ফারিন খান
ঢাকা থেকে জামালপুরে একটি নাটকের শুটিংয়ে যাওয়ার পথে ভয়াবহ এক অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছেন চিত্রনায়িকা ফারিন খান। গভীর রাতে টাঙ্গাইল এলাকার একটি পেট্রলপাম্পের ওয়াশরুমে ঢোকার পর হঠাৎই সন্দেহজনক এক ব্যক্তির উপস্থিতি টের পান তিনি। সময়মতো চিৎকার করে বেরিয়ে আসায় বড় ধরনের বিপদ থেকে রক্ষা পেয়েছেন বলে জানালেন এই চিত্রনায়িকা।
চিত্রনায়িকা, মডেল ও অভিনেত্রী ফারিন খান তাঁর ফেসবুকে পোস্টে ঘটনাটির বর্ণনা দেন।
তিনি জানান, ১৩ মে ঈদ উপলক্ষে নির্মিত একটি নাটকের শুটিংয়ে অংশ নিতে ঢাকা থেকে জামালপুর যাচ্ছিলেন। এই নাটকে তাঁর সহশিল্পী জুনায়েদ বোগদাদী। ইউনিটের একটি গাড়িতে পরিচালকসহ অন্য শিল্পী ও কলাকুশলীরা যাচ্ছিলেন। আর নিজের গাড়িতে করে যাচ্ছিলেন ফারিন। দুটো গাড়ির দূরত্ব ছিল এক ঘণ্টার বেশি সময়ের। রাত আনুমানিক ৩টা ১৫ মিনিটে ফারিনের গাড়িটি টাঙ্গাইলের একটি পেট্রলপাম্পে থামে। প্রয়োজনীয় কাজ সেরে নিতে তিনি সেখানে থাকা ওয়াশরুমে ঢোকেন।
ফারিন জানালেন, ওয়াশরুমে যাওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যেই তাঁর মনে হয়, পেছনে যেন কেউ দাঁড়িয়ে আছে। বিষয়টি আঁচ করতে পেরে পেছন ফিরে তাকাতেই দেখতে পান, ভেন্টিলেটর দিয়ে দুটি হাত তাঁর গলার খুব কাছে চলে এসেছে।
ফারিন খান বললেন, ‘আমি শুরুতে ভেবেছিলাম, জিন–ভূত কিছু একটা হবে। কিন্তু পরক্ষণে ভাবলাম, জিন–ভূত কোথা থেকে আসবে! সঙ্গে সঙ্গে চিৎকার শুরু করি। হয়তো আমি সময়মতো চিৎকার না দিলে আমাকে মেরে সব লুটপাট করে তারপর ধর্ষণের চেষ্টা করত।’
ফারিন জানান, টের পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে চিৎকার করে ওয়াশরুম থেকে বেরিয়ে আসেন তিনি। তাঁর চিৎকার শুনে গাড়ির ড্রাইভার দ্রুত এগিয়ে এসে সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে ধরার চেষ্টা করলে সে পালিয়ে যায়।
পরে ড্রাইভার তাঁকে জানান, ওই ব্যক্তি পাশের একটি হোটেল থেকে কিছু ডিমের খোসা হাতে নিয়ে ওয়াশরুমের পেছনের দিকে যাচ্ছিল। বিষয়টি দেখে তাঁর সন্দেহ হয়নি। কিন্তু চিৎকার শোনার পর তিনি দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান।
নিজেকে স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করলেও ভেতরে ভেতরে ভয়াবহ মানসিক চাপে ছিলেন বলে জানিয়েছেন ফারিন। পরদিন সকালে শুটিং ইউনিটের অনেক সদস্যকে ঘটনাটি জানান।
ফারিন ফেসবুকে লিখেছেন, ‘ওপরে ওপরে সাহস দেখালেও আমি জানি, ভেতরে ভেতরে কতটা ভয় পেয়েছিলাম। এর চেয়ে বাজে অভিজ্ঞতা আর কিছু হতে পারে না।’
ঘটনার পর মানসিকভাবে গভীরভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর মতে, ‘হয়তো আল্লাহ আমাকে সেদিন রক্ষা করেছেন। কিন্তু মানসিকভাবে আমি যে কতটা কষ্ট পেয়েছি, কতটা চাপা যন্ত্রণা অনুভব করেছি, সেটা শুধু আমিই জানি।’
নিজের জীবনে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ এই অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হওয়ার পর দেশে নারীদের নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন ফারিন খান। তিনি বলেন, ‘বাইরে কাজ করা অনেক নারীই অনেক সময় নানা ধরনের হয়রানি ও বাজে পরিস্থিতির মুখোমুখি হন।’
উল্লেখ্য, জাজ মাল্টিমিডিয়া প্রযোজিত ‘ধ্যাততেরিকি’ সিনেমার মাধ্যমে ২০১৭ সালে চলচ্চিত্রে অভিষেক হয় ফারিন খানের। সেখানে তিনি অভিনয় করেছিলেন আরিফিন শুভর বিপরীতে। ছবিটি মুক্তির পর ফারিন আলোচনায় এলেও পরে তাঁকে আর সিনেমায় দেখা যায়নি। সিনেমায় অভিনয় না করলেও নাটক ও ওয়েব কনটেন্টে নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছেন ফারিন খান।
প্রতিমা নাকি সত্যিকারের মানুষ বোঝা দায়! দেবী দুর্গার সাজে নজর কেড়েছেন ঢালিউড অভিনেত্রী পরীমণি।রোববার (১৮ অক্টোবর) দুপুরে নিজের ফেসবুক পেজে একটি ভিডিও প্রকাশ করেন পরীমনি। বিশেষ এই ফটোশুটের ভিডিওর ক্যাপশনে তিনি লিখেছেন, ‘শুভ শক্তির জয় হোক।’
লাল পাড়ের সাদা শাড়ি, মাথায় বিশাল মুকুট, গলায় ফুলের মালা ও শরীরজুড়ে গয়না—সব মিলিয়ে তার সাজে ফুটে উঠেছে দুর্গাপূজার আবহ। হাতে পদ্মফুল নিয়ে তার এই রূপ দেখে মুহূর্তের জন্য প্রতিমার সঙ্গে পার্থক্য করাও কঠিন বলে মনে করছেন অনেকে।
