সিনেমায় রণবীর সিং
বলিউডে বড় আলোচনার কেন্দ্রে চলে এসেছেন অভিনেতা রণবীর সিং। হিন্দি চলচ্চিত্রশিল্পের উল্লেখযোগ্য সংগঠন ফেডারেশন অব ওয়েস্টার্ন ইন্ডিয়া সিনে এমপ্লয়িজ (এফডব্লিউআইসিই) তাঁর বিরুদ্ধে ‘নন-কো-অপারেশন ডিরেকটিভ’ বা অসহযোগিতা নির্দেশ জারি করেছে। অর্থাৎ বিভিন্ন ইউনিয়নের সদস্যদের রণবীরের সঙ্গে কাজ না করার আহ্বান জানানো হয়েছে। এ ঘটনার সূচনা হয় ‘ডন ৩’ সিনেমাকে কেন্দ্র করে। কিন্তু সময়ের সঙ্গে তা বলিউডে ক্ষমতা, চুক্তি, তারকাখ্যাতি এবং শ্রমিকসংগঠনের প্রভাবের জটিল দ্বন্দ্বে রূপ নিয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে, বলিউডে একজন সুপারস্টার কতটা স্বাধীন? আবার শিল্পের শ্রমিকসংগঠনগুলো কোথায় তাদের ক্ষমতা শেষ করবে?
বিতর্কের শুরু যেখানে
সবকিছু শুরু হয় ফারহান আখতার পরিচালিত ও প্রযোজিত ‘ডন ৩’ সিনেমা দিয়ে। শাহরুখ খানের পর নতুন ‘ডন’ হিসেবে রণবীর সিংয়ের নাম ঘোষণা হওয়ার পর থেকেই সিনেমাটি নিয়ে প্রচুর আগ্রহ ছিল। কিন্তু হঠাৎই খবর আসে, রণবীর এ প্রকল্প থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। নির্মাতাদের থেকে অনুরূপ তথ্য আসে, তাঁর এ সিদ্ধান্তে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। শুটিংয়ের পরিকল্পনা, সেট নির্মাণ, আন্তর্জাতিক সূচি—সবকিছুই নতুন করে সাজাতে হচ্ছে। এরপরই বিষয়টি এফডব্লিউআইসিইয়ের কাছে পৌঁছে যায়। সংগঠনটির সভাপতি অশোক পণ্ডিত দাবি করেন, নির্মাতাদের অভিযোগের পর তাঁরা রণবীরের বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করেছিলেন। কিন্তু রণবীর প্রথমে নীরব ছিলেন। পরে তাঁর পক্ষ থেকে ই-মেইলে জানানো হয়, এটি একটি চুক্তিভিত্তিক বিরোধ, তাই এফডব্লিউআইসিইয়ের এখতিয়ারে পড়ে না। এ জবাবে ক্ষুব্ধ হয় সংগঠনটি।
কতটা শক্তিশালী এফডব্লিউআইসিই
বলিউডের বাইরের দর্শকদের কাছে এটি খুব পরিচিত না হলেও এফডব্লিউআইসিই ভারতীয় চলচ্চিত্রশিল্পে অত্যন্ত শক্তিশালী। মেকআপ আর্টিস্ট, লাইটম্যান, স্পটবয়, ক্যামেরা ইউনিট, জুনিয়র আর্টিস্ট, টেকনিশিয়ান—চলচ্চিত্রের প্রায় সব ধরনের কর্মীদের ৩৮টি ইউনিয়ন দিয়ে গঠিত এই ফেডারেশন। অর্থাৎ একটি সিনেমা বানাতে যে বিশাল কর্মী বাহিনী লাগে, তাদের বড় অংশই এফডব্লিউআইসিইয়ের আওতায়। ফলে তারা যদি কোনো শিল্পীর বিরুদ্ধে অসহযোগিতার নির্দেশ দেয়, তাহলে সেই শিল্পীর জন্য নতুন সিনেমার কাজ করা কঠিন হয়ে যায়।
‘নিষেধাজ্ঞা’ না ‘চাপ প্রয়োগ’?
