ‘জুট জিওটেক্সটাইল’ দিয়ে পুকুরের পাড় ক্ষয় রোধ এবং পাটকাঠি থেকে প্রস্তুতকৃত ‘বায়োচার’ দিয়ে পুকুরের পানির মান উন্নয়ন ও প্রাকৃতিক খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি করা হয়।
প্রথম ধাপে নির্বাচিত হয়ে প্রাপ্ত ১ হাজার ইউরোর সিড গ্রান্ট কাজে লাগিয়ে গত মার্চ থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মাঠপর্যায়ের কাজ, কর্মশালা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার মধ্য দিয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হয় বলে জানান দলের সদস্যরা।
সাফল্যের অনুভূতি ব্যক্ত করে দলের সদস্য নূর আয়শা চৌধুরী বলেন, শুরু থেকেই ধারণাটি বাস্তবায়ন করা অনেক বেশি চ্যালেঞ্জিং ছিল। বৃষ্টিপাতসহ বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার পাশাপাশি ক্লাস-পরীক্ষার সঙ্গে নিয়মিত মাঠপর্যায়ের কাজ, নমুনা সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ চালিয়ে যেতে হয়েছে। অনেক সময় মাঠপর্যায়ে গিয়ে নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়েছে এবং সেগুলো নিজেদের উদ্যোগেই সমাধান করতে হয়েছে। এ সময়ে শিক্ষকদের দিকনির্দেশনা ও সহযোগিতা আমাদের কাজ এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। ছয় মাসের নিরলস পরিশ্রমের ফল এই অর্জন। আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করে শীর্ষ ছয়ে জায়গা করে নিতে পেরে আমরা গর্বিত।'
টিম মেন্টর অধ্যাপক ড. হারুনুর রশীদ বলেন, গতবারের চ্যাম্পিয়ন ও এবারের রানার্স আপ দুই দলকেই মেন্টরিং করার সুযোগ পেয়েছি। তিন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আন্ত:বিষয়কভাবে কাজ করেছে এবং প্রকৃতিনির্ভর সমাধানকে গুরুত্ব দিয়েছে। শিক্ষার্থীদের পরিশ্রম ও অর্জনের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারা একজন শিক্ষক হিসেবে আনন্দ ও গৌরবের বিষয়।
কান্ট্রি কো-অর্ডিনেটর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মতিউর রহমান বলেন, বাংলাদেশ থেকে একমাত্র বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ই গত বছর প্রথমবারের মতো এ প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। এ বছরও অংশগ্রহণ করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্মুক্ত প্রতিযোগিতার মাধ্যমে দুটি সম্ভাবনাময় দল নির্বাচন করে কো-অর্ডিনেটর ও মেন্টরদের মাধ্যমে তাদের প্রস্তুত করা হয়। দুই বছরেই বাকৃবির শিক্ষার্থীরা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সাফল্য অর্জন করেছে। ভবিষ্যতেও তারা দেশের জন্য আরও বড় সাফল্য বয়ে আনবে বলে আশা করি।
জবির নাট্যকলা বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সাথে ভারতীয় হাইকমিশনার শ্রী দীনেশ ত্রিবেদী
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) নাট্যকলা বিভাগের শিক্ষার্থীদের অভিনয় ও মঞ্চ পরিবেশনার প্রশংসা করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার শ্রী দীনেশ ত্রিবেদী। শিক্ষার্থীদের অভিনয় দেখে তাদের শিক্ষার্থী নয়, বরং পেশাদার শিল্পী মনে হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির স্টুডিও থিয়েটার হলে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগের চার দিনব্যাপী নাট্য প্রদর্শনীর সমাপনী আয়োজনে ‘ধাবমান’ নাটকের প্রদর্শনী শেষে তিনি এসব কথা বলেন।
নাট্য প্রদর্শনী দেখে অনুভূতি ব্যক্ত করে ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, “এই নাটকে একদম মস্ত বড় ফিলোসফিক্যাল মেসেজ ছিল, মজা ছিল, আর অসাধারণ মিউজিক ছিল।”
