নোবিপ্রবি ডিবেটিং সোসাইটির আয়োজনে ‘মাধুকরী ২৬'

  • প্রকাশ : সোমবার ১২ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৯:৫০ এএম

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) ‘মাধুকরী ২৬’ নামে চড়ুইভাতির আয়োজন করেছে নোবিপ্রবি ডিবেটিং সোসাইটি। গত ১১ অক্টোবর আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে ক্লাবের বিভিন্ন ব্যাচের সদস্যরা অংশ নেন।

চড়ুইভাতিতে খাওয়া-দাওয়ার পাশাপাশি ছিল ঝুড়িতে বল নিক্ষেপ, পিলো পাসিং ও র‍্যাফেল ড্রসহ বিভিন্ন বিনোদনমূলক আয়োজন। এসব আয়োজনে অংশ নিয়ে সদস্যরা আনন্দ ও উৎসবে মেতে ওঠেন।


অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নোবিপ্রবি ডিবেটিং সোসাইটির সহকারী মডারেটর ও বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আফরিদা জিননুরাইন উর্বী। তিনি বল নিক্ষেপ ও র‍্যাফেল ড্রতে অংশ নিয়ে আয়োজনকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলেন।

আয়োজকরা জানান, ক্লাবের সদস্যদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ ও সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক আরও দৃঢ় করার পাশাপাশি আনন্দঘন সময় কাটানোর উদ্দেশ্যেই এ আয়োজন করা হয়।


নোবিপ্রবি ডিবেটিং সোসাইটির সভাপতি নাইম উদ্দিন রাফি বলেন, “আজকের আয়োজনটা সত্যিই অসাধারণ হয়েছে। এই আয়োজনে সবার অংশগ্রহণ দেখে খুব ভালো লাগছে। এভাবে প্রোগ্রামটাকে প্রাণবন্ত করার জন্য জুনিয়রদের অসংখ্য ধন্যবাদ।

“তবে অর্গানাইজিং টিম হিসেবে ১৮ ব্যাচ বড় একটা ধন্যবাদ পাওয়ার দাবিদার। এই আয়োজনটা করার জন্য গত এক সপ্তাহ ধরে ১৮ ব্যাচের জুনিয়ররা অনেক কষ্ট করে যাচ্ছে। এমনকি আয়োজনটা সুন্দরভাবে সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করার জন্য আজ সকাল থেকে তারা কষ্ট করছে। পাশাপাশি ১৯ ও ২০ ব্যাচের কিছু জুনিয়রও সকাল থেকে কষ্ট করছে। তাদেরকেও অর্গানাইজিং টিমের অংশ হয়ে কাজ করার জন্য অনেক অনেক ধন্যবাদ।”


ক্লাবের সিনিয়র এক্সিকিউটিভ মেম্বার আকরাম হোসাইন বলেন, “ডিবেটিং সোসাইটির নতুন মুখ ১৯/২০ ব্যাচ নিয়ে এটাই প্রথম ইনফরমাল প্রোগ্রাম ছিল। সো, জুনিয়র-সিনিয়রদের স্বতঃস্ফূর্ত একটা আয়োজন ছিল। আমি মনে করি, যেটা ক্লাবের জন্য খুবই ইতিবাচক দিক।

“লাস্টলি, অর্গানাইজার হিসেবে সারাদিন কঠোর পরিশ্রম করার পরে যখন শুনতে পাই, ‘ভাই, খাবারটা সেরা ছিল’, ‘ডালের স্বাদটা এখনো মুখে লেগে আছে’, ‘টমেটো চাটনিটা বেস্ট হয়েছে’ দিনশেষে এগুলাই সার্থকতা।জুনিয়র-সিনিয়র মিলিয়ে এমন প্রোগ্রাম আরও হোক, ডিএস এগিয়ে যাক। এটাই প্রত্যাশা।”


ক্লাবের জেনারেল মেম্বার মাহবুবা রিচি বলেন, “গতকালের চড়ুইভাতির আয়োজনটা সত্যিই অনেক সুন্দর ছিল। সবার সঙ্গে একসঙ্গে সময় কাটানো, খাওয়া-দাওয়া, আনন্দ করা, সব মিলিয়ে দিনটা বেশ ভালো কেটেছে। এমন ছোট ছোট আয়োজনই আমাদের মধ্যে সুন্দর সম্পর্ক তৈরি করে এবং অনেক স্মৃতি উপহার দেয়।