এফডব্লিউআইসিই আনুষ্ঠানিকভাবে রণবীরের বিরুদ্ধে ‘নন-কো-অপারেশন ডিরেক্টিভ’ জারি করার পর মাধ্যমে খবর ছড়িয়ে পড়ে, রণবীর সিং ‘নিষিদ্ধ’ হয়েছেন। তবে আইনি দিক থেকে বিষয়টি এতটা সরল নয়। ভারতের আইন অনুযায়ী, এফডব্লিউআইসিই কোনো আদালত নয়। তারা কাউকে আইনগতভাবে নিষিদ্ধ করতে পারে না; বরং ট্রেড ইউনিয়নের চাপ প্রয়োগের মতো। সংগঠনটি তাদের সদস্যদের নির্দেশ দিতে পারে, কিন্তু কোনো অভিনেতাকে অভিনয় থেকে আইনিভাবে আটকাতে পারে না। এ কারণেই রণবীরের পক্ষ থেকেও দাবি করা হয়েছে, চুক্তিভঙ্গ বা আর্থিক ক্ষতির অভিযোগ আদালত বা সালিসি ব্যবস্থার বিষয়—এফডব্লিউআইসিইয়ের নয়। তবু বাস্তবতা হলো, বলিউডে শ্রমিকসংগঠনগুলোর প্রভাব বিশাল। তাই আইনি ক্ষমতা সীমিত হলেও শিল্পে তাদের সামাজিক ও পেশাগত চাপ কার্যকর হয়ে ওঠে। রণবীরের নীরবতা ও পরে প্রতিক্রিয়া পুরো বিতর্কে দীর্ঘ সময় নীরব ছিলেন রণবীর সিং। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এ নিয়ে কোনো মন্তব্য করেননি তিনি।
শেষ পর্যন্ত রণবীর সিংয়ের মুখপাত্র একটি বিবৃতি দেন। সেখানে বলা হয়, ‘রণবীর সিং চলচ্চিত্র অঙ্গন এবং “ডন” ফ্র্যাঞ্চাইজির সঙ্গে জড়িত প্রত্যেকের প্রতি গভীর শ্রদ্ধাশীল। সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে নীরব থেকেছেন। কারণ, তিনি বিশ্বাস করেন, পেশাগত আলোচনা ও ব্যক্তিগত সম্পর্ক মর্যাদা, পরিপক্বতা ও পারস্পরিক সম্মানের সঙ্গে সামলানো উচিত।’ বিবৃতিতে আরও বলা হয়, নানা গুঞ্জন ও জল্পনা তৈরি হলেও রণবীর কখনোই প্রকাশ্যে পাল্টা প্রতিক্রিয়া দেওয়াকে প্রয়োজন মনে করেননি। তাঁর মনোযোগ এখন শুধু কাজ এবং ভবিষ্যৎ প্রতিশ্রুতিগুলোর দিকে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল শেষের বার্তা—‘তিনি সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি শ্রদ্ধা ও শুভকামনা রাখেন এবং “ডন” ফ্র্যাঞ্চাইজির ভবিষ্যৎ সাফল্য কামনা করেন। এমন পরিস্থিতিতে সংযম ও সৌজন্য বজায় রাখা সব সময়ই তাঁর সচেতন সিদ্ধান্ত ছিল।’ এ বক্তব্য অনেকের কাছে ‘সমঝোতার ইঙ্গিত’ হিসেবেও দেখা হয়েছে।
বলিউডে নতুন বিতর্ক: তারকা বনাম সংগঠন
এ ঘটনা নতুন করে একটি পুরোনো প্রশ্ন সামনে এনেছে—বলিউডে প্রকৃত ক্ষমতা কার হাতে? একদিকে তারকারা কোটি কোটি রুপির প্রকল্পের কেন্দ্রবিন্দু; অন্যদিকে চলচ্চিত্র নির্মাণ পুরোপুরি নির্ভর করে বিশাল কর্মী বাহিনীর ওপর। তাই একজন সুপারস্টারও বাস্তবে একা নন। বলিউড বিশ্লেষকদের মতে, এফডব্লিউআইসিইয়ের এ পদক্ষেপ শুধু রণবীরকে ঘিরে নয়; বরং এটি পুরো শিল্পের জন্য একটি বার্তা—বড় তারকারাও সংগঠনকে এড়িয়ে যেতে পারবেন না। আবার অনেকে বলছেন, এটি তারকাদের ওপর অযৌক্তিক চাপ তৈরি করতে পারে। কারণ, যেকোনো চুক্তিগত বিরোধকে যদি শ্রমিকসংগঠন ‘নৈতিক ইস্যু’ হিসেবে তুলে ধরে, তাহলে তা শিল্পের স্বাধীনতার জন্যও প্রশ্ন তৈরি করে।
বড় অনিশ্চয়তায় ‘ডন ৩’
সবচেয়ে বড় অনিশ্চয়তা এখন ‘ডন ৩’–কে ঘিরে। নির্মাতা ফারহান আখতার এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন অভিনেতার নাম ঘোষণা করেননি। তবে বলিউডে গুঞ্জন চলছে, নতুন করে কাস্টিংয়ের প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে। প্রশ্ন উঠেছে, এত বড় বিতর্কের পর ছবিটির শুটিং ও মুক্তির সময়সূচি কতটা প্রভাবিত হবে। কারণ, বড় বাজেটের আন্তর্জাতিক লোকেশনভিত্তিক সিনেমায় সময় নষ্ট মানেই বিপুল আর্থিক ক্ষতি। এ বিতর্কের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়তে পারে রণবীরের আসন্ন সিনেমায়। পোস্ট-অ্যাপোক্যালিপটিক ঘরানার নতুন সিনেমায় দেখা যাবে অভিনেতাকে। জয় মেহতা পরিচালিত সিনেমাটি প্রযোজনা করেছেন হংসল মেহতা। আগামী আগস্টে সিনেমাটির শুটিং শুরু হওয়ার কথা। কিন্তু যদি এফডব্লিউআইসিইয়ের নির্দেশ কার্যকর থাকে, তাহলে ইউনিট গঠন, টেকনিশিয়ান নিয়োগ কিংবা শুটিং ব্যবস্থাপনায় জটিলতা তৈরি হতে পারে। যদিও বলিউডে এর আগেও এমন অসহযোগিতা নির্দেশ দেখা গেছে এবং বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই শেষ পর্যন্ত আলোচনার মাধ্যমে সমাধান হয়েছে।