দুর্গার সাজে পরীমণির উপস্থিতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভক্তদের মধ্যে বেশ সাড়া ফেলেছে। ভিডিওতে লাল পাড়ের সাদা শাড়ি, মাথার মুকুট ও বাহারি গয়নায় তাকে দেখা যায়। পুরো সাজেই ছিল উৎসবের আমেজ।
পরীমণির নতুন এই লুক দেখে মন্তব্যের ঘরে প্রশংসা জানিয়েছেন তার অনুসারীরা। কেউ লিখেছেন, ‘পরী সব সাজেই পরী’, আবার কারও মন্তব্য, ‘পুরো দুর্গা। দ্য ডিভা।’
একজন ভক্ত জানিয়েছেন, কয়েক দিন আগেই তার মনে হয়েছিল, পরীমণিকে দুর্গার সাজে দারুণ মানাবে। অভিনেত্রীকে এমন রূপে দেখে সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ভিডিওটি প্রকাশের প্রথম এক ঘণ্টার মধ্যেই পোস্টটিতে ৩৭ হাজারের বেশি প্রতিক্রিয়া, প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার মন্তব্য এবং কয়েক লাখ ভিউ দেখা যায়। পাশাপাশি ভিডিওটি শেয়ারও করেছেন অনেকে। সব মিলিয়ে পরীমনির এই বিশেষ ফটোশুট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে।এদিকে অভিনয়েও ব্যস্ত সময় পার করছেন পরীমণি। নির্মাতা গিয়াস উদ্দিন সেলিমের ওয়েব ফিল্ম ‘সেপারেশন’-এ অভিনয় করছেন তিনি। এতে তার সহশিল্পী হিসেবে রয়েছেন ইমতিয়াজ বর্ষণ। সম্প্রতি ছবিটির শুটিং সম্পন্ন হয়েছে। তবে ওয়েব ফিল্মটির মুক্তির তারিখ এখনো জানানো হয়নি।
মেহজাবীন চৌধুরী। ছবিঃ ফেসবুক
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে তারকাদের মুখ বসিয়ে তৈরি করা হচ্ছে আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও। সেসব ছড়িয়ে পড়ছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। সম্প্রতি অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরী ও পরীমনিকে ঘিরে এমন কয়েকটি ভুয়া ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর শুরু হয়েছে আলোচনা-সমালোচনা। এবার বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছেন মেহজাবীন। তাঁর প্রশ্ন, ‘কবে থেকে অন্য একজন মানুষের অপমান আর অসম্মান আমাদের উপার্জনের মাধ্যম হয়ে উঠল?’
বৃহস্পতিবার সকালে নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া দীর্ঘ এক পোস্টে এআই দিয়ে ভুয়া কনটেন্ট তৈরি এবং তা ছড়িয়ে দেওয়ার প্রবণতা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অভিনেত্রী। শুধু যাঁরা এসব তৈরি করছেন, তাঁদের নয়; যাঁরা জেনেশুনে সেগুলো শেয়ার করে আরও মানুষের কাছে পৌঁছে দিচ্ছেন, তাঁদের বিবেকবোধ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
গত ১৩ অক্টোবর একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে মেহজাবীন ও পরীমনির নামে আপত্তিকর ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। পরে চ্যানেল কর্তৃপক্ষ জানায়, তাদের অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে এআই প্রযুক্তির অপব্যবহারে তৈরি ভুয়া ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছে। অ্যাকাউন্ট পুনরুদ্ধার করে সেসব সরিয়ে ফেলা হয়েছে বলেও জানায় প্রতিষ্ঠানটি।
ঘটনাটি অনুসন্ধান করেছে তথ্য যাচাইকারী প্রতিষ্ঠান রিউমর স্ক্যানার। গতকাল বুধবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, আলোচিত ভিডিওগুলো আসল নয়। অন্য ভিডিওতে ফেস সোয়াপ প্রযুক্তির মাধ্যমে দুই অভিনেত্রীর মুখ বসিয়ে সেগুলো তৈরি করা হয়েছে। চ্যানেল কর্তৃপক্ষও এ ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছে এবং আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছে।
এ ঘটনার পর বৃহস্পতিবার নিজের অবস্থান জানালেন মেহজাবীন। পোস্টের শুরুতেই তিনি লিখেছেন, ‘এআই ব্যবহার করে কারও নামে মিথ্যা ও বানোয়াট কনটেন্ট তৈরি করা এবং কাউকে হেয় করার উদ্দেশ্যে তা ছড়িয়ে দেওয়া কোনো বিনোদন নয়। এটি একটি অপরাধ।’
তবে মেহজাবীনের উদ্বেগ শুধু ভুয়া কনটেন্ট তৈরির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তাঁর মতে, যখন শত শত কিংবা হাজার হাজার মানুষ একই কনটেন্ট শেয়ার করতে থাকেন, তখন সেটি একজনের অপরাধের গণ্ডি ছাড়িয়ে বড় সামাজিক সমস্যার চিত্র তুলে ধরে। এমন পরিস্থিতিতে সমাজের মূল্যবোধ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
অন্যের প্রতি সম্মান দেখানোর জন্য পারিবারিক সম্পর্কের উদাহরণ দেওয়ার প্রচলিত প্রবণতাও মানতে নারাজ অভিনেত্রী। তিনি লিখেছেন, ‘এই পর্যায়ে এসে সেই পুরোনো কথাটাও আর বলতে ইচ্ছে করে না যে একবার ভাবুন তো, এমনটা যদি আপনার মা কিংবা বোনের সঙ্গে ঘটত!’