“তার ওপর আনন্দ আরও বাড়িয়ে দিতে খেলাধুলার সেগমেন্টও রাখা হয়েছিল। অনুষ্ঠানে র‍্যাফেল ড্রয়ের মাধ্যমে একটি পুরস্কারও পেয়েছিলাম। যদিও এটি একদম অপ্রত্যাশিত ছিল, তাই আনন্দটাও একটু বেশি।

এত সুন্দর একটা আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পেরে ভালো লেগেছে। যারা আয়োজনের পেছনে পরিশ্রম করেছেন, সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ। আশা করি, ভবিষ্যতেও এমন সুন্দর আয়োজনের মাধ্যমে আমরা সবাই একসঙ্গে অনেক আনন্দময় মুহূর্ত কাটাতে পারব। ধন্যবাদ সবাইকে।”



সর্বশেষ সব খবর

চুয়েটের উপাচার্য ভবনের গেটে তালা

  • প্রকাশ : সোমবার ১২ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৪:০৬ পিএম

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) চলমান অচলাবস্থার মধ্যে নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে দুপুর ১২টার মধ্যে উপাচার্য ভবন ছাড়ার আলটিমেটাম দেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভবন না ছাড়ায় এরই মধ্যে ভবনের গেটগুলোতে তালা দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। এ ছাড়া ভবনটির বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। আজ সোমবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়ে এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন আন্দোলনকারীরা। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে উপাচার্য ভবন না ছাড়লে ভবনটিকে ‘ভ্যাকেন্ট’ ঘোষণা করার হুঁশিয়ারি দেন তারা। 


এদিকে উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম শিক্ষার্থীদের প্রতি সহনশীল থাকার কথা জানিয়ে বলেন, ‘আমি শিক্ষার্থীদের প্রতি সহনশীল। তবে তারা যদি বিদ্যুৎ ও পানির মতো প্রয়োজনীয় সেবাগুলো বন্ধ না করে, তাহলে ভালো হয়। আমি তাদের সঙ্গে বসতে আগ্রহী।’


শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনার বিষয়ে তিনি আরও বলেন, ‘আমি ছাত্রকল্যাণ অধিদপ্তরের শিক্ষকদের অপেক্ষায় আছি। তাঁরা এলে আমি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বসব।’


এদিকে শহর থেকে শিক্ষার্থীদের বহনকারী বাস ক্যাম্পাসে আসার সময় হাটহাজারী উপজেলার বুড়িশ্চর এলাকায় পথরোধ করে স্থানীয় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। এ সময় শিক্ষার্থীদের গায়ে হাত তোলার অভিযোগ উঠে তাদের বিরুদ্ধে। সর্বশেষ তারা বাসগুলোকে পুনরায় শহরের দিকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। বিকেল তিনটায় যৌথ সংবাদ সম্মেলন করেন শিক্ষক কর্মকর্তা এবং কর্মচারী সমিতি। 


সংবাদ সম্মেলনে তারা জানায়, নতুন উপাচার্যের আগমনে যদি ক্যাম্পাসে  কোনো জটিল পরিস্থিতি সৃষ্টি হয় তার সম্পূর্ণ দায়ভার নবনিযুক্ত উপাচার্যের উপর বর্তাবে। পাশাপাশি তাদের পূর্বঘোষিত কর্মবিরতি চলমান থাকবে। সংবাদ সম্মেলন শেষে একটি র‌্যালি বের করেন তারা। র‌্যালি শেষে বক্তব্যে তারা শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার তীব্র নিন্দা জানান এবং হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান তারা। 


এর আগে সকালে চলমান অচলাবস্থার মধ্যে নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরিফুল আলম প্রশাসনিক ভবনের তালা ভেঙে নিজ দপ্তরে প্রবেশ করেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক কয়েকজন শিক্ষার্থী ও ছাত্রদলের নেতারা ছিলেন। পরে রুটিন দায়িত্বে থাকা অধ্যাপক আরাফাত রহমান নতুন উপাচার্যের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করেন। 


এ ঘটনার পর সকাল ১০টার দিকে উপাচার্য ভবনের সামনে জড়ো হতে থাকেন শিক্ষার্থীরা। তারা সেখানে অবস্থান নিয়ে নতুন উপাচার্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানান। দুপুর ১২টার মধ্যে উপাচার্য ভবন ছাড়ার আল্টিমেটাম দেন আন্দোলনকারীরা। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভবন ত্যাগ না করলে ভবনের ফটকে তালা এবং বাইরে থেকে বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার ঘোষণা দেওয়া হয়। তারা উপাচার্য ভবনকে ‘ভ্যাকেন্ট’ ঘোষণা করার কথা জানান। একই সঙ্গে কর্মসূচি সফল করতে সবাইকে উপাচার্য ভবনের সামনে অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।