নতুন বিতর্ক
রণবীরকে ঘিরে বিতর্ক যখন তুঙ্গে, তখনই ‘ধুরন্ধর’ সিনেমার প্রোডাকশন ডিজাইনার সাইনি এস জোহরের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগে এফআইআর দায়ের হয়। এক নারী অভিযোগ করেছেন, চণ্ডীগড়ের একটি হোটেলে তাঁকে ডেকে নিয়ে মদে নেশাজাতীয় কিছু মিশিয়ে যৌন হয়রানি করা হয়েছে। পুলিশ ইতিমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে। এ ঘটনায় সরাসরি রণবীরের বিরুদ্ধে অভিযোগ না থাকলেও তাঁর নতুন সিনেমাকে ঘিরে নেতিবাচক আলোচনার পরিমাণ আরও বেড়েছে।
ক্যারিয়ারের গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে রণবীর
রণবীর সিংয়ের ক্যারিয়ার সব সময়ই উত্থান-পতনে ভরা। ‘ব্যান্ড বাজা ভারত’ দিয়ে অভিষেকের পর তিনি দ্রুত বলিউডের অন্যতম আলোচিত অভিনেতা হয়ে ওঠেন। ‘বাজিরাও মাস্তানি’, ‘পদ্মাবৎ’, ‘গলি বয়’–এর মতো সিনেমা রণবীরকে সমকালীন বলিউডের অন্যতম বড় তারকায় পরিণত করে। কিন্তু গত কয়েক বছরে রণবীর সিংয়ের কিছু সিনেমা প্রত্যাশামতো ব্যবসা করতে পারেনি। ফলে ‘ডন ৩’ ছিল তাঁর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রত্যাবর্তনের সুযোগ। এ প্রকল্পকে ঘিরেই এখন সবচেয়ে বড় বিতর্ক।
শেষ পর্যন্ত কী হতে পারে
বলিউডের অভিজ্ঞরা বলছেন, এই বিরোধ দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনা কম। কারণ, একদিকে রণবীর সিংয়ের মতো তারকাকে পুরোপুরি উপেক্ষা করা সহজ নয়, অন্যদিকে বড় বাজেটের সিনেমাগুলোও দীর্ঘ অনিশ্চয়তা সহ্য করতে পারে না। সম্ভাবনা বেশি—দুই পক্ষ আলোচনায় বসবে। হয়তো আইনি সমঝোতা হবে, নয়তো প্রকাশ্যে না এলেও মধ্যস্থতার মাধ্যমে সমাধান বের হবে।
বিরোধ মেটাতে মাঠে সালমান খান
এদিকে ‘ডন ৩’ বিতর্কে এবার মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় নেমেছেন সালমান খান। পরিচালক ফারহান আখতার ও অভিনেতা রণবীর সিংয়ের মধ্যে চলমান বিরোধ মেটাতে দুজনকে একসঙ্গে বসার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। ভারতীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, সম্প্রতি সালমান আলাদাভাবে ফারহান আখতার ও রণবীর সিংয়ের সঙ্গে কথা বলেছেন। পরে নিজের উপস্থিতিতে দুজনের মধ্যে একটি বৈঠকের প্রস্তাব দেন। উভয় পক্ষই এতে সম্মতি জানিয়েছে বলে জানা গেছে।
‘ডন ৩’ সিনেমা থেকে রণবীর সিংয়ের সরে দাঁড়ানোকে কেন্দ্র করে এই বিরোধের সূত্রপাত। শুটিং শুরুর প্রস্তুতির শেষ পর্যায়ে এসে রণবীরের সরে যাওয়ায় প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ও নির্মাতারা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন বলে অভিযোগ ওঠে। সূত্রের দাবি, পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে ফারহান আখতারের জন্য ভবিষ্যতে আরেকটি সিনেমায় কাজ করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন রণবীর। সেই প্রস্তাব ফারহান আখতার ও তার প্রযোজনা অংশীদার রিতেশ সিধওয়ানি গ্রহণ করেননি।
এ অবস্থায় সালমান খান নাকি ফারহানকে পরামর্শ দিয়েছেন, ‘ডন ৩’-এর পরিবর্তে অন্য কোনো সিনেমায় রণবীরকে নিয়ে কাজ করার বিষয়টি বিবেচনা করতে। বলিউডে ফারহান আখতার ও তার পরিবারের সঙ্গে সালমানের দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। একই সঙ্গে রণবীর সিংয়ের সঙ্গেও তার সুসম্পর্ক আছে। সে কারণেই দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতা তৈরির উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি। তবে সম্ভাব্য বৈঠকের ফল কী হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
তামিল সুপারস্টার ও তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী থালাপতি বিজয়
তামিল সুপারস্টার ও তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী থালাপতি বিজয়ের বহুল প্রতীক্ষিত সিনেমা ‘জন নয়াগণ’ আজ (২৩ জুলাই) বিশ্বব্যাপী প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাচ্ছে। রাজনীতিতে পূর্ণ সময় দেওয়ার আগে এটিই বিজয়ের শেষ সিনেমা বলে ঘোষণা দেওয়ায় সিনেমাটি ঘিরে ভক্ত-দর্শকদের আগ্রহ তুঙ্গে। মুক্তির আগেই অগ্রিম টিকিট বিক্রিতে রেকর্ড গড়ে আলোচনায় এসেছে সিনেমাটি।
