রাশমিকা মান্দানা ও বিজয় দেবরাকোন্ডা
বহুদিন ধরে চলা জল্পনা-গুঞ্জনের অবসান ঘটিয়ে অবশেষে নিজেরাই বিয়ের খবর নিশ্চিত করলেন দক্ষিণি সিনেমার আলোচিত জুটি রাশমিকা মান্দানা ও বিজয় দেবরাকোন্ডা।
সম্পর্ক নিয়ে এত দিন প্রকাশ্যে নীরব থাকলেও গতকাল রোববার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যৌথ বার্তায় তাঁরা জানান, জীবনের নতুন অধ্যায়ে পা রাখছেন। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর তাঁদের এই ঘোষণা ভক্তদের কৌতূহলকে দিল আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি।
‘বিরোশ’ নামেই বিয়ের ঘোষণা
ভক্তদের দেওয়া জনপ্রিয় নাম ‘বিরোশ’—দুজনের নাম মিলিয়ে তৈরি এই সম্বোধনকেই বিয়ের আনুষ্ঠানিক পরিচয় হিসেবে বেছে নিয়েছেন তারকা জুটি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁরা লেখেন, ‘আমরা কিছু পরিকল্পনা করার আগেই তোমরা আমাদের সঙ্গে ছিলে। অনেক ভালোবাসা দিয়ে আমাদের নাম দিয়েছিলে—বিরোশ।’
জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এ মুহূর্তে ভক্তদের সেই নামকেই ধারণ করে তাঁরা বিয়ের ঘোষণা দেন। ভক্তদের উদ্দেশে কৃতজ্ঞতাও জানান, ‘তোমরা আমাদেরই অংশ। অনেক ভালোবাসা ও আলিঙ্গন।’
তারকাদের নাম জুড়ে এমন সম্বোধনের চল নতুন নয়। সেই ধারাবাহিকতায় এবার যুক্ত হলো ‘বিরোশ’।
রাজস্থানে গোপন আয়োজন
ঘনিষ্ঠ সূত্র বলছে, ২৬ ফেব্রুয়ারি রাজস্থানের একটি প্রাসাদে অনুষ্ঠিত হবে মূল বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা। ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হবে বিয়ের বিভিন্ন আচার। দুই পরিবারের নিজস্ব রীতিনীতি মেনে আলাদা আয়োজনও হয়েছে—একটি রাশমিকার পরিবারের উদ্যোগে, অন্যটি বিজয়ের পরিবারের পক্ষ থেকে। এবারের আয়োজনের বিশেষ দিক—কড়া গোপনীয়তা। বিয়ের ভেন্যুতে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একটি আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা সংস্থাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। অতিথির তালিকা সীমিত। অনুষ্ঠানে মুঠোফোন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে। এমনকি যাঁরা ছবি বা ভিডিও ধারণ করবেন, তাঁদেরও ‘নন-ডিসক্লোজার অ্যাগ্রিমেন্ট’ বা গোপনীয়তা চুক্তিতে সই করতে হয়েছে। অর্থাৎ ‘নো ফোন, নো লিক’ নীতিতেই হচ্ছে এই বহুল আলোচিত আয়োজন।
৪ মার্চ হায়দরাবাদে সংবর্ধনা?
