ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : রবিবার ২১ জুন, ২০২৬, সময় : ১১:২৭ এএম

'মা'কে নিয়ে যে পরিমাণে গান তৈরি হয়েছে বা যত পরিচিতি পেয়েছে, সে তুলনায় 'বাবা' নিয়ে গান সেভাবে কমই দেখা যায়। তবে আধুনিক সময়ে 'বাবাকে' নিয়ে তৈরি হওয়া বেশ কিছু গানই মানুষের মনে ছাপ ফেলেছে। জনপ্রিয়তা, সাংস্কৃতিক প্রভাব এবং দীর্ঘ দিন ধরে শ্রোতাদের মনে জায়গা করে নেওয়ার মতো বিষয় বিবেচনায় কয়েকটি গান বিশেষভাবে উল্লেখ করার মতো। এসব গান তৈরির পেছনের গল্প বা ইতিহাস সম্পর্কে কী জানা যায়?


'বাবা' - জেমস

বাংলাদেশের ব্যান্ডসংগীতের ইতিহাসে নগর বাউলখ্যাত জেমসের কণ্ঠে গাওয়া 'বাবা' গানটির অবস্থান অনেক এগিয়ে। "বাবা কতদিন, কতদিন দেখিনা তোমায়, কেউ বলেনা তোমার মত কোথায় খোকা ওরে বুকে আয়" এই গানটিকে বাংলাদেশের শ্রোতাদের কাছে বাবাকে নিয়ে সবচেয়ে আবেগঘন আধুনিক গানের একটি হিসেবেও দেখেন অনেকে।গানটির গীতিকার এবং সুরকার প্রিন্স মাহমুদ একটি সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ফারুক মাহফুজ আনাম বা জেমস নাকি এই গানটি গাইতেই আগ্রহী ছিলেন না। শিল্পী ও সুরকার তানভীর তারেকের সাথে একটি সাক্ষাৎকারে সেটি উল্লেখ করেন তিনি।


সাক্ষাৎকারটি তানভীর তারেকের ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত হয়। "রেকর্ডিং-এ জেমস ভাই গানটি শুনে… এই কয়েকদিন আগে মা বললাম, এখন কী বাবা... কেমন কেমন জানি হয়ে যাচ্ছে প্রিন্স। তখন আমি বললাম জেমস ভাই, এটা গাইতে হবে। জেমস ভাই বলে কী, আরেকটা গান দে আমারে," সে সাক্ষাৎকারে বলছিলেন মি. মাহমুদ। তখন স্টুডিওতে প্রয়াত শিল্পী হাসান আবেদুর রেজা জুয়েলও ছিলেন এবং প্রিন্স মাহমুদ তাকে বলার পর তখন তিনি গানটি গাইতে রাজি হন। "জুয়েল ভাই তখন 'বিদায় শব্দটা কেন এত যন্ত্রণাময়' এটা গেয়ে ফেলছে, তখন আমি জুয়েল ভাইকে বললাম আপনি বাবা গানটি গান, জেমস ভাইকে এটা দিয়ে দেই" বলছিলেন তিনি।


পরের দিন আবারও স্টুডিওতে আসেন তারা তিনজন। জেমস তখন 'বিদায় শব্দটা কেন এত যন্ত্রণাময়' গানটা শুনে রেকর্ডিং শুরুর ঠিক আগে আবার বাবা গানটা শুনতে চান। "এদিকে জুয়েল ভাই তো বাবা গানটা মোটামুটি বোধহয় তুলে ফেলছে, কিন্তু জুয়েল ভাই এত ভালো মানুষ ছিল… পরে জেমস ভাই এসে বলে ঠিক আছে এটাই গাই।" নব্বই দশকের শেষদিকে এসে প্রকাশিত সেই গান এখনও বাবা দিবসের বিভিন্ন অনুষ্ঠান এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাবাকে স্মরণ করার ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়। বাবাকে হারানোর বেদনা আর স্মৃতিমেশানো সেই গান অনেকের জন্য গভীর আবেগের কারণ হয়।


'আয় খুকু আয়':  হেমন্ত মুখোপাধ্যায় ও শ্রাবন্তী মজুমদার

বাবাকে নিয়ে বাংলা গানের ইতিহাসে বড় সাড়া জাগানো গান 'আয় খুকু আয়'। গানটি প্রকাশের ৫০ বছর হয়েছে। এর গীতিকার ছিলেন পুলক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সুরকার ছিলেন পণ্ডিত ভি. বালসারা। হেমন্ত মুখোপাধ্যায় ও শ্রাবন্তী মজুমদারের কণ্ঠে গানটি জনপ্রিয়তা পায়। গানটি পরবর্তীতে আরও অনেকেই নতুন করে গেয়েছেন। কিন্তু সত্তরের দশকের সেই গানটিই আবেদন ধরে রেখেছে মানুষের মনে।