এরপরই মেহজাবীনের প্রশ্ন, ‘কারণ কাউকে মানুষ হিসেবে সম্মান করতে, তাকে আমাদের পরিবারের সদস্য হতে হবে কেন?’
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিউ, লাইক ও শেয়ারের প্রতিযোগিতার কথাও তুলে ধরেছেন মেহজাবীন। তাঁর মতে, ট্রেন্ডিংয়ে থাকার আকাঙ্ক্ষা কিংবা কয়েক ডলার আয়ের আশায় অন্যের সম্মানহানি করার প্রবণতা উদ্বেগজনক। অনেকের জীবিকা এখন কনটেন্ট তৈরির ওপর নির্ভরশীল, সেই বাস্তবতাও স্বীকার করেছেন অভিনেত্রী। কিন্তু জীবিকার প্রয়োজনে অন্য কাউকে অপমান করার অধিকার কারও নেই বলেই মনে করেন তিনি।
এ ধরনের অপপ্রচারের শিকার যে কেউ হতে পারেন উল্লেখ করে মেহজাবীন জানিয়েছেন, বিষয়টি এখন আর শুধু নারী-পুরুষের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। ভিউ ও এনগেজমেন্টের প্রতিযোগিতায় যে কেউ ক্ষতিকর কনটেন্ট ছড়ানোর অংশ হয়ে উঠতে পারেন, আবার যে কেউ এর শিকারও হতে পারেন।
মেহজাবীনের সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ তাঁদের নিয়ে, যাঁরা এসব কনটেন্ট তৈরি না করেও স্বেচ্ছায় ছড়িয়ে দিচ্ছেন। কেউ শেয়ার করছেন, কেউ মন্তব্য করছেন, কেউ আবার অন্যদের দেখার সুযোগ করে দিচ্ছেন। ফলে একজনকে হেয় করার উদ্দেশ্যে তৈরি কনটেন্ট আরও বহু মানুষের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে।
এর আগেও এআই প্রযুক্তির অপব্যবহার নিয়ে সরব হয়েছিলেন মেহজাবীন। তারকাদের ছবি ও ভিডিও বিকৃত করে প্রচারের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি কঠোর আইন, জনসচেতনতা ও জবাবদিহির প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছিলেন।
বৃহস্পতিবারের পোস্টে অবশ্য আইনের পাশাপাশি মানুষের ব্যক্তিগত দায়িত্ববোধকেই সামনে এনেছেন অভিনেত্রী। তাঁর বক্তব্য, প্রযুক্তির অপব্যবহার যেমন অন্যায়, তেমনি সেই অন্যায়কে ছড়িয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রেও মানুষের দায় রয়েছে।
পোস্টের শেষ বাক্যে তাই সরাসরি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের উদ্দেশে লিখেছেন, ‘একজন অপরাধীর অপরাধে অংশ নিয়ে নিজের বিবেকহীনতার পরিচয় দেবেন কি না, ভেবে দেখতে পারেন।
রুকাইয়া জাহান চমক
আলোচিত অভিনেত্রী ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর রুকাইয়া জাহান চমক। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা চমকপ্রদ পোস্ট দিয়ে প্রায়ই ভক্তদের কৌতূহল বাড়িয়ে দেন তিনি। এবারও ব্যতিক্রম হলো না। তবে এবার তার পোস্টের ক্যাপশন দেখে রীতিমতো চমকে উঠেছেন অনুরাগীরা।
ফেসবুকে কয়েকটি ছবি প্রকাশ করে চমক ক্যাপশনে লেখেন, ‘আবারও বিয়ে করে ফেললেন অভিনেত্রী চমক!’ আর এতেই নেটদুনিয়ায় শুরু হয়েছে নানা আলোচনা। তবে ছবিগুলোতে চোখ রাখতেই সামনে আসে অন্য এক গল্প।
চমকের সঙ্গে সেখানে দেখা গেছে ঢালিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা আরিফিন শুভকে। তাদের একসঙ্গে এমন উপস্থিতি ঘিরেই তৈরি হয়েছে নতুন কৌতূহল।
প্রকাশিত ছবিগুলোতে দেখা যায়, একটি সুসজ্জিত হোটেলকক্ষে আরিফিন শুভর সঙ্গে সময় কাটাচ্ছেন চমক। একটি ছবিতে দুজনকে হাস্যোজ্জ্বল ভঙ্গিতে ক্যামেরাবন্দি হতে দেখা যায়। তবে সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে আরেকটি ছবি, যেখানে চমককে নিজের হাতে খাবার খাইয়ে দিচ্ছেন শুভ।
দুজনের এমন ঘনিষ্ঠ ও প্রাণবন্ত মুহূর্ত দেখে ভক্তদের মনে প্রশ্ন জেগেছে, তবে কি নতুন কোনো কাজের সূত্রেই একসঙ্গে হয়েছেন তারা? পর্দার রসায়ন আর খুনসুটির এসব মুহূর্ত মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।
বিষয়টি নিয়ে চমকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘আপাতত এ নিয়ে কিছু বলতে পারছি না। তবে সুখবর তো আছেই! একটু সময় নিয়ে অচিরেই বিস্তারিত জানাব।’ চমক এ বিষয়ে ইঙ্গিত দিলেও এখনো মুখ খোলেননি আরিফিন শুভ।