বিয়ের অনুষ্ঠান থাকবে একান্ত ব্যক্তিগত পরিসরে। তবে ৪ মার্চ হায়দরাবাদে ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও চলচ্চিত্র অঙ্গনের সহকর্মীদের জন্য একটি বড় সংবর্ধনার আয়োজন করা হতে পারে বলে শোনা যাচ্ছে। যদিও এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।
পর্দার রসায়ন থেকে বাস্তবের সম্পর্ক
২০১৭ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘গীতা গোবিন্দাম’ ছবিতে প্রথমবারের মতো একসঙ্গে কাজ করেন রাশমিকা মান্দানা ও বিজয় দেবরাকোন্ডা। রোমান্টিক এই ছবিতে তাঁদের স্বতঃস্ফূর্ত অভিনয় আর পর্দার সহজাত রসায়ন মুহূর্তেই দর্শকের মন কাড়ে। বক্স অফিসে সাফল্যের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তাঁদের জুটি নিয়ে শুরু হয় আলোচনা।
এরপর ‘ডিয়ার কমরেড’-এ আবারও জুটি বাঁধেন তাঁরা। ভিন্ন স্বাদের, আবেগঘন এই ছবিতে তাঁদের সম্পর্কের গভীরতা ও সংবেদনশীল অভিনয় দর্শক-সমালোচক উভয়ের প্রশংসা পায়। দুই ছবির পর থেকেই পর্দার রসায়ন বাস্তবেও কি রূপ নিচ্ছে—এমন প্রশ্ন ঘুরতে থাকে ভক্তমহলে।
একসঙ্গে বিদেশ ভ্রমণ, পারিবারিক অনুষ্ঠানে উপস্থিতি কিংবা একই সময়ে একই জায়গায় ছুটি কাটানোর ছবি—সব মিলিয়ে জল্পনা ক্রমেই ঘনীভূত হয়। তবু ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে বরাবরই সংযত ছিলেন দুজনেই। সাক্ষাৎকারে প্রশ্ন এলে কৌশলে এড়িয়ে গেছেন, কখনোই সরাসরি স্বীকার বা অস্বীকার করেননি।
সম্প্রতি বাগ্দানের গুঞ্জনও ছড়িয়ে পড়ে বিনোদন অঙ্গনে। যদিও সে সময়ও তাঁরা নীরব ছিলেন। অবশেষে নিজেদের মুখেই বিয়ের ঘোষণা আসায় বহুদিনের সেই অনিশ্চয়তার অবসান ঘটল। পর্দায় শুরু হওয়া একটি সফল জুটির গল্প এবার বাস্তব জীবনেও পেল আনুষ্ঠানিক পরিণতি।
নতুন অধ্যায়ের অপেক্ষা
তারকাদের জাঁকজমকপূর্ণ ‘ডেস্টিনেশন ওয়েডিং’-এর যুগে রাশমিকা মান্দানা ও বিজয় দেবরাকোন্ডার এই নিয়ন্ত্রিত, সংযত আয়োজন আলাদা নজর কাড়ছে। আলোঝলমলে প্রচারের বদলে তাঁরা বেছে নিয়েছেন ব্যক্তিগত পরিসর ও নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেওয়া পথ। ভক্তদের মতে, ২৬ ফেব্রুয়ারি তাই শুধু একটি বিয়ের দিন নয়—দক্ষিণি সিনেমার জনপ্রিয় জুটির বাস্তব জীবনের নতুন সূচনার দিন। এখন তাঁদের অপেক্ষা, কবে তাঁদের পক্ষ থেকে প্রকাশ পাবে বিয়ের প্রথম আনুষ্ঠানিক ছবি।
মার্কিন রিয়েলিটি টিভি তারকা ও সৌন্দর্যপণ্য উদ্যোক্তা কাইলি জেনার। ছবি: সংগৃহীত
