রকস্টার সিনেমার ডিওপি আবদুল মামুন ও সাবিলা নুর।
ঢাকাই শোবিজে অভিনেত্রী সাবিলা নূরকে ঘিরে দাম্পত্য টানাপড়েনের গুঞ্জনের মধ্যেই নতুন করে আলোচনায় এসেছেন চিত্রগ্রাহক (ডিরেক্টর অব ফটোগ্রাফি বা ডিওপি) আবদুল মামুন। সাবিলার সঙ্গে মামুনের প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে এবং এ কারণেই তার সঙ্গে দীর্ঘ সাত বছরের প্রেম ও বিয়ে ভেঙে গেছে বলে দাবি করেছেন মামুনের কথিত প্রেমিকা তিশা।
তার অভিযোগ, দুই পরিবারের সম্মতিতে বিয়ের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হলেও বিয়ের মাত্র কয়েক দিন আগে সিদ্ধান্ত থেকে সরে দাঁড়ান মামুন। যদিও এ বিষয়ে সাবিলা নূর, তার স্বামী নেহাল সুনন্দ তাহের কিংবা আবদুল মামুনের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তিশার ভাষ্য, সাবিলা অভিনীত ‘রকস্টার’ সিনেমার শুটিং শেষ হওয়ার পরপরই তার সঙ্গে মামুনের বিয়ে হওয়ার কথা ছিল। গত ১৫ মে বিয়ের তারিখও নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু বিয়ের কয়েক দিন আগে মামুন তাকে জানান, তিনি আর বিয়ে করতে চান না। এর কারণ জানতে চেয়েও স্পষ্ট কোনো উত্তর পাননি তিশা। পরে সাবিলা নূরের সঙ্গে মামুনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কথা জানতে পারেন বলে দাবি করেন তিনি।
গণমাধ্যমকে তিশা বলেন, ‘যা শুনেছেন সব সত্য। সাবিলা নূরের কারণেই আমার দীর্ঘ সাত বছরের প্রেম এবং বিয়ে ভেঙে গেছে। ‘রকস্টার’ সিনেমার শুটিং শেষ হওয়ার পাঁচ দিন পর আমাদের বিয়ে হওয়ার কথা ছিল। দুই পরিবার থেকে বিয়ের সব আয়োজন করা হয়েছিল। কিন্তু আবদুল মামুন হঠাৎ করে জানায়, সে বিয়ে করতে চায় না। পরবর্তীতে জানতে পারি, সাবিলা নূরের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কে জড়িয়ে গেছে আবদুল মামুন।’
তিশার অভিযোগ, বিয়ের সিদ্ধান্ত থেকে সরে দাঁড়ানোর বিষয়ে মামুনের সঙ্গে একাধিকবার কথা বলার চেষ্টা করা হলেও শেষ পর্যন্ত তাকে সিদ্ধান্ত পরিবর্তনে রাজি করানো যায়নি। তার পরিবারের সদস্যরাও মামুনকে বোঝানোর চেষ্টা করেছিলেন। তবে কোনো কিছুতেই কাজ হয়নি বলে জানান তিনি।
তিশা আরও দাবি করেন, সাবিলা নূরের সঙ্গে মামুনের প্রেমের সম্পর্কের বিষয়টি শোবিজ অঙ্গনের অনেকেই জানেন। এ ঘটনা জানার পর থেকে মামুনের সঙ্গে তার যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। দীর্ঘদিনের সম্পর্কের পর এমন পরিণতি তাকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করেছে।
আক্ষেপ প্রকাশ করে তিশা বলেন, ‘ওরা দুজন আমার সঙ্গে কাজটি ভালো করেনি। সাবিলা নূর আমাদের বিষয় সব জানতেন। কিন্তু সে মেয়ে হয়েও একটিবার আরেকটি মেয়ের কথা ভাবেনি। আমার বড় ক্ষতি করল। আবদুল মামুন একজন তারকা পেয়ে আমাকে ভুলে গেছে।’
তিশা জানান, তাদের বিয়ে আরও আগে হওয়ার কথা থাকলেও ‘রকস্টার’ সিনেমার কাজের কারণে তা পিছিয়ে দেওয়া হয়েছিল। শাকিব খানের মতো তারকার সঙ্গে কাজের সুযোগের গুরুত্ব বিবেচনা করেই তিনি বিয়ের তারিখ পিছিয়ে দিতে রাজি হয়েছিলেন বলে দাবি করেন। কিন্তু সেই সিদ্ধান্তই শেষ পর্যন্ত তার জীবনে বড় আঘাত হয়ে এসেছে বলে মনে করেন তিনি।