চলচ্চিত্র বিষয়ক একটি ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, প্রথম দিনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি থেকেই সিনেমাটি আয় করেছে ১৫ কোটি ৯ লাখ রুপির বেশি। তামিল সিনেমার ইতিহাসে এটি অন্যতম বড় অগ্রিম বুকিং।
ভারতের সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, মুক্তির ৪৮ ঘণ্টারও কম সময় বাকি থাকতেই টিকিট বুকিংয়ের গতি কয়েক গুণ বেড়ে যায়। গত ১৯ জুলাই বুকিং শুরু হওয়ার পর প্রথমদিকে সাড়া তুলনামূলক কম থাকলেও শেষ দিকে তা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পায়। সবচেয়ে বেশি অগ্রিম বুকিং হয়েছে তামিল সংস্করণের জন্য।
রাজ্যভিত্তিক হিসাবে অগ্রিম বুকিংয়ে শীর্ষে রয়েছে তামিলনাড়ু, যেখানে আয় হয়েছে প্রায় ৬ কোটি ৭৪ লাখ রুপি। এরপর কর্ণাটক থেকে ৪ কোটি ৮৮ লাখ এবং কেরালা থেকে ১ কোটি ৮০ লাখ রুপি এসেছে।
ইতোমধ্যে সিনেমাটি বিজয়ের আগের দুই ব্লকবাস্টার ‘লিও’ ও ‘দ্য গ্রেটেস্ট অব অল টাইম’-এর অগ্রিম বুকিংয়ের রেকর্ডের কাছাকাছি পৌঁছে গেছে।
বক্স অফিস বিশ্লেষকদের ধারণা, প্রথম দিনেই ভারতে ৫০ থেকে ৬০ কোটি রুপি আয় করতে পারে ‘জন নয়াগণ’। শেষ মুহূর্তের টিকিট বিক্রি প্রত্যাশার চেয়ে বেশি হলে সেই অঙ্ক আরও বাড়তে পারে। একই সঙ্গে বিশ্বব্যাপী প্রথম দিনের আয়ের দিক থেকেও তামিল সিনেমায় নতুন ইতিহাস গড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এইচ. ভিনোথ পরিচালিত ‘জন নয়াগণ’-এ থালাপতি বিজয়ের পাশাপাশি অভিনয় করেছেন পূজা হেগড়ে, ববি দেওলসহ আরও কয়েকজন জনপ্রিয় শিল্পী। বিজয়ের বিদায়ী সিনেমা হওয়ায় এটি নিয়ে দর্শকদের প্রত্যাশাও অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি।
অভিনেত্রী পরীমনি
আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপ জিতলে বিয়ে করবেন— এমন ঘোষণা দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবারও আলোচনায় এসেছেন ঢাকাই চলচ্চিত্রের অভিনেত্রী পরীমনি। স্পেন ও আর্জেন্টিনার মধ্যকার ফাইনাল ম্যাচকে ঘিরে তার সেই পোস্ট নতুন করে নেটিজেনদের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই জানতে চাইছেন, আলবিসেলেস্তারা যদি লা রোজাদের হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েই যায়, তবে কি তিনি সত্যিই বিয়ের পিঁড়িতে বসবেন?
বিষয়টি নিয়ে কিছুটা অস্বস্তিতে পড়েছেন পরীমনি। গণমাধ্যমকে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় তিনি জানিয়েছেন, মজার ছলে দেওয়া সেই পোস্ট নিয়ে তিনি অনেকটাই বিপাকে। তবে বিয়ের কথা একেবারে অস্বীকারও করেননি এ আলোচিত অভিনেত্রী।
পরীমনি বলেন, ‘আমি তো এর আগে ঘোষণা দিয়ে বিয়ে করিনি। প্রেম করেছি, এরপর হুট করে বিয়ে করে ফেলছি। এবার বিয়ের ঘোষণা দিয়ে তো মুসিবতে পড়ে গেলাম। ভাবিনি, এভাবে সবাই বিষয়টিকে সিরিয়াসলি নিয়ে নেবে। এত এত সিরিয়াস সব বিয়ের প্রস্তাব আসতেছে, কিছুই বুঝতেছি না, কী করব।’
তিনি আরও বলেন, ‘বিয়ের জন্য তো একজন অভিভাবক লাগে। আগে আমার অভিভাবক ছিল, এখন তো ওই পর্যায়ের কেউই নেই। ভাবছি, ছেলে বড় হোক, ছেলে বিয়েশাদি করুক। এরপর কিংবা তার আগে ছেলে যদি অভিভাবক হয়ে বিয়ে দেয়, তাহলেই বিয়ে করতে পারব।’
এর আগে গত বুধবার দিবাগত রাতে আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড সেমিফাইনালের আগে নিজের ফেসবুকে তিনি লিখেছিলেন, ‘আর্জেন্টিনা কাপ জিতলে আমি আবার একটা বিয়া করব। ফাইনাল।’
উল্লেখ্য, শিরোপা জয়ের লড়াইয়ে স্পেনের মুখোমুখি হচ্ছে বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে আসরের ১০৪তম ও ফাইনাল ম্যাচটি শুরু হবে ২০ জুলাই বাংলাদেশ সময় আজ রাত ১টায়।
ঢালিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী দিলারা হানিফ পূর্ণিমা