এদিকে চমকের রহস্যময় ক্যাপশন ঘিরে নেটিজেনদের মধ্যে চলছে নানা জল্পনা। কেউ বিষয়টিকে নতুন কোনো নাটক বা সিনেমার প্রচারণার অংশ বলে মনে করছেন, আবার কেউ খুঁজছেন এর পেছনে অন্য কোনো গল্প। তবে ছবিগুলো নতুন কোনো কাজের দৃশ্য কি না, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তাই রহস্যের জট খুলতে চমকের পরবর্তী ঘোষণার অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে ভক্তদের।
উল্লেখ্য, রুকাইয়া জাহান চমকের জন্ম বরিশালে। তবে বেড়ে ওঠা ও পড়াশোনা ঢাকায়। শৈশব থেকেই নাচের তালিম নিয়েছেন তিনি। মা-বাবার ইচ্ছা ছিল, মেয়ে চিকিৎসক হবেন। সেই ইচ্ছা পূরণে এমবিবিএসও সম্পন্ন করেন চমক।
২০১৭ সালে ‘মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ’ প্রতিযোগিতায় দ্বিতীয় রানারআপ হওয়ার মধ্য দিয়ে বিনোদন অঙ্গনে পরিচিতি পান তিনি। পড়াশোনার কারণে অভিনয়ে নিয়মিত হতে কিছুটা সময় নিলেও ২০২০ সালে ছোট পর্দায় অভিনয় শুরু করেন।
ব্যক্তিজীবনেও নতুন অধ্যায় শুরু করেছেন এই অভিনেত্রী। ২০২৪ সালের ২১ জুন ব্যবসায়ী আজমান নাসিরকে বিয়ে করেন তিনি। আজমানের গ্রামের বাড়ি কুষ্টিয়ায়। ব্যবসার পাশাপাশি অভিনয়েও যুক্ত ছিলেন তিনি।
করণ জোহর
দুই দশকের বেশি সময় ধরে বলিউড তারকাদের ব্যক্তিগত জীবন, প্রেম, বন্ধুত্ব, বিয়ে, বিচ্ছেদ থেকে শুরু করে নানা বিতর্কিত মন্তব্য—সবকিছুরই সাক্ষী হয়েছে যে সোফা, এবার সেখানে শেষবারের মতো বসবেন করণ জোহর। ২২ বছর পর জনপ্রিয় সেলিব্রিটি চ্যাট শো ‘কফি উইথ করণ’ বন্ধ করার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। অনুষ্ঠানটির নবম মৌসুমই হবে শেষ মৌসুম। ১৪ অক্টোবর থেকে জিওহটস্টারে শুরু হয়েছে এই শেষ অধ্যায়।
২০০৪ সালে যাত্রা শুরু করা অনুষ্ঠানটি এখন পর্যন্ত আটটি মৌসুমে মোট ১৬১টি পর্ব প্রচার করেছে। দীর্ঘ এ সময়ে ভারতীয় বিনোদনজগতের তারকারা বসেছেন করণের সেই বিখ্যাত ‘কফি কাউচে’। তাঁদের কেউ বলেছেন প্রেমের কথা, কেউ জানিয়েছেন সম্পর্ক ভাঙার গল্প, কেউ প্রকাশ করেছেন বন্ধুত্বের অন্দরমহলের খবর। আবার কখনো অতিথির একটি মন্তব্যই পরদিন হয়ে উঠেছে বড় সংবাদ। জেনে নেওয়া যাক, অনুষ্ঠানটি এমন ১০ বিতর্কের কথা।
রণবীরকে নিয়ে দীপিকা-সোনমের খোঁচা
অনুষ্ঠানটির সবচেয়ে স্মরণীয় বিতর্কগুলোর একটি ২০১০ সালের তৃতীয় মৌসুমে। অতিথি হয়ে এসেছিলেন দীপিকা পাড়ুকোন ও সোনম কাপুর। দুজনের কথার কেন্দ্রে চলে আসেন দীপিকার সাবেক প্রেমিক রণবীর কাপুর। সোনম মন্তব্য করেছিলেন, রণবীরের একজন স্টাইলিস্ট প্রয়োজন। প্রেমিক হিসেবে তিনি ভালো নন, বন্ধুবান্ধব হিসেবে ভালো—এমন ইঙ্গিতও দিয়েছিলেন সোনম। দীপিকার অতীত সম্পর্কের প্রসঙ্গ টেনে কথাবার্তা আরও জমিয়ে তোলেন তাঁরা।
রণবীরের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে এভাবে প্রকাশ্যে আলোচনা করায় তাঁর পরিবারের সদস্যরাও নাখোশ হয়েছিলেন বলে সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়। পরে করণ জোহরও স্বীকার করেছিলেন, ওই পর্বে রণবীরকে নিয়ে কিছু মন্তব্য সীমা ছাড়িয়ে গিয়েছিল। ঘটনাটি দেখিয়ে দিয়েছিল, তারকাদের নিয়ে বন্ধুত্বপূর্ণ আড্ডাও কীভাবে ব্যক্তিগত আক্রমণের রূপ নিতে পারে।
‘কনডমের বিজ্ঞাপন করুক রণবীর’, দীপিকার মন্তব্যে তোলপাড়
একই মৌসুমের আরেকটি ঘটনায় রণবীরকে নিয়ে দীপিকার মন্তব্য সংবাদমাধ্যমের শিরোনাম হয়েছিল। দ্রুত প্রশ্নোত্তরপর্বে করণ জানতে চেয়েছিলেন, রণবীর কোন পণ্যের বিজ্ঞাপন করলে ভালো হবে। দীপিকার উত্তর ছিল, কনডমের বিজ্ঞাপন।
রণবীরের সঙ্গে বিচ্ছেদের পর করা এই মন্তব্যকে অনেকে সাবেক প্রেমিককে খোঁচা দেওয়ার চেষ্টা হিসেবে দেখেছিলেন। রণবীরের বাবা-মা ঋষি কাপুর ও নীতু কাপুরও মন্তব্যটি নিয়ে অসন্তুষ্ট হয়েছিলেন বলে খবর প্রকাশিত হয়েছিল। পরে দীপিকা ব্যাখ্যা করেন, কথাটি তিনি মজা করেই বলেছিলেন। কিন্তু টেলিভিশনের সেই কয়েক সেকেন্ডের রসিকতা বছরের পর বছর ধরে বলিউডের আলোচিত ঘটনা হয়ে আছে।