তিশার ভাষ্য, তার পরিবার এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা ভাবলেও তিনি তাতে সম্মতি দেননি। তবে কেন শেষ মুহূর্তে বিয়ে ভেঙে গেল, সে বিষয়ে মামুনের কাছ থেকে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা পাননি বলে অভিযোগ তার।
এদিকে সাবিলা নূর ও তার স্বামী নেহাল সুনন্দ তাহেরের দাম্পত্য জীবন নিয়েও সম্প্রতি নানা আলোচনা চলছে। দীর্ঘ সাত বছরের প্রেমের সম্পর্কের পর ২০১৯ সালে বিয়ে করেন তারা। তবে তাদের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়েছে এবং তারা আলাদা থাকছেন বলে বিভিন্ন মাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। যদিও তাদের সম্পর্কের বর্তমান অবস্থা নিয়ে দুজনের কেউই আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানাননি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাবিলা নূর ও শাকিব খানকে ঘিরেও নানা আলোচনা ছড়িয়েছে। ‘তাণ্ডব’ ও ‘রকস্টার’ সিনেমায় একসঙ্গে কাজ করার সূত্রে তাদের ঘনিষ্ঠতা নিয়ে বিভিন্ন দাবি সামনে এসেছে। তবে শাকিব খানের সঙ্গে সাবিলার ব্যক্তিগত সম্পর্ক কিংবা তার দাম্পত্য জীবনে এর কোনো প্রভাব রয়েছে, এমন দাবির পক্ষে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ফলে এ বিষয়ে ছড়ানো বক্তব্যকে গুঞ্জন হিসেবেই বিবেচনা করা প্রয়োজন।
‘রকস্টার’ সিনেমার শুটিংকে কেন্দ্র করেই সাবিলা নূর ও আবদুল মামুনের ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়েছিল বলে দাবি করেছেন তিশা। এ বিষয়ে সিনেমাটির পরিচালক আজমান রুশোর বক্তব্য জানতে চাওয়া হলে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কিছু বলতে চাননি। পরে গণমাধ্যমকে এক বার্তায় এ নিয়ে বিস্তারিত কথা বলবেন বলে জানান।
পূজার আনন্দে মাজে রয়েছেন বলিউড অভিনেতা অজয় দেবগণ ও কাজল। তারই মাঝে দুঃসংবাদ। সপ্তমীর সকালে হাতুড়ির আঘাতে ভাঙলো তারকা দম্পতির মুম্বাইয়ের জুহুর বাংলোর একাংশ।
অজয় দেবগণের ওই বাংলোটি জুহুর কাপোল কো অপারেটিভ হাউজিং সোসাইটিতে অবস্থিত।
আয়তন প্রায় ৭ হাজার ৮০২ বর্গ ফুট। বাড়ির ভিতরে নানা কাজ করা হয়েছে বলেই খবর। মুম্বাইয়ের বৃহন্মুম্বই পুরসভার দাবি, প্রয়োজনীয় অনুমতি ছাড়া ওই বাংলোয় একাধিক নির্মাণ এবং সংস্কারের কাজ করেছেন অজয়। গত ১০ সেপ্টেম্বর এই মর্মে তাকে ৩৫৪ এ ধারায় নোটিশও দেওয়া হয়।
নির্মাণকাজ অবিলম্বে বন্ধ করার কথা বলা হয়। এছাড়া প্রয়োজনীয় নথিপত্র পৌরসভায় জমা দেওয়ার কথাও বলা ছিল। তবে পৌরসভা সূত্রে খবর, অভিনেতা সেই নির্দেশকে বিশেষ গুরুত্ব দেননি। পরিবর্তে কাজ চালিয়ে যাচ্ছিলেন। আর সে কারণেই শনিবার পুরকর্মীরা অভিনেতার বাড়িতে যান। বেআইনি নির্মাণ ভেঙে ফেলা হয়।
যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি পেয়েছেন ঢালিউডের জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা মৌসুমী। দেশটিতে যাওয়ার প্রায় তিন বছর পর গ্রিন কার্ড পাওয়ার সুখবরটি নিজেই জানিয়েছেন এই অভিনেত্রী।
শনিবার যুক্তরাষ্ট্রে চ্যানেল আইয়ের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী-পরবর্তী একটি অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে ভক্ত ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের সঙ্গে এ আনন্দের খবর ভাগ করে নেন তিনি।