দীর্ঘ আট বছর পর আবারও র্যাম্পে ফিরেছে ভিক্টোরিয়াস সিক্রেটের আলোচিত ‘ফ্যান্টাসি ব্রা’। আর এবারের বিশেষ ডিজাইনের ব্রা পরে র্যাম্পে হেঁটেছেন মার্কিন রিয়েলিটি টিভি তারকা ও সৌন্দর্যপণ্য উদ্যোক্তা কাইলি জেনার। হীরা ও মূল্যবান রত্নে সাজানো ব্রাটির দাম ৫ কোটি ডলার, বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ৬১৭ কোটি টাকারও বেশি।
রোববার (১৮ অক্টোবর) মার্কিন ফ্যাশন ম্যাগাজিন ভোগের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৮ সালের পর এবারই প্রথম ভিক্টোরিয়াস সিক্রেটের ফ্যাশন শোতে ফিরল ফ্যান্টাসি ব্রা। এর প্রত্যাবর্তনকে স্মরণীয় করতে নকশা ও অলংকারে বিশেষ আয়োজন করেছে ব্র্যান্ডটি। এতে ব্যবহার করা হয়েছে ৪ হাজার ৪১০টি প্রাকৃতিক হীরা। মাঝখানে রয়েছে ৭৫ দশমিক ৫৪ ক্যারেটের উজ্জ্বল কাটের বিরল হলুদ হীরা।
অন্তর্বাসটি তৈরি করতে ১৫ জন কারিগরের এক হাজার ঘণ্টারও বেশি সময় লেগেছে। এর ওজন প্রায় চার পাউন্ডের কাছাকাছি। ভিক্টোরিয়াস সিক্রেটের ইতিহাসে এটিই এখন পর্যন্ত সবচেয়ে দামি ফ্যান্টাসি ব্রা। এর আগের রেকর্ডের তুলনায় দাম প্রায় সাড়ে তিন কোটি ডলার বেশি।
র্যাম্পে কাইলির পরনে ছিল হালকা কাপড়ের মিনিস্কার্ট, স্বচ্ছ হিল এবং সাদা পালকের ডানা। তবে পুরো আয়োজনের মূল আকর্ষণ হয়ে ওঠে হীরাখচিত ব্রাটি। এ বিষয়ে ভিক্টোরিয়াস সিক্রেটের প্রধান সৃজনশীল কর্মকর্তা অ্যাডাম সেলম্যান বলেন, এবারের শোর অন্যতম ভাবনা ছিল ভক্তদের উন্মাদনা ও প্রত্যাশা। গত বছরের শোতে ফ্যান্টাসি ব্রা ফিরিয়ে আনার দাবি ছিল সবচেয়ে বেশি। তাই এবার জমকালোভাবে এটি উপস্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তার ভাষায়, কাইলি একজন ‘সাংস্কৃতিক শক্তি’, যিনি ফ্যাশন, টেলিভিশন ও সৌন্দর্যজগতের বাইরেও ব্যাপক প্রভাব রাখেন। জুয়েলারি প্রতিষ্ঠান জ্যাকব অ্যান্ড কো ব্রাটির অলংকার নির্মাণে কাজ করেছে। প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা জ্যাকব আরাবো জানান, ব্রাটিতে সাত ধরনের কাটের হীরা ব্যবহার করা হয়েছে। হীরার উজ্জ্বলতা বাড়াতে প্রয়োগ করা হয়েছে চার ধরনের সেটিং কৌশল।
তবে এত দামি অলংকার তৈরি করাই ছিল একমাত্র চ্যালেঞ্জ নয়। ব্রাটি যেন কাইলির শরীরের সঙ্গে মানানসই হয় এবং চলাফেরায় অসুবিধা না করে, সেটিও নিশ্চিত করতে হয়েছে। কারণ, নকশাটি তৈরি হয়েছে মূলত সোনা ও হীরা দিয়ে, এতে কোনো কাপড় ব্যবহার করা হয়নি। কাইলির শরীরের মাপ নিয়ে একাধিকবার পরীক্ষা ও সমন্বয়ের মাধ্যমে চূড়ান্ত নকশা তৈরি করা হয়।