গানটি মূলত শ্রাবন্তী মজুমদারের অ্যালবামের জন্য তৈরি করা হয়েছিল। এর সুরকার ভি. বালসারার প্রাথমিকভাবে গানটি পছন্দ হয়নি, কারণ এতে কিছু ইংরেজি শব্দ বা আধুনিক ধাঁচের রূপ ছিল সেটার তেমন প্রচলন সেসময় ছিল না; কলকাতার ডিডি বাংলার এক সাক্ষাৎকারে এভাবে বর্ণনা করেছিলেন মিজ মজুমদার। তার আগ্রহেই সুরকার বালসারা রাজি হন এবং তিনি চেয়েছিলেন গানটি তার সাথে হেমন্ত মুখোপাধ্যায় গাইবেন। তারা একসাথে হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের কাছে যান।


"আমার বুক দুরু দুরু করছে যদি হেমন্তদা বলেন আমি করবো না… হেমন্তদা পড়েই বললেন- আমি গাইবো" বলেন মিজ মজুমদার। তিনি ভি. বালসারাকে অনুরোধ করেন যেন সুরটা খুব 'সিম্পল ও মনোটনাস' হয় যেন সবাই সহজে গাইতে পারে। এরপর বাধা হয়ে দাঁড়ালো গানটা লম্বা হয়ে যাওয়া। "গানটা এত বড়, আমাদের তো তখন সাড়ে ছয় মিনিটের বেশি করা যাবে না। তো মি. বালসারা, আমি আর পুলকদা গেলাম হেমন্তদার কাছে। মি. বালসারা গিয়ে বললেন যে হেমন্তদা, যদি শেষের দুটা ভার্স (লাইন) বাদ দিয়ে দেওয়া যায় তাহলে গানটা ঠিকমতো মিউজিকে আসে"।


এভাবে বেশ অনেকগুলো সাক্ষাৎকারেই বর্ণনা করেন মিজ মজুমদার। তার ভাষায়, হেমন্ত মুখোপাধ্যায় বলেছিলেন "গানের ওই ভার্স যদি বাদ দাও তাহলে আর গানটা দাঁড়ায় না, তুমি তোমার মিউজিক বাদ দিয়ে দাও, ফেলে দাও। এই দুটো ভার্স থাকতেই হবে"। পরে সেসব রেখেই মিউজিক কম্পোজ করেন মি. বালসারা। সেসময় গানের রেকর্ডিং এখনকার মতো বারবার করার সুযোগ ছিল না। সবাই মিলে একসাথে এক-দুইবারে যেমন হয়। এইটা তিনবার রেকর্ড করা হয়েছিল। পরবর্তীতে গানটি পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশে ব্যাপক পরিচিতি পায়।


'বাবার মুখে শুনেছিলাম গান':  এন্ড্রু কিশোর

"আমার বাবার মুখে প্রথম যেদিন শুনেছিলাম গান, সেদিন থেকে গানই জীবন, গানই আমার প্রাণ" গানটি ১৯৮৪ সালের নয়নের আলো চলচ্চিত্রের জন্য তৈরি করা হয়েছিল।

গানটির সুরকার ও গীতিকার আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল এবং গেয়েছিলেন এন্ড্রু কিশোর। নয়নের আলো চলচ্চিত্রের শুধু এই গানটিই না, প্রায় সবগুলো গানই ব্যাপক জনপ্রিয় হয়। যেমন আমার বুকের মধ্যেখানে, আমার সারা দেহ খেও গো মাটি, আমি তোমার দুটি চোখে দুটি তারা হয়ে থাকবো, এমন বেশ কিছু গান।


প্রয়াত আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল ২০১৪ সালে সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, এই চলচ্চিত্রের গানের কাজ পাওয়া 'হিমালয় পর্বতের চূড়ায় ওঠা'র মতো ছিল। সে সময় অনেকের মাঝে বসিয়ে কড়া মন্তব্যের মুখে তাকে পড়তে হতো বলছিলেন তিনি। "ঐ সময় তো সাউন্ডপ্রুফ রুম ছিল না, আমার বাসায় বসে বসে টিউন করতাম, ক্যাসেট রেকর্ডারে গানগুলো ধারণ করতাম। তো কখন মুরগি ডাকলো কখন কুকুর ডাকলো সেটা আমি শুনতে পেতাম না। ওরা ঠিকই গান শুনতে গিয়ে বলতো, এই মুরগী ডাকলো কেন, কুকুর ডাকলো কেন? গান আবার ঠিক করে নিয়ে আসো। এটা করতে করতে আমার জীবন বার হয়ে গেছে, এটা আমার মনে পড়ে" বলেছিলেন তিনি। আগে দেশাত্মবোধক গান করলেও নয়নের আলো'র জন্য গান তৈরিকে নিজ ক্যারিয়ারের টার্নিং পয়েন্ট বলে জানান তিনি।


সুরকার ও সংগীত পরিচালক ইমন সাহা বলছিলেন, ক্যারিয়ারের প্রথম দিককার সময়ে মি. বুলবুল তার বাবা সত্য সাহার কাছ থেকে নানা ধরনের পরামর্শ নিতেন। "বাবা বলছে দেখ, যেটাই, করিস না কেন, আমাদের গ্রামীণ অডিএন্সটাকে, মাথায় রাখিস। ফিল্মের অডিএন্স কিন্তু গ্রামের অডিএন্স, ফোক বেজ যদি কিছু করিস তাহলে দেখবি যে জিনিসটা খুব সহজে মানুষের কাছে পৌঁছে যাবে। নয়নের আলো ছবির গানগুলি শুনলেই বুঝবেন যে কোথায় জানি, একটা মাটির গন্ধ আছে" বলছিলেন ইমন সাহা। ব্যক্তিগতভাবে বাবা নিয়ে নয়নের আলো চলচ্চিত্রের গানটি ছোটবেলা থেকেই গুনগুন করে গাইতেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।