২০২৩ সালের মাঝামাঝি সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান মৌসুমী। এরপর থেকে সেখানেই অবস্থান করছেন তিনি। মেয়ে ফাইজার পড়াশোনার দেখভালের পাশাপাশি অসুস্থ মায়ের চিকিৎসার বিষয়টিও সামলাচ্ছিলেন এই অভিনেত্রী। তবে দীর্ঘ সময় যুক্তরাষ্ট্রে থাকলেও স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি না থাকায় দেশে আসা-যাওয়ার ক্ষেত্রে কিছু সীমাবদ্ধতার মুখে পড়তে হচ্ছিল তাকে বলে জানা গেছে।
অবশেষে গ্রিন কার্ড পাওয়ায় সেই অপেক্ষার অবসান হলো মৌসুমীর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসনব্যবস্থায় গ্রিন কার্ডধারীরা দেশটিতে স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে বসবাস ও কাজ করার সুযোগ পান। নির্ধারিত শর্ত পূরণ করতে পারলে পরবর্তী সময়ে মার্কিন নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করার পথও খোলা থাকে তাদের সামনে।বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে মৌসুমী দীর্ঘদিনের পরিচিত ও জনপ্রিয় এক নাম। নব্বইয়ের দশকে চলচ্চিত্রে যাত্রা শুরু করে অভিনয়গুণ, পর্দায় উপস্থিতি ও বৈচিত্র্যময় চরিত্রে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে দর্শকের মনে স্থায়ী জায়গা করে নেন তিনি। অসংখ্য ব্যবসাসফল ও প্রশংসিত সিনেমায় অভিনয় করে ঢালিউডে নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন এই অভিনেত্রী। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করলেও দেশের চলচ্চিত্র অঙ্গন ও দর্শকের কাছে তার জনপ্রিয়তা এখনো অটুট।
পরীমনি।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি আপত্তিকর ভিডিও নিয়ে তৈরি হওয়া তুমুল বিতর্কের মাঝেই গত ১৬ অক্টোবর রাতে ফেসবুক লাইভে আসেন চিত্রনায়িকা পরীমনি। এ সময় সমালোচকদের তীব্র ভাষায় আক্রমণ করার পাশাপাশি আইনি পদক্ষেপে না গিয়ে নিজের মতো করে সরাসরি জবাব দেওয়ার ঘোষণা দেন তিনি। তবে এর পরের দিন সকালেই নিজের ভেরিফায়েড পেজ থেকে সেই লাইভ ভিডিওটি মুছে ফেলেন এই অভিনেত্রী।
সম্প্রতি একটি টেলিভিশন চ্যানেলের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে এআই প্রযুক্তির সাহায্যে তৈরি পরীমনির একটি আপত্তিকর ভিডিও প্রকাশ করা হয়। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার ঝড় উঠলে ওই টেলিভিশন চ্যানেলের পক্ষ থেকে তাদের অ্যাকাউন্ট হ্যাক হওয়ার দাবি করা হয়। এই ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করতেই গত শুক্রবার দিবাগত রাতে ফেসবুক লাইভে হাজির হন পরীমনি।
লাইভে অভিনেত্রী জানান, এই ভিডিওটি নতুন কোনো বিষয় নয়। প্রায় এক থেকে দেড় বছর আগেই অনেকেই তাকে হোয়াটসঅ্যাপে এই ভিডিও পাঠিয়েছিলেন। তবে একটি ভেরিফায়েড গণমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট থেকে তা ছড়িয়ে পড়ার পর পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করে। দায়িত্বশীল একটি প্রতিষ্ঠানের অ্যাকাউন্ট থেকে এমন ভিডিও প্রকাশের পর দায় এড়ানোর কোনো সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি। এ সময় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের দুঃখ প্রকাশ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তার ভাষ্যমতে, শুধু দুঃখ প্রকাশ করলেই সব শেষ হয়ে যায় না। ভিডিওটি এত দীর্ঘ সময় ধরে অনলাইনে রেখে দেওয়ার পরিবর্তে চাইলে তা আরও দ্রুত সরিয়ে ফেলা সম্ভব ছিল।