করণের মুখের ওপর ‘স্বজনপ্রীতির পতাকাবাহক’ বলেছিলেন কঙ্গনা
২০১৭ সালে ‘রেঙ্গুন’ সিনেমার প্রচারে করণের অনুষ্ঠানে এসেছিলেন কঙ্গনা রনৌত ও সাইফ আলী খান। সেই পর্বে কঙ্গনা সরাসরি করণকে বলেছিলেন, তিনি বলিউডে স্বজনপ্রীতির পতাকাবাহক। তাঁর অভিযোগ ছিল, করণ তারকা সন্তানদের সুযোগ দেন, অথচ বহিরাগতদের প্রতি তাঁর আচরণে অভিজাতসুলভ ঔদ্ধত্য দেখা যায়।
করণ প্রথমে অপ্রস্তুত হয়ে পড়লেও পরে কঙ্গনার বক্তব্যের সমালোচনা করেন। এরপর স্বজনপ্রীতি নিয়ে দুজনের বিরোধ আরও প্রকাশ্য হয়। একই বছর আন্তর্জাতিক ভারতীয় চলচ্চিত্র একাডেমি পুরস্কারের মঞ্চে করণ, সাইফ ও বরুণ ধাওয়ান স্বজনপ্রীতি নিয়ে ঠাট্টা করায় নতুন করে সমালোচনা শুরু হয়। করণ পরে দুঃখ প্রকাশও করেন।
এ ঘটনাকে শুধু একটি টেলিভিশন বিতর্ক বললে কম বলা হয়। বলিউডে কারা সুযোগ পান, তারকা সন্তানদের সুবিধা কতটা, আর বহিরাগতদের সংগ্রাম কেমন—এসব প্রশ্নকে মূলধারার আলোচনায় আনতে কঙ্গনার বক্তব্য বড় ভূমিকা রেখেছিল।
হার্দিক পান্ডিয়া ও লোকেশ রাহুলের মন্তব্যে ক্রিকেটেও ঝড়
‘কফি উইথ করণ’-এর সবচেয়ে গুরুতর বিতর্ক সম্ভবত ২০১৯ সালের এই ঘটনা। ক্রিকেটার হার্দিক পান্ডিয়া ও লোকেশ রাহুল অতিথি হয়ে এসে নারীদের নিয়ে অসম্মানজনক মন্তব্য করেন। বিশেষ করে নারীদের সঙ্গে সম্পর্ক ও নাইট ক্লাবে তাঁদের আচরণ নিয়ে হার্দিকের বক্তব্যে তীব্র সমালোচনা হয়। তাঁর একটি মন্তব্যকে বর্ণবাদী বলেও সমালোচনা করা হয়েছিল।
প্রতিক্রিয়া শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সীমাবদ্ধ থাকেনি। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের প্রশাসক কমিটি দুজনকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করে দেশে ফিরিয়ে আনে। অনুষ্ঠানটির ওই পর্ব ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। পরে বোর্ড দুজনকে জরিমানাও করে।
ভারতের রাষ্ট্রপতির নাম বলতে পারেননি আলিয়া, তৈরি হলো অসংখ্য মিম
২০১৩ সালে ‘স্টুডেন্ট অব দ্য ইয়ার’ সিনেমার সহশিল্পী বরুণ ধাওয়ান ও সিদ্ধার্থ মালহোত্রার সঙ্গে অনুষ্ঠানে এসেছিলেন আলিয়া ভাট। দ্রুত প্রশ্নোত্তরপর্বে তাঁকে ভারতের তৎকালীন রাষ্ট্রপতির নাম জিজ্ঞেস করা হয়। আলিয়া উত্তর দেন, পৃথ্বীরাজ চৌহান। অথচ তখন রাষ্ট্রপতি ছিলেন প্রণব মুখার্জি।
ভুল উত্তরটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলিয়ার সাধারণ জ্ঞান নিয়ে অসংখ্য মিম তৈরি হয়। দীর্ঘদিন তাঁকে নিয়ে চলেছে বুদ্ধিমত্তা নিয়ে ঠাট্টা। তবে আলিয়া বিষয়টি এড়িয়ে না গিয়ে পরে নিজের ভুল নিয়ে নিজেই হাস্যরস করেন। ‘জিনিয়াস অব দ্য ইয়ার’ নামের একটি ব্যঙ্গাত্মক ভিডিওতেও অংশ নেন।
ঐশ্বরিয়াকে ‘প্লাস্টিক’ বলেছিলেন ইমরান হাশমি
২০১৪ সালে ‘কফি উইথ করণ’-এর দ্রুত প্রশ্নোত্তরপর্বে ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চনের নাম শুনে ইমরান হাশমি এক শব্দে উত্তর দিয়েছিলেন—‘প্লাস্টিক’। সৌন্দর্য ও বাহ্যিক রূপ নিয়ে এমন মন্তব্যকে অনেকে অপমানজনক বলে মনে করেছিলেন।
বছর কয়েক পর ঐশ্বরিয়া জানান, তাঁর সম্পর্কে বলা সবচেয়ে খারাপ কথাগুলোর একটি ছিল তাঁকে ‘ফেক’ ও ‘প্লাস্টিক’ বলা। ইমরানও পরে মন্তব্যটির জন্য অনুশোচনা প্রকাশ করেন এবং বলেন, মুহূর্তের উত্তেজনায় কথাটি বলে ফেলেছিলেন।
কারিনার প্রশ্ন, প্রিয়াঙ্কার পাল্টা জবাব—অ্যাকসেন্ট নিয়ে লড়াই
বলিউডের দুই জনপ্রিয় অভিনেত্রী কারিনা কাপুর ও প্রিয়াঙ্কা চোপড়ার মধ্যে একসময় প্রতিদ্বন্দ্বিতার গুঞ্জন ছিল। তৃতীয় মৌসুমে সাইফ আলী খানের সঙ্গে অনুষ্ঠানে এসে কারিনা প্রিয়াঙ্কার উচ্চারণ নিয়ে খোঁচা দেন। জানতে চান, প্রিয়াঙ্কা ওই ধরনের অ্যাকসেন্ট কোথা থেকে পেয়েছেন।