নাটকের সঙ্গে দর্শকের সম্পৃক্ততার বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, “নাটক ওইটাই হয়, যা আমরা যখন দেখি, আমরা ভুলে যাই যে এটা নাটক হচ্ছে। এটা মনে হচ্ছে একটা সত্যি কিছু হচ্ছে।” নাটকের বিভিন্ন দৃশ্যে দর্শকদের হাসি ও আবেগের প্রতিক্রিয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমি দেখছিলাম অনেকটা কান্নার দৃশ্য, চোখে জলও বেরচ্ছিল। এটাই হচ্ছে আসল জীবন।”
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগের শিক্ষার্থীদের অভিনয়ের প্রশংসা করে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, “আপনারা মনে হচ্ছে না স্টুডেন্ট, এমনি মনে হচ্ছে প্রফেশনাল।” তিনি জানান, নাটক দেখতে চাওয়ার কথা তিনি তাঁর স্টাফদের জানিয়েছিলেন এবং এদিন সেই সুযোগ পেয়েছেন। প্রদর্শনী দেখতে এসে তাঁর ভালো লেগেছে বলেও জানান তিনি।
ভবিষ্যতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগের নাটক দেখতে আবারও আসার আগ্রহ প্রকাশ করে ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, “যখন আপনার নাটক হবে আমাকে নিশ্চয়ই বলবেন, আমি নিশ্চয়ই আসবো।” পরে তিনি আয়োজকদের শুভকামনা জানান।
নাট্যাচার্য সেলিম আল দীন স্মরণে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগের উদ্যোগে এ চার দিনের নাট্য প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। ২৭ ও ২৮ সেপ্টেম্বর মঞ্চস্থ হয় ‘যৌবতী কন্যার মন’ এবং ২৯ ও ৩০ সেপ্টেম্বর মঞ্চস্থ হয় ‘ধাবমান’। ‘যৌবতী কন্যার মন’ নির্দেশনা দেন আফরিন হুদা তোড়া এবং ‘ধাবমান’ নির্দেশনা দেন কৃপাকণা তালুকদার।
সমাপনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগের চেয়ারম্যান রুবাইয়া জাবীন প্রিয়তা, সহকারী অধ্যাপক কামলউদ্দিন কবির, সহকারী অধ্যাপক ক্যাথরিন পিউরিফিকেশনসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও নাট্যব্যক্তিত্বরা।
সমাপনী বক্তব্যে নাট্যকলা বিভাগের চেয়ারম্যান রুবাইয়া জাবীন প্রিয়তা চার দিনের আয়োজন সফলভাবে সম্পন্ন করায় সংশ্লিষ্ট শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও আমন্ত্রিত অতিথিদের ধন্যবাদ জানান। একই সঙ্গে তিনি ভারতীয় হাইকমিশনার শ্রী দীনেশ ত্রিবেদীকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে আমন্ত্রণ জানান।
চার দিনের এ আয়োজনে নাট্যকলা বিভাগের শিক্ষার্থীরা অভিনয় ও প্রযোজনার মাধ্যমে নাট্যাচার্য সেলিম আল দীনের নাট্যকর্ম দর্শকদের সামনে তুলে ধরেন। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির স্টুডিও থিয়েটার হলে ধারাবাহিক এ প্রদর্শনী বিভাগের শিক্ষার্থীদের মঞ্চচর্চা ও প্রযোজনাভিত্তিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে অনুষ্ঠিত হয়।
ছবি : সংগৃহীত
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় চলন্ত শাটলে বসা অবস্থায় এক ছাত্রীর কান থেকে স্বর্ণের দুল ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। ক্যাম্পাসের ভেতরেই এমন ঘটনায় ঢাবি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা প্রশ্ন উঠেছে। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় হাজী মুহম্মদ মুহসীন হল মাঠসংলগ্ন গেটের সামনে চলন্ত শাটলে থাকা এক ছাত্রীর কান থেকে দুল ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, মোটরসাইকেলে থাকা এক ব্যক্তি শাটলের পাশে এসে মুহূর্তের মধ্যে দুল ছিনিয়ে পালিয়ে যান।
ঘটনার পর আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী সানজিদা আক্তার। তার প্রশ্ন, ক্যাম্পাসের ভেতরে, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব পরিবহনে যাতায়াতের সময়ও যদি শিক্ষার্থীরা নিরাপদ না থাকেন, তাহলে নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে কোথায়?