সরাসরি বাবা নিয়ে না, কিন্তু

এমন বেশ কিছু গান রয়েছে যেগুলো ঠিক বাবাকে নিয়ে গান না, কিন্তু মানুষের কাছে ব্যাপক পরিচিত। এর মাঝে প্রথমেই থাকবে মান্না দের 'তুই কি আমার পুতুল পুতুল সেই ছোট্ট মেয়ে' যেটি মেয়েকে নিয়ে বাবার গান। গানটি নিয়ে মান্না দে তার আত্মজীবনী 'জীবনের জলসা ঘরে' বইতে উল্লেখ করেছেন, গীতিকার মিল্টু ঘোষের লেখা গানটি সুপর্ণকান্তি ঘোষকে গানটি সুর করতে বলেছিলেন তিনি সঙ্গীত পরিচালক নচিকেতা ঘোষের ছেলে সুপর্ণকান্তিকে তিনি খোকা বলতেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। সেই খোকার গানটির কথা সেভাবে পছন্দ হয়নি। কিন্তু সেটা অবিবাহিত তরুণ খোকার জন্য স্বাভাবিক বলেই বর্ণনা করেন তিনি।


"মেয়েকে বিদায় দেওয়ার নাড়ী-ছেঁড়া অসহ্য যন্ত্রণার সে অভিজ্ঞতা আমার আছে। দু'-দু'বার সেই নাড়ী-ছেঁড়া যন্ত্রণায় কেঁদেছি আমি। তাই আমি জানি ভাষাটা সত্যিই মনের কথা থেকেই হয়েছে" মান্না দে লেখেন। দুই জন কন্যাসন্তানের পিতা হিসেবে মান্না দে'র মন ছুঁয়েছিল সেই গান। আরেকটি 'গান বাবা বলে গেল আর কোনোদিন গান করো না' যেটি লিখেছেন আমজাদ হোসেন, সুর করেছেন আলাউদ্দিন আলীর ও গেয়েছেন শামীমা ইয়াসমিন দিবা। বাবার শাসন থেকে শুরু হওয়া এই গানটির মূল থিম অবশ্য 'গান গাওয়া', বাবা নয়। তবে 'জন্ম থেকে জ্বলছি' চলচ্চিত্রের এই গানটি অনেক বেশি পরিচিত।


বাবা তুমি আমার বেঁচে থাকার কারণ: তানভীর ইভান

সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে খুব পরিচিত হয়ে ওঠা গান 'বাবা তুমি আমার বেঁচে থাকার কারণ, বলো তোমার মতো করবে কে শাসন'। পিরান খানের সুরে গাওয়া এই গানটি মূলত 'আপন' নামের একটি নাটকের জন্য গাওয়া হয়েছিল। এ নিয়ে শিল্পী তানভীর ইভান দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকায় এক সাক্ষাৎকারে বলেন নাটকটির "পরিচালক অমি ভাই পিরানকে ফোন করে বলেন, বাবাকে নিয়ে একটা গান লাগবে। পরিস্থিতি বুঝিয়ে দিয়েছিলেন। এরপর আমরা বসে গানটা তৈরি করি। তানজিব সৌরভের লেখা কথায় সুর করেন পিরান। মেহেদীবাগের (চট্টগ্রাম) স্টুডিওতে গানটা তৈরি করি"।


এই গানটির ব্যাপক পরিচিতি পাওয়া ছাড়াও গানটি শুনে মি. ইভানের বাবা-মা আবেগে কেঁদেছেন, সেটা তার জন্য একটা বড় পাওয়া। আরও অনেক গানই আছে বাবা নিয়ে যেগুলো মানুষের কাছে পরিচিতি পেয়েছে। যেমন গাজী মাজহারুল আনোয়ারের লেখা সৈয়দ আব্দুল হাদীর গাওয়া 'বাবার কথা মনে পড়ে,' আইয়ুব বাচ্চুর কণ্ঠে 'বাবা তোমার কথা মনে পড়ে' আসিফ আকবরের 'বাবা নেই', গীতিকবি মিল্টন খন্দকারের 'আমি যাচ্ছি বাবা' (গেয়েছেন ঝিনুক) বা 'বাবা তোমার ছেলে আজ বড় হয়েছে' (গেয়েছেন মনির খান), এমন অনেক গানই রয়েছে। আর সাম্প্রতিক সময়ে 'জংলি' চলচ্চিত্রে প্রিন্স মাহমুদের পরিচালনায় 'বাবা তোমায় ছাড়া' গানটিও বেশ পরিচিতি পেয়েছে।