ফ্যান্টাসি ব্রার ইতিহাস প্রায় ৩০ বছরের। ১৯৯৬ সালে ক্লডিয়া শিফার এক মিলিয়ন ডলারের প্রথম ফ্যান্টাসি ব্রা পরে প্রচারণায় অংশ নেন। ১৯৯৯ সালে হেইডি ক্লুম পরেন ১০ মিলিয়ন ডলারের ‘মিলেনিয়াম ব্রা’।
২০০০ সালে জিসেল বুন্ডশেনের পরনে ছিল ১৫ মিলিয়ন ডলারের ‘রেড হট ফ্যান্টাসি ব্রা’। সর্বশেষ ২০১৮ সালে এলসা হস্ক পরেছিলেন এক মিলিয়ন ডলারের অ্যাটেলিয়ার স্বরোভস্কি ফ্যান্টাসি ব্রা।
ফ্যাশন দুনিয়ায় ফ্যান্টাসি ব্রা একদিকে যেমন প্রচারণার বড় আকর্ষণ, অন্যদিকে এটি গয়না নির্মাণের জটিল কারিগরি দক্ষতারও উদাহরণ। ভিক্টোরিয়াস সিক্রেটের ভাষ্য, এবারের আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য ভক্তদের প্রত্যাশা পূরণ করা এবং তাদের জন্য বিশেষ কিছু উপহার দেওয়া।
শারদীয় দুর্গোৎসবের শেষ দিনে বিজয়ার আনন্দ ভাগ করে নিতে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে হাজির হন অভিনেত্রী ও কণ্ঠশিল্পী মেহের আফরোজ শাওন। বুধবার সকালে বন্ধুদের সঙ্গে সিঁদুর খেলার আয়োজনে অংশ নেন তিনি। ঢাকের তালে, শঙ্খধ্বনি ও উলুধ্বনিতে মুখর মন্দির প্রাঙ্গণে অন্য ভক্তদের সঙ্গে উৎসবের আনন্দে মেতে ওঠেন এই শিল্পী।
বুধবার (২১ অক্টোবর) সকালে দশমী বিহিত পূজা ও দর্পণ বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় বিজয়া দশমীর আনুষ্ঠানিকতা। পরে দেবী দুর্গাকে সিঁদুর দিয়ে বরণ করার পাশাপাশি একে অপরের সঙ্গে সিঁদুর খেলায় অংশ নেন ভক্তরা। রাজধানীর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরেও দিনভর ছিল উৎসবের আমেজ। সেখানেই বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটান শাওন।
উৎসবে যোগ দেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে শাওন বলেন, ‘আমরা বন্ধু, ঈদের দিন ওরা বাসায় আসে। আমাদের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করে। তাই তাদের সঙ্গে আনন্দ ভাগ করতে এসেছি।’সিঁদুর খেলার আয়োজনে অংশগ্রহণকারীরা পরস্পরের কপালে সিঁদুর ও আবির মাখিয়ে উৎসবের আনন্দ প্রকাশ করেন। তবে আনন্দ-উচ্ছ্বাসের মধ্যেও দেবী দুর্গার বিদায়ের মুহূর্তে ভক্তদের মনে ছিল বিষাদের ছোঁয়া।
বিকেলে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হওয়ার কথা এবারের শারদীয় দুর্গোৎসবের। এ উপলক্ষে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির থেকে বিজয়া শোভাযাত্রা বের হবে। রাজধানীর বিভিন্ন পূজামণ্ডপের প্রতিমা ওই শোভাযাত্রায় যুক্ত হওয়ার পর ঢাকার ১১টি ঘাটে বিসর্জন দেওয়া হবে।
ইজে ও স্যাম কিম