সমালোচকদের তীব্র ভাষায় আক্রমণ করে পরীমনি বলেন, কেউ তাকে গালি দিলে তিনি চুপ থাকবেন না, বরং পাল্টা জবাব দেবেন। মামলা করার পরামর্শের জবাবে তিনি স্পষ্ট জানান, মামলা-মোকদ্দমার আইনি পথে হেঁটে সময় নষ্ট করতে চান না তিনি, বরং যারা তাকে আক্রমণ করছেন তাদের সরাসরি জবাব দিতে পছন্দ করেন। লাইভের একপর্যায়ে নিজের পেছনে থাকা জুতার ক্যাবিনেট দেখিয়ে তিনি বলেন, সেখানে থাকা জিনিসগুলো আসল। অরিজিনাল শব্দটি ব্যবহার করে এআই ভিডিও ও বাস্তবতার ফারাক বুঝিয়ে দেন তিনি।
ভিডিও নিয়ে নেটদুনিয়ায় অতিরিক্ত কৌতূহল দেখানো মানুষদেরও একহাত নেন এই অভিনেত্রী। তার অভিযোগ, অনেকেই অন্য পোস্টের কমেন্ট বক্সে গিয়ে ভিডিওর লিংক আছে কি না তা জানতে চান, যা তাদের মানসিকতার পরিচয় দেয়। ক্ষোভের প্রকাশ ঘটাতে গিয়ে তিনি বলেন, মানুষের এই বাড়াবাড়ি দেখে তার মনে হয়েছিল বিকিনি, স্বচ্ছ পোশাক কিংবা নগ্ন ফটোশুট করেন। তবে তিনি বাস্তবে এমন কোনো ফটোশুট করেননি বলে স্পষ্ট করে দেন।
লাইভের শেষ পর্যায়ে সমালোচকদের নিজেদের জীবন নিয়ে ব্যস্ত থাকার পরামর্শ দিয়ে ইংরেজিতে বলেন, ‘ফোকাস অন ইউর লাইফ! গেট এ লাইফ, হানি।’ নিজের অবস্থান স্পষ্ট করার পর শনিবার সকালে নিজের ফেসবুক পেজে ‘Oops sorry! ডিলিট করে দিছি’ ক্যাপশন দিয়ে সেই লাইভ ভিডিওটি মুছে ফেলেন পরীমনি। তবে কমেন্ট সেকশন বন্ধ থাকায় সেখানে অনুরাগীরা কোনো মন্তব্য করার সুযোগ পাননি।
<iframe src="https://www.facebook.com/plugins/post.php?href=https%3A%2F%2Fwww.facebook.com%2Fpori.monii%2Fposts%2Fpfbid02Le9m1vccsjw771ttRkXvGz2CYqhoqB1zAXb46dqsM2cUjLJ44MhsZuKnxUswF6Ntl&show_text=true&width=500" width="500" height="474" style="border:none;overflow:hidden" scrolling="no" frameborder="0" allowfullscreen="true" allow="autoplay; clipboard-write; encrypted-media; picture-in-picture; web-share"></iframe>
অভিনেত্রী পরীমণি। ছবি - সংগৃহীত
প্রতিমা নাকি সত্যিকারের মানুষ বোঝা দায়! দেবী দুর্গার সাজে নজর কেড়েছেন ঢালিউড অভিনেত্রী পরীমণি।রোববার (১৮ অক্টোবর) দুপুরে নিজের ফেসবুক পেজে একটি ভিডিও প্রকাশ করেন পরীমনি। বিশেষ এই ফটোশুটের ভিডিওর ক্যাপশনে তিনি লিখেছেন, ‘শুভ শক্তির জয় হোক।’
লাল পাড়ের সাদা শাড়ি, মাথায় বিশাল মুকুট, গলায় ফুলের মালা ও শরীরজুড়ে গয়না—সব মিলিয়ে তার সাজে ফুটে উঠেছে দুর্গাপূজার আবহ। হাতে পদ্মফুল নিয়ে তার এই রূপ দেখে মুহূর্তের জন্য প্রতিমার সঙ্গে পার্থক্য করাও কঠিন বলে মনে করছেন অনেকে।
দুর্গার সাজে পরীমণির উপস্থিতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভক্তদের মধ্যে বেশ সাড়া ফেলেছে। ভিডিওতে লাল পাড়ের সাদা শাড়ি, মাথার মুকুট ও বাহারি গয়নায় তাকে দেখা যায়। পুরো সাজেই ছিল উৎসবের আমেজ।