সর্বশেষ সব খবর

রাকুল প্রীত সিং

  • প্রকাশ : রবিবার ২৬ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৬:২৩ পিএম

অভিনয়ের কোনো স্বপ্ন, পরিকল্পনা কিংবা শৈশবের আকাঙ্ক্ষা ছিল না বলিউড অভিনেত্রী রাকুল প্রীত সিংয়ের। মোটা অঙ্কের এক পারিশ্রমিকই তাঁকে প্রথমবারের মতো ক্যামেরার সামনে দাঁড়াতে উদ্বুদ্ধ করেছিল। 


সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের অভিনয়জীবনের শুরুর গল্প তুলে ধরে অভিনেত্রী জানান, কলেজে পড়ার সময় হঠাৎ একটি সিনেমায় অভিনয়ের প্রস্তাব পান। ছবিটির জন্য তাঁকে পাঁচ লাখ টাকা পারিশ্রমিক দেওয়ার কথা জানানো হয়। সে সময় একজন কলেজছাত্রীর কাছে এত বড় অঙ্কের অর্থ ছিল অকল্পনীয়। তাই টাকার লোভেই তিনি প্রস্তাবটি গ্রহণ করেছিলেন।


রাকুল জানান, তখন তার সবচেয়ে বড় স্বপ্ন ছিল নিজের একটি গাড়ি কেনা। বন্ধুদের মধ্যে সবার আগে গাড়ির মালিক হতে চেয়েছিলেন তিনি। সেই লক্ষ্য পূরণ করতেই প্রথম সিনেমায় অভিনয়ে রাজি হন। তবে তখনও তিনি ভাবেননি, এই সিদ্ধান্তই তাঁর ভবিষ্যৎ বদলে দেবে। প্রথম ছবির কাজ শেষ হওয়ার পর অভিনয়ের প্রতি আগ্রহ তৈরি হয়।


একই সঙ্গে নির্মাতা-প্রযোজকদের কাছ থেকেও নতুন নতুন কাজের প্রস্তাব আসতে থাকে। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাঁকে। একের পর এক দক্ষিণী সিনেমায় অভিনয় করে নিজের অবস্থান শক্ত করেন রাকুল প্রীত সিং। 


পরে বলিউডেও সফলভাবে অভিষেক ঘটে তাঁর। বর্তমানে দক্ষিণী সিনেমা ও হিন্দি সিনেমা- দুই অঙ্গনেই সমান জনপ্রিয় এই অভিনেত্রী।


রাকুলের মতে, শুধু অর্থের জন্য নেওয়া সেই একটি সিদ্ধান্তই শেষ পর্যন্ত তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে। যে অভিনয়জগতে আসার কোনো পরিকল্পনাই ছিল না, সেখানেই আজ তিনি পরিচিত ও সফল অভিনেত্রীদের একজন।

সর্বশেষ সব খবর

থালাপতি বিজয়

  • প্রকাশ : রবিবার ২৬ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৪:৩৮ পিএম

দীর্ঘ অপেক্ষা ও নানা বিতর্কের পর অবশেষে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে তামিল সুপারস্টার থালাপতি বিজয়ের বহুল প্রতীক্ষিত সিনেমা ‘জন নায়াগান’। 


রাজনীতিতে পূর্ণকালীন যাত্রার আগে এটিই বিজয়ের শেষ সিনেমা বলে প্রচার করা হচ্ছে। মুক্তির পর থেকে বক্স অফিসে দাপট দেখাচ্ছে সিনেমাটি।


বাণিজ্যিক তথ্যভিত্তিক ওয়েবসাইট স্যাকনিল্কের তথ্যমতে, মুক্তির প্রথম দিনে ভারতে ৪২ কোটি ৭০ লাখ রুপি নেট আয় করে সিনেমাটি। দ্বিতীয় দিনে আয় হয় ২১ কোটি ১৫ লাখ রুপি। তৃতীয় দিনে আবারও বড় চমক দেখিয়ে সিনেমাটি সংগ্রহ করেছে প্রায় ২৮ কোটি ৫০ লাখ রুপি।


তিন দিনে ভারতের বক্স অফিসে ‘জন নায়াগান’-এর মোট আয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ৭৪ কোটি ৪৪ লাখ রুপি। একই সময়ে দেশীয় গ্রস আয় হয়েছে ৮৭ কোটি ৫০ লাখ রুপি। আর বিশ্বব্যাপী ছবিটির মোট আয় পৌঁছেছে ১৭১ কোটি ৮৪ লাখ রুপিতে। ফলে দ্রুতই বিশ্বব্যাপী ২০০ কোটি রুপির মাইলফলক স্পর্শ করার পথে রয়েছে ‘জনা নায়াগান’।


আজ রোববার সিনেমাটির তামিল সংস্করণের সার্বিক হল দখলের হার ছিল ৬১ দশমিক ০৪ শতাংশ। দিনের শুরুতে সকালের শোগুলোতে উপস্থিতি ছিল ৪২ দশমিক ৯২ শতাংশ। দুপুরে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৫৯ দশমিক ৩১ শতাংশ দর্শক উপস্থিত ছিলেন।