অধ্যাপক শেখ শরিফুল আলম উপাচার্য ভবনে অবস্থান করছেন। তাঁর সঙ্গে ছাত্রদলের নেতারা রয়েছেন। সেখানে সিভিল পোশাকে পুলিশ সদস্যদের দেখা গেছে।  দুই তিনজন সাবেক শিক্ষার্থী ফুল আর খাবার নিয়ে উপাচার্য ভবনে ঢুকতে গেলে বাধা দেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় তৈরি হয় উত্তেজনা।  এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক বিপ্লব হোসেন তন্ময়ের সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয় ছাত্রদল সমর্থক শিক্ষার্থী সাদ বিন মোস্তফার। পরক্ষণেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। 


সকাল থেকে কোনো দাপ্তরিক কাজ করছেন কিনা এ বিষয়ে জানতে চাইলে নতুন উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরিফুল আলম বলেন,‘না, সকাল থেকে তেমন কোনো দাপ্তরিক কাজ করা হয়নি।’ ক্যাম্পাসে নতুন উপাচার্যের প্রবেশের বিষয়ে ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবু সুফিয়ান আল সাবিত বলেন, ‘আমরা একসঙ্গেই প্রবেশ করেছি।’


ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক বিপ্লব হোসেন তন্বয় বলেন, ‘সরকার যেহেতু স্যারকে দায়িত্ব দিয়েছে, তার দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে আমরা ছাত্রদলের পক্ষ থেকে সহযোগিতা করেছি।’


শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের বিষয়ে বিপ্লব হোসেন বলেন, ‘যাকে কোনো কাজ করতে দেওয়া হয়নি, তার কাজ নিয়ে তো শিক্ষার্থীদের শঙ্কিত হওয়া উচিত নয়। স্যারকে কাজের সুযোগ দিয়ে তাকে মূল্যায়ন করা উচিত।’


চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মাহিদুর রহমান ওসমানী বলেন, ‘আমরা ওনাকে প্রত্যাখ্যান করেছি। সবাই যখন ঘুমে ছিল, তখন তিনি চুপিচুপি প্রবেশ করলেই আমরা তাকে মেনে নেব, এটা ভাবা বোকামি। তার বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান অব্যাহত থাকবে।’


সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে চুয়েটে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের কর্মবিরতি এবং শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে ক্যাম্পাসে অচলাবস্থা চলছে। এর মধ্যেই নতুন উপাচার্যের ক্যাম্পাসে প্রবেশ ও দায়িত্ব পালন নিয়ে উত্তেজনা আরও বাড়ছে। ২২ সেপ্টেম্বর থেকে শিক্ষার্থীদের ‘সর্বাত্মক শাটডাউন’ কর্মসূচি চলছে। এ সময় তারা মশাল মিছিল, লাল কার্ড প্রদর্শনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছেন। আন্দোলনের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। 


সর্বশেষ সব খবর

উপাচার্য ভবনকে ‘ভ্যাকেন্ট’ ঘোষণা করার ঘোষণা দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা

  • প্রকাশ : সোমবার ১২ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১২:৫৩ পিএম

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) চলমান অচলাবস্থার মধ্যে নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরিফুল আলমকে আজ সোমবার দুপুর ১২টার মধ্যে উপাচার্য ভবন ছাড়ার আল্টিমেটাম দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভবন ত্যাগ না করলে ভবনের ফটকে তালা এবং বাইরে থেকে বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। আজ সোমবার এ ঘোষণা দেন আন্দোলনকারীরা। তারা উপাচার্য ভবনকে ‘ভ্যাকেন্ট’ ঘোষণা করার কথা জানান। একই সঙ্গে কর্মসূচি সফল করতে সবাইকে উপাচার্য ভবনের সামনে অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।


এই প্রতিবেদন লেখার সময় দুপুর পৌনে ১টা পর্যন্ত তিনি উপাচার্য ভবনে অবস্থান করছেন। তাঁর সঙ্গে ছাত্রদলের নেতারা রয়েছেন। সেখানে সিভিল পোশাকে পুলিশ সদস্যদের দেখা গেছে।  


এর আগে সকালে প্রশাসনিক ভবনের তালা ভেঙে নিজ দপ্তরে প্রবেশ করেন নতুন উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম। পৌনে ৯টার দিকে তিনি ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন। এ সময় তার সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক কয়েকজন শিক্ষার্থী ও ছাত্রদলের নেতারা ছিলেন।