পরীমণির নতুন এই লুক দেখে মন্তব্যের ঘরে প্রশংসা জানিয়েছেন তার অনুসারীরা। কেউ লিখেছেন, ‘পরী সব সাজেই পরী’, আবার কারও মন্তব্য, ‘পুরো দুর্গা। দ্য ডিভা।’
একজন ভক্ত জানিয়েছেন, কয়েক দিন আগেই তার মনে হয়েছিল, পরীমণিকে দুর্গার সাজে দারুণ মানাবে। অভিনেত্রীকে এমন রূপে দেখে সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ভিডিওটি প্রকাশের প্রথম এক ঘণ্টার মধ্যেই পোস্টটিতে ৩৭ হাজারের বেশি প্রতিক্রিয়া, প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার মন্তব্য এবং কয়েক লাখ ভিউ দেখা যায়। পাশাপাশি ভিডিওটি শেয়ারও করেছেন অনেকে। সব মিলিয়ে পরীমনির এই বিশেষ ফটোশুট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে।এদিকে অভিনয়েও ব্যস্ত সময় পার করছেন পরীমণি। নির্মাতা গিয়াস উদ্দিন সেলিমের ওয়েব ফিল্ম ‘সেপারেশন’-এ অভিনয় করছেন তিনি। এতে তার সহশিল্পী হিসেবে রয়েছেন ইমতিয়াজ বর্ষণ। সম্প্রতি ছবিটির শুটিং সম্পন্ন হয়েছে। তবে ওয়েব ফিল্মটির মুক্তির তারিখ এখনো জানানো হয়নি।
আপত্তিকর ভিডিওর জন্য সরাসরি মাছরাঙাকে দায়ী করলেন পরীমনি
মেহজাবীন চৌধুরী। ছবিঃ ফেসবুক
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে তারকাদের মুখ বসিয়ে তৈরি করা হচ্ছে আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও। সেসব ছড়িয়ে পড়ছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। সম্প্রতি অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরী ও পরীমনিকে ঘিরে এমন কয়েকটি ভুয়া ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর শুরু হয়েছে আলোচনা-সমালোচনা। এবার বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছেন মেহজাবীন। তাঁর প্রশ্ন, ‘কবে থেকে অন্য একজন মানুষের অপমান আর অসম্মান আমাদের উপার্জনের মাধ্যম হয়ে উঠল?’
বৃহস্পতিবার সকালে নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া দীর্ঘ এক পোস্টে এআই দিয়ে ভুয়া কনটেন্ট তৈরি এবং তা ছড়িয়ে দেওয়ার প্রবণতা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অভিনেত্রী। শুধু যাঁরা এসব তৈরি করছেন, তাঁদের নয়; যাঁরা জেনেশুনে সেগুলো শেয়ার করে আরও মানুষের কাছে পৌঁছে দিচ্ছেন, তাঁদের বিবেকবোধ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
গত ১৩ অক্টোবর একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে মেহজাবীন ও পরীমনির নামে আপত্তিকর ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। পরে চ্যানেল কর্তৃপক্ষ জানায়, তাদের অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে এআই প্রযুক্তির অপব্যবহারে তৈরি ভুয়া ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছে। অ্যাকাউন্ট পুনরুদ্ধার করে সেসব সরিয়ে ফেলা হয়েছে বলেও জানায় প্রতিষ্ঠানটি।
ঘটনাটি অনুসন্ধান করেছে তথ্য যাচাইকারী প্রতিষ্ঠান রিউমর স্ক্যানার। গতকাল বুধবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, আলোচিত ভিডিওগুলো আসল নয়। অন্য ভিডিওতে ফেস সোয়াপ প্রযুক্তির মাধ্যমে দুই অভিনেত্রীর মুখ বসিয়ে সেগুলো তৈরি করা হয়েছে। চ্যানেল কর্তৃপক্ষও এ ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছে এবং আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছে।