ভারতের বিভিন্ন শহরের মধ্যে চেন্নাইয়ে সবচেয়ে বেশি সাড়া মিলেছে। সেখানে ১ হাজার ৪৬টি প্রদর্শনীতে দর্শক উপস্থিতির হার ছিল ৮৬ দশমিক ৮ শতাংশ। 


অন্যদিকে বেঙ্গালুরুতে ৭০৭টি প্রদর্শনীতে উপস্থিতির হার ছিল ৪৮ দশমিক ৫ শতাংশ।


সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে সিনেমার পরিচালক এইচ. ভিনোথ বলেন, ‘বিজয় স্যারের সিনেমা মুক্তির পর প্রথম এক সপ্তাহ নানা ধরনের আলোচনা-সমালোচনা হয়। কেউ বলে ভালো, কেউ বলে খারাপ। কিন্তু ছয় মাস পর দেখা যায়, সেই সিনেমাই বড় সাফল্যে পরিণত হয়েছে।’


কেভিএন প্রোডাকশনের ব্যানারে ভেঙ্কট কে. নারায়ণ প্রযোজিত ‘জন নায়াগান’-এ থালাপতি বিজয়ের পাশাপাশি অভিনয় করেছেন পূজা হেগড়ে, মামিথা বাইজু, নাসের, প্রকাশ রাজ, গৌতম বাসুদেব মেনন, নারাইন ও প্রিয়ামণি। সূত্র: দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

সর্বশেষ সব খবর

জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী আতিফ আসলাম

  • প্রকাশ : শনিবার ২৫ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৮:৫১ পিএম

দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে ঢাকার মঞ্চে পারফর্ম করলেন পাকিস্তানের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী আতিফ আসলাম। রাজধানীর মাদানী অ্যাভিনিউয়ে শুক্রবার (২৪ জুলাই) অনুষ্ঠিত ‘মেইন স্টেজ শো ফিচারিং আতিফ আসলাম’ কনসার্টে একের পর এক জনপ্রিয় গান গেয়ে হাজারো দর্শককে মাতিয়ে তোলেন তিনি। 


ঝুম বৃষ্টি ও প্রতিকূল আবহাওয়াও তার ভক্তদের উচ্ছ্বাসে কোনো প্রভাব ফেলতে পারেনি। কনসার্ট শুরুর অনেক আগেই দর্শকরা ভেন্যুতে জড়ো হন। বৃষ্টির মধ্যে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে প্রিয় শিল্পীকে একনজর দেখার অপেক্ষায় ছিলেন তারা। 


মূল পরিবেশনার আগে মঞ্চে গান পরিবেশন করে দেশের ব্যান্ড মেঘদল ও লেভেল ফাইভ। রাত ৮টা ৫২ মিনিটে আতিফ আসলাম মঞ্চে উঠতেই করতালি ও উল্লাসে মুখর হয়ে ওঠে পুরো ভেন্যু।


‘ও লামহে ও বাতে’, ‘দিল দিয়া গাল্লা’, ‘তেরা হোনে লাগা হুঁ’, ‘তু জানে না’, ‘আদত’, ‘তেরে লিয়ে’ এবং ‘মাস্ত কালান্দার’সহ তার জনপ্রিয় গানগুলোতে কণ্ঠ মেলান হাজারো দর্শক। বৃষ্টিভেজা সন্ধ্যায় মোবাইলের আলো আর দর্শকদের সম্মিলিত কণ্ঠ কনসার্টকে আরও স্মরণীয় করে তোলে।


কনসার্টের আগের দিন রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ নিয়ে নিজের ভালোবাসার কথা জানান আতিফ আসলাম। তিনি বলেন, বাংলাদেশ সবসময়ই আমার কাছে দ্বিতীয় বাড়ির মতো। এখানকার মানুষের ভালোবাসা আমাকে বারবার ফিরে আসতে অনুপ্রাণিত করে।বাংলাদেশ সংবাদ


বাংলাদেশের খাবারেরও প্রশংসা করেন এই শিল্পী। তার ভাষায়, দেশের খিচুড়ি, বিরিয়ানি ও মালাই চা তার ভীষণ প্রিয়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গেলেও বাংলাদেশি খাবারের কথা তিনি গর্বের সঙ্গে উল্লেখ করেন।


সংবাদ সম্মেলনে কিংবদন্তি শিল্পী রুনা লায়লাকে ‘লিজেন্ড’ বলে অভিহিত করেন আতিফ। পাশাপাশি বাংলা গান গাওয়ার আগ্রহের কথাও জানিয়ে বলেন, সঠিক উচ্চারণ আয়ত্ত করার পরই তিনি বাংলা গান গাইতে চান। বাংলাদেশের মানুষকে নিজের পরিবারের মতো মনে করেন বলেও জানান এই জনপ্রিয় গায়ক।

সর্বশেষ সব খবর

বলিউড তারকা সালমান খান ও আলিয়া ভাট

  • প্রকাশ : শনিবার ২৫ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৩:৩৯ পিএম