পরে রুটিন দায়িত্বে থাকা অধ্যাপক আরাফাত রহমান নতুন উপাচার্যের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করেন। এ ঘটনার পর সকাল ১০টার দিকে উপাচার্য ভবনের সামনে জড়ো হতে থাকেন শিক্ষার্থীরা। তারা সেখানে অবস্থান নিয়ে নতুন উপাচার্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানান।


দুই তিনজন সাবেক শিক্ষার্থী ফুল আর খাবার নিয়ে উপাচার্য ভবনে ঢুকতে গেলে বাধা দেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় তৈরি হয় উত্তেজনা।  এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক বিপ্লব হোসেন তন্ময়ের সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয় ছাত্রদল সমর্থক শিক্ষার্থী সাদ বিন মোস্তফার। পরক্ষণেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। 


নতুন উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরিফুল আলম বলেন, ‘আমি সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ করেছি। বর্তমানে ছাত্রকল্যাণ অধিদপ্তরের শিক্ষকদের জন্য অপেক্ষা করছি। তাঁরা আসলে আমি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বসবো, তাদের সাথে কথা বলব।’ 


সকাল থেকে কোনো দাপ্তরিক কাজ করছেন কিনা এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘না, সকাল থেকে তেমন কোনো দাপ্তরিক কাজ করা হয়নি।’ 


ক্যাম্পাসে নতুন উপাচার্যের প্রবেশের বিষয়ে ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবু সুফিয়ান আল সাবিত বলেন, ‘আমরা একসঙ্গেই প্রবেশ করেছি।’


ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক বিপ্লব হোসেন তন্বয় বলেন, ‘সরকার যেহেতু স্যারকে দায়িত্ব দিয়েছে, তার দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে আমরা ছাত্রদলের পক্ষ থেকে সহযোগিতা করেছি।’

চুয়েটে উপাচার্য ভবনের সামনে আন্দোলনকারীদের অবস্থান

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের বিষয়ে বিপ্লব হোসেন বলেন, ‘যাকে কোনো কাজ করতে দেওয়া হয়নি, তার কাজ নিয়ে তো শিক্ষার্থীদের শঙ্কিত হওয়া উচিত নয়। স্যারকে কাজের সুযোগ দিয়ে তাকে মূল্যায়ন করা উচিত।’


চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মাহিদুর রহমান ওসমানী বলেন, ‘আমরা ওনাকে প্রত্যাখ্যান করেছি। সবাই যখন ঘুমে ছিল, তখন তিনি চুপিচুপি প্রবেশ করলেই আমরা তাকে মেনে নেব, এটা ভাবা বোকামি। তার বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান অব্যাহত থাকবে।’


উল্লেখ্য, সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে চুয়েটে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের কর্মবিরতি এবং শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে ক্যাম্পাসে অচলাবস্থা চলছে। এর মধ্যেই নতুন উপাচার্যের ক্যাম্পাসে প্রবেশ ও দায়িত্ব পালন নিয়ে উত্তেজনা আরও বাড়ছে। 


২২ সেপ্টেম্বর থেকে শিক্ষার্থীদের ‘সর্বাত্মক শাটডাউন’ কর্মসূচি চলছে। এ সময় তারা মশাল মিছিল, লাল কার্ড প্রদর্শনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছেন। আন্দোলনের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।



বিষয় :

সর্বশেষ সব খবর

নিজের দপ্তরে চেয়ারে বসে রয়েছেন উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম

  • প্রকাশ : সোমবার ১২ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১১:৩৪ এএম

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) প্রশাসনিক ভবনের তালা ভেঙে নিজ দপ্তরে প্রবেশ করেছেন নতুন উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম। সোমবার সকাল পৌনে নয়টার দিকে তিনি ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন। এ সময় তার সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক কয়েকজন শিক্ষার্থী ও ছাত্রদলের নেতারা ছিলেন। পরে রুটিন দায়িত্বে থাকা অধ্যাপক আরাফাত রহমান নতুন উপাচার্যের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করেন। এ ঘটনার পর সকাল ১০টার দিকে উপাচার্য ভবনের সামনে জড়ো হতে থাকেন শিক্ষার্থীরা। তারা সেখানে অবস্থান নিয়ে নতুন উপাচার্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানান।


চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মাহিদুর রহমান ওসমানী বলেন, ‘আমরা ওনাকে প্রত্যাখ্যান করেছি। সবাই যখন ঘুমে ছিল, তখন তিনি চুপিচুপি প্রবেশ করলেই আমরা তাকে মেনে নেব, এটা ভাবা বোকামি। তার বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান অব্যাহত থাকবে।’


সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে চুয়েটে দীর্ঘদিন ধরে অচলাবস্থা চলছে। এ দাবিতে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা কর্মবিরতি ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন। একই দাবিতে আন্দোলন করছেন শিক্ষার্থীরাও।


গত ২২ সেপ্টেম্বর থেকে শিক্ষার্থীদের ‘সর্বাত্মক শাটডাউন’ কর্মসূচি চলছে। এ সময় তারা মশাল মিছিল, লাল কার্ড প্রদর্শনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছেন। আন্দোলনের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।



সর্বশেষ সব খবর

রাসেল ও সামিয়া

  • প্রকাশ : রবিবার ১১ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১০:১৯ পিএম

বসুন্ধরা শুভসংঘ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) শাখার নতুন কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। কমিটিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের রাসেল শেখ সভাপতি, ইতিহাস বিভাগের ২০২২-২৩  শিক্ষাবর্ষের সামিয়া আক্তার সাধারণ সম্পাদক এবং লোক প্রশাসন বিভাগের ২০২৩-২৪ বর্ষের তওসিফ আহম্মেদ মাহিন সাংগঠনিক সম্পাদক মনোনীত হয়েছেন।


আজ রবিবার (১২ অক্টোবর) বসুন্ধরা শুভসংঘের পরিচালক ও কালের কণ্ঠের জ্যেষ্ঠ সহসম্পাদক জাকারিয়া জামান ১২৭ সদস্যবিশিষ্ট এই কমিটির অনুমোদন দেন। আগামী এক বছরের জন্য এই কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।


কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন নির্বাহী সভাপতি: রাকিবুল ইসলাম রিফাত। সিনিয়র সহসভাপতি: বুশরাত আক্তার বর্ষা, রতন হোসেন, মোসলেম উদ্দিন।


সহসভাপতি: মো. আল শাহরিয়ার খান, তানভীর আনজুম বিশ্বাস, মো. ইসমাইল হোসেন, মাহফুজা খানম একা, আবু মুছা। যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক: মো. সাইখুল আলম রিংকু, খাদিজা খাতুন, মালিহা আক্তার, মো. শাহরিয়াজ আহমেদ রাতুল, আতিক দেওয়ান, রিয়াদ হাসান হিরা, মুনিরউদ্দিন শেখ, মিথিলা আহসান।


সাংগঠনিক সম্পাদক: তওসিফ আহমেদ মাহিন, সহসাংগঠনিক সম্পাদক: জুহার আলমাস লাবিব, ইব্রাহিম শেখ।


দপ্তর সম্পাদক: রোহান, সহদপ্তর সম্পাদক: মো. আমিনুর রহমান, মো. সারোয়ার জাহান।


অর্থ সম্পাদক: আমির হোসেন (০১), মোহন খন্দকার (০২), সহঅর্থ সম্পাদক: মো. হাসান। 


প্রচার সম্পাদক: সুহাইল আহমদ, সহপ্রচার সম্পাদক: জাহাঙ্গীর আলম, মো. আকাশ আহমেদ রুপন, সজিব উদ্দিন, মো. রিফকুল ইসলাম, মো. মাহফুজ আলম তৌহিদ।


সহনারী বিষয়ক সম্পাদক: আফিয়া আদিবা এষা, সানজিদা ইসলাম তমা, মুরশিদা আক্তার খতু, শ্রাবণী চৌধুরী, তানিয়া খাতুন। শিশু বিষয়ক সম্পাদক: মেহেরুননেছা প্রীতি। সহশিশু বিষয়ক সম্পাদক: অন্তরা আক্তার নদী, ইকরা জাহান মিম, সাদিয়া আক্তার, আবিদা সুলতানা আখি, লাবনী আক্তার কবিতা, রাইসা সামিহা। ইভেন্ট সম্পাদক: সামছুন নাহার মুক্তা। সহইভেন্ট সম্পাদক: আছিয়া লিমা, মেহেদী হাসান হৃদয়, এ টি এম হাসনাত হাবিব, হাবিবুর রহমান হাসিব, মোছা. ফারজানা আক্তার, রুপা সুলতানা। কর্মপরিকল্পনা সম্পাদক: জুবায়ের। সহকর্মপরিকল্পনা সম্পাদক: সুরাইয়া, মোছা. সোনালি খাতুন, মুহাইমিন আহমেদ, মো. আব্দুল্লাহ।