নেটফ্লিক্সের জনপ্রিয় অ্যানিমেশন সিনেমা ‘কে-পপ ডেমন হান্টার্স’-এর গান দিয়ে বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পেয়েছেন কোরীয়-মার্কিন গায়িকা ও গীতিকার ইজে। তাঁর ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও ভক্তদের আগ্রহ কম নয়। এবার বিয়ে করলেন তিনি। তাঁর বর সংগীত প্রযোজক ও গীতিকার স্যাম কিম। শনিবার দক্ষিণ কোরিয়ার সিউলে তাদের বিয়ের আয়োজন করা হয়। গত সোমবার ‘ভোগ’ প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে এ তথ্য জানা গেছে। বিয়ের পর তাঁর স্বামী স্যাম কিমের সঙ্গে প্রেমের গল্প এখন আলোচনায়। সংগীতের সূত্রেই পরিচয়, এরপর বন্ধুত্ব থেকে প্রেম– দুজনের সম্পর্কের শুরু ২০১৭ সালে।
ইজের আসল নাম কিম উন-জে। স্যাম কিম একসময় সংগীত প্রযোজক হিসেবে কাজ করতেন। পরে পেশা বদলে যুক্ত হন কোডিংয়ের কাজে। ২০১৭ সালে একটি গানের লেখার সেশনে তাদের প্রথম পরিচয় হয়। এরপর অল্প সময়ের মধ্যেই সম্পর্কে জড়ান তারা।
২০২৩ সালের অক্টোবরে বাগদান হয় তাদের। তবে সম্পর্কের ব্যক্তিগত বিষয়গুলো এতদিন অনেকটাই আড়ালে রেখেছিল এই জুটি। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে ইনস্টাগ্রামে কিছু ছবি প্রকাশের মাধ্যমে বাগদানের খবর জানান ইজে। ইজে ও স্যাম শুধু প্রেমিক-প্রেমিকাই নন; সংগীতের কাজেও একে অপরের সহযোগী।
ইজের প্রথম জনপ্রিয় গান ‘সাইকো’, যেটি কে-পপ গার্ল গ্রুপ রেড ভেলভেট-এর থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক গান ‘ইন অ্যানাদার ওয়ার্ল্ড’ পর্যন্ত তাঁর সংগীতযাত্রায় স্যামের অবদান রয়েছে। ২০২৫ সালের অক্টোবরে ভালচারকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইজে তাদের পরিচয়ের কথা বলেছিলেন।
তিনি বলেন, ‘সে মূলত আমার গানের লেখার সঙ্গী ছিল। ২০১৭ সালে একটি সেশনে আমাদের পরিচয় হয়। আমরা সত্যিই একসঙ্গে বড় হয়েছি।’ ইজে জানিয়েছেন, মঞ্চে ওঠার আগে ভয় ও উদ্বেগ কাটিয়ে উঠতেও স্যাম তাঁকে সহায়তা করেন। ‘কে-পপ ডেমন হান্টার্স’-এর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ গান ‘হোয়াট ইট সাউন্ডস লাইক’-এর কণ্ঠের বিন্যাসও রেকর্ড করা হয়েছিল ব্রুকলিনে ইজের অ্যাপার্টমেন্টে। সেখানে স্যামও কণ্ঠ দিয়েছিলেন।
এর আগে ফোর্বসকে ইজে বলেছিলেন, ‘আমি সব সময় গাড়িতে নিজের গান চালাই। গাড়ির স্পিকারে কেমন শোনায়, তা পরীক্ষা করার জন্য ডেমো তৈরি করি। স্যাম সব সময় আমাকে মতামত দেয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘গীতিকার হিসেবে আমি যা করি, এটি তারই প্রতিফলন। আমরা একসঙ্গে গান শুনি, উপভোগ করি। বাস্তবেও আমরা ঠিক এভাবেই সময় কাটাই।’