দিল্লির যন্তর-মন্তরে হাজারো শিক্ষার্থীর কণ্ঠে উচ্চারিত হচ্ছে ‘শিক্ষায় দুর্নীতি চলবে না’। এই স্লোগানে ধীরে ধীরে যোগ হচ্ছে ভারতের চলচ্চিত্র, নাটক ও সংস্কৃতি অঙ্গনের পরিচিত মুখগুলোর কণ্ঠও। কেউ ভিডিওবার্তায়, কেউ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে, কেউ প্রকাশ্য বিবৃতিতে, কেউ আবার স্বয়ং মাঠে উপস্থিত হয়ে শিক্ষার্থীদের প্রতি সংহতি জানিয়েছেন। তাদের বক্তব্যে বারবার উঠে এসেছে গণতন্ত্র, সংবিধান, শিক্ষার অধিকার ও শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের প্রসঙ্গ।


ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) নামে তরুণদের নেতৃত্বাধীন এই আন্দোলনের সূচনা হয় নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদ থেকে। তাদের প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এবং পরীক্ষা ও শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কার।


তারকাদের দৃষ্টিতে এ আন্দোলন এখন দেশের শিক্ষাব্যবস্থার জবাবদিহিতা ও গণতান্ত্রিক অধিকারের দাবির প্রতীক। আর সেই কারণেই বলিউড থেকে টলিউড—বিভিন্ন অঙ্গনের এই তারকারা নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করছেন।


শিক্ষার্থীদের স্যালুট জানাই: অঞ্জন দত্ত

কোনো রাজনৈতিক দলের হয়ে নয়, বরং একজন নাগরিক হিসেবে শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়েছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত নির্মাতা, অভিনেতা ও সংগীতশিল্পী অঞ্জন দত্ত। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের প্রতি সমর্থন জানিয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার ভিডিওবার্তায় তিনি বলেন, ‘দিল্লিতে যা হচ্ছে এবং শিক্ষার্থীরা যে দাবিতে আন্দোলন করছে, আমি মনে করি তা সম্পূর্ণ ন্যায্য। আমি গণতন্ত্রে বিশ্বাস করি।’


তিনি আরও বলেন, ‘আমি কখনো কোনো রাজনৈতিক দলের সদস্য ছিলাম না। ছাত্রজীবন থেকেই দলীয় রাজনীতি থেকে দূরে থেকেছি। কিন্তু যখন দেখি লাখো শিক্ষার্থী শিক্ষাব্যবস্থায় দুর্নীতির বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিক, সাংবিধানিক ও অহিংস উপায়ে ন্যায়বিচারের দাবি তুলছে, তখন তাদের স্যালুট না জানিয়ে পারি না। ওরা আমাকে ভারতীয় হিসেবে গর্ব অনুভব করার সুযোগ দিয়েছে।’


প্রশ্ন তোলার অধিকার কেড়ে নেওয়া যায় না: নাসিরুদ্দিন শাহ

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে গত বুধবার ইনস্টাগ্রামে একটি ভিডিওবার্তা দেন ভারতের প্রবীণ অভিনেতা নাসিরুদ্দিন শাহ। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের বলপ্রয়োগের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘যখন তরুণরা নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন তোলে, তখন তাদের কথা শোনা উচিত, দমন নয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা দেশের শত্রু নয়। তারা ভবিষ্যতের নাগরিক। তাদের সঙ্গে সংলাপ হওয়া উচিত।’


তরুণদের কণ্ঠ রুদ্ধ করা বিপজ্জনক: শাবানা আজমি

২০ জুলাই সিজেপির ‘চলো সংসদ’ কর্মসূচিতে উপস্থিত হয়ে আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানান প্রবীণ অভিনেত্রী ও সমাজকর্মী শাবানা আজমি। তিনি বলেন, ‘যুবসমাজ যখন কোনো বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে, তখন রাষ্ট্রের দায়িত্ব তাদের কথা শোনা। তাদের কণ্ঠস্বরকে দমন করার চেষ্টা নয়, বরং কেন তারা ক্ষুব্ধ, সেটি বোঝার চেষ্টা করা উচিত।’ ওইদিন তারকাদের মধ্যে আরও উপস্থিত হন প্রকাশ রাজ, কুনাল কামরা ও স্বরা ভাস্কর।


তাদের হাত ধরে থাকব: প্রকাশ রাজ

আন্দোলনের শুরু থেকেই শিক্ষার্থীদের পক্ষে সক্রিয় প্রকাশ রাজ। গত ২১ জুলাই এক্সে তিনি লেখেন, ‘আমার দেশের তরুণরা তাদের ভবিষ্যতের জন্য লড়ছে। আবারও স্বাধীনতা সংগ্রামের মতো একটি আন্দোলনের আবহ তৈরি হচ্ছে। আমি এই জাগরণকে শক্তি জোগাতে থাকব। আমি তাদের হাত ধরে থাকব, তাদের শক্তি হয়ে পাশে দাঁড়াব তাদের ভবিষ্যতের জন্য।’