পরে প্রিয়াঙ্কা যখন শহীদ কাপুরের সঙ্গে অনুষ্ঠানে আসেন, তখন পাল্টা জবাব দেন। তিনি বলেন, কারিনার তৎকালীন প্রেমিক সাইফ আলী খান যেখান থেকে তাঁর উচ্চারণ পেয়েছেন, তিনিও সেখান থেকেই পেয়েছেন।
আনুশকাকে নিয়ে রণবীর সিংয়ের মন্তব্য, অস্বস্তিতে দর্শক
‘ব্যান্ড বাজা বারাত’ সিনেমার সাফল্যের পর রণবীর সিং ও আনুশকা শর্মা একসঙ্গে ‘কফি উইথ করণ’-এ এসেছিলেন। সেই পর্বে আনুশকাকে উদ্দেশ করে রণবীর এমন একটি যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করেন, যা দর্শকের একাংশের কাছে আপত্তিকর মনে হয়েছিল। আনুশকাও তাঁকে থামিয়ে দিয়ে বলেন, তাঁর সঙ্গে এভাবে কথা না বলতে।
ঘটনাটি প্রথম প্রচারের সময় যতটা আলোচিত হয়েছিল, পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পুরোনো ক্লিপ ছড়িয়ে পড়ায় নতুন করে সমালোচনা শুরু হয়। বিশেষ করে হার্দিক পান্ডিয়া ও লোকেশ রাহুলের বিতর্কের সময় ক্লিপটি আবার সামনে আসে।
‘আমি এখনো ভার্জিন’
২০১৩ সালে চতুর্থ মৌসুমের প্রথম পর্বে প্রথমবারের মতো করণের সোফায় বসেছিলেন সালমান খান। তাঁর বিয়ে না করা নিয়ে বহুদিনের কৌতূহল ছিল দর্শকের। করণের প্রশ্নের জবাবে সালমান বলেছিলেন, তিনি এখনো ভার্জিন।
সালমানের বক্তব্য তখন সংবাদমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। ভক্তদের মধ্যে শুরু হয় নানা জল্পনা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তৈরি হয় মিম। ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে প্রকাশ্যে খুব বেশি কথা না বলা সালমানের এমন মন্তব্য তাই বিশেষভাবে নজর কেড়েছিল।
তুষার কাপুরের ‘বোটক্স’ উত্তর, প্রীতি জিনতার অস্বস্তি
তৃতীয় মৌসুমে ‘বোটক্স’ শব্দ শুনে অভিনেতা তুষার কাপুরের মনে পড়েছিল প্রীতি জিনতার নাম। উত্তরটি নিয়ে প্রশ্ন ওঠে, কারণ এটি প্রীতির চেহারা ও সম্ভাব্য প্রসাধনী চিকিৎসা নিয়ে ব্যক্তিগত ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হয়েছিল।
তুষার পরে দুঃখ প্রকাশ করেন। তাঁর যুক্তি ছিল, দ্রুত উত্তর দেওয়ার খেলায় বেশি ভাবার সময় থাকে না।
নতুন মৌসুমে অতিথি কারা
২০২৬ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর করণ জোহর ঘোষণা করেন, নবম মৌসুমের পর আর ফিরবে না ‘কফি উইথ করণ’। ১৪ অক্টোবর শুরু হয়েছে এই বিদায়ী মৌসুম। প্রথম অতিথি সালমান খান। এ ছাড়া এবারের মৌসুমে দেখা যেতে পারে শাহরুখ খান, কারিনা কাপুর, সাইফ আলী খান, কিয়ারা আদভানি, সিদ্ধার্থ মালহোত্রা, রাশমিকা মান্দানা, বিজয় দেবরাকোন্ডাসহ হিন্দি ও দক্ষিণি সিনেমার তারকাদের।
ছবি : সংগৃহীত
দুর্গাপূজাকে ঘিরে দুই বাংলার সিনেমাপ্রেমীদের জন্য এসেছে নতুন ছবির আয়োজন। বাংলাদেশের ঢালিউডে মুক্তি পাচ্ছে তিনটি সিনেমা, আর আগামী ২৩ অক্টোবর প্রেক্ষাগৃহে আসবে শিক্ষার্থীদের নির্মিত ‘অন্যপাতা’। অন্যদিকে পশ্চিমবঙ্গের টালিউডে উৎসবের আমেজ বাড়াচ্ছে দেব-শুভশ্রীর ‘দেশু ৭’, ‘দ্য একেন: কেরালায় কুরুক্ষেত্র’, ‘বহুরূপী দ্য গোল্ডেন ডাকু’ ও ‘এম্পেরর ভার্সেস শরৎচন্দ্র’। সব মিলিয়ে দুই বাংলার দর্শকদের জন্য থাকছে আটটি নতুন সিনেমার আয়োজন।
ঢালিউডে পূজার তিন সিনেমা
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বাংলাদেশের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাচ্ছে ‘চিরকুট’, ‘কাট-পিস’ ও ‘স্নেহের বন্ধন’। তিনটি সিনেমায় উঠে এসেছে ভিন্ন ভিন্ন গল্প ও প্রেক্ষাপট।
নব্বইয়ের দশকের ক্যাম্পাসজীবন নিয়ে ‘চিরকুট’
মুনতাসির আকিব পরিচালিত ‘চিরকুট’ নির্মিত হয়েছে নব্বইয়ের দশকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ঘটে যাওয়া একটি সত্য ঘটনা অবলম্বনে। তারুণ্য, প্রেম, বন্ধুত্ব ও ক্যাম্পাসজীবনের নানা অভিজ্ঞতা সিনেমাটির মূল উপজীব্য।