বিশ্বকাপ ফুটবল এলেই বাংলাদেশজুড়ে শুরু হয় আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল সমর্থকদের উন্মাদনা। পতাকা টানানো, প্রিয় দলের জার্সি পরা, খেলা নিয়ে তর্ক-বিতর্ক- সব মিলিয়ে উৎসবের আবহ তৈরি হয়। এই উন্মাদনার অংশ ঢালিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী দিলারা হানিফ পূর্ণিমাও।
ছোটবেলার স্মৃতি, পরিবারের প্রভাব এবং দিয়েগো ম্যারাডোনা থেকে লিওনেল মেসি-সব মিলিয়ে আর্জেন্টিনার প্রতি তার ভালোবাসা গড়ে উঠেছে।
সম্প্রতি পূর্ণিমা জানান, ছোটবেলায় বাবার চাকরির সুবাদে ঢাকার পিজি হাসপাতালের স্টাফ কোয়ার্টারে থাকতেন তিনি। তখন বিশ্বকাপ এলেই চারপাশে ম্যারাডোনাকে নিয়ে আলোচনা, ভবনের দেয়ালে আকাশি-সাদা কিংবা হলুদ-সবুজ রঙের সাজসজ্জা এবং ছাদে ছাদে বিভিন্ন দেশের পতাকা ওড়ানোর দৃশ্য তাকে ভীষণ আকৃষ্ট করত।
তিনি বলেন, তখনও আর্জেন্টিনা বা ব্রাজিল সম্পর্কে তেমন কিছু জানতেন না। তবে আশপাশের মানুষের মুখে বারবার ম্যারাডোনার নাম শুনতে শুনতেই আর্জেন্টিনার প্রতি এক ধরনের টান তৈরি হয়। সেই টান আরও গভীর হয় পরিবারের কারণে। কারণ তার বাবা-মাসহ পরিবারের সবাই ছিলেন ম্যারাডোনার ভক্ত।
ব্রাজিলের বদলে কেন আর্জেন্টিনাকে সমর্থন করেন-এমন প্রশ্নের উত্তরে পূর্ণিমা একেবারেই সরল ভাষায় বলেন, ‘আর্জেন্টিনায় ম্যারাডোনা ছিল, এখন মেসি আছে। ব্রাজিলে তো সেটা নেই।’ এবারের বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে নিয়ে তার উচ্ছ্বাস আরও বেড়েছে। এর পেছনে বড় ভূমিকা রয়েছে তার স্বামী আশফাকুর রহমানের।
পূর্ণিমা জানান, তার স্বামী আর্জেন্টিনার একনিষ্ঠ সমর্থক। বিশ্বকাপ এলেই বন্ধু-স্বজনদের জার্সি উপহার দেন, পরিবারের সদস্যদের জন্যও নতুন জার্সি কিনে আনেন।
অভিনেত্রীর ভাষায়, আগে খেলা নিয়ে তার আগ্রহ থাকলেও এখন স্বামীর উৎসাহে তিনি আরও বেশি বিশ্বকাপমুখী হয়ে উঠেছেন। খেলা দেখার সময় জার্সি পরে বসার অভ্যাসও আগে ছিল না। এখন পরিবারের সবাই যখন আর্জেন্টিনার জার্সি পরে খেলা উপভোগ করেন, তখন তিনিও সেই আনন্দে শামিল হন।
পূর্ণিমা বলেন, স্বামী অনেক সময় মজা করে অন্য দলের সমর্থকদেরও আর্জেন্টিনার জার্সি পরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। সেই আনন্দঘন পরিবেশই তাকে আরও বেশি ফুটবলপ্রেমী করে তুলেছে।
মাত্র ১৫ বছর বয়সে চলচ্চিত্রে অভিনয় শুরু করেন পূর্ণিমা। ১৯৯৮ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘এ জীবন তোমার আমার’ সিনেমায় রিয়াজের বিপরীতে অভিনয়ের মাধ্যমে বড়পর্দায় অভিষেক ঘটে তার। প্রথম ছবিতেই দর্শকদের নজরকাড়েন তিনি।
এরপর ‘যোদ্ধা’, ‘সন্তান যখন শত্রু’, ‘পিতা-মাতার আমানত’, ‘হৃদয়ের কথা’, ‘বিয়ের প্রস্তাব’, ‘মনের মাঝে তুমি’ এবং ‘পরাণ যায় জ্বলিয়া রে’সহ একাধিক জনপ্রিয় ও ব্যবসাসফল সিনেমায় অভিনয় করে ঢালিউডের শীর্ষ নায়িকাদের একজন হয়ে ওঠেন।
কাজী হায়াত পরিচালিত ‘ওরা আমাকে ভালো হতে দিলো না’ সিনেমার জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন এই অভিনেত্রী।
অভিনয়ে আগের মতো নিয়মিত না হলেও বিনোদন অঙ্গন থেকে দূরে সরে যাননি পূর্ণিমা। তার অভিনীত ‘গাঙচিল’ ও ‘জ্যাম’ সিনেমা দীর্ঘদিন ধরে মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে।
সবশেষ তাকে দেখা গেছে ছটকু আহমেদ পরিচালিত ‘আহারে জীবন’ চলচ্চিত্রে। নতুন সিনেমার প্রস্তাবও পাচ্ছেন নিয়মিত। তবে নিজের পছন্দের গল্প ও চরিত্রের অপেক্ষায় রয়েছেন জনপ্রিয় এই অভিনেত্রী।
আমির খানের তৃতীয় বিয়ে
বলিউডের নায়ক সালমান খানের পর এবার আমির খানকে হুমকির অভিযোগ উঠেছে লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে। আমিরের তৃতীয় বিয়েকে কেন্দ্র করেই এই বিপত্তি ঘটেছে। লরেন্স বিষ্ণোইয়ের ভাই আরজু বিষ্ণোই এবং টাইসন বিষ্ণোই নামে পরিচিত অন্য এক ব্যক্তি সামাজিকযোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট দিয়ে এই হুমকি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে এনডিটিভি।