এ ঘটনার পর বৃহস্পতিবার নিজের অবস্থান জানালেন মেহজাবীন। পোস্টের শুরুতেই তিনি লিখেছেন, ‘এআই ব্যবহার করে কারও নামে মিথ্যা ও বানোয়াট কনটেন্ট তৈরি করা এবং কাউকে হেয় করার উদ্দেশ্যে তা ছড়িয়ে দেওয়া কোনো বিনোদন নয়। এটি একটি অপরাধ।’
তবে মেহজাবীনের উদ্বেগ শুধু ভুয়া কনটেন্ট তৈরির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তাঁর মতে, যখন শত শত কিংবা হাজার হাজার মানুষ একই কনটেন্ট শেয়ার করতে থাকেন, তখন সেটি একজনের অপরাধের গণ্ডি ছাড়িয়ে বড় সামাজিক সমস্যার চিত্র তুলে ধরে। এমন পরিস্থিতিতে সমাজের মূল্যবোধ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
অন্যের প্রতি সম্মান দেখানোর জন্য পারিবারিক সম্পর্কের উদাহরণ দেওয়ার প্রচলিত প্রবণতাও মানতে নারাজ অভিনেত্রী। তিনি লিখেছেন, ‘এই পর্যায়ে এসে সেই পুরোনো কথাটাও আর বলতে ইচ্ছে করে না যে একবার ভাবুন তো, এমনটা যদি আপনার মা কিংবা বোনের সঙ্গে ঘটত!’
এরপরই মেহজাবীনের প্রশ্ন, ‘কারণ কাউকে মানুষ হিসেবে সম্মান করতে, তাকে আমাদের পরিবারের সদস্য হতে হবে কেন?’
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিউ, লাইক ও শেয়ারের প্রতিযোগিতার কথাও তুলে ধরেছেন মেহজাবীন। তাঁর মতে, ট্রেন্ডিংয়ে থাকার আকাঙ্ক্ষা কিংবা কয়েক ডলার আয়ের আশায় অন্যের সম্মানহানি করার প্রবণতা উদ্বেগজনক। অনেকের জীবিকা এখন কনটেন্ট তৈরির ওপর নির্ভরশীল, সেই বাস্তবতাও স্বীকার করেছেন অভিনেত্রী। কিন্তু জীবিকার প্রয়োজনে অন্য কাউকে অপমান করার অধিকার কারও নেই বলেই মনে করেন তিনি।
এ ধরনের অপপ্রচারের শিকার যে কেউ হতে পারেন উল্লেখ করে মেহজাবীন জানিয়েছেন, বিষয়টি এখন আর শুধু নারী-পুরুষের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। ভিউ ও এনগেজমেন্টের প্রতিযোগিতায় যে কেউ ক্ষতিকর কনটেন্ট ছড়ানোর অংশ হয়ে উঠতে পারেন, আবার যে কেউ এর শিকারও হতে পারেন।
মেহজাবীনের সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ তাঁদের নিয়ে, যাঁরা এসব কনটেন্ট তৈরি না করেও স্বেচ্ছায় ছড়িয়ে দিচ্ছেন। কেউ শেয়ার করছেন, কেউ মন্তব্য করছেন, কেউ আবার অন্যদের দেখার সুযোগ করে দিচ্ছেন। ফলে একজনকে হেয় করার উদ্দেশ্যে তৈরি কনটেন্ট আরও বহু মানুষের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে।
আপত্তিকর ভিডিওর জন্য সরাসরি মাছরাঙাকে দায়ী করলেন পরীমনি
এর আগেও এআই প্রযুক্তির অপব্যবহার নিয়ে সরব হয়েছিলেন মেহজাবীন। তারকাদের ছবি ও ভিডিও বিকৃত করে প্রচারের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি কঠোর আইন, জনসচেতনতা ও জবাবদিহির প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছিলেন।
বৃহস্পতিবারের পোস্টে অবশ্য আইনের পাশাপাশি মানুষের ব্যক্তিগত দায়িত্ববোধকেই সামনে এনেছেন অভিনেত্রী। তাঁর বক্তব্য, প্রযুক্তির অপব্যবহার যেমন অন্যায়, তেমনি সেই অন্যায়কে ছড়িয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রেও মানুষের দায় রয়েছে।