ছবিতে অভিনয় করেছেন শ্যামল মাওলা, আজিজুন মিম, কাজী নওশাবা, সুমন পাটোয়ারীসহ অনেকে। পেশাদার অভিনয়শিল্পীদের পাশাপাশি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ২৫০ থেকে ৩০০ শিক্ষার্থীও এতে অংশ নিয়েছেন। ঢাকার ব্লকবাস্টার সিনেমাসসহ দেশের কয়েকটি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাচ্ছে সিনেমাটি।
মিরপুরের ঝুটপট্টির গল্পে ‘কাট-পিস’
রাজধানীর মিরপুরের ঝুটপট্টির ব্যবসা ও এর ভেতরের নানা সমীকরণ নিয়ে নির্মিত হয়েছে অ্যাকশনধর্মী সিনেমা ‘কাট-পিস’। তরুণ নির্মাতা ইফফাত জাহানের এটি প্রথম চলচ্চিত্র।
গার্মেন্টসের পরিত্যক্ত ও উদ্বৃত্ত কাপড়কে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা ঝুট ব্যবসার অর্থনৈতিক লেনদেন, প্রভাব বিস্তার ও ক্ষমতার নানা দিক সিনেমাটির পটভূমি। প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন সিফাত আমিন ও নানজীবা তোরসা। খল চরিত্রে রয়েছেন ইমরান আহমেদ সওদাগর।
স্টার সিনেপ্লেক্স, ব্লকবাস্টার সিনেমাস ও লায়ন সিনেমাসসহ দেশের ২৩টি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাচ্ছে ছবিটি।
পারিবারিক আবেগের গল্প ‘স্নেহের বন্ধন’
কামরুজ্জামান পরিচালিত ‘স্নেহের বন্ধন’ সত্য ঘটনা থেকে অনুপ্রাণিত। পারিবারিক সম্পর্ক, ভালোবাসা, সামাজিক টানাপোড়েন ও অ্যাকশন মিলিয়ে সাজানো হয়েছে সিনেমাটির গল্প।
মৌ খান ও জয় চৌধুরী অভিনয় করেছেন প্রধান দুই চরিত্রে। এ ছাড়া রয়েছেন সাবেরী আলম, সুব্রত বড়ুয়া, রাশেদা চৌধুরী ও কাজী হায়াৎ। ঢাকার লায়ন সিনেমাস ও সৈনিক ক্লাবসহ দেশের ১৪টি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাচ্ছে সিনেমাটি।
শিক্ষার্থীদের নির্মিত ‘অন্যপাতা’ আসছে ২৩ অক্টোবর
এবারের পূজার আয়োজনের ব্যতিক্রমী সংযোজন ‘অন্যপাতা’। একদল শিক্ষার্থী প্রায় দুই বছর ধরে সিনেমাটি নির্মাণ করেছেন। পরিবারের প্রত্যাশা, আর্থিক সংকট, প্রেম, পরিচয়ের সংকট এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রতিযোগিতা উঠে এসেছে এর গল্পে।
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থাপত্য বিভাগের শিক্ষার্থী মো. শাহেজাহান ছবিটির গল্প, চিত্রনাট্য ও পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছেন। বুয়েট, চুয়েট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০ জনের বেশি শিক্ষার্থী এতে যুক্ত হয়েছেন।
এক ঘণ্টা ৪০ মিনিটের সিনেমাটিতে অভিনয় করেছেন শাহরিয়া শাকিল, প্রত্যাশা ঘোষ ও মোহাম্মদ ইফতিখার। থাকছে ছয়টি মৌলিক গান। আগামী ২৩ অক্টোবর ঢাকা, চট্টগ্রাম, যশোর ও সিলেটের প্রেক্ষাগৃহে ছবিটি মুক্তির পরিকল্পনা রয়েছে।
টালিউডে দেব-শুভশ্রীর ‘দেশু ৭’
পশ্চিমবঙ্গের পূজার সিনেমার তালিকায় অন্যতম আকর্ষণ দেব ও শুভশ্রী গাঙ্গুলীর ‘দেশু ৭’। ১৬ অক্টোবর মুক্তি পাচ্ছে ছবিটি। এতে অভিনয়ের পাশাপাশি পরিচালনা ও প্রযোজনার সঙ্গেও যুক্ত রয়েছেন দেব।
ছবিতে আরও অভিনয় করেছেন অনির্বাণ ভট্টাচার্য, প্রিয়াঙ্কা সরকার, রজতাভ দত্ত, কাঞ্চন মল্লিক ও অপরাজিতা আঢ্য। রোমান্স ও অ্যাকশনের মিশেলে নির্মিত সিনেমাটি নিয়ে টিজার প্রকাশের পর থেকেই দর্শকদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
কেরালায় রহস্যের জালে একেনবাবু
গোয়েন্দা চরিত্র একেনবাবুকে নিয়ে নির্মিত ‘দ্য একেন: কেরালায় কুরুক্ষেত্র’ পশ্চিমবঙ্গে মুক্তি পেয়েছে ১৫ অক্টোবর। জয়দীপ মুখার্জি পরিচালিত ছবিটিতে একেনবাবুর চরিত্রে অভিনয় করেছেন অনির্বাণ চক্রবর্তী।
এক বিজ্ঞানীর অপহরণকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে সিনেমাটির রহস্য। তদন্তের প্রয়োজনে কেরালায় পৌঁছান একেনবাবু। রহস্যের পাশাপাশি থাকছে তাঁর পরিচিত হাস্যরস। ছবিতে আরও অভিনয় করেছেন সুহোত্র মুখার্জি, ঋত্বিক চক্রবর্তী, রাইমা সেন ও অম্বরীশ ভট্টাচার্যসহ অনেকে।
অ্যাকশন-থ্রিলারে ‘বহুরূপী দ্য গোল্ডেন ডাকু’