শিক্ষার্থীদের প্রতি দ্রুত মনোযোগ দিন: পীযূষ মিশ্র

অভিনেতা, গীতিকার ও নাট্যব্যক্তিত্ব পীযূষ মিশ্রও শিক্ষার্থীদের প্রতি সমর্থন জানিয়ে গতকাল ইনস্টাগ্রামে লেখেন, ‘শিক্ষার্থীরা প্রশ্ন করছে, তারা দেশের ভবিষ্যত। তাদের প্রশ্নকে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। দ্রুত তাদের প্রতি মনোযোগ দেন।’


রাজনৈতিকভাবে এ আন্দোলন হাইজ্যাক হওয়া উচিত না: সালমান খান

বলিউড তারকা সালমান খানও শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি সমর্থন জানান। গতকাল ইনস্টাগ্রাম পোস্টে শিক্ষার ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতার গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, ‘শিক্ষাই ভবিষ্যতের ট্রেন্ড হওয়া উচিত। এই প্রজন্ম ভারতের জন্য গর্ব বয়ে আনবে।’ আজ তিনি আরেকটি পোস্টে বলেন, ‘শিক্ষার্থীরাই আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার—শিক্ষার ক্ষেত্রেও, নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও। তাই তাদের কিংবা তাদের অভিভাবকদের উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই। প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে ইতোমধ্যে টুইট করেছেন এবং আমি নিশ্চিত, প্রশ্নফাঁসের জন্য দায়ী প্রত্যেকের বিরুদ্ধে তিনি কঠোর ব্যবস্থা নেবেন। তাই শিক্ষার্থীদের প্রতি আমার অনুরোধ, দয়া করে আপনারা নিজেদের বাড়িতে, আপনাদের বাবা-মায়ের কাছে ফিরে যান।’


ইনস্টাগ্রামে অভিনেত্রী আলিয়া ভাট লেখেন, ‘এই আন্দোলন প্রশ্ন জাগিয়েছে, আমরা কি আসলেই তাদের কথা শুনছি, যারা ভবিষ্যতে ভারতের দায়িত্ব নেবে।’


বলিউডের পাওয়ার কাপলখ্যাত রিতেশ দেশমুখ ও জেনেলিয়া দেশমুখ গত ২০ জুলাই এক্সে লেখেন, ‘তরুণরাই আমাদের গণতন্ত্রের হৃৎস্পন্দন এবং আমাদের জাতির ভবিষ্যতের প্রকৃত নির্মাতা। আসুন, আমরা তাদের কথা শুনি, তাদের পাশে দাঁড়াই এবং তাদের ক্ষমতায়িত করি। আমাদের তরুণদের শক্তি, সাহস ও স্বপ্নই গড়ে তুলবে সেই ভারত, যা আমরা নির্মাণ করতে চাই।’


এ তালিকায় আরও আছেন, অতুল কুলকার্নি, সোনু সুদ, দিলজিত দোসাঞ্জ, জিনাত আমান, অভয় দেওল, রত্না পাঠক শাহ, ওম বৈদ্য, সোনাক্ষী সিনহা, হুমা কুরেশি, নন্দিতা দাস, ভূমি পেডনেকর, রিচা চাড্ডা, সোনি রাজদান, অনুরাগ কাশ্যপ, রাজকুমার রাও, ইমরান খান, আর মাধবন, দুলকার সালমান, প্রীতি জিনতা, অনুপম খের, অরিজিৎ সিং-সহ আরও অনেকে।


ভারতে ছাত্র আন্দোলনের ইতিহাস দীর্ঘ। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চলচ্চিত্র ও সংস্কৃতি অঙ্গনের অনেকেই রাজনৈতিক ইস্যুতে প্রকাশ্যে কথা বলতে অনীহা দেখিয়েছেন। সেই প্রেক্ষাপটে একের পর এক পরিচিত শিল্পীর মুখ খোলা আন্দোলনটিকে নতুন মাত্রা দিয়েছে।


দিল্লির রাজপথে আন্দোলন কত দিন চলবে, সরকারের অবস্থান কী হবে—এর উত্তর সময়ের হাতে থাকলেও তারকাদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ প্রমাণ করে দেয়, এটি আর কেবল শিক্ষার্থীদের মধ্যে সীমিত নেই।


সর্বশেষ সব খবর

তামিল সুপারস্টার ও তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী থালাপতি বিজয়

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২৩ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১২:০৬ এএম

তামিল সুপারস্টার ও তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী থালাপতি বিজয়ের বহুল প্রতীক্ষিত সিনেমা ‘জন নয়াগণ’ আজ (২৩ জুলাই) বিশ্বব্যাপী প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাচ্ছে। রাজনীতিতে পূর্ণ সময় দেওয়ার আগে এটিই বিজয়ের শেষ সিনেমা বলে ঘোষণা দেওয়ায় সিনেমাটি ঘিরে ভক্ত-দর্শকদের আগ্রহ তুঙ্গে। মুক্তির আগেই অগ্রিম টিকিট বিক্রিতে রেকর্ড গড়ে আলোচনায় এসেছে সিনেমাটি। 


চলচ্চিত্র বিষয়ক একটি ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, প্রথম দিনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি থেকেই সিনেমাটি আয় করেছে ১৫ কোটি ৯ লাখ রুপির বেশি। তামিল সিনেমার ইতিহাসে এটি অন্যতম বড় অগ্রিম বুকিং।