‘কেন এই নিঃসঙ্গতা, কেন এই মৌনতা, আমাকে ঘিরে...’– এই লাইনগুলো আজও উচ্চারিত হয় শ্রোতাদের মুখে। সৃষ্টির ৩২ বছর পরও এই গানের আবেদন এতটুকু কমেনি। সে কারণে ‘নিঃসঙ্গতা’ গানটি আনপ্লাগড সংগীতায়োজন রেকর্ড করেছেন সোলস সদস্যরা। একযোগে প্রকাশ করছেন শিল্পী পার্থ বড়ুয়া ও ব্যান্ডের ইউটিউব চ্যানেলে। সোলস সদস্যদের কথায়, মাত্র এক দিনের নোটিশে বিটিভির জন্য যে গানটি তৈরি হয়েছিল, সেই ‘নিঃসঙ্গতা’ সংগীতাঙ্গনে এতটা আলোড়ন সৃষ্টি করবে; যুগের পর যুগ অনুরণন তুলে যাবে শ্রোতামনে, তা কল্পনাও করেননি তারা। আর এই গানের প্রতি যতটা ভালো লাগা শ্রোতাদের, ততটাই সৃষ্টির আনন্দ মিশে আছে তাদের মনে। সে কারণে আনপ্লাগড ভার্সনে গানটি রেকর্ড করে শ্রোতাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া, যা অনেকের ভালো লাগবে বলে তাদের বিশ্বাস।
কালজয়ী এই গানের সৃষ্টি নিয়ে সোলসের লিড গিটারিস্ট ও কণ্ঠশিল্পী পার্থ বড়ুয়া বলেন, ‘নিঃসঙ্গতা’ গানের জন্ম অনেকটা গল্পের মতো মনে হয়। সেই ১৯৯৪ সালের কথা। তপন চৌধুরী সোলস ছাড়ার পর অ্যালবাম প্রকাশনাও থেমে গেছে। সেই সময়ে হঠাৎ একদিন বিটিভিতে সোলসের ডাক পড়ে নতুন একটি গান করার জন্য। তখন বিটিভি ছাড়া অন্য কোনো টিভি চ্যানেল ছিল না। যে জন্য সেখানে পারফর্ম করতে পারা যে কোনো শিল্পী ও ব্যান্ডের জন্য ছিল বাড়তি পাওয়া। আমরাও তাই এক দিনের নোটিশে গান তৈরিতে উঠেপড়ে লেগেছিলাম। গীতিকার কবির বকুলের কাছ থেকে গীতিকথা লিখিয়ে নিয়ে এক রাতেই শেষ করে ফেলেছি গানের সুর ও সংগীতায়োজন। পরদিনই বিটিভিতে গিয়ে গানটি রেকর্ড করেছি। এরপর ‘নিঃসঙ্গতা’ বিটিভিতে প্রচারের পর যা হয়েছে, তা আজ এক ইতিহাস।
সম্প্রতি সোলস সদস্যরা ব্যান্ডের ৫০ বছর পূর্তি উদযাপনে কানাডা সফর করে এসেছেন। গত সেপ্টেম্বরের শুরুতে কানাডা সফরে যায় দেশের সবচেয়ে পুরোনো এই ব্যান্ড। এই সফরের প্রথম কনসার্ট ছিল সাসকাচুয়ানে। প্রথম আয়োজনে সোলসের পরিবেশনা দর্শক-শ্রোতাদের দারুণ সাড়া ফেলেছিল। যে কারণে বাড়াতে হয়েছে তাদের কনসার্ট সংখ্যা। সাসকাচুয়ানের পর একে একে কানাডার ক্যালাগেরি, হ্যালিফ্যাক্স ও এডমন্টনে অনুষ্ঠিত কনসার্টে অংশ নিয়েছে অসংখ্য কালজয়ী গানের এই ব্যান্ড। কানাডায় ধারাবাহিকতায় আয়োজনের সমাপ্তি টানে স্কারবোরোয়। সোলসের কণ্ঠশিল্পী পার্থ বড়ুয়ার কথায়, উত্তর আমেরিকার বৃহৎ এই দেশটিতে আগেও কনসার্ট করার অভিজ্ঞতা হয়েছে। কিন্তু এবারের এই কনসার্ট সফর ব্যান্ডের সবার জন্য অন্যরকম অভিজ্ঞতা ও ভালো লাগার। কারণ একটাই, ধারাবাহিক কনসার্টের মধ্য দিয়ে ব্যান্ডের ৫০ দশক পূর্তি উদযাপন করতে পারা। আশার কথা হলো, প্রতিটি কনসার্টে দর্শক সমাগম ও তাদের আনন্দ উল্লাস ছিল চোখে পড়ার মতো, যা দীর্ঘদিন আমাদের মনে অনুরণন তুলে যাবে।