পোস্টের শেষ বাক্যে তাই সরাসরি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের উদ্দেশে লিখেছেন, ‘একজন অপরাধীর অপরাধে অংশ নিয়ে নিজের বিবেকহীনতার পরিচয় দেবেন কি না, ভেবে দেখতে পারেন।
রুকাইয়া জাহান চমক
আলোচিত অভিনেত্রী ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর রুকাইয়া জাহান চমক। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা চমকপ্রদ পোস্ট দিয়ে প্রায়ই ভক্তদের কৌতূহল বাড়িয়ে দেন তিনি। এবারও ব্যতিক্রম হলো না। তবে এবার তার পোস্টের ক্যাপশন দেখে রীতিমতো চমকে উঠেছেন অনুরাগীরা।
ফেসবুকে কয়েকটি ছবি প্রকাশ করে চমক ক্যাপশনে লেখেন, ‘আবারও বিয়ে করে ফেললেন অভিনেত্রী চমক!’ আর এতেই নেটদুনিয়ায় শুরু হয়েছে নানা আলোচনা। তবে ছবিগুলোতে চোখ রাখতেই সামনে আসে অন্য এক গল্প।
চমকের সঙ্গে সেখানে দেখা গেছে ঢালিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা আরিফিন শুভকে। তাদের একসঙ্গে এমন উপস্থিতি ঘিরেই তৈরি হয়েছে নতুন কৌতূহল।
প্রকাশিত ছবিগুলোতে দেখা যায়, একটি সুসজ্জিত হোটেলকক্ষে আরিফিন শুভর সঙ্গে সময় কাটাচ্ছেন চমক। একটি ছবিতে দুজনকে হাস্যোজ্জ্বল ভঙ্গিতে ক্যামেরাবন্দি হতে দেখা যায়। তবে সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে আরেকটি ছবি, যেখানে চমককে নিজের হাতে খাবার খাইয়ে দিচ্ছেন শুভ।
দুজনের এমন ঘনিষ্ঠ ও প্রাণবন্ত মুহূর্ত দেখে ভক্তদের মনে প্রশ্ন জেগেছে, তবে কি নতুন কোনো কাজের সূত্রেই একসঙ্গে হয়েছেন তারা? পর্দার রসায়ন আর খুনসুটির এসব মুহূর্ত মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।
বিষয়টি নিয়ে চমকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘আপাতত এ নিয়ে কিছু বলতে পারছি না। তবে সুখবর তো আছেই! একটু সময় নিয়ে অচিরেই বিস্তারিত জানাব।’ চমক এ বিষয়ে ইঙ্গিত দিলেও এখনো মুখ খোলেননি আরিফিন শুভ।
এদিকে চমকের রহস্যময় ক্যাপশন ঘিরে নেটিজেনদের মধ্যে চলছে নানা জল্পনা। কেউ বিষয়টিকে নতুন কোনো নাটক বা সিনেমার প্রচারণার অংশ বলে মনে করছেন, আবার কেউ খুঁজছেন এর পেছনে অন্য কোনো গল্প। তবে ছবিগুলো নতুন কোনো কাজের দৃশ্য কি না, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তাই রহস্যের জট খুলতে চমকের পরবর্তী ঘোষণার অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে ভক্তদের।
উল্লেখ্য, রুকাইয়া জাহান চমকের জন্ম বরিশালে। তবে বেড়ে ওঠা ও পড়াশোনা ঢাকায়। শৈশব থেকেই নাচের তালিম নিয়েছেন তিনি। মা-বাবার ইচ্ছা ছিল, মেয়ে চিকিৎসক হবেন। সেই ইচ্ছা পূরণে এমবিবিএসও সম্পন্ন করেন চমক।
২০১৭ সালে ‘মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ’ প্রতিযোগিতায় দ্বিতীয় রানারআপ হওয়ার মধ্য দিয়ে বিনোদন অঙ্গনে পরিচিতি পান তিনি। পড়াশোনার কারণে অভিনয়ে নিয়মিত হতে কিছুটা সময় নিলেও ২০২০ সালে ছোট পর্দায় অভিনয় শুরু করেন।
ব্যক্তিজীবনেও নতুন অধ্যায় শুরু করেছেন এই অভিনেত্রী। ২০২৪ সালের ২১ জুন ব্যবসায়ী আজমান নাসিরকে বিয়ে করেন তিনি। আজমানের গ্রামের বাড়ি কুষ্টিয়ায়। ব্যবসার পাশাপাশি অভিনয়েও যুক্ত ছিলেন তিনি।