পোস্টে, আমির খান দেশে ‘লাভ জিহাদ’ প্রচার করছেন বলে অভিযোগ তোলা হয়েছে। আর তারা (লরেন্স বিষ্ণোই) এ ধরনের কাজকর্ম মেনে নেবে না বলেও জানিয়েছে ওই পোস্টে। তবে এনডিটিভি এবং দ্য ওয়াল এই পোস্টের সত্যতা যাচাই করতে পারেনি।
পোস্টে বলা হয়েছে, “আমির খানের মত মানুষ আমাদের দেশে যাকে ‘লাভ জিহাদ’ বলা হচ্ছে, সেটিকে উৎসাহ দিচ্ছেন। এটি আমাদের সংস্কৃতি, সনাতন ধর্ম এবং দেশের বিরুদ্ধে। আমরা এমন কাজ কোনওভাবেই মেনে নেব না। খুব শিগগিরই তাকে এর ফল ভোগ করতে হবে।”
শুধু সতর্কবার্তাতেই থেমে থাকেনি সেই পোস্ট। সেখানে আরও লেখা হয়েছে, “আমরা আমাদের ভাই-বোন এবং দেশবাসীকে আশ্বস্ত করছি, যারা তারকাখ্যাতির আড়ালে এই ধরনের কাজকে উৎসাহ দিচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে আমরা নিজেদের কায়দাতেই ব্যবস্থা নেব। এমন কর্মকাণ্ড যারা বাড়িয়ে দিচ্ছে, তাদের চুপ করিয়ে দেওয়া হবে।”
একই পোস্টে রাজস্থানের শ্রীগঙ্গানগরে ১৩ বছরের এক নাবালিকার অপহরণ, পাচার এবং যৌন নির্যাতনের ঘটনাও উল্লেখ করা হয়েছে। সেই মামলায় প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপের প্রশংসা করা হলেও অভিযোগ তোলা হয়েছে, কয়েকজন রাজনৈতিক নেতা অভিযুক্তদের রক্ষা করার চেষ্টা করছেন।
বলিউডে লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের হুমকির মুখে পড়া নতুন ঘটনা নয়। বহু বছর ধরেই বিষ্ণোই গ্যাংয়ের হুমকির মুখে রয়েছেন সালমান খান।
উত্তপ্ত রাজনৈতিক মহলও
এই ঘটনার পাশাপাশি আমিরের তৃতীয় বিয়ে ঘিরে রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে তীব্র প্রতিক্রিয়া। মহারাষ্ট্রের মন্ত্রী নীতেশ রানে আমিরকে আক্রমণ করে মন্তব্য করেন। তার বক্তব্যকে সমর্থন করে অযোধ্যার ‘তপস্বী ছাওনি’-র পীঠাধীশ্বর জগৎগুরু পরমহংস আচার্য আরও বিতর্কিত মন্তব্য করেন।
তিনি আমির খানকে ‘লাভ জিহাদের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর’ বলে কটাক্ষ করে ঘোষণা করেন, “অযোধ্যা ধাম থেকে আমি ঘোষণা করছি, যে ব্যক্তি আমির খানকে হত্যা করতে পারবে, তাকে ৫ কোটি টাকা পুরস্কার দেওয়া হবে। শুধু তাই নয়, তার সমস্ত আইনি লড়াইয়ের খরচও আমি বহন করব। আমার বিশ্বাস, এই ধরনের ১০০-২০০ জনকে শেষ করতে পারলেই দেশ থেকে লাভ জিহাদের বীজ উপড়ে ফেলা সম্ভব।”
আমিরের বিরুদ্ধে ‘লাভ জিহাদ’ চর্চার অভিযোগ আনে প্রথমে বজরং দল। অভিনেতার বিরুদ্ধে রাজপথে বিক্ষোভেও নামে এই সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
বিহারের ফোর্বসগঞ্জ এলাকায় সম্প্রতি বজরং দলের সদস্যেরা আমির খানের তৃতীয় বিয়ের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখিয়েছে। সে সময় তারা ‘আমির খান মুর্দাবাদ’, ‘আমির খান ভারত ছাড়ো’ স্লোগান দেয়।
তারা ‘মিস্টার পারফেক্টশনিস্ট’ খ্যাত এই অভিনেতার কুশপুতুলও পুড়িয়েছেন।
বজরং দলের নেতা মনোজ সোনি এক বিবৃতিতে বলেছেন, “আমির খান বার বার হিন্দু পরিবারের মেয়েদের বিয়ে করছেন। এর মাধ্যমে তিনি হিন্দু সমাজকে অপমান করছেন।”
মনোজ সোনি আরও বলেন, “আমির নাকি বিয়ে করে হিন্দু সমাজকে দুর্বল করার চেষ্টা করছেন। তিনি যদি খুব তাড়াতাড়ি এ সব কাজ বন্ধ না করেন, তা হলে তাকে শিক্ষা দেওয়া হবে।”
আমিরের পাশে দাঁড়ালেন বন্ধু
এই পরিস্থিতিতে অভিনেতার পাশে দাঁড়ালেন তার দীর্ঘদিনের বন্ধু ও অভিনেতা আমিন হাজি।
তার কথায়, “আমির সবসময় বিয়ে এবং সম্পর্ককে সম্মান করেছে। অনেকেই ওর ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে হাসিঠাট্টা করেন। কিন্তু তারা জানেন না, প্রতিটি সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসার সময় আমির কতটা দায়িত্বশীল থেকেছে। সাবেক পরিবার, সন্তানদের প্রতি নিজের সমস্ত কর্তব্য পালন করেছে। এই দিকটা খুব কম মানুষই দেখেন।”
আমিন বলেন, “তাকে ভেঙে পড়তে দেখেছি, কাঁদতেও দেখেছি। ১৫ বছর পর আবার নতুন করে ভালবাসা খুঁজে পাওয়া নিয়ে অনেকে মজা করছেন। কিন্তু সেই দীর্ঘ সময়ে কী পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে ও গিয়েছে, তা খুব কম মানুষই জানেন।”