ভুক্তভোগী সানজিদা বিশ্ববিদ্যালয়ের শামসুন নাহার হলের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। ঘটনার পর থেকে হলের বাইরে বের হতেও ভয় লাগছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
সানজিদা জানান, মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টা ২২ মিনিট থেকে ৭টা ২৬ মিনিটের মধ্যে এ ঘটনা ঘটে। ওই সময় তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তি ও গণতান্ত্রিক তোরণ গেট থেকে ক্যাম্পাসের দিকে শাটলে করে যাচ্ছিলেন। শাটলটি হাজী মুহম্মদ মুহসীন হল মাঠসংলগ্ন গেটের সামনে পৌঁছালে সাদা জামা পরা এক ব্যক্তি মোটরসাইকেল নিয়ে শাটলের পাশে আসেন। এরপর হঠাৎ তার কান থেকে টান দিয়ে একটি স্বর্ণের দুল ছিনিয়ে নেন। পরে দ্রুত ভিসি চত্বরের দিকে পালিয়ে যান ওই ব্যক্তি।
ঘটনার বর্ণনা দিয়ে সানজিদা বলেন, ‘শাটলটি হাজী মুহম্মদ মুহসীন হল মাঠের গেটের সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় হঠাৎ সাদা জামা পরিহিত এক ব্যক্তি বাইক নিয়ে আমার কান থেকে টান দিয়ে একটি স্বর্ণের দুল ছিনিয়ে নেন। পরে দ্রুত ভিসি চত্বরের দিকে পালিয়ে যান।’
হঠাৎ কান থেকে দুল টান দিয়ে নেওয়ায় শারীরিকভাবে আহত হওয়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছিল তার। কান ছিঁড়ে যেতে পারত- এমন আতঙ্ক এখনো কাটেনি। ঘটনার পর ক্যাম্পাসে চলাফেরায় নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন তিনি।
সানজিদা বলেন, ‘ক্যাম্পাসের ভেতরে, তাও আবার চলন্ত শাটলে এরকম ঘটনা ঘটল। আমার হয়তো ভাগ্য ভালো ছিল, কান ছিঁড়ে যায়নি। এখন তো ক্যাম্পাসে বের হতেই ভয় লাগছে। এর সমাধান আদৌ হবে কি না, জানি না।’
তিনি আরও বলেন, ‘ক্যাম্পাসের একদম ভেতরে এ ঘটনা মানতেই পারছি না। ঘটনার পর থেকে হলের বাইরে যেতেও ভয় লাগছে।’
ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। অভিযুক্ত ব্যক্তিকে শনাক্ত করতে ক্যাম্পাসের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ইসরাফিল রতন।
তিনি বলেন, ‘ভুক্তভোগী ছাত্রীর সঙ্গে আমার এখনো সরাসরি কথা হয়নি। তবে আমরা অভিযোগ দিতে বলেছি। পাশাপাশি সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।’
এদিকে ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা জোরদারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিসম্পন্ন ক্যামেরা বসানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রক্টর। তার ভাষ্য, ‘ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা বৃদ্ধিতে এআই ক্যামেরা বসানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে উপাচার্য বিষয়টি অনুমোদন দিয়েছেন।’
তবে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি চালুর উদ্যোগের মধ্যেই ক্যাম্পাসের ভেতরে এমন ঘটনার অভিযোগ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তাব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর হলসংলগ্ন সড়ক ও ক্যাম্পাসের বিভিন্ন পয়েন্টে নজরদারি এবং নিরাপত্তাকর্মীদের উপস্থিতি কতটা কার্যকর, তা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিয়মিত যাতায়াতের অন্যতম মাধ্যম শাটল। ক্যাম্পাসের বিভিন্ন গেট ও গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট হয়ে চলাচল করা এই পরিবহনকে ঘিরে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ ঘটনায় বুধবার পর্যন্ত কাউকে আটক বা গ্রেপ্তারের তথ্য পাওয়া যায়নি। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে শনাক্তের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর প্রত্যাশা, দ্রুত অভিযুক্ত ব্যক্তিকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি ক্যাম্পাসের ভেতরে শিক্ষার্থীদের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পর্দায় চলচ্চিত্র দেখার অভিজ্ঞতার বাইরে গিয়ে চলচ্চিত্র কীভাবে সংরক্ষিত হয়, পুরোনো সিনেমার উপকরণ কীভাবে রক্ষা করা হয় এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য চলচ্চিত্রের ইতিহাস কীভাবে ধরে রাখা হয়, এসব বিষয়ে বাস্তব ধারণা নিতে বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভ পরিদর্শন করেছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন বিভাগের বিভিন্ন বর্ষের শিক্ষার্থীরা।