প্রসঙ্গত, সোলসের সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন শুরু হয়েছিল ২০২৩ সালে। সে বছরই দেশের সবচেয়ে পুরোনো ও প্রথম সারির ব্যান্ড সোলস গানের ভুবনে পথচলার ৫০ বছর পূর্ণ করে। দেশের একমাত্র ব্যান্ড হিসেবে এই মাইলফলক স্পর্শ করতে পারা নিয়ে সোলস সদস্যরা নানা আয়োজন শুরু করেন, যা কয়েকটি ধাপে চলমান।
জেলার ২ সিনেমার পোস্টার।
গোটা দেশজুড়ে রজনীকান্তের অগণিত ভক্ত। বিশেষ করে দক্ষিণ ভারতে তো তিনি ‘থালাইভা’। আর সেই ভক্তকুলের মধ্যে অন্যতম সাঞ্জু স্যামসন। আর সেটা এমন পর্যায়ে যে রজনীর নতুন সিনেমা ‘জেলার ২’ দেখার জন্য একাই হলের সব টিকিট কিনে নিলেন এই তারকা ক্রিকেটার। আগেই সিনেমাটা দেখার ইচ্ছা ছিল। সেটা হয়নি বলে এবার ঝুঁকি নেননি বিশ্বকাপজয়ী ক্রিকেটার।
সাঞ্জু যে রজনীকান্তের ভক্ত, সেটা আর নতুন করে বলার নয়। এর আগেও তিনি বহুবার সে কথা স্বীকার করেছেন। তবে ভারতে তারকা ক্রিকেটারদের সর্বসমক্ষে বের হওয়ার ক্ষেত্রে অনেক সমস্যা আছে। তাই বলে কি প্রিয় হিরোর সিনেমা বড় পর্দায় দেখার সুযোগ হাতছাড়া করা যায়?
সাঞ্জু বলেন, ‘রজনী স্যারের সিনেমা দেখতে আমার দারুণ লাগে। আমি সবসময় তার সিনেমা দেখার জন্য মুখিয়ে থাকি। তাই সময় পেলেই তার সিনেমা দেখতে চলে যাই। কালই দেখতে যাওয়ার ইচ্ছা ছিল। কিন্তু দিল্লিতে একটু অনুষ্ঠানে আটকে পড়ায় আর যাওয়া হয়নি।’এবার যাতে আর মিস না হয়, তাই গোটা হলই বুক করে নিয়েছেন সাঞ্জু। তিনি বলেন, ‘কপাল ভালো, আজ সুযোগ পেয়েছি। তাই হলের সব টিকিট কেটে নিয়েছি। আমি আমার বন্ধুদের সিনেমা দেখতে নিমন্ত্রণ করেছি। আমার স্ত্রীও থাকবে। রজনী স্যারকে বড় পর্দায় দেখার জন্য মুখিয়ে আছি।’এখানেই শেষ নয়। এরপর ভারতীয় দল নিউজিল্যান্ডে উড়ে যাবে। তার আগে টিম ইন্ডিয়ার ম্যানেজমেন্টে যারা তামিল জানেন, তাদেরকেও এই সিনেমা দেখার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন সাঞ্জু।মেগাস্টার রজনীকান্তের ‘জেলার’ বক্স অফিসে ঝড় তুলেছিল। সেই সময় থেকেই জল্পনা শুরু হয়েছিল, কবে আসবে ছবির সিকুয়েল? গত ১৫ অক্টোবর মুক্তি পেয়েছে সিনেমাটি। স্বাভাবিক ভাবেই অন্যান্য বারের মতো এখানেও তাকে দেখানো হয়েছে ‘লার্জার দ্যান লাইফ’ ভাবমূর্তিতেই।