গেল ৫ জুলাই মুম্বাইয়ের নিজের বাড়িতে গৌরী স্প্র্যাটকে আইনি মতে বিয়ে করেন আমির খান। গত বছরের মার্চে নিজের ৬০তম জন্মদিনে প্রথমবার প্রকাশ্যে গৌরীর সঙ্গে সম্পর্কের কথা বলেন আমির।
ওই ঘরোয়া অনুষ্ঠানে ছিলেন আমিরের সন্তান জুনাইদ খান, ইরা খান, জামাতা নূপুর শিখরে, পরিচালক আশুতোষ গোয়ারিকর, রাজকুমার হিরানি, মুকেশ আম্বানি, রাজ ঠাকরে, ইরফান পাঠান, বীর দাস, এলি আব্রামসহ চলচ্চিত্র ও বিভিন্ন অঙ্গনের ঘনিষ্ঠজনেরা।
আর গৌরীর পক্ষ থেকে তার সাত বছরের ছেলে, বাবা রবার্ট বব স্প্র্যাট, ভাই, বোন তাদের সন্তানেরাসহ আরও কয়েকজন ছিলেন।
আমির তার ছেলেবেলার বন্ধু রীনা দত্তকে বিয়ে করেন ১৯৮৬ সালে। তাদের দুই সন্তান জুনায়েদ খান ও ইরা খান। জুনায়েদ ইতোমধ্যে চলচ্চিত্র জগতে কাজ করছেন। আর ইরা কাজ করছেন মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতা নিয়ে।
১৬ বছর সংসারের পর ২০০২ সালে রীনার সঙ্গে আমিরের বিচ্ছেদ হয়। এরপর ২০০৫ সালে কিরণ রাওকে বিয়ে করেন আমির। ২০০১ সালে ‘লগান’ চলচ্চিত্রের শুটিং সেটে তাদের প্রথম সাক্ষাৎ হয়েছিল। কিরণ সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজ করছিলেন।
আমির খানের দ্বিতীয় সংসার জীবনও টেকে ১৬ বছর। ২০২১ সালে কিরণের সঙ্গে তার বিচ্ছেদ হয়। যদিও তারা যৌথভাবে ছেলে আজাদ খানের দেখভাল করছেন।
প্রীতম ও সঞ্জয়
ফিফা বিশ্বকাপের আর্জেন্টিনা–স্পেনের মধ্যকার ফাইনাল খেলা উপলক্ষে আজ রোববার রাতে ঢাকায় আয়োজন করা হয়েছে বিশেষ স্ক্রিনিং ও কনসার্ট।
যেখানে আলাদা আলাদা দুটি কনসার্টে পারফর্ম করবেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত আন্তর্জাতিক ডিজে ও সংগীত পরিচালক সঞ্জয় দেব এবং সংগীতশিল্পী প্রীতম হাসান।
বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কানাডায় বলিউড তারকা নোরা ফাতেহির সঙ্গে একই মঞ্চে পারফর্ম করে আলোচনায় আসেন সঞ্জয় দেব। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে বিশ্বকাপ উপলক্ষে আয়োজিত একাধিক ফ্যান ফেস্টেও গান করেন তিনি। সেই বিশ্বকাপ–যাত্রার অংশ হিসেবেই এবার ঢাকার মঞ্চে উঠছেন এই শিল্পী।
সঞ্জয় এরই মধ্যে ঢাকায় পৌঁছেছেন, অনুষ্ঠানস্থলও পরিদর্শন করেছেন। কনসার্ট নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে সঞ্জয় বলেন, ‘ফিফা বিশ্বকাপ উপলক্ষে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের বাইরে আরও বেশ কয়েকটি মঞ্চে গেয়েছি। এবার ঢাকায় গাইতে এলাম, যেখান থেকে আমার গল্পের শুরু হয়েছিল। এই কনসার্ট নিয়ে আমি খুবই এক্সাইটেড।’
ঢাকার আয়োজনে সঞ্জয়ের পাশাপাশি পারফর্ম করবেন ডিজে তৃষা ও ডিজে রিশাদ। জানা গেছে, অনুষ্ঠান শেষে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় উড়াল দেবেন। সেখানে সানফ্রান্সিসকোতে তাঁর আরেকটি কনসার্টে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।
বিশ্বকাপ ফাইনাল উপলক্ষে ‘ফাইনাল কিকঅফ’ নামে আরেকটি অনুষ্ঠান হবে ঢাকার ইউনাইটেড কনভেনশন সেন্টারে। বড় পর্দায় ফাইনাল ম্যাচ দেখার পাশাপাশি দর্শকের জন্য থাকছে জমজমাট কনসার্ট। পারফর্ম করবেন প্রীতম হাসান। তাঁর সঙ্গে মঞ্চে থাকবেন ফিরোজ জং, দ্য ব্রাউন টেস্টামেন্ট ও জেসিয়া ইসলাম। ১৯ জুলাই রাত থেকে ২০ জুলাই সকাল পর্যন্ত চলবে এই আয়োজন।
সালমান খান
বিতর্কিত চলচ্চিত্র ‘কালা হিরণ: দ্য ব্যাটল ফর লিগ্যাসি’-এর দ্বিতীয় আনুষ্ঠানিক টিজার প্রকাশ করেছেন নির্মাতারা। সালমান খানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি মামলার আদলে ছবিটি নির্মিত হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। এ নিয়ে ইতিমধ্যেই আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন সালমান খান। তিনি ছবিটির শুটিং, প্রচার ও মুক্তি স্থগিতের আবেদন জানিয়ে আদালতে মামলা করেছেন। সেই আইনি লড়াই চলাকালেই প্রকাশ করা হলো ছবির নতুন টিজার।