সাহিত্য ও পাঠচক্র সম্পাদক: মুনজির আলামিন, সহসাহিত্য ও পাঠচক্র সম্পাদক: রায়হান কবির রাজু, আব্দুল্লাহ আল কাওসার, মোছা. সুমাইয়া খাতুন, সাবিনা ইয়াসমিন, মো. জামাল হোসেন।


সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক: মো. জিসান ইসলাম জিহাদ। সহসাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক: কাজী মারুফ। স্বাস্থ্য ও মানবসম্পদ বিষয়ক সম্পাদক: মোছা. সোনালি খাতুন। সহস্বাস্থ্য ও মানবসম্পদ বিষয়ক সম্পাদক: রীতু রায়, সৌরভ ভট্টাচার্য, মো. রমজান আলী, সুরাইয়া আক্তার। ক্রীড়া সম্পাদক: তৌহিদুল ইসলাম। সহক্রীড়া সম্পাদক: শরিফুল ইসলাম, মোছা. রেশমী আক্তার, মোছা. জান্নাতী খাতুন, নাইমুর রহমান, মো. সজিব হোসেন, রবিউল হোসেন।


তথ্য ও প্রযুক্তি সম্পাদক: মাহমুদুর রহমান, সহতথ্য ও প্রযুক্তি সম্পাদক: সত্য কুমার তঞ্চঙ্গ্যা, মোছা. সুমাইয়া খাতুন। তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক: তানসেন বৈরাগী সরকার। সহতথ্য ও গবেষণা সম্পাদক: এস. এম. এন রাহাত। শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক: আশা মনি। সহশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক: শারমিলা আক্তার জেরিন, রাফিয়া রাইহান রিশা, তাহেরা খাতুন, মো. রাসেল খন্দকার, রাফিজুল ইসলাম। আপ্যায়ন বিষয়ক সম্পাদক: এনায়েত উল্লাহ। সহআপ্যায়ন বিষয়ক সম্পাদক: মো. মহিবুল্লাহ হোসেন, তানিয়া আক্তার, বিশ্বা রানী কুন্ডু, আছিয়া খাতুন, নাসিফ রাহাত রাজু।


ত্রাণ ও দুর্যোগ বিষয়ক সম্পাদক: আমির হামযাহ শহিদ৷ সহত্রাণ ও দুর্যোগ বিষয়ক সম্পাদক: শুভ আহমেদ, শায়লা নাজনিন, মো. মোস্তাকিম মিয়া, তানজীমুল ইসলাম উপল।


সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক: মো. শাহিনুর আলম। সহসমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক: রিয়াদ হাসান হৃদয়, আফসানা আক্তার, পাখি আক্তার, নিশাত আরা লিমা।


কার্যকরী সদস্য: স্বপ্না খাতুন, নওশিন বিনতে আলম, মো. হাবিবুর রহমান, ওসমান গনি, মো. ইলিয়াস আলী ইকরাম, মাহিদ হাসান, তানজীমুল ইসলাম উপল, জান্নাতুল বুসরা মোনালিসা, মোছা. বুশরা আক্তার, অন্তরা আক্তার নদী, মিশকাতুল জান্নাত ইকোন, শারমি আক্তার, রিফাত হোসেন, মো. হাসিবুর কুরাইশী, শরিফা আক্তার সুমা, নাজমুন আক্তার সাফিয়া, মো. শিশির আলম, রাসেল মিয়া, সজয়, মোছা. মায়া আক্তার, নাসিফ রাহাত।

সর্বশেষ সব খবর
  • প্রকাশ : রবিবার ১১ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৮:১৯ পিএম
  • আপডেট : রবিবার ১১ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৮:১৯ এএম

এ সম্পর্কিত আরও খবর


  • প্রকাশ : রবিবার ১১ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৮:১৯ পিএম

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) সাংস্কৃতিক সংগঠন পদচিহ্নের ২০২৬-২৭ কার্যকরী কমিটি পূর্ণাঙ্গভাবে ঘোষণা করা হয়েছে। কমিটিতে সভাপতি হিসেবে কৃষি রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. আতিকুর রহমান এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নাইমুর হোসেন নিরব দায়িত্ব পেয়েছেন। শনিবার (১০ অক্টোবর) সংগঠনটির ২৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়।


কমিটিতে সিনিয়র সহ-সভাপতি হয়েছেন ইনস্টিটিউট অব বায়োটেকনোলজির অধ্যাপক ড. ফাহমিদা খাতুন। যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন রূখসানা আক্তার রিদিতা, মো. রাকিবুল হাসান ও নাফিস ইকবাল।