২০২৪ সালে মুক্তি পাওয়া ‘বহুরূপী’র পরবর্তী গল্প নিয়ে ফিরেছেন পরিচালক নন্দিতা রায় ও শিবপ্রসাদ মুখার্জি। ‘বহুরূপী দ্য গোল্ডেন ডাকু’ নামের ছবিটিতে ডাকাতি, সংঘাত ও অ্যাকশনের পরিসর আরও বিস্তৃত করা হয়েছে।
সিনেমাটিতে অভিনয় করেছেন শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়, যিশু সেনগুপ্ত, সোহিনী সরকার ও কৌশানি মুখোপাধ্যায়। যিশু ও শিবপ্রসাদের মুখোমুখি লড়াই ছবিটির অন্যতম আকর্ষণ। ১৫ অক্টোবর পশ্চিমবঙ্গের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে সিনেমাটি।
শরৎচন্দ্রকে নিয়ে সৃজিতের ‘এম্পেরর ভার্সেস শরৎচন্দ্র’
ইতিহাস, সাহিত্য ও রাজনীতির মেলবন্ধনে নির্মিত হয়েছে সৃজিত মুখার্জির ‘এম্পেরর ভার্সেস শরৎচন্দ্র’। কথাশিল্পী শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের জীবন ও রাজনৈতিক চেতনা ছবিটির কেন্দ্রে রয়েছে। শরৎচন্দ্রের চরিত্রে অভিনয় করেছেন টোটা রায়চৌধুরী। আরও রয়েছেন আবির চ্যাটার্জি, মিমি চক্রবর্তী ও কাঞ্চন মল্লিক।
শরৎচন্দ্রের রাজনৈতিক উপন্যাস ‘পথের দাবী’ থেকে অনুপ্রাণিত সিনেমাটিতে ব্রিটিশবিরোধী ভাবনা, বিপ্লবের আদর্শ ও লেখার স্বাধীনতার প্রশ্ন তুলে ধরা হয়েছে। ১৯২৭ সালে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক সরকার উপন্যাসটি নিষিদ্ধ করেছিল। সেই ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটকে পর্দায় তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন নির্মাতা।
১৫ অক্টোবর পশ্চিমবঙ্গে মুক্তি পেয়েছে ছবিটি।
দুই বাংলার দর্শকদের জন্য গল্পের বৈচিত্র্য
এবারের দুর্গাপূজায় দুই বাংলার সিনেমার তালিকায় রয়েছে প্রেম, অ্যাকশন, রহস্য, পারিবারিক সম্পর্ক, ক্যাম্পাসজীবন ও ইতিহাসনির্ভর কাহিনি। ঢালিউডের স্থানীয় গল্প ও শিক্ষার্থীদের উদ্যোগ যেমন নতুন সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিচ্ছে, তেমনি টালিউডে তারকানির্ভর ও জনপ্রিয় গল্পের সিনেমা উৎসবের আকর্ষণ বাড়াচ্ছে।
শিল্পী জেমস ও হাসান
নব্বইয়ের দশকের রক সংগীতের স্মৃতি ফিরিয়ে দীর্ঘদিন পর একই মঞ্চে পারফর্ম করতে যাচ্ছেন দেশের ব্যান্ড সংগীতের দুই জনপ্রিয় মুখ নগর বাউলের জেমস ও আর্কের হাসান। এই দুই সংগীতশিল্পী আগামী ২৩ অক্টোবর ঢাকার যমুনা ফিউচার পার্কের কার্নিভাল অ্যারেনায় ‘রক এন রিদম ৫.০: নো লিমিটস ইন দ্য জোন’ শীর্ষক কনসার্টে পারফর্ম করবেন।
মাহফুজ আনাম জেমস ও হাসানের পাশাপাশি কনসার্টে বাংলাদেশের রক সংগীতের আরও কয়েকটি জনপ্রিয় ব্যান্ড ও সংগীতশিল্পী অংশ নেবেন।
আয়োজক অ্যাডভেন্টর কমিউনিকেশনস জানিয়েছে, কনসার্টে নগর বাউল, আর্ক, ওয়ারফেজ, অর্থহীন ও শূন্য পারফর্ম করবে। গিটারিস্ট ওনি হাসান ওয়ারফেজের সঙ্গে বিশেষ পরিবেশনায় অংশ নেবেন। পাশাপাশি একক পরিবেশনাতেও থাকবেন তিনি।
একে রাহুলও ওই কনসার্টে পারফর্ম করবেন বলে জানা গেছে।
কনসার্ট আয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় সব প্রশাসনিক অনুমতি পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে আয়োজকরা।
গত সোমবার টিকিফাই ডট লাইভ ওয়েবসাইটে কনসার্টের আগাম টিকিট বিক্রি শুরু হয়। টিকিটের দাম ধরা হয়েছে ৯৯৯ টাকা।
২০২২ সাল থেকে রক এন রিদম কনসার্ট সিরিজ আয়োজন করে আসছে অ্যাডভেন্টর কমিউনিকেশনস।
আয়োজকদের দাবি, এসব কনসার্টের মাধ্যমে বাংলাদেশের রক ও মেটাল সংগীতের শিল্পী এবং শ্রোতাদের মধ্যে সংযোগ স্থাপিত হচ্ছে।
এর আগে ২০২২ সালে প্রথম আসর অনুষ্ঠিত হয়। এরপর ২০২৩ সালে দ্বিতীয় ও তৃতীয় এবং ২০২৪ সালে চতুর্থ আসর অনুষ্ঠিত হয়।
আগের আসরগুলোর ধারাবাহিকতায় এবার আরও বড় পরিসরে পঞ্চম কনসার্ট আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন আয়োজকরা।
আয়োজকরা বলছেন, আগামী ২৩ অক্টোবরের এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে নব্বইয়ের দশকের বাংলাদেশি রক সংগীতের স্মৃতি ও প্রতিষ্ঠিত শিল্পীদের পরিবেশনা উপভোগ করতে পারবেন দর্শকরা।