আজ বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন বিভাগের শিক্ষক লাবিব নাজমুছ ছাকিবের সমন্বয়ে এই আয়োজনটি সম্পন্ন হয়।
পরিদর্শনকালে শিক্ষার্থীরা বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভের ফিল্ম মিউজিয়াম, ভল্ট, ডিজিটাল ল্যাব ও লাইব্রেরি ঘুরে দেখেন। এসব স্থানে চলচ্চিত্র সংরক্ষণ, পুরোনো চলচ্চিত্রের সংরক্ষিত উপকরণ এবং ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে চলচ্চিত্র রক্ষার বিভিন্ন কার্যক্রম সম্পর্কে ধারণা নেন তারা।
পরিদর্শনের অংশ হিসেবে শিক্ষার্থীরা জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম অভিনীত ও পরিচালিত চলচ্চিত্র ‘ধ্রুব’ উপভোগ করেন। এর মাধ্যমে চলচ্চিত্রের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সরাসরি পরিচিত হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।
পরে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে ‘বাংলাদেশের চলচ্চিত্র: ঐতিহ্য, সংরক্ষণ ও সমকালীন প্রেক্ষাপট’ শীর্ষক একটি বিশেষ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।
সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভের মহাপরিচালক ম. জাভেদ ইকবাল। আলোচনায় আরও অংশ নেন পরিচালক ফারহানা রহমান, উপপরিচালক মো. মনিরুজ্জামান এবং উপপ্রকল্প পরিচালক মো. রুবেল রানা।
সেমিনারে বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের ঐতিহ্য, চলচ্চিত্র সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা এবং সমকালীন চলচ্চিত্রের প্রেক্ষাপট নিয়ে আলোচনা করা হয়। একই সঙ্গে চলচ্চিত্রের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান সংরক্ষণে প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ ও প্রযুক্তির ভূমিকা নিয়েও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় হয়।
সেমিনারের পর উন্মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন বিভাগের শিক্ষার্থীরা। এ সময় তারা বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা নিয়ে প্রশ্ন করেন এবং প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে নিজেদের আগ্রহ, অনুভূতি ও প্রত্যাশার কথা জানান।
শিক্ষার্থীদের জন্য এ আয়োজন শ্রেণিকক্ষের পাঠের পাশাপাশি চলচ্চিত্র সংরক্ষণ ও আর্কাইভ ব্যবস্থাপনার বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের একটি সুযোগ তৈরি করেছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইস উদ্দিনের ছবি ও পদবি ব্যবহার করে তার নামে ভুয়া ফেসবুক ও হোয়াটসঅ্যাপ আইডি খোলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন।
গতকাল মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বিষয়টি জানান।
পোস্টে তিনি বলেন, কে বা কারা আমার ছবি ও পদবি ব্যবহার করে আমার নামে ফেসবুক ও হোয়াটসঅ্যাপ আইডি খুলেছে বলে তিনি জানতে পেরেছেন। তার প্রকৃত ফেসবুক ও হোয়াটসঅ্যাপ আইডি একটি এবং তিনি দীর্ঘদিন ধরে সেটিই ব্যবহার করে আসছেন বলে জানান।
এ বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে উপাচার্য বলেন, তার ছবি ও পদবি ব্যবহার করে খোলা এসব আইডির মাধ্যমে কেউ প্রপাগান্ডা ছড়াচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, "আমি ইতোমধ্যে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছি। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখার অনুরোধ করেছি।"
ভুয়া আইডি থেকে কোনো ধরনের বার্তা, তথ্য বা যোগাযোগ করা হলে তা বিশ্বাস না করার এবং সতর্ক থাকার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন জবি উপাচার্য।