এ ছাড়া সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে উচ্ছ্বাস সরকার প্রিতম, জবা দেবনাথ ববি ও মো. শাকিবুর রহমান ভূঁইয়া; কোষাধ্যক্ষ হিসেবে তাজরী সরকার এবং সহ-কোষাধ্যক্ষ হিসেবে রামিশা ফারিহা রিয়া ও রাজ শেখর মণ্ডল দায়িত্ব পেয়েছেন। দপ্তর সম্পাদক হয়েছেন মো. রাফুল হক, সুমাইয়া কামাল দিশা ও মো. সোহানুর রহমান।


সাংস্কৃতিক সম্পাদক হিসেবে আসমা নাওয়ার অন্বেষা, নৃত্য সম্পাদক হিসেবে এশা আহমেদ, সংগীত সম্পাদক হিসেবে পুষ্পিতা দাস এবং নাট্য সম্পাদক হিসেবে নিশাত মনিরা মীম ও মো. জিয়াদ আল নোমান (আলিফ) দায়িত্ব পেয়েছেন। উপ-সাংস্কৃতিক সম্পাদক হিসেবে রয়েছেন ঈশিকা রায়, মাছুম বিল্লাহ তন্ময় ও রায়হান করিম। সহ-নৃত্য সম্পাদক হিসেবে সজিব দেবনাথ অমিত, নাবিহা মাহমুদ বিধি, ছোঁয়া পাল ও শাহরিয়ার নিহাল রাতুল এবং সহ-সংগীত সম্পাদক হিসেবে অনন্যা গাইন ও মো. মুঈন শাহরিয়ার দায়িত্ব পেয়েছেন।


কমিটির অন্যান্য পদে মিডিয়া ও প্রচার সম্পাদক হয়েছেন আতিয়া ইবনাত লামিয়া, উপ-মিডিয়া ও প্রচার সম্পাদক মাহমুদুল হাসান মিয়াদ, ফটোগ্রাফি সম্পাদক মো. সিহাব উদ্দীন এবং ক্রীড়া ও বিনোদন সম্পাদক উইলিয়াম ভালো। চারুকলা ও চিত্রাঙ্কন সম্পাদক হিসেবে নাফিসা তাহসিন নুসরাত তাহমিনা ও তাসফিয়া মাহমুদ অদ্রি এবং ব্যবস্থাপনা সম্পাদক হিসেবে সাদিয়া ইসলাম সারা, অর্পিতা পাল তন্নী ও রোকেয়া খাতুন সিমি দায়িত্ব পেয়েছেন।


এ ছাড়া কার্যনির্বাহী সদস্য হিসেবে রয়েছেন মাসকবা আক্তার মারিশা, যষ্টি রানী সিংহ, শাফিউল আলম মারুফ, বিন্দু মোহন্ত, প্রযুক্তা নাগ, এশা রায়, অর্ণিমা রায়, স্নেহা রায়, সিনথিয়া ইসলাম স্নেহা, জাহিদ হাসান সৈকত, সাইফ আহমেদ সাকিব, আশিকুর রহমান আশিক, শ্রাবণ বিশ্বজিৎ, মানতাশা মোস্তফা, সাব্বির হোসেন, সুধৃতা বণিক, শরিফুল সজীব, মো. সুলতানুর আরেফিন তাসিন, সৌমি প্রামাণিক, মাহমুদ-উন-নাবি তুহিন, অন্তিম ও সাদিয়া ইসলাম শুভা।


প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি মুক্তমঞ্চে কেক কাটা হয়। পরে টিএসসি থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের করেন সংগঠনের সদস্যরা।


পূর্ণাঙ্গ কমিটি প্রসঙ্গে সাধারণ সম্পাদক নাইমুর হোসেন নিরব বলেন, নতুন কমিটির সদস্যরা সম্মিলিতভাবে সংগঠনকে এগিয়ে নিতে কাজ করবেন। পদচিহ্নের পূর্বসূরি, বর্তমান কমিটির সদস্য ও শুভানুধ্যায়ীদের সহযোগিতায় সংগঠনের লক্ষ্য ও আদর্শ ধরে রেখে সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।

সর্বশেষ সব খবর

মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ক্লিনিক্যাল সোশ্যাল ওয়ার্কারদের নিয়োগের আহ্বান নোবিপ্রবি উপাচার্যের

  • প্রকাশ : রবিবার ১১ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৪:০৯ পিএম

মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা, সামাজিক অস্থিরতা মোকাবিলা এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর পুনর্বাসনে ক্লিনিক্যাল সোশ্যাল ওয়ার্কের কার্যকর প্রয়োগ ও দক্ষ জনবল নিয়োগের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী। আজ রবিবার (১১ অক্টোবর ২০২৬)  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনের অ্যালামনাই ফ্লোরে বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত ‘লিভড এক্সপেরিয়েন্সেস টু মিনিংফুল চেঞ্জ: প্রমোটিং ক্লিনিক্যাল সোশ্যাল ওয়ার্ক প্র্যাকটিস ইন মেন্টাল হেলথ’ শীর্ষক জাতীয় সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ক্লিনিক্যাল সোশ্যাল ওয়ার্কার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (CSWAB) এ সেমিনারের আয়োজন করে।


অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী বলেন, বর্তমান সমাজে শিশু-কিশোরসহ বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর মধ্যে নানা ধরনের সামাজিক ও মানসিক সংকট দেখা যাচ্ছে। এসব সংকট মোকাবিলায় শুধু আইন প্রয়োগ, চিকিৎসা কিংবা তাৎক্ষণিক সহায়তা যথেষ্ট নয়; সমস্যার অন্তর্নিহিত কারণ চিহ্নিত করা, পারিবারিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ এবং দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসন নিশ্চিত করা জরুরি। এ ক্ষেত্রে ক্লিনিক্যাল সোশ্যাল ওয়ার্কাররা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারেন। দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে মনোবিজ্ঞান ও সমাজকর্ম বিষয়ে দক্ষ জনবল তৈরি হচ্ছে। এই জনবলকে যথাযথভাবে কাজে লাগানো গেলে মানসিক স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ, ঝুঁকিপূর্ণ শিশু-কিশোরদের পুনর্বাসন এবং সামাজিক সমস্যার কার্যকর সমাধানে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব। স্কুল-কলেজ থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়, বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান ও রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে ক্লিনিক্যাল সোশ্যাল ওয়ার্কারদের কাজের সুযোগ সৃষ্টি করা প্রয়োজন। নোবিপ্রবি উপাচার্য আরও বলেন, সমাজকর্ম বিষয়ে পেশাগত শিক্ষা ও গবেষণার পরিধি বাড়ানোর পাশাপাশি এ বিষয়ে প্রশিক্ষিত গ্র্যাজুয়েটদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা জরুরি। ক্লিনিক্যাল সোশ্যাল ওয়ার্কের বিকাশে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। এ পেশার মাধ্যমে সমাজের পিছিয়ে পড়া ও সংকটাপন্ন জনগোষ্ঠীকে সেবা দেওয়ার সুযোগ আরও সম্প্রসারিত হতে পারে।


এ সময় সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী বলেন, সমাজসেবা কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করতে সমাজকর্ম বিষয়ে শিক্ষিত ও প্রশিক্ষিত গ্র্যাজুয়েটদের সমাজসেবা কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি করা প্রয়োজন। পাশাপাশি সমাজসেবা কর্মকর্তাদের পেশাগত মর্যাদা বৃদ্ধি এবং পদগুলোকে বিসিএস ক্যাডারভুক্ত করার বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে। এ ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে বিদ্যমান জনবল ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোকে আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগানো সম্ভব হবে।


সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম এবং জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. সাইফুন নাহার। ক্লিনিক্যাল সোশ্যাল ওয়ার্কার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (CSWAB)-এর সভাপতি ও রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. তাহমিনা আখতারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেমিনারে স্বাগত বক্তব্য দেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. এম শাহীন খান। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. তাহমিনা আখতার।


প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন মানসিক ও সামাজিক সংকট মোকাবিলায় সমস্যার গভীরে গিয়ে তার কারণ বিশ্লেষণের ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটার পর ভুক্তভোগীকে উদ্ধার, চিকিৎসা বা তাৎক্ষণিক সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি ঘটনাটির পারিবারিক, সামাজিক ও মানসিক প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন। কেন এ ধরনের ঘটনা ঘটছে এবং কীভাবে তা প্রতিরোধ করা যায়, তা চিহ্নিত করে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। তিনি আরও বলেন, সামাজিক সমস্যার সমাধান কেবল আইন প্রয়োগ, হাসপাতাল বা চিকিৎসাসেবার পরিধি বাড়ানোর মাধ্যমে সম্ভব নয়। এ জন্য প্রয়োজন সমন্বিত ও দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ, যার মধ্যে প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম, মানসিক স্বাস্থ্যসেবা, পারিবারিক সহায়তা এবং সামাজিক পুনর্বাসন অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এ ক্ষেত্রে ক্লিনিক্যাল সোশ্যাল ওয়ার্কের মতো পেশাগত ক্ষেত্রকে কাজে লাগানোর যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে।

সর্বশেষ সব খবর