ভারতের সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, মুক্তির ৪৮ ঘণ্টারও কম সময় বাকি থাকতেই টিকিট বুকিংয়ের গতি কয়েক গুণ বেড়ে যায়। গত ১৯ জুলাই বুকিং শুরু হওয়ার পর প্রথমদিকে সাড়া তুলনামূলক কম থাকলেও শেষ দিকে তা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পায়। সবচেয়ে বেশি অগ্রিম বুকিং হয়েছে তামিল সংস্করণের জন্য।


রাজ্যভিত্তিক হিসাবে অগ্রিম বুকিংয়ে শীর্ষে রয়েছে তামিলনাড়ু, যেখানে আয় হয়েছে প্রায় ৬ কোটি ৭৪ লাখ রুপি। এরপর কর্ণাটক থেকে ৪ কোটি ৮৮ লাখ এবং কেরালা থেকে ১ কোটি ৮০ লাখ রুপি এসেছে। 


ইতোমধ্যে সিনেমাটি বিজয়ের আগের দুই ব্লকবাস্টার ‘লিও’ ও ‘দ্য গ্রেটেস্ট অব অল টাইম’-এর অগ্রিম বুকিংয়ের রেকর্ডের কাছাকাছি পৌঁছে গেছে।


বক্স অফিস বিশ্লেষকদের ধারণা, প্রথম দিনেই ভারতে ৫০ থেকে ৬০ কোটি রুপি আয় করতে পারে ‘জন নয়াগণ’। শেষ মুহূর্তের টিকিট বিক্রি প্রত্যাশার চেয়ে বেশি হলে সেই অঙ্ক আরও বাড়তে পারে। একই সঙ্গে বিশ্বব্যাপী প্রথম দিনের আয়ের দিক থেকেও তামিল সিনেমায় নতুন ইতিহাস গড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।


এইচ. ভিনোথ পরিচালিত ‘জন নয়াগণ’-এ থালাপতি বিজয়ের পাশাপাশি অভিনয় করেছেন পূজা হেগড়ে, ববি দেওলসহ আরও কয়েকজন জনপ্রিয় শিল্পী। বিজয়ের বিদায়ী সিনেমা হওয়ায় এটি নিয়ে দর্শকদের প্রত্যাশাও অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি।

সর্বশেষ সব খবর

অভিনেত্রী পরীমনি

  • প্রকাশ : সোমবার ২০ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৩:১৩ এএম

আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপ জিতলে বিয়ে করবেন— এমন ঘোষণা দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবারও আলোচনায় এসেছেন ঢাকাই চলচ্চিত্রের অভিনেত্রী পরীমনি। স্পেন ও আর্জেন্টিনার মধ্যকার ফাইনাল ম্যাচকে ঘিরে তার সেই পোস্ট নতুন করে নেটিজেনদের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই জানতে চাইছেন, আলবিসেলেস্তারা যদি লা রোজাদের হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েই যায়, তবে কি তিনি সত্যিই বিয়ের পিঁড়িতে বসবেন?


বিষয়টি নিয়ে কিছুটা অস্বস্তিতে পড়েছেন পরীমনি। গণমাধ্যমকে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় তিনি জানিয়েছেন, মজার ছলে দেওয়া সেই পোস্ট নিয়ে তিনি অনেকটাই বিপাকে। তবে বিয়ের কথা একেবারে অস্বীকারও করেননি এ আলোচিত অভিনেত্রী।


পরীমনি বলেন, ‘আমি তো এর আগে ঘোষণা দিয়ে বিয়ে করিনি। প্রেম করেছি, এরপর হুট করে বিয়ে করে ফেলছি। এবার বিয়ের ঘোষণা দিয়ে তো মুসিবতে পড়ে গেলাম। ভাবিনি, এভাবে সবাই বিষয়টিকে সিরিয়াসলি নিয়ে নেবে। এত এত সিরিয়াস সব বিয়ের প্রস্তাব আসতেছে, কিছুই বুঝতেছি না, কী করব।’


তিনি আরও বলেন, ‘বিয়ের জন্য তো একজন অভিভাবক লাগে। আগে আমার অভিভাবক ছিল, এখন তো ওই পর্যায়ের কেউই নেই। ভাবছি, ছেলে বড় হোক, ছেলে বিয়েশাদি করুক। এরপর কিংবা তার আগে ছেলে যদি অভিভাবক হয়ে বিয়ে দেয়, তাহলেই বিয়ে করতে পারব।’


এর আগে গত বুধবার দিবাগত রাতে আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড সেমিফাইনালের আগে নিজের ফেসবুকে তিনি লিখেছিলেন, ‘আর্জেন্টিনা কাপ জিতলে আমি আবার একটা বিয়া করব। ফাইনাল।’


উল্লেখ্য, শিরোপা জয়ের লড়াইয়ে স্পেনের মুখোমুখি হচ্ছে বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে আসরের ১০৪তম ও ফাইনাল ম্যাচটি শুরু হবে ২০ জুলাই বাংলাদেশ সময় আজ রাত ১টায়।


সর্বশেষ সব খবর