‘কালা হিরণ: দ্য ব্যাটল ফর লিগ্যাসি’ ছবির টিজারে একটি আদালতকক্ষের দৃশ্য দেখানো হয়েছে। সেখানে ‘আয়ান খান’ নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে একটি কালো হরিণ শিকারের অভিযোগ আনা হয়েছে। আদালতে মামলার শুনানির সময় এক সাক্ষী ঘটনার রাতের বিবরণ দিচ্ছেন। টিজারে বেশ কিছু বিতর্কিত ইঙ্গিতও রয়েছে। মূল চরিত্রটিকে সালমান খানের অনুপ্রেরণায় তৈরি বলে মনে হচ্ছে। চরিত্রটির হাতে সালমান খানের পরিচিত ব্রেসলেটের মতো একটি ব্রেসলেট দেখা যাচ্ছে। পাশাপাশি টিজারে ‘দাবাং’ ও ‘সিকান্দার’ শব্দও ব্যবহার করা হয়েছে।
‘কালা হিরণ’ ছবিটির মুক্তি স্থগিতের আবেদন করেছিলেন সালমান খান। আর এই টিজার এমন সময় প্রকাশ করা হয়েছে, যখন দিল্লি হাইকোর্ট তাঁর দায়ের করা সেই আবেদনের শুনানি পিছিয়ে দিয়েছে। নির্মাতারা জানিয়েছেন, ‘কালা হিরণ: দ্য ব্যাটল ফর লিগ্যাসি’ শিগগিরই প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে। তবে এখনো মুক্তির নির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা করা হয়নি।
এদিকে ছবিটি ঘিরে বিতর্ক আরও বেড়েছে। এক সাক্ষী দাবি করেছেন, তিনি হুমকি পেয়েছেন। যদিও এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। ছবিটিতে অভিনয় করেছেন প্রবীণ অভিনেতা গোবিন্দ নামদেব। টিজারে তাঁকে বিষ্ণোই সমাজের আইনজীবীর ভূমিকায় দেখা গেছে। ‘আয়ান খান’ চরিত্রে অভিনয় করেছেন কাশিফ ইকবাল খান। ছবিটি পরিচালনা করেছেন ভারত এস শ্রীনেত।
এবার জেনে নেওয়া যাক মামলাটি সম্পর্কে। ১৯৯৮ সালে রাজস্থানের যোধপুরে ‘হাম সাথ সাথ হ্যায়’ ছবির শুটিং করছিলেন সালমান খান। অভিযোগ, ওই সময় এক গভীর রাতে যোধপুরের কাঁকানি গ্রামের কাছে দুটি সংরক্ষিত কৃষ্ণসার হরিণ শিকার করা হয়। এই ঘটনায় সালমান খানের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে। শুটিংয়ের সময় তাঁর সঙ্গে সাইফ আলী খান, সোনালি বেন্দ্রে, টাবু এবং নীলমও উপস্থিত ছিলেন।
রাজস্থানের বিষ্ণোই সম্প্রদায় কৃষ্ণসার হরিণকে অত্যন্ত পবিত্র প্রাণী হিসেবে বিবেচনা করে। বন্য প্রাণী সংরক্ষণে এই সম্প্রদায়ের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য রয়েছে। তাই ঘটনাটি সামনে আসার পর বিষ্ণোই সমাজের সদস্যরা ১৯৯৮ সালের ২ অক্টোবর পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করেন। এরপরই বিষয়টি দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
অভিযোগের পর ১৯৯৮ সালের ১২ অক্টোবর সালমান খানকে গ্রেপ্তার করা হয়। কয়েক দিন কারাগারে থাকার পর তিনি জামিনে মুক্তি পান। তদন্ত শেষে তাঁর বিরুদ্ধে বন্য প্রাণী সংরক্ষণ আইনে মামলা করা হয়। পাশাপাশি অস্ত্র আইনে পৃথক একটি মামলাও রুজু হয়।
২০০৬ সালের ১০ এপ্রিল নিম্ন আদালত সালমান খানকে দোষী সাব্যস্ত করে পাঁচ বছরের কারাদণ্ডের রায় দেয়। তবে পরবর্তী সময়ে উচ্চ আদালত সেই সাজা স্থগিত রাখে এবং মামলার আইনি প্রক্রিয়া চলতে থাকে।
এরপর ২০১৮ সালের ৫ এপ্রিল যোধপুরের একটি আদালত কৃষ্ণসার হরিণ শিকার মামলায় আবারও সালমান খানকে দোষী সাব্যস্ত করে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড ও জরিমানা করে। একই মামলায় সহ-অভিযুক্ত সাইফ আলী খান, টাবু, সোনালি বেন্দ্রে ও নীলমকে পর্যাপ্ত প্রমাণের অভাবে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়।
রায় ঘোষণার পর সালমান খান দুদিন যোধপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে ছিলেন। পরে তিনি জামিনে মুক্তি পান এবং উচ্চ আদালতে রায়ের বিরুদ্ধে আবেদন করেন। সেই আবেদনের নিষ্পত্তি এখনো হয়নি।
এই মামলাকে কেন্দ্র করেই পরবর্তী সময়ে গ্যাংস্টার লরেন্স বিষ্ণোই এবং তার গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে একাধিকবার সালমান খানকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। এমনকি বান্দ্রায় ভাইজানের গ্যালাক্সি অ্যাপার্টমেন্টের বাইরে গুলিবর্ষণ করা হয়। বিষ্ণোই সম্প্রদায়ের একাংশের দাবি, কৃষ্ণসার হরিণ শিকারের ঘটনায় তাদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লেগেছে।